
কবে, কখন?
রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা
লা লিগা
সান্তিয়াগো বার্নাব্যু
রাত ১ টা
রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগায় টানা ৪২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত। আর একটা ম্যাচ জিতলেই কার্লো আনচেলত্তির দল ছুঁয়ে ফেলবে লা লিগায় বার্সেলোনার সর্বোচ্চ টানা ৪৩ জয়কে। হান্সি ফ্লিকের দলের সামনে অবশ্য সুযোগ আছে তাদের রেকর্ড অক্ষত রাখার। রিয়ালকে হারিয়ে দিলেই রেকর্ডটা থাকবে তাদের দখলে।
মেসি-রোনলদো যুগ পার হওয়ার এবার আবারও ক্লাসিকোর আগে দেখা মিলছে সেই পুরনো ঝাঁজ। একদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহামদের তারকা নির্ভর দল, অন্যদিকে তারুণ্যে নির্ভর উড়ন্ত বার্সেলোনা। তাতে ফুটবল সমর্থকরা আবারও ক্লাসিকো শুরুর আগে দারুণ এক রোমাঞ্চর সামনে দাঁড়িয়ে।
সেই সাথে দুই দলের পারফরম্যান্স তো আছেই। যে জায়গায় রিয়াল থেকে কিছুটা এগিয়েই আছে বার্সেলোনা। শেষ ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার সুখস্মৃতি নিয়েই বার্নাব্যু-তে মাঠে নামবে বার্সেলোনা। অন্যদিকে রিয়াল নিজেদের শেষ ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে লিখেছে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও তারা শেষ পর্যন্ত ৫-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠে ছেড়েছে। তাতে বার্নাব্যু-তে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
হেড টু হেড:
লা লিগায় এখন পর্যন্ত দু’দল মুখোমুখি হয়েছে ১৮৮ ম্যাচে। যেখানে জয়ের পাল্লাটা ভারী রিয়ালের। ৭৯ ম্যাচই জিতেছে লস ব্লাঙ্কোরা, বিপরীতে বার্সেলোনা জিতেছে ৭৪টিতে। ড্র হয়েছে ৩৫ ম্যাচ।
দলের খবর রিয়াল মাদ্রিদ:
মৌসুমের শুরু থেকেই চোঠের হানায় ভুগছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাসিকোর আগেও সেই চিত্র বদলায়নি। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সাথে শেষ ম্যাচে চোট পেয়েছেন গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ও রদ্রিগো। তাতে দলের অন্যতম দুই সেরা পারফর্মারকে ছাড়াই এল-ক্লাসিকোর জমজমাট লড়াইয়ে নামতে হবে রিয়ালকে। তবে আশার খবর চোট কাটিয়ে দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ব্রাহিম দিয়াজ।
আক্রমণভাগ নিয়ে খুব একটা চিন্তা না থাকলেও রিয়ালের মূল চিন্তা রক্ষণকে ঘিরে। চলতি মৌসুমে প্রতিটা ম্যাচেই যেন রক্ষণ নিয়ে ভুগতে হচ্ছে রিয়ালকে। তারমধ্যে দানি কার্ভাহাল না থাকায় মেকশিফট ডিফেন্ডার হিসেবে লুকাস ভাসকেজকে খেলাতে হচ্ছে। যিনি কিনা শেষ ম্যাচেও করেছেন বেশ কিছু ভুল। তাতে দর্দান্ত ফর্মে থাকা রাফিনিয়ার বিপক্ষে তিনি কেমন করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রদ্রিগো, কোর্তোয়া না থাকায় রিয়ালের একাদশে পরিবর্তন আসবে তা জানা। এই দুই পরিবর্তন ছাড়াও একাদশে আরও একটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা বেশ। লুকা মদ্রিচের জায়গায় দলে ফিরতে পারেন অরেলিয়েঁ চুয়েমেনি। এছাড়া রদ্রিগোর জায়গায় একাদশে সুযোগ মিলতে পারে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার।
রিয়ালের সম্ভাব্য একাদশ:
লুনিন, মিলেতাও, রুডিগার, ভাসকেজ, মেন্দি, চুয়েমেনি, কামাভিঙ্গা, ভালভের্দে, বেলিংহাম, ভিনিসিয়ুস, এমবাপে।
দলের খবর বার্সেলোনা:
আক্রমণভাগ নিয়ে বার্সেলোনারও নেই চিন্তা। লিগে এরই মধ্যে ১০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩১ গোল করে ফেলেছে তারা। রাফিনিয়া, ইয়ামাল কিংবা লেভানদফস্কি সবাই ছুটছেন একই তালে। মিডফিল্ডেও ফ্লিক ফিরিয়ে এনেছেন ভারসাম্য। চোট কাটিয়ে দানি ওলমো, গাভিদের দলে ফেরায় মিডফিল্ডে বিকল্প বেড়েছে ফ্লিকের।
রক্ষণ নিয়ে তাদেরও পড়তে হতে পারে কিছুটা বিপাকে। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে আটকাতে কুন্দেকে দিতে হবে বড় পরীক্ষাই। সেই সাথে রিয়ালের প্রতিআক্রমণের সামনে ফ্লিকের হাই লাইন ডিফেন্স কতটা সফল হয় সেটার দিকেও থাকবে নজর।
শেষ ম্যাচের একাদশ নিয়েই বার্সেলোনার মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি।
বার্সেলোনার সম্ভাব্য একাদশ:
ইনায়িকা পেনা, কুন্দে, কুবরাসি, ইনিগো মার্তিনেজ, বালদে, কাসাদো, পেদ্রি, ফারমিন লোপেজ, ইয়ামাল, রাফিনিয়া, লেভানদফস্কি।
No posts available.
৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:২৩ পিএম

দিনের প্রথম প্রহরে স্কাই স্পোর্টসের এক সাক্ষাৎকারে স্ট্রার্সবুর্গের হেড কোচ লিয়াম রসেনিয়র জানিয়েছিলেন, চেলসির মতো জায়ান্ট ক্লাবে কোচ হিসেবে যোগ দিতে পারলে মন্দ হবে না। এ সুযোগ তিনি কোনোভাবেই হাতছাড়া করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন।
কয়েকঘণ্টা ব্যবধানে ইংলিশ কোচের সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ছয় বছরের চুক্তিতে প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট ক্লাব চেলসির ম্যানেজার হয়েছেন তিনি। স্ট্রার্সবুর্গের সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি ছিল রসেনিয়র।
দ্য ব্লুজ শিবিরে যোগ দেওয়ার পর রসেনিয়র বলেছেন,
‘অসাধারণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় ও স্টাফদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়ে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। মাঠে ও মাঠের বাইরে শক্ত সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করাই লক্ষ্য, যেখানে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং একই লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত হবে।’
রসেনিয়র মনে করেন টিম ওয়ার্ক, ঐক্যবদ্ধতা দিয়েই সফল হওয়া সম্ভব। এটাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।
৪১ বছর বয়সী কোচ বলেছেন,
‘আমি গভীরভাবে উপলব্দি করি যে, টিমওয়ার্ক, ইউনিটি, একে অন্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সেই মূল্যবোধগুলো আমাদের করা প্রতিটি কাজের মূল কেন্দ্রে থাকবে। আর এসবই সফলতার ভিত্তি গড়ে দেয়।’
প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে চেলসি। দ্য ব্লুজদের পয়েন্ট ৩১। ম্যাচ খেলেছে তারা ২০টি। জয় ৮টি এবং ড্র ৭টি। রসেনিয়র আশা, তাঁর দল দ্রুতই ঘুরে দাড়াবে। কারণ হিসেবে, দ্য ব্লুজদের জয়ের প্রতি আখাঙ্ক্ষাকেই এগিয়ে রাখছেন তিনি।
রয়েসিয়র বলেছেন,
‘তাঁরা জয় পেতে উদগ্রীব। আমি আমার সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব। প্রতিটি দিন এবং চেষ্টা করবো হাইস্ট লেভেলে জয় এনে দিতে। আমি খুবই গবির্ত চেলসির মতো ফুটবল ক্লাবের অংশ হতে পেরে।’
বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়ার পাশাপাশি রসেনিয়র এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে একটা আবেগও—পরিবার। ফ্রান্সে থাকার কারণে দীর্ঘদিন সন্তানদের থেকে দূরে ছিলেন। চেলসির দায়িত্ব নেওয়া মানেই নিজের শহরে ফেরা।
রসেনিয়র অকপটেই বলেছেন,
‘এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য এক সুযোগ। চেলসির কোচিং করানোর পাশাপাশি একই সঙ্গে আমি বাড়ি ফিরতে পারব, বাচ্চাদের দেখতে পারব। তাদের ছেড়ে থাকাটা আমার জন্য বড় এক ত্যাগ ছিল।’

এনজো মারেস্কার পদত্যাগের পর স্কাই স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কোচ নিয়োগ দেবে চেলসি। সেক্ষেত্রে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সামনে এসেছিল লিগ ওয়ানের স্ট্রার্সবুর্গ কোচ লিয়াম রসেনিয়র ও প্রিমিয়ার লিগের কোচ অলিভার গ্লাসনারের নাম।
তবে পাঁচদিনের মাথায় ইংলিশ কোচ রসেনিয়রকে ছয় বছরের জন্য ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দ্য ব্লুজ কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ সালে স্টার্সবুর্গে যোগ দেওয়া রসেনিয়র ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্ট্রার্সবুর্গের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। তবে দুইবছরের মাথায় ক্লাব ছেড়ে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে ফিরলেন। এর আগেও তিনি ইংলিশ লিগের দল হাল সিটির কোচ ছিলেন।
রসেনিয়র বেশ সফলতার সঙ্গে দল পরিচাললনা করেছেন। স্ট্রার্সবুর্গের হয়ে ৬৩টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এরমধ্যে জয় এসেছে ৩২টিতে। ড্র ছিল ১৪টিতে।
