
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও একটি জয় তুলে নিল লিভারপুল। ম্যাড়ম্যাড়ে এক ম্যাচে এভার্টনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্নে স্লটের দল। রায়ান খাফেনবেখ ও হুগো একিতিকের গোলে ‘মার্সিসাইড ডার্বি’ জিতল অল রেডরা।
ঘরের মাঠ অ্যান ফিল্ডের জয়টা অবশ্য ঠিক লিভারপুল সুলভ ছিল না। ৫৮ শতাংশ বল দখলে রেখে ১১টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে ৯টি শট নেওয়া এভার্টন গোলমুখে রাখতে পেরেছে দু’টি।
দ্বিতীয়ার্ধে ইদ্রিসা গেয়ির গোলে এভার্টন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক লিভারপুল। এই জয়ে ইংলিশ লিগটির একমাত্র দল হিসেবে সবক’টি ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ স্থান আরও পোক্ত করল লিভারপুল।
পাঁচ ম্যাচে মোহাম্মাদ সালাহদের অর্জন পুরো ১৫ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আর্সেনাল। আর পাঁচ ম্যাচে ২ জয়, ২ হার ও এক ড্রয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে ৭ নম্বরে এভার্টন।
শুরু থেকেই ম্যাচে দাপট দেখিয়ে খেলার চেষ্ট করে লিভারপুল। তাতে ফলও আসে দ্রুতই। ১০ মিনিটে মোহামেদ সালাহর পাসে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন রায়ান খাফেনবেখ। ডি-বক্সে দুর্দান্ত এক কোনাকুনি শটে ব্যবধান ১-০ করেন এই ডাচ মিডফিল্ডার।
২৯ মিনিটে এবার গোলের জোগানদাতা খাফেনবেখ। তার নিখুঁত পাস থেকে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন হুগো একিতিকে। জুলাইয়ে লিভারপুলে যোগ দেওয়া এই ফরাসি ফরোয়ার্ড এরই মধ্যে প্রিমিয়ার লিগ তিন নম্বর গোল করলেন।
প্রথমার্ধে খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে না পারা এভার্টন দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ৫৮ মিনিটে তারা ব্যবধান কমায় দুর্দান্ত এক আক্রমণে। সতীর্থের ব্যাক পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির এক শটে লিভারপুলের গোলরক্ষক আলিসনকে পরাস্ত করেন সেনেগালের মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গানা গেয়ি।
গোল হজমের পর দলে জোড়া পরিবর্তন আনেন কোচ আর্নে স্লট। কোডি গাকপো ও আলেক্সিস মাক এলিস্টারকে পরিবর্তে মাঠে নামেন ফ্লোরিয়ান ভিৎজ ও কার্টিস জোন্স।
এরপর অবশ্য আর লিভারপুলের ভোঁতা আক্রমণ গোলসংখ্যা বাড়াতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি হয়নি।
আগামী মঙ্গলবার লিভারপুলের পরের ম্যাচ সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে।
No posts available.

