৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৩:৩১ পিএম

একেতো চোট-আঘাত সমস্যায় জর্জরিত অস্ট্রেলিয়া দল, এর ওপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে মরার উপর খাড়ার ঘা। এবার নতুন সমস্যায় পড়ল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। হঠাৎ করেই ওয়ানডে ছাড়ার ঘোষণা দিলেন তারকা অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস। অথচ তিনি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডে ছিলেন।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলবেন না তিনি, যেকারণে ঘোর বিপাকে অস্ট্রেলিয়া। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী অজি দলের সদস্য ছিলেন স্টয়নিস। এখন তিনি অবসর নেওয়ায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চূড়ান্ত স্কোয়াডে আরও একটি পরিবর্তন করতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু হতে দুই সপ্তাহও বাকি নেই। এমন সময় ওয়ানডে থেকে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। অথচ স্টয়নিসকে রেখেই গত ১৩ জানুয়ারি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রস্তুতি হিসেবে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে খেলবে দেশটি। সেই স্কোয়াডেও ছিলেন তিনি।
যদিও দেশের হয়ে টি-২০ খেলা চালিয়ে যাবেন মার্কাস। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টি-টোয়েন্টিতে মনোযোগী হতে ওয়ানডে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্টয়নিস। সবশেষ ডারবানস সুপার জায়ান্টসের হয়ে এসএ-20'তে মাঠে নামেন। টুর্নামেন্টে বল করার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে হালকা চোটও পান তিনি। ওয়ানডর ছাড়ার ঘোষণায় স্টয়নিস বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলা ছিল আমার জন্য একটি অবিশ্বাস্য যাত্রা, দলের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য কৃতজ্ঞ ও ধন্য।‘ ওয়ানডে ছাড়লেও দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলবেন তিনি।
মার্কাস স্টয়নিস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামেন। ৬৪টি ইনিংসে ব্যাট করে ২৬.৬৯ গড়ে ১৪৯৫ রান সংগ্রহ করেছেন। সেঞ্চুরি করেছেন ১টি ও হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন ৬টি। পেয়েছেন ৪৮টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়া দলের প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের সাথে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্টয়নিস। ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী স্টয়নিস সম্পর্কে দারুণ বলেছেন কোচ ম্যাকডোনাল্ড, ‘সে শুধু দারুণ একজন খেলোয়াড়ই নয়, ব্যক্তি হিসেবেও অসাধারণ। সে একজন ব্যতিক্রমী জনপ্রিয় খেলোয়াড় এবং বড় মাপের মানুষ।‘
স্টয়নিসের আকস্মিক অবসরে জর্জ বেইলির নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক কমিটির কাজ আরও কঠিন করে দিয়েছে। পিঠের চোটে ইতিমধ্যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে ছিটকে পড়েছেন মিচেল মার্শ। চোটের শিকার হয়েছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউড, তাদের খেলা নিয়েও আছে সংশয়। কামিন্স, মার্শ ও হ্যাজলউডের জায়গায় স্পেনসার জনসন, ফ্রেজার-ম্যাগার্ক ও শন অ্যাবট দলে ঢুকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। আর স্টয়নিস অবসর নেওয়ায় প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেতে পারেন মিচেল ওয়েন। ২২ বছর বয়সী ওয়েন সম্প্রতি বিগ ব্যাশ ফাইনালে বিস্ফোরক সেঞ্চুরি করেছেন, আসরের সর্বোচ্চ রানও এই ওপেনারের।
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১১ পিএম

বড় এক হোঁচটই খেল নিউ জিল্যান্ড। ‘ব্ল্যাক ক্যাপসদের’ টেস্ট অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার অন্তত এক মাসের জন্য ছিটকে গেলেন। স্ক্যান রিপোর্টে ‘গ্রেড থ্রি এসিএল’ ইনজুরি ধরা পড়েছে তার কাঁধে।
স্যান্টনার এবারের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলছিলেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে ফিরে আসেন এবং শুক্রবার সকালে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখান। এরপর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি) নিশ্চিত করেছে, তাকে অন্তত এক মাস বিশ্রাম ও পুনর্বাসনে থাকতে হবে।
গত ২৩ এপ্রিল চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ফিল্ডিং করার সময় স্যান্টনার তাঁর বাম কাঁধে চোট পান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে ব্যক্তিগত কারণে ম্যানেজমেন্টের কাছে বাড়তি ছুটি নেওয়ায় দেরিতে মুম্বাই শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ৪৪ রানে ১ উইকেট নিলেও পরে আর ব্যাটিং করতে নামেননি, তার বদলে শার্দুল ঠাকুর মাঠে নামেন।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই ইনজুরির কারণে স্যান্টনার মে মাসের শেষে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট এবং জুনের শুরুতে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে তাকে পাওয়া যাবে কি না, তা পরে জানানো হবে।’
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা করবে নিউ জিল্যান্ড। আইপিএলে ব্যস্ত থাকার কারণে স্যান্টনার নিউজিল্যান্ডের চলমান বাংলাদেশ সফর থেকেও বিরতি নিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের আইপিএল নিলামে ২ কোটি রুপিতে স্যান্টনারকে দলে নিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং এ বছরও তাকে ধরে রাখা হয়। গত মৌসুমে ১৩ ম্যাচে ৭.৯২ ইকোনমি রেটে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তার নেতৃত্বেই নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায়। বিশ্বকাপে ১৪২.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ১২০ রান করার পাশাপাশি ২ উইকেট শিকার করেন। এ বছর মুম্বাইয়ের হয়ে ২ ইনিংসে ২৬ রান করার পাশাপাশি ৮.৯২ ইকোনমি রেটে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
মে-জুনে চারটি টেস্ট মিস করলেও ধারণা করা হচ্ছে, জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে আবারও নিউজিল্যান্ড দলে ফিরবেন স্যান্টনার।

