৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:০৯ পিএম

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বলে আইসিসিকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ ব্যাপারে বিসিবির সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। যদি শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তন হয়, শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর হতে পারে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো।
তবে ভেন্যু পরিবর্তন হলেও দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে থাকা এ অলরাউন্ডার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'জানি না আসলে কী হবে, যেহেতু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা যেকোনো ভেন্যুতেই খেলতে সব সময় প্রস্তুত থাকি। বেশ কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে আমরা টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং পূর্ণাঙ্গ একটা সিরিজ খেলে এসেছি। আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি খাপখাইয়ে নেওয়াটা সুবিধা হবে আশা করি।'
ভেন্যু যেখানেই হোক পারফরম্যান্স করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ দল। সাইফউদ্দিন বললেন, 'তারপরও দেখা যাক আমরা যেকোনো কন্ডিশনে- সেটা ইন্ডিয়াই হোক বা শ্রীলঙ্কাই হোক আমরা সব সময় প্রস্তুত। আর বিশ্বকাপের মতো একটা বড় ইভেন্ট আমরা সব প্লেয়ারই মুখিয়ে আছি খেলার জন্য। এটা যেখানে হোক।'
সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেও জায়গা হয়নি সাইফউদ্দিনের। দলে ফিরলেও থিতু পারেন না ২৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। ফিটনেসও বিভিন্ন সময় বাধা হয়েছে। ক্যারিয়ারের এই চড়াই-উতরাই নিয়ে সাইফউদ্দিন বললেন, 'জীবন তো, আসলে অনেক লড়াই করতে হয়। সেটা খেলোয়াড় জীবন হোক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন হোক। সবসময় চিন্তা করি, আগে হয়তো অনেক বেশি চিন্তা করতাম ক্রিকেট নিয়ে- আমার এই জায়গায় থাকতে হবে। আমার রোলটা ভালোভাবে প্লে করতে হবে। এখন আসলে সেই জায়গা থেকে কিছুটা সরে এসেছি।'
তারপর সাইফউদ্দিনের উপলব্ধি, 'সব সময় চেষ্টা করি নিজেকে ফিট রাখা। যা হওয়ার হবে। মন খুলে ক্রিকেটটা খেলি। তো ইনশাআল্লাহ গত চার-পাঁচ মাস চাচ্ছি যেরকম, সবকিছু হচ্ছে। চেষ্টা করবো এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার, দলের নিয়মিত হওয়ার।'
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম

দুই ইনিংসে নেই কারো ফিফটি। অথচ, এমন এক ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ১৯৮/৫-এর জবাবে সিলেট টাইটান্সের স্কোর ১৮৪/১০। ১৪ রানে চট্টগ্রাম রয়্যালসের জয়ের ম্যাচেও শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছিল সিলেট টাইটান্স।
চলমান বিপিএলে এ পর্যন্ত হয়ে যাওয়া সর্বোচ্চ স্কোরের ম্যাচে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কী ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংই না দেখেছে দর্শক। শেষ ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম যোগ করেছে ৬৬, সেখানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিলেট টাইটান্স যোগ করেছে ৫৯ রান।
শেষ পাওয়ার প্লে-তে বোলারদের চুল ছিঁড়ে ফেলার দশা করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালস মিডল অর্ডার শেখ মেহেদী (১২ বলে ৪ বাউন্ডারি, ১ ছক্কায় ৩১*)। জবাব দিতে এসে শেষ ১২ বলে ৪২ রানের টার্গেটের মুখে দাঁড়িয়েও সিলেট টাইটান্স টেল এন্ডার খালেদের বেপোরোয়া ব্যাটিং দেখেছে দর্শক (৯ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় ২৫)।
১৯তম ওভারে শেখ মেহেদী চড়াও হয়েছিলেন পেস বোলার খালেদের উপর। মেরেছেন সেই ওভারে ২ চার, ১ ছক্কা, একটি ২ রান। জবাব দিতে এসে ১৯ তম ওভারে পেস বোলার শরীফুলকে খালেদ মেরেছেন ২ ছক্কা, ১ চার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলারদের বধ্যভূমি বানিয়ে ফেলা ম্যাচে সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছেন সিলেট টাইটান্স পেসার খালেদ (৪-০-৫৫-০)। দলের অন্য দুই পেসার রুয়েল মিয়া (৪-০-৪১-৩) এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই (৪-০-৪৭-১)ও ছিলেন অমিতব্যয়ী। প্রশংসা প্রাপ্য শুধু বাঁ হাতি স্পিনার নাসুম ( ৪-০-২৪-০)।
