
এশিয়া কাপে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। উত্তেজনা আর টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া দুই প্রতিবেশি আরও একবার সুপার ফোরে একে অন্যের প্রতিপক্ষ। আজ দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।
প্রথম দেখার মতো আজও পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আগার সঙ্গে হাত মেলানটি সূর্যকুমার। গ্রুপ পর্বে প্রথম দেখায় করমর্দন না করা নিয়ে বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সংবাদ সম্মেলন বর্জন, রেফারির বিরুদ্ধে নালিশ, ম্যাচ পেছানো-কত কি ঘটে গেল। আবারও একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটল।
এদিকে গ্রুপ পর্বে ওমানের বিপক্ষে গত ম্যাচের থেকে দুই পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে ভারত। একাদশে ফিরেছেন জাসপ্রিত বুমরাহ ও রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। দুইজনকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন দুই পেসার হার্শিত রানা ও আর্শদীপ সিং।
পাকিস্তান দলেও দুটি পরিবর্তন এসেছে। একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন হাসান নাওয়াজ ও খুশদিল শাহ। একাদশে ফিরেছেন ফাহিম আশরাফ ও হোসাইন তালাত।
No posts available.
১৬ মার্চ ২০২৬, ৯:৪২ এম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৯:৪০ এম
১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৪১ এম

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ দুই ওয়ানডেতে ৪৫ ও ৯১ রানের ইনিংস খেলার পরও পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজে একটি ম্যাচেও সুযোগ পাননি সৌম্য সরকার। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সিরিজ জিতলেও, সৌম্যর বাদ পড়া নিয়ে তাই চলছে বিস্তর আলোচনা।
সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সৌম্যকে একটি ম্যাচেও না খেলানোর কারণ ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার মতে, ব্যাটারদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই সিরিজে কোনো ম্যাচে জায়গা হয়নি সৌম্যর।
গত বছরের অক্টোবরে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে মিরপুরের কঠিন উইকেটে বেশ ভালো ব্যাটিং করেন সৌম্য। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি খেলেন ৪৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। আর শেষটিতে বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৯১ রান।
তবু পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচেও একাদশে জায়গা হয়নি সৌম্যর। তিন ম্যাচেই সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমকে দিয়ে ওপেনিং করায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে সাইফ ৪ ও ১২ রান করে আউট হয়ে গেলেও শেষ ম্যাচে তাকে সুযোগ দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটিতে রানে ফেরার আভাস দেন সাইফ। তবে সাবলীল ব্যাটিং তিনি করতে ব্যর্থ হন। ৩ চারে ৩৬ রানের ইনিংসের জন্য সাইফ খেলেন ৫৫ বল। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটিতে তিনি করেন মাত্র ৫২ রান।
শুধু সাইফ-ই নন, পুরো সিরিজে নিজেদের একাদশে কোনো পরিবর্তনই করেনি বাংলাদেশ। অর্থাৎ তিন ম্যাচে শুধু ১১ জন ক্রিকেটারকেই মাঠে নামিয়েছে তারা। এ নিয়ে মাত্র ষষ্ঠবার কোনো সিরিজের পুরোটা একই একাদশ নিয়ে খেলেছে স্বাগতিকরা।
শেষ ম্যাচ জিতে ট্রফি নিজেদের করলেও, সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে সৌম্যকে কোনো ম্যাচে সুযোগ না দেওয়া ও সাইফকে টানা খেলিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। উত্তরে ম্যাচে নামানো ক্রিকেটারদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
“এর আগেও বলেছি, আমরা চাচ্ছি একজন ক্রিকেটার যেন যথেষ্ট সুযোগ পায়। আমরা যে টপ অর্ডার খেলিয়েছি... কোনো সন্দেহ নেই, সৌম্য সরকার সবশেষ সিরিজটা অনেক ভালো খেলেছে। তবে হয়তো (ঘরোয়া ক্রিকেটে) কিছুদিন একটু ছন্দে ছিল না। তামিম ও সাইফ ভালো টাচে ছিল। আমরা তাই ওভাবে পরিকল্পনা করেছি।”
“হঠাৎ করে হয়তো ম্যাচে যদি আমরা পরিবর্তন করতাম... প্রথম দুই ম্যাচ যারা খেলেছে, তাদেরই বেশি ধারণা ছিল। তাই নতুনভাবে আরেকজনকে সুযোগ দেওয়া, এটাও অনেক কঠিন। সৌম্যর জন্য অনেক কঠিন হতো।”
“আমাদের জন্য অনেক সহজ ছিল যে, সাইফ দুইটা ম্যাচে রান করতে পারেনি তাই ওকে যদি আজকে বসিয়ে সৌম্যকে খেলাতাম, তাহলে দুইটা জিনিসই হতে পারত। ওরও আত্মবিশ্বাসটা কমে যেত, যদি তেমন ভালো করতে না পারত। তাই আমরা এটা চেষ্টা করছি যে-ই সুযোগ পাক, সে যেন যথেষ্ট পায় এবং সে নিজ থেকেই বুঝতে পারবে খারাপ খেললে যে হয়তো আমার জায়গা ছেড়ে আরেকজনকে দিতে হবে।”
এসময় সৌম্য সরকারকে নিয়ে বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চাওয়া হয় মিরাজের কাছে। উত্তরে তা জানানোর চেষ্টা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক
“অবশ্যই প্ল্যানিং আছে। যদি সুযোগ পায় আমরা যেন তাকে সর্বোচ্চ সুযোগ দিতে পারি। আপনি দেখেন সৌম্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগের দুই সিরিজে কিন্তু দলে ছিল না। তবে যখন আমরা উইন্ডিজ সিরিজে খেলিয়েছি, তিনটা ম্যাচই কিন্তু টানা খেলিয়েছি। তানজিদ তামিমকে কিন্তু আমরা তখন খেলাইনি। কারণ ও দুইটা সিরিজ ঐরকম ছন্দে ছিল না।”
“ব্যাটারের জন্য অনেক কঠিন যদি সে ছন্দে না থাকে। আপনি এক-দুইটা সুযোগ দিয়ে একটা ব্যাটারকে রেট করতে পারবেন না। তাই সর্বোচ্চ সুযোগটা দিতে হবে। যখন সৌম্যর সুযোগ আসবে, দেখবেন সে সর্বোচ্চ সুযোগ পাবে, যেন নিজেকে তুলে ধরতে পারে ও পারফর্ম করতে পারে। এমন না যে একটা ম্যাচ খেলিয়ে তাকে আবার বাদ দিয়ে দিচ্ছি। কারণ ব্যাটারদের কিন্তু সময় দিতে হয়। ওই প্ল্যান নিয়েই আমরা যাচ্ছি। যেহেতু সামনে বিশ্বকাপ, আমাদের সেভাবেই দল গুছাচ্ছি।”

ব্যাট হাতে সিরিজটিতে ঝড় তুলেছেন তানজিদ হাসান তামিম। আর বোলিংয়ে আগুন ঝরিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ৫ উইকেটের পর শেষ ওয়ানডেতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট।
সব মিলিয়ে সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে প্লেয়ার অব দা সিরিজ পুরস্কারও জিতেছেন নাহিদ। আর তার কাছে ধরাশায়ী হয়ে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বললেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যথাযথ যত্ন নিলে দলের মেইন ম্যাচ হয়ে উঠবেন নাহিদ।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে একাই পাকিস্তানের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন নাহিদ। আগুনঝরা ফাস্ট বোলিংয়ে সফরকারীদের প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে একাই আউট করে তিনি গড়েছিলেন রেকর্ড। সব মিলিয়ে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পেয়েছিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
পরের দুই ম্যাচেও বোলিংয়ের ধার ধরে রেখে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক ও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার আফ্রিদি।
সিরিজের শেষ ম্যাচের পর টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার তাই নাহিদের যত্ন নেওয়ার পরামর্শই দিলেন।
“বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নাহিদ অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা। বাংলাদেশের উচিত তার যত্ন নেওয়া। প্রতিটি ম্যাচে তাকে ব্যবহার না করে, শুধু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে খেলানো উচিত। তাহলে সে দলের জন্য মেইন ম্যান হতে পারবে।”
সদ্য সমাপ্ত এই সিরিজের উইকেট পাকিস্তানের জন্য ছিল একরকম সারপ্রাইজের মতো। কারণ গত বছরের অক্টোবরে মিরপুরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পুরোপুরি স্পিনিং উইকেট বানিয়ে খেলেছিলেন বাংলাদেশ।
সেখান থেকে পুরোপুরি বদলে ফেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবুজ ঘাসের উইকেটে খেলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাসরা। যেখানে ব্যাটার-বোলারের জন্য ছিল প্রায় সমান-সমান সুবিধা। যা কিছুটা অবাক করেছে আফ্রিদিকেও।
“তারা এখানে যে সবশেষ সিরিজটি খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, পুরো ৫০ ওভার স্পিনার দিয়ে করিয়েছিল। আর এখন ছিল সবুজ উইকেট। তবে হ্যাঁ ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল উইকেট। সব মিলিয়ে উপভোগ্য ছিল।”

সালমান আলি আগার বলে ছক্কা মেরেই সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেললেন তানজিদ হাসান তামিম। দুই হাত ছড়িয়ে আকাশপানে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। পরক্ষণেই হাত দিয়ে বাতাসে এঁকে দিলেন চুম্বন। আর দুই হাতে হৃদয়ের প্রতিকৃতি করে সারলেন সেঞ্চুরির উদযাপন।
তাৎক্ষণিকভাবে জানার উপায় ছিল না, কাকে উদ্দেশ্য করে চুম্বন আঁকা অথবা ভালোবাসার প্রতিকৃতি সাজানো। তবে ম্যাচ শেষে তামিম নিজেই জানিয়েছেন, সেঞ্চুরিটি তিনি উৎসর্গ করেছেন নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীকে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৭ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনার। ৩১ ওয়ানডে ও ৪৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি।
এর আগে ওয়ানডেতে ৫টি ও টি-টোয়েন্টিতে ১১টি ফিফটি করলেও কোনো সেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছিলেন না বাঁহাতি ওপেনার। অবশেষে সেই অপেক্ষা ঘুচিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে দলের জয়ে পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
পরে ম্যাচ শেষে টি স্পোর্টসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তামিম জানিয়েছেন, সেঞ্চুরিটি তিনি উৎসর্গ করতে চান নিজের স্ত্রীকে।
“উৎসর্গ সেভাবে কাউকে করিনি। তবে আমার স্ত্রী অনেক উচ্ছ্বসিত। তো তার প্রতিই উৎসর্গ করছি। তার জন্য তেমন কিছু বলার নেই। তবে ও আমাকে ভালো সময়, খারাপ সময়- সব সময় পাশে থেকে সাপোর্ট করে, এটাই আমার কাছে অনেক বড় বিষয়।”
এই সেঞ্চুরির আগে ওয়ানডেতে তামিমের সর্বোচ্চ ছিল ৮৪ রান। এছাড়া আরও তিন ম্যাচে ৬০ রানের ঘরে ঢুকলেও তিন অঙ্কে যেতে পারেননি তিনি। সেই ধারা ভেঙে এবার সেঞ্চুরি করার পর তাই বাড়তি তৃপ্তি তামিমের কণ্ঠে।
“আলহামদুলিল্লাহ। আমার জন্য অনেক বেশি স্পেশাল এই সেঞ্চুরি। অনেক দিন ধরে এটার অপেক্ষা করছিলাম। কারণ গত কয়েকটা ওয়ানডে ম্যাচে আমি ভালো শুরু করেও ইনিংস টেনে নিতে পারিনি। এখন চেষ্টা করছি, কীভাবে ভালো শুরুটাকে লম্বা ইনিংসে পরিণত করা যায়।”

প্রথম ম্যাচে ঝড়ো ফিফটির পর শেষটিতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজটি দারুণভাবে রাঙিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতার পর তিনি বিশেষ ধন্যবাদ দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক ও বাঁহাতি ওপেনার শাহরিয়ার নাফীসকে।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৯৮ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কার রেকর্ড গড়া ১০৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন তামিম।
একইসঙ্গে সিরিজের তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৭৫ রান করে নাহিদ রানার সঙ্গে যৌথভাবে সিরিজ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন ২৫ বছর বয়সী ওপেনার। শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পথে তিনি দিয়েছেন দায়িত্বশীলতার পরিচয়, খেলেছেন পরিস্থিতি বুঝে।
ম্যাচে দলের চাহিদা বুঝে খেলা, ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির ইনচার্জ ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তামিম।
“আমি চেষ্টা করছি, ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা কাজ করার। স্কিল থেকেও মূলত মানসিকভাবে কীভাবে আরও শক্ত হওয়া যায়, সেই জিনিসটা চেষ্টা করছি। ব্যাটিং নিয়ে আসলে কোচদের সঙ্গে অ্যাশ (আশরাফুল) ভাই আছে, সালাউদ্দিন স্যার, হেড কোচ (ফিল সিমন্স) সবার সঙ্গে কথা হয়।”
“আর আমি একটা নাম বিশেষ করে উল্লেখ করতে চাচ্ছি... শাহরিয়ার নাফীস। তার সঙ্গে আমার অন এন্ড অফ অনেক কথা হয়। তিনি আমাকে অনেক ভালোভাবে অনুপ্রাণিত করেন। তো সবাইকে ধন্যবাদ।”
তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পথে ৯৪ রানে দাঁড়িয়ে সালমান আলি আগার বল উড়িয়ে মারেন তামিম। লং অফে ফিল্ডার থাকলেও দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না তার। ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির সামনে থেকে অমন ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলার ব্যাখ্যাও দেন তামিম।
“অবশ্যই (ছক্কা মারার ব্যাপারে) আমি ক্লিয়ার মাইন্ড ছিলাম। ক্লিয়ার মাইন্ডে না থাকলে ওইরকম সময় কেউ এরকম ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে না। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এটা হলে হয়তোবা ভালো হবে। আমি আমার সেই সিদ্ধান্তে গিয়েছি আর কি।”
শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি করতে ৯৮ বল খেলেন তামিম। তবে এক পর্যন্ত ৫৮ বলে ৭১ রানে ছিলেন তিনি। পরে আরও ৩৯ বল খেলে নিতে পারেন মাত্র ২৩ রান। সেখান থেকে ছক্কা মেরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।
মাঝের ৩৯ বলের সময় মূলত নতুন স্পেলে ফিরেছিলেন হারিস, শাহিন শাহ আফ্রিদিরা। পুরোনো বলে তারা রিভার্স সুইং করানোয় কাজ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল বললেন তামিম।
“ওই সময় বল একটু রিভার্স করছিল। তখন শান্ত ভাইয়ের সঙ্গে আমার আলোচনা চলছিল। উনি অনেক সাহায্য করছে ওই সময় কীভাবে খেলা উচিত, কীভাবে এই দুই-এক ওভার পার করা যায়। উনি আমাকে বলছিলেন, তারপর আরও অনেক সহজ হয়ে যাবে। তো চেষ্টা করেছি ওই দুই-তিনটা ওভার পার করে দিয়ে দেখে শুনে খেলতে।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের বড় কারিগর তানজিদ হাসান তামিম।৷ শেষ ম্যাচে তিনি পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এর আগে প্রথম ম্যাচেও ফিফটি করে জিতেছেন যৌথভাবে সিরিজ সেরার পুরস্কার। বাঁহাতি ওপেনার এবার জানালেন, অন্তত ২০টি সেঞ্চুরির চেষ্টা করবেন।
মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে ৭ ছক্কার ঝড় তুলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তামিম। ৪৫ টি-টোয়েন্টি ও ৩১ ওয়ানডে ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি।
তামিমের সেঞ্চুরির পর জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক ও বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে তাকে কাছ থেকে দেখা হান্নান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বাঁহাতি ওপেনারের কাছে অন্তত ২০টি সেঞ্চুরি দেখতে চান।
“ওয়ানডেতে তামিমের একটা সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায়”- প্রথম ম্যাচ শেষে লিখেছিলাম। সেই মুহূর্তটা অবশেষে এসেই গেল! প্রথম সেঞ্চুরি সবসময়ই স্পেশাল। আশা করি, ওয়ানডেতে তামিমের নামের পাশে অন্তত ২০টা সেঞ্চুরি দেখব। আমার বিশ্বাস, ওর পক্ষে আমার এই চাওয়াটাও পূরণ করা খুব ভালোভাবেই সম্ভব। ইনশাআল্লাহ।”
তৃতীয় ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিমের কাছে হান্নানের এই চাওয়ার কথা জানানো হলে তিনি বলেন, এর চেয়ে বেশি সেঞ্চুরিও হতে পারে।
“ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব (২০টি সেঞ্চুরি করার)। হয়তোবা এর থেকেও বেশি হতে পারে। তো স্বপ্ন দেখতে তো কোন সমস্যা নাই তো অবশ্যই চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।”
এর আগে ভিন্ন আরেক প্রশ্নে তামিমের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ক্যারিয়ার শেষে কতগুলো ভালো ইনিংস নিজের নামের পাশে দেখতে চান। এর জবাবে সরাসরি কিছু না বলে কৌশলী উত্তর দেন ২৫ বছর বয়সী ওপেনার।
“আসলে দেখেন আমি এত দূরে তাকাতে চাই না। আমি সব সময় বর্তমানে থাকতে পছন্দ করি। আজকে যেটা হয়েছে, এটা কিন্তু অতীত হয়ে গেছে। সামনে যে সিরিজটা আসবে চেষ্টা করব প্রত্যেক সিরিজের প্রত্যেক ম্যাচে ভালো কিছু অবদান রাখার।”
“আপনি যেটা বললেন সেঞ্চুরির কথা, প্রত্যেক ম্যাচে চেষ্টা থাকবে সেঞ্চুরি করা- এটা তো সব ব্যাটারেরই থাকে যে প্রত্যেক ম্যাচে ভালো করবে, টিমকে ভালো কিছু কন্ট্রিবিউট করবে। তো আমার চেষ্টা থাকবে প্রত্যেক ম্যাচে কীভাবে দলের জন্য ভালো কিছু অবদান রাখতে পারি।”