১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৮ এম

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ ইতালি। প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর যারপরনাই হতাশ ইতালির কোচ জেনারো গাত্তুসো। তিনি বলেন, পারফরম্যান্স অনুযায়ী আরও ভালো ফলের দাবিদার ছিল ইতালি।
বসনিয়ার ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে মঙ্গলবার রাতে হওয়া ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হলে টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে গাত্তুসোর দলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটে বসনিয়া।
হারের পর হতাশা প্রকাশ করেন গাত্তুসো।
“এটা খুব কষ্ট দিচ্ছে, সত্যিই খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমার চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে এই দলটির জন্য যারা গত কয়েক মাস ধরে নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে। আমি মনে করি, আমরা যা পরিশ্রম করেছি সেই অনুযায়ী ফলাফল আমাদের প্রাপ্য ছিল।”
আরও পড়ুন
| ইতালির ঔদ্ধত্যের জবাব মাঠেই দিয়েছে বসনিয়া |
|
গাত্তুসোর সঙ্গে ইতালির চুক্তি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে ইতালি যদি বিশ্বকাপের টিকিট পেত, সেটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে যেতো। গত অক্টোবরে তিনি বলেছিলেন, দল যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশ ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবেন।
এখন দেখার বিষয় ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য আসলেই এমন কিছু করেন কি না। তবে ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা গাত্তুসোর প্রশংসা করে তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আর গাত্তুসো নিজে এখনই ইতালিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলতে রাজি নন।
“আজ এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মোটেও আগ্রহী নই। আজ আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলাটা হবে খুব ক্ষুদ্র চিন্তা ও অপরিপক্বতা। এখানে আমাদের ইতালি এবং জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে কথা বলা উচিত।”
আরও পড়ুন
| ৪ মিনিটে দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল |
|
“এটা আমাদের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা, যদিও এবার আমরা এই ধাক্কা খাওয়ার মতো ছিলাম না। আমরা আরও ভালো কিছুর দাবিদার ছিলাম এবং সে কারণেই আমার ভবিষ্যৎ এখন গুরুত্বহীন।”
ইতালি এর আগের দুটি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্লে-অফে সুইডেন এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বাদ পড়েছিল। গত জুনে লুসিয়ানো স্প্যালেত্তিকে বরখাস্ত করার পর যখন ইতালির বিশ্বকাপের আশা প্রায় ক্ষীণ হয়ে আসছিল, তখন গাত্তুসোকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
No posts available.
৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শুক্রবার রাতে শিরোপা ধরে রাখে বাংলাদেশ। মালদ্বীপ থেকে গতকাল দেশে ফিরলে ছাদখোলা বাসে চড়ে চ্যাম্পিয়নরা আসেন হাতিরঝিল এম্ফিথিয়েটারে। সেখানে জমকালো সংবর্ধনা আয়োজন করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা। সেখানেই সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন জাতির সুনাম ফিরিয়ে আনতে এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে কেবল ৯০ মিনিটই যথেষ্ট।
ফুটবল ৯০ মিনিটের খেলা। অনেক সময় অতিরিক্ত সময় গড়ালেও নির্ধারিত সময় ৯০ মিনিটই। সাফের ফাইনালও ছিল ৯০ মিনিটের। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে গোলশূন্য থাকে দুই দল। পরে টাইব্রেকারে ভারতের প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। বাংলাদেশ ফাইনাল জেতে ৪-৩ ব্যবধানে। পুরো দেশ মেতে ওঠে শিরোপা জেতার আনন্দে।
