
অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় রাফায়েল নাদাল। আসছে নভেম্বরে মালাগায় ডেভিস কাপ খেলে টেনিসকে বিদায় জানাবেন স্প্যানিশ এই কিংবদন্তি।
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় নাদাল নিশ্চিত করেন তার অবসরের খবর। অবসরের কারণ হিসেবে মূলত চোটের দিকে ইঙ্গিত নাদালের,
“আমি সবাইকে জানাতে চাচ্ছি পেশাদার টেনিস খেলা থেকে অবসরে যাচ্ছি। বাস্তবতা হচ্ছে গত দুই বছর বেশ কঠিন সময়ই পার করতে হয়েছে আমাকে। সীমাবদ্ধতা ছাড়া আমার মনে হয় না খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
গত দুই বছর থেকেই চোটের সাথে লড়াই করে চলছেন নাদাল। খুব একটা খেলার সুযোগও পাননি। তাতে অবসর যে তিনি নিবেন তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল কিছুটা আগে থেকেই। বৃহস্পতিবার সেই ঘোষণাটাই তিনি দিয়ে দিয়েছেন।
গ্র্যান্ডস্ল্যামের দিক থেকে নাদাল পিছিয়ে আছেন কেবল নোভাক জোকোভিচের থেকে। সবমিলে ২২ গ্ল্যান্ডস্ল্যাম জিতেছেন নাদাল, এর ভেতর রেকর্ড ১৪বার জিতেছেন ফরাসি ওপেন। অস্ট্রেলিয়ান আর উইম্বলডন জিতেছেন দুইবার করে।
No posts available.
৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম
২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম
১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৭ পিএম
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৪ পিএম

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা। সকাল ৯টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন ফেডারেশনের সভাপতি মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের কর্ণধার ইঞ্জিনিয়ার শামসুজ্জামান নাসিম। এবার এই টুর্নামেন্ট হবে ৮ দিন ধরে। এর আগে কখনও জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা এত বেশি দিন ধরে হয়নি।
এবারের প্রতিযোগিতায় ৪১টি জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসহ সর্বমোট ৪৯টি দল অংশগ্রহণ করছে। সর্বোচ্চসংখ্যক ৪৭৬ জন খেলোয়াড় এই প্রতিযোগিতায় খেলবে। দেশের টেবিল টেনিশের ইতিহাসে এর আগে এত প্রতিযোগী অংশ নেয়নি। সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সেনা, আনসার, জেল পুলিশ, বিমান, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ, রুয়েট, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় এবং বিকেএসপি।
অংশগ্রহণকারী জেলা ও বিভাগীগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, নড়াইল, নীলফামারী, পটুয়াখালী, বগুড়া, বরিশাল জেলা এবং বিভাগ, ভোলা, মাদারীপুর, মাগুরা, মানিকগঞ্জ, যশোর, রংপুর জেলা এবং বিভাগ, রাজশাহী জেলা এবং বিভাগ, শরিয়তপুর, কুমিল্লা, খুলনা, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, চাপাই নবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝালকাঠি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নওগাঁ ইত্যাদি।
এবার সর্বোচ্চ ১৪টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যেখানে সিনিয়র ক্যাটাগরির পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ বছরের বালক-বালিকারাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
আরও পড়ুন
| অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা |
|
প্রতিযোগিতার ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরুষ একক, পুরুষ দ্বৈত, পুরুষ দলগত, মহিলা একক, মহিলা দ্বৈত, মহিলা দলগত এবং পুরুষ ও মহিলাদের মিশ্র দ্বৈত। জুনিয়রদের জন্য রয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ বালক একক, বালক দ্বৈত, বালক দলগত, বালিকা একক, বালিকা দ্বৈত, বালিকা দলগত, অনূর্ধ্ব-১৯ মিশ্র দ্বৈত।
