
শিরোপাহীন মৌসুম আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে টালমাটাল রিয়াল মাদ্রিদ; চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছে সমালোচনার তির, উঠছে পদত্যাগের দাবি। তবে চরম এই সংকটেও দমে যাওয়ার পাত্র নন ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। পদত্যাগের গুঞ্জন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে উল্টো নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করতে ক্লাবে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন ৭৯ বছর বয়সী এই ফুটবল সংগঠক।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় নির্বাচিত হওয়া পেরেজ মঙ্গলবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘দুঃখিত, আমি পদত্যাগ করছি না। বরং আমি নির্বাচনের ডাক দিচ্ছি। নির্বাচক কমিটিকে বোর্ড অফ ডিরেক্টরস নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছি, যেখানে বর্তমান বোর্ড আবারও প্রার্থী হিসেবে লড়বে।‘
স্প্যানিশ মিডিয়ার একটি অংশের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে পেরেজ অভিযোগ করেন, তাঁর এবং রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়ানো গুজব প্রসঙ্গে পেরেজ বলেন, ‘অনেকে রটাচ্ছে আমার নাকি মরণব্যাধি ক্যান্সার হয়েছে। আমি জানাতে চাই, আমার স্বাস্থ্য ঠিক আছে। যদি আমার ক্যান্সার হতো তবে কি আমি বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনাম হতাম না?’
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের অবিশ্বাস্য ভুলে শিরোপার অপেক্ষা বাড়ল রোনালদোর |
|
রোববার বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতে ২-০ গোলে হেরেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। মাঝ মৌসুমে জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করে আলভারো আরবেলোয়াকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। শিরোপাহীন মৌসুম কাটাতে হচ্ছে আবারও।
রিয়ালের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও বিতর্ক কম নয়। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়ে চুয়ামেনির মধ্যে হাতাহাতির খবর সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এই ঘটনায় দুই ফুটবলারকেই ৫ লাখ ইউরো করে জরিমানা করেছে ক্লাব।
বিবাদের খবর ফাঁস হওয়া নিয়ে পেরেজ বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে কথা বলব না। তবে আমার সময়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি এই প্রথম নয়, কিন্তু এবারই প্রথম এটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হলো।‘
২০০৯ সাল থেকে টানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা পেরেজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘যারা নির্বাচন করতে চান, তাদের স্বাগত। আমি সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় লড়ব। কোনো হুমকি আমাকে দমাতে পারবে না, বরং এটি আমাকে আরও শক্তি জোগাচ্ছে।‘
পেরেজ তাঁর সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ‘আমি সবকিছু জিততে চাই। আমার সভাপতিত্বে আমরা ফুটবল ও বাস্কেটবল মিলিয়ে যথাক্রমে ৩৭টি ও ২৯টি শিরোপা জিতেছে।‘
No posts available.
