
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষটা সুখকর হলো না ব্রাজিলের। টানা কয়েক ম্যাচ জিতে ছন্দে ফেরার আভাস দিতে থাকা দলটি শেষ ম্যাচে হেরে গেল বলিভিয়ার কাছে।
ঘরের মাঠ এল আলতো স্টেডিয়ামে বুধবার সকালে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারায় বলিভিয়া। এই জয়ের সৌজন্যে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব থেকে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ খেলার সুযোগ পেল বলিভিয়া।
আগেই নিশ্চিত হয়েছিল, লাতিন অঞ্চল থেকে কোন ৬ দল যাবে বিশ্বকাপে। তাই প্লে-অফের টিকেট পেতে লড়াই ছিল বলিভিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে।
একই সময়ে হওয়া অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হেরে যায় ভেনেজুয়েলা। তাই আরও একবার বাছাইয়েই শেষ হয়ে যায় তাদের স্বপ্ন। আর আশা বেঁচে থাকল বলিভিয়ার।
ম্যাচটিতে একদমই ছন্দে দেখা যায়নি ব্রাজিলকে। ম্যাচ জুড়ে গোলের জন্য ১০টি শট করে মাত্র ৩টি লক্ষ্য বরাবর রাখতে পারে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
বিপরীতে স্বাগতিক দলটি করে ২৩ শট। এর মধ্যে ১০টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। তাই বেশ কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয় অ্যালিসন বেকারের।
ম্যাচের প্রথম ৪০ মিনিটে তেমন কোনো আক্রমণই করতে পারেনি ব্রাজিল। পরে ধীরে ধীরে গুছিয়ে উঠলেও বলিভিয়ার জাল কাঁপানোর মতো কিছু করতে পারেনি তারা।
উল্টো প্রথমার্ধের শেষ দিকে রবার্তো ফার্নান্দেসকে ডি-বক্সের মধ্যে ফাউল করে বলিভিয়াকে পেনাল্টি উপহার দেন ব্রুনো গুইমারেজ। স্পট কিক থেকে অনায়াসে গোল করে মিগুয়েল টেসেরোস।
দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল পায়নি কোনো দল। তাই পেনাল্টিই হয়ে থাকে ম্যাচের ফল নির্ধারণী।
১৮ ম্যাচে ৮ জয়, ৪ ড্র ও ৬ পরাজয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে থেকে বাছাই শেষ করল ব্রাজিল। সমান ম্যাচে বলিভিয়ার সংগ্রহ ২০ পয়েন্ট।
লাতিন অঞ্চল থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়া ছয় দল হলো- আর্জেন্টিনা (৩৮), একুয়েডর (২৯), কলম্বিয়া (২৮), উরুগুয়ে (২৮), ব্রাজিল (২৮) ও প্যারাগুয়ে (২৮)।
No posts available.
৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫৫ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১:১০ পিএম

কোয়াড্রপল জয়ের সুযোগ ছিল আর্সেনালের। টানা দুই ম্যাচে দুই ট্রফি খুইয়ে নিজেদের চিরচিত অভ্যাসই যেন দেখিয়ে দিল মিকেল আরতেতার দল। গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে লিগ কাপে হারের পর রোববার সাউদাম্পটনের সঙ্গে হেরে এফএ কাপ থেকে বিদায়। ঘরোয়া কাপে হারের ক্ষত নিয়েই এবার ইউরোপীয় মঞ্চে ভাগ্য ফেরাতে পর্তুগাল পাড়ি দিচ্ছে আর্সেনাল।
এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হচ্ছে আর্সেনাল ও স্পোর্টিং লিসবন।
লিগ কাপ এবং এফএ কাপ হাঁতছাড়া হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে চলতি মৌসুমে অপ্রতিরোধ্য আর্সেনাল। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে একটি ম্যাচেও এবার হারেনি মিকেল আরতেতার দল।
আরও পড়ুন
| বড় জয়ে ফেডারেশন কাপের রেসে ফিরল বসুন্ধরা কিংস |
|
অবশ্য পর্তুগিজ প্রতিপক্ষের মাঠে নকআউট পর্বে আর্সেনালের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে পর্তুগালে ইংলিশ ক্লাবটি এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি (৪ ড্র, ২ হার)। সবশেষ ২০২৩-২৪ মৌসুমে শেষ ষোলোর ম্যাচে পোর্তোর কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।
