৩০ আগস্ট ২০২৫, ৫:১৭ পিএম

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর হবে জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। তবে কদিন আগে জিম্বাবুয়ে সফর করে এলেও, এখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল যাবে ইংল্যান্ডে খেলতে। এই সফরের পেছনে কারণ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার কথা বললেন প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজ খেলতে রোববার রাতে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এক দিন বিরতি আর এক দিন অনুশীলনের পর সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।
এরপর ৫ তারিখ থেকে শুরু হবে মূল সিরিজ।
ইংল্যান্ড সফরের জন্য রওনা হওয়ার আগের দিন মিরপুরে বিসিবি জাতীয় একাডেমি ভবনের সামনে হয় আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন পর্ব। ছবি তোলা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যুবাদের প্রধান কোচ জানান, ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনের অভিজ্ঞতার জন্য ইংল্যান্ড যাচ্ছেন তারা।
আরও পড়ুন
| চাইনিজ তাইপের জালে দুই হালি গোল বাংলাদেশের |
|
“আমি মনে করি, (ইংল্যান্ড সফরের) মূল কারণ হলো ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়া। আমরা কেন আগে আফ্রিকা আর এখন ইংল্যান্ডের মতো ভিন্ন মহাদেশে সফরে যাচ্ছি তার মূল কারণ হলো—খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ধরনের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা দেওয়া।”
“এসব সফরের মূল কারণ খেলোয়ারদের পরীক্ষা করা। তারা কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং কেমন পারফরম্যান্স করে। যাতে দুই বছর শেষে যখন বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসবে, তখন ছেলেরা বহু রকম কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রস্তুত থাকে। এটাই আসল কারণ।”
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াতে হবে যুব বিশ্বকাপের ১৬তম আসর। বিশ্বকাপের আগে আর দুটি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের পর ঘরের মাঠে অক্টোবরে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা।
আরও পড়ুন
| লর্ডসে ঘুরতে ও স্টোকসের সঙ্গে দেখা করতে চান তামিম |
|
এই দুই সিরিজ দিয়েই বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের চূড়ান্ত কম্বিনেশন সাজিয়ে নেওয়ার আশা যুব দলের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিমের।
“আমাদের কম্বিনেশন যদি দেখেন... এখন কিছু ইনজুরি আছে যেমন ইমন ইনজুরিতে। তো যারা আসছে তাদের এখন চান্স। স্যারও এটাই বললেন। কম্বিনেশনের ব্যাপারে... এরপর অক্টোবরে সম্ভবত আমাদের আফগানিস্তান সিরিজ। আমরা সেভাবেই প্রস্তুত হচ্ছি। এটাও একটা ভালো অভিজ্ঞতা।”
ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের প্রথম দুই ম্যাচ লাফবোরোতে, ৫ ও ৭ সেপ্টেম্বর। এরপর ব্রিস্টনে ১০ তারিখ তৃতীয় ওয়ানডে খেলবে তারা। সবশেষে বেকেনহ্যামে গিয়ে ১২ ও ১৪ সেপ্টেম্বর সফরের শেষ দুটি ম্যাচ খেলবে তামিমের দল।
মূল সিরিজ শুরুর আগে লাফবোরোতে ৩ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ।
No posts available.
