
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাজে বোলিং-ফিল্ডিংয়ে বিশাল লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ। রিপন মন্ডল, রকিবুল হাসান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরিদের তুলোধুনা করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রানের সংগ্রহ পেল পাকিস্তান শাহিনস ('এ' দল)।
ম্যাচ জিততে ব্যাটসম্যানদের সামনে এখন তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তান শাহিনসের পক্ষে ঝড়ো ইনিংস খেলেন টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান খাওয়াজা নাফে, ইয়াসির খান ও সৈয়দ আব্দুল সামাদ। রান আউট হওয়ার আগে ৩১ বলে ৬১ রান করেন নাফে। ইয়াসিরের ব্যাট থেকে আসে ৪০ বলে ৬২ রান।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে ‘নতুন দায়িত্ব’ নিতে তৈরি হচ্ছেন ম্যাক্সওয়েল |
|
তিন নম্বরে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২৭ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন আব্দুল সামাদ।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন নাফে ও ইয়াসির। প্রথম পাওয়ার প্লেতে দুজন মিলে যোগ করেন ৬৯ রান। দশম ওভারে জুটির একশ রান পূর্ণ করে ফেলেন শাহিনসের দুই ওপেনার।
১১তম ওভারে এই জুটি ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেন মৃত্যুঞ্জয়। কিন্তু সীমানায় মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মাহফুজুর রহমান রাব্বি মিলে ছেড়ে দেন ক্যাচ। তবে পরের ওভারেই নাফের রান আউটে ভাঙে ৬৭ বলে ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।
পরের ওভারে ইয়াসিরকে কট বিহাইন্ড করেন মাহফুজুর রাব্বি। তৃতীয় উইকেটে মাত্র ২৩ বলে ৪৯ রান যোগ করেন আব্দুল সামাদ ও মোহাম্মদ ফাইক। ১০ বলে ১৮ রান করা ফাইককে আউট করেন রকিবুল হাসান।
আরও পড়ুন
| টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ |
|
এরপর ২০ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন সামাদ ও অধিনায়ক ইরফান খান। ১২ বলে ২৫ রান করা ইরফানকে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ। অভিজ্ঞ এই পেসারই ছিলেন সবচেয়ে কৃপণ। ৪ ওভারে তিনি খরচ করেন ৩৪ রান।
এছাড়া রিপন ৪ ওভারে ৪৫, রকিবুল ৪ ওভারে ৪৩, মৃত্যুঞ্জয় ৪ ওভারে ৩৯, মাহফুজুর রাব্বি ৩ ওভারে ৩৯, সাইফ হাসান ১ ওভারে খরচ করেন ২৬ রান।
No posts available.
২ মে ২০২৬, ৮:০৭ পিএম

পাকিন্তান সুপার
লিগের (পিএসএল) শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চ প্রস্তুত। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দেখা
হচ্ছে বাবর আজমের পেশাওয়ার জালমি ও মার্নাস লাবুশেনের হায়দরাবাদ কিংসমেন। সমর্থকদের
নজর মাঠের লড়াইয়ে তো থাকবেই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে
রয়েছেন একজন—গতি তারকা নাহিদ রানা।
নাহিদ রানা
কি একাদশে থাকছেন?