সৌদি প্রো লিগের শিরোপা উৎসবের সব প্রস্তুতিই সেরে ফেলেছিল আল নাসর। কিন্তু ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে গোলকিপার বেন্তোর অবিশ্বাস্য ভুলে শিরোপা জেতার অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের।
মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠে আল হিলালের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আল নাসরকে।
আল-আউয়াল পার্কে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে কিংসলে কোমানের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে আল নাসরকে এগিয়ে দেন মোহামেদ সিমাকান। দ্বিতীয় হাফের ইনজুরি টাইমের একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই লিড বজায় ছিল।
নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের খেলা শেষ হতে বাকি ছিল ১০ সেকেন্ড। এমন সময় আল হিলালের একটি লম্বা থ্রো-ইন ধরতে সামনে এগিয়ে গিয়ে উপরে লাফিয়ে ওঠেন বেন্তো। আশেপাশে কোনো প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় না থাকলেও বলটি তাঁর হাত ফসকে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। এই আত্মঘাতী গোলের পর মাথায় হাত দিয়ে মাঠে বসে পড়েন সতীর্থরা, আর ডাগআউটে হতাশায় ভেঙে পড়েন রোনালদো।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেওয়ার পর আল নাসরের হয়ে এটিই ছিল রোনালদোর প্রথম বড় ট্রফি জেতার সবচেয়ে বড় সুযোগ। ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে যখন তুলে নেওয়া হয়, তখন গ্যালারির দর্শকদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন সিআরসেভেন।
কিন্তু শেষ মুহূর্তের ওই ভুলে সব ওলটপালট হয়ে যায়। চলতি মৌসুমে ৩৩ লিগ ম্যাচে ২৬ গোল করেছেন রোনালদো। সব মিলিয়ে আল নাসরের হয়ে এই পর্তুগিজ মহাতারকার গোল সংখ্যা ১২৭, আর ক্যারিয়ার গোল ৯৭১। ১০০০ গোলের মাইলফলক থেকে এখন মাত্র ২৯ গোল দূরে রোনালদো।
এই ড্রয়ের পর ৩৩ ম্যাচ শেষে ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষেই রয়েছে আল নাসর। এক ম্যাচ কম খেলা আল হিলাল ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। শিরোপার ফয়সালা হবে এখন লিগের শেষ ম্যাচে।
আল হিলাল যদি পরের ম্যাচে নিওম এসসির বিপক্ষে জয় পায়, তবে আল নাসরের সাথে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান নেমে আসবে ২-এ। সেক্ষেত্রে লিগের শেষ ম্যাচে আল নাসরকে শিরোপা নিশ্চিত করতে অবশ্যই দামাক এফসির বিপক্ষে অন্তত ড্র বা জয় পেতে হবে।

বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে সুইডেন। দলে জায়গা পেয়েছেন আর্সেনালের ফরোয়ার্ড ভিক্টর ইয়োকেরেশ এবং লিভারপুল ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার ইসাক। তবে সুইডেনের বিশ্বকাপ দলে জায়গা হলো না টটেনহ্যাম তারকা দেজান কুলুসেভস্কি ও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রুনি বার্দঘজির।
জাতীয় দলে নিয়মিত মুখ না হলেও, ক্লাবের হয়ে অভিষেক মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন বার্দঘজি। যেখানে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ২ গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট। গ্রাহাম পটার ঘোষিত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা না পেয়ে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন তিনি। বার্দঘজি লিখেন, ‘ঘোর বিপদের পথ দিয়ে চললেও আমার মনে কোনো ভয় নেই; কারণ আমি জানি, আপনি (সৃষ্টিকর্তা) আমার পাশেই আছেন।