আর্সেনালের জন্য কাজটা আরও কঠিন—কারণ চোটের কারণে এই ম্যাচে থাকছেন না বুকায়ো সাকা এবং জুরি এন টিম্বার। যদিও স্বস্তির খবরও আছে—গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েস, ডেকলান রাইস এবং লেয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড লিসবনে উড়াল দেওয়ার আগে অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন।
আর্সেনালের সেরা ‘অস্ত্র’ ভিক্টর গিওকেরেস। গত মৌসুমে স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড এবার ফিরছেন চেনা আঙিনায়, তবে এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে। স্পোর্টিংয়ের হয়ে ১০২ ম্যাচে ৯৭ গোল করা গিওকেরেস ভালোভাবেই জানেন দলটির শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা। আর্সেনালের আক্রমণভাগের মূল ভরসা এখন তিনিই।
নিজেদের মাঠে স্পোর্টিং রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে টানা ১৭ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নিয়ে তারা আর্সেনালকে আতিথ্য দেবে। এর আগে বোদো/গ্লিম্টের বিপক্ষে ৩ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে রুই বোরগেসের দল।
আরও পড়ুন
| কোয়ার্টার ফাইনালের হাতছানি আফঈদা-সাগরিকাদের সামনে |
|
যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে পর্তুগিজ ক্লাবগুলো ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গত ৯টি কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াইয়ের সবকটিতেই হেরেছে। তবে ২০২৩ সালে এই আর্সেনালকেই পেনাল্টিতে হারিয়ে ইউরোপা লিগ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল স্পোর্টিং।
বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখায় আজকের ম্যাচে স্পোর্টিংয়ের অধিনায়ক মর্টেন হিউলম্যান্ড খেলতে পারবেন না। এছাড়া চোটের কারণে জিওভানি কুয়েন্ডা ও লুইস গুইলহের্মেকে পাচ্ছে না পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়নরা। স্পোর্টিংয়ের হয়ে লুইস সুয়ারেজ আর একটি গোল করলেই ক্লাবের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ইউরোপীয় গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন।
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে রক্ষণভাগ ফাঁকি দেওয়া প্রতিপক্ষ দলের জন্য বেশ কঠিনই। গানাররা প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ গোল হজম করেছে। বিপরীতে স্পোর্টিং এই আসরে নিজেদের মাঠে খেলা ৫টি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে। পর্তুগিজ কোনো ক্লাবের জন্য ১৯৯৯ সালের পর এটিই দীর্ঘতম জয়ের রেকর্ড।

আক্রমণাত্মক শুরুর পর দ্রুতই গোলের দেখা পেল বসুন্ধরা কিংস। এরপর পুরো ম্যাচে সেই ধারা বজায় রেখেছেন রাকিব-ফাহিমরা। নিয়মিত বিরতিতে গোল দিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়েছে ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের খেলায় আরামবাগকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ফেডারেশন কাপে এর আগের দুই ম্যাচেই ড্র করেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অবশেষে জয়ের দেখা পেল তারা। এই জয়ে তিন খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দুইয়ে কিংস। সমান ম্যাচে এখনও জয়ের দেখা পায়নি তলানিতে থাকা আরামবাগ।
বসুন্ধরা কিংসের হয়ে আজ জোড়া গোল করেছেন দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন রাকিব হোসেন, সোহেল রানা জুনিয়র ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। দুটি অ্যাসিস্ট করা ফাহিমের নামে হ্যাটট্রিক থাকতে পারত, তবে দুবার বল জালে জড়িয়েও অফসাইডে কাটা পড়েছেন জাতীয় দলের এই উইঙ্গার।
