৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৮:১১ পিএম

দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ক্লাবহীন ছিলেন সের্হিও রামোস। বেশ কিছু গুঞ্জন চারদিকে ছড়ালেও চমক জাগিয়ে যোগ দিয়েছেন মেক্সিকান ক্লাব মোন্টেরেরিতে। নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে রামোস দেখালেন আরও এক চমক। ক্যারিয়ারের লম্বা সময় খেলেছেন ৪ নম্বর জার্সি গায়ে। তবে মোন্টেরেরিতে যোগ দিয়ে বেছে নিয়েছেন ৯৩ নম্বর জার্সি। তাও সেটা রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে, আর বিশেষ করে বিশেষ একটি ম্যাচের একটি গোলকে স্মরণ করে।
সম্ভাব্য সব কিছু জিতেই রামোস ইতি টেনেছিলেন রিয়াল অধ্যায়। স্প্যানিশ ক্লাবটির সফেদ জার্সিতে তার সেরা মুহূর্ত বিবেচনা করলে নিশ্চিতভাবেই আসবে লিসবনে ২০১৪ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের সেই মুহূর্ত। আতলেতিকো মাদ্রিদের সাথে তখন তারা ১-০ গোলে পিছিয়ে। ঘড়ির কাটায় ৯৩ মিনিট। লুকা মদ্রিচের নেওয়া ভেসে আসা কর্নারে অনেকটা উড়ন্ত গতিতে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান রামোস, ঘড়ির কাটায় তখন ৯২:৪৮ মিনিট।
এরপরের গল্প তো সবারই জানা। রিয়াল ম্যাচটা জিতে নেয় ৪-১ গোলে। দীর্ঘ ১২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ঘরে তোলে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। এরপর এই মুহূর্তটা যেন রামোসের ক্যারিয়ার ডিফাইনিং মুহূর্ত হয়ে গেছে। রামোস তো এই ৯৩ মিনিটের হিসেবটা ট্যাটু করে নিজের শরীরেও রেখে দিয়েছেন। এবার জার্সি পছন্দের ক্ষেত্রেও সেই স্মৃতিটা ফিরিয়ে এনেছেন।
যা নিয়ে দ্য কোপের সাথে কথাও বলেছেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার। “৯৩ মিনিটটা বেশ দারুণ এক মুহূর্ত। এটা মাদ্রিদ ও আমার পুরো ক্যারিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা। আপনার দেশ ও নিজের সাথে শেয়ার করার জন্য এর চেয়ে ভালো মুহূর্ত হয়তো আর নেই।”
রিয়ালও তার কিংবদন্তীর এমন নিবেদনের অবিভুত হয়েছে। সামাজিক যোগযযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে ধন্যবাদও।
No posts available.
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২:২৩ পিএম

ফাইনাল খেলার জন্য স্পেন থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছিল দলের প্রধান তারকাকে। গুঞ্জন ছিল ব্যাথানাশক ইনজেকশন ব্যবহার করে হলেও শুরুর একাদশে নামবেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে গতকাল স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে এল ক্লাসিকোতে শেষ দিকে বদলি হয়ে নামেন ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড। তবে দলের জয়ের ভূমিক রাখতে পারেননি। ফাইনাল হারের পর এখন বির্তকিত এক কাণ্ড ঘটিয়ে উল্টো সমালোচনার মুখে পড়েছেন এমবাপে।
স্প্যানিশ সাংবাদিক আলফ্রেদো মার্তিনেজের জানিয়েছেন, সুপার কাপ ফাইনালে হারের পর রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের বার্সেলোনাকে ‘গার্ড অব অনার’ না দিতে নির্দেশ দেন কিলিয়ান এমবাপে। কাতালান চ্যানেল এস্পোর্তো-থ্রি- এর ভিডিওতেও এমনটাই দেখা যায়।
ফাইনালে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর রিয়াল মাদ্রিদের তারকারা সরাসরি বেঞ্চের দিকে চলে যান। তখন কোচ জাবি আলোনসোই তাদের জানান, বাধ্যতামূলক নয় এমন ‘গার্ড অব অনার’ বা স্পেনে যাকে ‘পাসিয়ো’ বলা হয়, সেটি দেওয়ার কথা। সেই সময় বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা বিজয়ী পদক নিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন
| বার্সার কাছে হারের পর সুপার কাপকে গুরুত্বহীন বললেন রিয়াল কোচ |
|
তবে মার্তিনেজের মতে, এমবাপেই সতীর্থদের ডাগআউটের দিকে নিয়ে যান। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, ১০ নম্বর জার্সিধারী এই ফরোয়ার্ড স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এবং গার্ড অব অনারে অংশ নিতে আগ্রহ দেখানো রাউল আসেনসিওর দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে অন্য এক সতীর্থের সঙ্গে কিছু বলছেন।