বার্সা কোচ হানসি ফ্লিকও সাম্প্রতিক সময়ে রুনির বেশ প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রুনির ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জনের মাঝেই ফ্লিক তাঁর সামর্থ্য নিয়ে কথা বলেন, ‘সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, বিশ্বের সেরাদের সাথেই সে খেলছে এবং নিজের খেলায় অনেক উন্নতি করেছে। আমি তাকে বলেছি মৌসুম শেষে আমরা কথা বলব। দলের প্রতিটি সদস্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা সবাইকে অনুপ্রাণিত দেখতে চাই।’
এদিকে লিভারপুলের রেকর্ডধারী সাইনিং আলেকজান্ডার ইসাকের জন্যও মৌসুমটা খুব একটা ভালো যায়নি। চোটের কারণে এ মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে মাত্র ৮টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। আর হাঁটুর চোটের চলতি মৌসুমে মাঠের বাইরে থাকা দেজান কুলুসেভস্কি শেষ পর্যন্ত বাদই পড়লেন।
ইসাককে নিয়ে সুইডেনের কোচ পটার বলেন, ‘আমরা আশা করছি লিভারপুলের হয়ে মৌসুমের শেষ ম্যাচগুলোতে ও মাঠে থাকবে। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো আলেকজান্ডারকে তার সেরা ছন্দে ফিরিয়ে আনা। কারণ সে যদি ফর্মে থাকে, তবে সে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়।’
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের অভিযানটা সুইডেনের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। গ্রুপ টেবিলের তলানিতে থেকে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছিল তারা। তবে নেশনস লিগের পারফরম্যান্স তাদের দেয় ‘দ্বিতীয় জীবন’। প্লে-অফে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।
গ্রুপ ‘এফ’-এ থাকা সুইডেন তাদের প্রথম ম্যাচে ১৪ জুন মেক্সিকোর মন্টেরিতে তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে। এরপরের দুটি ম্যাচ তারা খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে; ২০ জুন হিউস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ২৫ জুন ডালাসে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে পটারের শিষ্যরা।
সুইডেনের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড :
গোলকিপার: ভিক্টর জোহানসন (স্টোক সিটি), ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্ট (এআইকে), জেকব উইডেল জেটারস্ট্রম (ডার্বি কাউন্টি)।
ডিফেন্ডার: ভিক্টর লিন্ডেলফ (অ্যাস্টন ভিলা), ড্যানিয়েল সভেনসন (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), এমিল হোম (জুভেন্টাস), আইজ্যাক হিয়েন (আটালান্টা), গুস্তাফ লেগারবিল্কে (ব্রাগা), হ্যালমার একডাল (বার্নলি), গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসন (লিডস ইউনাইটেড), এরিক স্মিথ (সেন্ট পাউলি), কার্ল স্টারফেল্ট (সেল্টা ভিগো), এলিয়ট স্ট্রাউড (মিয়ালবি)।
মিডফিল্ডার : লুকাস বার্গভাল (টটেনহ্যাম), ইয়াসিন আয়রি (ব্রাইটন), জেস্পার কার্লস্ট্রম (উডিনিস), মাত্তিয়াস সভানবার্গ (উলফসবার্গ), কেন সেমা (পাফোস), বেসফোর্ট জেনেলি (ইউনিয়ন সেন্ট-গিলোইস), তাহা আলি (মালমো)।
ফরোয়ার্ড : ভিক্টর ইউকোরেশ (আর্সেনাল), আলেকজান্ডার ইসাক (লিভারপুল), অ্যান্থনি এলাঙ্গা (নিউক্যাসেল ইউনাইটেড), বেঞ্জামিন নাইগ্রেন (সেল্টিক), গুস্তাফ নিলসন (ক্লাব ব্রুগ), আলেকজান্ডার বার্নহার্ডসন (হলস্টেইন কিল)।

রিয়াল মাদ্রিদ থেকে কিলিয়ান এমবাপেকে বিক্রি করে দেওয়ার দাবিতে যখন অনলাইনে প্রায় ৭ কোটি মানুষ পিটিশনে স্বাক্ষর করেছে, ঠিক তখনই ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর সাক্ষাৎকারে এক অন্যরকম শান্ত ও নিরুদ্বেগ এমবাপেকে দেখা গেল। দেখে মনে হতেই পারে, চারিদিকের এই শোরগোল তাঁকে স্পর্শই করছে না।