এদিন ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ভালো সুযোগ আসে বসুন্ধরা কিংসের সামনে। আক্রমণে উঠে গোলপোস্টের কাছ থেকে ক্যাটব্যাক দেওয়ার জন্য অবশ্য কাউকে খুঁজে পাননি দোরিয়েলতন।
১৪ মিনিটে সোহেল রানার থ্রু পাসে আকাশে উড়িয়ে মারেন ফাহিম। এ সময় পরপর দুটি কর্নার আদায় করে নেয় কিংস। শেষটি থেকেই দোরিয়েলতন দলকে এগিয়ে দেন। কর্নার প্রতিহতের পর ফিরতি বলে সেই কর্নারের কাছ থেকে ক্রস দেন ফাহিম। অনেকটা লাফিয়ে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
২২ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিবের ক্রস; আলতো টোকায় লিড দ্বিগুণ করেন গোলমুখের সামনে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ফাহিম। ৫ মিনিট পর আবারও রাকিবের দারুণ একটা নিচু ক্রস। তবে এবার সেটি কর্নার করে দেন আরামবাগের ডিফেন্ডার নিক্সন চাকমা।
আরও পড়ুন
| এবারই প্রথম নয়, ইউরোপের দলের বিপক্ষে আগেও খেলেছিল বাংলাদেশ |
|
৪১ মিনিটে সানডের পাস থেকে দোরিয়েলতন শট নিলে বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট পোস্ট ঘেঁষে। ওই মিনিটেই ফাহিমের দারুণ ক্রস খুঁজে পায়নি কাউকে। চার মিনিট পর হেডে জাল কাঁপান আরামবাগের জাহিদুল। গোলের উদযাপন করার আগেই অবশ্য ওড়ে অফসাইডের পতাকা। জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ার পর থেকে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে খেলে আরামবাগ।
বিরতির পর ৫২ মিনিটে ইমানুয়েল সানডে আরামবাগের গোলকিপার আজাদের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে ঠেলে দেন। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ৫৫ মিনিটে ফাহিমের আরও একটি নিচু ক্রসে দলকে এগিয়ে দেন দোরিয়েলতন।
৬৬ মিনিটে ফাহিমের শট ঠেকিয়ে দেন আরামবাগের গোলকিপার আজাদ। কিন্তু বল বিপদমুক্ত হয়নি। বক্সে জটলার মধ্য থেকে বটম কর্নার দিয়ে দলের স্কোরলাইন ৫-০ করেন সোহেল রানা জুনিয়র। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হ্যাটট্রিক হতে পারত দোরিয়েলতনের; কিন্তু দারুণ হেডেও গোল পাননি তিনি।
‘বি’ গ্রুপের দিনের অপর ম্যাচটি মাঠে গড়ায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। টেবিল টপার থেকে পুলিশ এফসির বিপক্ষে মাঠে নামে ফর্টিস ফুটবল ক্লাব। যদিও তারা এগিয়ে গিয়ে ১-২ গোলে হেরেছে পুলিশের কাছে। এই জয়ে ৩ খেলায় এক জয় এক হারে টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠেছে পুলিশ। চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পেয়ে তিনে নেমে গেছে ফর্টিস।

প্রথমবারের মতো ইউরোপে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তবে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ নয়। এর আগে ইউরোপের দুটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে।
২০০১ সালে তিন মহাদেশের ১৩ দল নিয়ে সাহারা কাপ আয়োজন করে ভারত। সেই টুর্নামেন্টে গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল বসনিয়া এন্ড হার্জেগোভিনা ও এফআর যুগোস্লাভিয়। দুটো দলই ইউরোপের। বসনিয়া তো এবার ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বকাপেই জায়গা করে নেয়। ওই টুর্নামেন্টেই কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন আলমেদিন হোতা। বসনিয়ার হয়ে ২২ ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডার এখনো অপেশাদার ফুটবল ও ফুটসাল খেলে যাচ্ছেন।
দ্বিতীয় ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ হারে ৪-১ গোলে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ফিরোজ মাহমুদ। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় তাঁর গোলে। যদিও পরে তা ধরে রাখতে পারেনি। যুগোস্লাভিয়া ২০০৩ সালে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো হিসেবে আবির্ভুত হয়। ২০০৬ সালে অবশ্য সার্বিয়া আর মন্টেনেগ্রো আলাদা দলে পরিণত হয়।