লিয়াম রসেনিয়র মূলত পরিচিত হয়েছেন আধুনিক ও সাহসী কোচিং দর্শনের জন্য। তিনি পজেশনভিত্তিক আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী, যেখানে দল বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে পেছন থেকে গেম গড়ে তোলে। শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তিনি রক্ষণাত্মক মানসিকতায় যান না; বরং ট্যাকটিক্যাল ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন। ফলের চেয়ে ফুটবলের দর্শন ও খেলার ধরণকে অগ্রাধিকার দেওয়াই তার কোচিং পরিচয়ের মূল বৈশিষ্ট্য।
রসেনিয়রের আরেকটি বড় শক্তি হলো তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলার ক্ষমতা। একাডেমি কিংবা তরুণ ফুটবলারদের ওপর আস্থা রেখে তিনি তাদের আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ তৈরি করেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার যোগাযোগ খোলামেলা ও ইতিবাচক, যা ড্রেসিংরুমে সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নেতৃত্বের গুণ এবং খেলোয়াড়-বান্ধব মানসিকতার কারণে লিয়াম রসেনিয়রকে আধুনিক প্রজন্মের একজন সম্ভাবনাময় কোচ হিসেবে দেখা হয়।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে রুবেন আমোরিম এখন নিকট অতীত। ১৪ মাসেই শেষ হলো তাঁর ওল্ড ট্র্যাফোর্ড অধ্যায়। টপ ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে সম্পর্ক ফাটলের জেরে বরখাস্ত হয়েছেন পর্তুগিজ কোচ।
রবিবার প্রিমিয়ার লিগে লিডস ইউনাইটেড ম্যাচে রেড ডেভিলদের হয়ে সবশেষ ডাগআউটে দাঁড়ান আমোরিম। বুধবার বার্নলির বিপক্ষে লিগের ম্যাচে ডাগআউটে দেখা যাবে ক্লাবের ঘরের ছেলে ড্যারেন ফ্লেচারকে।
রুবেন আমোরিমের বিদায়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁর শিষ্যরা। তবে চুপ রয়েছেন দুইজন। যাঁদের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক ছিল পর্তুগিজ কোচের।
রেড ডেভিল ক্যাপ্টেন ব্রুনো ফার্নান্দেস সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ মিস্টার। আপনি এবং আপনার ট্যাকনিকাল টিমের জন্য শুভকামনা।’
ম্যান ইউনাইটেডের লেফট উইঙ্গার পেট্রিক ডর্গু লিখেছেন, ‘সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ মিস্টার। আপনার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।’
স্ট্রাইকার জশুয়া জিরকজি লিখেছেন, ‘ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা বস।’
ডি লিট আবেগি বার্তা দিয়েছেন। তাঁর সে বার্তা শেয়ার দিয়েছেন হ্যারি মাগুয়ের। চোটে থাকা নেদারল্যান্ডস সেন্টারব্যাক সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ বস। শুভকামনা রইল আপনার ভবিষ্যতের জন্য্।’
বেনজামিন সেসকো লিখেছেন, ‘সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ বস।’
ফরোয়ার্ড আমাদ দিয়ালো লিখেছেন, ‘শুভকামনা কোচ।সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। আশা করি ভালো কিছু হবে।’
আমোরিমের বিদায়ের পর চুপ ছিলেন কোবি মাইনো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। বলে রাখা ভালো, এই দুই ফুটবলারের সঙ্গে আন্তকোন্দল ছিল পর্তুগিজ কোচের। এ ঘটনা প্রায়ই প্রকাশ্যে এসেছে।
কিছুদিন আগে ‘ফ্রি মাইনো’ লেখে স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন মাইনোর ভাই। তার পরিবারের অভিযোগ, মাইনোকে যথেষ্ট সুযোগ দিচ্ছেন না আমোরিম।
তারচেয়েও বড় কথা, আমোরিমের সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ক্লাব ছেড়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড আলেহান্দ্রো গার্নাচো। কোচের বরখাস্তের নিউজ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হলে সেখানে ‘লাইক’ দিতে দেখা যায় তাঁকে।