টানা চতুর্থ ম্যাচে ফিফটির কক্ষপথে ছিলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অ্যাডাম রশিংটন। তবে ফিফটি থেকে যখন মাত্র ১ রান দূরে, তখন রুয়েল মিয়াকে পুল করতে যেয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন রশিংটন ( ৩৮ বলে ৬ চার, ১ ছক্বায় ৪৯)। এই ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রকৃত টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের মাহামুদুল হাসান জয় (২১ বলে ৩ চার, ৪ ছক্বায় ৪৪)। রুয়েল মিয়াকে পর পর ২টি ছক্কা মেরে আর একটি ছক্কার শটে প্রলুব্ধ হয়ে এক্সট্রা কভারে দিয়েছেন ক্যাচ। রশিংটনের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ২য় উইকেট জুটিতে ৩৮ বলে ৬০ রানে রেখেছেন মাহামুদুল হাসান জয় বিশেষ অবদান।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫০ উঠতে ৩ উইকেট হারিয়েও ম্যাচে সিলেটকে রাখতে প্রানান্ত চেষ্টা করেছেন আফিফ। তবে বাঁ হাতি স্পিনার তানভিরের বলে এলবিডাব্লু হয়ে থেমেছেন ৪৬ রানে ( ৩৩ বলে ৪ চার, ২ ছক্কা)। এই ম্যাচে দুদলের মধ্যে ব্যবধান গড়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের পাকিস্তানি পেসার আমের জামাল (৪-০-৩৪-৪)।
সিলেটের জামাই মঈন আলী ইকোনমি বোলিংয়ে (৪-০-২৩-১) নাঈম শেখ-কে শিকার করেছেন। তবে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি। মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে বোল্ড হয়েছেন (১১ বলে ১৩)।
এই ম্যাচে ব্যবধান গড়েছে ডট বল এবং বাউন্ডারির সংখ্যা। চট্টগ্রামের (৪৩) চেয়ে ৫টি বেশি ডট করেছে সিলেট (৪৮)। চট্টগ্রামের ১৯টি বাউন্ডারির বিপরীতে ৯টি বাউন্ডারি মেরেছে সিলেট। ৩টি বেশি ছক্কা (১২টি) মেরেও তাই হেরে গেছে সিলেট।
৬ষ্ঠ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় রংপুরের সঙ্গে শীর্ষে উঠে এসেছে (৮ পয়েন্ট)। সিলেট নেমে গেছে পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে (৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট)।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের সংস্করণের সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিস (টিপিটি)। তাদের আয়োজনে এবার মোট ১১ জন দেশি-বিদেশি ধারাভাষ্যকার দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে চারজন দেশি ধারাভাষ্যকার রয়েছেন।
ধারাভাষ্য প্যানেলে এবার যুক্ত হলো নতুন তারা। বিদেশী কণ্ঠে যুক্ত হচ্ছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার নিক কম্পটন। ৪২ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটার ও বর্তমানে বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার কম্পটন স্কাই স্পোর্টস, বিবিসি এবং ইএসপিএনের মতো প্লাটফর্মে কাজ করছেন।
কিংবদন্তি ইংলিশ অলরাউন্ডার ডেনিস কম্পটন-এর নাতি নিক কম্পটন। ক্রিকেট পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ব্যাটার ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কম্পটন ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১২ থেকে ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন। ১৬ টেস্টে ৭৭৫ রান করেছেন তিনি।
অবশ্য ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘ হয়নি কম্পটনের। ২০১৮ সালের শেষে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেন তিনি। বর্তমানে ক্রিকেটে ধারাভাষ্যকার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ক্রিকেটে তাঁর বিশ্লেষণী দক্ষতা টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ায় বেশ পরিচিত।
এবারের বিপিএলে দেশি ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় আছেন ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’ খ্যাত আতহার আলী খান। তাঁর সঙ্গে ধারাভাষ্য আছেন শামীম চৌধুরী, সমন্বয় ঘোষ ও মাজহার উদ্দিন অমি।
বিদেশীদের মধ্যে আছেন পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনুস ও রমিজ রাজা। রমিজ রাজা এর আগেও বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেও ওয়াকার ইউনিসের জন্য এটি প্রথম। এছাড়া ধারাভাষ্য প্যানেলে আছেন সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার ফারভেজ মাহরুফ। মাঝে ওয়াকার ইউনুস বাংলাদেশ ছাড়লে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন গফ যোগ দেন।

ঘরের মাঠে আবার হারল সিলেট টাইটান্স। রংপুর রাইডার্সের কাছে হারের পরের ম্যাচেই জয়ে ফিরল চট্টগ্রাম রয়্যালস। একইসঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ফিরে পেল বিসিবি পরিচালিত দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে সিলেটকে ১৪ রানে হারায় চট্টগ্রাম। চলতি বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে ৫ উইকেটে ১৯৮ রানে থামে চট্টগ্রাম। জবাবে ১৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি সিলেট।
ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর নেট রান রেটের সৌজন্যে এখন এক নম্বরে চট্টগ্রাম। রংপুর রাইডার্স সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে। আর সাত ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে সিলেট।
রান তাড়ায় শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি সিলেট। দ্বিতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ২৪ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তৌফিক খান তুষার ও আফিফ হোসেন ধ্রুব।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আমির জামালের বলে বড় ছক্কা মেরে আউট হয়ে যান তুষার। ওই ওভারেই ক্রিজে গিয়ে প্রথম বল ছক্কায় ওড়ান রনি তালুকদার। তবে ওভারের শেষ বলেই তাকে চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন জামাল।
এরপর কমে আসে রানের গতি। তিন নম্বরে ফিফটির সম্ভাবনা জাগালেও পারেননি আফিফ। ৩৩ বলে ৪৬ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটার। বেশি কিছু করতে পারেননি মইন আলি (১৩) ও আজমতউল্লাহ (১৮) ওমরজাই।
পরে ইথান ব্রুকস আশা দেখান। কিন্তু ১০ বলে ২০ রান করে ফিরে যান ইংলিশ তরুণ। আট নম্বরে নামা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও তেমন কিছু করতে পারেননি।
শেষ দিকে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা আনেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। বিপিএল ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ইনিংসে ৩টি ছক্কা মারেন সিলেটের পেসার। তবে তার ৯ বলে ২৫ রানে পরাজয়ের ব্যবধান ছাড়া আর কোনো ফায়দা হয়নি।
চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে ৪ উইকেট নেন জামাল। শরিফুল ইসলামের শিকার ২টি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো ছিল না চট্টগ্রামের। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৩৫ রানে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১৫ বলে ১৮)। এরপর তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন জয়। অ্যাডাম রসিংটনের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৬০ রান।
ফিফটির আগেই অবশ্য ফিরে যান ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারা জয়। মাত্র ১ রানের জন্য টানা চতুর্থ ফিফটি করতে পারেননি রসিংটন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৯ রান। পরে হাসান নাওয়াজ (২০ বলে ২৫) ও আসিফ আলি (৮ বলে ১৩) তেমন কিছু করতে পারেননি।
তবে ফিনিশিংটা দুর্দান্ত করেন মেহেদি। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আমির জামালকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ১৭ বলে ৩৯ রান। ৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ায় সিলেট দলে নেই মোহাম্মদ আমির। তার জায়গায় খেলতে নেমে ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (নাঈম ১৮, রসিংটন ৪৯, জয় ৪৪, নাওয়াজ ২৫, আসিফ ১৩, মেহেদি ৩৩*, জামাল ৬*; রুয়েল ৪-০-৪১-১, খালেদ ৪-০-৫৫-০, মইন ৪-০-২৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-০, ওমরজাই ৪-০-৪৭-১)
সিলেট টাইটান্স: ১৯.৪ ওভারে ১৮৪ (তুষার ২৩, ইমন ২, আফিফ ৪৬, রনি ৬, মইন ১৩, ওমরজাই ১৮, ব্রুকস ২০, মিরাজ ১৭, খালেদ ২৫, নাসুম ০, রুয়েল ০*; শরিফুল ৪-০-৩৯-২, রনি ৪-০-৩৫-১, মেহেদি ৪-০-৩০-০, জামাল ৪-০-৩৪-৪, নাওয়াজ ১-০-৮-১, তানভির ২.৪-০-৩৮-২)
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ১৪ রানে জয়ী

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল পাকিস্তানের। অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) খেলতে গিয়ে হাঁটুর চোটে পড়েন দলের অন্যতম সেরা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপর ফিরে আসেন দেশে। ডান হাঁটুর এই চোটে ঠিক কতদিনের জন্য তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে সেটা নিয়েই দুশ্চিন্তা ছিল সবার। তবে বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে ভালো খবর দিলেন আফ্রিদি।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসায় দ্রুতই আফ্রিদির চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে দ্রুত পুনর্বাসন শুরু হওয়া সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছে। ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি এই পেসার আশা করছেন আগামী সপ্তাহ থেকেই আবার বোলিংয়ে ফিরবেন।
