
২৪ ঘন্টার ব্যবধানে সারজায় দু'বার মুখোমুখি। দুটি ম্যাচের গেম চেঞ্জার একজন, তিনি নূরুল হাসান সোহান। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে রংপুর রাইডার্সকে বিপিএল এবং গ্লোবাল টি-২০ লিগের ট্রফি জয়ে নেতৃত্ব দেয়া সোহানকে পর পর দুই ম্যাচে দেখা গেলো একই বৈশিষ্ট্যে।
বৃহস্পতিবার রাতে রশিদ খানের ২ ওভারের এক স্পেলে যখন ভয়াবহ দুর্গতিতে বাংলাদেশ দল, তখন বাংলাদেশ দলকে উদ্ধার করেছেন সোহান। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে (১৩ বলে ২ ছক্কা ১ বাউন্ডারিতে ২৩*) ৮ বল হাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। সারজায় ২য় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও একই দৃশ্য। ১২২ থেকে ১২৯, মাত্র ৭ রানে নাসুম-সাইফউদ্দিন-রিশাদকে হারিয়ে বিপর্যয়ের কবলে যখন বাংলাদেশ দল, তখন ত্রাতা সেই সোহান। ২৫ বলে ৩৪ রানের টার্গেটের মুখে দাঁড়িয়ে যখন বাংলাদেশ, তখন মোহাম্মদ নবীকে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে মেরেছেন ছক্কা। ১২ বলে ১৯ রানের টার্গেটটা যখন শেষ পার্টনারশিপের জন্য দুরূহ হয়ে ওঠার কথা, তখন নূর আহমেদকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে মেরেছেন সোহান ছক্কা! তার ২১ বলে ১ চার, ২ ছক্কায় ৩১ রানের হার না মানা ইনিংসে ৫ বল হাতে রেখে ২ উইকেটে জিতে ১ ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়ের উৎসব করেছে বাংলাদেশ।
এক সপ্তাহ আগে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১ বলে ১৬ রানে আসামীর কাঁঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন নূরুল হাসান সোহান। তবে এটা যে তার প্রকৃত বৈশিষ্ট্য নয়, স্লগে ব্যাটিংয়ের চাপ নিতে জানেন সোহান, তা জানিয়ে দিয়েছেন সারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে উপর্যুপরি ২ ম্যাচে।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পেস বোলার শরিফুল ফিরেছেন দারুণভাবে। এশিয়া কাপে উইকেটহীন ২ ম্যাচে অমিতব্যয়ী বোলিংয়ের অপরাধে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজের প্রথম ম্যাচের একাদশে পাননি জায়গা। ফিরেই এই বাঁ হাতি পেসার দারুণ বোলিং করেছেন (৪-০-১৩-১)। দারুণ এক ইয়র্কারে গুরবাজকে বোল্ড করা এই পেসার ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৪টি দিয়েছেন ডট! ১৯তম ওভারের ৫ম বলে নূর আহমেদ এবং ২০তম ওভারের প্রথম বলে আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে বাউন্ডারিতে উইনিং রান নিয়েও এই টেল এন্ডার দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান।
টসে জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রন জানিয়ে বোলারদের উপর যে নির্দেশনা ছিল, তা পালন করতে পেরেছেন শরিফুল-সাইফউদ্দিন-নাসুম। তিন পেসার মিলে শিকার করেছেন ১টি উইকেট। একটু বেশি অমিতব্যয়ী বোলিং করেছেন লেগ স্পিনার রিশাদ ( ৪-০-৪৫-২)। উইকেটহীন মোস্তাফিজও ছিলেন খরুচে বোলার ( ৪-০-৪০-০)। তবে মোস্তাফিজের ভাগ্যটা খারাপ। তার বলে আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে ১৫ রানের মাথায় এবং ইব্রাহিম জাদরানকে ২৪ রানের মাথায় ফিরিয়ে দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন বাংলাদেশের দুই ফিল্ডার।
শেষ পাওয়ার প্লে-তে এদিনও বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারেননি। খরচ হয়েছে ৪১ রান। স্কোরটা ১৪৭/৫ পর্যন্ত টেনে নিতে পেরেছে আফগানিস্তান সে কারণেই।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পারভেজ ইমন-তানজিদ হাসান তামিমের ওপেনিং পার্টনারশিপের ১০৯ রানেরও পরও ম্যাচের মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল মিডল এবং লোয়ার অর্ডাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের চিত্র অবশ্য অন্যরকম। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৩৭ রান উঠতে ৩ উইকেট হারানোর পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্বটা নিয়েছে মিডল অর্ডার। ৪র্থ উইকেট জুটিতে জাকের আলী অনিক-শামীম পাটোয়ারী ৩৭ বলে ৫৭ রান যোগ করে দলকে দিয়েছেন অক্সিজেন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক জাকের আলী অনিকের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। শুক্রবার রাতে ২৫ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ৩২ রানের ইনিংসে সে সমালোচনা থেকে নিজেকে মুক্ত করেছেন। শামীম পাটোয়ারীর ব্যাটিংও (২২ বলে ৩ চার, ২ ছক্কায় ৩৩) ম্যাচ জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
সারজায় চারের চেয়ে ছক্কা মারা সহজ, উভয় দলই তা জানিয়ে দিয়েছেন শুক্রবার রাতে। আফগানিস্তান মেরেছে ৭টি চারের পাশে ৯টি ছক্কা। পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটাররা মেরেছে সেখানে ১০ চার, ১০ ছক্কা!
