১৪ মার্চ ২০২৬, ৫:১৭ পিএম

শীর্ষ দুই দল বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসির লড়াই। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, কথার লড়াই, মাঠে যুদ্ধাংদেহী পরিবেশ। মাঠের বাইরে গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের চরম উত্তেজনা, হাতাহাতি; শেষ পর্যন্ত ৫ গোলের রোমাঞ্চ জিতল বসুন্ধরা কিংস।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শনিবার ফর্টিসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রবার্তো মারিও গোমেজের দল। হ্যাটট্রিক করেছেন কিংসের দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। ফর্টিসের হয়ে গোল দুটি করেন ওনিয়েকাচি ওকাফর ও অনন্ত তামাং।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এককভাবে বসুন্ধরা কিংস। ১১ খেলায় এখন ২৪ পয়েন্ট লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট পেয়ে দুইয়ে ফর্টিস এফসি।
এদিন ম্যাচেে ১৮ মিনিটে গোলে ভাল চান্স নেয় কিংস। বা পাসের কর্নারের কাছ থেকে বক্সে ক্রস দেন হৃদয়, লাফিয়ে হেড নেন দোরিয়েলতন, কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে।
পরের মিনিটে মাঝ মাঠে ইমানুয়েল টনির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন, এরপর তিনজনের মধ্য থেকে পেনাল্টি এরিয়ায় থ্রু পাস দেন পা ওর বাবু। ওকাফর কোনো ভুল করেননি, গোলকিপার জিকোর ডান পাস দিয়ে বল ঠেলে দেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।
পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিট পর সমতায় ফেরার উপলক্ষ্য পেয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকলে রাকিবকে ট্যাকল করতে গিয়ে ফেলে দেন ফর্টিসের ডিফেন্ডার আব্দুল্লাহ ওমর। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ২৭ মিনিটে সফল স্পটকিকে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান দোরিয়েলতন।
৩৩ মিনিটে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে মাঠে। বসুন্ধরা কিংসে অর্ধে পা ওমর বাবুকে রিমনের ট্যাকল নিয়ে সূত্রপাত। তর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের একাধিক খেলোয়াড়। বেঞ্চে থেকে এতে জড়িয়ে শেষে হলুদ কার্ড দেখেন ফর্টিসের ফাহাদ।
৪৫ মিনিটে চন্দন রায়ের নিচু শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। খানিক পর একই শটের পুনরাবৃত্তি, এবারও চন্দনের শট লক্ষ্যে থাকেনি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন কিংসের সোহেল রানা। ১-১ গোলেের ড্র মেনে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে কিংস। রক্ষণে তপু বর্মনের সঙ্গে লেফট উইংয়ে শুরু করেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। এই উইঙ্গার নামার পর বেশ কয়েকবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন। সফলতা পান ৫২ মিনিটে। তাঁর দারুণ ক্রসেই আনমার্কে থাকা দোরিয়েলতন আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন। ম্যাচে প্রথমবারের মতো লিডে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
৭৫ মিনিটে ম্যাচে ফেরে ফর্টিস। বদলি খেলোয়াড় দাও শেরিংয়ের নেওয়া কর্নার থেকে বক্সে গতিময় শটে জাল কাঁপান অনন্ত তামাং।
তিন মিনিট পরই ফের লিড নেয় বসুন্ধরা কিংস। আবারও গোলে অ্যাসিস্ট করেন ফাহিম। সানডের কাছ থেকে বল নিয়ে উপরে উঠে বক্সে ফাহিমের ক্রসে গোলকিপার সুজন পেরেরার মাথার ওপর দিয়ে জালে বল ঠেলে দেন দোরিয়েলতন। ম্যাচে সেইসঙ্গে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
৮৭ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় ফর্টিস। গোলকিপার জিকোকে পরাস্ত করলেও শেষে ওকাফরের নিচু শট একটুর জন্য গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যায় দূরের পোষ্ট ঘেঁষে। শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোলের রোমাঞ্চ জিতল ফেডারেশন কাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।
No posts available.
