
নেপালের ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় সম্ভবত সবচাইতে বড় ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়টি এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে—হিমালয়ের দেশটিতে পা রাখতে পারে ক্রিকেটের পরাশক্তি ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ২০২৭-৩১ সালের ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) চক্রে নেপালের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালের ক্রিকেটে এক অভূতপূর্ব উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে কোনো আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছিল নেপাল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশ পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে নেপাল সফরে যায়নি।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জটা কঠিন করে দিচ্ছেন শান্ত-মুমিনুল |
|
মাঠের ক্রিকেটে দুর্দান্ত সব সাফল্যে ডানা মেলা নেপাল ক্রিকেটের পরিমণ্ডল দ্রুতই বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত মার্চে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড ঘোষণা করেছে, তারা নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিএএন) সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করেছে। এই চুক্তির অধীনে ২০২৬-২৭ সালের শীতকালীন মৌসুমে নেপালে একটি সাদা বলের সিরিজ (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) খেলার পরিকল্পনা রয়েছে আইরিশদের।
গত ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও নেপাল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালি সমর্থকদের উন্মাদনার মাঝে সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ বলে মাত্র ৪ রানে জয় পায় ইংল্যান্ড। মূলত সেই ম্যাচের পর থেকেই নেপাল ক্রিকেটের সম্ভাবনা নিয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়।
সেই ম্যাচের পর নেপালের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমানে ক্যান-এর সম্পাদক পারস খড়কা ভারতে ইসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নেপাল ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
ইসিবি বর্তমানে অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ২০২৭-৩১ সালের এফটিপি চক্রের সূচি নিয়ে কাজ করছে। তবে চূড়ান্ত সূচি নির্ভর করছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন ফরম্যাট নিয়ে আইসিসি-র সিদ্ধান্তের ওপর। বিশেষ করে, প্রতিটি সিরিজে ন্যূনতম দুটি টেস্ট থাকার নিয়মটি বহাল থাকবে কি না—সেটি একটি বড় বিবেচ্য বিষয়।
ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক সূচি চরম ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও, ইসিবি নেপালে পুরুষ দলের একটি সংক্ষিপ্ত সফরের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। এই সফরে সম্ভবত দুই বা তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ থাকতে পারে। প্রস্তাবিত এই সফরটি এশিয়ায় ইংল্যান্ডের অন্য কোনো সাদা বলের সিরিজের (যেমন ভারত সফর) আগে যুক্ত করা হতে পারে। এতে ইংল্যান্ডের মূল ভ্রমণসূচিতে মাত্র কয়েকদিন বাড়তি সময় লাগবে, যা আবার প্রস্তুতির জন্যও বেশ কাজে দেবে।
No posts available.
১০ মে ২০২৬, ৬:২৫ পিএম

বাঁ-হাঁটুর চোট কাটিয়ে অবশেষে নেটে ব্যাটিং অনুশীলনে ফিরেছেন বাবর আজম। তাতে সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের তারকা এই ব্যাটারের খেলার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো।
বাঁ-হাঁটুর চোটের কারণে মিরপুর টেস্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন বাবর। পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক দ্রুত সেরে উঠছেন এবং দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলন শুরু করেছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘পাকিস্তান অবজারভার’ দলের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিকের তত্ত্বাবধানে বাবর আজম দীর্ঘসময় ব্যাটিং সেশন করেছেন। এ সময় দলের ফিজিওথেরাপিস্ট এবং ট্রেনার তার শারীরিক অবস্থার ওপর কড়া নজর রাখেন।
