
রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখে ডাগআউট ছাড়লেন হাভিয়ের মাসচেরানো। ম্যাচের বাকি সময়ের জন্য তিনি বসে গেলেন ডাগআউটের ঠিক ওপরের গ্যালারিতে। সেখানে গিয়েও থেমে রইলেন না। মোবাইল ফোনে সহকারী কোচকে দিতে শুরু করলেন নির্দেশনা। যা উশকে দিল নতুন বিতর্ক।
লিগস কাপে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচে টিগ্রেসকে ২-১ গোলে হারায় ইন্টার মায়ামি। পেনাল্টি থেকে গোল দুইটি করেন লুইস সুয়ারেজ। পেশির পুরোনো চোটে ম্যাচটি খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে সতীর্থ ফুটবলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছেড়ে যান মায়ামির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জর্দি আলবার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে দলের প্রধান কোচ মাসচেরানোর লাল কার্ড।
সুয়ারেজের গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় মায়ামি। বিরতির ঠিক আগে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন মাসচেরানো। তার অভিযোগ ছিল, অতিরিক্ত ৪ মিনিট যোগ করা হলেও রেফারি খেলিয়েছেন ৬ মিনিট।
পরে বিরতি শেষে দ্বিতীয়ার্ধে ডাগআউটে ফেরার আগে মাসচেরানো জানতে পারেন, তাকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। তাই ম্যাচের বাকি অংশে আর দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। তাই সহকারী কোচ হাভিয়ের মোরালেসকে দায়িত্ব দিয়ে গ্যালারিতে বসে যান মাসচেরানো।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালে কোনো কোচ লাল কার্ড দেখলে তিনি গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে পারবেন। কিন্তু দলকে কোনো নির্দেশনা দিতে পারবেন না। সেটি মানেননি মাসচেরানো। শুরুতে গ্যালারিতে বসেই চিৎকার করে নানান পরামর্শ দিতে থাকেন তিনি।
সেটি রেফারির নজরে এলে সতর্ক করে দেওয়া হয় মাসচেরানোকে। তখন আবার নতুন পথ বের করেন আর্জেইন্টাইন এই কোচ। নিজের মোবাইল ফোন থেকে সহকারী কোচ মোরালেসকে ফোন করে পরামর্শ দিতে শুরু করেন ৪১ বছর বয়সী কোচ।
এই ঘটনা দেখে তাজ্জব বনে যান অ্যাপল টিভির ধারাভাষ্যকার টেইলর টোয়েলম্যান।
“আপনি আমাকে বলুন, এর আগে কখনও এমন কিছু দেখেছেন! এমন করলে ডাগআউটে বসে দায়িত্ব পালন করার সঙ্গে আর পার্থক্য রইল কই?”
লাল কার্ড দেখায় ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনেও আসতে পারেননি মাসচেরানো। তার বদলে মোরালেস উল্টো রেফারির বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন।
“দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার সময় আমরা জানতে পারি, তাকে (মাসচেরানো) কার্ড দেখানো হয়েছে। রেফারি ৪ মিনিট যোগ করেছিলেন। কিন্তু ৬ মিনিট বা এর আশপাশে খেলেছি। মানুষ হিসেবে আপনি এই বিষয়ে কথা বলবেনই।”
“পরে রেফারি আমাদের বললেন, মাসচেরানোকে লাল কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং এটিই চূড়ান্ত। আমাদের কাছে এর চেয়ে বেশি তথ্য ছিল না। আমরা শুধু বাড়তি সময়ের ব্যাপারেই অভিযোগ করছিলাম।”
গ্যালারিতে বসে মোবাইল ফোনে মাসচেরানোর পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মোরালেস বলেন, “সত্যি বলতে ওই সময়ে একসঙ্গে অনেক কিছু হয়েছে।”
এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে লিগস কাপের এক মুখপাত্র বলেছেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়। আর মাসচেরানোকে এমন এক জায়গায় বসানো হয়েছিল, যেটা টুর্নামেন্টের নিয়ম-নীতির মধ্যেই পড়ে।
এই নিয়মের বিচারে অবশ্য মোবাইল ফোনে পরামর্শ দিয়ে কোনো ভুল করেননি মাসচেরানো। তবে বিভিন্ন খবরে জানা গেছে, মাসচেরানোর এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবে লিগস কাপের ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
আপাতত লাল কার্ড দেখায়, ওরলান্ডো সিটির বিপক্ষে লিগস কাপের সেমি-ফাইনাল ম্যাচে দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন না মাসচেরানো। আর ডিসিপ্লিনারি কমিটি কোনো ভুল খুঁজে পেলে আরও বাড়তে পারে মায়ামির কোচের শাস্তি।
No posts available.