এই ঘটনার জেরে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (টুইটার) একটি জনপ্রিয় অ্যাকাউন্ট এমবাপেকে ‘সর লুসার ’ বা ‘হার মেনে নিতে না পারা’ খেলোয়াড় বলে আখ্যা দেয় এবং সেই ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে এমবাপের এমন আচারণকে ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ লিখেছে। অনেক বার্সা সমর্থকদের কাছেও এই ঘটনা দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে।
রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৭৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়ার বদলি নামেন এমবাপে। ২-৩ গোলে পিছিয়ে থাকা দলকে উদ্ধার করতে এসে শেষ মুহূর্তে সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করানোর খুব কাছে ছিলেন। তবে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের কাছে ফাইনাল হারের একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে লস ব্লাঙ্কোসরা।
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

ফুটবলে খেলোয়াড়, কোচ কিংবা কোচের সহকারীদের লাল কার্ড দেখার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। তবে অদ্ভুত এক ঘটনার স্বাক্ষী হলো ফুটবল। রেফারির রেড কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে একজন দর্শককে।
এমন বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছে স্কটল্যান্ডের পেশারদার ফুটবল লিগে। দেশটির চতুর্থ সারির লিগ—লিট টু’তে একটি ম্যাচে দর্শককে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। গত শনিবার ঘরের মাঠে এডিনবার্গ সিটি ৪-১ গোলে স্টার্লিং অ্যালবিয়নের বিপক্ষে হেরে যায়। এই ম্যাচে রাসেল ম্যাকলিনের হ্যাটট্রিকে পাওয়া জয় ক্লাবটিকে স্কটিশ লিগ টু-তে পয়েন্ট টেবিলে ছয়ে নিয়ে আসে। বিপরীতে এডিনবার্গ সিটি লিগের তলানিতে অবস্থান করছে।
তবে ম্যাকলিনের তিন গোলের চেয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ঘটনা। যখন রেফারি জোশ হে এমন এক দর্শককে রেড কার্ড দেখান যিনি পুরো ম্যাচে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিলেন। রেফারি নিরাপত্তারক্ষীদের ওই দর্শককে মাঠ থেকে সরানোর জন্য নির্দেশ দেন।
অবশ্য স্কটল্যান্ডের একটি সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেফারি এটি ‘হাস্যরসাত্মকভাবে’ করেছেন, যা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসি খোরাক জোগায়। জানা গেছে, বাস্তবে দর্শককে মাঠ থেকে বের হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়নি।
তবুও, স্টার্লিং অ্যালবিয়ন এই ঘটনার ছবি তাদের এক্সে (টুইটার) পোস্ট করলে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা মন্তব্য করতে থাকেন। একজন লিখেছেন, ‘হাস্যকর! এর কোনো মানে নেই। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রেফারি শুধু দর্শকের দোষ নথিভুক্ত করতে পারেন, এবং যদি নিরাপত্তারক্ষীরা মনে করে আচরণ অগ্রহণযোগ্য, তখন তাদের বের করে দেওয়া যেতে পারে। রেফারি দর্শককে লাল কার্ড দেখানো শুধুই নিজেকে বড় করার চেষ্টা।’
অন্য একজন দর্শক উল্টো রেফরিকেই লাল কার্ড দেখানোর কথা বলেন, ‘দর্শকরা রেফারিকে রেড কার্ড দেখানো দরকার ছিল। এডিনবার্গ সিটির গোলের সময় হ্যান্ডবল মিস হয়েছে, ম্যাকলিনকে গলায় আঘাত করা নিয়ে পেনাল্টি হয়নি, এবং স্ট্যান্ড সাইড লাইনম্যানও ভীষণ বাজে ছিল। রেফারিদের সিদ্ধান্ত হতাশাজনক ছিল।’
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৯ এম

রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর প্রথম শিরোপা জয়ের আরেকটি সুযোগ এসেছিল। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি জাবি আলোনসোর শিষ্যরা। লা লিগায় মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো জিতলেও শিরোপা জয়ের মঞ্চে এসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি বার্সেলোনার কাছে হার মেনেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে কাতালান ক্লাবটির কাছে এই হারকে বড় করে দেখতে নারাজ রিয়াল কোচ। শিষ্যদের হার ভুলে দিলেন উন্নতির তাগিদ।
