
ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে একটি বিবৃতি দেয় খেলোয়াড়রা। এরপর স্থগিত হয়ে যায় লা লিগার ম্যাচটি। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে রিয়াল অভিয়েদোর এই ম্যাচ আর মাঠে গড়ায়নি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, রায়ো ভায়েকানোর ফুটবলারদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসা সেবা এবং মৌলিক সরঞ্জামের অভাব ছিল। খেলোয়াড়রা দাবি করছেন, ‘তাদের স্বাস্থ্যের ও পারফরম্যান্সের সুরক্ষার জন্য অবিলম্বে কাঠামোগত পেশাদারীকরণ জরুরি।’
রায়ো ভায়েকানোর ফুটবলারদের অভিযোগ, গত এক মাসে, ভায়েকাস স্টেডিয়ামের লনের অবস্থা বাজে ছিল। মাঠের অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাওয়ায় স্পোর্টস সিটিতে অনুশীলন করতে হয়েছে তাদের। বিবৃতিতে তারা লিখেছে,
‘আমরা মনে করি, খেলার মাঠ সর্বোচ্চ স্তরের ম্যাচ খেলার জন্য ন্যূনতম শর্তও পূরণ করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন ব্যবহৃত সুবিধাসমূহের ঘাটতিও যোগ হয়েছে, যেমন—কদিন শাওয়ারে গরম পানি নেই, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যাপ্ত নয় এবং যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা প্রথম বিভাগের ক্লাবের পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে মিলছে না।’
ফুটবল স্পানা জানিয়েছে, এই বিবৃতি ভায়েকানো স্কোয়াডের পক্ষ থেকে, কোচিং স্টাফ এবং স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সমিতির (এইএফ) সমর্থনে স্বাক্ষরিত।
এই ম্যাচে ভায়েকানোর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল অভিয়েদোও দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। স্প্যানিশ ক্লাবটি লিখেছে,
‘আজ ভায়েকাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া রায়ো ভায়েকানো ও রিয়াল অভিয়েডো ম্যাচের আনুষ্ঠানিক স্থগিতের পর, রিয়াল অভিয়েডো নিম্নলিখিত তথ্য জানাচ্ছে: রায়ো ভায়েকানোর স্টাফ, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের প্রতি সংহতি এবং সহানুভূতি প্রকাশ করছে ক্লাব। যাদের অবস্থার তথ্য গতকাল স্প্যানিশ ফুটবল খেলোয়াড়দের সমিতির বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।’
একই সঙ্গে, রিয়াল অভিয়েদো স্বীকার করছে যে, কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের শারীরিক নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা পেশাদার ক্রীড়া ক্ষেত্রে যে কোনো পরিস্থিতিতে বজায় থাকা অপরিহার্য।
লা লিগায় অবনমন অঞ্চলে আছে রায়ো ভায়েকানো। ২২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে অবস্থান করছে ক্লাবটি।
No posts available.

আন্তর্জাতিক বিরতির পর ফিরল ক্লাব ফুটবলের রমরমা উৎসব। লা লিগায় শুরু হচ্ছে আজ। স্প্যানিশ লিগটিতে রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে নামবে আগামীকাল। মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটিকে লিগের নয়টি ‘ফাইনালের’ একটি বলছেন লস ব্লাঙ্কোসদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে মৌসুমের শেষ অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক একটি ম্যাচেই বদলে যেতে পারে সমীকরণ। লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৯ ম্যাচে ২২ জয়, ৩ ড্র ও ৪ হারে ক্লাবটির সংগ্রহ ৬৯। সমান ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।
লিগে বাকি আছে আর নয়টি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনাল ধরে এগোতে চান রিয়াল কোচ আরবলোয়া,
‘আমরা যারা এখানে থেকে কাজ করেছি, আমরা কঠোর এবং কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকালের ম্যাচ এবং ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণভাবে সচেতন। প্রতিপক্ষও যেমন পয়েন্টের জন্য লড়ছে, আমরাও তেমনি। বিরতির পর মাঠে খেলতে সহজ হবে না। লা লিগায় আমাদের সামনে নয়টি ফাইনাল বাকি, এবং আগামীকাল প্রথম ফাইনাল।’
কোনো খেলোয়াড়ের চোট ছাড়া আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন আরবেলোয়া,
‘খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে ভালোভাবে ফিরেছে। সৌভাগ্যক্রমে, সবাই নিরাপদ এবং সুস্থ রয়েছে, যা জাতীয় দলের সঙ্গে যাত্রার প্রথম উদ্দেশ্য। অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে—মিনিট পেয়েছে এবং উচ্চ মানের ফুটবল খেলেছে।’
চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য দুটি শিরোপা জিততে পারে রিয়াল মাদ্রিদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচ ধরে ধরে সতর্কতার সঙ্গে শেষ করতে চান আরবেলোয়া। ঘরের মাঠে কাল অবনমন অঞ্চলে থাকা মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না বলছেন তিনি,
