২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ এম

ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন উসমান খাজা। পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম এই ব্যাটরের পরিবারকেও বর্ণবাদের বিষবাষ্পে জর্জরিত হতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সৈকতের সেই কাপুরুষোচিত হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় ‘ইসলামফোবিয়া’ ও ‘অ্যান্টি-ইসলাম’ মনোভাব হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। পাশাপাশি ছন্দহীন ছিলেন খাজা। তাতে তাঁর ওপর আক্রমণের তীব্রতা দ্বিগুণ হয়।
গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন খাজা। আগামী রোববার শুরু হতে যাওয়া সিডনি টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে। স্ত্রী র্যাচেল আর দুই মেয়েকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার। ক্রিকেটের প্রসঙ্গ ছাপিয়ে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বর্ণবাদী আচারণ নিয়েই অনেকটা সময় কথা বলেন তিনি।
খাজা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় অনুভূতি হলো সন্তুষ্টি। আমি খুব ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এত ম্যাচ খেলতে পেরেছি, যেভাবে করেছি। আশা করি, এই পথে আমি অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি।’
খুব ছোটোবেলায় ইসলামাবাদ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হন খাজা। তারপর নানা বাধার মুখোমুখি হয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত এবং প্রথম মুসলিম হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পান। এক সময় উসমান খাজা অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র এশিয়ান ফার্স্ট-ক্লাস খেলোয়াড় ছিলেন এবং অন্যদের জন্য সুযোগ খুলে দেওয়ার কারণে তিনি একজন আর্দশ হিসেবে স্বীকৃত।
কিন্তু পুরো ক্যারিয়ারেই অনেকবার বর্ণবাদের শিকার হতে হয়েছে খাজাকে। তবে দমে যাননি তিনি। ক্যারিয়ারের শেষদিকে বরং নিজেকে অন্যদের অনুপ্রেরণা মনে করছেন তিনি, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ছেলে, যাকে বলা হয়েছিল সে কখনো অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে পারবে না। এখন আমাকে দেখুন—আপনিও এখন আমার মতো একইরকম করতে পারেন।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টড গ্রিনবার্গ খাজার অবসর নিয়ে বলেন, ‘উসমান অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বিশাল অবদান রেখেছেন। একদিকে তিনি আমাদের সবচেয়ে স্টাইলিশ ও সহনশীল ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে ১৫ বছর আগে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। অন্যদিকে মাঠের বাইরে উসমান খাজা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের পক্ষ থেকে তার সব অর্জনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।’
খাজার ফাউন্ডেশন শরণার্থী, অভিবাসী, আদিবাসী এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা তরুণদের জন্য ক্রিকেটের প্রাথমিক প্রোগ্রাম এবং শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করে।
সিডনি টেস্টসহ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে খাজার মোট ম্যাচ সংখ্যা হবে ৮৮। টেস্টে ৬,২০৬ রান করেছেন, আছে ১৬টি শতক, গড় ৪৩.৩৯। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩২ রানের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেছিলেন। তবে এরপর আর তিন অঙ্কের দেখা পাননি বাঁহাতি ব্যাটার।
চলতি অ্যাশেজ সিরিজটি উসমান খাজার জন্য অগ্নিপরীক্ষার মতো। পার্থে প্রথম টেস্টে পিঠের চোট পান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিংয়ে তাঁর জায়গায় নামেন ট্রাভিস হেড। এরপর খাজা ব্রিসবেনের পরবর্তী ম্যাচে খেলেননি এবং তৃতীয় টেস্টে এডিলেডে দল থেকে বাদ পড়েন। তবে স্টিভেন স্মিথ টসের ঠিক আগে অসুস্থ হওয়ায় খাজা শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান। ওই টেস্টে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৮২ ও ৪০ রান করেন।
তারপর মেলবোর্নের চতুর্থ টেস্টে আবার ব্যর্থ হন খাজা। অস্ট্রেলিয়ার সিরিজে প্রথম হারের এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ডাক মারেন। তাতে তাঁর ওপর অবসরের নেওয়ার চাপ আরও তীব্রতর হয়। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তেই নিলেন খাজা।
No posts available.
২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:১০ পিএম
২ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

জাতীয় দলে নতুন দুই কোচ নিয়োগ দিলো শ্রীলঙ্কা। রায়ান ফন নিইকার্ককে বোলিং এবং জর্ডান গ্রেগরিকে ফিল্ডিং ও স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রায়ান ফন নিইকার্ক এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের বোলিং কোচ এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ ছিলেন। তার কোচিংয়ে ডাচদের পারফরম্যান্সে ছিল দারুণ। নিইকার্ক দায়িত্বথাকালীন তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে নেদারল্যান্ডস। শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের সব বিভাগের ফাস্ট বোলিং কার্যক্রম তদারকি করবেন তিনি।
জর্ডান গ্রেগরিকে জাতীয় ফিল্ডিং ও স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং দলটির বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুই কোচ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।

মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি পেসারের বাদ পড়ার তিন মাস পর মুখ খুললেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে ভিড়ায় কেকেআর। তবে ভারত ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দেয় কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ধুমাল।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধুমাল বলেন,
“আমি শুধু এটুকুই বলব, এটি দুঃখজনক। এর বাইরে আমার খুব বেশি ধারণা নেই।”
ধুমাল আরও বলেন,
“এটি দুঃখজনক। কখনও কখনও বিষয়গুলো এইভাবেই ঘটে। ক্রিকেটের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি না। সাধারণভাবে সরকার ক্রিকেটকে সমর্থন করে। তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে আমাদের চারপাশে কিছু ঘটনা ঘটে এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে স্বাভাবিক যুক্তি ও বিবেচনা কাজ করবে এবং এরকম পরিস্থিতি আর হবে না।”
বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রতিবাদ জানায়। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে বিসিবি। নিরাপত্তা বিষয়টি সামনে এনে তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করবে তখনই, যদি ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে চলে যায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধ প্রত্যাখান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগে খেলছেন খেলছেন মোস্তাফিজ। ৬.৪৪ কোটি রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে যোগ দেন তিনি। এখন পর্যন্ত পিএসএলে দুটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার। নিয়েছেন দুটি উইকেট। সঙ্গে দুর্দান্ত ইকোনমি রেট ৪.৮৭।