অনূর্ধ্ব-১৯ এর শীর্ষ ১৬ বালকদের সিনিয়রদের সব ক্যাটাগরিতে খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। আর বালিকাদের ক্ষেত্রে সিনিয়র নারীদের সঙ্গে খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় রেটিং পয়েন্ট দেয়া হবে। ২৩৭ জন পুরুষ, ৭২ জন মহিলা, ১০৯ জন জন বালক এবং ৫৮ জন বালিকা একক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। দ্বৈত ম্যাচ খেলছে ১৮৫ জন এর মধ্যে পুরুষ ৯০ জুটি, বালক ৪৪ জুটি, মহিলা ২৮ জুটি এবং বালিকা ২৩ জুটি।
দলগত ম্যাচ হচ্ছে ৯৭টি। এর মধ্যে পুরুষ ৪১টি, বালক ২৬টি, মহিলা ১৮টি এবং বালক ১২টি দলগত খেলা খেলবে। সর্বশেষ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে রৌপ্যজয়ী ইভেন্টে মিশ্র দ্বৈত জুনিয়র ক্যাটাগরিতে খেলছে ২২টি জুটি এবং সিনিয়র ক্যাটাগরিতে হচ্ছে ৫০টি জুটি। কিন্তু জাভেদ আনসার দলে এবং খই খই মারমা বিকেএসপিতে খেলার কারণে বাংলাদেশ তার জুটিবদ্ধ নৈপুণ্য অন্তত এই টুর্নামেন্টে দর্শকরা দেখতে পারছে না।
বর্তমানে ফেডারেশনে পুরুষ ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে মুহতাসিন আহমেদ হৃদয়। মহিলা ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে সাদিয়া রহমান মৌ। বালক ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে নাফিজ ইকবাল এবং বালিকা ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে খই খই সাই মারমা।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এম এ মাকসুদ আহমেদ সনেট। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট তাহমিনা তারমিন বিনু, সদস্য সুজন মাহমুদসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং খেলোয়াড়বৃন্দ।

১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মৌসুমের প্রথম গ্রান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। টুর্নামেন্টের জন্য আজ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে আয়োজকরা। এবার প্রাইজমানি বেড়েছে ১৬ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মোট প্রাইজমানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৫০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
টেনিসের একক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়েরা পাবেন ৪১ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। গত বছর যা ছিল ৩৫ লাখ ডলার।
এবার প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া খেলোয়াড়েরা পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।
সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে প্রাইজমানি বাছাইপর্বে, ১৬ শতাংশ। বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে বিদায় নেওয়া খেলোয়াড়রা পাবেন ৮৩ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
১৮ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলবোর্ন পার্কে হবে বছরের প্রথম টেনিস গ্র্যান্ড স্ল্যাম- অস্ট্রেলিয়ান ওপেন।
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কোর্টে নামবেন ২০২৫ সালে পুরুষ ও নারী এককে মুকুট জেতা- ইয়ানিক সিনার ও ম্যাডিসন কিজ।

ছোটবোন সেরেনা উইলিয়ামস টেনিস থেকে অবসর নিয়েছেন ২০২২ সালেই। তাঁর চেয়ে এক বছরের বড় ভেনাস উইলিয়ামস এখনো পেশাদার টেনিস খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাঁচ বছর পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে আবারও ফিরছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই টেনিস কিংবদন্তি।
৪৫ বছর বয়সী ভেনাস অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মূল ড্রতে খেলা সবচেয়ে বয়সী নারী খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল জাপানের কিমিকো দাতের, ২০১৫ সালে ৪৪ বছর বয়সে টুর্নামেন্ট খেলেছিলেন তিনি।
ভেনাসের বর্তমান র্যাঙ্কিং ৫৮১। ফলে সরাসরি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলার সুযোগ পাননি। আজ টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ ভেনাসকে ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন না করা কোনো খেলোয়াড়কে বিশেষ বিবেচনায় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে তাকে 'ওয়াইল্ডকার্ড' বলা হয়।
