
হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর মাঠে ফিরেই আলোচনায় নেইমার জুনিয়র। রোববার সান্তোসের হয়ে ভেলো ক্লুবের বিপক্ষে ৬–০ গোলের বড় জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে নামেন তিনি। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। তবে নেইমারের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট সান্তোসের কোচ জোয়ান পাবলো।
ভেলোর বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত এ জয়ে কাম্পেওনাতো পাউলিস্তারের কোয়ার্টার–ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সান্তোস। একই সঙ্গে নেইমার জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তার প্রস্তুতিপর্ব ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।
ম্যাচ শেষে পাবলো বলেন,
“আমার মনে হয়, সবারই নেইমারকে দরকার—সান্তোসের, জাতীয় দলেরও। সে ভালো খেললে (ব্রাজিল কোচ) কার্লো আনচেলত্তি খুশি হবেন। সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে জড়িত।”
২০২৩ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ ব্রাজিলের জার্সিতে খেলেছিলেন নেইমার। ক্যারিয়ারের সেরা সময় অনেকটা পেছনে পড়ে থাকলেও, কোচ পাবলোর চোখে এখনও সেরা ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
পাবলো যোগ করেন,
“সে একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়। তার ভেতরে এখনও তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ম্যাচে অল্প সময় খেলুক কিংবা অনুশীলনে—সব জায়গায় সে লড়াই করতে চায়, জিততে চায়। এই মানসিকতাই তাকে অনুপ্রাণিত করে।”
গত কয়েক বছরে একের পর এক চোটে নেইমার। চোটের ধাক্কায় ফর্ম হারিয়ে ইউরোপ ও সৌদি ফুটবল অধ্যায় শেষ করে ফিরতে হয়েছে সান্তোসে। সব কিছুর মাঝেও আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন এখনও অটুট রেখেছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।
No posts available.

শনির দশা পেছন ছাড়ছেই না নেইমারের। কোনো কিছুই যেন পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে না সান্তোসের ‘রাজপুত্রের’। চোট তো তাঁর পুরোনো শত্রুই। এবার এর সঙ্গে যোগ হলো নিষেধাজ্ঞার শঙ্কাও। তাও আবার এক দুই ম্যাচ নয়, বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার।
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তির শর্ত অনুযায়ী শতভাগ ফিট থাকলেই মিলবে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে পরম আরাধ্য জায়গা। সবশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া নেইমার সান্তোসের হয়ে গতকাল মাঠে নামেন। তবে এই ম্যাচেই বাধে বিপত্তি। সিরি‘আ’তে রেমের বিপক্ষে ম্যাচের পর রেফারির তীব্র সমালোচনা করেন সান্তোসের ফরোয়ার্ড। আর রেফারিকে নিয়ে মন্তব্য করেই এখন বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে আছেন নেইমার।
ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে নেইমার বলেন,
‘সবসময় একই ঘটনা ঘটে। এটা অন্যায্য। ম্যাচের শেষ দিকে আমাকে পেছন থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করা হয়। এটা প্রথমবার নয়—তৃতীয় বা চতুর্থবার এমনটা হয়েছে। তাই আমি রেফারির কাছে প্রতিবাদ জানাতে যাই। আমি তাকে বলি, ‘তুমি কি পাগল?’