গত কয়েক দিনের
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এটা এখন প্রায় নিশ্চিত, সবকিছু ঠিক থাকলেও পেশাওয়ার জালমির
একাদশে থাকছেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে নতুন করে অনাপত্তিপত্র
(এনওসি) পাওয়ার পর গত শুক্রবারই তিনি লাহোরে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। টুর্নামেন্টের
মাঝপথে জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে দেশে ফিরলেও ফাইনালের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাঁকে
খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা
নাহিদের ক্যারিয়ারের জন্য সহায়ক হবে।
চলতি পিএসএলে
৪ ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়া নাহিদ আজ পেশাওয়ারের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র হতে পারেন।
তার ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাউন্সার মোকাবিলা করাই হবে কিংসমেন ব্যাটারদের জন্য
বড় চ্যালেঞ্জ। পিএসএলের ‘ইকোনমি কিং’ নাহিদের বোলিং গড় ১০.৮৫, ইকোনমি ৫.৪২। উইকেট পেয়েছেন
এমন বোলারদের মধ্যে তাঁর চেয়ে ভালো ইকোনমি আর কারো নেই।
পেশাওয়ার
জালমির সম্ভাব্য একাদশ
বাবর আজমের
নেতৃত্বে পেশাওয়ার আজ তাদের সেরা শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে। ওপেনিংয়ে বাবরের সঙ্গে
থাকছেন মোহাম্মদ হারিস। এক পিএসএল মৌসুমে ৫৮৮ রান করে রেকর্ড গড়েছেন বাবর। তাঁর উইকেটে
থাকা মানেই রানের নিশ্চয়তা। এরই মধ্যে দুটি সেঞ্চুরিসহ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহ তিনি।
৫৪১ রান নিয়ে বাবরের যোগ্য সঙ্গী কুশল মেন্ডিস।
বোলিং আক্রমণে
নাহিদ রানার সঙ্গে থাকছেন টুর্নামেন্টের সফলতম স্পিনার সুফিয়ান মুকিম। ২১ উইকেট নিয়ে
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। মাঝের ওভারে রান আটকে রাখতে পারেন তিনি।
সম্ভাব্য
একাদশ: মোহাম্মদ
হারিস (উইকেটরক্ষক), বাবর আজম (অধিনায়ক), কুশল মেন্ডিস, মাইকেল ব্রেসওয়েল, আব্দুল সামাদ,
অ্যারন হার্ডি, ইফতিখার আহমেদ, ফারহান ইউসুফ, নাহিদ রানা, সুফিয়ান মুকিম ও মোহাম্মদ
বাসিত।
হায়দরাবাদ
কিংসমেনের সম্ভাব্য একাদশ
নিজেদের অভিষেক
পিএসএলে চমক দেখানো হায়দরাবাদ কিংসমেন তাদের জয়ী কম্বিনেশন ভাঙতে নারাজ। মার্নাস লাবুশেন
শান্ত মেজাজের নেতৃত্ব দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছে।
এলিমিনেটরে
নাটকীয় জয়ের নায়ক হুনাঈন শাহ ও বিধ্বংসী ব্যাটার উসমান খানের ওপর ভরসা রাখছে দলটি।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো অভিজ্ঞ তারকাও থাকছেন তাদের তুরুপের তাস হিসেবে।
সম্ভাব্য
একাদশ: মায়াজ
সাদাকাত, মার্নাস লাবুশেন (অধিনায়ক), সাইম আইয়ুব, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), গ্লেন ম্যাক্সওয়েল,
কুশল পেরেরা, ইরফান খান, হাসান খান, হুনাইন শাহ, মোহাম্মদ আলী ও আকিফ জাভেদ।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের
পিচ সাধারণত ব্যাটারদের জন্য সহায়ক হলেও রাতে ডিউ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। টস জয়ী
অধিনায়ক সম্ভবত প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি কারা
হাসে— পেশাওয়ারের দ্বিতীয় শিরোপা নাকি কিংসমেনের অভিষেক রাজত্ব তা দেখার অপেক্ষায় পুরো
ক্রিকেট বিশ্ব।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একাদশ সংস্করণের পর্দা নামছে
আজ। শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে মাঠে নামবে পেশাওয়ার জালমি ও টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ
নেওয়া হায়দরাবাদ কিংসম্যান। একদিকে বাবর আজমের ইতিহাস গড়ার হাতছানি ও বাংলাদেশের নাহিদ
রানার তোপ, আরেকদিকে প্রথমবারই চমক দেখিয়ে ফাইনালে ওঠা হায়দরাবাদ।
পুরো টুর্নামেন্টে দাপট দেখানো পেশাওয়ার আজ ফেবারিট হিসেবেই
মাঠে নামবে। এর আগে চারবার তারা ফাইনাল খেলে একবার শিরোপা ঘরে তুলেছে। এবার ফাইনালে
