
ভিলেমস্টাডের শহরতলির কুয়াশাচ্ছন্ন একটি সকাল। কুরাসাওয়ের ঐতিহ্যবাহী একটি পরিবার কফির আড্ডায় মগ্ন। ঘুমকাতুরে পরিবেশ, বাতাসে মৃদু সুগন্ধ। পাশের বাড়ির খুঁটিতে উড়ছিল লাল-নীল মিশেলে দেশটির জাতীয় পতাকা। একটি মনোমুগ্ধকর আবহ বটে!
পরিবারের আলোচনায়—ফুটবল। দুঃখের দিন গলিয়ে সুদিনে ফেরা ফুটবল। ১৯২৪ সালের নিভু নিভু জ্বলা ফুটবল ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কানাগলি পেরিয়ে সমতল ভূমিতে। আর মাত্র একটি পয়েন্ট মিললেই স্বপ্ন আরও প্রসারিত হবে—ক্যারিবিয়ান সাগরের মাঝখানে, ভেনেজুয়েলার উত্তরে প্রায় দেড় লক্ষ জনসংখ্যার এই দেশের।
গতকালই বারমুডাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কুরাসাও। গ্রুপে ৫ ম্যাচে তিন জয় দিয়ে ১১ পয়েন্ট দলটির। পরবর্তীতে জ্যামাইকাকে পরাজিত করা অথবা ন্যূনতম ড্র হলেই স্বপ্নের উপাখ্যান—সরাসরি বিশ্বকাপ টিকিট। মূলত এ নিয়েই উৎসবের আমেজ এখনও ফিফার বড় কোনো টুর্নামেন্ট না খেলা দেশটিতে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুরাসাওয়ের সাফল্য:
কনকাকাফ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুরাসাও প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর বিপক্ষে। ম্যাচটি ছিল গোলশূন্য ড্র। দ্বিতীয় ম্যাচে তারা বারমুডার বিপক্ষে ৩-২ এবং তৃতীয় ম্যাচে জ্যামাইকার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় পায়।
প্রথম ম্যাচের মতো চতুর্থ ম্যাচটিও হয় ড্র। তবে এবার দুই দলই একটি করে গোল হজম করে। পঞ্চম ম্যাচে বারমুডাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। তাদের পরবর্তী এবং বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ জ্যামাইকা। দেশটির বিপক্ষে এর আগের ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল কুরাসাও।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুরাসাওয়ের পয়েন্ট ১১। দ্বিতীয় স্থানে জ্যামাইকার ১০। শেষ ম্যাচে যে বা যারা জিতবে, তারাই টিকিট পাবে বিশ্বকাপে। সে ক্ষেত্রে ১৯ নভেম্বরের ম্যাচটি ডু-অর-ডাই। হারলেও কোয়ার্টার খেলার সুযোগ আছে।
কুরাসাওয়ের ইতিহাস ও ফুটবল যাত্রা:
১৮১৫ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত কুরাসাও অ্যান্ড ডিপেনডেন্সিস কলোনির অংশ ছিল। এরপর ১৯৫৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তারা ছিল নেদারল্যান্ডস এন্টিলিসের অংশ। ২০১০ সালের অক্টোবরে ডাচ এন্টিলিস বিলুপ্তির পর থেকে কুরাসাও রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পায়। বর্তমানে তারা মূলত কিংডম অব নেদারল্যান্ডসের অন্তর্গত স্বায়ত্তশাসিত একটি রাষ্ট্র।
কুরাসাওয়ের আধুনিক ফুটবল যাত্রা ২০১১ সালে। তবে টেরিটরি অব কুরাসাও ন্যাশনাল ফুটবল টিম নামে যাত্রা শুরু করে ১৯২৪ সালে। একই বছরে অভিষেক ম্যাচ খেলে প্রতিবেশি দেশ আরুবার বিপক্ষে।
২০১১ সালের মার্চে ফিফার সদস্যপদ লাভ করে কুরাসাও। আগস্টে প্রথম ম্যাচ খেলে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে। ম্যাচটিতে ১-০ গোলে হেরে যায়।
হার দিয়ে শুরু হলেও ফুটবলে কুরাসাওয়ের যাত্রা দারুণ। খুব দ্রুত র্যাঙ্কিংয়েও উপরের দিকে উঠে আসে। বর্তমানে দলটির র্যাঙ্কিং ৮২।
পরাজয়েও ডরায় না কুরাসাও ফুটবল যোদ্ধারা:
ফুটবলের শুরুতে একের পর এক ধাক্কা। রাষ্ট্রীয় টানাপোড়ন, সঙ্গে ছিল গুছিয়ে উঠতে না পারার হতাশা। এরই মধ্যে ২০১৭ সালের ক্যারিবিয়ান কাপে ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন জ্যামাইকাকে হারিয়ে চমক দেখায় দলটি। এবিসি’স টুর্নামেন্টেও ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৯ সালে কনকাকাফ নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালেও ওঠে তারা।
কুরাসাওয়ের যাত্রা এখানেই শেষ নয়। ২০২২ বিশ্বকাপের টিকিট না পেলেও বাছাই পর্বে ৬ ম্যাচে ৩টি জয়, ২টি ড্র এবং মাত্র ১টি হার হয়েছে।
কখনও হতাশ নয় কুরাসাও ফুটবলাররা:
আর্জেন্টিনার কাছে ৭-০ ব্যবধানে হারের পর কানাডার সঙ্গে ড্র। পরিস্থিতি যেমনই হোক, হতাশ নয় কুরাসাওয়ের ফুটবলাররা। বরং প্রতিপক্ষ কিংবা বড় দলের বিপক্ষে খেলতে পারাতেই তাদের আনন্দ। আর্জেন্টিনা বা লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলতে পেরে যেমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন দলটির গোলকিপার ইলয় রোম,
