৫ এপ্রিল ২০২৫, ৬:৪৫ পিএম
বায়ার্ন মিউনিখেই কাটিয়ে দিয়েছেন ক্যারিয়ারের পুরোটা। ইচ্চা ছিল এখানেই ক্লাব ক্যারিয়ারের ইতি টানার। তবে চলতি মৌসুম শেষেই বুন্দেসলিগার ক্লাবটি ছাড়তে হচ্ছে টমাস মুলারকে। বিদায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড আক্ষেপ নিয়ে করলেন অভিযোগ। মুলারের দাবি, তিনি চাইলেও বায়ার্ন তার সাথে চুক্তি নবায়নের রাজি হয়নি।
চলতি মৌসুমে শেষেই বায়ার্নের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে মুলারের। সেটা নবায়ন না হওয়ায় ১৭ বছর বায়ার্নের জার্সিতে খেলার পর আগামী গ্রীষ্মে ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাবেন জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ী এই ফুটবলার। সম্প্রতি বিল্ড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে ক্লাবের সাথে বৈঠকের সময় মুলার জানিয়েছিলেন আরও এক মৌসুম থালার ইচ্ছার কথা। তবে তার প্রস্তাব নাকচ করা হয়।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে মুলার জানিয়েছেন, তার ইচ্ছাকে সম্মান জানায়নি বায়ার্ন।
“যত কম মিনিটই খেলি না কেন, এতগুলো বছর পরও, আমি এখনও ছেলেদের সাথে মাঠে থাকা এবং এই দলের জন্য একসাথে শিরোপার জন্য লড়াই করাটা উপভোগ করি। আমি খুব সহজেই পরের বছরও এই ভূমিকা পালন করার কথা চিন্তা করতে পারতাম। তবে ক্লাব সবকিছু ভেবে পরবর্তী মৌসুমের জন্য আমার সাথে নতুন চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হলেও ক্লাবের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।”
একটা লম্বা সময় ধরে বায়ার্নের একাদশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে মুলার গত দুই মৌসুম ধরেই দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। একাদশে জায়গা হারিয়ে অনেকটাই হয়ে গেছেন স্কোয়াড সদস্য। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলছেন বদলি হিসেবেই।
মুলারের চুক্তি নবায়ন না করা প্রসঙ্গে বায়ার্ন জানিয়েছে, ক্লাবে তার ক্যারিয়ারের অবসানের সিদ্ধান্ত যৌথ সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছিল। সাথে এটাও বলা হয়, বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা ফুটবলার আগামী জুন-জুলাই মাসে হতে যাওয়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে বায়ার্নের হয়ে খেলবেন।
গত কয়েক মাস ধরে মুলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। তবে দুই পক্ষই থাকে নীরব। জার্মান ফরোয়ার্ড শীঘ্রই ফুটবল থেকে অবসর নেবেন, এমন কোনো আভাস তিনি না দিলেও বায়ার্নের ইচ্ছা অবসরের পর অন্য ভূমিকায় মুলারকে ক্লাবে ফেরানোর।
No posts available.