১ মে ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম
১ মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম

ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে কানাডায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ। সেখানে আইআরজিসি (ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) নিয়ে কানাডিয়ান কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়েছেন ইরানের সবাই এই বাহিনীর সদস্য।
বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র অনুপস্থিত দেশ ছিল ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজসহ একটি প্রতিনিধি দলের এই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে সীমান্ত থেকেই ফিরে যেতে হয় তাদের।
শুক্রবার ইরান ফেরার পর সংবাদমাধ্যমকে তাজ জানান, কানাডার টরন্টো বিমানবন্দরে তাকে ও তাঁর সফরসঙ্গীদের দুই ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাজ কানাডীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেও জানান তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়নি।
আরও পড়ুন
| দুই দশকের ভালোবাসার ইতি টানলেন মামুনুল |
|
কানাডার কতৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদে জানতে চেয়েছিল তারা আইআরজিসি সদস্য কি না। জবাবে তাজ বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি—ইরানে আমরা ৯ কোটি মানুষই আইআরজিসির সদস্য।‘
বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তাজ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে আলোচনার পর বলেছিল সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর। এরপর আমরা দলগতভাবে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেই। কাগজে-কলমে আমাদের বহিষ্কার করা হয়নি ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমনই ছিল।‘
এদিকে ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ইরানি প্রতিনিধিদলকে ২০ মে-র মধ্যে ফিফা সদর দপ্তরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনা হবে। তাজ বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, খুব শীঘ্রই আমরা ফিফার সঙ্গে বৈঠক করব। অনেক বিষয়ে আলোচনার আছে।‘
এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক হামলা চালায়। এরপর থেকে পর থেকে দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন
| মামুনুলের বিদায়ী ম্যাচ রাঙাল ফর্টিস, বসুন্ধরা কিংসের আরও কাছে আবাহনী |
|
নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তাতে সায় দেয়নি। কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।‘
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ 'জি'-তে রয়েছে ইরান। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

হোসে মরিনিয়ো আবারও ফিরছেন সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে! বেশ ক’দিন ধরেই এমন সংবাদে সয়লব সর্বত্র। স্প্যানিশ মিডিয়াগুলো আগ বাড়িয়ে দরদাম, এমনকী চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত উল্লেখ করছেন প্রতিবেদনে। মূলত রিয়ালের বস ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে পর্তুগিজ মাস্টার মাইন্ডের সুসম্পর্ক এবং সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবের জন্য একজন সুদক্ষ গুরুর চাহিদার প্রেক্ষিতেই এমন সংবাদ বেশ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। যদিও অবশেষে বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন খোদ মরিনিয়ো।
রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ আউটে ফেরা নিয়ে বেনফিকার কোচ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ করেনি সাবেক ক্লাব। এমনকী তিনি নিজেও আগ বাড়িয়ে যোগাযোগ করেননি।
২০২৫-২৬ মৌসুমটা শূন্য হাতে শেষ হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। এখনও খাতা কলমে লা লিগা টিকে আছেন লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে আলভারো আরবেলোয়ার দল শীর্ষস্থানে থাকা বার্সেলোনা থেকে ঢের পিছিয়ে। কোনোরকম অঘটন না ঘটলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিততে চলেছে কাতালান ক্লাব।
চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই লেগেই বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরেছেন কিলিয়ান এমবাপেরা। যে কারণে একজন সিনিয়র এবং চ্যাম্পিয়ন লিগ জেতাতে সক্ষম এমন ম্যানেজারের খোঁজে রিয়াল।
যখনই রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ইস্যু আসে, স্বাভাবিকতই নাম আসে ক্লাবটি থেকে ২০১৩ সালে দায়িত্ব ছাড়া মরিনিয়োর নাম। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে নিশ্চুপ ছিলেন তিনি। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে যখন জানতে চাওয়া হয়, রিয়ালের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে কি না, তখন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ৬৩ বছর বয়সী কোচ।