থাইল্যান্ডকে বাগে পেয়েও হারাতে না পারার বেদনাই কি বেশি পোড়াচ্ছে বাংলাদেশকে? ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানের সেই হারই আফসোস বাড়ানোর কথা। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩-২ হার এবং চীনের কাছে আত্মসমর্পনের পরও ভালোভাবেই টিকে ছিল বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা। তবে শেষ সুযোগটাও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।
থাইল্যান্ডের ননথাবুরিতে অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের এশিয়ান কাপে আজ ভিয়েতনামের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ৪৯ মিনিটে গোলকিপার মিলির ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন থি থু লিন এনগুয়েন। ভাগ্য নির্ধারণ হওয়া সেই গোলের কোনো জবাব দিতে পারেনি বাংলাদেশ। তাতে শেষ হয়ে যায় ইতিহাস গড়ে আফইদা খন্দকারদের প্রতিযোগিতার শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন।
গ্রুপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর শেষ ম্যাচে ড্র করলেও টিকে থাকবে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা¬। শেষ আট নিশ্চিত করতে তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকতে হতো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে তিন ম্যাচেই হেরে সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয়ে গ্রুপ ‘এ’ এর তলানীতে থেকেই শেষ করে বাংলাদেশ।
ভিয়েতনামের বিপক্ষে বল দখলে খুব একটা পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ। তবে আক্রমণভাগ ছিল ছন্নছাড়া। পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট নিয়েছে তারা। বিপরীতে মোট ১০টি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রেখে একটি গোলই আদায় করে নেয় ভিয়েতনাম।
ম্যাচের ৮ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় বাংলাদেশ। উমেহলা মারমা বাঁ দিক থেকে নগুয়েন থি থুই লিনকে পরাস্ত করে বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর শটটি দ্রুত ভিয়েতনামের ডিফেন্ডার নগুয়েন থি থুং আটকে দেন।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে দারুণ আরেকটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সাগরিকা মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে একা গোলকিপারের মুখোমুখি হলেও ঠিকভাবে শট নিতে পারেননি। তার দুর্বল শটটি সহজেই রুখে দেন ভিয়েতনামের গোলরক্ষক।
এরপর ভিয়েতনাম একের পর এক আক্রমণ চালায়। ১৮ ও ২১ মিনিটে এনগুয়েন থির নেওয়া দুটি শটই ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেছে। ২৮ মিনিটে তারই একটি বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে লিড নেয় ভিয়েতনাম। প্রায় মাঝমাঠ থেকে নেওয়া একটি ফ্রি-কিকে বল ঠিকভাবে তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি। তার হাত ফসকে বল পেছনে চলে গেলে ডিফেন্ডার এনগুয়েন থি ফাঁকা জালে আলতো টোকায় জড়িয়ে দেন বল।
৭০ মিনিটে সমতা ফিরিয়ে আনার বড় সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। মোমিতা খাতুনের ক্রস হেডে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা বৃথা যায় সাগোরিকার। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ভিয়েতনামও। তবে ওই এক গোলই হয়ে থাকল ম্যাচের ফল নির্ধারক।

বিশ্বকাপের ৬৪ দিন আগে বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপের আয়োজক এই দেশের ফরোয়ার্ড
প্যাট্রিক এগেম্যাংকে গুরুতর চোটে পড়েছেন। অ্যাকিলিস টেন্ডনে (গোড়ালির চোট) আঘাত পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন তিনি।
গত সোমবার চ্যাম্পিয়নশিপে স্টোক সিটির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পান ডার্বি কাউন্টির ফরোয়ার্ড এগেম্যাংকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে বল বুক নিয়ে নামানোর সময় বেকায়দায় পড়ে বাঁ পায়ের গোড়ালি চেপে ধরেন তিনি। স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর মুখে যন্ত্রণার ছাপ ছিল স্পষ্ট। পরবর্তীতে স্ক্যান করাতে স্টেডিয়াম ছাড়তে হয় এগেম্যাংকে।
এগেম্যাংকের ক্লাব ডারবি কাউন্টি জানিয়েছে, এগেম্যাংয়ের পুনর্বাসনের সময়সীমা নির্ধারণ করা এখন ‘ভুল’ হবে। তবে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাবটি নিশ্চিত করেছে যে আসন্ন বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া হচ্ছে না তাঁর।