এই সাক্ষাৎকার অবশ্য বেশ কদিন আগেই দিয়েছেন এমবাপে। ভ্যানিটি ফেয়ারের স্প্যানিশ সংস্করণের সাম্প্রতিক সংখ্যার প্রচ্ছদ মাতালেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। সবশেষ আন্তর্জাতিক বিরতির সময় নেওয়া এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ফরাসি অধিনায়ক কোনো রাখঢাক না রেখেই কথা বলেছেন ফুটবল ও ফুটবলের বাইরের নানা ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে।
নিজের দেশের হয়ে খেলার প্রবল চাপ থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী খ্যাতি সামলানো—সবকিছুই এই আড্ডায় উঠে এসেছে। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর কাছে ঠিক কতটা অর্থবহ, সেটিও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এমবাপে।
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে উঠে আসে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই মেগা আসর নিয়ে নিজের রোমাঞ্চের কথা জানিয়েছেন তিনি। গত বিশ্বকাপের সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে আবারও বিশ্বসেরার মুকুট জয়ের জন্য কতটা মুখিয়ে আছেন, তারই যেন এক পূর্বাভাস দিলেন এই ফরাসি মহাতারকা।
২০১৮ বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২২-এর ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেও রানার্স-আপ হওয়ার তেতো স্বাদ পাওয়ার পর, এবার অধিনায়ক হিসেবে নিজের দেশকে আবারও বিশ্বজয়ের মুকুট পরাতে চান এমবাপে, ‘নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে আনন্দের আর কিছুই নেই। এর মাধ্যমে আপনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেন।’
দলের ওপর সমর্থকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে এমবাপে আরও যোগ করেন, ‘আমাদের মতো পরিস্থিতিতে থাকাটা বেশ কঠিন, যেখানে সবাই প্রত্যাশা করে আমরা প্রতিনিয়ত অলৌকিক কিছু করে দেখাব। কিন্তু অলৌকিক ঘটনা কেবল মাঠেই ঘটে; মাঠের লড়াইয়ের আগে কল্পনা দিয়ে তো আর ম্যাচ জেতা যায় না।’
দলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে এমবাপে বলেন, ‘আমি এখন দলের অধিনায়ক। পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে আলাদা, দায়িত্বটাও ভিন্ন। তবে আমি এর জন্য প্রস্তুত। দলকে বিশ্বমঞ্চের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে আমি তৈরি। আমার স্বপ্ন—আমরা ট্রফি নিয়ে প্যারিসে ফিরব এবং শঁজলিজে) উৎসব করব।’
নিজের ফুটবলীয় পরিচয় বা লিগ্যাসি নিয়ে ফরাসি মহাতারকা এমবাপের দর্শন বেশ সরল, ‘আমি মনে করি যখন আপনি মাঠে খেলেন, তখন লিগ্যাসি নিয়ে ভাবেন না। আপনার মাথায় থাকে কেবল ভালো পারফর্ম করা আর শিরোপা জেতা। তবে আমরা যদি জিততে পারি, তবে সেটি আমার এবং আমার দেশের ইতিহাসের জন্য হবে এক অবিস্মরণীয় প্রাপ্তি।’
কিশোর বয়স থেকেই বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়া আর গ্রহের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাথলেট হয়ে ওঠার বাস্তবতা কিভাবে দেখেছেন এমবাপে? খ্যাতির এই পাহাড়সম চাপের মাঝেও নিজেকে ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করেন তিনি। খ্যাতির বিড়ম্বনা নিয়ে ফরাসি এই মহাতারকার উপলব্ধি বেশ গভীর, ‘অবশ্যই এটি কঠিন, কারণ আপনার মনে হতে পারে যে আপনি আর নিজের নেই; বরং আপনি এখন সবার সম্পদ। তবে একইসঙ্গে, এই জীবনটা তো আমরাই বেছে নিয়েছি। হয়তো এতটা হবে ভাবিনি, কিন্তু দিনশেষে পছন্দটা আমাদেরই ছিল।’
অগণিত মানুষের ভালোবাসার ভিড়ে নেতিবাচক বিষয় নিয়ে পড়ে থাকতে চান না এমবাপে, ‘আমরা এই পথে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম। যখন কোটি কোটি মানুষ আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা দেখায়, তখন নেতিবাচক কিছু নিয়ে ভাবাটা কঠিন। খুব বেশি অভিযোগ করাটা হবে অকৃতজ্ঞতা।’