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২৫ পিএম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম

চামারি আতাপাত্তুর নেতৃত্বে সাদা বলের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। এটি বাংলাদেশের মাটিতে লঙ্কান নন্দিনীদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। এর আগে ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিকেল পাঁচটায় রাজশাহীর উদ্দেশে উড়াল দেয় সফরকারীরা। সিরিজের তিনটি ওয়ানডে ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে।
আগামী ২০ এপ্রিল শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ ২২ ও ২৫ এপ্রিল। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল সরাসরি সিলেটে যাবে। সেখানে ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ ৩০ এপ্রিল ও ২ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
এই সফরের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে।
ওয়ানডে স্কোয়াড: চামারি আতাপাত্তু (অধিনায়ক), হাসিনি পেরেরা, ইমেশা দুলানি, হানসিমা করুণারত্নে, কাউশিনি নুথ্যাঙ্গানা, হর্ষিতা সমরাবিক্রমা, নিলাক্ষিকা সিলভা, পিউমি ওয়াথসালা, কাভিশা দিলহারি, ডেউমি বিহাঙ্গা, মালকি মাদারা, কাভ্যা কাভিন্দি, চেথানা বিমুক্তি, ইনোকা রানাওয়েরা, সুগান্ধিকা কুমারি, নিমেশা মাদুশানি।

ক্রিকেট সিজনের শেষ দিকে এসে পিচ হয়ে পড়ে ব্যাটিং বান্ধব। এমন পিচ নিউ জিল্যান্ডকে উপহার দিলে তা হবে বুমেরাং। সে কারণেই অতীতের মতো নিজেদের ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্লো পিচ প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাই ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। স্পিনারদের সুবিধার কথা ভেবে তো বটেই, বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্টকে এডভান্টেজ দিতে মিরপুরে এমন উইকেটই করা হয়েছে প্রস্তুত। পিচের উপর ছোপ ছোপ সবুজ ঘাস, দূর থেকে দেখে বাউন্সি মনে হলেও পিচটা পুরোপুরি ট্রিপিক্যাল বাংলাদেশী। বাংলাদেশ দলের পেস অ্যাটাক যখন হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষের আতঙ্ক, পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ জয়ে নায়ক যারা, তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা না করে কেনো স্লো উইকেট প্রস্তুত করা হলো ? স্পোর্টিং উইকেট স্লো উইকেটে ফিরে যাওয়ার মাশুল দিতে হয়েছে।
বল পড়ে হাঁটুর নিচে নেমেছে শুরু থেকেই। দ্বিতীয় ইনিংসে বরং তা প্রকট হয়েছে। উইকেটের এই বৈশিষ্ট্য নিউ জিল্যান্ড বোলারদের দিয়েছে উৎসাহ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বল্প অভিজ্ঞ পেস বোলার টিকনার (৪/৪০), ন্যাথান স্মিথের (৩/৪৫) বোলিংয়ের পাশে বাঁ হাতি স্পিনার লিনক্স ( ১০-০-৩২-২), অফ স্পিনার ডিন ফক্সফোর্ট (৬-০-২৫-১) বাংলাদেশ ব্যাটারদের হতভম্ব করেছেন। তাতেই অখ্যাত ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া নিউ জিল্যান্ডের কাছে ২৬ রানে হেরে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ।
শ্লো পিচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাহস দেখিয়েছেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। আইপিএল-পিএসএলে সেরাদের রেখে বাংলাদেশ সফরে আসা অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড ২৪৭/৮পর্যন্ত স্কোর টেনে নিয়ে বাংলাদেশকে ফেলেছে পরীক্ষার মুখে। কীভাবে স্কোরটা ২৪৭ পর্যন্ত গেল, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে রানের জন্য ধুঁকতে থাকা নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩৮/১। সেখান থেকে ২২০ পর্যন্ত স্কোর টেনে নেয়াটাই তাঁদের জন্য দুরুহ হওয়ার কথা। তবে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কিউই ব্যাটাররা যোগ করেছে ৩ উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান। তাতেই বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছে সফরকারী দল।
