২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ এম

ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন উসমান খাজা। পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম এই ব্যাটরের পরিবারকেও বর্ণবাদের বিষবাষ্পে জর্জরিত হতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সৈকতের সেই কাপুরুষোচিত হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় ‘ইসলামফোবিয়া’ ও ‘অ্যান্টি-ইসলাম’ মনোভাব হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। পাশাপাশি ছন্দহীন ছিলেন খাজা। তাতে তাঁর ওপর আক্রমণের তীব্রতা দ্বিগুণ হয়।
গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন খাজা। আগামী রোববার শুরু হতে যাওয়া সিডনি টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে। স্ত্রী র্যাচেল আর দুই মেয়েকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার। ক্রিকেটের প্রসঙ্গ ছাপিয়ে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বর্ণবাদী আচারণ নিয়েই অনেকটা সময় কথা বলেন তিনি।
খাজা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় অনুভূতি হলো সন্তুষ্টি। আমি খুব ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এত ম্যাচ খেলতে পেরেছি, যেভাবে করেছি। আশা করি, এই পথে আমি অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি।’
খুব ছোটোবেলায় ইসলামাবাদ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হন খাজা। তারপর নানা বাধার মুখোমুখি হয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত এবং প্রথম মুসলিম হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পান। এক সময় উসমান খাজা অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র এশিয়ান ফার্স্ট-ক্লাস খেলোয়াড় ছিলেন এবং অন্যদের জন্য সুযোগ খুলে দেওয়ার কারণে তিনি একজন আর্দশ হিসেবে স্বীকৃত।
কিন্তু পুরো ক্যারিয়ারেই অনেকবার বর্ণবাদের শিকার হতে হয়েছে খাজাকে। তবে দমে যাননি তিনি। ক্যারিয়ারের শেষদিকে বরং নিজেকে অন্যদের অনুপ্রেরণা মনে করছেন তিনি, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ছেলে, যাকে বলা হয়েছিল সে কখনো অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে পারবে না। এখন আমাকে দেখুন—আপনিও এখন আমার মতো একইরকম করতে পারেন।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টড গ্রিনবার্গ খাজার অবসর নিয়ে বলেন, ‘উসমান অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বিশাল অবদান রেখেছেন। একদিকে তিনি আমাদের সবচেয়ে স্টাইলিশ ও সহনশীল ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে ১৫ বছর আগে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। অন্যদিকে মাঠের বাইরে উসমান খাজা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের পক্ষ থেকে তার সব অর্জনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।’
খাজার ফাউন্ডেশন শরণার্থী, অভিবাসী, আদিবাসী এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা তরুণদের জন্য ক্রিকেটের প্রাথমিক প্রোগ্রাম এবং শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করে।
সিডনি টেস্টসহ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে খাজার মোট ম্যাচ সংখ্যা হবে ৮৮। টেস্টে ৬,২০৬ রান করেছেন, আছে ১৬টি শতক, গড় ৪৩.৩৯। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩২ রানের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেছিলেন। তবে এরপর আর তিন অঙ্কের দেখা পাননি বাঁহাতি ব্যাটার।
চলতি অ্যাশেজ সিরিজটি উসমান খাজার জন্য অগ্নিপরীক্ষার মতো। পার্থে প্রথম টেস্টে পিঠের চোট পান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিংয়ে তাঁর জায়গায় নামেন ট্রাভিস হেড। এরপর খাজা ব্রিসবেনের পরবর্তী ম্যাচে খেলেননি এবং তৃতীয় টেস্টে এডিলেডে দল থেকে বাদ পড়েন। তবে স্টিভেন স্মিথ টসের ঠিক আগে অসুস্থ হওয়ায় খাজা শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান। ওই টেস্টে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৮২ ও ৪০ রান করেন।
তারপর মেলবোর্নের চতুর্থ টেস্টে আবার ব্যর্থ হন খাজা। অস্ট্রেলিয়ার সিরিজে প্রথম হারের এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ডাক মারেন। তাতে তাঁর ওপর অবসরের নেওয়ার চাপ আরও তীব্রতর হয়। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তেই নিলেন খাজা।
No posts available.