‘আমরা সেখানে পৌঁছেছি যেখানে আমরা চেয়েছিলাম—লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ উভয়ের জন্য লড়াই করতে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য আগামীকালের ম্যাচ জেতা, আর মায়োর্কা ম্যাচ শেষ হলে আমরা পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর দেব। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য খেলছি। কোনো ভুল করার সুযোগ নেই, এবং তাই আগামীকাল মাঠে নামার সময় আমাদের পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে—কারণ এটি একটি কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রায়ই বড় দলগুলোকে হোঁচট খেতে দেখা যায়। দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খানিকটা বেগ পেতে হয় খেলোয়াড়দের। তবে শিষ্যরা প্রস্তুত বলেই মনে করছেন রিয়ালের কোচ,
‘বিরতির পর আবার ম্যাচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয় না, তবে আমি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, তাদের ইচ্ছা, মনোভাব, মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসে ভরসা করি। আমি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা দেখছি। তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য লড়াই করতে, জানি যে এটি সহজ হবে না।’

মিশরের বিপক্ষে স্পেনের প্রীতি ম্যাচে দর্শকদের ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান তোলপাড় সৃষ্টি করেছে স্পেনের ফুটবলে। বর্ণবাদী এই ঘটনায় দেশটির ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ছাড়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল। এবার এ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকও।
লা লিগায় আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইয়ামালের সাহসিকতার প্রশংসা করেন ফ্লিক। আর যারা এই ধরনের স্লোগান দিয়েছে তাদের কঠোর সমালোচনাও করেছেন কাতলান ক্লাবটির কোচ,
‘আমি মনে করি লামিনে একটি অসাধারণ বিবৃতি দিয়েছে। ফুটবল মানেই সহবস্থান। কিছু মানুষ এটা বুঝতে পারছে না, এটা হতাশাজনক।’
ফ্লিক আরও বলেন,
‘এখন সময় এসেছে ভেবে দেখা এবং আমাদের জীবন ও ফুটবল থেকে আমরা কী চাই তা নির্ধারণ করার। আমরা বর্ণবাদ চাই না। আমরা সবাই চাই যে আমাদের সম্মান জানানো হোক—জাতি বা ধর্ম নির্বিশেষে। পরিবর্তনের সময় এসেছে।’
বার্সেলোনায় আরসিডিই স্টেডিয়ামে মুসলিমপ্রধান দেশ মিসর ও স্পেনের মধ্যকার ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। স্লোগানগুলো সরাসরি ইয়ামালকে লক্ষ্য করে না হলেও তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবেই নেন।
ইয়ামাল তাঁর পোস্টে লেখেন,
‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে “তুমি যদি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম”—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। আমি জানি, এগুলো প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নয়। তবু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান। তিনি লেখেন,
‘মুষ্টিমেয় অসভ্য লোকের আচরণে স্পেনকে আমরা কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না। স্পেন একটি বহুত্ববাদী ও সহনশীল দেশ।’
ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের স্পেনের তদন্তের পাশপাশি ফিফাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি ম্যাচের বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবে। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্কের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মোহামেদ সালাহকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট। বিদায়ী মৌসুমে ক্লাবকে আরও দুইটি শিরোপা জিতিয়ে ক্লাব ছাড়বেন সালাহ- এটাই প্রত্যাশা স্লটের।
শনিবার বিকেলে এফএ কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে লিভারপুল। এই ম্যাচের আগে উঠে আসে সালাহর বিদায়ের প্রসঙ্গও। তখন মিশরিয়ান কিংবদন্তিকে নিয়ে উচ্চকিত মন্তব্যই করেন লিভারপুল কোচ।
“এই ক্লাবের জন্য সালাহ যা করেছেন, তা অবিশ্বাস্য। এত বছর ধরে প্রতি তিন দিন পরপর মাঠে নেমে গোল করা, অ্যাসিস্ট করা- তার প্রভাব ছিল অসাধারণ। আমি শুধু আশা করি, মৌসুম শেষে বিদায়ের আগে সে আরও দুইটি ট্রফি জিতবে।”
গত সপ্তাহেই ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি মৌসুম শেষে লিভারপুল ছাড়বেন সালাহ। ২০১৭ সালে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২৫৫ গোল করেছেন এই মিশরীয় ফরোয়ার্ড।
লিভারপুলের দুটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপায় তিনি রেখেছেন বড় অবদান।
এবার এফএ কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যান সিটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন সালাহ- এটাই আশা স্লটের।