আরও পড়ুন
| ফরাশগঞ্জে ভালো আছেন তহুরা-শামসুন্নাহাররা |
|
সাতবারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী ভেনাস সবশেষ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলেছিলেন ২০২১ সালে। সে বছর দ্বিতীয় রাউন্ডে ইতালির সারা এরানির কাছে হেরে বিদায় নেন তিনি।
২১ বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অংশ নিলেও এখনো শিরোপা জেতা হয়নি ভেনাসের। ২০০৩ ও ২০১৭ সালে দুইবার ফাইনালে উঠলেও দুবারই বোন সেরেনা উইলিয়ামসের কাছে হারতে হয় তাকে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফেরার অনুভূতি জানিয়ে ভেনাস বলেন, ‘আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরতে পেরে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত। সেখানে আমার ক্যারিয়ারের অনেক সুন্দর স্মৃতি আছে। এমন একটি জায়গায় ফেরার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।’
১৮ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেন দিয়েই দীর্ঘ বিরতির পর আবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম মঞ্চে ফিরছেন টেনিসের এই কিংবদন্তি।

২০২৫ সালের শেষভাগে টেনিস অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে প্রদর্শনী ম্যাচ ‘ব্যাটল অব দ্য সেক্সেস।’ নিক কির্গিওসের সঙ্গে ম্যাচটি আবার খেলতে চান আরিনা সাবালেঙ্কা।
দুবাইতে আয়োজিত এই লড়াইয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর নারীদের শীর্ষ বাছাই সাবালেঙ্কাকে ৬-৩, ৬-৩ গেমে হারান দীর্ঘদিন পর চোট কাটিয়ে ফেরা কির্গিওস।
প্রতিশোধ নিতে আবারও এই ম্যাচ খেলতে চাওয়ার কথা জানিয়ে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘অবশ্যই আবার খেলতে রাজি। আমি প্রতিশোধ নিতে ভালোবাসি। বিষয়টা এভাবে রেখে দিতে চাই না।’
ম্যাচের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনেন আয়োজকরা। এর মধ্যে ছিল সাবালেঙ্কার কোর্টের আকার ৯ শতাংশ ছোট করা এবং প্রতি পয়েন্টে দুইবারের পরিবর্তে একবার সার্ভের সুযোগ।
তবে সাবালেঙ্কার দাবি, পরিবর্তিত নিয়মগুলো তার জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। ম্যাচটি ভারসাম্যপূর্ণ করতে সাবালেঙ্কা আরও কিছু নিয়ম বদলাতে চান।
“ম্যাচের আগে বুঝতে পারিনি আমাকেও এতটা মানিয়ে নিতে হবে। নিকের জন্য পুরো কোর্টই রাখা যেতে পারে। কিন্তু আমি দুইটি সার্ভ নিতে চাই। এতে আমাদের মধ্যে একটু সমান সমতা হবে।”
কির্গিওসের বিপক্ষে সাবালেঙ্কা হারলেও ম্যাচটি ৯০ মিনিট পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান এই তারকাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরে খুশি সাবালেঙ্কা।
“তাকে চ্যালেঞ্জ করতে পেরে আমি খুশি, নিককে পরিশ্রম করাতে পেরেছি এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপের মধ্যে ফেলতে পেরেছি।”
“একজন পুরুষ খেলোয়াড়কে চিন্তায় পড়তে এবং পুরো শক্তি দিয়ে খেলতে দেখে আমি সত্যিই খুব রোমাঞ্চিত হয়েছি।”

টেনিসের সোনালী প্রজন্মের প্রতিনিধি 'বিগ থ্রি'-র দুই মহাতারকা রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদাল আগেই বিদায় নিয়েছেন। কোর্টে শেষ প্রদীপ হয়ে টিকে আছেন ৩৮ বছর বয়সী সার্বিয়ান কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ। ২০২৫ সালটি টেনিস বিশ্বের জন্য ছিল এক সন্ধিক্ষণ- যেখানে একদিকে ছিল জোকোভিচের হাল না ছাড়ার জেদ, অন্যদিকে ইয়ানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাজের একচ্ছত্র আধিপত্য।
সিনকারাজ দ্বৈরথ ও গ্র্যান্ড স্ল্যামের চিত্র
শুরুটা হয়েছিল গতবছর। ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিগ থ্রি এর কেউই জিততে পারেনি কোন গ্রান্ড স্ল্যাম। দুটি করে গ্রান্ড স্ল্যাম ভাগ করে নেন ইয়ানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাজ।