কলম্বোর একটি হোটেলে নারীদের বাথরুমে গোপনে ভিডিও করার অভিযোগে আটক হয়েছেন শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দুই ক্রিকেটার। অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের নাম এখনো জানা যায়নি।
গত সপ্তাহে কলম্বোর নারা হেনপিতা এলাকার একটি হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। পরে আটককৃত দুই ক্রিকেটারকে ৫ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি ব্যক্তিগত মুচলেকায় জামিন দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলে অবস্থানরত নারীরা তাদের বাথরুমে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ আনলে ওই দুই ক্রিকেটারকে আটক করা হয়। অভিযুক্তদের ব্যবহৃত ফোন থেকে ধারণকৃত ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ।
অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের আলুতকাদে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছিল। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন এবং আগামী ২৫ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) এখন পর্যন্ত এই খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করেনি। বোর্ডে বড় ধরনের রদবদল চলায় বিষয়টি কিছুটা থমকে আছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) সভাপতি ও বোর্ডের সকল কর্মকর্তা এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছে।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দেশটির বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এ ধরনের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
তিলকরত্নে দিলশানের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ে সফর শেষে একটি নাইট ক্লাবে পরিচয় হওয়া এক তরুণীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় তাকে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছিল সতীর্থ জীবন মেন্ডিস এবং দিলহারা ফার্নান্দোর বিরুদ্ধেও।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনাটি ছিল দানুশকা গুনাথিলাকাকে নিয়ে। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। এই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

৪ মে মাঠে গড়াচ্ছে দেশের
ঐতিহ্যবাহী ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল)। মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়ামসহ ছয় ভেন্যুতে
অনুষ্ঠিতব্য ৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১১ জুন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ডিপিএলের অন্যতম সঙ্গী
হিসেবে থাকছে দেশের শীর্ষ এবং স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ ও ওয়ালটন।
বসুন্ধরা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘বসুন্ধরা সিমেন্ট’ পাওয়ার্ড
বাই স্পন্সর হিসেবে থাকছে ডিপিএলের। আর টাইটেল স্পন্সর ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের
ঘরোয়া, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পৃষ্ঠপোষকতা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। পূর্বের ন্যায়
এবারও ডিপিএলে যুক্ত হলো বসুন্ধরা ও ওয়ালটন।
২০২৫-২৬ ডিপিএলের ফরম্যাটে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের মতো ডিপিএলে সুপার লিগ থাকছে না। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে শিরোপা নির্ধারিত হবে। থাকছে রেলিগেশন লিগও। পয়েন্ট টেবিলের নিচে থাকা দুই দল প্রথম বিভাগে নেমে যাবে।
লিগ কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে মোট ৬৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে লিগ পর্যায়ে ৬৬টি ম্যাচ এবং রেলিগেশন লিগে ৩টি ম্যাচ খেলা হবে।
এই বছরের দলবদল অনুষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছিল। কারণ, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন সাবেক বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেশ কয়েকটি ক্লাব লিগ বয়কটের হুমকি দিলে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠিত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং লিগ আয়োজনের পথ প্রশস্ত হয়।
লিগে অংশগ্রহণকারী ১২টি ক্লাব হলো শিরোপাধারী আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব), রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড, সিটি ক্লাব ও ঢাকা লেপার্ডস।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠণতন্ত্রের ২১ ধারা প্রয়োগ করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়েছে। একই দিনে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষিত এই অ্যাডহক কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা আছে অ্যাডহক কমিটির। তবে সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে চান না বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল।
আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি সম্প্রতি গণমাধ্যমকে। তবে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁ সম্ভব না হলেও অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই সপ্তাহ বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করতে চান তামিম ইকবাল-
‘তিন তারিখে একটা বোর্ড মিটিং করে সবার সাথে কথা বলে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়ার। প্রক্রিয়া যদি শুরু হয়ে যায়, সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই নির্বাচন হয়ে যায়, যেটা আমাদের ডেডলাইনের অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ আগে হবে।’
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে পোস্টাল ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। গত ৭ এপ্রিল এনএসসি থেকে গণমাধ্যমকে এমনটাই জানানো হয়েছে। তারপরও বিসিবির পরবর্তী নির্বাচনে পোস্টাল ভোটের বিপক্ষে নন তামিম ইকবাল। তবে এক রুমে, সবাই এক সঙ্গে বসে পোস্টাল ভোটের বিপক্ষে তামিম-
‘পোস্টাল ব্যালট যদি পোস্টাল ব্যালটের মতো হয়, তাহলে অবশ্যই থাকতে পারে। এখন যদি একটা রুমে বসে সবাই একসঙ্গে বসে যদি করেন, সেটাই প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাপার, তাই না? পোস্টাল ব্যালট যে নিয়মে আছে, ই-ভোটের যে নিয়ম আছে, ওগুলো ই-ভোটের মতো থাকবে।’
বিসিবির নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম তদন্তে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির সুপারিশমালায় গঠনতন্ত্রে-প্রথম আলো সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনার পক্ষে নন তামিম ইকবাল- ‘অ্যাডহক কমিটির কাজ এটা নয়। এটা নির্বাচিত কমিটি দেখবে।’
অ্যাডহক কমিটিতে থেকে নির্বাচন করলে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে বহাল থেকে নির্বাচন করবেন বলে মনস্থির করেছেন তামিম ইকবাল-
‘পদত্যাগের কথা আমি ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করিনি, আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। প্রথমদিন থেকেই আমি বলেছি আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’