প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুল বর্তমানে পঞ্চম স্থানে, শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ২১ পয়েন্ট পিছিয়ে। তবে ইউরোপে এখনও আশা বেঁচে আছে। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে তারা। আগামী বুধবার প্যারিসে পিএসজির বিপক্ষে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে স্লটের দলের সামনে।

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মৌসুমে নিজেদের সেরা ফুটবলারকে নিয়ে অনিশ্চিয়তায় বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যারি কেইনকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছে বাভারিয়ানরা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে মঙ্গলবার রিয়ালের মুখোমুখি হবে বায়ার্ন। স্প্যানিশ জায়ান্টদের ডেরা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কেইনের খেলতে পারা নিয়ে সন্দিহান বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। গোড়ালির চোটে পড়ে মাঠের বাইরে আছে ইংলিশ অধিনায়ক।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ১-১ ড্র ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন ৩২ বছর বয়সী কেইন। পরে অনুশীলনে চোট পাওয়ায় জাপানের বিপক্ষে ১-০ গোলে যাওয়া ম্যাচেও খেলেননি বায়ার্নের ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
বুন্দেসলিগায় ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বায়ার্ন কোচ কোম্পানি জানিয়েছেন,
‘জাতীয় দলে অনুশীলনের সময় গোড়ালিতে ব্যথা অনুভব করেন কেইন। ফলে লিগের এই ম্যাচে তাঁর থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’
কেইনের চোটের পরিস্থিতি যে খুব একটা ভালো না—সেটা স্বীকার করেও অবশ্য আশার আলো দেখছেন বায়ার্ন কোচ। কোম্পানির বিশ্বাস, চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে ফিরতে পারবেন কেইন।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে কেইনের চোট নিয়ে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল জানিয়েছিলেন, ‘প্রায় হঠাৎ করেই ছোট একটি চোট পায় সে।’ অনুশীলনের মাত্র ১৫ মিনিট পরই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। টুখেল সাফ জানিয়ে দেন, ওই ম্যাচে খেলার ‘কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।’
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন কেইন। বুন্দেসলিগায় ২৬ ম্যাচে করেছেন ৩১ গোল, আর চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ১০।

আন্তর্জাতিক সূচির বিরতিতে যাওয়ার আগে আর্সেনালকে হারিয়ে লিগ কাপের শিরোপা জিতেছিল পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। এবার বিরতি থেকে ফিরে লিভারপুলকে হারিয়ে এফএ কাপের দারুণ এক রেকর্ড গড়তে চান সাফল্যরাঙা এই কোচ।
নিজেদের ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে এফএ কাপ কোয়ার্টার-ফাইনালে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে ম্যান সিটি। এই ম্যাচ জিতলে টানা অষ্টমবারের মতো এফএ কাপের সেরা চারে উঠবে তারা।
টুর্নামেন্টের দীর্ঘ ইতিহাসে আর কোনো দল টানা ৮ মৌসুমে সেমি-ফাইনালে উঠতে পারেনি। এবার সেই কীর্তিই গড়তে চান গার্দিওলা। ফাইনালের আগের দিন সংবাদমাধ্যমে সেই দৃঢ় প্রত্যয়ই জানালেন ম্যান সিটি কোচ।
“আপনি একটি (লিগ কাপ) শেষ করার পর সবসময় পরবর্তী চিন্তা করবেন। কাল আমাদের সামনে এক দুর্দান্ত মাইলফলক অর্জনের সুযোগ। টানা ৮টি সেমি-ফাইনাল আগে কখনও হয়নি। এটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট এবং শক্ত ও আমাদের জন্য বিশেষ প্রতিপক্ষ (লিভারপুল) অপেক্ষা করছে।”
২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ম্যান সিটিকে একের পর এক সাফল্যে ভাসিয়েছেন গার্দিওলা। তার কোচিংয়ে এখন পর্যন্ত ৬টি প্রিমিয়ার লিগ, ২টি এফএ কাপ ও ৫টি লিগ কাপ শিরোপা জিতেছে সিটিজেনরা।
তবে ক্যারিয়ারজুড়ে গার্দিওলার জন্য এক কাঁটার নাম লিভারপুল। সব দল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৬ বার লিভারপুলের মুখোমুখি হয়েছে ৯ ম্যাচ জিতেছেন গার্দিওলা, ড্র হয়েছে ৭টি আর হেরে গেছেন বাকি ১০ ম্যাচে।
চলতি মৌসুমের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অবশ্য দুই ম্যাচেই লিভারপুলকে হারিয়েছে ম্যান সিটি। তবে এই দলের বিপক্ষে খেলার আগে বাড়তি সতর্কতার কথাই বললেন গার্দিওলা।
“প্রায় সময়ই তারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে, সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী, সব বড় দাবিদার। সেরা মানের সব ফুটবলার ওই দলে, সবাই। আশা করি, আর্সেনালের বিপক্ষে যেমন খেলেছি, ওই পর্যায়ে খেলতে পারব এবং পরের ধাপে যাব।”