“সে সময়টা কঠিন ছিল। সে (মেসি) আমার বিরুদ্ধে গোল করেছে। তবে তার কিছু শটও আমি ঠেকিয়েছি। পরে সেও আমাকে বলেছে যে আমি কিছু ভালো সেভ করেছি। এটা আমার কাছে অনেক কিছু।”
কুরাসাওয়ের স্বপ্ন আঁকছেন যাঁরা:
জেরভেন কাস্টানিয়ার—২৯ বছর বয়সি কুরাসাওয়ের এই স্ট্রাইকার এখন পর্যন্ত ৫টি ম্যাচ খেলেছেন। গোল পেয়েছেন ৫টি। তিনি একাই দলকে সাফল্য এনে দিচ্ছেন। ফলস নাইনের ভূমিকা ছাড়াও লেফট উইঙ্গে বেশ দক্ষ কাস্টানিয়ার।
কেনজি গরের নামও উল্লেখযোগ্য। এই লেফট উইঙ্গার এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন। ফুটবল রেটিংয়েও উজ্জ্বল তিনি। এছাড়া দলের অভিজ্ঞ গোলকিপার রোম (৩৬) দীর্ঘ সময় ধরে কুরাসাওকে টেনে উপরে নিয়ে যাচ্ছেন।
১৯ নভেম্বর কুরাসাওয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে কী না জানা নেই। হয়তো হবে, নাও হতে পারে। তবে সকাল-সাঁঝ কিংবা ডিনার পার্টির আলোচনায় ওঠা ‘ফুটবল’ যে তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেছে, তা তাদের উচ্ছ্বাস দেখেই বুঝা যায়।
No posts available.
১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ এম

প্রায়
১৬ বছর আগে হয়েছিল
ফুটসাল লিগ। ২০০৮ সালে হওয়া প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন
হয়েছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এরপর আর কোর্টে
গড়ায়নি এই লিগ। অবশেষে
আবার ফুটসাল লিগ আলোর মুখ
দেখতে পারে। নতুন করে এই
টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
এবারই
প্রথমবার ফুটসাল লিগ হবে নারী
এবং পুরুষ দুই ক্যাটাগরিতে। এজন্য
আগ্রহী ক্লাবগুলোতে লিগে অংশ নিতে
হলে একইসঙ্গে নারী এবং পুরুষ
দুই লিগেই দল দিতে বাধ্যতামূলক
করেছে ফেডারেশন। একই সঙ্গে কোনো
ক্লাব এই টুর্নামেন্টে অংশ
নিতে ৫ লাখ টাকা
বাফুফেকে পে-অর্ডার করতে
হবে। লিগের নিয়ম ও শর্তসাপেক্ষে
গ্যারান্টি মানি ফেরত পাবে
ক্লাবগুলো।
ফুটসাল
লিগ চালুর জন্য আগামী ২
মে সময় নির্ধারণ করেছে
বাফুফে। এখন পর্যন্ত কোনো
ক্লাব লিগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ
করেনি। কেউ আগ্রহ প্রকাশ
করলে ক্লাব এবং আনুষঙ্গিক বিষয়
পর্যালোচনা করবে ফেডারেশনের লাইসেন্সিং
কমিটি।
গেল
জানুয়ারিতে বাংলাদেশ
নারী ফুটসাল দল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে
সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
তার আগে অবশ্য তেমন
কোনো প্রস্তুতি ছিল না সাবিনা খাতুনদের। বাংলাদেশের ইরানি কোচ সাইদ খোদারাহমির
অধীনে কিছুদিন অনুশীলন ক্যাম্প করেই সাফে সাফল্য
নিয়ে আসেন সাবিনা, মাসুরা,
কৃষ্ণা রানী সরকাররা।
একই
সময়ে বাংলাদেশ পুরুষ দলও অংশ নেয়
ফুটসাল সাফে। তবে তারা সেভাবে
সাফল্য বয়ে আনতে পারেননি।
এবার দেশের ফুটসালকে সামনে এগিয়ে নিতে এবং সাবিনা-মাসুরাদের লিগে ব্যস্ত রাখতে
চায় বাফুফে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের
হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়েছে ইরাকের ফুটবলেও।
যুদ্ধাবস্থায় বিমান চলাচল বন্ধসহ খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতেও বিগ্ন ঘটছে। মেক্সিকোর মন্টেরেতে
৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ প্লে-অফ ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার
কাছে আবেদন করেছিল ইরাক। তবে শেষ পর্যন্ত ফিফা জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ
খেলতে মেক্সিকো সফরে যাবে দলটি।
ইউরোপীয় প্লে-অফ থেকে ৪টি
ও আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে ২টি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। সেই প্লে–অফের বাধা পেরিয়ে
বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আছে ইরাকেরও। সূচি অনুযায়ী ইরাক ফুটবল দল আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর
মাটিতে সুরিনাম–বলিভিয়া ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচ জিততে পারলে ১৯৮৬
সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেবে দেশটি।
তবে ইরাকের প্লে-অফ খেলার
যাত্রায় বাধা হয়ে দাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এই সমস্যা সমাধানে প্রথমে ফিফা প্রস্তাব
দিয়েছিল—বাগদাদ থেকে ইরাকের উত্তরের পথ ধরে বাসে করে তুরস্কের ইস্তাম্বুল পর্যন্ত প্রায়
২৪ ঘণ্টার যাত্রা করবে ইরাকি দল। ওই অঞ্চলটিতে তখন ইরানের হামলা চলছিল। ইস্তাম্বুলে