ডার্বি কাউন্টি নিজেদের স্ট্রাইকারকে সমর্থন করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ডারবি কাউন্টির সবাই এই কঠিন সময়ে প্যাট্রিকের পাশে আছে এবং প্রতিটি ধাপে তাকে সমর্থন করে যাবে।’
চোট পাওয়ার কদিন আগেই জাতীয় দলের হয়ে গোল করেছিলেন প্যাট্রিক। আটলান্টায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বেঞ্চ থেকে মাঠে নেমেছিলেন ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে হারের ম্যাচে একটি গোল করেছিলেন, এবং পর্তুগালের বিপক্ষে ২-০ হারে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছিলেন।
এগেম্যাং এই মৌসুমে ডার্বি কাউন্টিতে চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর প্রথম মৌসুম কাটাচ্ছেন। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চার্লট এফসি থেকে ইংলিশ ফুটবলে যোগ দেন তিনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাউরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচে এগেম্যাং গোল করেছিলেন এবং এরপর যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে ১৩ ম্যাচে আরও পাঁচটি গোল করেছেন। আর ক্লাবের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৩৮ ম্যাচে ১০ গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। তামিম ইকবালকে প্রধান করে আজ নতুন ১১ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
এর আগে গত বছরের নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। গত রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। সেই প্রতিবেদনে নানা অনিয়ম প্রমানিত হওয়ায় আমিনুল ইসলাম বুল্বুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিসিবির নির্বাচন। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ বয়স ছয় মাস হওয়ার মধ্যেই বিলুপ্ত হলো। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবশ্য চরম বিরোধিতার মুখে পড়েন বুলবুল। অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচনের পরপরই বিসিবিকে বয়কট করেন অনেক ক্লাব কাউন্সিলররা। প্রথম বিভাগ লিগেও অংশ নেয়নি ৮টি দল। একই কারণে এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের দেয়া চিঠির ভিত্তিতে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করেছে এনএসসি। তদন্তের পর বিলুপ্তই করা হলো কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসানের জানানো বিসিবি নির্বাচনের অনিয়মগুলো দেখে নিন একসঙ্গে।
১
৬.২ ক্যাটাগরি ১ থেকে অভিযোগ জেলা বা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে এসেছিল। অভিযোগের উৎস ছিল মিস্টার শরিফুল আলম এবং অন্যান্য সাবেক কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে। অভিযোগের তারিখ ছিল ১০ মার্চ ২০২৬।
কাউন্সিলর নাম জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগটি ছিল। কাউন্সিলর মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ প্রথমে ১৭-০৯-২০২৫ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ০১-০৯-২০২৫ এবং ০২-০৯-২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় বিসিবি প্রথমে ১৯-০৯-২০২৫ বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং পরে ২২-০৯-২০২৫ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করে।
সার্বিক বিবেচনায় কমিটির মনে হয়েছে—আমার এই কথাগুলো হচ্ছে তদন্ত কমিটির কথা—সার্বিক বিবেচনায় কমিটির মনে হয়েছে যে এই সময়সীমা যথাযথ কারণ ছাড়াই এবং গোপন উদ্দেশ্যে বাড়ানো হয়েছিল যাতে পূর্বে মনোনীত কাউন্সিলরদের পরিবর্তন করে পছন্দসই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং তাদের পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা যায়।
২
সংস্থাগুলোকে অ্যাডহক কমিটি থেকে পুনরায় কাউন্সিলরের নাম পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিভিন্নভাবে জেলা সংস্থার সভাপতিদের প্রভাবিত করে। এছাড়া তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার এপিএস মিস্টার সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করেন যা বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস হোসনে আরা আফরোজা এবং চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস ফরিদা খানমের সাক্ষ্যে নিশ্চিত হয়। এটি স্থানীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ মনে হলেও এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে চলমান মামলা থাকাতে কমিটি এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