সৌদি আরবের জেদ্দায় গতকাল রাতে বার্সার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারে রিয়াল। কাতালান ক্লাবটিতে থেকে ম্যাচে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল তারা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ পারফরম্যান্সে একপাশে রাখলে আক্রমণভাগ ছিল ধারহীন, মাঝমাঠে ছিল ছন্নছাড়া আর রক্ষণভাগে দূর্বলতা ছিল স্পষ্ট।
তবে এই হারেও খুব একটা হতাশ হচ্ছেন না জাবি আলোনসো। রিয়াল কোচের মতে মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বহীন ম্যাচ এটি, ‘আমাদের যত দ্রুত সম্ভব পৃষ্ঠা উল্টাতে হবে। এটা কেবল একটি ম্যাচ, একটি প্রতিযোগিতা, এবং আমাদের যতগুলো ম্যাচ আছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সামনে তাকাতে, খেলোয়াড়দের ফেরাতে এবং মনোবল উন্নত করতে চাই। এগিয়ে যেতে হবে।’
আরও পড়ুন
| দুই হালির গোল উৎসবে বায়ার্নের রেকর্ড |
|
বরং হার থেকে ইতিবাচক দিকগুলোই নিতে চান রিয়াল কোচ, ‘এটি এমন একটি প্রতিযোগিতা যেখানে মৌসুমের মাঝপথে আমরা কয়েক দিনের মধ্যে দুটি দুর্দান্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমরা ইতিবাচক বিষয়গুলো নিয়েছি এবং পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
রাফিনহার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোলে সমতায় ফিরে রিয়াল। বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত বার্সার রক্ষণভাগে বেশ ভয় ধরিয়ে দেয় ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। রিয়ালের অধিকাংশ আক্রমণ তাঁর দিক থেকে আসছিল। তবে শেষদিকে তাকে তুলে নেওয়ায় সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হন। তবে ক্লান্তির জন্য নিজেই নাকি মাঠ ছাড়তে চেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস।
জাবি বলেন, ভিনিসিয়ুস ৮৫ মিনিট পর্যন্ত খুব ভালো খেলেছে। ক্লান্তির কারণে তিনি বদলি হতে চেয়েছিলেন, আর্দ্রতা অনেক ছিল। সে ম্যাচের গতি পাল্টে দেওয়া খেলোয়াড় ছিল, তাঁর গোলটিও চমৎকার ছিল। তার দিক থেকে আমরা বড় হুমকি তৈরি করেছি। ফলাফলে খুশি নই, তবে মৌসুমের জন্য কিছু ইতিবাচক দিক নিতে পারি। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলোয়াড়দের ফিরে পাওয়া।’
আরও পড়ুন
| মরুর বুকে ঝড় তুললেন রাফিনহা, আবার সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন বার্সা |
|
ম্যাচের শেষ দিকে বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করে রিয়াল। জাবির কথায়ও উঠে আসে সেটা, ‘শেষ ১৫ মিনিটে অনেক কিছু ঘটেছে। ততক্ষণ আমরা ভালভাবে খেলা নিয়ন্ত্রণ করছিলাম, বল ছাড়া কিছু সময় ছিল, তবে প্রথম ৩০ মিনিটে সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগ এসেছে ভিনি ও গঞ্জালো থেকে। দল পুরো সময় দৃঢ় মনোবল দেখিয়েছে, জোরালোভাবে লড়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের আগে আমরা ২-২ সমতায় ছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধও খুব প্রতিযোগিতামূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ওরা সেই গোলটা পেল ভাগ্যবশত, যেখানে কোনো সুযোগই দেখা যাচ্ছিল না। আমরা সমতা আনার জন্য কঠোর চেষ্টা করেছি, তবে তা সম্ভব হয়নি।’
বার্সার কাছে মৌসুমের প্রথম শিরোপা হারানো রিয়াল লিগেও কাতালান জায়ান্টদের চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে। এরমধ্যে জাবির কোচিং নিয়ে সমালোচনা চলছে অনেক দিনই। মৌসুমের মাঝপথে স্প্যানিশ এই কোচ কী ছাঁটাই হন কি না সেটাই দেখার এখন।

বুন্দেসলিগায় চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত অপরাজিত বায়ার্ন মিউনিখ। রীতিমতো উড়ন্ত সূচনাই করেছে বাভারিয়ানরা। প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দেওয়া বায়ার্ন এবার প্রতিপক্ষকে গোলের মালা উপহার দিয়ে গড়ল রেকর্ডও।