এই ম্যাচে অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড দলের দুই ব্যাটার নিকোলাস (৮৩ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৬৮), ফক্সফোর্ট (৫৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৫৯) পেয়েছেন ফিফটি। মাত্র ৮ রানে ভেঙ্গে দেয়া যেতো যে জুটি, শরীফুলের বলে উইল ইয়ংয়ের ক্যাচ সাইফ হাসান স্লিপে ফেলে দিলে সেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেমেছে ৭৩ রানে। ১ রানে জীবন ফিরে পাওয়া উইল ইয়ং ইনিংস টেনে নিয়েছেন ৩০ পর্যন্ত।
এমন একটা ম্যাচে নিয়মিত ৫ বোলারের বাইরে কারো হাতে এক ওভারের জন্যও তুলে দেননি অধিনায়ক বল। পিএসএল মাতিয়ে দেশে ফেরা নাহিদ রানা মিতব্যয়ী বোলিং করতে পারেননি। শ্লো পিচে গতির ঝড় তুলতে যেয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের রানের জন্য সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছেন নাহিদ রানা (১০-০-৬৫-১)। ২ উইকেটের বিপরীতে তাসকিনের খরচ সেখানে ওভারপ্রতি ৫.০০ রান। তবে ১৬৪টি ডট বলের ইনিংসে বাংলাদেশের তিন পেসার মিলে দিয়েছেন ১০৯টি ডট। তিন পেসারের উইকেটের সমষ্টি ৫। লেগ স্পিনার রিশাদের প্রথম স্পেলটি (৭-০-৩০-২) নিউ জিল্যান্ডের রানের লাগাম টেনে ধরেছে।
এমন একটা ম্যাচে মোস্তাফিজের অভাবটা টের পেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট, দর্শক।
ডেথ ওভারে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে পরীক্ষিত বাঁ হাতি কাটার মাস্টারের একাদশে না থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক। প্লেয়ার্স লিস্টে একাদশে থাকার কথা ছিল তাঁর। তবে ওয়ার্ম আপের সময় মোস্তাফিজ ডান হাঁটুতে অস্বস্তিবোধ করায় টসের আগে তাঁকে একাদশের বাইরে রাখা হয়। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় আর এক বাঁ হাতি শরীফুল ইসলামকে। এই শরীফুলই ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী (১০-২-২৭-২)। নতুন বলে তাঁর ২ ওভারের প্রথম স্পেলটি ছিল এক কথায় অসাধারন (২-০-২-০)। এন্ড চেঞ্জ করে উইকেটের মুখ দেখেছেন দ্বিতীয় স্পেলে (৩-১-৭-১)। ইনিংসের প্রথম ব্রেক থ্রু-টি তাঁর। শরীফুলের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল অফ স্ট্যাম্পের উপরে। সেই বলে ক্রস খেলতে যেয়ে সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে বোল্ড নিক কেলি (২৩ বলে ৭)। তৃতীয় স্পেলটিও (৩-১-১০-১) বলার মতো। যে স্পেলে মুহাম্মদ আব্বাসকে এক্সট্রা বাউন্সি ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন (৩০ বলে ১৪)।
২৪৯ রানের চ্যালেঞ্জটা শুরুতেই কঠিন করেছে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা। কিউই পেসার ন্যাথান স্মিথের দ্বিতীয় ওভারে পর পর দুটি ডেলিভারি পিচ করে লো বাউন্সে তানজিদ হাসান তামিম এবং নাজমুল হোসেন শান্ত গেছেন ফিরে। তানজিদ হাসান তামিম পয়েন্টে দিয়েছেন ক্যাচ (৬ বলে ২), শান্ত ব্যাট নামাতে পারেননি, গোল্ডেন ডাক পেয়েছেন ( ১ বলে ০)।
শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছেন তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাইফ হাসান-লিটন। ক্যারিয়ারের ১০ম ওয়ানডে ম্যাচে দ্বিতীয় ফিফটিতে দলকে টেনে নিয়েছেন সাইফ হাসান। তবে ১১৬ বলে ৯৩ রানের এই পার্টনারশিপ ভেঙ্গেছে ও রোর্কের বলে সাইফ হাসানের ভুল শট সিলেকশনে। পুল করে মিড অনে সহজ ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন এই ওপেনার ( ৭৬ বলে ৮ চার, ১ ছক্কায় ৫৭)। ফিফটির সম্ভাবনা দেখিয়ে ৪ রান আগে থেমেছেন লিটন। কিউই অফ স্পিনারের আউট সাইড অফ স্ট্যাম্পে পিচিং ডেলিভারি অপ্রত্যাশিত টার্ন লিটনকে হতভম্ব করেছে। বোল্ড আউটে থেমেছেন লিটন (৬৮ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৪৬)।
৫ম উইকেট জুটিতে হৃদয়-আফিফও দেখিয়েছেন জয়ের স্বপ্ন। তবে এই পার্টনারশিপটি থেমেছে ৫২ রানে। লিনক্সকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে লং অনে আফিফ (৪৯ বলে ২৭) ক্যাচ দিয়ে দলকে ফেলে দিয়েছেন বড় পরীক্ষার মুখে।
নিউ জিল্যান্ড শেষ ৬০ বলে যোগ করেছে ৬২ রান, বাংলাদেশের টার্গেট সেখানে ৬৭। শেষ পাওয়ার প্লে'র রোমাঞ্চে টার্গেট ক্রমশ বেড়েছে।