লাহোর কালান্দার্সের ট্যালেন্ট হান্ট ইভেন্টে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আফ্রিদি নিজের চোট নিয়ে কথা বলেন। এর আগেও একবার হাঁটুর চোটে পড়েছিলেন তিনি। তবে এবার হাঁটুর এই চোট আগের মতো গুরুতর নয় বলে জানান আফ্রিদি, ‘আমার পুনর্বাসন চলছে, পিসিবি মেডিকেল টিম দেখাশোনা করছে। আমি জিম করছি এবং ব্যাটিং অনুশীলন করছি। আগামী সপ্তাহ থেকে বোলিং শুরু করব।’
আফ্রিদি আরও যোগ করেন, ‘এবারের চোট আগের মতো গুরুতর নয়। হাড়ে সামান্য ফোলাভাব আছে। এমআরআই রিপোর্ট খুব উদ্বেগজনক ছিল না, তাই এটা এক মাস নেবে না, সম্ভবত এক সপ্তাহের মতো সময় লাগবে।’
এর আগে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় একটি টেস্ট ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় ‘পোস্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট’ চোট পান। এই চোটে প্রায় ছয় মাস মাঠের বাইরে ছিলেন পাকিস্তানি তারকা পেসার। সেই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম অংশও খেলতে পারেননি। পরে পাকিস্তানের দলের শেষপর্যায়ের খেলায় ফিরলেও, ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবার চোট পান।
বিগ ব্যাশে এবার ব্রিসবেন হিটের হয়ে আফ্রিদি চারটি ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে প্রতি ওভারে ১১.১৯ রান খরচ করে মাত্র দুই উইকেট নিয়েছেন। তবে দেশের হয়ে তিনি ভালো ছন্দেই ছিলেন। গত বছর পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ ও আবরার আহমেদ-এর পর তিনি কুড়ি ওভারের সংস্করণে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন।
আফ্রিদির দল বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় আছে। বিশ্বকাপের আগে লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে আজ মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। ভারত-শ্রীলঙ্কার হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপের আগে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ।

শুরুতে ঝড় তুললেন মাহমুদুল হাসান জয়। আর শেষের সিলেট টাইটান্সের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেন শেখ মেহেদি হাসান। দুজনের বিধ্বংসী দুটি ইনিংসে চলতি বিপিএলের রেকর্ড গড়ল চট্টগ্রাম রয়্যালস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান করেছে চট্টগ্রাম। এবারের বিপিএলে যা সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেটের করা ১৯০ রান টপকে ১৯২ রান করেছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এর ১৫ ম্যাচ পর সেটি টপকে দুইশ ছুঁইছুঁই স্কোর দাঁড় করাল চট্টগ্রাম।
রেকর্ড পুঁজির বড় কারিগর জয় ও মেহেদি। মাত্র ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন তিন নম্বরে নামা জয় আর শেষ দিকে ১৩ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মেহেদি।
চট্টগ্রামের ইনিংসে ফিফটি করতে পারেননি কেউই। বিপিএলে কোনো ব্যক্তিগত ফিফটি ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। গত বছর ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে কোনো ফিফটি ছাড়াই ২০২ রান করেছিল রংপুর রাইডার্স।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো ছিল না চট্টগ্রামের। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৩৫ রানে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১৫ বলে ১৮)। এরপর তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন জয়। অ্যাডাম রসিংটনের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৬০ রান।
ফিফটির আগেই অবশ্য ফিরে যান ৩ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারা জয়। মাত্র ১ রানের জন্য টানা চতুর্থ ফিফটি করতে পারেননি রসিংটন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৯ রান। পরে হাসান নাওয়াজ (২০ বলে ২৫) ও আসিফ আলি (৮ বলে ১৩) তেমন কিছু করতে পারেননি।
তবে ফিনিশিংটা দুর্দান্ত করেন মেহেদি। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আমির জামালকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ১৭ বলে ৩৯ রান। ৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান চট্টগ্রাম অধিনায়ক।
পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ায় সিলেট দলে নেই মোহাম্মদ আমির। তার জায়গায় খেলতে নেমে ৪১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৯৮/৫ (নাঈম ১৮, রসিংটন ৪৯, জয় ৪৪, নাওয়াজ ২৫, আসিফ ১৩, মেহেদি ৩৩*, জামাল ৬*; রুয়েল ৪-০-৪১-১, খালেদ ৪-০-৫৫-০, মইন ৪-০-২৩-১, নাসুম ৪-০-২৪-০, ওমরজাই ৪-০-৪৭-১)