৬ মে ২০২৬, ৬:০৪ পিএম

আসন্ন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এবার লাল-সবুজের দলকে নেতৃত্ব দেবেন আফঈদা খন্দকার প্রান্তি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের প্রস্তুতি, প্রত্যাশা এবং সাম্প্রতিক সমালোচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিজের ফর্ম এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আফঈদা বলেন,
‘আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাঁর অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা হয়।’
সিনিয়র পর্যায়ে নিজের পারফরম্যান্সের উত্থান-পতন এবং ফর্মে ফেরার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আফঈদা বলেন,
'আসলে একজন খেলোয়াড়ের সব সময় ভালো সময় যায় না। আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাঁর অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা করা হয়। আমি চাই মানুষের এই চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসুক, তারা যেন খেলোয়াড়দের সবসময় উৎসাহিত করেন।’
এবারের সাফের দলে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছে। তার মধ্যে আছেন মমিতা খাতুন এবং অর্পিতা বিশ্বাস অর্পিতা। গত সাফের ২৩ জনের স্কোয়াডে থাকা এবারের সফরে এসেছে বড় পরিবর্তন। নতুন করে এই সাফে যাচ্ছেন ১০জন ফুটবলার। বড় মঞ্চে এই তরুণদের নিয়ে প্রত্যাশার চাপ কতটা, এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, দলে নতুন বলতে আসলে কিছু নেই। খেলোয়াড়রা অনেকদিন ধরে একসঙ্গে নিবিড় অনুশীলন করছেন এবং নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াও দারুণ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার ভারতের গোয়ায় মাঠে নামবে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। স্বাগতিক ভারত নিজেদের মাটিতে নিশ্চিতভাবেই চাইবে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা রুখে দিতে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার। ভারত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আফঈদা জানান,
‘সাফে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল তিনটি দলই অনেক শক্তিশালী। ভারত চাইবে না বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক করুক, তবে দল তাদের হারানোর পুরো প্রস্তুতি নিয়েই যাচ্ছি আমরা। যেকোনো দেশের মাটিতেই হোক না কেন, নিজেদের সেরাটা দিয়ে জেতার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
শিরোপা ধরে রাখার বাড়তি কোনো মানসিক চাপ নেই জানিয়ে আফঈদা বলেন,
‘মাঠে নামার পর হ্যাটট্রিকের চিন্তা মাথায় থাকে না। প্রত্যাশার চাপ ওরকম কিছু না। আমরা যখন মাঠে নামি তখন আমাদের মাথায় থাকে না যে হ্যাটট্রিক করতে হবে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামি। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।’
সম্প্রতি এএফসি কাপে দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে ৩ গোল হজম করার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে আফঈদা বলেন,
‘হার-জিত খেলার অংশ এবং এএফসিতে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে দল শিখেছে যে, এই পর্যায়ের ফুটবলে পুরোটা সময় একাগ্রতা ধরে রাখা কতটা জরুরি। একাগ্রতা হারানোর কারণেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোলগুলো হজম করতে হয়েছিল।’
এবার
ছোট ছোট ভুল শুধরে সাফের
মঞ্চে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ
করতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ।
No posts available.
১৫ মে ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ম্যানুয়েল ন্যয়ার। জার্মান এই কিংবদন্তি গোলকিপার বায়ার্নের সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।
বায়ার্ন মিউনিখের গোলপোস্টের নিচে ন্যয়ার মানেই যেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। ২০১১ সালে শালকে থেকে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাবটির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন তিনি। নতুন এই চুক্তির ফলে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ন্যয়ারের পথচলা ১৬ মৌসুমে পা রাখতে যাচ্ছে। আধুনিক ফুটবলে একই ক্লাবের হয়ে এত দীর্ঘ সময় কাটানোর নজির খুব কমই আছে।
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ন্যয়ার তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
‘বায়ার্ন আমার কাছে শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি আমার ঘর। এই ক্লাবের হয়ে আরও কয়েক বছর খেলার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। আমাদের লক্ষ্য এখনো অনেক উঁচুতে এবং আমি আমার সেরাটা দিয়ে দলকে সহায়তা করতে চাই।’
৩৮ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গত কয়েক বছরে ইনজুরির কারণে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করলেও, মাঠে ফিরে প্রতিবারই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
বায়ার্নের হয়ে ন্যয়ার অনেকগুলো শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে টানা বেশ কয়েকটি বুন্দেসলিগা এবং দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ।

শেষ পর্যন্ত চোটের কাছে হার মানতে হলো। আর বড় দুঃসংবাদ শুনতে হলো নেদারল্যান্ডসকে। পিঠের পুরনো সমস্যা এড়াতে অস্ত্রোপচার না করার দীর্ঘ লড়াইয়ে অবশেষে হার মানলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাচ ডিফেন্ডার মাথিয়াস ডি লিখট। ফলে নিশ্চিতভাবেই ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না তাঁর।