প্রিমিয়ার লিগে ষষ্ঠ অবস্থানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। টাইটেল রেসে ভালোভাবেই আছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাব। তবে মাঝপথেই ধরলো ফাটল।
আমোরিমের অধীনে ৬৩ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২৪টিতে জয় পেয়েছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাব। শতাংশের হারে ৩৮.৭১। ইউনাইটেডের ইতিহাসে এটি অন্যতম দুর্বল কোচিং রেকর্ড। সবশেষ ১৯৭১ সালে ফ্রাঙ্ক ও’ফ্যারেলের সময় এর চেয়েও খারাপ রেকর্ড দেখা গিয়েছিল, যিনি একইভাবে বরখাস্ত হয়েছিলেন।

প্রথম দুই রাউন্ডের খেলা শেষ হয় গত রোববার। এরপর ছিল দুই দিনের বিরতি। আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের খেলা টার্ফে গড়াবে। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে এক দিনেই ম্যাচ হবে ৫টি।
সকাল ১০টা থেকে শুরু করে দিনের খেলা। নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাবকে। সোয়া ১২টায় বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টিং ক্লাব খেলবে আনসার ভিডিপির বিপক্ষে। দিনের শেষ ম্যাচটি গড়াবে সন্ধ্যা ৭টায়। রাজশাহী স্টার্সের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি।
দুই রাউন্ড শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। সমান পয়েন্ট পেয়ে দুইয়ে বাংলাদেশ আর্মি। দুই ম্যাচে এক জয় এবং এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট পেয়ে তিনে সিরাজ স্মৃতি সংসদ। এক ম্যাচ খেলে জয় পেয়ে ৩ পয়েন্ট রাজশাহী স্টার্সের। সদ্যপুস্করিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশ দুই ম্যাচ খেলে একটি করে জয় পেয়েছে।
প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় পর গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবারের লিগ। বাফুফের ব্যবস্থাপনায় এই লিগ চলছে যেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। প্রথম ম্যাচ থেকে তাদের অব্যবস্থাপনা নিয়ে হয়েছে অনেক কথা। সমালোচনা ওঠে স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট নিয়েও। আগামীকাল থেকে তৃতীয় রাউন্ড শুরুর আগে সেসব ঠিক হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশাই করেন ফুটবলের সমর্থকেরা।

পালমেইরাস থেকে বেশ রাখডাক করেই এন্দ্রিককে উড়িয়ে আনা হয়েছিল লা লিগা জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে। অথচ স্বপ্নের ক্লাবে এসে থিতু হয়ে পড়েন ব্রাজিল স্ট্রাইকার। মাসের পর মাস বেঞ্চেই ঠিকানা হয় ১৯ বছর বয়সী তরুণের। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ধারে ফরাসি ক্লাব লিওঁতে পাঠিয়েছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব।
সোমবার লিওঁতে এন্দ্রিকের আনুষ্ঠানিক পরিচয় পর্ব ছিল। এসময় বর্তমান কোচ পাওলো ফনসেকার সঙ্গে পালমেইরাসে তাঁর সাবেক কোচ আবেল ফেরেইরার তুলনা করেন তিনি। পাশপাশি এন্দ্রিক জানান লিওঁতে পাড়ি দেওয়ার পেছনে তাঁকে উৎসাহ জুগিয়েছেন ব্রাজিলের বর্তমান হেডকোচ কার্লো আনচেলত্তি।
এন্দ্রিক বলেন, ‘রিয়াল ছাড়া এবং নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আমি কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, কি করতে পারি এবং কি করা উচিত।’
সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের হেক্সা মিশনে বেশ ভালোভাবেই আনচেলত্তির রাডারে রয়েছেন এন্দ্রিক। এমনটাই বুঝালেন লিওঁ ফরোয়ার্ড।
এন্দ্রিক বলেছেন, ‘তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন নিজেকে উন্নতির লক্ষ্যে রিয়াল ছাড়ার ব্যাপারে। কোথায় গেলে আমি আরও গেমটাইম পাবো এবং সুখে থাকতে পারবো। সে একজন গ্রেট কোচ।’
লিওঁর হয়ে এখনও মাঠে নামতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হয়নি এন্দ্রিকের। সব ঠিক থাকলে আগামী ১১ জানুয়ারি, লিলের বিপক্ষে ফ্রেঞ্চ কাপের ম্যাচে নতুন ক্লাবের হয়ে অভিষেক হতে পারে তাঁর।