পাকিস্তানের বড় পুঁজির জবাবে অল্পেই ৫ উইকেট হারাল সংযুক্ত আরব আমিরাত৷ তবে লড়াই চালিয়ে গেলেন আসিফ খান। একের পর এক ছক্কায় তিনি খেললেন ঝড়ো ইনিংস। তবে যথেষ্ট হলো না সেটি। অনায়াস জয় পেল পাকিস্তান।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩১ রানে হারায় সালমান আলি আগার দল।
সাইম আইয়ুবের পর হাসান নাওয়াজের ঝড়ো ফিফটিতে ২০৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। জবাবে আসিফ একা তাণ্ডব চালালেও ১৭৬ রানের বেশি করতে পারেনি আমিরাত।
আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে খেলা এই ত্রিদেশীয় সিরিজে পরিষ্কার ফেবারিট পাকিস্তান। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালের পথেও অনেকটা এগিয়ে গেল তারা।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে রানের গতি কমতে দেননি সাইম। একের পর এক বাউন্ডারিতে পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান করে পাকিস্তান।
দলকে একশ পার করিয়ে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ১২তম ওভারে আউট হন। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ৭ চারের সঙ্গে ৪ ছক্কার মারে ৩৮ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তরুণ বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর ঝড় তোলেন হাসান নাওয়াজ। মোহাম্মদ নাওয়াজকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ২৫ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন হাসান নাওয়াজ। যেখানে মোহাম্মদ নাওয়াজের অবদান মাত্র ১৩ রান।
২ চারের সঙ্গে ৬ ছক্কার ঝড় তুলে ২৬ বলে ৫৬ রান করে আউট হন হাসান নাওয়াজ। আর মোহাম্মদ নাওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৫ রান।
পরে শেষের ব্যাটাররা মিলে দলকে দুইশ পার করান।
আরব আমিরাতের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন জুনাইদ সিদ্দিকি ও সাঘির খান।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকে একবারও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি আমিরাত।
ইনিংসের ১১ ওভারের মধ্যে মাত্র ৭৬ রানে নিজেদের অর্ধেক উইকেট হারিয়ে ফেলে আমিরাত৷ সেখান থেকে ঝড় তোলেন আসিফ।
ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হয়ে ফেরত যাওয়ার আগে ৬টি চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মারেন আসিফ৷ তার ৩৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংসের সৌজন্যে পরাজয়ের ব্যবধান কমায় আমিরাত
এছাড়া অভিজ্ঞ ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম খেলেন ১৮ বলে ৩৩ রানের ইনিংস।
পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন হাসান আলি।
চলতি বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য এক ধরনের 'লাকি চার্ম' হয়ে গেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি একাদশে থাকলেই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। আর সেই ধারায় সাকিব আল হাসানকে টপকে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন মুস্তাফিজ।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫৩টি জয়ের ম্যাচে একাদশে ছিলেন মুস্তাফিজ। দেশের হয়ে এটিই সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড। ১১২ ম্যাচ খেলে এই সাফল্য পেয়েছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার।
এতদিন ধরে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতার সাক্ষী ছিলেন সাকিব। দীর্ঘ ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ১২৯ ম্যাচ খেলে ৫২টিতে দলকে জিততে দেখেছেন সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন মুস্তাফিজ।
আরও পড়ুন
‘লিটনের ভালো খেলা দলের জন্য জরুরি’ |
![]() |
বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি জয়ের ফিফটি নেই আর কোনো ক্রিকেটারের। তবে খুব কাছেই আছেন লিটন কুমার দাস। ১০৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত দলকে ৪৯ ম্যাচে জিততে দেখেছেন বাংলাদেশের বর্তমান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
এরই মধ্যে অবসর নিয়ে ফেলা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৪১ ম্যাচে পেয়েছিলেন ৪৯ জয়ের দেখা। এছাড়া ৩০ বা এর বেশি জয় আছে মুশফিকুর রহিম (৩৭), সৌম্য সরকার (৩৩), তাসকিন আহমেদ (৩৩) ও আফিফ হোসেন ধ্রুবর (৩০)।