২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১৭ পিএম

গত কয়েক বছরই ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ব্যাটার ট্রাভিস হেডের চাহিদা তুঙ্গে। চলতি অ্যাশেজ সিরিজেও রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তবে সিরিজ শেষে নিজেদের ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশে দেখা যাবে না হেডকে। শারীরিক ও মানসিক ধকল সামলানোর জন্যই এই সিদ্বান্ত নিয়েছেন তিনি।
রোববার থেকে শুরু হচ্ছে অ্যাশেজের শেষ টেস্ট। এই ম্যাচের পর অজি দলে থাকা অনেক খেলোয়াড়ই যোগ দেবেন বিগ ব্যাশে। লিগটিতে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে হেডের।
বিগ ব্যাশে খেলার বিষয়ে ডেইলি টেলিগ্রাফকে হেড বলেন, ‘অ্যাশেজ সিরিজের মানসিক চাপ আর সামনে বিশ্বকাপ থাকায় সম্ভবত খেলা হবে না।’
আরও পড়ুন
| লাইভে বাবরের কড়া সমালোচনায় গিলক্রিস্ট |
|
চলতি অ্যাশেজে চার ম্যাচে ৪৩৭ রান নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হেড। অ্যাশেজের মতো সিরিজ মানসিকভাবে ক্লান্তিকর বলেন এই ব্যাটার, ‘প্রতিটি সিরিজেই ভালো অবদান রাখার লক্ষ্য থাকে। এবার সেটা বেশ ভালোভাবেই করতে পেরেছি। কিন্তু অ্যাশেজে খেলা এবং পুরো সিরিজ জুড়ে থাকা মানসিকভাবে সবসময়ই কঠিন।‘
বর্তমানে খেলোয়াড়দের ওপর ব্যাস্ত সূচির চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হেড, ‘বিশ্বকাপে ভালো অবস্থায় যেতে চাইলে বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। বিষয়টা উদ্বেগের- আমরা ইতিমধ্যে কতটুকু খেলেছি আর কতটা সময় রয়েছে সামনে।‘
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। টুর্নামেন্টে 'বি’ গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ীরা তাঁদের অভিযান শুরু করবে ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বাবর আজামকে নিয়ে আলোচনা থামছেই না। সিডনি সিক্সার্সের হয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলেন বড় প্রত্যাশা নিয়ে। শুরুতে বড় ইনিংস না আসায় সমালোচনাও হয়েছে কমবেশি। তবে বৃহস্পতিবার মেলবোর্ন রেনেগেডসের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাট হাতে জবাব দিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক।
মার্ভেল স্টেডিয়ামে ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সিক্সার্স। এমন পরিস্থিতিতে এক প্রান্ত আগলে রেখে বাবর আজাম খেলেন অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংস। ৪৬ বলের এই ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। তাঁর ব্যাটিংয়েই ছয় উইকেটে জয় পায় সিডনি সিক্সার্স। ফিফটি পূর্ণ করার সময় গ্যালারিতে দর্শকদের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। চলতি মৌসুমে এটি বাবরের দ্বিতীয় পঞ্চাশ, এর আগে ২০ ডিসেম্বর সিডনি থান্ডারের বিপক্ষেও ফিফটি করেছিলেন তিনি।
তবে এই ইনিংসের মাঝেই সম্প্রচারে সমালোচনার মুখে পড়েন বাবর। ফক্স ক্রিকেটের লাইভ কমেন্ট্রিতে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বাবরের ব্যাটিং ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গিলক্রিস্টের মতে, বাবর সাধারণত রান-এ-বল গতিতে খেলেন, যা অনেক সময় তাঁর সঙ্গী ব্যাটারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
গিলক্রিস্ট বলেন, বাবর শক্তিশালী পাওয়ার হিটার হিসেবে পরিচিত নন। তিনি সহজে লাইন পেরিয়ে বড় শট খেলবেন—এটা তাঁর স্বাভাবিক খেলা নয়। তবে শুধু রান-এ-বল ভেবে খেললে দায়িত্বটা অন্য ব্যাটারের ওপর পড়ে যায়, এখানে আরও উদ্যোগী হতে হবে।
আরও পড়ুন
| সুপার ওভারে জিতে বোনাস পেল রাজশাহী |
|
কমেন্ট্রির এই বক্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ গিলক্রিস্টের বিশ্লেষণ সমর্থন করেছেন, আবার অনেকে বাবরের স্বাভাবিক খেলাটাকেই সঠিক বলে মনে করছেন।
পরিসংখ্যান অবশ্য বাবরের পক্ষেই কথা বলছে। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তাঁর ৯৭তম হাফসেঞ্চুরি, সঙ্গে রয়েছে ১১টি সেঞ্চুরি। ড্যানিয়েল হিউজ ও জশ ফিলিপের দ্রুত বিদায়ের পর ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল বাবরের কাঁধেই, যা তিনি সফলভাবেই পালন করেছেন।
এই পারফরম্যান্সটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে পাকিস্তানের শ্রীলঙ্কা সফরের টি–টোয়েন্টি সিরিজের দলে জায়গা না পাওয়ার পরপরই। ফলে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে এই ইনিংস বাবরের জন্য বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে।
