সাফল্যমন্ডিত ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় অর্জনের হাতছানি লিওনেল মেসির সামনে। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে ৯০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার খুব কাছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আর মাত্র একটি গোল করতে পারলেই স্পর্শ করবেন দারুণ এই কীর্তি।
সেই সুযোগটা রোববার ভোরেই পেয়ে যাচ্ছেন মেসি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে শার্লটের মুখোমুখি হবে মেসির ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে এক গোল করতে পারলেই ৯০০ গোল পূর্ণ হবে মেসির।
এখন পর্যন্ত ক্লাব-আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে ১ হাজার ১৪১ ম্যাচ খেলে ৮৯৯টি গোল করেছেন মেসি। এর মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে তার গোল ১৯৬ ম্যাচে ১১৫টি। আর প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ারে তিন ক্লাবের হয়ে ৯৪৫ ম্যাচে করেছেন ৭৮৪ গোল।
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার জার্সিতে কেটেছে মেসির ক্যারিয়ারের সিংহভাগ সময়। কাতালান ক্লাবটির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৭৮ ম্যাচে করেছেন ৬৭২ ম্যাচ। এছাড়া পিএসজির হয়ে ৭৫ ম্যাচে ৩২ ও ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত ৯২ ম্যাচে তার গোল ৮০টি।
এই ৮৯৯ গোল করার পথে ৬০টি হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। ফ্রি কিক থেকে করেছেন ৭০ গোল। আর পেনাল্টি থেকে পেয়েছেন ১১২টি গোল। ডান পায়ে তার ১১০টি, বাম পায়ে করেছেন ৭৫৫ গোল, হেড থেকে ৩০টি আর শরীরের অন্যান্য অংশ দিয়ে করেছেন ৪টি গোল।
দীর্ঘ এই যাত্রায় নতুন পাতা যুক্ত হবে শার্লটের বিপক্ষে একটি গোল করতে পারলেই। আর তা হলে বিশ্ব ফুটবলে ৯০০ গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হয়ে যাবেন মেসি। এখন পর্যন্ত ৯৬৫ গোল করে সবার ওপরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপে বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা। ‘ফ্রি জোন’ বা কার্ড মুছে ফেলার মতো মানবিক ধাপের পাশাপাশি কিছু ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে ফিফা। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়কালে মুখ ঢেকে কথা বললে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের শাস্তি রেখেছে সংস্থাটি। এছাড়াও রেফারির সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ মাঠ ছাড়লে তাকেও পড়তে হবে লাল কার্ডের খড়গ।
গত মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) একটি বিশেষ সভায় প্রস্তাবিত এই দুটি সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
আইএফএবি জানিয়েছে, নিয়ম দুটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। তবে ফিফা নিশ্চিত করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপেই এই নিয়মগুলো কার্যকর করা হবে।
এই দুই সিদ্ধান্তের মূলে বড় দুটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। যার একটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে। অন্যটি চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের ম্যাচে। আফকনের ফাইনালে রেফারির একটি সিদ্ধান্তের জেরে মাঠ ছাড়েন সেনেগালের ফুটবলাররা। পরবর্তীতে ফল পর্যন্ত পাল্টে যায়। মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার সিদ্ধান্তক্রমে নতুন করে মরক্কোকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