সেই ধারাবাহিকতা দেখা গেল ২০২৫ সালেও। চারটি গ্রান্ড স্ল্যামের সবকটিই ভাগ করে নিয়েছেন ‘সিনকারাজ’ জুটি।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডন জিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন সিনার, অন্যদিকে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ইউএস ওপেন ঘরে তুলে আলকারাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে আগামীর রাজা বলা হয়। তাদের মধ্যকার প্রতিটি লড়াই টেনিস প্রেমীদের ফিরিয়ে দিয়েছে সেই পুরনো বিগ থ্রি-র ধ্রুপদী দ্বৈরথের স্বাদ।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: সিনারের ইতিহাস
মেলবোর্নে বছরের শুরুতেই বাজিমাত করেন ইয়ানিক সিনার। ফাইনালে আলেক্সজান্ডার জভেরেভকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখেন ২৪ বছর বয়সি এই তারকা। এই জয়ের মাধ্যমে সিনার ইতালির প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই সাথে ২০২৫ মৌসুমের শুরুতেই এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেন।
ফ্রেঞ্চ ওপেন: ইতিহাসের সেরা ফাইনালগুলোর একটি
প্যারিসের রোলাঁ গারোতে কার্লোস আলকারাজ এবং ইয়ানিক সিনারের মধ্যকার ফাইনালটি টেনিস ইতিহাসের অন্যতম ধ্রুপদী লড়াই হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
ফাইনালে সিনারের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি লড়াই করে শিরোপা জেতেন আলকারাজ। ৫ ঘণ্টা ২৯ মিনিটের এই মহাযুদ্ধে আলকারাজ ৪-৬, ৬-৭, ৬-৪, ৭-৬, ৭-৬ গেমে জয়ী হন। এই ম্যাচটি ফ্রেঞ্চ ওপেনের ইতিহাসে দীর্ঘতম ফাইনাল ম্যাচের রেকর্ড গড়েছে। জয়ের মাধ্যমে আলকারাজ ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটিপি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে ফিরে আসেন এবং মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বাদ পান।
উইম্বলডন: সিনারের প্রতিশোধ
প্যারিসের ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে কার্লোস আলকারাজের কাছে হারের ক্ষত শুকাতে খুব বেশি সময় নেননি ইয়ানিক সিনার। উইম্বলডনের ফাইনালে সেই আলকারাজকেই পরাজিত করে মধুর প্রতিশোধ নেন এই ইতালীয় তারকা।
ফাইনালে সিনার ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪, ৬-৪ গেমে আলকারাজকে পরাজিত করেন। প্রথম সেটে পিছিয়ে পড়েও পরের তিন সেট জিতে শিরোপা নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রথম ইতালীয় পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডন শিরোপা জেতার অনন্য ইতিহাস গড়েন সিনার। এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং ২০২৫ মৌসুমের দ্বিতীয় মেজর শিরোপা। তাঁর এই জয়ের ফলে এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে আলকারাজের সাথে সিনারের শীর্ষস্থানের লড়াই আরও জমে ওঠে।
ইউএস ওপেন: আলকারাজের শেষ হাসি
বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামে আবারও সেরা আলকারাজ। সেমিফাইনালে নোভাক জোকোভিচকে হারিয়ে ফাইনালে সিনারের বিপক্ষে দারুণ জয় পান তিনি। এতে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের হিসাবে আলকারাজ এগিয়ে যান ৬–৪ ব্যবধানে।
নারী টেনিসের রাজত্ব
নারীদের টেনিসে আরিনা সাবালেঙ্কা শারীরিক শক্তি এবং মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে কোর্টে শাসন করেছেন। টানা দ্বিতীয়বার নম্বর ১ হিসেবে বছর শেষ করেছেন এই তারকা।
২০২৫ সালে সাবালেঙ্কা জিতেছেন ৬টি বড় শিরোপা। ইউএস ওপেন ও মায়ামি ওপেনের জয় নজর কাড়ে। পুরো বছরের সার্ভ পারফরম্যান্সে তার প্রথম সার্ভ পয়েন্ট জয় ছিল ৭৫ শতাংশ, আর ব্রেক পয়েন্ট সেভের হার ৭০ শতাংশের বেশি।