একই ম্যাচে কমেন্ট্রিতে উঠে আসে আরেকটি আলোচনা। মার্ক হাওয়ার্ড ও মাইকেল ভন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা নিয়ে তুলনা করেন বাবর আজাম ও বিরাট কোহলির। কোহলির ইনস্টাগ্রাম অনুসারী যেখানে ২৭ কোটির বেশি, সেখানে বাবরের অনুসারী প্রায় ৬৪ লাখ। হাওয়ার্ড মন্তব্য করেন, ১ কোটি অনুসারী মানে প্রায় অস্ট্রেলিয়ার অর্ধেক জনসংখ্যা।
সামনে তাকালে বাবরের এই ফর্ম পাকিস্তানের জন্য ইতিবাচক বার্তাই দিচ্ছে। আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে পাকিস্তানের দলে আগ্রাসী ব্যাটার থাকলেও প্রান্ত ধরে খেলার একজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটারের ঘাটতি মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে। মোহাম্মদ রিজওয়ান না থাকলে সেই দায়িত্ব বাবরের কাঁধেই পড়তে পারে। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে বড় মঞ্চেও পাকিস্তানের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে পারেন বাবর আজাম।

ফুটবলে যে তর্ক নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। যাদের নিয়ে গোটা ফুটবলবিশ্বই প্রায় দু’ভাগ হয়ে যায়। সেরার বিতর্কে ভক্তরা নিজ নিজ যুক্তি দিয়ে লিওলেন মেসি কিংবা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ‘গোট’ স্বীকৃতি দিয়ে আসছেন। শুধু সমর্থকরাই নয়, সাবেক-বর্তমান ফুটবলার থেকে কোচরা পর্যন্ত মাঝেমধ্যেই সর্বকালের সেরা বিতর্কে জড়িয়ে গেছেন। এবার এ আলোচনায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের এক কিংবদন্তি বেছে নিলেন ‘সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে।
সচরাচর ক্লাবের সতীর্থ কিংবা নিজ ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখা যায়। তবে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেজ ক্লাবের আবেগ একপাশে রেখে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার বেছে নিয়েছেন। রিয়ালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এই কিংবদন্তির চোখে রোনালদো নয়, বরং মেসিই ইতিহাসের সেরা।
স্পেনের সাবেক এই ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৭১৪ ম্যাচে ৩২৩ গোল করেছেন। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটিতে নিজের সময়ে খেলেছেন বহু রথী-মহারথীদের সঙ্গে। জিদান, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ব্রাজিলিয়ান রোনালদো, লুইস ফিগোর মতো কিংবদন্তিদের সতীর্থ ছিলেন তিনি। তবু তাঁদের সবার ওপরে রাউলের পছন্দ একজনই—লিওনেল মেসি।
আরও পড়ুন
| নতুন ক্লাবে এন্দ্রিককে সতর্কবার্তা, সবুজ রঙ ব্যবহারে বারণ |
|
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাউল ব্যাখা করেন কেন তাঁর কাছে আর্জেন্টিনার মহাতারকা মেসি সেরা। রিয়ালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এই ফরোয়ার্ড রোনালদো ও জিনেদিন জিদানের চেয়েও এগিয়ে রাখছেন।
রাউলের মতে, মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—অনেকের জন্য যেটা অসম্ভব বা অন্যদের পক্ষে যা কল্পনাও করা কঠিন, সেই কাজটাই অনায়েসে করেন মেসি। আর সেই অনন্য দক্ষতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে এবং রোনালদো ও জিদানের মতো কিংবদন্তিদের মাঝেও রাউলের চোখে মেসিকে শীর্ষে স্থান দেয়, ‘জিদান, ক্রিশ্চিয়ানো, রোনালদো, ফিগোর মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়, মেসিই সেরা। সে একেবারেই আলাদা। অসম্ভব বলে মনে হওয়া কাজগুলোকে এমন সহজ করে ফেলে, যেন রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলছে।’
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্ত আছেন মেসি-রোনালদো দু’জনই। অবশ্য বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে এখনও মাঠে নামলে গোল-অ্যাসিস্টে দলের হয়ে নিয়মিত অবদান রাখছেন ইন্টার মায়ামি ও আল নাসরের মহাতারকা। আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ দু’জনেরই ‘লাস্ট ডান্স’। আর্জেন্টিনার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর ‘গোট’ বিতর্কে অনেকটাই এগিয়ে যান মেসি। পুরো ক্যারিয়ারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বির সঙ্গে প্রায় সমানতালে লড়ে যাওয়া রোনালদো কী এবার বিশ্বকাপ জিতে সর্বকালের সেরা বিতর্ক আরও উশকে দিতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।

বিপিএলে গতকাল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সুপার ওভারে দুর্দান্ত এক জয় পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। রিপন মন্ডলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাওয়া জয়ের পর দারুণ এক সুখবরও পেল রাজশাহী। ফ্রাঞ্চাইজিটির মালিকপক্ষ থেকে বোনাস পেয়েছেন ক্রিকেটাররা।