খুব অল্প বয়সে তারকাখ্যাতি পাওয়ায় শুরুতে খাপ খাইয়ে নিতে কষ্ট হয়েছিল এমবাপের। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি সবসময় এই পরিস্থিতিগুলো ঠিকঠাক সামলাতে পারিনি। আমি খুব অল্প বয়সেই বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলাম। তখন মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু দেখার মতো পরিপক্বতা বা সহমর্মিতা আমার ছিল না। আমি বুঝতাম না যে একজন মানুষ হয়তো জীবনে একবারই সরাসরি আমার দেখা পাচ্ছেন এবং টেলিভিশনের বাইরে আর কখনোই পাবেন না।’

চরম অস্থিরতার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। সাম্প্রতিক হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং ক্লাবের ভেতরে চলমান নানা নাটকীয় ঘটনার পর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে ‘লস ব্লাঙ্কোসদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের নীরবতা নিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে শুরু করে। তখনই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন পেরেজ। নিজেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান।
রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ আজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘রিয়াল মাদ্রিদ সি. এফ. ঘোষণা করছে যে আজ বিকেল ৬টায়(স্থানীয় সময়) বোর্ড সভায় আলোচনার পর আমাদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ‘সিউদাদ রিয়াল মাদ্রিদ’-এর প্রেস রুমে উপস্থিত হবেন এবং সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।’
সচরাচর রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেখা যায় না। তবে ক্লাবের ভেতর চলমান অস্থিরতা আর মাঠের শোচনীয় ব্যর্থতা এবার ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে জনসমক্ষে আসতে বাধ্য করেছে। জোর গুঞ্জন আছে হোসে মরিনিয়োর প্রত্যাবর্তন কিংবা কোনো খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো নাটকীয় ঘোষণা আসতে পারে।
গত এক সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদের পরিস্থিতি যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা সামাল দিতে এখন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের প্রথম পছন্দ সাবেক বস হোসে মরিনহো। বেনফিকার সঙ্গে মরিনহোর আরও ১২ মাসের চুক্তি থাকলেও, মৌসুম শেষে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য একটি 'এস্কেপ ক্লজ' বা রিলিজ ক্লজ কার্যকর হবে। এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়ে তাঁকে বার্নাব্যুতে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া পেরেজ।
ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়েন চুয়ামেনির মধ্যকার সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মারামারি রিয়াল মাদ্রিদের ভাবমূর্তিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। সেই লড়াইয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ভালভার্দেকে। ক্লাবের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দুই ফুটবলারকেই ৫ লাখ ইউরো করে জরিমানা করা হয়েছে।
মাঠের ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পে বিতর্ক। চোটের কারণে ‘এল ক্লাসিকো’ মিস করলেও, সেই সময়ে মাদ্রিদে থেকে সুস্থ হওয়ার বদলে ছুটি কাটাতে চলে যান এই ফরাসি তারকা। তাঁর এমন অপেশাদার আচরণে সমর্থকরা এতটাই ক্ষুব্ধ যে, এমবাপ্পেকে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য করা একটি অনলাইন পিটিশনে প্রায় ৭ কোটি (৭০ মিলিয়ন) মানুষ স্বাক্ষর করেছেন!