৩
নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়নের জন্য চাপ। জেলা বা বিভাগীয় সভাপতিদের ওপর সরকারি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে, বিশেষ করে এনএসসি কর্মকর্তারা এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। কমিটির মতে, এটি ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টা।
৪
অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। অধিকাংশ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। যদিও তাদের মাধ্যমে কাউন্সিলরের নাম পাঠানো হয়। সংবিধান অনুযায়ী এসব কমিটির মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাহী কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল। অ্যাডহক কমিটি বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় কমিটি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
৫
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং একাধিক সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। ২৩-০৯-২০২৫ তারিখের ভোটার তালিকায় ৬টি জেলার ভোটার ছিল না, কিন্তু ২৬-০৯-২০২৫ তারিখের সংশোধিত তালিকায় ওই ৬টি জেলার মধ্যে ৫টি জেলার ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
৬
ক্যাটাগরি ১ এ প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিসিবির অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ। কমিটি দেখতে পায় যে ০৮-০৯-২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম জেলা অ্যাডহক কমিটির গঠন পরিবর্তন করে ২ জন নতুন সদস্য যোগ করা হয়। ফলে সদস্য সংখ্যা ৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯ জনে দাঁড়ায়।
একই দিনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটিতেও ৪ জন নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়। ফলে সদস্য সংখ্যা ৭ থেকে ১১ জনে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে ১১-০৯-২০২৫ তারিখে রংপুর বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটি ১১ সদস্য নিয়ে অনুমোদিত হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংবিধানের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির সদস্য সংখ্যা ৭ জন হওয়ার কথা। অতএব কমিটির মতে আসন্ন বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে সরকার এনএসসির মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে প্রভাব খাটিয়েছে। যাতে তাদের কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং তাদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে পারেন।
৭
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা মিস্টার আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ। একাধিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কমিটি দেখতে পায় যে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটির সদস্য পরিবর্তন, তার পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করেছেন। কমিটির মতে এই হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করেছে। তবে দুঃখজনকভাবে তাদের প্রকৃত অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তারা কেউই সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হননি এবং তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি।
৮
ক্রীড়া উপদেষ্টার সহায়তায় ই-ভোটে নির্বাচন কারচুপি। কমিটি দেখতে পায় যে বিসিবি সভাপতি, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলামের সহায়তায় সমন্বিতভাবে ই-ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কমিটি আরও লক্ষ্য করে যে সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ কাউন্সিলররা মতামত দেন যে ই-ভোটিং পদ্ধতিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। পদ্ধতিটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
৯