ফ্রেঞ্চ লিগ আঁ-তে গতকাল নঁতে ও তুলুজের ম্যাচ শুরুর মাত্র ২২ মিনিটের মাথায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ঘরের মাঠের ক্লাবের উগ্র সমর্থকরা (আল্ট্রাস) গ্যালারি থেকে মাঠে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ার পাশাপাশি একের পর এক ফ্লেয়ার (আতশবাজি) ছুড়তে থাকলে এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুরো মৌসুমজুড়ে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণেই মূলত ক্ষোভ উগরে দেন স্বাগতিক নঁতের সমর্থকরা। চলতি মৌসুমে ৩৩ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৫টিতে জয় পাওয়ায় ইতিমধ্যেই লিগ ওয়ানের শীর্ষ স্তরের ফুটবল থেকে অবনমন () নিশ্চিত হয়ে গেছে নঁতের। ২০১৩ সালে লিগ ওয়ানে ফেরার পর এই প্রথম ক্লাবটিকে অবনমনের তিক্ত স্বাদ পেতে হলো।
ম্যাচের আগেই অবশ্য নঁতের রেলিগেশন নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা লিগের শেষ দিনটিকে বেছে নিয়েছিলেন ক্লাবের ওপর নিজেদের চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশের মঞ্চ হিসেবে। ম্যাচের স্কোরলাইন যখন গোলশূন্য, ঠিক তখনই 'স্তাদ দে লা বোজোয়ার'-এর গ্যালারিতে নঁতের সমর্থকেরা ফ্লেয়ার জ্বালাতে শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরই শত শত আল্ট্রাস সমর্থক নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে হুড়মুড় করে মাঠের দিকে ধেয়ে আসেন।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগের দিন মারাত্মক ভুলের শিকার নেইমার |
|
স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা টপকে বিক্ষোভকারীদের অনেকেই মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়লে দুই দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের সুরক্ষায় দ্রুত দৌড়ে টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে চলে যান। এমন পরিস্থিতিতে ফরাসি পুলিশ দ্রুত মাঠে নেমে টানেলের মুখ আটকে দেয়, যাতে কোনো খেলোয়াড় বা স্টাফের ক্ষতি না হতে পারে।
মাঠের এই রণক্ষেত্রে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়, যখন নঁতের ম্যানেজার ভাহিদ হালিলহদজিচকে ক্ষুব্ধ আল্ট্রাসদের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার সময় জোর করে টেনে ধরে রাখা হয়েছিল। নিজের চোখের সামনে ক্লাবের এমন ধ্বংসাত্মক রূপ দেখে এই বসনিয়ান কোচ তখন প্রায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। গত মার্চে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল ৭৪ বছর বয়সী এই কোচের ডাগআউটে শেষ ম্যাচ।
খেলোয়াড়ি জীবনে নঁতের হয়ে ৫ বছর কাটিয়েছিলেন হালিলহদজিচ; এর আগে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দলটির ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি। প্রিয় ক্লাবকে রেলিগেশনের হাত থেকে বাঁচাতে অবসর ভেঙে আবারও ডাগআউটে ফিরেছিলেন এই বর্ষীয়ান কোচ। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না; টেবিলের ১৭ নম্বরে থেকে লিগ শেষ করায় নঁতের ভাগ্য বদলাতে পারেননি তিনি।
মাঠে দর্শকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য আল্ট্রাসদের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ম্যাচ প্রথমবার স্থগিত হওয়ার প্রায় ৪০ মিনিট পর রেফারি স্টেফানি ফ্র্যাপার্ট শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণেই ম্যাচটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নঁত ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘কোচ ভাহিদের বিদায়ী ম্যাচ এবং নিজেদের আত্মসম্মানের স্বার্থে 'ইয়েলো অ্যান্ড গ্রিন্স'রা (নঁত) আজ রাতে বোজোয়ার স্টেডিয়ামে তুলুজ এফসির বিপক্ষে জয় দিয়ে মৌসুম শেষ করতে চেয়েছিল।’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে আকাশ ছোঁয়ার অপেক্ষায় একঝাঁক তরুণ তুর্কি |
|
বিবৃতিতে ক্লাবটি আরও যোগ করে, ‘তবে গ্যালারিতে আতশবাজি ফোটানো এবং ২২ মিনিটে (০-০ স্কোরলাইনে) মাঠে দর্শকদের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের কারণে, প্রশাসন এবং ম্যাচ রেফারি প্যানেল খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়।’
