
আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকায় শঙ্কা ছিল যথেষ্টই। তবে সব আশঙ্কা উড়িয়ে যথাসময়েই হয় বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের তৃতীয় টি-টোয়েন্টির টস। আর তাতেই ৮০০ ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এখন ৮০০ ম্যাচ খেলা দশম দল বাংলাদেশ। এর আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে আইসিসির পূর্ণ সদস্য প্রথম ৯টি দেশ- অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।
তবে এই ৮০০ ম্যাচের রেকর্ডে একটি জায়গায় সবার চেয়ে আলাদা বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত 'টাই' হয়নি বাংলাদেশের কোনো ম্যাচ।
আরও পড়ুন
| লাল সবুজ জার্সিতে কিউবার অভিষেক, একাদশে নেই ফাহামিদুল |
|
শুধু এই ১০ দেশ নয়, অন্তত ২৭৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ১৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র ব্যতিক্রম। বাকি ১৩ দেশের সবকটিই অন্তত একটি হলেও ম্যাচ টাই করেছে।
সবচেয়ে বেশি টাই করার রেকর্ড ভারত ও নিউ জিল্যান্ডের। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তারা এখন পর্যন্ত ১৭ ম্যাচ টাই করেছে।
সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ইংল্যান্ডের। প্রায় দেড়স বছরের ইতিহাসে ২ হাজার ১১১টি ম্যাচ খেলেছে তারা। পিছিয়ে নেই অস্ট্রেলিয়াও। বিশ্ব ক্রিকেটের জায়ান্টরা এখন পর্যন্ত খেলেছে ২ হাজার ১০৪টি ম্যাচ।
এছাড়া ১ হাজারের বেশি ম্যাচ খেলেছে ভারত (১৯০৭), পাকিস্তান (১৭২৫), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৭০৬), নিউ জিল্যান্ড (১৫৫৬), শ্রীলঙ্কা (১৪৭১) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (১৩৬৯)। জিম্বাবুয়ের ম্যাচ সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮৮০টি।
সহসাই আর কারও ৮০০ ম্যাচের মাইলফলক ছোঁয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ বাংলাদেশের পরে থাকা দল আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ সংখ্যা মাত্র ৩৯৫টি।
No posts available.
১৬ মার্চ ২০২৬, ৬:৩২ পিএম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৪:৩০ পিএম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৪:০০ পিএম

ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সঙ্গে অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়া নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। এরমধ্যে দলটির সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বাবর আজমকে নিয়েই চলছে বেশি কানাঘুষা। পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের ছন্দহীনতার পর দল থেকে বাদ পড়া এই আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে।
শিগগিরই পাকিস্তানের ওয়ানডে দলে বাবর আজম না ফিরলে ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন আসতে পারে। দীর্ঘ সময় দলটির ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বর পজিশনে ভরসার প্রতীক হয়ে থাকা ৩১ বছর বয়সী ব্যাটারের বিকল্প কে হতে পারে সেটা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ বাবর আজমের জায়গায় দুই সম্ভাব্য বিকল্পের নাম প্রস্তাব করেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান ২–১ ব্যবধানে হেরেছে। এরমধ্যে বাবরের অনুপস্থিতি দলের মিডল অর্ডারের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যে পাকিস্তানের ম্যানেজমেন্টকে আইসিসির পরবর্তী টুর্নামেন্টের আগে বিকল্প পথগুলো খুঁজে দেখার পরামর্শ দেন হাফিজ।
সামাজিক মাধ্যমে মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, যদি বাবর আজম চোট, বিশ্রাম বা ছন্দহীনতার কারণে অনুপস্থিত থাকেন, তবে শান মাসুদ ও আব্দুল্লাহ শফিককে সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর মতে শান মাসুদ ও আব্দুল্লাহ শফিক দুইজনই ওয়ানডেতে ৩ নম্বর পজিশনের চাপ সামলাতে সক্ষম।
হাফিজের মতে, পাকিস্তানকে ব্যাটিং কম্বিনেশন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে, বিশেষ করে আসন্ন ২০২৭ বিশ্বকাপের দিকে লক্ষ্য রেখে, যা দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে হাফিজ লিখেছেন,
‘শান মাসুদ (লিস্ট-এ গড়ে ৫৩) বা আব্দুল্লাহ শফিক নং ৩ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভালো বিকল্প হতে পারেন, যদি বাবর আজম চোটের কারণে বা বিশ্রামের জন্য অনুপস্থিত থাকেন। আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে।’
দীর্ঘদিন ধরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পাকিস্তানের সেরা ব্যাটার হিসেবে বিবেচিত বাবরের সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্সে সমর্থক এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একসময় বিশ্বের সেরা ওয়ানডে ব্যাটারের তকমা পাওয়া ডানহাতি ব্যাটার ক্যারিয়ারের আগের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছেন না।
