
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে একাধিকবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন পেপ গার্দিওলা ও রুবেন আমোরিম। তবে সেই অধ্যায় আপাতত শেষ। কারণ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাগআউটে আর দেখা যাবে না পর্তুগিজ কোচ আমোরিমকে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৪ মাসের মাথায় বরখাস্ত হয়েছেন আমোরিম। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ক্লাবের ঘরের ছেলে ড্যারেন ফ্লেচার। বুধবার বার্নলির বিপক্ষে লিগ ম্যাচে ইউনাইটেডের ডাগআউটে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে তাঁকে।
আমোরিমের বিদায়ের পর ফুটবল অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিষ্যরা স্মৃতিচারণ করেছেন, বিশ্লেষক ও কোচরা আলোচনা করেছেন তাঁর কাজ ও প্রভাব নিয়ে। সেই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টায় ব্রাইটনের মুখোমুখি হবে ম্যানসিটি। ঘরের মাঠের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আমোরিম প্রসঙ্গে কথা বলেন গার্দিওলা। কোচিং পেশার অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
‘এই পেশায় সময় খুবই সীমিত—যেমনটা এনজো মারেস্কার ক্ষেত্রেও হয়েছিল। চেলসি ও ম্যান ইউনাইটেডের খেলোয়াড় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান রেখে আমি এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’
গার্দিওলার ভাষায়, এনজোর মতো আমোরিমও একজন শীর্ষ মানের কোচ। সিদ্ধান্তটি ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষই নিয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য তিনি আমোরিমের মঙ্গল কামনা করেছেন।
No posts available.
৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৪ এম
২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪২ পিএম

শেষ পর্যন্ত তাহলে নেইমারকে ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে যাচ্ছে ব্রাজিল? বিশ্বকাপে সান্তোসের তারকা ফুটবলারের সেলেসাও দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই এমনটাই জানালো ইএসপিএন ব্রাজিল। কার্লো আনচেলোত্তির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা হচ্ছে না নেইমারের।
ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নেইমারকে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েই বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন আনচেলোত্তি। তখন জানানো হয়েছিল, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে।
কোচ আনচেলত্তি এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন শুরু থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আসেছে—দলে ফিরতে হলে নেইমারকে শতভাগ ফিট থাকতে হবে। সবশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতেও নেইমারকে দলে ডাকা হয়নি।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের মধ্যে ২৪ জনের জায়গা প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা। মার্কা তাদের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, সেই তালিকায় নেই ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের নাম। বরং সাম্প্রতিক স্কোয়াডের মূল কাঠামো ধরে রাখতেই আগ্রহী আনচেলত্তি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বাকি দুই জায়গার জন্য লড়াই করছেন লুকাস পাকেতা, এন্দ্রিক এবং ইগর থিয়াগো।
আনচেলত্তি তরুণদের ওপর ভরসা রেখে নতুনভাবে ব্রাজিল দল গড়তে চান। একক কোনো তারকার ওপর নির্ভর না করে দলীয় খেলায় জোর দিচ্ছেন তিনি—লক্ষ্য এমন একটি নমনীয় দল তৈরি করা, যা প্রতিপক্ষ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে।
চোটের পাশাপাশি ধারাবাহিকতা আর ফিটনেসের অভাবও আনচেলোত্তির সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নেইমার শেষবার ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর, উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে—সেখানেই হাঁটুর চোটে পড়েন তিনি।
এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তোসে ফিরে এলেও, একাধিক ইনজুরি কাটিয়ে চলতি বছরে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন নেইমার।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের সবচেয়ে পরিচিত মুখদের একজন নেইমার। ফলে তাঁর সম্ভাব্য অনুপস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না হাজারো ভক্ত, বিশ্লেষক এমনকি ফুটবল দুনিয়ার কিংবদন্তিরাও। এরমধ্যে আছেন জোসে মরিনিও, রোমারিও, রোনালদো নাজারিও এবং কাফু। এমনকি সতীর্থ রদ্রিগো ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমারকে দলে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত যদি আনচেলোত্তি যদি নেইমারকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা ব্রাজিলের ইতিহাসে এক যুগের অবসান হিসেবেই ধরা হবে। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে আনচেলত্তির—সেই তালিকাতেই মিলবে সব প্রশ্নের উত্তর।

বর্তমানে ইউরোপ তথা ফুটবলবিশ্বের অন্যতম সেরা দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের এই দুই মধ্যমণির পাশপাশি বার্সেলোনার তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালও এই সময়ের ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’। তবে বার্সার স্প্যানিশ এই তারকার চেয়ে পুরো দ্বিগুন বেশি বেতন পান রিয়ালের দুই তারকা। ইউরোপে সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া ফুটবলার এখন এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস।