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি। তিনি লিখেছেন, ‘আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশপাশি খেলোয়াড় এবং যেসব সাধারণ সমর্থক মাঠে খেলা উপভোগ করতে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।’
চলতি মাসের শুরুর দিকেই লঁসের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে নঁতের লিগ টু-তে (দ্বিতীয় স্তর) নেমে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। অথচ মাত্র চার বছর আগেই নিজেদের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো ‘কোপ দে ফ্রান্স’ (ফরাসি কাপ) জিতেছিল এই ক্লাবটি, এমনকি তার পরের মৌসুমেও তারা এই টুর্নামেন্টের রানার্স-আপ হয়েছিল। সেই সোনালী অতীত ভুলে চার বছরের মাথায় ক্লাবটির এমন পতন সমর্থকেরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।

বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বমঞ্চে নতুন নক্ষত্রের উদয়। যেখানে তরুণ প্রতিভারা রাতারাতি রূপ নেন বৈশ্বিক আইকনে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরুর আগে ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন এমন কিছু তরুণ তুর্কির দিকে, যারা আসর কাঁপাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। পেলের উত্থান থেকে শুরু করে কিলিয়ান এমবাপের বিশ্বজয়—ফুটবলের এই মঞ্চ বরাবরই অচেনা তরুণদের কিংবদন্তি বানানোর কারিগর। এবারও বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াতে এবং উত্তর আমেরিকার সবুজ গালিচায় নিজেদের নাম ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখার স্বপ্নে বিভোর একঝাঁক ‘ওয়ান্ডারকিড’।
নিকো পাজ: আর্জেন্টিনার নতুন ‘ম্যাজিশিয়ান’
সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার পাবলো পাজের ছেলে নিকো পাজ। স্পেনে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও পাজ বেছে নিয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি। রিয়াল মাদ্রিদ একাডেমির এই চমৎকার সৃষ্টি গত দুই বছর ধরে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোতে সেস ফ্যাব্রিগাসের অধীনে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মাত্র ২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের পারফরম্যান্স দেখে রিয়াল মাদ্রিদ ইতিমধ্যেই তাদের 'বাইব্যাক ক্লজ' ব্যবহার করে তাঁকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুর্দান্ত টেকনিক্যাল স্কিল আর দূরপাল্লার শটে গোল করার সহজাত ক্ষমতার কারণে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজর এখন পাজের ওপর। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি যখন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ওয়ার্কলোড বা খেলার সময় ম্যানেজ করার কথা ভাবছেন, তখন মেসির সেই শূন্যস্থান পূরণের কঠিন কিন্তু রোমাঞ্চকর দায়িত্বটা পড়তে পারে পাজের কাঁধেই।
দেসিরে দুয়ে: ফরাসি আক্রমণের নতুন অস্ত্র
মাত্র ২০ বছর বয়সী দেসিরে দুয়ে ইতিমধ্যেই ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। গত বছর প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) জার্সিতে ইন্টার মিলানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জোড়া গোলসহ জিতেছিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের কোনো বড় টুর্নামেন্টে এটাই হতে যাচ্ছে ফরাসি এই তরুণের প্রথম অভিজ্ঞতা।
কিলিয়ান এমবাপে, ব্যালন ডি'অর জয়ী উসমান দেম্বেলে কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসের মতো তারকাখচিত ফরাসি আক্রমণভাগে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়াটা দুয়ের জন্য একরকম যুদ্ধই বলা চলে। তবে কোচ দিদিয়ের দেশমকে নিজের সামর্থ্যের জানান দিতে ভুল করেননি তিনি। গত মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানের জয়ের রাতে জোড়া গোল করে দলে নিজের জোরালো দাবি জানিয়ে রেখেছেন এই পিএসজি তারকা।
বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনার নিকো পাজ কিংবা মুকুট পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে—এই দুই তরুণের কেউ একজন যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান তারকা হয়ে যান, তবে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না!