চ্যাম্পিয়ন দলকে সংবর্ধনা জানানোর মঞ্চে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘এই দলটাকে দেখে আমি একই জিনিস দেখি, আমরা কোনো ধর্ম দেখি না, আমরা কোনো ভাষা দেখি না, আমরা কোনো জাত দেখি না, আমরা দেখি বাংলাদেশ। একটাই শব্দ, একটাই ঐক্য। আর বাংলাদেশ দল আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে একটা পৃথিবীকে, একটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য, বাংলাদেশের নাম-সুনাম ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য শুধু ৯০ মিনিট লাগে। এই ৯০ মিনিটের সময় আমরা সব দুঃখ-কষ্ট, বেদনা, বিভেদ ভুলে গিয়ে একটা দলের পেছনে দাড়াই, চিৎকার করি এবং একটা দলের জন্যই আমরা বুক ফুলিয়ে পৃথিবীর সামনে বলতে পারি- আমরা চ্যাম্পিয়ন।’
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন রোনা সুলিভান, ডেকলান সুলিভান, মিঠু চৌধুরীরা। এরপর হাতিরঝিলে আসলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিমানবন্দরেই দলকে স্বাগত জানাতে যান। এরপর হাতিরঝিলের অনুষ্ঠানেও ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রশংসা করে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘উনাকে দেখলেই বোঝা যায় লিডারশিপ কাকে বলে। উনার প্রেরণা আমরা পেয়েছি, সেটি সফলতা অর্জনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। আমিনুল হক সাহেবকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। আশা করি আপনি বারবার আমাদের নেতৃত্ব দেবেন।’ এই সময়ে বাফুফে সভাপতি প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
তবে শুরুতেই বাফুফে সভাপতি প্রশংসা করেছেন দেশের ফুটবলের সমর্থকদের। কেননা মালদ্বীপে বাংলাদেশ দল প্রচুর সমর্থন পেয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশী সমর্থকদের। প্রতিটি ম্যাচেই তারা মাহিনদের জন্য গলা ফাটিয়েছেন। তাদের নিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেছেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাচ্ছি আমাদের ১১ জন প্লেয়ারের সঙ্গে যে ১২ তম প্লেয়ার ছিলেন, সেটা হলো কারা? আমাদের দর্শকরা। মালদ্বীপ থেকে আমরা মনে হয় না যে ইন্টারনেট বা ফোন লেগেছিল; মানে ওদের চিৎকার মনে হয় মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে আমরা শুনতে পেরেছিলাম। আমরা দেখেছিলাম আমাদের দর্শকরা কীভাবে শুধু আমাদের অনূর্ধ্ব-২০ দলকে নয়, আমাদের জাতীয় দলকে সিঙ্গাপুরে, আমাদের অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলকে থাইল্যান্ডে এবং তার আগে আমাদের নারী দলকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবার সাহস জুগিয়েছেন। তাই ধন্যবাদ আপনাদের সকল দর্শকদের।’

এফএ কাপে শনিবার রাতে অঘটনের শিকার প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল। মিকেল আরতেতার দলকে স্তব্ধ করে দিয়ে সেমি-ফাইনালে উঠেছে দ্বিতীয় স্তরের দল সাউদাম্পটন। অন্য ম্যাচে পোর্ট ভেলেকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে চেলসি।
প্রতিপক্ষের মাঠ সেন্ট মেরিস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের হার ২-১ ব্যবধানে। চলতি মৌসুমে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো হারের মুখ দেখল তারা। প্রিমিয়ার লিগে ৯ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দলটি গত মাসে লিগ কাপের ফাইনালে হেরেছিল ম্যানচেস্টার সিটির কাছে।
ম্যাচের ৩৫ মিনিটে সাউদাম্পটনের হয়ে গোল করেন রস স্টুয়ার্ট। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮ মিনিটে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান ভিক্টর ইয়োকেরেশ। শেষ দিকে চার্লসের গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে সাউদাম্পটন।
আরও পড়ুন
| ৩৪ বছরেই অবসরে ব্রাজিলের অস্কার |
|
সাউদাম্পটন এখন ৪৬ বছর আগের রূপকথার পুনরাবৃত্তি করার স্বপ্ন দেখছে। ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয় স্তরের দল হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে এফএ কাপ জিতেছিল তারা। তবে তার আগে সাউদাম্পটনকে পেরোতে হবে সেমি-ফাইনাল বাধা।
পোর্ট ভেলেকে উড়িয়ে সেমিতে চেলসি