গতকাল আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুন্দেসলিগায় ভলসবুর্গকে ৮-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা জার্মান জায়ান্টদের ভিন্ন ভিন্ন পাঁচ ফুটবলার গোল পেয়েছেন, দুটি গোল এসেছে আত্মঘাতি থেকে।
ঘরের মাঠে ম্যাচটি কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি ও উইঙ্গার মাইকেল ওলিসের জন্য বিশেষ—দুজনেই বুন্দেসলিগায় নিজেদের ৫০তম ম্যাচ খেললেন। আর বিশেষ এই ম্যাচটিই দুই গোল এক অ্যাসিস্টে রাঙালেন ওলিসে। বায়ার্নের হয়ে এই ম্যাচে গোল পেয়েছেন লুইস দিয়াজ, হ্যারি কেইন, রাফায়েল গুয়েরেইরো ও লিঁও গরেৎসকা। নিজেদের জালেই বল পাঠিয়েছেন ভলসবুর্গের ফুটবলার মরিটজ ইয়েন্ৎস ও কিলিয়ান ফিশার।
লিগে এ নিয়ে ১৬ ম্যাচ ১৩ জয় ও ২ ড্রয়ে শীর্ষে থাকা বায়ার্নের পয়েন্ট ৪২। দুইয়ে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুনন্ড থেকে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে গেল তারা। বুন্দেসলিগার ইতিহাসে এটিই সেরা সূচনা। এই ১৬ ম্যাচে হ্যারি কেনের দল করেছেন অবিশ্বাস্য ৬৩ গোল। বিপরীতে বিপর্যস্ত ভলসবুর্গ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৪ নম্বরে আছে। যা মৌসুমের এই পর্যায়ে তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
আরও পড়ুন
| মরুর বুকে ঝড় তুললেন রাফিনহা, আবার সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন বার্সা |
|
নিজেদের ডেরায় ৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক বায়ার্ন। লুইস দিয়াজের বিপজ্জনক ক্রস ঠেকাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল জড়ান ভলসবুর্গ ডিফেন্ডার কিলিয়ান ফিশার। তিন মাস পর মাঠে ফিরে বড় এক ধাক্কায় খেলেন এই ডিফেন্ডার।
তবে ভেঙে না পড়ে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় উলফসবুর্গ। ১৩তম মিনিটে লোভরো মায়ারের বাড়ানো বল থেকে শান্ত মাথায় বায়ার্নের গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান দ্জেনান পেইচিনোভিচ। তবে সমতায় ফেরার পর দুঃস্বপ্নই অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য।
৩০তম মিনিটে লিড নেয় বায়ার্ন। মাইকেল ওলিসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন লুইস দিয়াজ, ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বায়ার্ন। দ্বিতীয়ার্ধে সফরকারীদের জালে থেমে থেমে বল পাঠাতে শুরু করে বায়ার্ন। প্রতিপক্ষের দূর্বল রক্ষণভাগের সুযোগ লুফে নেয় কোম্পানির দল।
৫০ মিনিটে একক নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়ান মাইকেল ওলিসে। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচের কোণায় দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করেন তিনি। মাত্র তিন মিনিট পরই অতিথিদের দুর্দশা আরও বাড়ে—ওলিসের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়ান মরিটজ ইয়েন্ৎস, স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪–১।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরো নিজেদের কাছে রাখা বায়ার্ন ৬৮ মিনিটে ব্যবধান ৫-১ করে। বদলি হিসেবে নামা কেইনের পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন রাফায়েল গেরেইরো। মুহূর্তের মধ্যেই নিজ নাম লেখান কেইন নিজেও—বক্সের কিনারা থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে বল জড়ান জালের উপরের কোণে।
৭৬ মিনিটে লুইস দিয়াজের থ্রু বল থেকে নিজের দ্বিতীয় এবং বায়ার্নের সপ্তম গোলটি করেন ওলিসে। নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে লিয়ন গোরেতস্কা নিজের বুন্দেসলিগার ৫০তম গোল করে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৯ এম