পেস বোলার টিকনারকে শাফল করে স্কুপ করতে যেয়ে হৃদয় ফিরেছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে (৫০ বলে ২ বাউন্ডারিতে ৩৭)। তাতেই আস্কিং রান রেট বাড়তে শুরু করেছে। ৩ ওভারের শেষ স্পেলে (৩-০-৮-৪) টিকনার মিরাজ, রিশাদ, শরীফুলকে শিকার করে বাংলাদেশ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস থামিয়ে দিয়েছেন। হেরে যাওয়া ম্যাচে সান্ত্বনা তাওহিদ হৃদয়ের ফিফটি (৬০ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ৫৫)।
বাংলাদেশ বোলারদের সাড়ে তিন ঘন্টার ইনিংস সম্পন্ন করতে লেগেছে সোয়া চার ঘন্টা! ১০ ওয়াইড, ১ নো ডেলিভারিতে ১০ মিনিট এমনিতেই বেশি লেগেছে বাংলাদেশের। এই ১১টি বোনাস বলও গড়ে দিয়েছে ব্যবধান।

শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেনদের দারুণ বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে নাগালের মধ্যে রাখল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটাররা পারলেন না নিজেদের কাজ সারতে। ফলে আশা জাগালেও মিলল না জয়। পরাজয়ে শুরু হলো ওয়ানডে সিরিজ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারায় নিউ জিল্যান্ড। আগে ব্যাট করে তারা পায় ২৪৭ রানের পুঁজি। জবাবে ২২১ রানের গুটিয়ে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।
প্রায় ১৭ মাস পর ফেরার ম্যাচে ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। ব্যাট হাতে ফিফটির দেখা পান সাইফ হাসান ও তাওহিদ হৃদয়। তবে তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। চতুর্থ ওভারে নাথান স্মিথের পরপর দুই বলে বোল্ড হয়ে যান তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ২ রানের বেশি করতে পারেননি তামিম। আর রানের খাতাই খুলতে পারেননি শান্ত। এ নিয়ে ১৩ ইনিংসে ফিফটি নেই তার।
বাংলাদেশের বিপদ হতে পারত দ্বিতীয় ওভারেই। স্মিথের বলে স্লিপে সাইফ হাসানের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন হেনরি নিকোলস। মাত্র ১ রানে জীবন পেয়ে বাংলাদেশকে চাপ থেকে উদ্ধার করেন সাইফ।
তৃতীয় উইকেটে লিটন কুমার দাসের সঙ্গে সাইফ গড়েন ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ তখন জয়ের ছবি আঁকতে শুরু করে। তখনই হুট করে উইলিয়াম ও'রোকের বলে ক্যাচ আউট হয়ে যান সাইফ।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটিতে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৭ রান করেন সাইফ। ফিফটির সম্ভাবনা জাগান লিটনও। কিন্তু ডিন ফক্সক্রফটের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি ৪৬ রান করে। ফলে তার ফিফটির অপেক্ষা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ ইনিংসে।
এরপর হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। শুরুতে মন্থর ব্যাটিংয়ে রানের চাপ কিছুটা বাড়িয়ে ফেলেন দুজন। মাঝে ৯১ বল কোনো বাউন্ডারি পায়নি বাংলাদেশ। তবে দায়িত্ব নিয়ে উইকেটে টিকে থেকে দলকে এগিয়ে নেন হৃদয় ও আফিফ।
দুজন মিলে ৭৭ বলে পূর্ণ করেন পঞ্চাশ রানের জুটি। এর পরপর জেডেন লেনক্সের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন আফিফ। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৯ বলে ২৭ রানের ইনিংস।
আফিফের বিদায়ের পর টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ (১৪ বলে ৬)। পরে একই ওভারে ফিরে যান রিশাদ হোসেন ও শরিফুল ইসলাম। এরপর আর একা পারেননি হৃদয়। ব্যক্তিগত ফিফটিটাই শুধু সান্ত্বনা ছিল তার।
শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৬০ বলে ৫৫ রান করেন হৃদয়।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ৪টি উইকেট নেন ব্লেয়ার টিকনার। স্মিথের শিকার ৩ উইকেট।
ম্যাচের প্রথমভাগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। মোস্তাফিজুর রহমান শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেলে প্রায় ১৭ মাস পর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেয়ে প্রথম আঘাত করেন শরিফুল। সপ্তম ওভারে তিনি বোল্ড করেন নিক কেলিকে।
প্রথম ১০ ওভারে ৩৮ রানের বেশি করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। নবম ওভারে তাদের বিপদ বাড়তে পারত। শরিফুলের বলে স্লিপে উইল ইয়াংয়ের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন সাইফ। ফলে ১ রানে বেঁচে যান ইয়াং।