🇧🇷 Neymar lost his cool after a provocation from Diego Hernández and responded poorly earning a yellow card that will now force him to sit out the highly anticipated clash against Flamengo. pic.twitter.com/ka1RrMrvMU
— Speedline (@speedlinexx) April 3, 2026
এখানেই থামেননি নেইমার। তিনি যোগ করেন,
‘ওই রেফারি সবসময় এমনই। আজও ভিন্ন কিছু হয়নি। তার সঙ্গে কথাই বলা যায় না—পেছন ঘুরে উপেক্ষা করে। সে এমন একজন, যে খেলাটা নিজের মতো চালাতে চায়। খেলোয়াড়দের প্রতি তার সম্মান নেই। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, প্রতিপক্ষের সঙ্গেও একই আচরণ করে। সে কথা বলতে চায় না। এসব বদলানো দরকার। খেলোয়াড়রা প্রশ্ন করতে পারে, প্রতিবাদ জানাতে পারে—এটাই ফুটবল। রেফারিদের সেটা সামলাতে জানা উচিত। কিন্তু তার এই আচরণ খুবই অপ্রীতিকর ও অসম্মানজনক।’
কার্লো আনচেলত্তি যদি আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেন, তাহলে নেইমারের হাতে ১৪ ম্যাচ বাকি থাকার কথা। সেই হিসেবে ঘরোয়া লিগে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ ছিল সান্তোসের হয়ে মাঠে নেমে ভালো পারফর্ম করে। চূড়ান্ত সেই মিশনে এক ম্যাচ খেলতে না খেলতেই কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় পড়েন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। আর তাতেই ম্যাচ শেষে সব রাগ উগড়ে দেন রেফারির ওপর।
নেইমারের এই মন্তব্য হয়তো কেবল অসন্তোষ প্রকাশের মধ্যে থেমে থাকার সম্ভাবনা কম। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে প্রকাশ্যে রেফারির সমালোচনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। অতীতের এমন ঘটনায় খেলোয়াড়রা ১২ ম্যাচ পর্যন্ত নিষিদ্ধও হয়েছেন। যদি একই মাত্রার শৃঙ্খলাবিধি নেইমারের ওপরও প্রয়োগ করা হয়, তাহলে নেইমারের বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে।

শক্তিমত্তায় বাংলাদেশের চেয়ে চীন কতটা এগিয়ে সেটি না বললেও চলে। তারপরও প্রথমার্ধে মোটামুটি লড়াইয়ের চেষ্টা করেছে লাল সবুজের মেয়েরা। এ সময় বল দখলেও অর্পিতারা ছিলেন প্রতিপক্ষের প্রায় কাছাকাছি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আচমকা গোলে পিছিয়ে পড়ায় লড়াইয়ের শক্তি হারায় বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেননি অর্পিতা বিশ্বাসরা।
শনিবার থাইল্যান্ডের ননথাবুড়ি স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের খেলায় চীনকে মোকাবিলা করে বাংলাদেশ। যেখানে ২-০ গোলের পরাজয় মেনে মাঠ ছাড়ে পিটার বাটলারের দল। দুটি গোলই হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম খেলায় স্বাগতিক থাইল্যান্ডের কাছে ২-৩ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। আর প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারানো চীন পরপর দুটি জয় তুলে নিলো।
এদিন ৩৩ মিনিটে মুনকি আক্তার মাঠে নামেন শান্তি মার্ডির জায়গায়। ৪৩ মিনিটে পরিষ্কার গোল ঠেকিয়ে দেন মিলি। বাংলাদেশের রক্ষণচিড় ভেদ করে চীনের এক ফরোয়ার্ড বল নিয়ে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে ওয়ান-ওয়ান পরিস্থিতিতে অবিচল ছিলেন মিলি। এই মিনিটেই জি জংমির ক্রসে লু জিয়াউয়ের হেড মাটিতে পরে জাল খুঁজে নিচ্ছিল। সেটি লাফিয়ে জালের ওপর দিয়ে কর্নার করে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার।
বিরতির পরপরই এগিয়ে যায় চীন। ৪৭ মিনিটে উমেহ্লা আর প্রীতিকে কাটিয়ে পোস্টের কাছ থেকে জিং লুজিয়ার কাটব্যাকে গোল করেন হু চিংগুয়ে। ৮২ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে লিড দ্বিগুণ করেন চীনের ওয়াং আইফাং। বক্সের অনেকটা সামনে ফ্রি কিকের সামনে রক্ষণ দেয়াল তৈরি করে বাংলাদেশ। চীনা ফরোয়ার্ড শট নিলে বলের লাইন থেকে শরীর সরিয়ে ফেলেন সুরমা। দূরের পোস্ট দিয়ে বল খুঁজে নেয় জাল। ডানদিকে ঝাপিয়েও ঠেকাতে পারেননি মিলি।
পরের মিনিটে ভুল করেন আফঈদা খন্দকার। চীনের বদলি খেলোয়াড় লু জিয়াকির ক্রসে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ফাকায় তাঁর পায়েই তুলে দেন বাংলাদেশ ডিফেন্ডার। যদিও গোলমুখের সামনে থেকে অবিশ্বাস্য মিসে গোল পায়নি চীন। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে এবার দারুণ ব্লকে চীনের ব্যবধান বাড়াতে দেননি আফঈদা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চীন।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ৭ এপ্রিল, ভিয়েতনামের বিপক্ষে। দুই ম্যাচে হারলেও শেষ আটে উঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। শেষ খেলায় ভিয়েতনামকে হারাতে পারলে তিন গ্রুপের মধ্যে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যেতে পারে বাংলাদেশ।

আর বাকি ৬৮টি দিন। বিশ্বকাপের জ্বরে কাঁপতে প্রস্তুত বিশ্ব। সমর্থক, বিশ্লেষক আর ফুটবলবোদ্ধারা এরমধ্যেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তর্ক-বিতর্ক-আলোচনায়। ৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কে? শক্তিমত্তা, পরিসংখ্যান কিংবা অতীত ইতিহাস বিবেচনায় কাকে এগিয়ে রাখা যায়?