পৌঁছে সেখান থেকে বিমানে মেক্সিকো যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু ইরাকি ফুটবল ফেডারেশন
জানায়, বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে এই যাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। এত দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ
ভ্রমণ শেষে মাঠে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পারফরম্যান্স করা কঠিন হবে বলেও তারা মনে
করে।
পরে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর
হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি বদলায়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইরাকি দল চার্টার্ড
বা ব্যক্তিগত বিমানে সরাসরি মেক্সিকো যাবে।
ইরাকি সংবাদ সংস্থা প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি আদনান দিরজাল জানান, চার্টার্ড বিমানে করেই মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেবে জাতীয় দল। তাঁর ভাষায়,
‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফার মহাসচিব মাত্তিয়াস গ্রাফস্ট্রোমকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমাদের জাতীয় দলকে মেক্সিকো পাঠাতে সব ধরনের জটিলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়।’
মাত্তিয়াস আরও বলেন,
‘সপ্তাহের শেষ দিকে ব্যক্তিগত বিমানে করে জাতীয় দল মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেবে। সবাইকে আমার বার্তা—এখন আমাদের পুরো মনোযোগ ম্যাচের প্রস্তুতিতে দিতে হবে। আমাদের একটাই লক্ষ্য, বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া।’
এর আগে ইরাক দলের কোচ আরনল্ড বিশ্বকাপ প্লে অফ ম্যাচের সূচি পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন,
‘এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ইরাকের বাইরে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। ফিফা যদি ম্যাচের সূচি পিছিয়ে দেয়, তাহলে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতির সময় পাব। সুরিনাম ও বলিভিয়া তাদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলবে। আমাদের জন্য ভালো বিকল্প হয় বিশ্বকাপের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচটি খেলা।’
বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে নিজেদের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে আরনল্ড আরও বলেন,
‘ইরাকের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কল্পনারও বাইরে। ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার সুযোগ পেতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

সামনের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ইরান- এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও পায়নি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের ফুটবল ফেডারেশন বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছে।
এএফসির সাধারণ সম্পাদক উইন্ডসোর জন সোমবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
“এখন অনেক আবেগঘন পরিস্থিতি চলছে। সবাই অনেক কথা বলছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেশনই। আজ পর্যন্ত তারা আমাদের জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।”
আগামী ফিফা বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১১ জুন, চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এরই মধ্যে এই আসরে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইরান।
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের দুটি ম্যাচ হওয়ার কথা লস অ্যাঞ্জেলসে আর অন্যটি সিয়াটলে।
তবে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেহরানে বিমান হামলা চালানোর পর দেশটির খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তবে তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে “তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই সেখানে থাকা ঠিক হবে না।”
এএফসির ভাষ্য, ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তাই সংস্থাটি আশা করছে, পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলটি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলতে পারবে।