মাঠে ফুটবলারদের মুখ ঢেকে কথা বলার বিষয়টি আলোচনায় আসে গত ফেব্রুয়ারিতে। চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে–অফের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলার সময় বেনফিকা উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। সে ঘটনায় ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন আর্জেন্টাইন ফুটবলার।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, তিনি ফুটবলে এমন একটি নিয়ম চালু করতে চেয়েছেন, যার ‘প্রতিরোধমূলক প্রভাব’ থাকবে। সে লক্ষ্যেই সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর বিষয়টিতে সমর্থন দিয়েছেন ফিফা সভাপতি।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কিছু বলেন এবং সেটির ফল বর্ণবাদী হয়, তবে তাঁকে অবশ্যই মাঠ থেকে বের করে দিতে হবে।’

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ঘুষি মারার দায়ে আর্জেন্টাইন গোলকিপার এস্তেবান আন্দ্রাদাকে ১৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) এই ঘোষণা দেয়।
গত রবিবার হুয়েস্কা-রিয়াল জারাগোজা ম্যাচের ৯৯ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ পান ৩৫ বছর বয়সী আন্দ্রাদা। তিনি মাঠ থেকে বের না হয়ে উল্টো দৌড়ে গিয়ে হুয়েস্কা অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোর মুখে ঘুষি মারেন। এতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় ড্রেসিংরুমে নিয়ে যেতে হয় আর্জেন্টাইন গোলকিপারকে।
ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি জানিয়েছে, আন্দ্রাদাকে ঘুষি মারার অপরাধে সর্বোচ্চ ১২ ম্যাচের শাস্তি এবং লাল কার্ডের জন্য আরও ১ ম্যাচ—সব মিলিয়ে মোট ১৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় হুয়েস্কা গোলরক্ষক দানি জিমেনেজকে ৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আর হাতাহাতির সময় প্রতিপক্ষকে লাথি মারার অপরাধে জারাগোজার দানি তাসেন্দেকে ২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে তৎকালীন ক্লাব রেকর্ড ফিতে আর্সেনালে যোগ দিয়েছিলেন মেসুত ওজিল। বিশেষ করে আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে শুরুর বছরগুলোতে তার জাদুকরী সব ‘অ্যাসিস্ট’ তাকে সমর্থকদের নয়নমণি করে তুলেছিল। তবে ক্যারিয়ারের শেষদিকের বছরগুলো চোট, চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা এবং রাজনৈতিক বিতর্কে ম্লান হয়ে যায়। ক্যারিয়ারের সেই কঠিন সময় নিয়ে আবার মুখ খুললেন জার্মানির সাবেক ফুটবল তারকা।
কুয়ালালামপুর লিডারশিপ সামিটে আর্সেনালের সেই তিক্ত বিদায় এবং মানবিক বিষয়ে আওয়াজ তোলা নিয়ে ওজিল বেশ আবেগঘন কিছু কথা বলেছেন। ওজিল বলেন, ‘একজন তারকা হিসেবে আমার একটি কণ্ঠস্বর ছিল এবং আমি জানতাম যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আমার আওয়াজ তোলা উচিত। আমি জানতাম (সামাজিক মাধ্যমে) পোস্ট করলে আর্সেনালের সঙ্গে আমার ঝামেলা হবে। কিন্তু আমি তার তোয়াক্কা করিনি; আমি পোস্ট করেছি এবং তাতে আমি খুশি ছিলাম।’
মূলত ২০১৯ সালে একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করেন ওজিল। সেই পোস্টে তিনি চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুর মুসলিমদের সমর্থনে কথা বলেছিলেন, যা চীনা কর্তৃপক্ষের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আর্সেনাল দ্রুত নিজেদের ওজিলের ব্যক্তিগত মতামত থেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং ক্লাবের ‘অরাজনৈতিক’ অবস্থানের ওপর জোর দেয়।
এরপর ২০২০ সালের অক্টোবরে কোচ মিকেল আর্তেতার অধীনে ওজিলকে আর্সেনালের প্রিমিয়ার লিগ এবং ইউরোপা লিগ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা কার্যত এই ক্লাবে তাঁর অধ্যায়ের ইতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে তিনি ক্লাব ছাড়েন। এরপর ফেনারবাচ এবং ইস্তাম্বুল বাসাকশেহিরের হয়ে কিছুদিন খেলে ২০২৩ সালে অবসর ঘোষণা করেন।