প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ হারের পর শনিবার রাতে স্বস্তির জয় পেয়েছে চেলসি। ঘরের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তৃতীয় স্তরের দল পোর্ট ভেলেকে ৭-০ উড়িয়ে দিয়ে এফএ কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে চেলসি।
জোরেল হাটো, জোয়াও পেড্রোর গোল ও কোল পালমারের প্রচেষ্টায় জর্ডান লরেন্স-গ্যাব্রিয়েলের আত্মঘাতী গোলে ৩-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্লুজরা।
দ্বিতীয়ার্ধে তোসিন আদারাবায়ো, আন্দ্রে সান্তোস এবং এস্তেভাও উইলিয়ান আরও তিনটি গোল যোগ করেন। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে আলেজান্দ্রো গার্নাচো পেনাল্টি থেকে গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় লিয়াম রোসেনিয়রের দলের।

হৃদরোগজনিত সমস্যার কারণে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন ব্রাজিলের সাবেক মিডফিল্ডার অস্কার দস সান্তোস এম্বোয়াবা জুনিয়র। যাকে শুধু অস্কার নামেই চেনে ফুটবল বিশ্ব।
ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও পাওলো জানিয়েছে এই খবর। গত নভেম্বরে সাও পাওলোর ট্রেনিংয়ে শারীরিক পরীক্ষার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। তখন ৫ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল তার।
হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, ভাসোভ্যাগাল সিনকোপে (হঠাৎ রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন কমে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া) ভুগছেন অস্কার। এই শারীরিক জটিলতায় বেশ আগেই ফুটবল থেকে অবসর নিতে হলো তার।
আরও পড়ুন
| দারুণ জয়ে রিয়ালের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে বার্সেলোনা |
|
ক্লাবের সঙ্গে থাকা আরও দুই বছরের চুক্তি বাতিল করে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় অস্কার বলেন, ‘সাও পাওলোর হয়ে আমি আরও খেলতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, সামর্থ্য ও বয়স- দুটোই ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন আমি অবসর নিচ্ছি। সমর্থক হিসেবে সাও পাওলোর পাশেই থাকব। এই ক্লাবেই আমার ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে- একটি ক্যারিয়ার, যা আমাকে বিশ্বের নানা প্রান্তে নিয়ে গেছে।’
ব্রাজিলের হয়ে ৪৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অস্কার ক্লাব ফুটবলেও রেখে গেছেন উজ্জ্বল ছাপ। ২০১২ সালে চেলসিতে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই জিতেছিলেন ইউয়েফা ইউরোপা লিগ। এরপর ২০১৪-১৫ মৌসুমে জেতেন প্রিমিয়ার লিগ ও লিগ কাপের শিরোপা।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশের দুঃস্বপ্ন মনে করিয়ে নাটকীয় জয় বায়ার্নের |
|
২০১৭ সালে চেলসি ছেড়ে শাংহাই পোর্ট এফসিতে যোগ দেন তিনি। চীনা সুপার লিগে তিনটি শিরোপা জেতার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব সাও পাওলোতে ফিরে আসেন অস্কার। যেখানে বেশি দিন খেলতে পারলেন না তিনি।

ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচেই আলো ছড়ালেন লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজ। তবু জয় পেল না মায়ামি। অস্টিন এফসির বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তারকাখচিত ক্লাবটির।
নবনির্মিত নু স্টেডিয়ামে রোববার ভোরে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে অস্টিনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মায়ামি। এই ম্যাচ দিয়েই পথচলা শুরু হলো প্রায় ২৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মায়ামির স্থায়ী মাঠ নু স্টেডিয়ামের।
ম্যাচে দুই অর্ধে দুটি করে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে মায়ামি। প্রথমার্ধে মেসি ও পরে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে পরাজয় এড়ান সুয়ারেজ।
জয় না পেলেও পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে মায়ামি। প্রায় ৬১ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের দখলে। গোলের জন্য মোট ১৯টি শট করলেও মাত্র ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। বিপরীতে ৬ শটের ৩টি লক্ষ্য বরাবর করে অস্টিন।