নির্দিষ্ট স্থান থেকে গোপনীয়তা ব্যতীত ই-ভোট প্রদান। কমিটি দেখতে পায় যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে ই-ভোট প্রদান করা হয়েছে এবং এতে ভোটের গোপনীয়তা রাখা হয়নি যা মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি এবং বিসিবি সংবিধানের পরিপন্থী। আবার এদের অধিকাংশ ভোটারই ই-ভোটার শারীরিক ভোট গ্রহণের দিনেও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। সরাসরি ভোট প্রদানের সুযোগ থাকলেও রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ৫ তারিখ রাতে এক জায়গায় জড়ো হয়েই ই-ভোট দেওয়া হয় এবং এর প্রক্রিয়া কমিটির কাছে ভোট কারচুপি মনে হয়েছে।
১০
অ্যাডহক কমিটিতে মিস্টার আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং মিস্টার নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের কাউন্সিলরশিপ নিশ্চিত করতে অযৌক্তিক প্রভাব খাটানো। কমিটি দেখতে পায় যে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনএসসি কর্মকর্তাদের সহায়তায় গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিভাগ এবং ঢাকা জেলার অ্যাডহক কমিটিতে মিস্টার আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং মিস্টার নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যাতে তারা কাউন্সিলর পদ নিশ্চিত করতে পারেন এবং পরবর্তীতে বিসিবি পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে পারেন। এটি ক্রীড়া উপদেষ্টার পক্ষপাত এবং প্রভাব প্রতিফলিত করে যারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাউন্সিলর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং তাদের বিসিবি পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে সহায়তা করেছে। এটি গুরুতর ক্ষমতার অপব্যবহার।
১১
নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ। কমিটি দেখতে পায় যে ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনকে বিসিবি সভাপতি, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত বা স্বচ্ছ ছিল না। ভোটাররা হুমকির মুখে পড়েছিল এবং প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ব্যাপকভাবে ঘটেছিল।
১২
বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন। প্রাপ্ত কমিটি দেখতে পায় যে এ তদন্তে শনাক্তকৃত কার্যক্রমগুলো বিসিবি সংবিধানের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে যার মধ্যে রয়েছে ব্যালটের গোপনীয়তা, প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং স্বাধীন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিধান লঙ্ঘন।
১৩
৬.৩ ক্যাটাগরি ২ মেট্রোপলিটন ক্লাব থেকে অভিযোগ। অভিযোগ সূত্র ৫৪টি মেট্রোপলিটন ক্লাবের সভাপতি, সেক্রেটারি এবং কাউন্সিলরগণ। অভিযোগের তারিখ ৯ মার্চ ২০২৬। নির্বাচনে কারচুপি। কমিটি দেখতে পায় যে মিস্টার আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনকে কারচুপি করা হয়েছে যা বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ করেছে। ক্লাব কাউন্সিলরদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কমিটি আরও দেখেছে যে নির্বাচনের সময় হুমকি প্রদান ও বেআইনিভাবে জবরদস্তি করা হয়েছিল।
১৪
ই-ভোটিং সিস্টেমের অপব্যবহার। কমিটি দেখতে পায় যে কাউন্সিলরদের ই-ভোটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ভোট দিতে প্রভাবিত করা হয়েছিল এবং তাদের হোটেল শেরাটন বনানীতে এসে ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল যেখানে অংশীদার হচ্ছেন বিসিবির বর্তমান সহ-সভাপতি মিস্টার মোহাম্মদ সাখাওয়াত যিনি কিনা ওই হোটেলের একজন স্টেকহোল্ডার। কাউন্সিলরদের ভোট দিতে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়নি। কমিটি আরও দেখতে পায় যে ই-ভোটিং সিস্টেমটি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল এবং এটি গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতার মৌলিক মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৫
সময়সীমার পরে মনোনয়ন গ্রহণ। মিস্টার ফারুক আহমেদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ২৩/০৯/২০২৫ তারিখে চূড়ান্ত কাউন্সিলর তালিকা পেয়েছিল যদিও নির্ধারিত সময় ছিল ২২/০৯/২০২৫। তবে নির্বাচন কমিশন তালিকার সময়ের পরে জমা দেওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেনি। অন্যদিকে বিসিবি সিইও মিস্টার নিজামুদ্দিন চৌধুরী তার লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে বোর্ডের অনুমোদনের পরে বিসিবি ২২/০৯/২০২৫ তারিখে কাউন্সিলর তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে। এছাড়াও এক সাক্ষাৎকারে মিস্টার ফাহিম সিনহা দাবি করেছেন যে কিছু পরিচালক মিস্টার ফারুক আহমেদের মনোনয়ন ফরম গ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন। পুনরাবৃত্ত অনুরোধের পরেও কমিটি উক্ত সভার কোনো অডিও বা ভিডিও রেকর্ড পায়নি। এই বিপরীত বিবৃতিগুলোর প্রেক্ষিতে এবং বিসিবি কমিটির মনে করে যে মিস্টার ফারুক আহমেদ একটি বেআইনি সুবিধা পেয়েছেন যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