শিরোপার মঞ্চে হান্সি ফ্লিকের জুড়ি মেলা ভার। ফাইনাল জয়ের অভ্যাসটা ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন জার্মান 'মাস্টারক্লাস'। এবার আরও একটি শিরোপা জয়ের দুর্দান্ত গল্প লিখলেন বার্সেলোনা কোচ। কাতালান জায়ান্ট ক্লাবটিতে নিজের 'সবচেয়ে প্রিয়' শিষ্যে রাফিনহা এবারের জয়ের নায়ক। মরুর বুকে ঝড় তুলে পাঁচ গোলের রোমাঞ্চে পূর্ণতা দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকাই।
স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা নিজেদের কাছেই রাখল বার্সেলোনা। গতকাল রাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে ১৬বারের মতো এই ট্রফি জিতল বার্সা। কোচিং ক্যারিয়ারে মোট আটবার ফাইনালে উঠে প্রতিবারই জয়ের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখলেন ফ্লিক। বার্সার হয়ে জার্মান কোচের এটি চতুর্থ শিরোপা।
জমজমাট এল ক্লাসিকোয় জোড়া গোল করে সবটুকু আলো নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন রাফিনহা। ক্যাম্প ন্যূ’ এর ক্লাবটির অন্য গোলটি এসেছে রবার্ট লেভানডফস্কির পা থেকে। আর গোলখরা কাটিয়ে ফিরে আসার আভাস দেওয়া ভিনিসিয়ুসের গোলের পর রিয়ালের দ্বিতীয় গোল এসেছে গঞ্জালো গার্সিয়ার কাছ থেকে।
নিজেদের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়া মাঠে নেমে প্রথামার্ধে রিয়াল ছিল পুরোই খাপছাড়া। বিপরীতে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নামা বার্সা বল নিজেদের কাছে রেখে প্রতিপক্ষকে বেশ চাপেই রাখে। শুরুর অর্ধের যোগ করা সময়ের পাগলাটে তিন গোলে সমতায় ফেরার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি পায় বার্সাই। ম্যাচে মোট ৬৮ শতাংশ বল পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৬টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখে লামিনে ইয়ামাল-রাফিনহারা। যেখানে রিয়ালের নেওয়া ১২ শটের ১০টি ছিল লক্ষ্যে।
বার্সেলোনা বল দখলের আধিপত্যের মধ্যেই বল জালে পাঠানোর প্রথম বড় সুযোগটা আসে রিয়ালের। ১৪ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়ুস। তবে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের নেওয়া দূর্বল শট ঠেকিয়ে দিতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি বার্সার গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়াকে।
২৮ মিনিটে প্রথম লক্ষ্যে শট রাখে বার্সেলোনা। কিন্তু থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করতে পারেননি রাফিনহা। ৩৪ মিনিটে দলকে লিড এনে দেওয়ার অসাধারণ এক সুযোগ হাতছাড়া করেন ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গার। তবে সেই সুযোগ মিসের প্রায়শ্চিত্ত করতে মোটেও সময় নেননি। এক মিনিট দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ১-০ করেন রাফিনহা।
ফ্রেমবন্দি বার্সার আক্রমণ ত্রয়ী ইয়ামাল-লেভানডফস্কি-রাফিনহা
ফার্মিন লোপেজের বাড়ানো বল থেকে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন রাফিনহা। সামনে ছিলেন কেবল চুয়ামেনি। রিয়ালের ফরাসি মিডফিল্ডারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন রাফিনহা।
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যাবে বার্সা—এমনটাই ধরে নিয়েছিল অনেকে। তবে চরম উত্তেজনার শুরুটা হয় সেখান থেকেই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে একক নৈপুণ্যে রিয়ালকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস। গার্সিয়ার পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে যান তিনি। জুল কুন্দের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। সেখানে আরেক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিচু শটে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
গত ৪ অক্টোবরের পর এই প্রথম রেয়ালের হয়ে গোলের দেখা পেলেন ভিনি। এরমধ্যে জাতীয় দল আর ক্লাবের জার্সিতে তাঁর খেলা হয়েছে ১৯ ম্যাচ। দীর্ঘ এই হতাশার সময় পেছনে ফেলে অবশেষে গোল করার ভুল যাওয়া স্বাদ পেলেন ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গার।
তারপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে লেভানডফস্কির গোল আবারও বার্সার এগিয়ে যাওয়ার উদযাপনের উপলক্ষ্য এনে দেয়। পেদ্রির ডিফেন্স চেরা এক পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা কোর্তোয়ার ওপর দিয়ে লব শট নেন পোলিশ তারকা ফরোয়ার্ড, বল পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।
বার্সার ২-১ এগিয়ে যাওয়ার উদযাপন শেষ হতে না হতেই সমতায় ফেরার বুনো উল্লাসে মাতে রিয়াল মাদ্রিদ। ইনজুরি টাইমের ৬ মিনিটে এবার গোলদাতার নাম গঞ্জালো গার্সিয়া। কর্নার থেকে ডিন হাউসেনের নেওয়া হেড রাফিনিয়ার মাথা ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জটলার ভেতর নিচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে শট করেন গার্সিয়া। বল ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে জালে জড়ায়।
যোগ করা সময়ের এমন অবিশ্বাস্য ‘ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার’ নাটক দেখা যায়নি এ শতাব্দিতে। একবিংশ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো ক্লাসিকোয় ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দেখা গেল তিন গোল।
বিরতের আগে দুই দলের এমন আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমে ক্ষীর হয়ে যাওয়া লড়াই দেখে অনেকেই দ্বিতীয়ার্ধে গোল উৎসবের স্বাক্ষী হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছুই হয়নি। ৭৩ মিনিটে জয়সূচক গোল পেয়ে যায় বার্সা। কাতালান ক্লাবটির ৩-২ ব্যবধান করা গোলটি করেন রাফিনহা। বক্সের ভেতর স্লিপ করে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে রাফিনিয়ার শট আসেন্সিওর পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
এবার হান্সি ফ্লিকের ‘প্রিয় শিষ্যের’ ব্যাখা দেওয়ার সময়ও এসেছে। বার্সাকে জয় এনে দেওয়া গোলটি সবশেষ পাঁচ ম্যাচে রাফিনহার সপ্তম গোল এটি। মৌসুমের শুরুর দিকে চোটে পড়া রাফিনহা যখন থেকে দলে ফিরেছে, এরপর একটি ম্যাচও হারেনি বার্সা। মাঠে তাঁর উপস্থিতি স্প্যানিশ জায়ান্টদের খেলায় রেখেছে স্পষ্ট ছাপ। রাফিনহা ফেরার পর ১৪ ম্যাচের ১৩টিতেই জিতেছে বার্সেলোনা। এমন পরিসংখ্যানের পর এই দলের অধিনায়ককে তো কোচের প্রিয় শিষ্য বলায় যায়।
রাফিনহা জাদুর আগে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের সুযোগ পেয়েছিল দুই দলই। ৫২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিয়ুসের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গার্সিয়া। ফিরতি বল উড়িয়ে মারেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার।
৭১ মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল বার্সেলোনার। ১০ গজ দূর থেকে স্লাইডে ইয়ামালের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। আর তারপরই আসে রাফিনহার ৩-২ ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোল।
সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া রিয়াল আশা দেখে গার্সিয়ার বদলি হিসেবে কিলিয়ান এমবাপে নামলে। সেমি ফাইনালে খেলতে না পারলেও ফাইনালে আগে যাকে উড়িয়ে নেওয়া হয় সৌদি আরবে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এই ফরাসি তারকাকে ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং।
বাকি সময়ে সুযোগ পায় দুই দলই। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা বার্সেলোনার মার্কাস র্যাশফোর্ড রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারান। ১২ গজ দূর থেকে গোলকিপার বরাবর শট নেন রেয়ালের আলভারো কারেরাস। শেষ মুহূর্তে আসেন্সিওর হেড ঠেকান গার্সিয়া।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসে বার্সা। সবশেষ ৬ এল ক্লাসিকোর পাঁচটিতেই জিতল তারা। বিপরীতে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া রিয়াল এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পঞ্চম হারের তেতো স্বাদ পেল।