শুরুর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়েন নিকোলস ও ইয়াং। রিশাদের বলে রিভার্স সুইপ করতে স্লিপে ক্যাচ দেন ৩০ রান করা ইয়াং।
কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মিরাজ। পরের ওভারে আবার রিশাদের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসেন সেট হয়ে যাওয়া ওপেনার নিকোলস। ৯ চারে তিনি খেলেন ৮৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস।
এরপর দায়িত্ব নেন ন ফক্সক্রফট। ২০২৩ সালের বাংলাদেশ সফরে একমাত্র ম্যাচ খেলা এই স্পিনিং অলরাউন্ডার এদিন চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে করেন ৫৯ রান। ৩৯তম ওভারে রিশাদের বলে স্লিপে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন তামিম। ফলে ২৭ রানে বেঁচে যান তিনি।
শেষ দিকে ২১ রানের অপরাজিত ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডকে আড়াইশর কাছে নিয়ে যান নাথান স্মিথ। পুরো ইনিংসে কোনো ছক্কা মারতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড।
পূর্ণ ৫০ ওভারের ম্যাচে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে ছক্কা মারতে পারল না তারা। আর মিরপুরের মাঠে পুরো ৫০ ওভার খেলেও কোনো দলের ছক্কা মারতে না পারার ঘটনা এটিই প্রথম।
ফেরার ম্যাচে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২৭ রানে ২ উইকেট নেন শরিফুল। সব মিলিয়ে করেন ৪২টি ডট বল। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৪৭/৮ (নিকোলস ৬৮, কেলি ৭, ইয়াং ৩০, ল্যাথাম ১৪, আব্বাস ১৪, ফক্সক্রফট ৫৯, ক্লার্কসন ৮, স্মিথ ২১*, টিকনার ৭, লেনক্স ১*; তাসকিন ১০-০-৫০-২, শরিফুল ১০-২-২৭-২, মিরাজ ১০-১-৫৪-১, নাহিদ ১০-০-৬৫-১, রিশাদ ১০-০-৪৪-২)
বাংলাদেশ: ৪৮.৩ ওভারে ২২১ (সাইফ ৫৭, তামিম ২, শান্ত ০, লিটন ৪৬, হৃদয় ৫৫, আফিফ ২৭, মিরাজ ৬, রিশাদ ৪, শরিফুল ০, তাসকিন ২, নাহিদ ০*; ও'রোক ৯-০-৫১-১, স্মিথ ৯.৩-১-৪৬-৩, টিকনার ১০-০-৪০-৪, ক্লার্কসন ৪-০-২৭-০, লেনক্স ১০-০-৩২-১, ফক্সক্রফট ৬-০-২৫-১০)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দুর্নীতি দমন ও সুরক্ষা নীতি (এসিএসইউ) বেশ কঠোর। ডাগআউটে বা তার আশেপাশে মুঠোফোন ব্যবহার করা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ এলাকা। সেই নিয়ম ভেঙেই বড় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের দীর্ঘদিনের ম্যানেজার রোমি ভিন্দার। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও মানবিক দিক বিবেচনা করে বড় কোনো শাস্তি দেয়নি বিসিসিআই।
গত ১০ এপ্রিল গুয়াহাটিতে রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ম্যাচের সময় ডাগআউটের পাশে বসে মুঠোফোন ব্যবহার করতে দেখা যায় রোমিকে। বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, টিম ম্যানেজাররা ফোন রাখার অনুমতি পেলেও সেটি ব্যবহারের জায়গা শুধুমাত্র ড্রেসিংরুম। মাঠের পাশে ফোনের ব্যবহার অ্যান্টি-করাপশন আইনের পরিপন্থী।
বিষয়টি নজরে আসার পর বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন ইউনিট রোমি ভিন্দারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা গেছে, রোমি ফোনটি ব্যবহার করলেও তাঁর কোনো ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ ছিল না। মূলত জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি ফোনটি হাতে নিয়েছিলেন।
তদন্ত শেষে বিসিসিআই রোমির ওপর ১ লাখ রুপি জরিমানা ধার্য করেছে। আইপিএলের প্রথম আসর (২০০৮ সাল) থেকে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা রোমির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং এটি প্রথম অপরাধ হওয়ায় বিসিসিআই কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে। তাঁকে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকতে একটি চূড়ান্ত সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, রোমি ভিন্দারের ফুসফুসে গুরুতর সমস্যার ইতিহাস রয়েছে। তিনি সেই জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে ফোনটি ব্যবহার করেছিলেন বলে বিসিসিআইকে আগেই অবহিত করেছিলেন। তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং শারীরিক অসুস্থতার নথিপত্র বিবেচনায় নিয়ে বিসিসিআই বড় কোনো নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটেনি।