সব মিলিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আকাশে এখন ঘোর অনিশ্চয়তা। এমন সংকটময় মুহূর্তে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের আজকের সংবাদ সম্মেলনটি হতে যাচ্ছে ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এখন সবকিছু মিলিয়ে পেরেজ শেষ পর্যন্ত কী কঠিন সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবলবিশ্ব।

রেকর্ড নাকি তাঁর পেছনে ছুটে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি, চ্যাম্পিয়নস লিগেও সবচেয়ে বেশি গোল তাঁরই; নামের পাশে পাঁচটি ব্যালন ডি’অরসহ অসংখ্য ট্রফি। তবে সব অর্জন পায়ে লুটালেও বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা আজও রেকর্ডের বরপুত্রের কাছে এক 'অধরা স্বপ্ন' হয়েই আছে।
২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে রোনালদোর ‘লাস্ট ডান্স’, যেখানে ক্যারিয়ারের সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার শেষ সুযোগ পাবেন তিনি। এই পরম আরাধ্য শিরোপার পাশাপাশি আরও কিছু বড় রেকর্ডেও নাম লেখাতে পারেন ‘সিআর সেভেন’।
প্রথম রেকর্ডটি ভাঙার জন্য পর্তুগিজ মহাতারকাকে এই আসরে যা করতে হবে তা খুবই সাধারণ—স্রেফ মাঠে পা রাখা। আর সেটি করতে পারলেই তিনি ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়বেন।
রোনালদো ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং এখন ২০২৬—টানা ছয়টি আসরে থাকছেন। রোনালদোর এই দীর্ঘ ক্যারিয়ার কতটা বিস্ময়কর, তা বুঝতে একটু পেছনে তাকালেই পরিষ্কার হবে। ২০০৬ সালে যখন আল নাসরের ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপে অভিষেক হয়, রোনালদিনিও তখনও বার্সেলোনায় রাজত্ব করছেন, ওয়েইন রুনিকে ভাবা হতো ইংল্যান্ডের উদীয়মান তারকা, আর বর্তমান সময়ের সেরা কিলিয়ান এমবাপের বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর! আর এখনও রোনালদো শীর্ষ পর্যায়ে খেলে যাচ্ছেন এবং দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
লিওনেল মেসি বা মেক্সিকোর গোলকিপার ওচোয়া হয়তো রোনালদোর সঙ্গে ৬টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন, কিন্তু দ্বিতীয় যে রেকর্ডটি রোনালদোর সামনে দাঁড়িয়ে আছে, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। তিনি হতে পারেন ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তি গড়বেন।
এখানেই রোনালদো তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন। কারণ মেসি ২০১০ বিশ্বকাপে কোনো গোল করতে পারেননি, ফলে তাঁর পক্ষে টানা ছয়টি আসরে গোল করা আর সম্ভব নয়। কিন্তু রোনালদোর জন্য এই রেকর্ডটি অর্জন করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রোনালদোর সামনে তৃতীয় যে রেকর্ডটি ভাঙার সুযোগ রয়েছে, সেটি তাঁর জন্য সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত এবং আবেগীয়। কারণ ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বকালের সেরা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে পা রাখার আগে রোনালদোর ঝুলিতে রয়েছে ৮টি বিশ্বকাপ গোল। পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড কিংবদন্তি ইউসেবিও-র (৯টি গোল)। অর্থাৎ রেকর্ড স্পর্শ করতে রোনালদোর প্রয়োজন ১টি গোল, আর তা ছাড়িয়ে যেতে প্রয়োজন মাত্র ২টি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার এই রেকর্ডটি ভাঙা কিছুটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয় রোনালদোর জন্য। বর্তমানে রোনালদো ২২টি ম্যাচ নিয়ে তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন। তাঁর সামনে আছেন পাওলো মালদিনি (২৩), মিরোস্লাভ ক্লোসা (২৪), লোথার ম্যাথিউস (২৫) এবং সবার উপরে লিওনেল মেসি (২৬)।
রোনালদোর সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হলেন মেসি। বর্তমানে আর্জেন্টাইন মহাতারকা ২৬ ম্যাচ খেলে শীর্ষে আছেন। যদি এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা পর্তুগালের চেয়ে বেশি দূর যায়, তবে রোনালদোর পক্ষে এই রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব। কিন্তু যদি আর্জেন্টিনা দ্রুত বিদায় নেয় এবং পর্তুগাল ফাইনাল পর্যন্ত যায়, তবেই কেবল রোনালদোর সুযোগ থাকবে মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়ার।
বয়সের জয়গান। পর্তুগাল যদি চ্যাম্পিয়ন হয়, তবে রোনালদো হবেন বিশ্বকাপ জয়ী ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার। বর্তমানে এই রেকর্ডের মালিক ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ডিনো জফ। ১৯৮২ সালে যখন তিনি ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর। অন্যদিকে, বর্তমানে রোনালদোর বয়স ৪১।