স্বপ্নের মতোই ছিল প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও অনুকূলে ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের ৫০তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের।
বুধবার ব্যাংককের থামমাসাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে ৫ গোলের চারটিই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথমার্ধে মোসাম্মৎ সাগরিকার গোলে বিরতিতে যায় পিটার বাটলারের দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে তিনি আরও একটি গোল করে দলকে স্বস্তি দেন। তবে একের পর এক ভুলে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে আফঈদা খন্দকারদের।
ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে ফ্রি কিক আটকাতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিলি আক্তার। বল তার গ্লাভস গলে বেরিয়ে যাওয়ার পর দূরূহ কোণ থেকে কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচের নেওয়া শট থাকেনি লক্ষে। এ যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
২৫তম মিনিটে স্বপ্নাকে তুলে পুজা দাসকে নামান কোচ বাটলার। একটু পরই থাইল্যান্ডের দূরপাল্লার একটি প্রচেষ্টা ফিস্ট করে ফেরান মিলি। আলগা বলে আরেকজনের চেষ্টা ব্লকড হয় রক্ষণে।
বাংলাদেশে সাফল্য আসে ম্যাচঘড়ির ৩৬তম মিনিটে। এসময় মোমিতা খাতুনের ক্রসের সূত্র ধরেই একাই আক্রমণে ওঠেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তার সামনে ছিলেন কেবল আতিমা বুনপ্রাকানপাই। বুদ্ধিদৃপ্ত শটে থাইল্যান্ড গোলকিপারকে পরাস্ত করে লাল-সবুজ দলকে লিড এনে দেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। এই অর্ধে মাত্র একটি গোল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উমেলা মার্মার ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করেন সাগরিকা আক্তার। এরপরই ছন্দপতন শুরু হয় বাংলাদেশের।
৬৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন সুরভী আক্তার। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে থাইল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন কুরিসারা।
৭৬তম মিনিটে সমতায় ফিরে স্বাগতিকরা। এবারের গোলটিও পেনাল্টি থেকে। ডি বক্সের ভেতর পিচায়াতিদাকে ফেলে দেন নবীরন খাতুন। স্পট কিক থেকে গোল করেন রিনায়াপাত।
সমতায় ফেরার তিন মিনিট পরই লিড আদায় করে থাইল্যান্ড। ৭৯ মিনিটে পিচায়াতিদার গোলে ৩-২ ব্যবধানে লিড নেয় থাইল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত এই ফলে ইতি ঘটে ম্যাচের।

২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮টি দল নিশ্চিত হয়েছে। প্লে-অফের রাউন্ড শেষে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও ইরাক বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে। বিপরীতে হৃদয় ভেঙেছে অনেক বড় দলেরও, যেখানে সবার আগে আসবে ‘হতভাগা’ ইতালির নাম। কেবল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থকই নয়, ‘আজ্জুরিদের’ ‘ট্রেবল’ ট্রেজেডি দেখে ‘ইশ’ বা ‘আহ’ বলতেই পারেন ফুটবল নিয়ে নুন্যতম জানাশোনা থাকা যেকেউ।
বিশ্বকাপের প্লে অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে দুঃস্বপ্নের হ্যাটট্রিক করে ইতালি। তাদের ছাড়া আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে হবে, সেই দুঃখে মন কাঁদছে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিরও। এই দেশের সঙ্গে যে নাড়ির সম্পর্কও আছে আলবিসেলেস্তা কোচের। তাই তো বিশ্বকাপে ইতালির অনুপস্থিতি বেশ পীড়া দিচ্ছে স্কালোনিকে।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাদ্যম ওলে’কে স্কালোনি বলেন, আমি কিছুটা ইতালীয় বংশের মানুষ… আমার দাদা-দাদি, প্রপিতামহ। ইতালির জন্য আমার মন খারাপ, কারণ আমি সেখানে খেলেছি, আর এটি এমন একটি দেশ যাদের আমি আর্জেন্টিনার ভাই মনে করি—যারা আমাদের প্রতি খুব স্নেহশীল। এছাড়া, এটি এমন একটি দেশ ও জাতীয় দল যা বিশ্ব ফুটবলে বিশাল প্রভাব রেখেছে এবং শক্তিশালীদের মধ্যে অন্যতম।’
ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অংশে স্কালোনি ইতালির লিগ সিরি’আ’তে দুটি দলের হয়ে খেলেছেন। এসএস লাজিও (২০০৭-২০০৮ ও ২০০৯-২০১৩, মাঝে ধারে ছিলেন) এবং আতালান্তা (২০১৩-২০১৫), যেখানে থেকে অবসরে যান আর্জেন্টিনার কোচ। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যে ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল। সেই বছরই বিশ্বকাপ ইতালি চতুর্থ ও শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়।
স্কালোণি আরও বলেন, তাদের বিশ্বকাপে না থাকার বিষয়টি… আমাদের আর্জেন্টিনিদের কাছে মোটেই সহজ নয়। এটা খুব দুঃখজনক, বিশেষ করে যেভাবে হয়েছে—একটু কঠিন এবং অন্যায়ভাবে। ম্যাচের প্রথম দিকেই ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া, বাইরে খেলার চাপ সহ্য করতে হয়েছে।’
এর আড়ে রাশিয়া ২০১৮ বা কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হয়েছিল ইতালি। শেষবার তারা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ২০১৪ সালে, কিন্তু সেবার গ্রুপপর্বই পেরোতে পারেনি তারা।
আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম অবস্থানে থেকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা আগেভাগে নিশ্চিত করে গত বছরের ২৫ মার্চে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে তারা ‘জে’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া এবং জর্ডান।
লিওনেল মেসিরা প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে। এরপর ২২ জুন ডালাস স্টেডিয়ামে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার এবং ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের তখন ৩৬তম মিনিট। নিজেদের অর্ধ থেকে মোমিতা খাতুনের ক্রসের সূত্র ধরেই একাই আক্রমণে ওঠেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তার সামনে ছিলেন কেবল আতিমা বুনপ্রাকানপাই। বুদ্ধিদৃপ্ত শটে থাইল্যান্ড গোলকিপারকে পরাস্ত করে লাল-সবুজ দলকে লিড এনে দেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড।
বুধবার ব্যাংককের থামমাসাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া সাফ অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে জেমস পিটার বাটলারের দল।।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠেছিল ম্যাচ। দুদল একাধিক সুযোগ পায়। তবে ৩৬তম মিনেট ডেডলক ভাঙে। বাংলাদেশ গোলকিপার মিলি আক্তার এক ডিফেন্ডারকে বল দেন। সে ক্রসে যায় মোমিতার পায়ে। সুযোগ বুঝে মোমিতা নেন লং পাস।
মোমিতার পাসের সূত্র ধরেই থাইল্যান্ডের চার ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে ছুটতে থাকেন সাগরিকা। একাই আক্রমণে ওঠেন তিনি। ডান-বাঁ-য়ে ছিল না কোনো সতীর্থ। তবে ব্লক তৈরিতে এগিয়ে আসেন স্বাগতিক গোলকিপার আতিমা। তাতে অসুবিধা হয়নি বাংলাদেশ ফরোয়ার্ডের। নিপুণ দক্ষতায় আদায় করেন গোল। তাতেই থাকাথামমাসাত স্টেডিয়ামে সংখ্যাগরিষ্টতায় এগিয়ে থাকা তাই সমর্থকরা খানিক সময়ের জন্য চুপ হয়ে যান।
প্রথমার্ধে বল পজিশনে ৪২ শতাংশ ছিল বাংলাদেশের দখলে। গোলের লক্ষ্যে শট ছিল দুটি। যার একটি কাজে লাগায় তারা।

স্বপ্নের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ। তাতে ছিল ভয় ও শঙ্কার মিশ্রণ। পা হড়কালেই সবশেষ। তৈরি হতো ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে দেশে ফেরার উপলক্ষ। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেননি মোহাম্মদ মানিক। বাংলাদেশ ফরোয়ার্ডের বদৌলতে আরও একবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে লাল সবুজ দল।
বুধবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে মানিকের একমাত্র গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। গত আসরে যাদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজ দল এবার তাদের সেমিফাইনালেই হারাল তারা।