২৬ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ডি লিখট গত বছরের ৩০ নভেম্বর ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে জয়ের পর আর মাঠে নামতে পারেননি। সেই সময় ইউনাইটেডের তৎকালীন ম্যানেজার রুবেন আমোরিম এটিকে একটি ছোটখাটো সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং আশাবাদী ছিলেন, চার দিন পর ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে হোম ম্যাচেই ফিরবেন এই ডাচ তারকা।
তবে তেমনটা ঘটেনি। এরপর ক্লাবটির পক্ষ থেকে অনেক ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিকও বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন যে ক্লাব এখনই অস্ত্রোপচারের কথা ভাবছে না। কিন্তু গত মাসে ক্যারিংটনের অনুশীলন মাঠে ডি লিখটের দৌড়ানোর সর্বশেষ চেষ্টাটি কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি।
এক বিবৃতিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জানিয়েছে,
‘মাথিয়াস ডি লিখটের পিঠের ইনজুরি সারাতে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কঠোর পরিশ্রম করার পরও, সবদিক বিবেচনা করে এই সংশোধনী অস্ত্রোপচারকেই সেরা উপায় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জানিয়েছে, তারা অন্তত ‘২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুর দিককার’ আগে ডি লিখটকে মাঠে ফিরে পাওয়ার আশা করছে না।
বিবিসি জানিয়েছে, ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটির হয়ে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতেও থাকতে পারছেন না ডি লিখট। আগামী ১৮ জুলাই হেলসিঙ্কিতে রেক্সহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইউনাইটেডের প্রাক-মৌসুম সফর শুরু হবে। তবে নিজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য দলের বাকি স্কোয়াডের সঙ্গে তিনি সফরে যেতে পারেন।
আগামী ১৪ জুন জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে নেদাল্যান্ডসের অন্য দুই সঙ্গী সুইডেন ও তিউনিসিয়া।

দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলা শেষ হচ্ছে শেমাস কোলম্যানের। চলতি মৌসুম শেষেই ইংলিশ ক্লাব এভারটন অধ্যায়ের ইতি টানবেন তিনি। মৌসুম শেষে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেই ক্লাবকে বিদায় বলবেন এভারটেরন এই কিংবদন্তি।
রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের এই আন্তর্জাতিক তারকা ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আইরিশ ক্লাব স্লিগো রোভার্স থেকে মাত্র ৬০ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে গুডিসন পার্কে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তাঁকে ক্লাবের স্থায়ী অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়।
২০২৪ সালে সাবেক গোলকিপার টিম হাওয়ার্ডের ৩৫৪ ম্যাচের রেকর্ড ভেঙে এভারটনের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েন কোলম্যান। প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের জার্সিতে তাঁর ম্যাচ খেলার সংখ্যা এখন ৩৭২টি, যেখানে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ২২টি গোল ও ২৪টি অ্যাসিস্ট।
এভারটনের পক্ষ থেকে কোচিং স্টাফে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কোলম্যানকে। তবে ৩৭ বছর বয়সী এই ফুল-ব্যাকক নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী গ্রীষ্মকালীন ছুটি পর্যন্ত সময় চেয়েছেন।
বিদায়বেলায় কোলম্যান বলেন,
‘এই মহান ফুটবল ক্লাবে ১৭ বছরেরও বেশি সময় কাটানোর পর, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটাই এখানে আমার শেষ মৌসুম।’
আগামী রবিবার সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে গুডিসন পার্কে এভারটনের ঘরের মাঠে তাঁর শেষ ম্যাচ।
গত কয়েক বছরই চোটের কারণে বেশ ভুগতে হয়েছে কোলম্যানকে। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মাত্র ৩টি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে গত নভেম্বরে নিজের একমাত্র শুরুর ম্যাচটিতেও চোটের কারণে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই ডিফেন্ডার।
এভারটনের হয়ে রেকর্ড ১৪০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া কোলম্যান ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন,
‘ভক্তদের এই অবিশ্বাস্য সমর্থনের জন্য আমি মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনারা আমাকে কতটা সাহায্য করেছেন, তা কল্পনারও বাইরে।’

লিওনেল মেসির ‘বডিগার্ড’ নামে পরিচিত ডি পল যে মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে আর্জেন্টাইন মহাতারকার ছায়াসঙ্গী, সেটা সবারই জানা। মেসির সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্কের বিষয়টিও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বেশ আলোচিত। আর্জেন্টিনার ‘ছোট ইঞ্জিন’ নামেও পরিচিত ডি পল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রায় সব সাফল্যেরই অংশীদার। জাতীয় দল থেকে ক্লাব ফুটবল সবক্ষেত্রেই তাঁদের রসায়নটা একদম চোখধাঁধানো। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আরও একবার এই জুটির ভেলকি দেখার অপেক্ষায় আলবিসেলেস্তা সমর্থকরা। আর এরজন্যে নাকি অনেক আগেই মহাপ্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন ডি পল।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেসির সঙ্গে মিলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ‘স্পেশাল’ প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডি পল। যেখানে রয়েছে কঠোর ‘ডাবল সেশন’ অনুশীলন, এমনকি পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বা প্রামাণ্যচিত্র বানানোর দারুণ এক আইডিয়াও নাকি আছে!