নিকো ও’রিলি: গার্দিওলার নতুন বাজি, ইংল্যান্ডের সমাধান
মাত্র ২১ বছর বয়সেই পেপ গার্দিওলার ভরসার পাত্র হয়ে ম্যানচেস্টার সিটির নিয়মিত মুখ বনে গেছেন নিকো ও’রিলি। গত মার্চে আর্সেনালকে হারিয়ে সিটির লিগ কাপ জয়ের ফাইনালে লেফট-ব্যাক পজিশন থেকে জোড়া গোল করেছিলেন এই তরুণ। অথচ ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ছিলেন একজন গোলস্কোরিং মিডফিল্ডার। ও’রিলির উচ্চতা, গতি এবং স্কিলের দারুণ মিশ্রণকে রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছেন গার্দিওলা। আর সেটাই হয়তো ইংল্যান্ডের নতুন কোচ টমাস টুখেলের একটা বড় সমস্যারও সমাধান করে দিয়েছেন এই মাস্টারমাইন্ড।
২০২৪ ইউরোতে অধিকাংশ ম্যাচেই ফিট লেফট-ব্যাক ছাড়া খেলতে হয়েছিল থ্রি-লায়ন্সদের, যার বড় কারণ ছিল লুক শর চোট। ও’রিলির এই উত্থানে ইংল্যান্ড এখন স্বস্তিতে। ও’রিলিকে নিয়ে গার্দিওলার মুগ্ধতাও কম নয়, ‘কী দারুণ একজন খেলোয়াড়! সে অবিশ্বাস্য এক ধাপ ওপরে উঠেছে। প্রচুর ম্যাচ খেলছে ঠিকই, তবে সে এটার যোগ্য।’
এন্ড্রিক: ফ্রান্সের মাটিতে পুনর্জন্ম, ব্রাজিলের রোমারিও হওয়ার স্বপ্ন
মাত্র ১৬ বছর বয়সে পালমেইরাসের হয়ে অভিষেক, আর ১৮ বছর ছোঁয়ার আগেই যাঁকে দলে ভিড়িয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ—সেই এন্ড্রিকের বিশ্বকাপ রাঙানোর স্বপ্নটা নতুন করে ডানা মেলেছে ফরাসি ক্লাব লিওঁতে ধারে খেলতে গিয়ে। দুই বছর আগে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে রোনালদো নাজারিওর পর ব্রাজিলের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন।
রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর অবশ্য কিলিয়ান এমবাপে এবং ভিনিসিউস জুনিয়রের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যান ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক। অবশেষে গত জানুয়ারিতে ফ্রান্সে পাড়ি জমানোর পর থেকেই আবার নিজের চেনা ছন্দ ফিরে পেয়েছেন তিনি। একটু খাটো অথচ শক্তিশালী গড়নের কারণে ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি রোমারিওর সাথে প্রায়ই তুলনা করা হয় এন্ড্রিকের। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ৫ গোল করে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন রোমারিও। এবার ২০২৬ সালেও সেই মার্কিন মুলুকেই রোমারিওর সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চাইবেন এই তরুণ সেলেসাও তারকা।
পেদ্রি: স্পেনের মাঝমাঠের ‘মেট্রোনম’, জাভির যোগ্য উত্তরসূরি
স্প্যানিশ ফুটবলের চিরচেনা পাসিং ফুটবলের নতুন ‘মেট্রোনম’ বা তালরক্ষক বলা যায় পেদ্রিকে। বার্সেলোনা এবং স্পেন জাতীয় দল—উভয় জায়গাতেই কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই মিডফিল্ডার। ২০২০ ইউরোতে মাত্র ১৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্পটলাইটে এসেছিলেন মাঝমাঠের জাদুকর। এরপর দুই বছর আগে, স্পেনের ইউরোপ জয়ের মিশনেও তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। যদিও চোটের কারণে সেবার সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে মাঠে নামা হয়নি তাঁর।
বার্সেলোনার হয়ে অবশ্য কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে নিজের চোটের সমস্যাকে পেছনে ফেলেছেন পেদ্রি। গত দুই মৌসুমে কাতালানদের টানা দুটি লা লিগা শিরোপা জয়ের পেছনে মাঝমাঠে মূল তারকার ভূমিকা পালন করেছেন এই স্প্যানিশ জিনিয়াস। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের মাঝমাঠের পুরো নিয়ন্ত্রণটা যে তাঁর পায়েই থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