ম্যাচের ১১ মিনিটেই বাংলাদেশকে উৎসব উপহার দেন মানিক। নিজে কর্নার কিক নিয়ে নিখুঁত পরিকল্পনায় কাজে লাগান মুর্শেদ আলী। তার বাড়ানো ক্রসে ডি-বক্সে জটলার ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন মানিক। তার এই গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশের ডাগআউট।
নেপালের বিপক্ষে গোল এবং জয় মানিক তার অসুস্থ মাকে উৎসর্গ করেছেন। ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
‘সর্বপ্রথম আ্ল্লাহ তা’লার কাছে অশেষ শুকরিয়া যে, আমরা ফাইনালে যেতে পেরেছি। ম্যচাটি ছিল আমার মায়ের জন্য। মা অসুস্থ। তাকে আমি এই ম্যাচ উপহার দিয়েছি।’
ফাইনালে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ অপর সেমিফাইনালের জয়ী দল। শিরোপার লড়াইয়ের আগে মানিক দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেন,
‘আমরা যেন ট্রফি নিয়ে ফাইনাল জিততে পারি। ভালো কিছু উপহার দিতে পারি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নতুন আরেকটি আসরেও ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে নেপালের বিপক্ষে লাল-সবুজ দলের জয় ১-০ গোলের ব্যবধানে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচে অতিথি দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মোহাম্মদ মানিক। ম্যাচের একমাত্র গোলটি হয়েছে প্রথমার্ধে।
শিরোপা ধরে রাখার মিশন এবং নেপালকে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করার লক্ষ্যে নেমে ম্যাচ ঘড়ির ১১ মিনিটে লিড আদায় করে বাংলাদেশ। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে মোর্শেদ আলির বাড়ানো চিপ থেকে দুর্দান্ত হেডে লক্ষ্যভেদ করেন মানিক।
পরের মিনিটেই লিড দ্বিগুণ করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কাউন্টার অ্যাটাকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে প্রতিপক্ষের ডি বক্সের কাছাকাছি চলে যান ইউসুফ আলি। সেখান থেকে বল পান রোনান সুলিভান। গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। তবে অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় বাতিল হয় সেই গোল।
প্রথমার্ধে আরো বেশ কয়েকটি আক্রমণ করেছে বাংলাদেশ। তবে জালের দেখা মেলেনি। নেপালও সমতায় ফেরতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬০তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় নেপাল। বড় সুযোগ মিস করেন বিগ্যান খাডকা! বাঁ-দিকের সেট-পিস থেকে ভেসে আসা ফ্রি-কিক হেডারে কাজে লাগানো চেষ্টা করেন খাড়কা। গোলকিপার ইসমাইলকে তিনি প্রায় পরাস্ত করে ফেলেছিলেন, কিন্তু বলটা জালে না ঢুকে বারের ওপরের জালে লেগে বাইরে চলে যায়।
৭৯তম মিনিটে বাঁ-প্রান্ত হয়ে আক্রমণে ওঠেন সংগ্রাম। বারের কাছে পৌঁছে তিনি ক্রস দেন শিমুল রাকসামকে। বলটি পায়ের হালকা ছোঁয়া পেলেই হয়তো লিড দ্বিগুণ হত বাংলাদেশের। তবে তার আগে ব্লকের মুখে পড়েন। এসময় অবশ্য শিমুলকে টেনে ফেলে দেন নেপালের এক ডিফেন্ডার। একে তো গোল মিস, দ্বিতীয়ত রেফারির সিদ্ধান্ত যায়নি লাল-সবুজের পক্ষে।
৯০তম মিনিটে সমতায় ফেরার শেষবারের মতো চেষ্টা করে নেপাল। প্রসাদ কৃষ্ণার ফ্রি কিক শট হেডারে ক্লিয়ার করেন মোহাম্মদ ইউসুফ। তবে ফিরতি শটে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন প্রসাদ মোক্তান। ডি বক্সের খানিক দূর থেকেই বুলেট গতির শট নেন তিনি। সে শটও রক্ষণ দেয়ালের বাঁধায় ফিরে আসে। আর সেখান থেকেই বাইসাইকেল কিক নেওয়ার চেষ্টা করেন নেপালের সুভাস বাম। জটলার মধ্যে তার সেই শট বিপদ বাড়াতে পারতো। ভাগ্য সহায় ছিল বাংলাদেশের।
গ্রুপ ‘এ’-তে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে নেপাল। ভুটানকে ২-১, শ্রীলঙ্কাকে ১-০ গোলে হারানোর পর মালদ্বীপের সঙ্গে ১-১ ড্র করে তারা শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে। আর বাংলাদেশ গ্রুপ ‘বি’ থেকে রানারআপ হয়ে শেষ চারে উঠেছে। তারা পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে। আর নক আউটে হারাল নেপালকে।