২৫ বছর পর বাংলাদেশ আবারও পেতে যাচ্ছে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলার স্বাদ। তবে এবার ইউরোপের দলের বিপক্ষে ইউরোপের মাটিতেই খেলবেন হামজা-জামালরা। ১৯৮৭ সালে প্রথম ম্যাচ খেলা সান মারিনো এখন পর্যন্ত জয় পেয়েছে মাত্র ৩ ম্যাচে। তিনটিই লিখটেনস্টেইনের বিপক্ষে। যার দুটি ২০২৪ সালে। নেশনস লিগে প্রমোশন পেয়ে আগামী মৌসুমে তৃতীয় স্তরে খেলবে তারা। সম্প্রতি বিশ্বকাপে খেলা বসনিয়ার সঙ্গে কেবল ১-০ গোলে হেরেছে সান মারিনো। নিয়মিতই তারা খেলে ইউরোপের পরাশক্তি দলগুলোর বিপক্ষে।

দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ৫ জুন ইতালির পার্শবর্তী দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক ফিফা টায়ার-১ প্রীতি ম্যাচ খেলবেন হামজা-জামালরা।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সান মারিনোর মাটিতেই। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে বাংলাদেশ।
ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ঐতিহাসিক এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যেমন প্রথম কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তেমনি সান মারিনোও তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলবে কোনো এশিয়ান দলের বিপক্ষে।
তবে ইউরোপের মাটিতে খেলার জন্য বাংলাদেশ বেছে নিয়েছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সবচেয়ে তলানির দলটিকে (২১১)। বর্তমানে বাংলাদেশ এই তালিকার ১৮১তম স্থানে।

এএফসি উইমেন'স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে দারুণ কিছু অর্জনের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় আজ আফঈদা-সাগরিকারা মুখোমুখি হবেন ভিয়েতনামের। যাদেরকে হারানো গেলে মিলবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট! ড্র করেও এমন কিছু অর্জন করতে পারে বাংলাদেশের মেয়েরা। তখন অবশ্য তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের খেলার দিকে।
থাইল্যান্ডের ননথাবুড়ি স্টেডিয়ামে ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়। সরাসরি দেখাবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।
গ্রুপ পর্বে খেলা আগের দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও হারতে হয়েছিল ২-৩ ব্যবধানে। পরের ম্যাচে চীনের সঙ্গে হার ২-০ গোলে। প্রতিযোগিতায়র তিন গ্রুপ থেকে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ৬টি দল। এবার বাকি দুটি স্থানের জন্য লড়াই ৬ দলের। কেননা তিন গ্রুপের তৃতীয় দল হওয়া শীর্ষ দুই দল জায়গা পাবে কোয়ার্টার ফাইনালে।
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত হবে। সেক্ষেত্রে ভারত-চাইনিজ তাইপে কিংবা উজবেকিস্তান-জর্ডানের মধ্যকার যে কোনো একটি ম্যাচ ড্র কিংবা দুটি ম্যাচের ফলাফল বড় ব্যবধানে না হলেও হবে।
আর ড্র করেও বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার। কারণ গোলগড়ে তৃতীয় সেরার রেসে থাকা সবার চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। আসরে ৫ গোল হজম করার বিপরীতে দুই গোল দিয়েছেন সাগরিকারা। যে কারণে বাংলাদেশের গোলগড় (-৩)। দুই ও তিনে থাকা তাইপে (-৭) এবং উজবেকিস্তান (-৮) বেশ পিছিয়ে।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটি ম্যাচের আগেরদিন জানান দলের ফরোয়ার্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতিও। আজকের ম্যাচে জিততে সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের চাপ সামলে অর্পিতা বিশ্বাসরা মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরবেন সেই প্রত্যাশা লাল সবুজ সমর্থকদের।