আইসিসি-এসিসির মেগা আসরে যা-ই হোক না কেনো, দ্বি-পাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে এ বছরে বাংলাদেশের জয়-জয়কার। টানা ৪টি দ্বি-পাক্ষিক সিরিজের প্রতিটির ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ। শুরুটা শ্রীলঙ্কা সফরে ২-১ এ সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে। হোমে পাকিস্তানকে ২-১, নেদারল্যান্ডসকে ২-০তে হারিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইতোমধ্যে ২-০-তে এগিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
No posts available.
১ মে ২০২৬, ৫:০৮ পিএম

প্রথম ম্যাচের কল্যাণে একটা সম্ভাবনা জেগেছিল বৈকি। ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সেই উচ্চাশা ভিজিয়ে দেয় অগত্যা বৃষ্টি। অবশ্য আশা এখনও মরে যায়নি। শনিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ রাঙাতে পারলেই ২০২১ সালের পর আরও একবার কিউইদের টি-টোয়েন্টিতে হারানোর স্বাদ পাবে বাংলাদেশ।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ৬ উইকেটের জয়ে নিউ জিল্যান্ডের সিরিজ জয়ের কোনো সুযোগ নেই। শেষ ম্যাচটি জিতলে অন্তত ড্র করে ফিরতে পারবেন নিক কেলিরা। এক্ষেত্রেও অতিথিদের জন্য বড় প্রতিবন্ধক—অনাহূত বৃষ্টি। সিরিজ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফিরলেও বৃষ্টি হয়ে ওঠেছে শঙ্কার কারণ।
টি-টোয়েন্টিতে র্যাঙ্কিং কিংবা শক্তিমত্তা—সবদিক দিয়েই বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে নিউ জিল্যান্ড। মুখোমুখি লড়াইয়ে ২০ ম্যাচের চারটিতে জয় বাংলাদেশের। তবে ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম কুড়ি কুড়িতে লিটন দাসরা যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তা জুগিয়েছে চোখের শান্তি। অভয়ের কারণ হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টেরও। অন্তত লিটন দাস ব্রিগেড বুঝিয়েছেন, এভাবে খেলবে সিরিজ জেতা কোনো ব্যাপারই না!
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ছয় ব্যাটারের সবাই দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করেছেন। তার মধ্যে তাওহীদ হৃদয়ের ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে শেষদিকে শামীম পাটোয়ারীর ক্যামিও ইনিংস বাহবা কুড়িয়েছে বেশ। বল হাতে রিশাদ হোসেন, তানজিম সাকিবরা দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। এই দলটির ওপরই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ভরসা টিম ম্যানেজমেন্টের। তাদের চাওয়া— বরং উইনিং কম্বিনেশন নড়চড় নয়।
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শামীম পাটোয়ারী এই ইঙ্গিতটাই দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা স্পিন অলরাউন্ডার বলেন, ‘(প্রথম ম্যাচে) আমরা ভালো খেলতে পেরেছি। ইন্টেন্ট দেখাতে পেরেছি। পরের ম্যাচে এটা ধরে রাখতে চাই।’
শুধুই ইন্টেন্ট ধরে রাখা? অবশ্য নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় কোনো সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি, ‘আমাদের ভালো একটি সুযোগ আছে সিরিজ জয়ের। অবশ্যই চাইব জেতার জন্য খেলার।’
বাংলাদেশের মতো অভিন্ন লক্ষ্য নিউ জিল্যান্ডের। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অতিথি দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ডিন ফক্সক্রফট জানিয়েছেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃতীয় ম্যাচ রাঙাতে চান তারা।
নিউ জিল্যান্ড অলরাউন্ডার বলেন, ‘শেষ ম্যাচটা বৃষ্টির ফলে বাতিল হয়েছে। এখানে এসে সিরিজে সমতায ফেরানোর একটা সুযোগ পেয়েছি। দলের আবহ বেশ ভালো। সবাই ইতিবাচক আছে। প্রথম ম্যাচের পর ভাবার জন্য আমরা কয়েকদিন সময় পেয়েছি। ওই ম্যাচে আমরা অনেক কিছুই ভালো করেছি এবং অবশ্যই কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের নানা কিছু ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।’
মিরপুরের শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আরও একটি ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের হাতছানি লিটনদের সামনে। তবে বৃষ্টির চোখরাঙানি এড়িয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এবং আত্মবিশ্বাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে কিউইদের বিপক্ষে আরও একটি স্মরণীয় জয় উদযাপনের সুযোগ রয়েছে স্বাগতিকদের। এখন শুধু মাঠে নিজেদের মেলে ধরার অপেক্ষা।

৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) থেকে সুপার লিগ ও রেলিগেশন বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের লিগ সিঙ্গেল-লিগ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে।
মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়ামসহ ছয় ভেন্যুতে অনুষ্ঠিতব্য ৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১১ জুন। লিগ কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসরে মোট ৬৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অপ্রত্যাশিত বাধার ক্ষেত্রে ম্যাচ সম্পন্ন করা নিশ্চিত করতে রিজার্ভ ডে রাখা হবে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটিকে চ্যাম্পিয়ন এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটিকে রানার্স-আপ ঘোষণা করা হবে। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দুটি দল ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অবনমিত হবে।