১৬
পছন্দের প্রার্থীদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান। কমিটি দেখতে পায় যে তৎকালীন স্পোর্টস অ্যাডভাইজারের অপছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে সময়সীমার পরে মনোনয়ন গ্রহণ, ভোটার তালিকার আগাম প্রবেশাধিকার, বেআইনি প্রচারণা সহায়তা ইত্যাদি।
নির্দিষ্ট স্থানে ই-ভোটারদের ভোট প্রদানে প্রভাবিত করা। কমিটি দেখতে পায় যে ই-ভোটারদের নির্দিষ্ট স্থানে ভোট দিতে নির্দেশ করা সামাজিক যা ভোট প্রদানের গোপনীয়তা এবং স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ভোটারদের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভোট দিতে বাধ্য করা। কমিটি দেখতে পায় যে ভোটারদের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে যা স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের মূলনীতির সরাসরি লঙ্ঘন। এই কার্যক্রম ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
১৭
সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ। কমিটি দেখতে পায় যে সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। ভোটাররা হুমকির মুখে পড়েছিল এবং প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ব্যাপকভাবে ঘটেছিল।
১৮
বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন। প্রাপ্ত কমিটি দেখতে পায় যে এ তদন্তে শনাক্তকৃত কার্যক্রমগুলো বিসিবি সংবিধানের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে যার মধ্যে রয়েছে ব্যালটের গোপনীয়তা, প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং স্বাধীন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিধান লঙ্ঘন।
ধারা ৩ থেকে অভিযোগ, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও অন্যান্য। অভিযোগ সূত্র জনাব কাজী মোহাম্মদ ইউশা এবং অন্যান্য প্রাক্তন ক্রিকেটার বা কাউন্সিলরদের পক্ষে। অভিযোগের তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬।
১৯
নমিনেশনের আগে বোর্ড সভা ডাকা হয়েছে কিনা। কমিটি দেখতে পায় যে বিসিবি বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের ২১তম বৈঠকে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নের বিষয়টি নথিভুক্ত হয়েছিল এবং বোর্ডের পরিচালকরা জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে অনুমতি দিয়েছিলেন যে তিনি নিজেই প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়ন করতে পারেন। তবে অন্যান্য সাক্ষাৎকারকৃত পরিচালকরা তাদের বক্তব্যে এই দাবিটি অস্বীকার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে কমিটি বিসিবি সিইও মিস্টার নিজামুদ্দিন চৌধুরীকে বোর্ড বৈঠকের অডিও ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে অনুরোধ করেছিল যা এখনো প্রদান করা হয়নি। এর বিপরীতে বিসিবি সিইও ০৪/০৪/২০২৬ তারিখে একটি ইমেইলের মাধ্যমে বোর্ড সভার অডিও ভিডিও রেকর্ড সরবরাহের জন্য ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন যা কমিটি অযৌক্তিক এবং অসহযোগী মনে করেছে। তাই কমিটি বিশ্বাস করে যে বিসিবি কমিটিকে অডিও ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে ইচ্ছুক নয়। সুতরাং বোর্ড অনুমোদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপত্তি যথাযথ ভিত্তিসম্পন্ন।
২০
বিসিবি সভাপতি হিসেবে জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুল কি তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছিলেন? জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবি সভাপতি, জনাব নিজামুদ্দিন চৌধুরী বিসিবি সিইও এবং অন্যান্য পরিচালকরা বিসিবি বোর্ডের সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত বিবৃতিতে সংঘর্ষপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। এছাড়াও কমিটি উক্ত বৈঠকের কোনো ভিডিও বা অডিও রেকর্ড পায়নি যদিও বিসিবি কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল। অতএব অন্যান্য সাক্ষাৎকারকৃত পরিচালকদের বিবৃতির ভিত্তিতে কমিটি অনুমান করেছে যে জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য যথাযথভাবে অনুমোদিত ছিলেন না।