লা লিগায় ঘরের মাঠে শতভাগ
জয়ের ইতিহাস গড়ার রাতে চোখের জলে স্পোটিফাই ক্যাম্প ন্যু-কে বিদায় জানালেন রবার্ট
লেভানডফস্কি। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে পোলিশ এই মহাতারকাকে
দেওয়া হয় আবেগঘন এক বিদায় সংবর্ধনা। কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে ঘরের মাঠে নিজের শেষ
ম্যাচটি খেলে ডাগআউটে ফেরার সময় অশ্রুসজল লেভানডফস্কি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেন,
স্টেডিয়ামকে বিদায় জানালেও বার্সেলোনাকে তিনি চিরকাল নিজের হৃদয়ে বহন করবেন।
ঘরের মাঠকে দূর্গ বানিয়ে
এই ম্যাচে লিগার ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি গড়ল বার্সেলোনা। স্প্যানিশ এই লিগে প্রথম
দল হিসেবে এক মৌসুমে ঘরের মাঠের সবকটি ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ল কাতালান জায়ান্টরা। এর
আগে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ ৩৪ ম্যাচের লিগে ঘরের মাঠে সব ম্যাচ জিতলেও, ৩৮ ম্যাচের
পুরো মৌসুমে শতভাগ জয়ের রেকর্ড এবারই প্রথম দেখল স্প্যানিশ ফুটবল।
মৌসুমের এই ঐতিহাসিক শেষ
হোম ম্যাচের পুরো আলোটাই কেড়ে নিয়েছিলেন লেভানডফস্কি। ক্যাম্প ন্যু-তে নিজের শেষ ম্যাচ
খেলতে নামা এই পোলিশ ফরোয়ার্ডের হাতে ছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে
যখন তাঁকে তুলে নেওয়া হয়, তখন নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি, চোখ ফেটে জল আসে
এই মহাতারকার। ডাগআউটে যাওয়ার পরও বারবার বাইরে বেরিয়ে এসে সমর্থকদের হাত নেড়ে বিদায়
জানান।
ম্যাচ শেষে বার্সার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লেভানডফস্কি বলেন,
‘এই ক্লাবের হয়ে খেলতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। গত চার বছরে আমরা দারুণ কিছু মুহূর্ত পার করেছি। আমি এই স্টেডিয়ামকে বিদায় জানাচ্ছি ঠিকই, তবে বার্সেলোনাকে চিরকাল আমার হৃদয়ে বহন করব। একবার যে বার্সা, সে চিরকালের জন্যই বার্সা।’
২০২২ সালে বার্সেলোনা যখন
ইতিহাসের অন্যতম চরম আর্থিক সংকট আর লিওনেল মেসির বিদায়ের ধাক্কায় দিকভ্রান্ত, ঠিক
তখনই বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ক্লাবের হাল ধরেছিলেন লেভানডফস্কি। কাতালানদের সেই কঠিনতম
সময়ে ত্রাতা হয়ে এসে গত চার বছরে দলকে তিনটি লা লিগাসহ মোট সাতটি ট্রফি জিতিয়েই মাঠ
ছাড়ছেন ৩৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
বার্সেলোনার হয়ে ১৯২ ম্যাচে
মাঠে নেমে ১৯৯টি গোল করেছেন 'গোলমেশিন' লেভানডফস্কি। গড়ে প্রতি ১১৮ মিনিটে একটি করে
গোল করার পাশাপাশি তাঁর নেওয়া শটের ২১.২৫ শতাংশই জালে জড়িয়েছে। ক্লাবের হয়ে তাঁর
গোলগুলোর মধ্যে লা লিগায় ১৩৩ ম্যাচে ৮২টি, চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩৮ ম্যাচে ২৩টি, কোপা
দেল রে-তে ১২ ম্যাচে ৭টি, স্প্যানিশ সুপারকোপায় ৭ ম্যাচে ৬টি এবং ইউরোপা লিগে ২ ম্যাচে
১টি গোল রয়েছে।
লেভানডফস্কিকে সম্মান জানাতে
অধিনায়কের আর্মব্যান্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সকালেই নিয়েছিলেন রাফিনিয়া, আরাউহো ও পেদ্রিরা।
রাফিনিয়া জানান, ‘তাঁর ক্যারিয়ারের এমন একটি মুহূর্তের সঙ্গী হতে পারাটা সত্যিই সম্মানের।
আসার পর থেকেই ক্লাবের জন্য তিনি অনেক অবদান রেখেছেন।’