সবশেষ গত বছরের নভেম্বরে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মাঠ নেমেছিলেন বাবর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই সিরিজে সেঞ্চুরি করেছিলেন বাবর। তবুও এই সংস্করণে তাঁর সামগ্রিক পারফরম্যান্স প্রত্যাশার নিচে। শেষ ৩০টি ওয়ানডে ইনিংসে বাবরের গড় রান ৩৫ এবং স্ট্রাইক রেট ৭৮.৫৫—যা তাঁর চমৎকার ক্যারিয়ার গড় ৫৩.৭৩-এর তুলনায় অনেক কম। আর এই পরিসংখ্যানই নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, পাকিস্তান কি ব্যাটিং অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া উচিত কি না।

আগামী মাসে তিন ম্যাচের
ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের
টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)
এই সফরের সূচি প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের মাটিতে এই প্রথম ওয়ানডে
ও টি-টুয়েন্টি সিরিজ
খেলবে শ্রীলঙ্কা নারী দল।
আগামী ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশে
পৌঁছাবে শ্রীলঙ্কা দল। একইদিন রাজশাহীতে চলে যাবে তারা।
১৮ ও ১৯ এপ্রিল
অনুশীলনের পর ২০ এপ্রিল
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের বিপক্ষে
প্রথম ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে
সিরিজের বাকি দুটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২২ ও ২৫ এপ্রিল। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে সকাল
সাড়ে ৯টায়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডের মাঝের দুই দিন অনুশীলন করবে সফরকারীরা।
ওয়ানডে সিরিজ শেষে ২৬ এপ্রিল
সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেবে শ্রীলঙ্কা
দল। মাঝে একদিন অনুশীলনের পর ২৮ এপ্রিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের
মুখোমুখি হবে তারা। সিরিজের
বাকি দুটি ম্যাচ হবে
৩০ এপ্রিল ও ২ মে,
একই ভেন্যুতে। টি–টোয়েন্টি সিরিজের
সব ম্যাচই শুরু হবে সন্ধ্যা
৬টায়। সিরিজ শেষ করে ৩
মে দেশে ফিরবে শ্রীলঙ্কা
নারী দল।
এর আগে সবশেষ ২০১১
সালে নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
খেলতে বাংলাদেশে এসে ওয়ানডে খেলেছিল
শ্রীলঙ্কা নারী দল। তারও
আগে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ,
পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে
আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিয়েছিল লঙ্কানরা।
সেই সিরিজের শিরোপাও জিতেছিল শ্রীলঙ্কার মেয়েরা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডের লড়াই শেষ হতেই নতুন সিরিজের সূচি জানিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী মাসে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কিউইদের বাংলাদেশ সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে বিসিবি। ঢাকার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সবগুলো ম্যাচ।
সবশেষ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ানডে ও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল নিউ জিল্যান্ড। এবার একসঙ্গে দুই সিরিজ খেলতে ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে তারা।
ঢাকায় তিন দিন অনুশীলনের পর মিরপুরে ১৭ এপ্রিল শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজের খেলা। একই মাঠে ২০ এপ্রিল হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। পরে চট্টগ্রামে চলে যাবে দুই দল। সেখানে ২৩ এপ্রিল মাঠে গড়াবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।
ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টায়। আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
পরে চট্টগ্রামে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ। সেখান থেকে আবার ঢাকায় ফিরে ২ মে হবে শেষ টি-টোয়েন্টি। এই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৬টায়। আর শেষটি মাঠে গড়াবে দুপুর ২টায়।

বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর পাকিস্তান দলের ওপর যারপরনাই বিরক্ত দলটির সাবেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদ। তার মতে, পাকিস্তানকে বারবার ভালোবাসি বলে বলে হারিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। শেহজাদ বলেছেন, কোনো কিছু থেকেই যেন শিক্ষা নিচ্ছে না পাকিস্তান।
২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তান সফরে খেলতে গিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতে ফিরেছিল বাংলাদেশ। পরে গত বছর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।
ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজেও পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন সংস্করণের সবশেষ সিরিজেই জয়ী দলের নাম এখন বাংলাদেশ। আর এটিই যেন মানতে পারছেন না শেহজাদ।
রোববার সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ১১ রানের পরাজয়ের পর বানানো ভিডিওতে নিজের রাগ-ক্ষোভ ঝারেন দেশটির সাবেক ওপেনার।