লিগে অংশগ্রহণকারী ১২টি ক্লাব হলো শিরোপাধারী আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব), রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড, সিটি ক্লাব ও ঢাকা লেপার্ডস।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য অপরিবর্তিত থাকছে বাংলাদেশ দল। শনিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচ।
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। ফলে তৃতীয় ম্যাচ হয়ে উঠেছে অঘোষিত ফাইনাল। এই ম্যাচ জয়ে রাঙাতে পারলে সিরিজ হবে লিটন দাসদের। আর কিউইরা হারলে পড়তে হবে হোয়াইটওয়াশড লজ্জায়।
বাংলাদেশ দল: লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, মোহাম্মদ সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, সাইফ উদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

বার্ষিক র্যাঙ্কিং হালনাগাদ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। পুরুষদের টেস্ট এবং নারীদের ওয়ানডে—উভয় ফরম্যাটেই শীর্ষস্থান দাপট ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানকে টপকে নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে টেস্টে অপরিবর্তিত নাজমুল হোসেন শান্তদের অবস্থান।
র্যাঙ্কিংয়ের এই নতুন হিসাবে ২০২৫ সালের মে থেকে খেলা সব ম্যাচের ফলাফলকে শতভাগ এবং এর আগের দুই বছরের ফলাফলকে ৫০ শতাংশ হিসেব করা হয়েছে। নতুন এই সমীকরণে পুরুষদের টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে নারীদের ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের চেয়ে ৩৫ পয়েন্ট বেশি নিয়ে চূড়ায় অবস্থান করছে অজিরা।
পুরুষদের টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ৩ রেটিং পয়েন্ট যোগ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ এখন ১৩১ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১১৯। বড় পরিবর্তন এসেছে পরের অবস্থানগুলোতে; ৭ রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে চারে স্থানে নেমে গেছে ইংল্যান্ড (১০২)। তাদের টপকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত (১০৪)। মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে ইংল্যান্ডের ঠিক পরেই (পঞ্চম স্থানে) অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড।
লাল বলের ক্রিকেটে র্যাঙ্কিংয়ে বড় এক লাফ দিয়েছে পাকিস্তান (৮৯)। শ্রীলঙ্কাকে (৮৬) টপকে তারা এখন ষষ্ঠ অবস্থানে। ইংল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হারের হিসাব বাদ পড়া এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে হারের গুরুত্ব অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব পড়েনি পাকিস্তানের।
নির্দিষ্ট সময়ে ন্যূনতম ৮টি ম্যাচ না খেলায় র্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে আয়ারল্যান্ড। র্যাঙ্কিংয়ে পুনরায় ফিরতে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান—উভয় দলকেই আগামী এক বছরের মধ্যে অন্তত আরও দুটি করে টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে।
নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয়টি অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অস্ট্রেলিয়ার রেটিং ৪ পয়েন্ট কমলেও ১৬৩ রেটিং নিয়ে তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভারতের সঙ্গে ব্যবধান ১ থেকে ৪ পয়েন্টে বাড়িয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড; ১২৮ রেটিং নিয়ে তারা আছে দ্বিতীয় স্থানে। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে আছে ভারত (১২৪), দক্ষিণ আফ্রিকা (১০০), নিউজিল্যান্ড (৯৩) ও শ্রীলঙ্কা (৮৯)।
আইসিসির বার্ষিক এই হালনাগাদে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ৬ পয়েন্ট পাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তাদের ব্যবধান ১৩ থেকে কমে চারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানকে টপকে নারী ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
গত তিন বছরে ন্যূনতম ৮টি ওয়ানডে ম্যাচ না খেলায় থাইল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস আপাতত র্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে। র্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে থাইল্যান্ডের একটি এবং নেদারল্যান্ডসের দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে হবে।
আইসিসি আগামী ৫ মে পুরুষ ও নারী দলের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং এবং ৭ মে পুরুষ ওয়ানডে দলের বার্ষিক হালনাগাদ প্রকাশ করবে।

ক্রিকেটে এখন প্রথাগত শটের চেয়ে ইমপ্রোভাইজড বা উদ্ভাবনী শটের কদরই বেশি। আর এই শিল্পকে নিজেকে যেন অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন শামীম হোসেন। মাঠের চারদিকে উদ্ভাবনী শট খেলা এই ব্যাটার এখন ‘টক অব দ্য টাউন’। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর ওই ‘নো লুক শট’ তো রীতিমতো ভাইরাল। তবে ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন—কী নাম এই শটের?