এছাড়াও বিসিবি সংবিধানের আর্টিকেল ৯.৩.৩ অনুযায়ী সভাপতি এককভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষমতা রাখেন না। সুতরাং বিসিবি সভাপতি হিসেবে জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুল একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন করে তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছেন। এটি সুস্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন।
২১
মনোনয়নের নির্বাচন প্রভাব। কমিটি দেখতে পেয়েছে যে জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোনয়ন করা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, কারণ তিনি ওই কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সুবিধা লাভ করেছেন এবং সম্ভাব্যভাবে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছেন।
২২
প্রণালীগত অনুসন্ধান, সংবিধানগত অপ্রতুলতা। বিসিবি সংবিধানের অপ্রতুলতা প্রাপ্তি। কমিটি দেখতে পেয়েছে যে বিসিবি সংবিধান মৌলিকভাবে যথেষ্ট নয় যাতে স্বাধীন, ন্যায্য এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়। সংবিধানের কাঠামোগত দুর্বলতা এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যেখানে শনাক্তকৃত অনিয়মগুলো ঘটতে সুযোগ পেয়েছে।
২৩
বিসিবি নির্বাচন নিয়মের অসম্পূর্ণতা প্রাপ্তি। কমিটি দেখতে পেয়েছে যে বিসিবি নির্বাচন নিয়ম ২০২৫ অসম্পূর্ণ এবং অপর্যাপ্ত। ই-ভোটিং, স্বাধীন তত্ত্বাবধান এবং গোপন ব্যালট গোপনীয়তার জন্য কোনো ধারা না থাকায় দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে যা অপব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।

আরেকটি ট্রফিশূন্য মৌসুম এড়াতে রিয়াল মাদ্রিদকে পাড়ি দিতে হবে দূর্গম পথ। চোট আর ছন্দহীনতায় এমনিতেই ব্যাকফুটে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনার কাছে লিগ শিরোপা প্রায় হাতছাড়া হওয়ার পর এবার তাদের লড়াই চ্যাম্পিয়নস লিগে। আর ইউরোপ সেরা এই প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বিপদে পড়তে পারে রিয়াল। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে আজ স্প্যানিশ জায়ান্টদের ৬ ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখলেই নিষেধাজ্ঞার শাস্তির মুখে পড়বেন।
এই মৌসুমে রিয়ালের আক্রমণভাগ এমনিতেই অধরাবাহিক। আলভারো আরবেলোয়ার দলের আক্রমণের দুই প্রাণভোমরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপে উভয়ই বায়ার্নের বিপক্ষে পরের লেগে দর্শক বনে যেতে পারেন।
এছাড়া জুড বেলিংহাম, আলভারো কারেরাস, ডিন হুইসেন ও অরেলিন শুয়োমেনিও নিষেধাজ্ঞার শাস্তি থেকে একটি কার্ড দূরে। রদ্রিগোও এই তালিকায় আছেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী চোটে তিনি খেলবেন না।
ইতিহাদে ম্যানচেস্টার সিটি বাধা টপকাতে রিয়ালের ত্রাদা হয়ে এসেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের নৈপুণ্যে আসে দুটি গোল। সম্প্রতি ছন্দহীনতায় থাকলেও বড় ম্যাচে এমবাপের উপস্থিতির গুরুত্ব ভালো করেই জানা আছে রিয়াল কোচের। এই বায়ার্নের বিপক্ষে সাত ম্যাচে তিনটি গোল ও এক অ্যাসিস্ট আছে ফরাসি ফরোয়ার্ডের। তাতে ঘরের মাঠে প্রথম লেগে সতর্কই থাকতে হবে তাকে।
ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার রিয়াল-বায়ার্ন ম্যাচের দায়িত্বে। চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে সাত ম্যাচে গড়ে ৪.৪টি হলুদ কার্ড বের করেছেন তিনি। এর মধ্যে পিএসভি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের ম্যাচে সাতবার হলুদ কার্ড দেখাতে হয়েছে তাকে। প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৩.৫৬ ফাউল হয়েছে, যা প্রমাণ করে খেলোয়াড়দের কার্ড দিতে ‘প্রসিদ্ধই’ তিনি।
রিয়ালের সাম্প্রতিক ম্যাচে ক্যামাভিঙ্গা ও আর্দা গুলার-কে কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি অলিভার। চ্যাম্পিয়নস লিগের যে ম্যাচে রিয়াল ৩-৪ ব্যবধানে অলিম্পিয়াকসের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল। রিয়ালের জয়ে চার গোল এসেছিল এমবাপের সৌজন্যে।