আইপিএলে খেলার জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) না দেওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দলটির পেসার নুয়ান থুশারা। এনওসি না মেলায় কলম্বো জেলা আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
এবারের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলার কথা ছিল থুশারার। তবে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় বোর্ড তাঁকে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইপিএলে খেলার সুযোগ পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এই পেসার।
থুশারার অভিযোগ, গত দুই আইপিএল মৌসুমে একই ধরনের ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল। অথচ এবার তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে না, তারপরও একই ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি আটকে দেওয়া হয়েছে।
মামলায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা, সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে, কোষাধ্যক্ষ সুজিওয়া গোডালিয়াড্ডা এবং সিইও অ্যাশলে ডি সিলভাকে বিবাদী করেছেন থুশারা। কলম্বো জেলা আদালতে গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর ৯ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় থুশারাকে এনওসি দেওয়া হয়নি। পাঁচটি মানদণ্ডে সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্টের মধ্যে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৭। বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট—বিদেশি লিগে খেলতে হলে এই ফিটনেস পরীক্ষা পাস করাই বাধ্যতামূলক।
তবে থুশারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, ক্যারিয়ারজুড়েই তার ফিটনেস একই রকম রয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ আইপিএল মৌসুমে কোনো ফিটনেস ইস্যু না তুলেই তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তার এসএলসি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তিনি সেটি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত আগেই বোর্ডকে জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি, এসএলসির কর্মকর্তারা তাকে জানিয়ে দেন যে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তার জায়গা নেই—এমন অবস্থায় ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি না দেওয়া তার কাছে পরস্পরবিরোধী বলে মনে হচ্ছে।
থুশারা আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন তাকে এনওসি পাওয়ার অধিকারী ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করেছেন, যাতে এসএলসি-কে অবিলম্বে সনদটি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে চলতি মৌসুমে বেঙ্গালুরুতে যোগ দিতে পারেন তিনি।
থুশারার জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনওসি না পেলে আরসিবি বাধ্য হবে ৩১ বছর বয়সী এই পেসারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে বিকল্প খেলোয়াড় নিতে। ফলে তিনি শুধু চলতি আইপিএলের পারিশ্রমিকই হারাবেন না, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর সুযোগও হাতছাড়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আইপিএলই এখন তার আয়ের প্রধান উৎস।
আইপিএলে থুশারা এখন পর্যন্ত দুটি দলের হয়ে খেলেছেন। প্রথমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ২০২৪ মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। আর আরসিবির হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। গত মৌসুমে—যেখানে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য বড় সংবাদই বটে। এক যুগ পর তাদের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাবে অষ্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিতে জিম্বাবুয়ে সফর করেছিল অজিরা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবকটি হবে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হবে ১৫ সেপ্টেম্বর, এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ও ২০ সেপ্টেম্বর হবে শেষ ওয়ানডে।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নামিবিয়া। ঘরের মাঠে মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই সিরিজটি স্বাগতিকদের জন্য বড় পরীক্ষা।
অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর মাকোনি বলেন,
‘আমরা অস্ট্রেলিয়াকে আবারও জিম্বাবুয়েতে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। এই ধরনের বড় দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের দলের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এই সফরটি অমূল্য ভূমিকা রাখবে।’
এই সিরিজের আগে জুলাইয়ে ঘরের মাঠে ভারতকে স্বাগত জানাবে জিম্বাবুয়ে। সেই সিরিজে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ঘরোয়া ওয়ানডে কাপের ফাইনাল চলাকালীন দলকে মাঝপথে ফেলে যান বেয়ার্স সোয়ানেপোল। এ ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার।
গত রোববার জোহানেসবার্গে লায়ন্স ও টাইটান্সের মধ্যে ঘরোয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। সোয়ানেপোল বল হাতে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও ইনিংস শেষ হওয়ার ৮ ওভার বাকি থাকতেই মাঠ ছাড়েন।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট ধরার জন্য মূলত ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে যান সোয়ানেপোল। শুক্রবার থেকে ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে তাঁর খেলার কথা ছিল। তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে কিছুই জানত না লায়ন্স কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বাড়ানোর দাবি ইউরোপের দেশগুলোর |
|
এ ঘটনায় সোয়ানেপোলকে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার ‘অনাপত্তিপত্র’ বা ‘এনওসি’ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে সোয়ানেপোলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও চুক্তিবিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওরচেস্টারশায়ার ক্লাবের ডিরেক্টর অ্যাশলে জাইলস বিষয়টিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন, ‘কেন এমনটা ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে সোয়ানেপোল সম্ভবত এখন বুঝতে পারছেন যে তিনি একটি ভুল করে ফেলেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কোনো চাপ ছিল না। মানুষ ভুল করে, সোয়ানেপোল ভালো ছেলে, কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি বড় একটি ভুল করে ফেলেছেন।’
পুরো মৌসুম খেলার কথা থাকলেও লায়ন্স দলের সাথে সোয়ানেপোলের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তাকে এনওসি না দেওয়া বিষয়টি ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ড। আইনি প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সোয়ানেপোলের।