মজার বিষয় হলো, যে শট দিয়ে নেটিজেনদের ঘুম কেড়েছেন, সেই শটের নাম খোদ শামীম নিজেও জানেন না! শটটা খেললেন তিনি, ভাইরালও হলো তার নামেই—কিন্তু সেই শটকে কী বলে ডাকবেন, তা নিয়ে খোদ দ্বিধায় আছেন শামীম।
তৃতীয় টি–টুয়েন্টির আগের দিন আজ সংবাদ সম্মেলনে আসার পরও তাঁর কাছে প্রশ্ন, ওই শটটার কি কোনো নাম আছে, থাকলেও শামীম কি তা জানেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে শটটার নাম আমি জানি না। আর এটা আমি সব সময় নেটে অনুশীলন করি। কারণ, যখন ব্যাটিংয়ে নামি, ইমপ্রোভাইজ শট খেলতে খুব পছন্দ করি।’
সোমবার চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ১৮২ রান তাড়ায় ২ ওভার হাতে রেখেই জয় পায় লিটন কুমার দাসের দল। যেখানে বড় কৃতিত্ব শামীম পাটোয়ারীর।
দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে উইকেটের চারপাশে নানা ধরণের শট খেলে ১৩ বলে ৩১ রান করেন শামীম। হৃদয়কে নিয়ে ২১ বলে ৪৯ রান যোগ করে নিশ্চিত করেন দলের জয়। ক্রিজে গিয়ে তৃতীয় বলেই ওই শট খেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। যেটিকে আসলে পুল-হুক-স্কুপের মাঝামাঝি কিছু বলা যায়। চোখের পলকে কিপারের পেছন দিয়ে সেটি ছক্কা হয়ে যায়।
বৈচিত্র্যময় সব শট খেলতে পটু শামীম ব্যাটিংয়ে নামলেই টার্গেট করেন প্রতিপক্ষের ফিল্ডিং সাজানোর ফাঁকফোকরকে, ‘আমার মূল চিন্তাধারা হলো—আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি, তখন ফিল্ডিং সাজানোটা একটু অন্যরকম থাকে। সেই সুযোগটা কাজে লাগানোই আমার লক্ষ্য, আর এটাই আমার সুবিধা।’
অলরাউন্ডার হিসেবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করা শামীমকে বোলিংয়ে খুব একটা দেখা যায় না। ম্যাচে বল হাতে শামীমকে কেন দেখা যায় না—এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘না, তেমন কিছু না। অধিনায়ক আমাকে সবসময়ই বল করার কথা বলেন। শুধু মাঝেসাঝে সালাউদ্দিন স্যার বল করতে দেন না। তবে অধিনায়ক আমাকে সবসময়ই বোলিং করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন।’
দীর্ঘ সময় যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট বাংলাদেশের কাছে এক অমীমাংসিত ধাঁধা হয়ে ছিল, ক্রিকেটের এই সংস্করণেই এখন নিয়মিত সাফল্য আসছে। গত বছর সিরিজ জয় এসেছিল শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ভেসে যাওয়ার পর মিরপুরে এবার শেষ ম্যাচ জিতলেই আরও একটি সিরিজ জয়ের উৎসব করবে বাংলাদেশ।
সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শামীম বলেন, ‘গত বছর আমরা অনেকগুলো টি–টুয়েন্টি সিরিজ জিততে পেরেছি। এটা আসলে আমাদের দলের মধ্যে ভালো একটা বন্ডিং তৈরি করেছে। দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বকাপটা মিস করে ফেলেছি। এটা তো কিছু করার নাই। তা–ও আমরা অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত ছিলাম।’