সুপারকম্পিউটার দিয়ে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নাম জানিয়ে দিল জনপ্রিয় পরিসংখ্যানভিত্তিক ব্রিটিশ বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’। প্রযুক্তির হিসাব বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে এগিয়ে থাকবে স্পেন।
মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ড্র করে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে কদিন আগেই ফ্রান্সের কাছে রাজত্ব হারায় স্পেন। তবে এবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে স্পেনকেই ফেবারিট বলছে ‘অপটা’। একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ১৫.৮৩ শতাংশ।
আরও পড়ুন
| ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পাচ্ছে সাফজয়ী মিঠু-সুলিভানরা |
|
স্পেনের পরই আছে ফ্রান্স। ২০১৮ বিশ্বকাপের পর র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর উঠে এসেছে কিলিয়ান এমবাপেরা। দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা ১২.৭৭ শতাংশ। তাতে বিশ্বকাপে তাদের পারফরম্যান্সটা হবে এমন—চ্যাম্পিয়ন-রানার্স আপ-চ্যাম্পিয়ন।
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে শীর্ষে নেই। ফ্রান্সের পর রয়েছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা—দুই দলেরই সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। শিরোপা জেতার দৌড়ে শীর্ষ পাঁচে রাখা হয়েছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। ইতিহাসে একবারও এই ট্রফির স্বাদ না পাওয়া দলটির প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬.৯২ শতাংশ। ব্রাজিল ও জার্মানি তালিকার ছয় ও সাত নম্বরে অবস্থান করছে।
এবারের আসরে নতুন নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপপর্বে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্য থেকেও সেরা আটটি দল শেষ ষোলোতে জায়গা পাবে। ফলে বড় কোনো দলের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া কঠিনই। তবুও তৃতীয় হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠার লড়াইটা হবে বেশ হাড্ডাহাড্ডি।
অপ্টার ভবিষ্যদ্বাণীঅনুযায়ী, তৃতীয় স্থান থেকে শেষ ষোলোতে উঠতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, আইভরি কোস্ট, সুইডেন, ঘানা ও কাতার।
১১ জুন মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১০৪ ম্যাচের মহাযজ্ঞ।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপ থেকে আজ দেশে ফিরে ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন রোনান সুলিভানরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু।
চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাতিরঝিলে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হবে । বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যুবাদের একটি বিশেষ ছাদখোলা বাসে করে শহরে নিয়ে আসা হবে।
আরও পড়ুন
| এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বিকেলে লিভারপুলের মুখোমুখি ম্যানসিটি |
|
শুক্রবার রাত ৯ টায় শুরু হওয়া ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় গোলের দেখা পায়নি কোন দল। এরপর সরাসরি ট্রাইবেকারে খেলা গড়ালে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে মার্ক কক্সের দল। শিরোপা জয়ের পর আজ সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশে পৌঁছাবে সাফজয়ী ফুটবল দল।
চ্যাম্পিয়নদের ছাদখোলা বাসে সংবার্ধনা দেওয়ার কথা জানিয়ে বাফুফে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান বাবু বলেন, ‘বিজয়ী দল দেশে আসলে আমাদের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বাফুফে সভাপতি, সম্মানিত সভাপতি এবং ফেডারেশনের সকল কর্মকর্তারা এয়ারপোর্টে তাদেরকে রিসিভ করবেন। সেখান থেকে সরাসরি গাড়ি চলে যাবে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে। তাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে আজকে রাত ৮টার সময়।’