ইরান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তা হলে আধুনিক যুগে প্রথমবার কোনো দল স্বেচ্ছায় এই আসর থেকে সরে দাঁড়াবে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প দল খুঁজে বের করার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

নতুন মেয়াদে আরও একবার বার্সেলোনার সভাপতির দায়িত্ব পেলেন হুয়ান লাপোর্তা। রোববার স্প্যানিশ ক্লাবটির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেলেন ৬৩ বছর বয়সী এই সংগঠক।
এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ও সব মিলিয়ে চতুর্থ মেয়াদে বার্সেলোনার সভাপতি হলেন লাপোর্তা। নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ৯৩৪ ভোট। যা মোট ভোটে ৬৮.১৮ শতাংশ।
সভাপতি পদে লাপোর্তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভিক্টর ফন্ট। যিনি লাপোর্তার অর্ধেক ভোটও পাননি। ফন্ট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৫ ভোট (২৯.৭৮ শতাংশ)।
এর আগে ২০২১ সালে ৩০ হাজার ১৮৪ ভোট (৫৪.২৮%) পেয়ে তৃতীয় মেয়াদে সভাপতি হয়েছিলেন লাপোর্তা। আর প্রথম দফায় ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন তিনি।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বার্সেলোনার নতুন সভাপতি।
“এটি সত্যিই এক জোরালো ফলাফল, যা আমাদের ভীষণ শক্তি জোগায়। এটি আমাদেরকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। সামনে অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চকর কিছু বছর- যা হবে আমাদের জীবনের সেরা সময়।”
“এটি একটি অসাধারণ ক্লাব, যেখানে সদস্যরাই তাদের সভাপতি এবং পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন করেন। পৃথিবীতে এমন অনন্য ও সত্যিই ব্যতিক্রমী ক্লাব খুব কমই আছে।”
“যেসব সদস্য ভোট দিতে এসেছেন, তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আজকের দিনটি ছিল গণতন্ত্র ও নাগরিক চেতনার এক উৎসব। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের কর্মকর্তারা ও কর্মীরা যে চমৎকার কাজ করেছেন, সেটিও আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই।”

প্রথমার্ধেই দুটি পেনাল্টি পেয়ে গেল বার্সেলোনা। নিখুঁত স্পট কিকে জোড়া গোল করলেন রাফিনিয়া। পরে আরও একবার জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করলেন হ্যাটট্রিক। সঙ্গে সতীর্থদের আরও দুই গোলে বড় ব্যবধানে জয় পেল কাতালান ক্লাবটি।
স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে রোববার রাতে ন্যু ক্যাম্পে সেভিয়াকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক ছাড়া বাকি দুই গোল করেছেন দানি ওলমো ও হোয়াও কান্সেলো। সেভিয়ার হয়ে দুই গোল শোধ দেন ওসো ও জিব্রিল সো।
সেভিয়ার বিপক্ষে গত অক্টোবরের ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। এবার ফিরতি দেখায় তাদের ৫ গোল দিয়ে প্রতিশোধ নিল দলটি। এ নিয়ে ঘরের মাঠে লিগের টানা ১৪টি ম্যাচ জিতল তারা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই সর্বোচ্চ।
এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ৪ পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রাখল বার্সেলোনা। ২৮ ম্যাচে ২৩ জয়, ১ ড্রয়ে তাদের ঝুলিতে এখন ৭০ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে রিয়ালের সংগ্রহ ৬৬ পয়েন্ট। মাত্র ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ১৪ নম্বরে সেভিয়া।
ম্যাচের শুরুতে ডি-বক্সের মধ্যে কান্সেলো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। নবম মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া।
পরে ২১ মিনিটে কান্সেলোর শট ডি-বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের হাতে লাগলে আবার পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। এবারও স্পট কিক থেকে বল জালে জড়াতে ভুল হয়নি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের।
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করে দেন ওলমো। বিরতিতে যাওয়ার আগে যোগ করা সময়ে সেভিয়ার হয়ে একটি গোল শোধ করেন ওসো।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৬ মিনিটের মধ্যে আরও একবার জাল কাঁপান রাফিনিয়া। চলতি লিগে এটিই তার প্রথম হ্যাটট্রিক। চলতি লিগ হয়ে গেল ১১টি।
এরপর ৬০ মিনিটে স্কোরলাইন ৫-১ করেন কান্সেলো। আর অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে জিব্রিল সোর গোলে পরাজয়ের ব্যবধান কমায় সেভিয়া।