‘লো দেল পোলো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডি পল বলেন,
‘আমরা মূলত সেই লক্ষ্যেই নিজেদের প্রস্তুত করছি। ক্লাবের নিয়মিত অনুশীলনের বাইরেও গত দুই-তিন মাস ধরে আমাদের প্রতিদিনের একটা আলাদা ট্রেনিং প্ল্যান রয়েছে। নিজেদের সেরা শারীরিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছি। আমাদের নিজস্ব কোচের অধীনে আমরা ডাবল সেশনে প্র্যাকটিস করছি। সত্যি বলতে, আমরা নিজেদের সামর্থ্যের শেষবিন্দু দিয়ে পুশ করছি।’
আর্জেন্টাইন মাঝমাঠের এই ‘মোটরসিটো’ আরও জানান, পুরো জার্নিটা ক্যামেরাবন্দি করে রাখার তীব্র ইচ্ছা আছে তাঁর, যদিও মেসির এই আইডিয়াটা খুব একটা পছন্দ নয়। হাসতে হাসতে ডি পল সেই মজার গল্প শুনিয়ে বলেন,
‘আমি তো সিনেমাটোগ্রাফির ছোঁয়া দিতে চেয়েছিলাম... ইচ্ছা ছিল সবকিছুর শুটিং করে রাখি। কিন্তু ও (মেসি) একটু দ্বিধায় ছিল... “না ভাই, বাদ দাও, কীসব শুটিং করবে?”... তখন আমি বললাম, যদি সত্যি সত্যিই এবারও কিছু একটা হয়ে যায় (বিশ্বকাপ জয়)... তবে একটা ছোটখাটো ডকুমেন্টারি বানিয়ে কিন্তু ভালো টাকা কামানো যাবে!’
নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি নেওয়া ৩১ বছর বয়সী ডি পল জানান যে বিশ্বকাপকে ভাবনায় না রেখে বেঁচে থাকা অসম্ভব,
‘বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, মনের ভেতর এসব চিন্তা তত বেশি উঁকি দিচ্ছে। এর মধ্যে যেমন ভয় আর অনিশ্চয়তা কাজ করছে, তেমনি আছে আনন্দও... এখন কেবল চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার অপেক্ষা। ব্যক্তিগতভাবে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত এবং আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনা দল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামবে।’
শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা দল যে কতটা ক্ষুধার্ত, সেটি পুনর্ব্যক্ত করে ডি পল বলেন,
‘আমি আমার সতীর্থদের চোখে-মুখে সেই আত্মবিশ্বাস আর জেদ দেখতে পাচ্ছি, যা আবারও ইতিহাস গড়তে আমাদের তাগিদ দিচ্ছে। আমরা কোপা আমেরিকা জয়ের পর দ্বিতীয় শিরোটার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, ফিনালিসিমা জয়ের পর স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলাম... নিজেদের উজাড় করে দিতে এই দলটা সবসময় এক পায়ে খাড়া।’
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামা আর্জেন্টিনা খেলবে 'জে' গ্রুপে। এই গ্রুপে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তেদের বাকি তিন প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান। আগামী ১৬ জুন কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বেলজিয়াম। চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তির খবর পেলেন রোমেলু লুকাকু। নাপোলির এই ফরোয়ার্ডকে রেখেই বিশ্বকাপের নিজেদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বেলজিয়াম।
লুকাকুর পাশাপাশি মাঝমাঠের মহাতারকা কেভিন ডি ব্রুইনা এবং রিয়াল মাদ্রিদ গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া—এই তিনজনের জন্যই এটি হতে যাচ্ছে ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ আসর।
বেলজিয়ামের অন্যান্য তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির জেরেমি ডকু, আর্সেনাল ফরোয়ার্ড লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড। ২০১০-এর দশকের সেই বিখ্যাত 'সোনালী প্রজন্ম' (গোল্ডেন জেনারেশন)-এর অধিকাংশ তারকাই হয় তাদের ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করে এসেছেন, অথবা দল থেকেই বাদ পড়েছেন।