আরও পড়ুন
| দারুণ জয়ে রিয়ালের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে বার্সেলোনা |
|
ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিকদের দর্শকদের হকচকিয়ে দেন অস্টিনের ডিফেন্ডার গুইলের্মো বিরো। তবে দশম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন মেসি। ইয়ান ফ্রের ক্রসে চমৎকার হেডে জাল কাঁপান আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা পায়নি দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৫৩ মিনিটে জেডেন নেলসনের গোলে আবার এগিয়ে যায় অস্টিন।
এবার সমতা ফেরাতে প্রায় আধঘণ্টা লেগে যায় মায়ামির। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করেন জার্মান বারতেরামি। খুব কাছে বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জালে জড়িয়ে দেন সুয়ারেজ।
এরপর মরিয়া চেষ্টা করেও জয়সূচক গোল পায়নি জায়ান্ট ক্লাবটি। এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে মায়ামি। সমান ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল।

দিনের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদের পরাজয়ে বড় সুযোগ চলে আসে বার্সেলোনার সামনে। তা কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেনি কাতালান জায়ান্টরা। শেষ দিকের গোলে দারুণ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান সুসংহত করেছে ক্লাবটি।
মেট্রোপলিটানোয় শনিবার রাতের ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। অথচ প্রথমে গোল হজম করে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল তারা।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশের দুঃস্বপ্ন মনে করিয়ে নাটকীয় জয় বায়ার্নের |
|
পরে মার্কাস রাশফোর্ড ও রবার্ট লেওয়ানডফস্কির গোলে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পায় বার্সা।
এই জয়ে ৩০ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে তাদের নিচে রিয়াল। আর ৩০ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট পাওয়া আতলেতিকো আছে ৪ নম্বরে।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ ও গতিময় ফুটবলে সাজানো ম্যাচে ছিল তুমুল উত্তেজনা। সব মিলিয়ে দাপট দেখিয়েই খেলে বার্সেলোনা। প্রায় ৬৯ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে ২৩টি শট করে তারা। এর ৯টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ৬ শটের ২টি লক্ষ্যে রাখতে পারে আতলেতিকো।
তবে ম্যাচের প্রথম গোলটি করে আতলেতিকোই। ম্যাচের শুরু থেকে একের পর সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি বার্সেলোনা। খেলার ধারার বিপরীতে ৩৯ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনের গোলে লিড নেয় স্বাগতিকরা।
দুই মিনিট পরই অবশ্য সমতা ফিরিয়ে আনে বার্সেলোনা। দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর চমৎকার ফিনিশিংয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন রাশফোর্ড।
আরও পড়ুন
| হলান্ডের হ্যাটট্রিকে লিভারপুলকে বিধ্বস্ত করে সেমি ফাইনালে ম্যান সিটি |
|
এরপর হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। একসঙ্গে হলুদ কার্ড দেখেন বার্সেলোনার ফের্মিন লোপেস এবং আতলেতিকোর নাহুয়েল মোলিনা ও কোকে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের মাঝেই লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন আতলেতিকোর নিকো গনসালেস।
দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যদের। বিরতির পর প্রথম মিনিটে লাল কার্ড দেখেন বার্সেলোনার জেরার্ড মার্টিনোও। তবে ভিএআর দেখে সেটি বদলে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
একজন কম নিয়ে খেলেও লম্বা সময় বার্সাকে আটকে রাখতে সক্ষম হয় আতলেতিকো। ৭৯ মিনিটে বদলি নেমে ম্যাচের ফল নির্ধারিত করে দেন লেওয়ানডফস্কি। ৮৭ মিনিটের মাথায় তার গোলেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পায় বার্সেলোনা।