ওঠার লড়াইয়ে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তারা ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৭০ রানের বড় ব্যবধানে হারায়।
এবারের পিএসএলের দুই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বাবর আজম (৫৮৮)
এবং কুশল মেন্ডিস (৫৪১) পেশাওয়ারের ব্যাটিং স্তম্ভ। সর্বোচ্চ ২১ উইকেট
শিকারি সুফিয়ান মুকিম রয়েছেন দলটিতে। বাবর আজম আর মাত্র ১ রান করলেই পিএসএল ইতিহাসের
এক সংস্করণে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড নিজের করে নেবেন।
পেশাওয়ারের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো বাংলাদেশের গতিতারকা
নাহিদ রানার প্রত্যাবর্তন। পিএসএলে প্রথমবার খেলতে গিয়ে গতি, সুইং ও বৈচিত্রময় বোলিংয়ে
বাজিমাত করেছেন রানা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে গত ১৪ এপ্রিল পিএসএল ছেড়ে দেশে
ফিরেছিলেন নাহিদ রানা। ফেরার আগে ৪ ম্যাচে নেন ৭ উইকেট। গড় ১০.৮৫, স্ট্রাইক রেট ১২
অর্থাৎ প্রতি ১২ বলে একটি করে উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। পিএসএল ইতিহাসের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ
ডট বল করার রেকর্ডেও ভাগ বসান ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ।
বিসিবির বিশেষ অনুমতি নিয়ে রানাকে ফাইনালের জন্য উড়িয়ে নিয়ে
গেছে পেশাওয়ার। গতির সাথে দারুণ ইকোনমি রেট বজায় রাখা রানা আজ বোলিং আক্রমণের তুরুপের
তাস হতে পারেন। তাঁর সঙ্গে সুফিয়ান মুকিম ও ইফতিখার আহমেদের ঘূর্ণি হায়দরাবাদের জন্য
বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের শুরুতে ৪ ম্যাচ হেরে বসা হায়দরাবাদ
যেভাবে ফাইনালে পৌঁছেছে তাকে রূপকথা বললেও কম হয়। টুর্নামেন্টের শুরুতে তারা হেরে বসে
৪ ম্যাচ। এরপরই যেন দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের এক গল্প লিখেছে দলটি। সবশেষ আঁট ম্যাচের
সাতটিতেই জিতেছে হায়দরাবাদ।
হায়দরাবাদের বোলিংয়ের প্রাণভোমরা হুনাইন শাহ। তাঁর দুর্দান্ত
বোলিংয়ে দ্বিতীয় এলিমেনটরে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে শেষ ওভারে ৬ রান ডিফেন্ড করে
ফাইনালে ওঠে হায়দরাবাদ।
ব্যাটিংয়ে দলটির মূল বড় ভরসা উসমান খান। চলতি টুর্নামেন্টে
৩৮১ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন এই ব্যাটার। প্রথমবারের
মতো টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করা মার্নাস লাবুশেন কৌশলী নেতৃত্ব দিয়ে মুগ্ধ করেছেন
সবাইকে। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সেরা দশে রয়েছেন এই অজি ব্যাটার।
ফাইনালে হায়দরাবাদের এক্স ফ্যাক্টর হতে পারেন অভিজ্ঞ গ্লেন
ম্যাক্সওয়েল। বড় ম্যাচের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ম্যাক্সওয়েল যেকোনো সময় ম্যাচের মোড়
ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
পেশাওয়ারের দ্বিতীয় শিরোপা নাকি হায়দরাবাদের প্রথম শিরোপা
নির্ধারিত হবে আজকেই। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে আজ বাংলাদেশ রাত
৯ টায়।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রেকর্ড ভাঙা-গড়া যার নিত্যদিনের কাজ, সেই বাবর আজমের ক্যারিয়ারে আছে বড় এক শূন্যতা। জাতীয় দল কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ—অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বাদ এখনো পাননি এই তারকা ব্যাটার। সেই দীর্ঘ আক্ষেপ আর ট্রফি খরা ঘুচানোর স্বপ্ন নিয়ে আগামীকাল পিএসএলের মেগা ফাইনালে নামছে বাবরের পেশোয়ার জালমি।
হায়দরাবাদ কিংস মেন-এর বিপক্ষে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এর ১১তম আসরের ফাইনালের আগে নিজের মনের কথা জানালেন পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক বাবর আজম। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় এই মেগা ফাইনালের আগে বাবর স্বীকার করেছেন, অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাবর বলেন,