অনুশীলন চলাকালীন বাবরের মধ্যে কোনো অস্বস্তি দেখা যায়নি। এমনকি ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার উইকেটের মধ্যে দৌড়ানোর (রানিং বিটুইন দ্য উইকেট) ড্রিলগুলোও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে করেছেন, যা তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার ইতিবাচক ইঙ্গিত।
আরও পড়ুন
| শক্তিশালী দল নিয়ে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া |
|
আগামী ১৬ থেকে ২০ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাবরের ইনজুরি খুব একটা গুরুতর ছিল না। মূলত সতর্কতা হিসেবেই প্রথম টেস্টে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। আরও জানা গেছে, বাবর নিজে দল থেকে বাদ পড়ার কোনো অনুরোধ করেননি; এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল।
বাবর আজম এখন উড়ন্ত ছন্দে আছেন। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসরে ৫৮৮ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন তিনি।

জুনে তিনটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশে আসবে অস্ট্রেলিয়া। তিন তারকা পেসার প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজেলউডকে বিশ্রামে রেখে দল ঘোষণা করেছে তারা। প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক অলি প্যাক এবং অলরাউন্ডার লিয়াম স্কট। সফরে কামিন্সের জায়গায় নেতৃত্ব দেবেন মিচেল মার্শ।
বাংলাদেশ সফরের আগে ৩০ মে থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তিন তারকা পেসার থাকছেন না ওই সিরিজেও। পাকিস্তান সফরে অজি নতুন মুখ ব্যাটসম্যান অলিভার পিক।
বছরের শুরুতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন অলিভার। বিশ্বকাপে দলের শেষ দুই ম্যাচে করেছিলেন সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রজন্মের দারুণ প্রতিভাবান ব্যাটার মনে করা হয় তাকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তেমন কিছু করতে না পারলেও মূলত প্রতিভার কারণেই সুযোগ পেলেন ১৯ বছর বয়সী ব্যাটার।
আরও পড়ুন
| সোহানের দারুণ ব্যাটিংয়ে জয়ে ফিরল বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স |
|
আইপিএলের প্লে-অফের লড়াই থেকে ছিটকে পড়া কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্যামেরন গ্রিন ও লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের জশ ইংলিস আছেন দুই সফরের দলেই। ট্রাভিস হেড, কুপার কনোলি, জেভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডয়ারশুইস আইপিএল শেষ করে ভারত থেকে বাংলাদেশে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
ওয়ানডে দলের নতুন মুখ লিয়াম স্কট ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন সংস্করণেই নিয়মিত পারফর্ম করে আসছেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ঘরোয়া ওয়ানডে কাপের সেরা ক্রিকেটার ছিলেন তিনি, এই মৌসুমে ছিলেন শেফিল্ড শিল্ডের সেরা ক্রিকেটার। এবারের বিগ ব্যাশে দ্বিতীয় সেরা ক্রিকেটার ছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।
৭টি ওয়ানডে খেলা পেসার বিলি স্ট্যানলেক ৭ বছর পর ফিরেছেন ওয়ানডে দলে। তবে শুধু পাকিস্তান সফরে রাখা হয়েছে তাকে। স্পিনিং অলরাউন্ডার ম্যাথু শর্টও আছেন পাকিস্তান সফরে।
পাকিস্তানে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ তিনটি ৩০ মে, ২ জুন ও ৪ জুন। বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজে তিন ম্যাচ মিরপুরে ৯, ১১ ও ১৪ জুন। চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১৭, ১৯ ও ২১ জুন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি মনে করেন, অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতি নতুন ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুনদের সুযোগ পাওয়াটা সবসময়ই রোমাঞ্চকর। অভিজ্ঞ এবং নবাগতদের সংমিশ্রণে এই উপ-মহাদেশীয় সফরের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করা হয়েছে।’
প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজেলউড এই সময়টিকে মূলত বিশ্রামের পাশাপাশি প্রস্তুতির কাজে লাগাবেন। আগামী আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যস্ত সূচিকে সামনে রেখে নিজেদের ফিট রাখতেই তাদের এই সিদ্ধান্ত।
পাকিস্তানে ওয়ানডে সিরিজের অস্ট্রেলিয়া দল:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), অ্যালেক্স ক্যারি, ন্যাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, রাইলি মেরেডিথ, অলিভার পিক, ম্যাট রেনশ, তানভির স্যাঙ্ঘা, লিয়াম স্কট, ম্যাথু শর্ট, বিলি স্ট্যানলেক, অ্যাডাম জাম্পা।
বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজের অস্ট্রেলিয়া দল:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনলি, বেন ডোয়ার্শাস, ন্যাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাট রেনশ, তানভির স্যাঙ্ঘা, লিয়াম স্কট, অ্যাডাম জ্যাম্পা।
বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি সিরিজের অস্ট্রেলিয়া দল:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনলি, টিম ডেভিড, জোয়েল ডেভিস, ন্যাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যারন হার্ডি, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইংলিস, স্পেন্সার জনসন, ম্যাথু কুনেমান, রাইলি মেরেডিথ, জশ ফিলিপি, ম্যাট রেনশ, অ্যাডাম জাম্পা।

দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে ধাক্কা খেলেও পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াল বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখলেন নুরুল হাসান সোহান।
ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ডিএলএস পদ্ধতিতে ১০ রানে হারিয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪৬.৩ ওভারে ২৩৫ রানের অলআউট হয় তারা। পরে বৃষ্টির কারণে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ ওভারে ১৯৪ রান। জবাবে ৩২.১ ওভারে ১৮৩ রানে অলআউট হয়ে যায় গাজী গ্রুপ।
তিন ম্যাচে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের এটি দ্বিতীয় জয়।
পাঁচ নম্বরে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন সোহান। ৬০ বলের ইনিংসে ৬ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মারেন বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স অধিনায়ক। এছাড়া ওপেনার ইমরানউজ্জামান খেলেন ১২ চারে ৭৭ বলে ৫৯ রানের ইনিংস।
পরে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের লেগ স্পিন জাদুতে তেমন কিছু করতে পারেনি গাজী গ্রুপ। ৬ ওভারে ৩৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন বিপ্লব। এছাড়া নাহিদুল ইসলাম নেন ২ উইকেট।
দিনের আরেক ম্যাচে লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জকে ডিএলএস পদ্ধতিতে ২০ রানে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪৭.৫ ওভারে ২২৭ রানে অল আউট হয় রূপগঞ্জ।
জবাবে প্রাইম ব্যাংক ২৫.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০৮ রান করার পর নামে বৃষ্টি। পরে ডিএলএস পদ্ধতিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় তাদের।
রুপগঞ্জের পক্ষে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৫৬ বলে ৬১ রান করেন হাবিবুর রহমান সোহান। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ৩ উইকেট নেন আবু হায়দার রনি। রান তাড়ায় প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ৭৭ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন শাহাদাত হোসেন দীপু।
এছাড়া বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে ডিএলএস পদ্ধতিতে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৬০ রানে হারিয়েছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব।
আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ৩০১ রানের পুঁজি পায় গুলশান। পরে বৃষ্টির কারণে অগ্রণী ব্যাংকের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬ ওভারে ১৯৩ রান। এর জবাবে ২৪.২ ওভারে ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক।
গুলশানের বড় জয়ের নায়ক শাহাদাত হোসেন সবুজ। ১৭ চার ও ১ ছক্কায় ১৩১ বলে ১৩২ রান করেন তিনি। শাহরিয়ার সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ৯৪ বলে ৭৫ রান। দুজন মিলে গড়েন ১৮৭ রানের জুটি।
অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে একাই চেষ্টা করেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। ৯ চারে ৫৭ বলে ৫৩ রান করেন তরুণ ওপেনার।
গুলশানের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন নাঈম হোসেন সাকিব, আব্দুর রহিম ও ফরহাদ রেজা।

প্রথম দুই রাউন্ডের ব্যর্থতা দারুণভাবেই পুষিয়ে দিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে একের পর এক ছক্কা মেরে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি উপহার দিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ওপেনার। তার ঝড়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টানা তৃতীয় জয়ের পথে ঐতিহ্যবাহী দলটি।