তিনি বলেন, ‘না, রিয়াল মাদ্রিদের কেউ আমার সঙ্গে কথা বলেনি। এটা আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি। ফুটবলের সঙ্গে বহু বছর ধরে আছি আমি, ঠিক যেমন আপনারা সাংবাদিকতায়। এসবের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে কিছুই আসেনি।’
২০২১ সালে কার্লো আনচেলত্তিকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে চমক উপহার দিয়েছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব। তিনি তখন ক্যারিয়ারের এক সন্ধিক্ষণে ছিলেন এবং এভারটনের মতো ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। সময় প্রমাণ করেছে সেই সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন মামুনুল ইসলাম। ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্রের দীর্ঘ দুই যুগের ক্যারিয়ারের ইতি ঘটেছে আজ। বিএফএলে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সব ধরণের ফুটবলকে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক।
শুক্রবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাতে বাংলাদেশ সময় পৌনে তিনটার ম্যাচে ফর্টিস এফসির বিপক্ষে ৩-২ গোলের ব্যবধানে জিতেছে ফর্টিস। জয়-পরাজয় চাপিয়ে এই ম্যাচে আলোচনায় ছিলেন মামুনুল। বৃহস্পতিবার ফর্টিসের ক্লাব হাউসে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিজেই বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন ৩৭ বর্ষী মিডফিল্ডার।
২০০৮ সালে অভিষেক হওয়া মামুনুল সবশেষ ২০২০ সালে বুরুন্ডির বিপক্ষে সবশেষ দেশের জার্সিতে খেলেছেন। তবে তার আগে অর্থাৎ ২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে ক্লাব ফুটবলে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এই-ওই মিলিয়ে প্রায় ১০টি ক্লাব মাড়িয়ে ফর্টিসের হয়ে করেন শেষটা।
এক যুগেরও বেশি সময়কালে ফুটবল থেকে অর্জন ও প্রাপ্তিও কম নয়। লাল-সবুজ জার্সিতে ৬৭ ম্যাচের এক লম্বা জার্নি নিয়ে বিদায় বেলায় মামুনুল বলেন, ‘ফুটবল থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। নাম বলেন, খ্যাতি বলেন, অর্থ বলেন, ট্রফি বলেন, অর্জন বলেন—অনেক কিছু। এখন শুধু ঋণ শোধের পালা।’
ঘরোয়া ফুটবলে ১৬টি ট্রফি জিতেছেন মামুনুল। এছাড়া ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার (এডিকে) হয়েও লিগ শিরোপা আছে তার। আবাহনী ও মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবেও খেলেছেন তিনি।
বর্ণিল ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচে ২৪ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন মামুনুল। এ সময় দুই দলের প্লেয়াররা তাকে গার্ড অব অনার প্রধান করেন। সারিবদ্ধ হয়ে দুই দলের খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে তার ইতিকাব্য আরও রঙিন করে তোলেন। এসময় বাফুফে কর্তারা মামুনুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দেশের ফুটবলের মহানায়ককে হাস্যজ্জ্বল মুখে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে মামুনুলের হাতে স্মারক ও বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় ফর্টিস এফসির পক্ষ থেকে। সতীর্থদের স্বাক্ষর সংবলিত ৮ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়া হয় মামুনুলের হাতে। তার বিদায়ী সংবর্ধনায় শরিক হতে হাজির হয়েছিলেন স্ত্রী-সন্তান। এমনকী জন্মস্থান চট্টগ্রাম থেকেও ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা হাজির হন কিংস অ্যারেনাতে।
মামুনুল বিদায়টা জাতীয় দলের হয়েই নিতে চেয়েছিলেন। সেই সুযোগ হয়নি। এ নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছিল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। তবে ফর্টিসের হয়ে তার যে স্মরণীয় বিদায়টা হয়েছে, তা কতজনেরই বা ভাগ্যে জোটে। এই ভেবে নিশ্চয়ই কিছুটা হলেও নিজেকে সান্ত্বনা দেবেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের এই গুণী ফুটবলার।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) পৃথক তিনটি সমীকরণ মেলানোর লক্ষ্যে নেমেছিল ফর্টিস এফসি। রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে জয়, টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থাকা আবাহনী থেকে পয়েন্ট দুরত্ব কমানো এবং অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের বিদায়ী ম্যাচ রাঙানো। এ যাত্রায় শতভাগ সফল ফর্টিস।
শুক্রবার বিএফএলের ১৫তম রাউন্ডের গোলপ্রসবা ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে ফর্টিস। দিনের অন্য দুই ম্যাচে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা আবাহনীকে। এ হারে রেলিগেশন শঙ্কা আরও গাঢ় হয়েছে ফকিরেরপুলের। ১৫ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই হেরেছে দলটি। তাদের হাতে অবশিষ্ট ৩ ম্যাচ। শেষ তিন ম্যাচে টানা জয় ছাড়াও ৪ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা পিডব্লিডির হার কামনা করতে হবে তাদের। আরেক ম্যাচে পিডব্লিডিকে শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে পুলিশ।
ফকিরেরপুলের বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায়ে শীর্ষস্থানে থাকা বসুন্ধরা কিংসের আরও কাছে চলে এলো ১৭ বারের চ্যাম্পিয়নরা। সমান ১৫ ম্যাচে আকাশী-নীলদের বর্তমান পয়েন্ট ৩১। বসুন্ধরা কিংসের ৩৪। তৃতীয়তে থাকা ফর্টিসের ২৮। পুলিশের ২২ এবং রহমগতগঞ্জের পয়েন্ট ১৯।