বেলজিয়ামের জার্সিতে এখন পর্যন্ত লুকাকু ১২৪টি, ডি ব্রুইনা ১১৭টি এবং কোর্তোয়া ১০৭টি ম্যাচ খেলেছেন। অভিজ্ঞতার দিক থেকে এবারের বিশ্বকাপে যেকোনো দলের চেয়ে নিঃসন্দেহে এগিয়ে থাকবেন এই ত্রয়ী। তবে অভিজ্ঞতার এই তালিকায় তাঁরা সবাই পিছিয়ে থাকছেন ৩৭ বছর বয়সী রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার আক্সেল উইটসেলের চেয়ে। বেলজিয়ামের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩৬ ম্যাচ খেলা উইটসেলও এবার নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে খেলতে নামছেন।
গত জুনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করার পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে বেলজিয়ামের হয়ে খেলেননি লুকাকু। গত বুধবারই ৩৩ বছরে পা দেওয়া লুকাকে ২০২৫-২৬ মৌসুমে চোটের কারণে মাত্র সাতটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তা সত্ত্বেও চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও এভারটনের সাবেক এই তারকাকে নিজের ২৬ সদস্যের দলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ রুডি গার্সিয়া। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য গত দুই মাস ধরে তিনি বেলজিয়ামেই অবস্থান করছেন।
জাতীয় দলের হয়ে ১২৪ ম্যাচে রেকর্ড ৮৯ গোল করা লুকাকু বেলজিয়ামের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা; জাতীয় দলের হয়ে তিনি সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন গত জুনে, ওয়েলসের বিপক্ষে।গত মার্চ ও এপ্রিলে বেলজিয়ামের হয়ে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচগুলোর স্কোয়াডে তাঁর নাম থাকলেও, ফিটনেসজনিত সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে লুকাকু দল থেকে ছিটকে যান।
অন্যদিকে, জাতীয় দলের হয়ে থিবো কোর্তোয়া তাঁর সর্বশেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন গত অক্টোবরে। চোটের সমস্যার কারণে বেলজিয়ামের সাম্প্রতিক স্কোয়াডগুলো থেকে তিনি বাদ পড়লেও, চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া আক্রমণভাগে প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে থাকছেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড এবং ম্যানচেস্টার সিটি উইঙ্গার জেরেমি ডকু।
কোচ রুডি গার্সিয়া ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার নাথান ডি ক্যাটকে এবারের স্কোয়াডে রাখেননি; দলে জায়গা পেলে যিনি হতে পারতেন এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম কনিষ্ঠ খেলোয়াড়। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটিতে বেলজিয়ামের জার্সিতে ডি ক্যাটের অভিষেক হয়েছিল। এছাড়া গত কয়েক মাস জুভেন্টাসের সাইডবেঞ্চে কাটানো ফরোয়ার্ড লোইস ওপেন্দাও চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন।
আগামী ১৫ জুন মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়াম তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এর ছয় দিন পর তারা মুখোমুখি হবে ইরানের এবং ২৭ জুন খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়াম, ২০২২ সালের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার হতাশা এবার নিশ্চিতভাবেই কাটিয়ে উঠতে চাইবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য বেলজিয়ামের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড:
গোলকিপার: থিবো কোর্তোয়া, মাইক পেন্ডার্স, সেনে ল্যামেন্স।
ডিফেন্ডার: টিমোথি কাস্তানিয়া, জেনো ডেবাস্ট, মাক্সিম ডি কুইপার, কোনি ডি উইন্টার, ব্র্যান্ডন মেচেল, থমাস মুনিয়ের, নাথান এনগয়, জোয়াকিন সিস, আর্থার থিয়েট।
মিডফিল্ডার: কেভিন ডি ব্রুইনা, আমাদু ওনানা, ইউরি তিলেমান্স, হান্স ভানাকেন, নিকোলাস রাস্কিন, আক্সেল উইটসেল।
ফরওয়ার্ড: চার্লস ডি কেটেলিয়ারে, জেরেমি ডকু, মাতিয়াস ফার্নান্দেজ-পার্দো, রোমেলু লুকাকু, দোদি লুকেবাকিও, ডিয়েগো মোরেইরা, অ্যালেক্সিস সেলেমেকার্স, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড।