
বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখিয়ে মৌসুমজুড়ে ইন্টার মায়ামির জয়ে অবদান রেখেছেন। ইতিহাস গড়ে প্রথমবার দলকে জিতিয়েছেন এমএলএস কাপ। মেজর লিগ সকারে ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। এত অর্জনের মৌসুমে সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি যে লিওনেল মেসির হাতেই উঠবে, সেটা অনুমেয়ই ছিল।
মায়ামির মহারতারই জিতেছেন এমএলএসের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ারের’ পুরষ্কার। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মেসি ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। গণমাধ্যমের ৮৩.০৫ শতাংশ, খেলোয়াড়দের ৫৫.১৭ এবং ক্লাবের ৭৩.০৮ শতাংশ ভোটে বাকিদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থেকে সেরা হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী ফুটবলার। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সান দিয়েগোর উইঙ্গার অ্যান্ডার্স ড্রেয়ার মাত্র ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
এমএলএসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো খেলোয়াড় টানা দুই মৌসুম বর্ষসেরার পুরষ্কার জিতলেন। আর এই লিগটিতে মোট দুইবার এমভিপি হওয়া দ্বিতীয় ফুটবলার মেসি। ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে এই ট্রফি জিতেন প্রেকি।
ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক ২০২৫ সালে ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। লিগে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। এছাড়া ১৯টি অ্যাসিস্টও করেন ‘এলএম টেন’। টানা দু’বার এমএলএসের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে কমপক্ষে ৩৬টি গোলে অবদান রাখা ফুটবলার মেসি।
আরও পড়ুন
| বার্সাকে হারানোর পর জিততে ভুলে গেছে চেলসি |
|
সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে আরও বেশ কয়েকটি রেকর্ডে নাম লেখান মেসি। গত ২৮ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করেও রেকর্ড গড়েন তিনি।
পিএসজি থেকে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর একটি ট্রফি খুব করে চেয়েছিলেন মেসি। আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগে তলানীতে ছিল তাদের অবস্থান। মায়ামি তখন এমএলএস কাপ জয়ের দৌড়ে ধারে-কাছেও ছিল না। তবে মেসি আর একঝাঁক অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের মিশ্রণে গড়া মায়ামি দল শেষ পর্যন্ত নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার এমএলএস কাপ জেতে।
এমএলএস কাপের প্লে-অফে মেসি করেছেন ৬টি গোল এবং ৯টি অ্যাসিস্ট। গত ৬ ডিসেম্বর এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে হাভিয়ার মাচেরানোর দল ৩-১ গোলে হারায়ভ্যাংকুভার হোয়াইটক্যাপসকে। শিরোপার মঞ্চে সতীর্থদের দিয়ে দু’টি গোল করান মেসি।
বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে বহু ব্যাক্তিগত ট্রফি জেতা ক্যারিয়ারে মেসির সাফল্যের ডানায় যুক্ত হলো আরেকটি পলক। ৮টি ব্যালন ডি’অর, ৮টি পিচিচি ট্রফি, ৬টি লা লিগা সেরা খেলোয়াড়, ৩টি ফিফা বেস্ট ম্যানস প্লেয়ার, ৩টি ইউয়েফার বর্ষসেরার পুরষ্কার, ২টি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল, এবং ১৫ বার আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া।
জাতীয় দল আর ক্লাবের হয়ে মেসি জিতেছেন ৪৮টি ট্রফি। আরেকটি বিশ্বকাপ জিতে ট্রফির হাফ সেঞ্চুরি করার দারুণ এক কীর্তির সামনে আছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। বিশ্বকাপের আগে স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা খেলার কথা আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা।
No posts available.

ঠিক পাঁচ দিন আগেই রোমানিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার পাঁচ দিন পরই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন কিংবদন্তি কোচ মিরচা লুচেস্কু। মৃত্যুকালে ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি এই কোচের বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
গত বৃহস্পতিবার অনুশীলনের আগে অসুস্থ বোধ করায় পদত্যাগ করেছিলেন লুচেস্কু। শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়।
লুচেস্কুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমাদের ফুটবল কেবল একজন উজ্জ্বল কৌশলীকেই হারাইনি, বরং একজন মেন্টর, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং একটি জাতীয় প্রতীককে হারিয়ছি, যিনি বিশ্ব ফুটবলের শিখরে রোমানিয়ার পতাকাকে নিয়ে গিয়েছিলেন।‘
লুচেস্কু ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত রোমানিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসেন। লুচেস্কুর কোচিংয়ে সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপ ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ের প্লে অফ সেমিফাইনালে খেলেছিল রোমানিয়া। ২৬ মার্চের সেই ম্যাচে তুরুষ্কের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ট্রিকোলোরিরা।
দীর্ঘ ৪৭ বছরের ক্যারিয়ারে লুচেস্কু ইন্টার মিলান, গালাতাসারাই, বেসিকতাস, শাখতার দোনেৎস্ক, জেনিথ সেন্ট পিটার্সবার্গ, ডায়নামো কিয়েভ এবং তুরস্ক জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন।
লুচেস্কুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে গালাতাসারাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ( সাবেক টুইটার) লিখেছে, ‘আমরা আমাদের ইউয়েফা সুপার কাপ এবং ১৫তম তুর্কি লিগ জেতানো কোচ মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। শান্তিতে থাকুন লুচে, আমরা আপনাকে ভুলব না।‘
কোচিং ক্যারিয়ারে চার দশকেরও বেশি সময়জুড়ে লুচেস্কু জিতেছেন ৩৫টি বড় শিরোপা। ট্রফি জেতায় ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন তিনি। রোমানিয়ান এই কোচের সামনে আছেন শুধু কিংবদন্তি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন এবং পেপ গার্দিওলা।
১২ বছর ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেৎস্ককে ৮টি লিগ শিরোপা ও উইয়েফা কাপ জিতিয়েছেন লুচেস্কু। এছাড়া তার অধীনে ঘরোয়া শিরোপা জিতেছে দিনামো বুখারেস্ট, র্যাপিড বুখারেস্ট, গালাতাসারাই, বেসিকতাস, জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং ডায়নামো কিয়েভ। সাতটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি নেই আর কোনো কোচেরই।
লুচেস্কুর কোচিংয়ে সবসময়ই আকর্ষণীয়, আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে দলগুলো। বিভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এক অসাধারণ কৌশলী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
টাচলাইনে নিজের বিশাল ছাপ রাখার আগেই তিনি মূলত উইঙ্গার হিসেবে গড়েছিলেন দারুণ এক খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার। দিনামো বুখারেস্টের হয়ে জিতেছেন ৭টি লিগ শিরোপা। তিনি রোমানিয়ার হয়ে ৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু থেকে রেকর্ড গড়া কোচিং ক্যারিয়ার—পুরো পথজুড়েই ফুটবলের প্রতি তার অবিচল ভালোবাসা লেখা থাকেবে স্বর্ণাক্ষরেই।

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হারের পর এবার দ্বিতীয় লেগে বাভারিয়ানদের দূর্গ জয় করে ফেরার কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের। তবে দলটা রিয়াল মাদ্রিদ বলেই শেষ কথা বলার উপায় নেই। ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়াও বললেন, রিয়ালের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের ৪০ মিনিটে লুইস দিয়াজের গোলে পিছিয়ে যায় রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ২০ সেকেন্ডের মাথায় হ্যারি কেইন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
৭৪ মিনিটে এমবাপে বাঁ-পায়ের জাদুতে একটি গোল শোধ করেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরে ফরাসি তারকার গোল হলো ১৪টি, এখন পর্যন্ত প্রতিযোগীতার সর্বোচ্চ গোলদাতাও এমবাপে । তারকা ফরোয়ার্ডের এই গোলেই আগামী বুধবার মিউনিখে ফিরতি লেগের লড়াইয়ে এখনও টিকে আছে রিয়াল।
ম্যাচ শেষে আরবেলোয়া বলেন,
‘এখনও টিকে আছি, এটা পরিষ্কার। মাত্র এক গোলে পিছিয়ে। আমরা যেকোনো জায়গায় জেতার ক্ষমতা রাখি। ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলে তা কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন হতো... আমি ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বলছিলাম, একটি গোল আমাদের লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনবে। আমরা এখনও টিকে আছি কারণ মাদ্রিদ যেকোনো মাঠে জিততে পারে।’
হাঁটুর চোট থেকে ফিরে শনিবার মায়োর্কার বিপক্ষে শুরুর একাদশে ফেরেন এমবাপে। বিরতির পর নিজের চেনা রূপে ফেরার আভাস দিয়ে রাখলেন বায়ার্নের বিপক্ষে গোল করে। জার্মান জায়ান্টদের বিপক্ষে লক্ষ্যে শট রেখেছেন চারটি, গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন দুটি। লা লিগায় মায়োর্কার বিপক্ষে হারের পর তাকে নিয়ে শুরু হওয়া মৃদু সমালোচনা যেন তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিলেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
আরবেলোয়া শিষ্যের সমালোচনার জবাবে বলেন,
‘আমার কাছে এমবাপেকে অত্যন্ত নিবেদিত মনে হয়েছে। সে তাদের রক্ষণভাগকে সমস্যায় ফেলেছে এবং প্রমাণ করেছে কেন সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। সে প্রতিপক্ষের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি হয়ে ছিল এবং আমরা এমবাপেকে এই রূপেই দেখতে চাই।’
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া বাকি সব শিরোপা থেকে ছিটকে গেছে রিয়াল। মায়োর্কার কাছে হারের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে রিয়াল এখন ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগই এখন এই মৌসুমে তাদের শিরোপা জেতার সেরা সুযোগ।
বায়ার্নের বিপক্ষে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচ নিয়ে আরবেলোয়া বলেন,
‘এই হারটি এড়ানো যেত, যদি দ্বিতীয়ার্ধে ভাগ্য কিছুটা সহায় থাকতো। আমরা দুটি ভুল করেছি এবং দুবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, যা আমাদের এড়ানো উচিত ছিল। এই ধরনের দলের বিরুদ্ধে এমন ভুল করলে তার চড়া মূল্য দিতে হয়।’
এমবাপের গোল নিয়ে রিয়াল কোচ বলেন,
‘গোলটি আমাদের আশা জুগিয়েছে... কাজটা সহজ হবে না, তবে মিউনিখে গিয়ে জেতার ক্ষমতা যদি কোনো দলের থাকে, তবে সেটি রিয়াল মাদ্রিদ।’

এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়াম নিজেদের দূর্গ বানিয়ে রেখেছিল স্পোর্টিং লিসবন। ঘরের মাঠে টানা ১৭ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়ে পর্তুগালের ক্লাবটি। তবে আর্সেনালের বিপক্ষে থামল তাদের জয়রথ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গানারদের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে রুই বোরগেসের দল।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় যোগ করা সময়ের গোলে কোনোমতে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে রইল মিকেল আরতোর দল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে যোগ করা সময়ে গোলটি করেছেন কাই হাভার্টজ।
ঘরের মাঠে ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ্য তৈরি হয় স্পোর্টিং লিসবনের। নিজেদের অর্ধ থেকে সতীর্থের ক্রস ধরে এগিয়ে যান মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ডেভিড রায়া। আর্সেনাল গোলকিপারের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে তা ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩তম মিনিটে
বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার শটে বল জালে পাঠান মার্তিন জুবেমেন্দি। কিন্তু ভিক্টর ইয়োকেরেশ
অফসাইডে থাকায় সে গোল বাতিল হয়। তবে যোগ করা সময়ে দলকে উৎসব এনে দেন কাই হাভার্টজ।
দুই মিনিট যোগ করা সময়ের
প্রথম মিনিটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল এনে দেন হাভার্টজ। গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ক্রস
বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি।
ম্যাচে ৫৬ শতাংশ পজেশন
রেখে গোলের জন্য সাতটি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে আর্সেনাল। লিসবনের ১১ শটের
পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।

পরিসংখ্যান আর খাতা-কলমের হিসাব—সবকিছুই ছিল রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে। আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামও চিরচেনা, ঠিক যেন হাতের তালুর মতোই। তবুও চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগের সুবিধা করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। সুযোগ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে ১৫বারের শিরোপাধারীদের। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে ১৫ এপ্রিল দুই দলের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে গোলের লক্ষ্যে ৯ বার শট নিয়ে একটি থেকে গোল আদায় করে রিয়াল। অন্যদিকে গোলমুখে ৮টি শট নিয়ে দুটি থেকে পয়দা লুটেছে বায়ার্ন। ৪৮ শতাংশ বল দখলে ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের, ৫২ শতাংশ বায়ার্নের। বায়ার্নের বিপক্ষে সর্বশেষ ৯ ম্যাচে অপরাজিত রিয়াল। আজ সে বৃত্ত ভাঙল বাভারিয়ানরা।
আরও পড়ুন
| দিয়াসের গোলে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে বায়ার্ন |
|
আক্রমন-প্রতিআক্রমণের ম্যাচে বাস্কেটগেইমে পরিণত হয়েছিল ম্যাচ। দুই দলের গোলকিপার যেন গোল সেইভে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন ৯০ মিনিট। আন্দ্রে লুনিনকে ৫টি নিশ্চিত গোল সেইভ করেছেন। তার ক্লিয়ারেন্স সংখ্যা ২৪টি। বিপরীতে নয়্যারের ২০টি। তিনি ৯টি নিশ্চিত গোল সেভ করেছেন। বোঝাই যাচ্ছে, দুই গোলকিপার নৈপুণ্যতা না দেখালে এই ম্যাচে গোলসংখ্যা আরও বাড়তো।
বার্নাব্যুতে ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে ডি বক্সের কাছে ডিন হুইসেনের ব্লকে মাটিতে পড়ে যান মাইকেল ওলিসে। তবে সেখান থেকে স্পটকিক নিয়ে সুবিধা করতে পারেননি ফরাসি উইঙ্গার। দুই মিনিট পর নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় লিভারপুল। দায়োত উপামেকানোর ডান পায়ের শটের গতি আরেকটু বাড়লেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অতিথি দলের।
বায়ার্নের মুর্হুমুহু অ্যাটাকের পর পূর্ণ রিদমে ফিরতে অবশ্য সময় বেশি নেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ষোড়শ মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভ করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপে। তার সেই শট রুখে দেন ম্যানুয়েল নয়্যার।
আরও পড়ুন
| পিএসজির মুখোমুখির আগে আসল সত্য জানালেন স্লট |
|
১৭তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় রিয়াল। এ যাত্রাতেও বাভারিয়ানদের ত্রাণকর্তা নয়্যার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়দের ডানপায়ের বুলেট গতির শট বাদিকে ঝাঁপিয়ে বারের বাইরে পাঠিয়ে দেন এই জার্মান গোলকিপার।
২৫তম মিনিটে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে নয়্যারকে সামনে পান এমবাপে। তবে মিডফিল্ড থেকে পাঠানো ক্রসের গতি ছিল একটু বেশিই। যে কারণে চেষ্টা বৃথা যায় ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
অসাবধানতায় অঘটন ঘটতে পারতো ২৭তম মিনিটে। গ্রানব্রি বড় ধরণের সুযোগ মিস করেছেন এসময়। আন্দ্রে লুনিনকে ব্যাকপাস দিতে চেয়েছিল থিয়াগো। সেটি এতই ধীরগতির ছিল যে গ্রানব্রির নাগালে চলে আসে। তার সে শটে জোর ছিল না। তাতে মেলেনি সাফল্য।
২৮তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপে। দীর্ঘসময় গোলখরায় ভোগা রিয়াল রাইট উইঙ্গার নুয়্যারকে একা পেয়েও লক্ষ্যবেদ করতে পারেননি। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভের পর ডান পাশ দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। বুলেটগতির নিচু শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু লুনিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
আরও পড়ুন
| বায়ার্নের শুরুর একাদশে কেইন, রিয়ালে ভালভার্দে |
|
৩২তম মিনিটে কারেরাসের লং রেঞ্জের ক্রসের সূত্র ধরে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজায় রিয়াল। বল নিয়ে নিজেদের মধ্যে চালাচালি করেন আর্দা গুলের, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ভালভার্দে। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি সে পরিকল্পনা। বরং পাল্টা আক্রমণে ওঠে বায়ার্ন। যদিও কেইন আটকা পড়ে রিয়ালের ডিফেন্স লাইনে।
৩৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন চুয়ামেনি। সেটপিসে আবারও স্পটকিক পায় বায়ার্ন মিউনিখ। তবে কাজে দেয়নি এই অর্জন।
৪০তম মিনিটে লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। গ্রানব্রির ক্রস থেকে ডান পায়ের জাদু দেখান কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার ষষ্ঠ গোল।
কেইন কিছু জায়গা পেয়ে বল ধরে রাখেন এবং তা গ্রানব্রির কাছে পাঠান। যিনি আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পেছনে স্লাইড করেন। দিয়াস ঠিক সময়ে দৌড়ে এগিয়ে যান এবং চতুরতার সঙ্গে বলটি নিচের ডান কোণে গড়ান। তাতেই ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।
আরও পড়ুন
| ‘হুইলচেয়ারে হলেও মাঠে নামবে কেইন’ |
|
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিড দ্বিগুণ করে বায়ার্ন। রেফারির বাঁশির মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাভারিয়ানরা।
রিয়াল সহজে বল হারালে ওলিসে ডান দিক দিয়ে দৌড়ে ভিতরে ক্রস দেন। সে ক্রস রিসিভ করা মাত্রই নিচু শটে জালে জড়ান কেইন। মৌসুমের ইংলিশ ফরোয়ার্ডের এটি ৪৯তম গোল এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১তম গোল।
৫৬তম মিনিটে নিজের গোল সংখ্যা দ্বিগুণ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন কেইন। ভালভার্দের সঙ্গে বল রিকভারিতে ছিলেন কিমিখ। সুযোগ বুঝে ছো মেরে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন কেইন। বল নিয়েই ভোঁ দৌড়। নে শট। বাধায় বিফলে যায় তা।
৬০তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র যে ভুল করলেন, তার প্রায়শ্চিত তিনি কিভাবে করবেন, সটো নিয়েই ভাবতে হবে ব্রাজিল ফরোয়ার্ডকে। নিজেদের অর্ধ থেকে পাঠানো বল রিকভার করতে ব্যর্থ হন জোনাথন তাহ। আর বল নিয়ে ওয়ান এন্ড পজিশনে পৌছেন ভিনি। নয়্যারের সামনে গড়বড় করেন বসেন মুহূর্তে। বলটি বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মানে তিনি।
আরও পড়ুন
| ভিয়েতনামের কাছে হেরে এশিয়ান কাপ শেষ বাংলাদেশের |
|
৬২তম মিনিটে ডিন হুইসেন ও থিয়াগোকে উঠিয়ে এদের মিলিতাও ও জুড বেলিংহামকে মাঠে নামান আরবেলোয়া। তার ঠিক মিনেট তিনেক পরই তৃতীয়বারের মতো সহজ গোল মিস করেন এমবাপে। তাহ ও লাইমারকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান তিনি। তবে শেষটা সুন্দর করতে পারনেনি মোটেও। তবে একটু চতুরতা কিংবা কয়েক গজ ডানে শট নিলেও বায়ার্নের জালে বল জড়ানোর সুযোগ ছিল।
৬৮তম মিনিটে দুইজনকে বদলি করেন ভিনসেন্ট কোম্পানি। গ্রানব্রি ও লাইমারকে তুলে জামাল মুসিয়ালা ও আলফন্সো ডেভিসকে নামান তিনি। এরপরই তাহয়ের ট্যাকেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এমবাপে। বাধায় পড়ে যেন নিজেকে দারুণভাবে ফিরে পান ফরাসি ফরোয়ার্ড। আদায় করেন গোল। সব লিগ মিলিয়ে ৬ ম্যাচ পর গোলখরা কাটালেন তিনি।
৭৪তম মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড ডান পাশ থেকে সুযোগ খুঁজে বের করেন এবং পেছনের পোস্টের দিকে নিচু ক্রস পাঠান। এমবাপে সেখানে অপেক্ষা করে ছিলেন এবং বাঁ-পায়ের জাদুতে বল জালে জড়িয়ে দেন। যদিও নয়্যার চেষ্টা করেছিলেন।এবার আর বুন্দেসলিগা জায়ান্টদের বাঁচাতে পারেননি তিনি।
যোগ করা সমেয়র প্রথম মিনিটে কর্নার আদায় করে রিয়াল। দুরুহ কোণ থেকে নেওয়া আলেকজান্ডার আর্নল্ডের হাওয়ায় বাসানো সে শট কোনো কাজে আসেনি। বরং লিড বড় করার সযোগ পেয়ে বসে বায়ার্ন। কাউন্টার অ্যাটাকে যান মুসিয়ালা ও দিয়াস। মুসিয়ালা পা ছোঁয়ালেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ম্যাচ শেষ করতে পারত ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।

পরিসংখ্যান আর খাতা-কলমের হিসাব—সবকিছুই রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে। আর কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের হাতের তালুর মতো চিরচেনা সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম। তবুও চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে সুবিধা করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। একের পর এক সুযোগ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে ১৫বারের শিরোপাধারীদের। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যেতে হয়েছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে গোলের লক্ষ্যে ৪ বার শট নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে রিয়াল। অন্যদিকে গোলমুখে তিনটি শট নিয়ে একটি বল জালে জড়িয়েছেন দিয়াস। প্রথমার্ধে ৪১ শতাংশ বল দখলে ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের, ৫৪ শতাংশ বায়ার্নের।
আরও পড়ুন
| পিএসজির মুখোমুখির আগে আসল সত্য জানালেন স্লট |
|
ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে ডি বক্সের কাছে ডিন হুইসেনের ব্লকে মাটিতে পড়ে যান মাইকেল ওলিসে। তবে সেখান থেকে স্পটকিক নিয়ে সুবিধা করতে পারেননি ফরাসি উইঙ্গার।
দুই মিনিট পর নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় লিভারপুল। দায়োত উপামেকানোর ডান পায়ের শটের গতি আরেকটু বাড়লেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অতিথি দলের।
বায়ার্নের মুর্হুমুহু অ্যাটাকের পর পূর্ণ রিদমে ফিরতে অবশ্য সময় বেশি নেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ষোড়শ মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভ করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপে। তার সেই শট রুখে দেন ম্যানুয়েল নয়্যার।
১৭তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় রিয়াল। এ যাত্রাতেও বাভারিয়ানদের ত্রাণকর্তা নয়্যার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়দের ডানপায়ের বুলেট গতির শট বাদিকে ঝাঁপিয়ে বারের বাইরে পাঠিয়ে দেন এই জার্মান গোলকিপার।
২৫তম মিনিটে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে নয়্যারকে সামনে পান এমবাপে। তবে মিডফিল্ড থেকে পাঠানো ক্রসের গতি ছিল একটু বেশিই। যে কারণে চেষ্টা বৃথা যায় ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
আরও পড়ুন
| বায়ার্নের শুরুর একাদশে কেইন, রিয়ালে ভালভার্দে |
|
অসাবধানতায় অঘটন ঘটতে পারতো ২৭তম মিনিটে। গ্রানব্রি বড় ধরণের সুযোগ মিস করেছেন এসময়। আন্দ্রে লুনিনকে ব্যাকপাস দিতে চেয়েছিল থিয়াগো। সেটি এতই ধীরগতির ছিল যে গ্রানব্রির নাগালে চলে আসে। তার সে শটে জোর ছিল না। তাতে মেলেনি সাফল্য।
২৮তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপে। দীর্ঘসময় গোলখরায় ভোগা রিয়াল রাইট উইঙ্গার নুয়্যারকে একা পেয়েও লক্ষ্যবেদ করতে পারেননি। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভের পর ডান পাশ দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। বুলেটগতির নিচু শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু লুনিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
৩২তম মিনিটে কারেরাসের লং রেঞ্জের ক্রসের সূত্র ধরে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজায় রিয়াল। বল নিয়ে নিজেদের মধ্যে চালাচালি করেন আর্দা গুলের, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ভালভার্দে। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি সে পরিকল্পনা। বরং পাল্টা আক্রমণে ওঠে বায়ার্ন। যদিও কেইন আটকা পড়ে রিয়ালের ডিফেন্স লাইনে।
আরও পড়ুন
| ‘হুইলচেয়ারে হলেও মাঠে নামবে কেইন’ |
|
৩৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন চুয়ামেনি। সেটপিসে আবারও স্পটকিক পায় বায়ার্ন মিউনিখ। তবে কাজে দেয়নি এই অর্জন।
৪০তম মিনিটে লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। গ্রানব্রির ক্রস থেকে ডান পায়ের জাদু দেখান কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার ষষ্ঠ গোল।
কেইন কিছু জায়গা পেয়ে বল ধরে রাখেন এবং তা গ্রানব্রির কাছে পাঠান। যিনি আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পেছনে স্লাইড করেন। দিয়াস ঠিক সময়ে দৌড়ে এগিয়ে যান এবং চতুরতার সঙ্গে বলটি নিচের ডান কোণে গড়ান। তাতেই ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।