ঘটনার সময় রোমি ভিন্দারের পাশেই বসে ছিলেন তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। তবে এই তদন্ত বা অভিযোগের সঙ্গে বৈভবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিসিসিআই।
রাজস্থান রয়্যালসের জন্য এটি স্বস্তির খবর, তাদের বহু বছরের বিশ্বস্ত সঙ্গী রোমি বড় ধরনের জটিলতা থেকে বেঁচে গেলেন। তবে আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে ডাগআউটে ফোনের ব্যবহার নিয়ে কর্তৃপক্ষ এক বিন্দু ছাড় দিতে রাজি নয়, ১ লাখ রুপির এই জরিমানা সেটিই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষত এখনো দগদগে। যে সিরিজকে পাখির চোখ করে গত তিন বছর ধরে এগোচ্ছিল ইংল্যান্ড, সেখানে এমন ভরাডুবির পর প্রশ্ন উঠেছিল ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর বেন স্টোকসের সেই আক্রমণাত্মক ‘বাজবল’ তত্ত্ব নিয়ে। এবার অধিনায়ক বেন স্টোকসই ইঙ্গিত দিলেন, সামনে ইংল্যান্ডের খেলার ধরনে আসতে যাচ্ছে বড় পরিবর্তন।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস জানান, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে ভক্তরা হয়তো এক ভিন্ন ইংল্যান্ড দলকে দেখতে পাবেন। স্টোকসের এই মন্তব্য ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে—তবে কি ‘বাজবল’ যুগের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে?
২০২২ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ‘জেতার জন্য খেলো, ড্রয়ের কথা ভাবো না’—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্সের সামনে সেই অতি-আক্রমণাত্মক কৌশল মুখ থুবড়ে পড়ে।
স্টোকস বলেন, ‘ব্রেন্ডন (ম্যাককালাম) আর আমার কাজের ধরনে আমি ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। তবে গত চার বছর একসঙ্গে কাজ করার পর এখন হয়তো আমাদের পরিচালনার ধরনটা কিছুটা ভিন্ন দেখাবে। আমাদের মূল লক্ষ্য দলকে সেরা অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, সেটা একই আছে। তবে জেতার পথটা হয়তো এবার একটু অন্যরকম হবে।’
অ্যাশেজ চলাকালীন গুঞ্জন উঠেছিল, স্টোকস ও ম্যাককালামের মধ্যে কৌশলগত মতের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। মাঠের বিপর্যয়ে স্টোকস যখন রক্ষণাত্মক হয়ে লড়াই করতে চেয়েছিলেন, ম্যাককালাম নাকি তখনো আগ্রাসী মেজাজ ধরে রাখার পক্ষে ছিলেন। এ প্রসঙ্গে স্টোকস খোলাখুলিই বললেন, ‘কেউ যদি মনে করে আমরা সব বিষয়ে একমত হবো, তবে সেটা অসম্ভব। সব বিষয়ে 'হ্যাঁ' বলাটা স্পোর্টিং পরিবেশের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। আমাদের মধ্যে বিতর্ক দরকার, আলোচনা দরকার। আমরা ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে একমত থাকি, কিন্তু বাকি ৫ শতাংশে ভিন্নমত থাকতেই পারে।’
মজার ব্যাপার, গত মাসে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের পরিচালক রবিন কি জানিয়েছিলেন, দলের দর্শনে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। তিনি বলেছিলেন, ম্যাককালামকে তাঁর সহজাত স্টাইলের বাইরে গিয়ে কাজ করতে বলা হবে না। কিন্তু স্টোকসের সাম্প্রতিক বক্তব্য বলছে ভিন্ন কথা। অধিনায়ক যখন বলছেন ‘জিনিসগুলো এখন আলাদা দেখাবে’, তখন ভক্ত-সমর্থকেরা দ্বিধায় পড়তেই পারেন।
২০১৫ সালের পর থেকে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করতে পারেনি ইংল্যান্ড। আগামী বছর ঘরের মাঠে আবারও অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজেকে এবং দলকে নতুন করে সাজাতে চান স্টোকস। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আমরা ভুল করেছি এবং সেই ভুল থেকে শিখেছি। আমি অধিনায়কত্ব করতে ভালোবাসি, এই দলটাকে ভালোবাসি। ২০২৭ সাল পর্যন্ত আমরা এভাবেই সফল হতে চাই।’
নিউ জিল্যান্ড ও পাকিস্তান সিরিজে ইংলিশদের রণকৌশল কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেবে—বাজবল কি সত্যিই মরে গেছে, নাকি নতুন কোনো রূপে পুনর্জন্ম নিতে যাচ্ছে।