নতুন রেকর্ড গড়ার পথে চলতি বছর দলে নিজেকে অপরিহার্যও প্রমাণ করে তুলেছেন মুস্তাফিজ। এই বছর এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচ খেলে ৬টি জিতেছে বাংলাদেশ। এই ৬টিতেই একাদশে ছিলেন বাঁহাতি কাটার মাস্টার। তাকে বাইরে রেখে খেলা ৭ ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি জয়ের রেকর্ড ভারতের রোহিত শর্মার। ১৫৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ১০৯টি ম্যাচে দলকে জিততে দেখেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক। আর কোনো ক্রিকেটারের একশ জয় নেই।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই লিটন কুমার দাসের প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবে সবসময়ই ভুগতে দেখা যায় তাকে। তবে যেদিন ভালো খেলেন লিটন, সেদিন অনায়াসেই জিততে পারে বাংলাদেশ। তাই তাসকিন আহমেদও বললেন, লিটনের ভালো করার গুরুত্ব।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সহজ জয়ের নায়ক তাসকিন। প্রথমভাগে বল হাতে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
তবে পরেরভাগে বাংলাদেশের রান তাড়ার কাজ সহজ করে দেন অধিনায়ক লিটন। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র ২৬ বলে করেন রেকর্ডগড়া ফিফটি। ক্যারিয়ারের ১৩তম পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংসে তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২৯ বলে ৫৪ রান করে।
আরও পড়ুন
ওয়াইড বলে এ কেমন আউট! |
![]() |
পুরো ইনিংসে লিটনের ব্যাটিং ছিল নিখুঁত। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন চমৎকার কিছু শট। যা মনে করিয়ে দেয়, হয়তো সেরা ছন্দে আছেন লিটন।
কিন্তু এই সিরিজের আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ মিলিয়ে করেছিলেন মোটে ১৭ রান। আবার এর আগে শ্রীলঙ্কা সফরের প্রথম ম্যাচে অল্পে ফেরার পর পরের দুই ম্যাচে খেলেন ৭৬ ও ৩২ রানের দারুণ দুটি ইনিংস।
এরও আগে ফিরলে পাকিস্তান সফরের এক ম্যাচে খেলেন ৩০ বলে ৪৮ রানের ইনিংস। কিন্তু বাকি দুই ম্যাচ মিলিয়ে করেন মাত্র ২৮ রান। তার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজে এক ম্যাচে ৪০ করলেও বাকি দুই ম্যাচে ব্যর্থ।
সব মিলিয়ে অধারাবাহিকতার অপর নাম যেন লিটন। তাই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাকে রান করতে দেখে বেশ খুশি তাসকিন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কের প্রশংসাই করেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
“লিটন খুব ভালো ব্যাট করেছে। লিটনের ভালো খেলা বা ফর্মে থাকা আমাদের দলের জন্য অনেক জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে ও ফর্মে আসছে এবং ভালো ব্যাটিং করছে। নেটেও দেখছি।”
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই সিরিজটি মূলত এশিয়া কাপের আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেখে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের জন্য। সেই অভিযানে প্রথম ম্যাচ বেশ ভালো কাটিয়েছে বাংলাদেশ।
বোলিংয়ে তাসকিনের পাশাপাশি বড় অবদান রাখেন সাইফ হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। পরে ব্যাট হাতে লিটনের ফিফটি ছাড়াও ঝড়ো ইনিংস খেলেন দীর্ঘ দিন পর ফেরা সাইফ। শুরুতে পারভেজ হোসেন ইমন আর তানজিদ হাসান তামিমও করেন ইতিবাচক ব্যাটিং।
তাসকিনের আশা, সম্মিলিত পারফরম্যান্সের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বড় টুর্নামেন্টেও আসবে সাফল্য।
“এই ধারাবাহিকতা যদি আমাদের এগোতে থাকে, সামনে বড় ইভেন্টেও ভালো করা সম্ভব। স্পোর্টিং কন্ডিশনে যে কোনো এক দিক দিয়ে জেতা সম্ভব নয়। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং, সবই লাগে। আমাদের মতো দলে সবার অবদান আরও বেশি লাগে। এটা খুব ভালো ব্যাপার যে ব্যাটিং-বোলিং দুটিই ভালো হচ্ছে।”
“সবাই এগিয়ে যাচ্ছি। অনেক মেহনত করছি সবাই, সত্যি বলতে। সামনে অনেক খেলা, এশিয়া কাপের পর আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ আছে। এই ধারাবাহিকতা থাকলে ভালো কিছু হতে যাচ্ছে আশা করি।”
অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে ওয়াইড লাইন থেকেও বেশ দূরে বল করেছিলেন টেরেন্স হাইন্ডস। উইকেট পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না ওই ডেলিভারিতে। কিন্তু কল্পনাতীতভাবে তাকে উইকেট উপহার দিলেন শাই হোপ।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) রোববার ভোরের ম্যাচে ওয়াইড বলে হিট উইকেট হয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের উইকেটকিপার-ব্যাটার। আর খুবই বাজে এক ডেলিভারিতে উইকেটের আনন্দে মেতেছেন ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হাইন্ডস।
আরও পড়ুন
৪২ বলে সেঞ্চুরিতে ১৮ বছর বয়সী পেরিনের রেকর্ড |
![]() |
ম্যাচের প্রথম ইনিংসের ১৫তম ওভারের ঘটনা। ২৯ বলে ৩৯ রানে খেলছিলেন হোপ। ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে স্লোয়ার শর্ট ডেলিভারি করেন হাইন্ডস। ওয়াইড লাইন পেরিয়ে আরও দূর দিয়ে চলে যাচ্ছিল বল।
কিন্তু আগে থেকেই রিভার্স র্যাম্প খেলার কথা ঠিক করে ফেলেছিলেন হোপ। তাতেই ঘটল বিপত্তি। এত দূর দিয়ে যাওয়া বল ব্যাটের নাগালে পাননি অভিজ্ঞ ব্যাটার। উল্টো ব্যাট পুরোটা ঘুরিয়ে ফেলায় নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি।
সেই একই মোমেন্টামের সঙ্গে ঘোরার পথে স্টাম্পে লেগে যায় হোপের ব্যাট। ফলে ওয়াইড বলেই হিট উইকেট হয়ে যান হোপ। তিনি যখন ফিরছিলেন ড্রেসিং রুমের দিকে, তার হতাশা বাড়িয়ে তখন ওয়াইডের সঙ্কেত দিচ্ছিলেন আম্পায়ার।
বিশ্ব ক্রিকেটে হিট উইকেটের ঘটনা নতুন কিছু নয়। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেই এখন পর্যন্ত ১৭০ জন হিট উইকেট হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন আবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেই। এমনকি সিপিএলেও এর আগে তিন জন ফিরেছেন হিট উইকেট হয়ে।
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
তবে হোপের মতো ওয়াইড বলে হিট উইকেটের ঘটনা নিশ্চিতভাবেই বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল।
হোপের বিদায়ের পর বড় সংগ্রহের আশাও মিইয়ে যায় গায়ানার। তবু শেষ ৩ ওভারে ঝড় তুলে ৪৬ রান করে ১৬৩ রানের পুঁজি পায় তারা। তবে অ্যালেক্স হেলস ও কলিন মুনরোর ঝড়ে ১৬ বল বাকি থাকতেই সেটি টপকে যায় টেবিল টপার ত্রিনবাগো।
আগামী মাসে ১৯ বছর পূর্ণ হবে দাভিনা পেরিনের। নিজের জন্মদিনের আগে বিধ্বংসী এক ইনিংসে যেন উপলক্ষ্য রাঙানোর অগ্রীম আভাস দিলেন তরুণ ব্যাটার।। মাত্র ৪৩ বলে ১০১ রান করে রেকর্ড বইয়ে ঝড় তুললেন ইংল্যান্ডের এই টপ-অর্ডার।
দা হান্ড্রেডের নারীদের প্রতিযোগিতায় শনিবার রাতে নর্দার্স সুপার চার্জার্সের হয়ে এই ইনিংস খেলেন পেরিন। এলিমিনেটর ম্যাচে লন্ডন স্পিরিটের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে দা হান্ড্রেডের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি।
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
তিন অঙ্ক ছুঁতে ৪২ বল খেলেন পেরিন। দা হান্ড্রেড তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের যে কোনো ব্যাটারের এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৩ সালে সমারসেটের হয়ে ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন আনা শ্রাবসোল।
সব মিলিয়ে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আর মাত্র দুটি- ২০২১ সালে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন নিউ জিল্যান্ডের সোফি ডিভাইন আর ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়ান্দ্রা ডটিন তিন অঙ্কে পা রেখেছিলেন ৩৮ বলে।
পেরিনের সমান ৪২ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেস হ্যারিসের, ২০১৮ সালে। সবগুলো সেঞ্চুরিই ঘরোয়া টুর্নামেন্টে করা।
দা হান্ড্রেডে ছেলে-মেয়েদের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পেরিনের চেয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি আছে শুধু হ্যারি ব্রুকের। ২০২৩ সালে ৪২ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৪১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংল্যান্ডের মারকুটে এই ব্যাটার।
পেরিনের সেঞ্চুরির দিনে নির্ধারিত একশ বলে ৫ উইকেটে ২১৪ রান করে সুপারচার্জার্স। মেয়েদের দা হান্ড্রেডে এটিই দলীয় সর্বোচ্চ। এর আগে কোনো দল ১৯০ রানও করতে পারেনি। ২০২৩ সালে ৩ উইকেটে ১৮১ রান করে রেকর্ড ছিল ওয়েলশ ফায়ারের।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
ইনিংসের ২১ বল বাকি থাকতে রান আউট হন পেরিন। ৪৩ বলের ইনিংসে ১৫ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মারেন ১৮ বছর বয়সী ব্যাটার। এছাড়া ১২ বলে ৩১ রানের ক্যামিও খেলে অপরাজিত থাকেন পাঁচ নম্বরে নামা নিকোলা ক্যারি।
রান তাড়ায় লন্ডন স্পিরিট ৯ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ১৭২ রান। ২৯ বল খেলে দলের সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন জর্জিয়া রেডমেইন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে হয় ৩৮৬ রান। দুই দলের ব্যাটাররা মিলে মারেন ৬৩টি বাউন্ডারি। দুটিই দা হান্ড্রেডের ইতিহাসের রেকর্ড।
লন্ডনকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে নর্দার্ন সুপারচার্জার্স। রোববার সন্ধ্যার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সাউদার্ন ব্রেভ।
রান তাড়ায় প্রথম তিন বল দেখেশুনে খেললেন অ্যালেক্স হেলস। পরের চার বল মইন আলির ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিলেন ইংলিশ ওপেনার। টানা তিন ছক্কার পর মারলেন একটি। শুরুর ওই তাণ্ডবের পর ঝড়ো ইনিংস খেলে ১৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন হেলস।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ম্যাচে রোববার ভোরে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৪৩ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন হেলস। যার সৌজন্যে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১৪ হাজার রান পূর্ণ হয় ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে নামা ওপেনারের।
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
এই ফরম্যাটে ১৪ হাজার রান করা বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটার হেলস। তার আগে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১৪ হাজার রানের রেকর্ড স্পর্শ করেন ক্রিস গেইল ও কাইরন পোলার্ড। সিপিএলে ঠিক আগের ম্যাচেই এই ঠিকানায় পৌঁছান পোলার্ড।
৫০৫ ইনিংসে ৭ সেঞ্চুরির সঙ্গে ৮৯টি ফিফটিতে হেলসের সংগ্রহ এখন ১৪ হাজার ২৪ রান। তার সামনে শুধু ক্রিস গেইল। অবসরের আগে ৪৫৫ ইনিংসে ২২ সেঞ্চুরি ও ৮৮ ফিফটিতে ১৪ হাজার ৫৬২ রান করেছিলেন ইউনিভার্স বস।
হেলসের বয়স এখন ৩৬ বছর। নিয়মিতই তিনি খেলছেন বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। তাই সামনের দিনগুলোতে হেলস যদি গেইলের রানের রেকর্ড ভেঙে দেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বরং তখন দেখা যাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নতুন রাজা।
অবশ্য খুব একটা পিছিয়ে নেই পোলার্ডও। ৬৩৪ ইনিংসে ক্যারিবিয়ান তারকা অলরাউন্ডারের সংগ্রহ ১৪ হাজার ১২ রান। তবে তার বয়স হয়ে গেছে ৩৮ বছর। বেশি দিন হয়তো আর খেলা হবে না তার। তাই গেইলকে ছাড়াতে হলে খুব দ্রুত রান করতে হবে পোলার্ডের।
এছাড়া এই সংস্করণে ১৩ হাজারের বেশি রান আছে আর চারজন ব্যাটারের- ডেভিড ওয়ার্নার (১৩ হাজার ৫৯৫), শোয়েব মালিক (১৩ হাজার ৫৭১), বিরাট কোহলি (১৩ হাজার ৫৪৩) ও জস বাটলার (১৩ হাজার ৩৩৮ রান)। তাদের পক্ষেও গেইলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
হেলসের মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে সহজ জয়ই পেয়েছে ত্রিনবাগো। গায়ানার করা ১৬৩ রান ১৬ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে তারা।
উদ্বোধনী জুটিতে কলিন মুনরোকে নিয়ে ১১৫ রান যোগ করেন হেলস। মুনরোর ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৫২ রান। ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৪৩ বলে ৭৪ রান করেন হেলস। শেষ দিকে ১৪ বলে ২৭ রানের ক্যামিও খেলে দলের জয় ত্বরান্বিত করেন আন্দ্রে রাসেল।
ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়ে দশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ত্রিনবাগো। চার ম্যাচে চার পয়েন্ট পাওয়া গায়ানা আছে চার নম্বরে।
৯ ঘণ্টা আগে
১০ ঘণ্টা আগে
১১ ঘণ্টা আগে
১১ ঘণ্টা আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৮ দিন আগে
৮ দিন আগে
১০ দিন আগে