কিংস অ্যারেনাতে ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে জায়েদ আহমেদের গোলে এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ। তাদের সুখ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি ওনেইকাছি ওকাফোর। মাঝমাঠ থেকে সাজ্জাদের ক্রসের সূত্র ধরে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে একাই ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ফর্টিসের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে ছিলেন কেবল রহমতগঞ্জের গোলকিপার মামুন আলিফ। কৌশলী নিচু শটে ডানপ্রান্ত দিয়ে জালে জড়ান ওকাফোর।
১৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে সোলাইমান কিংয়ের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে কাজে লাগান আপ্পু। সুজন পেরেইরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জালে বল জড়ান তিনি। ঠিক তিন মিনিট পরে সমতায় ফেরে ফর্টিস। এই গোলের নায়ক পাও ওমর বাবু। এর দুই মিনিট পর মাঠ ছাড়েন মামুনুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের শেষবারের মতো ফুটবল খেলে ফেলেন তিনি। তার বদলি হিসেবে নামের মোর্শেদ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলকে লিড উপহার দেন বাবু। এটাই ছিল ম্যাচ নির্ধারণী গোল। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে শেষ হয় ম্যাচ।

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ৭৬তম ফিফা কংগ্রেসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা গেল। সভায় উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমান। এসময় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতির পাশে দাঁড়াতে ও হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান ফিলিস্তিনের ফুটবল প্রধান।
গত বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো উভয়কে মঞ্চে ডাকেন। কিন্তু রাজউব দখলদার ইসরায়েলের নাগরিক সুলাইমানের কাছাকাছি আসতে রাজি হননি। ইনফান্তিনো রাজউবের হাত ধরে তাকে সুলাইমানের দিকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো কাজ হয়নি।
আরও পড়ুন
| একই পেনাল্টি তিনবার মিস করলেন ভিনিসিউস |
|
রাজউব কেন করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানালেন—রয়টার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যা ধামাচাপা দিতে যাকে নিয়ে এসেছে, আমি তার সঙ্গে হাত মেলাতে পারি না! আমরা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
এরপর ইনফান্তিনো মঞ্চ থেকে বলেন, ‘সভাপতি রাজউব, সহ-সভাপতি সুলাইমান—আমরা একসঙ্গে কাজ করব। শিশুদের মনে আশার আলো জাগাতে চলুন আমরা একযোগে কাজ করি। এগুলো খুবই জটিল বিষয়।’
কংগ্রেস শেষে রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, রাজউব এবং সুলাইমানের মধ্যে করমর্দন করানোর যে চেষ্টা জিয়ানি ইনফান্তিনো করেছেন, তাতে ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধানের বক্তব্যের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান দেখানো হয়নি। রাজউব তার বক্তব্যে আবারও জোর দাবি জানিয়েছিলেন যেন ইসরায়েলি ক্লাবগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে (সেটেলমেন্ট) তাদের দল পরিচালনা না করে।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে ফুটবল ক্লাব পরিচালনা করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত সপ্তাহে ফিফার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে 'কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস' (সিএএস)-এ আপিল করেছে ফিলিস্তিন।
পিএফএ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছে যে, পশ্চিম তীরের মতো দখলকৃত এলাকায়—যা ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে চায়—সেখানকার কোনো ক্লাব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) অধীনে লিগ খেলতে পারে না।
আরও পড়ুন
| মালিক হয়েই কর্নেয়া ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা মেসির |
|
সুসান শালাবি আরও বলেন, ‘সবকিছু বলার পর এমন এক পরিস্থিতিতে হাত মেলাতে বাধ্য করা—জেনারেলের (রাজউব) পুরো বক্তব্যের উদ্দেশ্যকেই নস্যাৎ করে দেয়। তিনি ১৫ মিনিট ধরে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে নিয়মকানুন কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে কোনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের অধিকার নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অথচ আমরা কি না দিনশেষে সবকিছুকে কার্পেটের নিচে চেপে রাখব? এটা ছিল পুরোপুরি হাস্যকর।’
সুসান আরও যোগ করেন, ‘আমি হাত মেলাতে অস্বীকার করেছি। খেলা তো খেলাই... আমি সেটাকে সম্মান করি। কিন্তু অন্য পক্ষ যদি বিবির (ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) মতো একজন অপরাধীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং এমনভাবে কথা বলে যেন বিবি একজন ‘মাদার তেরেসা’, তবে আমি কীভাবে এমন মানুষের সঙ্গে হাত মেলাব বা ছবি তুলব?’