প্রায় হারতে বসা ম্যাচে জয় পাওয়া রাজশাহীর জয়ের নায়ক রিপন মন্ডল। ম্যাচসেরা হওয়া ডানহাতি এই পেসার ১ লাখ টাকা বোনাস পান। এছাড়া ওই ম্যাচে ৪৬ বলে ৬৫ রান করা পাকিস্তানি ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহান পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা বোনাস। ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে দুই উইকেট নেওয়া মেহরাব হাসানও পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা বোনাস।
এছাড়া দলের সব ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের ১৫ হাজার টাকা করে বোনাস দিয়েছে রাজশাহী। ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে রাজশাহী।
সিলেটে মূল ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান করে রাজশাহী। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ঠিক ১৫৯ রানই করে রংপুর।
শেষ ওভারে মাত্র ৭ রানের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয় রংপুর। রিপন মন্ডলের অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যায় রাজশাহী। এরপর সুপার ওভারে ‘সুপারম্যান’ মন্ডল আবার ভেলকি দেখান। মাত্র ৬ রান দিয়ে রংপুরের তিন ব্যাটারকে আউট করেন ২২ বছর বয়সী পেসার। তারপর রান তাড়ায় তিন বলেই জয় তুলে নেয় রাজশাহী।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৯তম সংস্করণের নিলামে বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে মোস্তাফিজকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে বাংলাদেশি পেসারের এই ফ্রাঞ্চাইজি খেলা নিয়ে হঠাৎ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে নেওয়ায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলিউড তারকা ও ফ্রাঞ্চাইজিটির স্বত্বাধিকার শাহরুখ খান। এই ইস্যুতে তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন একাধিক হিন্দু ধর্মগুরু ও বিজেপি নেতা। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস বিষয়টিকে ভারতের বহুত্ববাদে আঘাত বলে আখ্যা দিয়েছে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের তুলে আইপিএলে কেকেআর বাংলাদেশি খেলোয়াড় কেনায় অভিনেতা শাহরুখ খানের তীব্র সমালোচনা করেছেন উত্তর প্রদেশের এক বিজেপি নেতা। রাজ্য বিধানসভার সাবেক সদস্য সংগীত সোম ‘কাটার মাস্টারকে’ কেনার জন্য শাহরুখ খানকে ‘গাদ্দার বা দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সমালোচকদের মধ্যে সবার আগে মন্তব্য করেন ভারতের হিন্দু ধর্মগুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার প্রেক্ষাপটে কেকেআরের উচিত মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়া।’ পাশপাশি তিনি দাবি করেন, ওই ক্রিকেটারকে দেওয়া ৯.২ কোটি রুপি ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হোক, যাতে ‘ক্ষমা’ প্রকাশ পায়।
আরও পড়ুন
| বর্ণবাদের স্বীকার হওয়া খাজা বললেন, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম’ |
|
এই বিতর্কে যোগ দেওয়া বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি দেশের খেলোয়াড়ের পেছনে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে সোম বলেন, যেকোনো মূল্যে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া হবে না এবং তিনি নাকি বিমানবন্দর থেকেই বেরোতে পারবেন না।
অবশ্য তীব্র সমালোচনার মধ্যে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মানিকম ঠাকুরকে পাশে পাচ্ছেন শাহরুখ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন,‘ সুপারস্টার শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলা ভারতের বহুত্ববাদে আঘাত। ঘৃণা কখনোই জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা হতে পারে না।’ একই সঙ্গে তিনি আরএসএসকে সমাজে বিভাজন ছড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান।
তবে এমন আলোচনার মধ্যে মোস্তাফিজের আইপিএল খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক কর্মকর্তা। ইনসাইডস্পোর্টকে ওই কর্তা বলেছেন, 'এটা একটা সংবেদনশীল বিষয়, আমরা তা বুঝি। আমরা সবসময় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করার মতো কোনও নির্দেশ এখনও আসেনি। বাংলাদেশ তো আমাদের শত্রু দেশ নয়। তাই মুস্তাফিজ অবশ্যই আইপিএল খেলবেন।'
২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএল অভিষেক মোস্তাফিজের। শুরুর আসরেই জেতেন শিরোপা, হয়েছিলেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়। এরপর খেলছেন নিয়মিত । সানরাইজার্সের পর রাজস্থান রয়্যালস, চেন্নাই সুপার কিংস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলেছেন তিনি। ৬ষ্ঠ দল হিসেবে এবার নামবেন কলকাতার জার্সিতে।