‘শিরোপা জেতা প্রতিটি অধিনায়কের স্বপ্ন, আমারও তাই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের পরিকল্পনাগুলো মাঠে ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করা, বিষয়গুলোকে সহজ রাখা এবং চাপকে মাথায় চড়তে না দেওয়া।’
২০১৯ সালে পাকিস্তানের সাদা বলের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর বাবর আজম বিশ্বকাপসহ মোট ছয়টি বহুজাতিক টুর্নামেন্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু একবারও ‘গ্রিন শার্ট’দের শিরোপার স্বাদ দিতে পারেননি তিনি।
পিএসএলেও বাবরের অধিনায়কত্বের ভাগ্য এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের মতোই। ২০২২ সাল থেকে করাচি কিংস এবং পেশোয়ার জালমিকে নিয়ে চারটি মৌসুম পার করলেও এখন পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই শিরোপাটি জেতা হয়নি তাঁর।
পিএসএলে অধিনায়ক হিসেবে বাবরের শুরুটা ছিল বেশ তিক্ত। তাঁর অধীনে সপ্তম আসরে ১০টি লিগ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ছিল করাচি কিংস। এরপর তিনি পাড়ি জমান ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন দল পেশোয়ার জালমিতে। গত বছর দশম আসরে তাঁর দল পঞ্চম স্থানে থেকে শেষ করলেও এর আগের দুই আসরে দলকে প্লে-অফে তুলেছিলেন তিনি।
তবে এবারের পিএসএলে পেশোয়ার জালমি যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লিগ পর্বে দলটি মাত্র একটি ম্যাচে হারের মুখ দেখেছে। এরপর কোয়ালিফায়ারে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দাপট দেখিয়েই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাবরের দল।
চলতি মৌসুমে জালমির সাফল্যের নেপথ্যে মূল কারিগর বাবর আজম। পিএসএলে এবার ১০ ইনিংসে ৮৪ গড়ে করেছেন ৫৮৮ রান। চলতি আসরে দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি করা বাবর পিএসএলের এক আসরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন। এবার অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম পিএসএল শিরোপা জিতলেই ষোলোকলা পূর্ণ করবেন।
দীর্ঘদিনের এই শিরোপা খরা কাটানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাবর জানান, ট্রফি জেতা প্রতিটি অধিনায়কেরই স্বপ্ন। তবে এ নিয়ে বাড়তি চিন্তা করে নিজেদের ওপর চাপ বাড়াতে চান না ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন দলটিকে যেভাবে শিরোপার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন, ফাইনালে ঠিক সেই স্বাভাবিক ছন্দেই খেলার পরামর্শ দিয়েছেন সতীর্থদের।
বাবর বলেন,
‘এটি একটি নতুন ম্যাচ, ফাইনাল; তাই এখানে চাপের ধরণটাও ভিন্ন হবে। আপনাকে ইতিবাচক থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত চিন্তা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নতুন করে বাড়তি কিছু করার নেই, আমরা এ পর্যন্ত যেভাবে ক্রিকেট খেলে এসেছি, ঠিক সেভাবেই খেলতে চাই।’
অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রায়ই ধেয়ে আসা সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন বাবর। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এসব নিয়ে তিনি মোটেও ভাবেন না,
‘সমালোচনার কথা যদি বলেন, তবে আপনি পারফর্ম করেন বা না করেন—সমালোচনা সবসময়ই থাকবে। তাই আমি এসব দিকে একদমই মনোযোগ দিই না।’

টসের আগে অর্ধেকের বেশি ভরে গেল গ্যালারি। খেলার মাঝপথ আসতে প্রায় ফুল হাউজ হয়ে গেল শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম। ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দ না পেলেও, অনেক দিন পর মাঠে ভরা গ্যালারি দেখে কৃতজ্ঞতা জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস।
সাম্প্রতিক সময়ে গত কয়েক সিরিজে নানা কারণে প্রায় খালি গ্যালারির সামনেই খেলতে হয়েছে লিটন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্তদের। ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেট- যে কোনো ফরম্যাটে খেলা হোক না কেন, পুরো ভরত না গ্যালারি।