ক্রিকেট বোর্ডের সুবিধাভোগী ক্রিকেটারদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্ট, ফার্স্ট ক্লাস কন্ট্রাক্ট ক্রিকেটাররা ঘুরে-ফিরে খেলছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন (ডিপিএল), জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০তে। বিসিবি থেকে পাচ্ছে বেতন, ম্যাচ ফি, ক্লাব এবং ফ্রাঞ্চাইজি থেকে পাচ্ছে সম্মানী। অথচ, প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটাররা সারা বছরে মাত্র একটি আসরে পাচ্ছে খেলার সুযোগ। নিচের ধাপের ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্রিকেট ম্যাচ খেলার সুবিধা করে দেওয়ার কথা ভাবছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। ঢাকা ক্রিকেট লিগের নিয়মিত আসরের বাইরে একটি দীর্ঘ পরিসরের আসরে খেলার সুযোগ করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিসিবি বস তামিম ইকবাল-
‘বিসিবি এমনভাবে ডিজাইন করা আছে, যারা জাতীয় দলে খেলছেন, তারাই বিপিএল, এনসিএল, বিসিএলে খেলছেন। কিন্তু প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগে যারা খেলছেন, লিগ ছাড়া তাঁদের কোনো খেলাই নেই। আমরা তাদেরকে কোনো প্লাটফর্ম করে দেইনি। তাই তাদের জন্য কিছু একটা করে দিতে চাই।’
ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের দৃষ্টান্ত এক্ষেত্রে অনুসরন করতে চান তামিম-
‘ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে প্রতিটি কাউন্টি টিমে ফার্স্ট ইলেভেনের পাশে সেকেন্ড ইলেভেন টিম আছে। এনসিএলে প্রতিটি বিভাগের জন্য একটি ফার্স্ট ইলেভেনের পাশে একটি সেকেন্ড ইলেভেন টিম করতে চাইছি। প্রথম একাদশের টিমগুলোর ম্যাচগুলো ৪ দিনের, তবে সেকেন্ড ইলেভেনের টিমগুলোর ম্যাচ হবে ৩ দিনের।’
সেকেন্ড ইলেভেনের খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে ম্যাচ ফি। এবং তাঁরা পারফর্ম করে ফার্স্ট ইলেভেনে খেলতে পারবেন, ফার্স্ট ইলেভেনের মধ্যে যারা পারফর্ম করতে ব্যর্থ হবেন, তারা অবনমিত হয়ে খেলবেন সেকেন্ড ইলেভেনে। এমন পরিকল্পনাই বিসিবি বস তামিম ইকবালের-
‘সেকেন্ড ইলেভেনের জন্যও ন্যূনতম ম্যাচ ফি থাকবে। সেকেন্ড ইলেভেন থেকে ফার্স্ট ইলেভেনে খেলার জন্য তাঁরা চ্যালেঞ্জ নিবে। ইংল্যান্ডের পেসার জোফরা আর্চার ইনজুরি থেকে সেরে উঠে কিন্তু সরাসরি কাউন্টির ফার্স্ট ইলেভেনে খেলেননি। তিনি সেকেন্ড ইলেভেনে খেলে জাতীয় দলে ফিরেছেন।’
এ বছর থেকেই ইংলিশ কাউন্টির আদলে এই ফর্মূলায় যাবে প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট আসর, সে আশ্বাস দিয়েছেন তামিম ইকবাল-
‘এর জন্য আমরা বাজেট তৈরি করছি। এ বছর থেকে দেখতে পারবেন।’
দেশের প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট আসর জাতীয় লিগকেও হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনতে চান তামিম ইকবাল- হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিস্টেমে এখন খেলা হচ্ছে না। আমার মনে আছে, লঞ্চে করে বরিশাল যেয়ে জাতীয় লিগ খেলেছি। হয়তবা হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে সব ম্যাচ আয়োজন করতে পারব না। তবে যে সব জায়গায় মাঠ আছে, সে সব জায়গায় হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিস্টেমে খেলা হবে। এই সিজন থেকে দেখতে পাবেন।’