লেভানডফস্কির বিদায় ছুঁয়ে গেছে বার্সা ড্রেসিংরুম থেকে ডাগআউটেও। বায়ার্ন মিউনিখের পর বার্সেলোনা—ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় এই পোলিশ স্ট্রাইকারকে খুব কাছ থেকে দেখা কোচ হান্সি ফ্লিকও ম্যাচ শেষে প্রিয় শিষ্যের বিদায়লগ্নে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি,
‘রবার্টের একটা গোল হলে রাতটা হয়তো পুরোপুরি নিখুঁত হতে পারত, তাই বলা যায় রাতটা ছিল প্রায় নিখুঁত। আমি তাঁর সাথে বহু বছর কাজ করেছি এবং সে আমার একজন ভালো বন্ধু। বার্সেলোনা এবং এই ক্লাবের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। সে একাধারে একজন অসাধারণ মানুষ এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়। সে আমাদের দুর্দান্ত সব মুহূর্ত, গোল এবং শিরোপা উপহার দিয়েছে। আমরা তাঁকে খুব মিস করব, তবে এটাই জীবন এবং ফুটবলের নিয়ম। আমরা সবাই তাঁকে মিস করব, সে সত্যিই একজন ভালো মানুষ।’
ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেললেও
বার্সেলোনার জার্সিতে লেভানডফস্কির চূড়ান্ত বিদায় এখনই হচ্ছে না। আগামী শনিবার লা লিগার
শেষ ম্যাচে ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে তাদের মাঠে বার্সার হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলতে
নামবেন তিনি।
এর আগে মাঝ সপ্তাহে আলাভেসের
কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচের একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। জোয়ান
গার্সিয়া, পেদ্রি এবং রাফিনিয়াকে ফিরিয়ে আনা হয় শুরুর একাদশে। লেভানডফস্কির বিদায়ী
ম্যাচে বার্সাকে প্রথমে লিড এনে দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়াই। বেতিস গোলকিপার আলভারো
ভালিসকে পরাস্ত করে দূরপাল্লার শটে বল জালে জড়ান তিনি।
১-০ ব্যবধানে প্রথমার্ধ
শেষ হওয়ার পর ম্যাচের ৬২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। হেক্টর বেলেরিনের এক
ভুল পাস ধরে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই উইঙ্গার। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই ম্যাচে
ফেরে বেতিস। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা ইসকোকে বার্সার ডি-বক্সের ভেতর গাভি ফাউল
করলে পেনাল্টি পায় বেতিস। সফল স্পট কিকে ব্যবধান ২-১ করেন ইসকো নিজেই।
৭৪ মিনিটে স্বস্তি ফেরান
জোয়াও কানসেলো। তাঁর দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শট বেতিস গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে জালে
জড়ালে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার।

একের পর এক চোট, মাঠের
বাইরের নানা বিতর্ক, আর সবশেষ রেফারির ভুলের শিকার হওয়া—বিশ্বকাপ শুরুর আগে নেইমার
জুনিয়রকে নিয়ে নাটক তো কম হলো না। সান্তোসের ‘রাজপুত্রের’ কোটি ফুটবল ভক্তের বুক দুরুদুরু
করা সেই অন্তহীন অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজই। স্কোয়াড ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশ
সময় দুইটায় এই নাটকের যবনিকা টানতে যাচ্ছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি, যেখানে ভাগ্য
নির্ধারণ হবে সেলেসাওদের এই মহাতারকার।
সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে নেইমার
কি পাচ্ছেন তাঁর ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’-এর টিকিট, নাকি মাঠের বাইরের সমীকরণেই শেষ হচ্ছে
তাঁর বিশ্বকাপ স্বপ্ন? শেষ পর্যন্ত যদি মহোৎসবের এই বিশ্বমঞ্চে তাঁকে ছাড়াই পা রাখে