সেদিক থেকে ব্যতিক্রম নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি। মিরপুরে দুপুরেই প্রায় ভরে যায় গ্যালারি। তাদের অবশ্য আনন্দের উপলক্ষ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। লিটনের কিছু শট আর শরিফুলের দারুণ বোলিং ছাড়া বাকি সময় নীরবেই থাকতে হয় দর্শকদের।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে সঞ্চালকের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব সেরে নিজ থেকেই দর্শকদের প্রতি ধন্যবাদ জানান লিটন।
“ধন্যবাদ। অনেক দিন পর মাঠটা অনেক... ভালো লেগেছে যে আপনারা এসেছেন। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশা করি পরেরবার যখন আসবেন... আমাদের সাপোর্ট করবেন এবং আমরা আপনাদের হাসিমুখে বিদায় দিতে পারব। আবারও ধন্যবাদ।”
পরে সংবাদ সম্মেলনেও আসে দর্শকের প্রসঙ্গ। তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ভরা গ্যালারি দেখে আনন্দিত তিনি।
“খুবই ভালো। সত্যি কথা খুবই খুশি। আমার মনে হয়, আবার আমাদের দর্শকরা আমাদেরকে সাপোর্ট করছে। ঘরের মাঠে দর্শকরা সাপোর্ট করলে একটু আলাদা সুবিধা থাকেই।”
“আশা করব, দর্শকরা আবার আসবে মাঠে খেলার জন্য। দর্শক হচ্ছে একটা প্রাণ। তারা যদি আমাদেরকে সাপোর্ট করে আমাদের খেলার জন্য জিনিসটা সহজটা হয়ে যায় অনেকটা।”

সকালে রোদের দেখা মিললেও হুট করেই আধার নেমে এলো মিরপুরের আকাশে। তা দেখেই নিজেদের পরিকল্পনা বদলে ফেলল নিউ জিল্যান্ড। আগে ব্যাটিংয়ের বদলে ফিল্ডিং নিয়ে বাংলাদেশকে তারা অল্পে আটকে রাখল। পরে সহজেই জিতে নিলো ম্যাচ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবারের ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারায় নিউ জিল্যান্ড। বৃষ্টিতে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জবাবে ১১.৪ ওভারে ম্যাচ জিতে যায় কিউইরা।
অথচ নিজেদের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী টস জিতে আগে ব্যাটিং নিতো নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু টস হওয়ার কিছুক্ষণ আগে হুট করে আকাশ কালো হয়ে গেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখে তাৎক্ষণিক বদলে যায় তাদের ভাবনা।
কয়েনভাগ্য পাশে পেয়ে ফিল্ডিং নেন নিক কেলি। পরে বৃষ্টি নামার আগে ৬.৪ ওভারে বাংলাদেশের ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। যেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। অনায়াস জয় পায় কেলির দল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কিউই অধিনায়ক কেলিও বলেন বৃষ্টির কারণে ম্যাচে প্রভাব পড়ার কথা।
“হ্যাঁ! আমি মনে করি (বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল)। বৃষ্টি নামার আগে আমরা টস নিয়ে কথা বলছিলাম। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল, (টস জিতলে) আমরা ব্যাটিং নেব। এরপর আবহাওয়া একটু গুমোট হয়ে গেল। এটি দেখেই আমরা বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিই।”
বৃষ্টিতে ১ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর আবার ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ। ততক্ষণে কমে যায় ৫ ওভার। বাকি থাকা ৮.২ ওভারের পুরোটা খেলতে পারেনি লিটন কুমার দাসের দল। বিরতির পর ৭.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে মোটে ৫২ রান করতে পারে তারা।
পরে ১৫ ওভারে ১০৩ রানের লক্ষ্যে শুরুতে দ্রুত ৪ উইকেট হারালেও বেভন জ্যাকবসের ঝড়ে অনায়াস জয়ে সিরিজের ট্রফি ভাগাভাগি করে কিউইরা।
সংবাদ সম্মেলনে কেলিও বললেন, বৃষ্টির কারণে বাড়তি সুবিধাই পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড।
“এরপর উইকেটের আচরণও যেমন দেখা গেল... আর একটা বিরতির পর নেমে যখন দেখবেন ৫ ওভার কমে গেছে, সবসময়ই কাজটা কঠিন। আপনি যদি আগেই জানতেন ১৫ ওভারের খেলা, তাহলে হয়তো শুরু থেকেই আরও আগ্রাসী খেলবেন। তো এটিই ছিল টসের সিদ্ধান্তের কারণ। আমরা ভাগ্যবান যে টস জিতেছি।”