ইউ ল্যাব ক্রিকেট মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৫ চারের সঙ্গে ১২টি ছক্কা মেরে ১৩৬ বলে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলেন ২৬ বছর বয়সী ওপেনার। এই ইনিংসের সৌজন্যে ৬ উইকেটে ৩৪৫ রানের বড় পুঁজি পেয়েছে মোহামেডান।
তবে এদিনই আসেনি ম্যাচের ফল। কারণ বৃষ্টিতে খেলার অনুপযোগী হয়ে যায় মাঠ। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে রূপগঞ্জ টাইগার্স ১৬.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৫৩ রান করার পর বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এখান থেকেই সোমবার আবার শুরু হবে খেলা।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা সময় নেন নাঈম। দ্বিতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৬ বলে ৪৬ রান করে আউট হন ইমন। রয়েসয়ে খেলে ৮৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন নাঈম।
এরপর শুরু করেন তাণ্ডব। সেখান থেকে সেঞ্চুরি ছুঁতে তার লাগে আর মাত্র ৩৭ বল। পরে আরও ১৬ বল থেকে নেন ৪৫ রান। পঞ্চম উইকেটে ইয়াসির আলি রাব্বির সঙ্গে মিলে মাত্র ৭৪ বলে ১২৪ রানের জুটি গড়েন নাঈম।
সব মিলিয়ে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি করে ৫ চার ও ১২ ছক্কায় ১৪৫ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার।
লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এক ইনিংসে এর চেয়ে বেশি ছক্কা মারতে পেরেছেন শুধু সৌম্য সরকার। ২০১৮-১৯ মৌসুমের লিগে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ২০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে ১৬টি ছক্কা মেরেছিলেন সৌম্য।
এছাড়া ২০২৩-২৪ মৌসুমের লিগে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে একই দিনে ইনিংসে ১২টি করে ছক্কা মেরেছিলেন জাকির হাসান ও মাহফুজুর রহমান রাব্বি। এবার তাদের সঙ্গী হলেন নাঈম।
নাঈমের তাণ্ডবের সঙ্গে ইয়াসির রাব্বির ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৯ রান। যার সৌজন্যে সাড়ে তিনশর কাছে যায় মোহামেডান।
পরে রান তাড়া করতে নেমে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর তোপে পড়ে রূপগঞ্জ টাইগার্স। ৫ ওভারের স্পেলে ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার। এছাড়া অন্য উইকেট নেন মুশফিক হাসান।

মিরপুরের উইকেট যে চেহরারই হোক না কেনো, বাংলাদেশের স্পিনাররা গর্জে উঠবে এই পিচে। এটাই মিরপুরের পিচের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে সবুজাভ পিচ প্রস্তুত করেও বাংলাদেশ পেসারদের গর্জন দেখতে পারেনি বিসিবি। অফ স্পিনার মিরাজের ছোবলে (৩৮-৫-১০২-৫) পাকিস্তানকে ৩৮৬-তে থামিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ২১০ মিনিট নির্বিঘ্নে ব্যাট করে ১৭৯/১ স্কোরে লিডের স্বপ্ন দেখেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেট জুটির ১১৯ রানও পাকিস্তানকে দেখিয়েছে লিডের স্বপ্ন। তবে দিনের প্রথম সেশনে উইকেট থেকে অ্যাডভান্টেজ না পেয়েও হেসেছে বাংলাদেশ। এই সেশনে ৭২ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। প্রথম সেশনে তাসকিন (৭-১-২১-২)-মিরাজের (১১-২-২৪-২) একটি স্পেলে তারাই নেমেছে ব্যাকফুটে। মাত্র ২০ রানের মধ্যে সফরকারী দলের ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে প্রথম ইনিংসে লিডের পথটা প্রশস্ত করেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির পর ৫৩ মিনিটে পাকিস্তান ইনিংসে এক দমকা হাওয়া বইয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। এই পর্বে মাত্র ৩৭ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান শেষ ৪ উইকেট।
বেলা ২টা ১৫ মিনিটে মুষলধারে বৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য আশির্বাদ হয়েছে। ২ ঘন্টা খেলাহীন কাটিয়ে মাঠে ফেরা বাংলাদেশ