ব্রাজিল, তবে কী করবেন নেইমার? গতকাল সান্তোসের ম্যাচ শেষে সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি
মহাতারকা নিজেই দিয়েছেন তার এক সংক্ষিপ্ত ও পরিণত জবাব।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চূড়ান্ত
দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে বেশ বিনয়ী ও পরিণত অবস্থানই নিয়েছেন নেইমার। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড
জানিয়েছেন, দলে বিবেচনার যোগ্য হয়ে উঠতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন; তবে চূড়ান্ত দলে
তিনি জায়গা পাবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরই নির্ভর
করছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ৩৪ বছর বয়সী সান্তোস তারকা নেইমার বলেন,
‘আমি দলে থাকার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত আনচেলত্তিই নেবেন। আমি এটার (সুযোগ পাওয়ার) জন্যই কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে যদি আমি নির্বাচিত নাও হই, তাহলেও আমি একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য গলা ফাটাব।’
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো
এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বমঞ্চের জন্য আনচেলত্তি যখন তাঁর
৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত ২৬ জনের স্কোয়াড বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন,
ঠিক তখনই এমন মন্তব্য নেইমারের। ২০২৩ সালের হাঁটুর গুরুতর চোটের পর থেকে ফিটনেস সমস্যায়
ভুগলেও, সান্তোসে ফেরার পর থেকে সম্প্রতি বেশ দারুণ ছন্দে রয়েছেন নেইমার।
অবশ্য কোচ আনচেলত্তিও বারবার
পরিষ্কার করে বলেছেন যে, ব্রাজিলের এই আইকন নেইমারকে দলে রাখার সিদ্ধান্তটি তাঁর অতীত
রেকর্ড বা আবেগের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে না; বরং এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে তাঁর
বর্তমান পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর।
গুঞ্জন রয়েছে, নেইমারকে
চূড়ান্ত দলে জায়গা দিতে গিয়ে চেলসির ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোকে বাদ পড়তে হতে পারে। দলে
ফিরলেও অবশ্য একাদশের নিয়মিত মুখ হিসেবে নেইমারকে দেখার নিশ্চয়তা কিন্তু নেই। পাঁচবারের
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দলে এথন অনেক তরুণ খেলোয়াড় পছন্দের তালিকায় এগিয়ে আছেন। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে
ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো একজন কার্যকরী ‘ইমপ্যাক্ট সাবস্টিটিউট’ হিসেবে দলের
প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতেই পারেন।
ব্রাজিলের ইতিহাসের এই
সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দলে দেখতে চেয়ে সমর্থক থেকে শুরু করে তাঁর সাবেক সতীর্থরা যখন জোরালো
দাবি তুলছেন, তখন অন্য পক্ষের যুক্তি একেবারেই ভিন্ন। তাদের মতে, সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে
নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বটা এখন তরুণ প্রতিভাদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত
দল ঘোষণা এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। আর তাই পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন একটি প্রশ্নের
দিকেই—ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা কি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে ট্রফি
উঁচিয়ে ধরার আরও একটি সুযোগ পাবেন?