“ক্রিকেটে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো সহজেই বিশ্বাস করা যায়, আবার কিছু বিষয় আছে যেগুলো একজন ক্রিকেটার হিসেবেও বিশ্বাস করা কঠিন। এমনও দিন এসেছে বাংলাদেশ এখানে (পাকিস্তান) এসে টেস্ট সিরিজ হারিয়ে দিয়েছে। তখনও তারা খুব ভালোবাসা দেখিয়ে, ‘ভালোবাসি’ বলে, খেলাটা আমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে জয় নিয়ে চলে গেছে। এরপর আমাদের বেশ অপমানও সহ্য করতে হয়েছে।”
ওই সিরিজ হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু এগুলোর কিছুই কার্যকর হয়নি বললেন শেহজাদ। তাই তো আরেকবার ভালোবাসি শুনে শুনে বাংলাদেশের কাছে হারতে হয়েছে মনে করেন তিনি।
“তারপর বড় হইচই শুরু হলো। এবার নাকি আর এমন কিছু হবে না, পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাগ্য নাকি বদলে যাবে, বড় বড় সংস্কার হবে। পাঁচজন মেন্টর আনা হলো, তিন স্তরের নতুন কাঠামো বানানো হলো- দেখা যাবে এবার কী হয়। কিন্তু কী হলো? শুধু সময়ই কেটে গেল। একটি করুণ বিশ্বকাপ অভিযানের পরও কোনো বাস্তব পরিবর্তন দেখা গেল না।”
“অদ্ভুতভাবে কিছু তরুণ খেলোয়াড়কে দলে নিয়ে একটি অদ্ভুত কম্বিনেশন বানিয়ে এবার বাংলাদেশে পাঠানো হলো। তারা আবারও ‘ভালোবাসা’ দেখিয়ে, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলে আমাদের হারিয়ে দিয়ে চলে গেল। আমরা বসে বসে বলছি, ‘স্যার, ওরা তো তরুণ খেলোয়াড়… ওরা তো তরুণ’, “ভালো হয়েছে, ভালো হয়েছে।”
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে দুই দল পেয়েছিল একটি করে জয়। তাই শেষ ম্যাচটি ছিল অলিখিত ফাইনাল। যেখানে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পায় ২৯০ রানের পুঁজি।
এর জবাবে সালমান আলি আগা সেঞ্চুরির পরও ২৭৯ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে তাই টসের সিদ্ধান্তকেই কাঠগড়ায় তুললেন শেহজাদ।
“আমাকে বলুন তো, আজ টস জিতে ফ্লাডলাইটের নিচে বোলিং করলেন না কেন? যখন আপনার পুরো ব্যাটিং লাইনআপ নতুন ও অনভিজ্ঞ ছিল, তখন তো আপনার বোলিং ছিল অভিজ্ঞ। সেটাকে ব্যবহার করে ডিফেন্ড করতে গেলেন না কেন? ফলাফল- ২৯০ রান খেয়ে বসে আছেন।
“এভাবে কী হয়? পৃথিবীর সব দল নিজেদের শক্তির জায়গা ব্যবহার করেই ম্যাচ জেতে। আর আপনারা কী করলেন? সব দায়িত্ব বাচ্চাদের ওপর চাপিয়ে দিলেন। টস জিতেই চুপচাপ বললেন- ‘হেডস, হেডস… খুব ভালো, আমরা আগে বোলিং করব।’ কেন?”
এসময় দল বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেহজাদ।
“দলের ভেতরে যখন সিনিয়র খেলোয়াড়রাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তরুণরা কী করবে? গাজি ঘড়ি তো নিজে এসে বলেনি, “আমাকে দলে নিন।” বেচারা তো লিগে খেলে যাচ্ছে। সে এখনও পুরোপুরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত নয়, তবু তাকে দলে ঢুকিয়ে দিলেন।”
“হাসিবউল্লাহকে নিচ্ছেন, কিন্তু রোহেল নাজিরকে নিচ্ছেন না- যে আগে থেকেই লাইনে ছিল। কেন এই তরুণদের এত দ্রুত সামনে এনে এক্সপোজ করছেন? এরপর আবার ছয়-আটটা টুইট করিয়ে দেবেন, “বড় ভালো দল বাছাই হয়েছে।”
“আল্লাহর দোহাই লাগে... আপনারা আসলে কী করছেন? এত ম্যাচ খেলার পরও একই পক্ষপাতিত্ব। নিজের লোককে ঢুকিয়ে দাও- এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন।”

শেষ ওভার পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না ম্যাচের ফল কার পক্ষে যাবে। রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত ঘূর্ণি জাদু বদলে দিয়েছে গতিপথ। ১১ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে অসাধারণ জয় পেল বাংলাদেশ দল। ২-১ ব্যবধানে সিরিজও নিজেদের করে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
সমর্থক থেকে রাজনৈতিক নেতারাও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন ক্রিকেটারদের অর্জনে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও বাংলাদেশ দলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে শুভেচ্ছা বার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
‘গতকাল ১৫ মার্চ রোববার ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আমি এবং আমার দল ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় দলগত পারফরম্যান্সের সুফল। জাতির জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি,
‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫ মার্চ এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাংলাদেশের সাহসী ও মেধাবী ক্রিকেটাররা অসাধারণ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং দলগত ঐক্যের পরিচয় দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১১ রানের জয় এবং সিরিজ নিশ্চিত করা জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।’
এই সিরিজ জয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এই ধারাবাহিকতা সামনেও বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস শফিকুর রহমানের। জামায়াত আমির বলেন,
‘বাংলাদেশ দলের এই নজরকাড়া পারফরম্যান্স সমগ্র দেশবাসীকে আনন্দিত ও গর্বিত করেছে। খেলাধুলার এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশ দল ভবিষ্যতেও তাদের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে দেশের জন্য আরও গৌরব ও সুনাম বয়ে আনবে।’