প্রতি বছরের মতোই ফরাসি সংবামাধ্যম লে’কিপ লিগ আঁ-এর পাশাপাশি ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলারদেরও তুলে ধরেছে। ফুটবলারদের পাশপাশি কোচদের বেতনও প্রকাশ করেছে তারা। দেখে নেওয়া যাক ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনটাতে কে সবচেয়ে বেশি বেতনের খেলোয়াড়।
লা লিগায়
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে বেতনের দিক থেকে সবার ওপরে আছেন এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস। ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের মাসিক আয় প্রায় ২৬ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। গত বছর ভিনির মাসে বেতন ছিল ২৫ লাখ ইউরো, এ বছরে এমবাপের সমান বেতন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের। স্পেনে তাদের ঠিক পেছনেই আছেন ডেভিড আলাবা (১৮ লাখ ইউরো), রবার্ট লেভানডফস্কি (১৭ লাখ ৩০ হাজার ইউরো), জুড বেলিংহাম ও জন ওবলাক (১৬ লাখ ৭০ হাজার ইউরো)।
বর্তমানে ট্রান্সফার মার্কেটে সবচেয়ে বেশি দাম যার, সেই লামিনে ইয়ামালের বেতন এমবাপে ও ভিনি থেকে অর্ধেক কম বেতন পান। ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকার বেতন ১৩ লাখ ৩০ হাজার ইউরো।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ফুটবল লিগ হিসেবে পরিচিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া আর্লিং হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড গত বছরে প্রতি মাসে পেতেন ২৫ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। এখন মাসে তাঁর বেতন ২৬ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। এরপরই আছেন মোহাম্মদ সালাহ। চলতি মৌসুম শেষেই লিভারপুল ছাড়তে যাওয়া মিশরীয় ফরোয়ার্ডের বেতন ২০ লাখ ইউরো। এছাড়া ক্যাসেমিরো ও ভার্জিল ফন ডাইক ১৭ লাখ ৫০ হাজার করে মাসে বেতন পান।
বুন্দেসলিগা
বেতন দেওয়ায় জার্মানিতে বায়ার্ন মিউনিখের আধিপত্য চোখে পড়ার মতোই। শীর্ষ পাঁচ বেতন পাওয়া ফুটবলারই ক্লাবটির। বুন্দেসলিগায় শীর্ষে আছেন বাভারিয়ানদের দুই তারকা হ্যারি কেইন ও জামাল মুসিয়ালা। দু’জনের বেতনই ২১ লাখ ইউরো। এরপর আছেন ম্যানুয়েল নয়্যার—১৭.৫ লাখ ইউরো এবং জশুয়া কিমিচ ও দায়োত উপোমেকানো (১৬.৬ লাখ ইউরো)।
সিরি‘আ’
ইতালিতে শীর্ষে আছেন দুসান ভ্লাহোভিচ। জুভেন্টাসের সার্বিয়ান ফরোয়ার্ডের মাসিক বেতন প্রায় ১৮.৫ লাখ ইউরো। তার পরেই আছেন দুই আর্জেন্টাইন লাউতারো মার্তিনেজ (১৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো), পাউলো দিবালা (১০ লাখ ৮০ হাজার ইউরো)।
লিগ ‘আঁ’
ফ্রান্সে বরাবরের মতোই আলোচনার কেন্দ্রে পিএসজি। লিগ আঁ’র সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড় হিসেবে তালিকার শীর্ষে আছেন ওসমান দেম্বেলে। ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরাসি তারকার আয় প্রায় ১৫ লাখ ইউরো। তার পরেই আছেন পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কিনিওস (১১ লাখ ২০ হাজার ইউরো) এবং মরক্কোর আশরাফ হাকিমি (১১ লাখ ইউরো)। গত মৌসুমের তুলনায় পিএসজির মোট বেতন খরচ সামান্য বেড়েছে।

ফুটবলের উত্তাপের মাঝেও কখনও কখনও মানবিক গল্প জায়গা করে নেয় শিরোনামে। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মার্ক কক্সের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ঠিক তেমনই—মাঠের লাল কার্ডের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মায়ের স্নেহভরা বারণ।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তেজনার এক মুহূর্তে লাল কার্ড দেখেছিলেন কক্স। মাঠের সেই দৃশ্য চোখ এড়ায়নি তার ৮৬ বছর বয়সী মায়েরও। দূর দেশ থেকে ছেলেকে ফোন করে সোজাসাপ্টা বার্তা—‘বাবা, লাল কার্ড হজমের মতো দুষ্টুমি করো না।’
একটু হাসি, একটু ভালোবাসা—কিন্তু বার্তাটা ছিল গভীর, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই। ফুটবলের রণক্ষেত্রেও মা যেন মনে করিয়ে দিলেন, যাই হোক না কেন শৃঙ্খলাই আসল শক্তি।
কক্সের দল এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। কাল মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় প্রতিবেশি ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। লাল-সবুজ দল নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর ভুটানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত।
২৮ মার্চ গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত। ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। এই ম্যাচের প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে চতুর্থ রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড দেখেন ভারতীয় হেড কোচ মহেশ গাউলি। এসময় প্রতিবেশী দেশের গোলকিপিং কোচ সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে তর্কে জড়ান কক্স। রেফারি দুজনকে লাল কার্ড দেখান।
লাল কার্ড হজমের পর নেপালের বিপক্ষে ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ। টুর্নামেন্টে আরেকবার ভারতের মুখোমুখির আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে উঠে এলো সে প্রসঙ্গ। এসময় মজা করে কক্স জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তার মা তাকে ফোন করেন।
কক্স বলেন,
‘আমার ৮৬ বছর বয়সী মা ফোন করে আমাকে বলেছেন, এই বয়সে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার মতো দুষ্টুমি করো না। জীবন মানেই তো ফুরফুরে থাকা।’
দ্বিতীয় শিরোপ জয়ের মিশনে ডাগআউটে শান্ত মেজাজে থাকবেন বলে জানিয়েছেন কক্স। নিজেই যেন নিজের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করলেন, যতটা সম্ভব চুপিসারে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন তিনি।