এ নিয়ে পরপর দুবার অনূর্ধ্ব-২০ সাফের শিরোপা ঘরে তুলল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল লাল সবুজের তরুণেরা। মিডিয়া কমিটির পক্ষ থেকে শিরোপাজয়ী দলকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা জানান বাবু।

অবশেষে বাংলাদেশ ফুটবলে শেষ হচ্ছে হাভিয়ের কাবরেরা অধ্যায়। ৩০ এপ্রিল স্প্যানিশ কোচের সঙ্গে শেষ হবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চুক্তি। নতুন করে তাঁর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করছে না দেশের ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা। জাতীয় দল কমিটির আজকের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশের খেলা সর্বশেষ ম্যাচ। এখন থেকে নতুন কোচের জন্য সিভি গ্রহণ করবে বাফুফে। নতুন কোচ খুঁজে পাওয়া গেলে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে ১মে থেকে। সেজন্য সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করবে ফেডারেশন। যেখানে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ পাবেন কাবরেরাও। আজ মিটিং শেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমরা নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছি। আমরা নতুন কোচের ইন্টারভিউ নেব। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে কাবরেরাও ইন্টারভিউ দিতে পারবে।’
আরও পড়ুন
| সন্ধ্যায় দেশে আসছে সাফজয়ী দল |
|
সিঙ্গাপুর সফর শেষ করে দলের সঙ্গে ঢাকায় ফিরলেও গত শুক্রবার স্পেনে ফিরে গেছেন কাবরেরা। ৩০ এপ্রিল তার চুক্তির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি ছুটিতে থাকছেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশের কোচ হন কাবরেরা। এরপর কেটে গেছে চার বছর। ২০২৩ সালে বাংলাদেশকে সাফের সেমিফাইনালে তুলে অনেক আশা জাগান তিনি। কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় অধপতন। হামজা চৌধুরী, সমিত সোমের মতো ফুটবলাররা আসায় তাঁর বিদায়ের ডাক দিতে থাকেন সমর্থকেরা। গত বছরের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেলেও তাঁকে নিয়ে ক্ষোভ কমেনি দেশের ফুটবল সমর্থকদের। স্প্যানিশ এই কোচের অধীনে ৩৯ ম্যাচে ১০ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সমান ১০ ম্যাচে ড্র করলেও হেরেছে ১৯ ম্যাচে।
এবার নতুন কোচ নিয়োগ দেওয়া হবে ২ বছরের জন্য। এ বছর হওয়ার কথা রয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। সেটি সামনে রেখেই নতুন কোচের সন্ধানে বাফুফে। এছাড়া জুন উইন্ডোতে থাইল্যান্ড, মিয়ানমারের মতো বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার চেষ্টা বাফুফের। তার আগেই নতুন কোচ নিয়োগের কাজটি সেরে ফেলতে চায় ফেডারেশন। কিন্তু নতুন কোচের সিভির মধ্যে থাকতে পারে কাবরেরার সিভিও। সেক্ষেত্রে তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।
এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হামজা-সমিত-ফাহামেদুলদের মতো খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও কোয়ালিফাই করতে পারেনি বাংলাদেশ। অনেকেই এজন্য দুষছেন কাবরেরাকে। তাঁর সিলেকশন, দল নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্টি অনেকের মধ্যে। তাকে নিয়ে আজকের সভায় কোনো মূল্যায়ন হয়েছে কি না জানতে চাইলে আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাপারটা হয়েছে যে, যেহেতু আরও একটা মাস তার সময় রয়েছে...।’ এখানে বলা ভালো যে এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোনো ম্যাচ নেই।