মাঠে অসাধারণ সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত ওজিলকে দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাঁর মতে, নিজের বিশ্বাস বা আদর্শ নিয়ে কথা বলার কারণে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার জন্য 'সব দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল' এবং তার থেকে 'ফুটবল কেড়ে নিয়েছিল', ‘এরপর তারা আমার জন্য সব দরজা বন্ধ করে দিল। তারা আমাকে আর মাঠে নামতে দেয়নি।’
২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা সেই পরিস্থিতির মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সময়টা খুব কঠিন ছিল, কারণ আমি ফুটবল খেলাটা উপভোগ করছিলাম আর তারা আমার থেকে সেই সুযোগটাই কেড়ে নিল। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে সেই সময়ে আমার পাশে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা ছিল।’
অনেকে ওজিলের এই অবস্থানকে নীতিগতভাবে সঠিক মনে করলেও, সমর্থকদের একটি অংশের মতে এটি আর্সেনালের ব্যবসায়িক স্বার্থের (বিশেষ করে চীনের লাভজনক বাজারের ক্ষেত্রে) জন্য ক্ষতিকর ছিল।
অবশ্য মাঠের সেই ‘ওজিল ম্যাজিক’ ভক্তরা আজও ভুলতে পারেননি—তাঁর সেই চোখ ধাঁধানো ‘নো-লুক পাস’ এবং খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সৃষ্টিশীলতা আজও আইকনিক হয়ে আছে। আর্সেনালের হয়ে ২৫৪ ম্যাচে ৪৪ গোল ও ৭৭টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদের ‘গ্যালাক্টিকো’ দলের অন্যতম তারকা লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে ১৫৯ ম্যাচে ২৭ গোলের সঙ্গে করেছেন ৮০ অ্যাসিস্ট।

ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে হলুদ কার্ডের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো থেকে খেলোয়াড়দের অহেতুক বহিষ্কার বা নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের দুটি নির্দিষ্ট ধাপের পর খেলোয়াড়দের অর্জিত একটি করে হলুদ কার্ডের রেকর্ড মুছে ফেলা হবে।
মঙ্গলবার ফিফা কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং পরবর্তীতে সংস্থাটি এক বিবৃতির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের নামের পাশে থাকা একটি হলুদ কার্ড থাকলে, সেটি বাতিল হয়ে যাবে। একইভাবে কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আটের লড়াই শেষ হওয়ার পরও একটি হলুদ কার্ডের রেকর্ড আবারও মুছে ফেলা হবে।
উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের বৃহত্তম আসর। ৪৮টি দলের এই টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি ধাপ যোগ করা হয়েছে। আগে গ্রুপ পর্বের পর সরাসরি শেষ ১৬ বা দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হতো, কিন্তু এবার যুক্ত হয়েছে শেষ ৩২-এর লড়াই। এই বাড়তি ম্যাচের ধকল এবং খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে থাকার ঝুঁকি কমাতে ফিফা এই ‘সাধারণ ক্ষমা’ বা নিয়ম পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে।
আগের বিশ্বকাপগুলোতে নিয়ম ছিল, টুর্নামেন্টের যেকোনো দুটি আলাদা ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে হতো। নতুন নিয়মে ফিফা দুটি 'ফ্রি জোন' বা কার্ড মুছে ফেলার ধাপ তৈরি করেছে। প্রথম ধাপ—গ্রুপ পর্বের সব খেলা শেষ হওয়ার পর। দ্বিতীয় ধাপ—কোয়ার্টার ফাইনাল (শেষ আট) শেষ হওয়ার পর।