দিনের প্রথম ঘন্টায় ৪৭ রান যোগ করে হারিয়েছে ২ উইকেট। পেস বোলার তাসকিনের ৪ ওভারের স্পেলে (৪-১-১২-২) আজান (১০৩), শান মাসুদ (৯)ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। দিনের প্রথম ড্রিংকসের পরের ঘন্টাটি ছিল অফ স্পিনার মিরাজের। মিডল অর্ডার সউদ শাকিল (০) এবং অভিষিক্ত ওপেনার আবদুল্লাহ ফজলকে (৬০) ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। উইকেট পড়তে পারতো আরও একটি। তাসকিনের বলে সালমান আগা উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। তবে ওভার স্টেপিংয়ে 'নো' ডেলিভারিতে গণ্য হওয়ায় 'ডাক' এর অপবাদ থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে ব্যাটিংয়ে থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরির আভাস দিয়েছিলেন। তৃতীয় দিনের ৫ম ওভারে নাহিদ রানার শর্ট বলে গালি অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারিতে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। ১৯৬৪ সালে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুুরির রেকর্ড করেছিলেন খালিদ ইবাদুল্লাহ। অভিষেকে ত্রয়োদশতম পাকিস্তানি সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ডে তৃতীয় পাকিস্তানি তিনি। ২০০১ সালে মুলতানে তৌফিক ওমর, ২০০৩ সালে করাচিতে ইয়াসির হামিদের পর চলমান টেস্টে আজান আইওয়াস (১০৩)।
প্রথম উইকেট জুটিতে ইমাম উল হক-এর সঙ্গে ১০৬ এবং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আবদুল্লাহ ফজলকে নিয়ে ১০৪ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো আজানের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ছিল ১৭১ মিনিট। ১৬৫ বল মোকাবেলায় মেরেছেন ১৪টি চার। সেঞ্চুরির পর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে তার। তাসকিনের চতুর্থ এবং তৃতীয় দিনের প্রথম স্পেলের তৃতীয় ওভারে শর্ট অব লেন্থ বলে ফার্স্ট স্লিপে শান্ত'র হাতে দিয়েছেন ক্যাচ এই অভিষেক সেঞ্চুরিয়ান। কাঁধ সমান উঁচু থেকে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন শান্ত।
দ্বিতীয় দিনে ২টি ক্যাচ ড্রপে আফসোস করেছে বাংলাদেশ দল। তবে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে দুটি দর্শনীয় ক্যাচে কুড়িয়েছে প্রশংসা। তাসকিনের বলে শান মাসুদকে পয়েন্টে লো ক্যাচটি দূর্দান্ত ডাইভে নিয়েছেন ক্যাচ সাদমান। দ্বিতীয় দিন থেকে এক এন্ডে টানা বল করে যাওয়া অফ স্পিনার মিরাজ প্রথম উইকেটের মুখ দেখেছেন ২৩ তম ওভারে। সুইপ করতে যেয়ে সউদ শাকিল হয়েছেন এলবিডাব্লুউ (৪ বলে ০)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে মিডল এন্ড অফ স্ট্যাম্পের উপরে সম্ভাব্য আঘাতের দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন টিভি আম্পায়ার। ২ ওভার পর মিরাজের পরবর্তী শিকার আবদুল্লাহ ফজল। অভিষেকে হাফ সেঞ্চুরিয়ান আবদুল্লাহ ফজল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে মিড অনে তাইজুলের হাতে দিয়েছেন ক্যাচ (১২০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৬০)।
লাঞ্চের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে রিজওয়ান-সালমান আগা ১১৯ রান যোগ করে লিডের কক্ষপথে নিয়ে গেছেন পাকিস্তানকে। দুজন করেছেন পর পর ফিফটি। তবে আকাশে মেঘ দেখে ঝটপট রান নেয়ার প্রবণতা দেখে রিজওয়ানকে লফটেড শট খেলতে প্রলুব্ধ করে সফল বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে পায়ের পেশিতে টান পড়ে মিড অফে ক্যাচ দিয়েছেন রিজওয়ান (৭৯ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৫৯)।
বৃষ্টির পর পুনরায় খেলা শুরুর ১২ মিনিটের মাথায় নাহিদ রানার শর্ট বলে সেকেন্ড স্লিপের ফিল্ডার শান্ত'র হাতে ধরা পড়েছে সালমান আগা (৯৪ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫৮)। শেষ স্পেলে (৪-১-৪-২) পর পর দুই ওভারে নোমান আলী (২৯ বলে ২) এবং শাহিন শাহ আফ্রিদিকে (১০ বলে ৬) ফিরিয়ে দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪তম বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন অফ স্পিনার মিরাজ। ১৩ মাস পেলেন টেস্টে এক ইনিংসে মিরাজ ৫ উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তাঁর দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেটের কৃতিত্ব।
বৃষ্টির পর পুনরায় যখন খেলা শুরু হয়, তখন ফ্লাড লাইটের আলোয় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খেলা হওয়ার কথা ছিল। তবে ন্যাচারাল আলোর স্বল্পতায় ৫টা ৩০ মিনিটে খেলা থামিয়ে দিয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে এসে বাংলাদেশ দল ১১ বলে যোগ করে উইকেটহীন ৭ রান করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৩৪ রানের লিড পেয়েছে।