মোট চারবার রিয়ালের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন অলিভার—চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুইবার এবং ২০২২ ইউইএফএ সুপার কাপ ফাইনালে একবার, যেখানে তিনি কোনো রিয়ালের খেলোয়াড়কে কার্ড দেখাননি।
তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কার্ড দেখানোর অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৮ সালে জুভেন্তাসের বিপক্ষে তিনি দানি কারভাহাল, মার্কেলো ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো-কে কার্ড দেখান। ২০২৩ সালে ব্রাগার বিপক্ষে এডুয়ার্দো ক্যামাভিঙ্গা ও নাচো-কে সতর্ক করেছিলেন।

কোয়াড্রপল জয়ের সুযোগ ছিল আর্সেনালের। টানা দুই ম্যাচে দুই ট্রফি খুইয়ে নিজেদের চিরচিত অভ্যাসই যেন দেখিয়ে দিল মিকেল আরতেতার দল। গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে লিগ কাপে হারের পর রোববার সাউদাম্পটনের সঙ্গে হেরে এফএ কাপ থেকে বিদায়। ঘরোয়া কাপে হারের ক্ষত নিয়েই এবার ইউরোপীয় মঞ্চে ভাগ্য ফেরাতে পর্তুগাল পাড়ি দিচ্ছে আর্সেনাল।
এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হচ্ছে আর্সেনাল ও স্পোর্টিং লিসবন।
লিগ কাপ এবং এফএ কাপ হাঁতছাড়া হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে চলতি মৌসুমে অপ্রতিরোধ্য আর্সেনাল। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে একটি ম্যাচেও এবার হারেনি মিকেল আরতেতার দল।
আরও পড়ুন
| বড় জয়ে ফেডারেশন কাপের রেসে ফিরল বসুন্ধরা কিংস |
|
অবশ্য পর্তুগিজ প্রতিপক্ষের মাঠে নকআউট পর্বে আর্সেনালের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে পর্তুগালে ইংলিশ ক্লাবটি এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি (৪ ড্র, ২ হার)। সবশেষ ২০২৩-২৪ মৌসুমে শেষ ষোলোর ম্যাচে পোর্তোর কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।
আর্সেনালের জন্য কাজটা আরও কঠিন—কারণ চোটের কারণে এই ম্যাচে থাকছেন না বুকায়ো সাকা এবং জুরি এন টিম্বার। যদিও স্বস্তির খবরও আছে—গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েস, ডেকলান রাইস এবং লেয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড লিসবনে উড়াল দেওয়ার আগে অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন।
আর্সেনালের সেরা ‘অস্ত্র’ ভিক্টর গিওকেরেস। গত মৌসুমে স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড এবার ফিরছেন চেনা আঙিনায়, তবে এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে। স্পোর্টিংয়ের হয়ে ১০২ ম্যাচে ৯৭ গোল করা গিওকেরেস ভালোভাবেই জানেন দলটির শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা। আর্সেনালের আক্রমণভাগের মূল ভরসা এখন তিনিই।
নিজেদের মাঠে স্পোর্টিং রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে টানা ১৭ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নিয়ে তারা আর্সেনালকে আতিথ্য দেবে। এর আগে বোদো/গ্লিম্টের বিপক্ষে ৩ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে রুই বোরগেসের দল।
আরও পড়ুন
| কোয়ার্টার ফাইনালের হাতছানি আফঈদা-সাগরিকাদের সামনে |
|
যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে পর্তুগিজ ক্লাবগুলো ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গত ৯টি কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াইয়ের সবকটিতেই হেরেছে। তবে ২০২৩ সালে এই আর্সেনালকেই পেনাল্টিতে হারিয়ে ইউরোপা লিগ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল স্পোর্টিং।
বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখায় আজকের ম্যাচে স্পোর্টিংয়ের অধিনায়ক মর্টেন হিউলম্যান্ড খেলতে পারবেন না। এছাড়া চোটের কারণে জিওভানি কুয়েন্ডা ও লুইস গুইলহের্মেকে পাচ্ছে না পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়নরা। স্পোর্টিংয়ের হয়ে লুইস সুয়ারেজ আর একটি গোল করলেই ক্লাবের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ইউরোপীয় গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন।
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে রক্ষণভাগ ফাঁকি দেওয়া প্রতিপক্ষ দলের জন্য বেশ কঠিনই। গানাররা প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ গোল হজম করেছে। বিপরীতে স্পোর্টিং এই আসরে নিজেদের মাঠে খেলা ৫টি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে। পর্তুগিজ কোনো ক্লাবের জন্য ১৯৯৯ সালের পর এটিই দীর্ঘতম জয়ের রেকর্ড।