তিনি বলেন,
‘আমার মাথায় একটি মূল কৌশল রয়েছে যা আমার দলকে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি এবং এটি দলের জন্য ভালো হবে। কৌশলটি আমি এখনই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আমি ডাগআউটেই (বেঞ্চে) থাকব, মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হবো না। আপাতত এটাই আমার মূল কৌশল যে শান্ত থাকা, ভালো আচরণ করা এবং খেলোয়াড়দেরই তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে কথা বলতে দেওয়া।’

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে যেতে ব্যর্থ হওয়ার পর পতদ্যাগ করেছেন ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। বিশ্বকাপের প্লে অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে হারের দুই দিন পর সরে দাড়ালেন তিনি।
এফআইজিসি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর আজ পদত্যাগের ঘোষণা দেন গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। ২০১৮ বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর কার্লো তেভেচ্চিও পদত্যাগ করলে ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। আর গ্যাব্রিয়েল দায়িত্ব নেওয়ার পরন ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপেই জায়গা করতে পারেনি ইতালি।
গ্রাভিনার সময়ে ইতালি ২০২০ ইউরো জিতেছিল। তবে ‘আজ্জুরিরা’ আরও একবার বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফুটবল ফেডারেশন। গ্রাভিনা ইতালির সাবেক কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি এবং বর্তমান কোচ জেনেরো গাত্তুসোর নিয়োগ তদারকি করেছেন। পদত্যাগের আগে তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও তিনি গাত্তুসোকে দলের সঙ্গে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন।
এফআইজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য আগামী ২২ জুন ভোট হবে। প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির সাবেক প্রধান এবং মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিক কমিটির সাবেক সভাপতি জিওভান্নি মালাগা।
ইতালির ফুটবলে এমন টালমাটাল সময়ের মধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি ইতালি তাদের ফুটবল অবকাঠামো আধুনিকায়ন না করে, তবে দেশটি ২০৩২ সালের ইউরোর সহ-আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে।
ইতালি ও তুরস্কের যৌথ আয়োজনে ২০৩২ ইউরো হওয়ার কথা। তবে আধুনিক স্টেডিয়ামের অভাবের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে ইতালি। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে অক্টোবরের মধ্যেই ইউয়েফাকে ইউরো আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম জমা দিতে হবে।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আগামীকাল বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে ভারত। মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় গড়াবে ফাইনাল। তার আগে আজ বাংলাদেশ দলের হেড কোচ মার্ক কক্স বলেছেন যে ভারত বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।
প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ না হেরে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ভারতও তাই। গ্রুপ পর্বে দুই দলের সাক্ষাতের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এরপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারায় নেপালকে। আর ভারত ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় ভুটানকে।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে আজ মার্ক কক্স বলেছেন,
‘আমরা ভারতের মতো একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যারা খুব ভালো খেলছে। তাদের চমৎকার কোচ এবং কোচিং স্টাফ রয়েছে। তবে আমাদেরও কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা দারুণ। ভারত একটি বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।’
খেলাধুলায় বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানেই বাড়তি উন্মাদনা। প্রতিবেশী দেশটিকে পেলে জ্বলে উঠে বাংলাদেশ। এই দুই দলের লড়াইয়ে চাপ থাকে দুই দলের ওপরই। হারতে চায় না কোনো দল। বাংলাদেশ-ভারত আরেকটি দ্বৈরথ এখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচকে অনেকেই বলেই দক্ষিণ এশিয়ার ডার্বি। মার্ক কক্স বাংলাদেশে এসেছেন খুব বেশি দিন হয়নি। তবে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ সম্পর্কে জানেন ভালোই,
‘আমার মনে হয় সবাই ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন। শুধু ১৯৪৭-৪৮ পরবর্তী ইতিহাসই নয়, বরং ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ সব ধরনের খেলার ইতিহাস সম্পর্কেও। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে সবসময়ই একটা দ্বৈরথ থাকবে। ঠিক যেমন ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। মানুষ সবসময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারাতে চায়।’
বয়সভিত্তিক সাফের অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালে নেপালকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় লাল সবুজের দল। তবে ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনালে ভারতের সঙ্গে হারে ৫-২ ব্যবধানে। সেবার নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দল ২-২ব্যবধানে ছিল। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলায় বাংলাদেশ অবিশ্বাস্যভাবে আরও তিন গোল হজম করে। তবে আগামীকালকের ফাইনাল হবে ৯০ মিনিটের। এরপর ফাইনাল নিস্পত্তি হবে পেনাল্টি শ্যুটআউটে।