গ্রুপ পর্বের পর কী হবে? গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের কোনো একটিতে একজন খেলোয়াড় একটি হলুদ কার্ড পেলেন। আগের নিয়মে এই কার্ডটি নকআউট পর্বেও তার নামের পাশে থেকে যেত। ফলে নকআউটের প্রথম ম্যাচে আরেকটি কার্ড পেলেই তিনি পরের ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতেন। এখন গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়া মাত্রই ওই একটি কার্ড মুছে ফেলা হবে। নকআউট পর্ব (শেষ ৩২) থেকে তিনি একদম 'ফ্রেশ' হয়ে খেলা শুরু করবেন।
কোয়ার্টার ফাইনালের পর কী হবে? নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার পর (শেষ ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনাল) যদি কোনো খেলোয়াড় এই তিনটি ম্যাচের মধ্যে যেকোনো একটিতে হলুদ কার্ড পান, তবে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর সেটি আবার মুছে ফেলা হবে। উদ্দেশ্য যাতে সেমিফাইনাল ম্যাচে কোনো খেলোয়াড় কার্ড পেয়ে ফাইনাল ম্যাচ থেকে ছিটকে না যান। এটি নিশ্চিত করে যে, ফাইনালে সব দল তাদের সেরা শক্তি নিয়েই মাঠে নামতে পারবে।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো খেলোয়াড় যদি একই ম্যাচে লাল কার্ড পান অথবা দুই রাউন্ডের মধ্যে নির্ধারিত সংখ্যক হলুদ কার্ড পেয়ে নিষিদ্ধ হন, তবে তাঁকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে।
কার্ডের নিয়ম পরিবর্তনের পাশাপাশি ফিফা অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণও বাড়িয়েছে। ৪৮টি দলের জন্য মোট অর্থের পরিমাণ ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি দল এখন কমপক্ষে ১৮ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। এছাড়া টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি এবং বাছাইপর্বের সাফল্যের জন্য দেওয়া অর্থের পরিমাণও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বযজ্ঞ চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। নতুন এই নিয়মের ফলে দলগুলো তাদের সেরা তারকাদের মাঠের লড়াইয়ে আরও বেশি সময় পাবে বলে আশা করছে ফিফা।

ভিসেন্তে ক্যালডেরন স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে বাবার কোলে চড়ে যখন প্রথম মাঠে নেমেছিল, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। আজ দিয়েগো 'চোলো' সিমিওনের ছোট ছেলে জিউলিয়ানো সিমিওনে আতলেতিকো মাদ্রিদের গল্পের নিছক কোনো দর্শক নয়; বরং এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র।
গত মঙ্গলবার ছিল দিয়েগো সিমিওনের ৫৬তম জন্মদিন। কোচ হিসেবে নিজের চতুর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রস্তুতি নিতে নিতেই তিনি দিনটি পালন করেছেন। তবে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বাবার দীর্ঘ ক্যারিয়ার নয়, বরং ছেলের উত্থান। আতলেতিকোর হয়ে জিউলিয়ানোর এই বেড়ে ওঠা আসলে ক্রীড়াজগতে 'স্বজনপ্রীতির' অভিযোগকে ভুল প্রমাণ করে নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ।
বলবয় থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের দাবিদার
সাইডলাইন থেকে মূল একাদশে আসার এই পথটা জিউলিয়ানোর জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘ কয়েক বছর বলবয় হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালের এক ডার্বি জয়ের পর সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট জিউলিয়ানোর বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্যটি আজও সবার মনে থাকার কথা। তবে ‘বসের ছেলে’ হওয়ার কারণে তাঁকে যে পরিমাণ কড়া নজরদারি আর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, তা অন্য কেউ হলে হয়তো ভেঙে পড়তেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো শুরুতে জিউলিয়ানোর যুব দলে অন্তর্ভুক্তিকে কেবল বাবার প্রভাব হিসেবেই দেখেছিল। এই সমালোচনা মোকাবিলা করতে দিয়েগো সিমিওনেও ছিলেন কঠোর। ছেলেকে সরাসরি মূল দলে সুযোগ না দিয়ে ধারে (লোন) পাঠিয়েছিলেন আলাভেস-এ। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—আতলেতিকোর ড্রেসিংরুমে বসার আগে লা লিগার কঠিন লড়াইয়ে নিজেকে প্রমাণ করা।