গত মাসে জমকালো আয়োজনের
মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হওয়া
২৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দৃষ্টিনন্দন 'নু স্টেডিয়ামে’ এটি
ছিলে ইন্টার মায়ামির পঞ্চম ম্যাচ। এর আগের চারটি
হোম ম্যাচের তিনটিতে তারা ড্র করেছিল
এবং অন্যটিতে অরল্যান্ডো সিটির কাছে ৩-০
ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৪-৩ গোলে
হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।
অবশেষে ‘নতুন ঘরে’ প্রথম জয় পেল লিওনেল মেসির দল।
নু স্টেডিয়ামে মায়ামির
প্রথম জয়ের নায়ক মেসি। আর্জেন্টাইন
মহাতারকার চমৎকার
গোল এবং দৃষ্টিনন্দন এক অ্যাসিস্টে
আজ পোর্টল্যান্ড
টিম্বার্সকে ২-০ ব্যবধানে
হারিয়েছে মায়ামি। বিশ্বকাপের আগে যেন পুরোদমে স্বরুপেই ফিরেছেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সী
এই আর্জেন্টাইন জাদুকর পুরো ম্যাচজুড়েই পোর্টল্যান্ডের
রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন।
ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক এই ব্যর্থতার পরও,
এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের
পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে আছে ইন্টার মায়ামি। এক ম্যাচ কম খেলা ন্যাশভিল এসসি-র চেয়ে ২
পয়েন্টে পিছিয়ে মেসির দল। ১৪ ম্যাচে ৮ জয়ে ২৮
পয়েন্ট মায়ামির।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস)
বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ম্যাচের আধা
ঘণ্টার মাথায় একটি দারুণ আক্রমণ
থেকে প্রথম গোলটি করেন মেসি। মাঝমাঠ
থেকে বল বাড়িয়ে তিনি
পাস দেন ‘বন্ধু’ লুইস সুয়ারেজকে।
সুয়ারেজ থ্রু পাসে খুঁজে
নেন তেলাস্কো সেগোভিয়াকে। সেগোভিয়ার দারুণ এক ব্যাকহিল পাসে
বল আবার চলে আসে
মেসির পায়ে, আর নিখুঁত শটে
বল জালে জড়াতে ভুল
করেননি আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
১০ মিনিট পর, ডান প্রান্ত
দিয়ে দারুণ গতিতে বল নিয়ে ওপরে
ওঠেন আরেক আর্জেন্টাইন রদ্রিগো
ডি পল। খুঁজে নেন
সতীর্থ মেসিকে, এরপর সুয়ারেজের সঙ্গে
ওয়ান-টু খেলে চারজন
ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। বাঁ
পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে চমৎকার
এক পাস বাড়িয়ে দেন
জার্মান বেরতেরামেকে, শেষ পর্যন্ত ব্যবধান হয়ে যায় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমে
আসে। এই অর্ধে মেসি ব্যবধান বাড়ানোর
কিছু সুযোগ মিস করেন; ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর
একটি বাঁ পায়ের বাঁকানো
শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে
তাঁর নেওয়া একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলকিপার জেমস
প্যানতেমিস ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্যভাবে রুখে
না দিলে ব্যবধান আরও
বাড়তে পারত।
এই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের
পর চলতি মৌসুমে মেসির
নামের পাশে এখন ১২টি
গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট,
মোট ১৮টি গোলে সরাসরি
অবদান রেখেছেন। বিশ্বকাপ বিরতির আগে আর মাত্র
একটি ম্যাচ বাকি থাকতে এমএলএস
গোল্ডেন বুট রেসেও ‘এলএমটেন’
এখন দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মায়ামির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গুইলার্মো হোয়োস রসিকতা করে বলেন,
‘আপনারা কি খেলাটা দেখেছেন? দারুণ ম্যাচ ছিল, তাই না?’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘খেলোয়াড়রা আজ মাঠে ছবি এঁকেছে, তারা সব করেছে। সত্যি বলতে, এটা ছিল তাদের এক বিশাল ত্যাগের ফসল।’