রক্তের উত্তরাধিকার ও লড়াইয়ের গল্প
মাত্র ২৩ বছরের তরুণ জিউলিয়ানো এখন সিমিওনে সাম্রাজ্যের এক পরীক্ষিত সৈনিক। আলাভেসের হয়ে ৯ গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন, বাবার নাম নয়—নিজের পায়ের ধারেই তিনি আজ আতলেতিকোর আঙিনায়। ইউরোপের কোনো বড় ক্লাবে টানা ১৪ বছর ড্রেসিংরুম শাসন করে দিয়েগো সিমিওনে যখন রেকর্ড বই নতুন করে লিখছেন, ঠিক তখনই প্রথম সন্তান হিসেবে বাবার কড়া শাসনের অধীনে লড়ছেন জিউলিয়ানো। বড় দুই ছেলে জিওভানি কিংবা জিয়ানলুকারা অন্য ক্লাবে আলো ছড়ালেও, জিউলিয়ানোর নিয়তি যেন বাঁধা ছিল বাবার এই লাল-সাদা দুর্গের কঠিন লড়াইয়েই।
"চলো-ইজমো’র বিবর্তন: জিউলিয়ানোর পায়ে সিমিওনে দর্শন
জিউলিয়ানোর খেলার ধরনে বাবার সেই চিরচেনা আগ্রাসী মেজাজ ফুটে উঠলেও, তিনি মাঠে নিয়ে এসেছেন আধুনিক ফুটবলের বহুমাত্রিক সামর্থ্য। দিয়েগো সিমিওনে যখন খেলতেন, তিনি ছিলেন নিখুঁত এক 'নাম্বার ফাইভ' মিডফিল্ডার—যাঁর কাজই ছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণ গুঁড়িয়ে দেওয়া। তবে জিউলিয়ানো নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন 'হাইব্রিড ফরোয়ার্ড' হিসেবে। সামনে থেকে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার (প্রেসিং) অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে তিনি স্থবির হয়ে পড়া আতলেতিকোকে নতুন প্রাণ দিয়েছেন।
মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যাকটিক্যাল অ্যানালিস্টদের মতে, জিউলিয়ানো প্রতি ম্যাচে গড়ে ১১.৪ কিলোমিটার দূরত্ব দৌড়ান, যা বর্তমান দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি সিমিওনের সেই বিখ্যাত ‘চলো-ইজমো’ দর্শনেরই প্রতিফলন—যেখানে সাফল্যের মূল মন্ত্র হলো মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া।
ক্রীড়া পরিবারের বৈশ্বিক আখ্যান: সিমিওনে থেকে কেনিয়া
সিমিওনে পরিবারের এই গল্প কেনিয়ার ক্রীড়াপ্রেমীদের মনেও গভীর নাড়া দিচ্ছে। যেখানে পারিবারিক ঐতিহ্যই জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। ক্রিকেটের সেই কিংবদন্তি ওধিয়াম্বো ভাইদের থেকে শুরু করে ফুটবলের ওয়ানিয়ামা পরিবার—বিখ্যাত পদবি বইয়ে বেড়ানোর চাপ কেনিয়ার ভক্তদের কাছে খুব পরিচিত।
কেনিয়ার নাইরোবির স্পোর্টস বারগুলোতে এখন সিমিওনেদের নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলে: বিখ্যাত বাবার নাম কি আশীর্বাদ নাকি বোঝা? সেখানকার স্থানীয় কোচদের মতে—পরিবারের নাম হয়তো বড় কোনো সুযোগের দরজা খুলে দেয়, কিন্তু সেখানে টিকে থাকতে হলে মেধা আর পরিশ্রমেরই দরকার হয়। নাইরোবির এনগং রোডের 'লিগি এনডোগো' অ্যাকাডেমির তরুণ অ্যাথলেটদের কাছে জিউলিয়ানোর এই সাফল্য এক বড় অনুপ্রেরণা। সে প্রমাণ করেছে, উত্তরাধিকার কেবল জন্মগতভাবে পাওয়া বিষয় নয়, এটি নিজের পরিশ্রমে গড়ে নেওয়ার বিষয়।
শেষ অঙ্ক: একটি স্বপ্নের সন্ধানে
আতলেতিকো যখন সেমিফাইনালের মহারণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন বাজিটা কিন্তু অনেক বড়। দিয়েগো সিমিওনের জন্য এটি সেই ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরার শেষ সুযোগ, যা দুবার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েও তাঁর হাত ফসকে গেছে। আর জিউলিয়ানোর জন্য এটি বাবার দীর্ঘ ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের ভাগ্য গড়ার এক মহাসুযোগ। 'চোলো' যুগের শেষ অঙ্কটা এখন এক ব্যক্তিগত আবেগ আর প্রাপ্তির লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।