২০২৫ সালে নারীদের গ্রান্ড স্ল্যামে কেউ একাধিক শিরোপা জয় করতে পারেননি। চারজন ভাগ করে নিলেও, সামগ্রিক পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিকতায় আরিনা সাবালেঙ্কা অনন্য ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: ম্যাডিসন কিসের রূপকথা
বছরের শুরুতেই মেলবোর্নে চমক দেখান মার্কিন তারকা ম্যাডিসন কিস। ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কাকে পরাজিত করে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয় করেন।
ফ্রেঞ্চ ওপেন: কোকো গফের লাল মাটির রাজত্ব
রোলাঁ গারোর ক্লে-কোর্টে নিজের আধিপত্য প্রমাণ করেন কোকো গফ। ফাইনালে আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং প্রথম ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা নিজের করেন। পুরো মৌসুমে তিনি ৫৭টি ম্যাচের মধ্যে ৪৮টিতেই জয়লাভ করেন।
উইম্বলডন: ঘাসের কোর্টে সোয়াইটেকের দাপট
পোলিশ তারকা ইগা সোয়াইটেক ক্যারিয়ারের প্রথম উইম্বলডন শিরোপা জেতেন ২০২৫ সালে। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের আমান্ডা আনিসিমোভাকে সরাসরি সেটে ৬-০, ৬-০ গেমে পরাজিত করেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর জয়ের হার ছিল ৮৭ শতাংশ।
ইউএস ওপেন: সাবালেঙ্কার সফল শিরোপা রক্ষা
বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করেন আরিনা সাবালেঙ্কা। নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোজে ফাইনালে ম্যাডিসন কিসকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন হন এই বেলারুশিয়ান তারকা।
জোকোভিচ অধ্যায়: শ্রেষ্ঠত্বের পর বাস্তবতা
২০২৫ সাল নোভাক জোকোভিচের জন্য ছিল সাফল্যের চেয়ে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার বছর। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের মালিক, ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড় বছরের বেশির ভাগ সময়ই লড়েছেন বয়স, ফিটনেস এবং নতুন প্রজন্মের গতি ও শক্তির সঙ্গে। ট্রফির ঝলক না থাকলেও জোকোভিচের উপস্থিতি ছিল মর্যাদার, তবে কোর্টে তার আগের সেই অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য আর দেখা যায়নি।
বছরের শুরুটা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টারফাইনালে কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। তবে সেখানে চোটের কারণে ম্যাচ শেষ না করেই ফিরতে হয় খালি হাতে।
লাল মাটির কোর্টে ফ্রেঞ্চ ওপেনে জোকোভিচ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন ইতালিয় তারকা ইয়ানিক সিনারের। সরাসরি সেটে (৬-৪, ৭-৫, ৭-৬) হেরে বিদায় নেন জোকোভিচ।
উইম্বলডনেও জোকোভিচ সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছান। সেখানে তিনি আবারও ইয়ানিক সিনারের কাছে সরাসরি সেটে (৬-৩, ৬-৩, ৬-৪) পরাজিত হন। এটি ছিল ২০১৭ সালের পর তাঁর প্রথম উইম্বলডন ফাইনাল খেলতে না পারা।
বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইউএস ওপেনেও জোকোভিচ সেমিফাইনালে পৌঁছান। তবে কার্লোস আলকারাজের কাছে সরাসরি সেটে পরাজিত হন । এই পরাজয়ের মাধ্যমে সার্বিয়ান এই তারকা প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে একই বছরে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামেরই সেমিফাইনালে হারার রেকর্ড গড়েন।
জোকোভিচ ২০২৫ সালের পুরো মৌসুমে কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম বা মাস্টার্স শিরোপা জিততে পারেননি। ২০০৯-২০১০ সালের পর তাঁর প্রথম মৌসুম, যেখানে কোনো মেজর শিরোপা ছাড়াই বছর শেষ করেছেন।
এটিপি ট্যুরে তিনি খেলেছেন ৫৪টি ম্যাচ, জিতেছেন ৩৯টি। জয়ের হার প্রায় ৭৮% শতাংশ। সার্বিয়ান এই তারকার ক্যারিয়ারের গড়ের (৮৩.১%) তুলনায় অনেক কম। বড় ম্যাচে বিশেষ করে সেরা পাঁচ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে তার জয় হার নেমে আসে ৪০ শতাংশের নিচে।
বছরের শেষে জোকোভিচ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বরে থেকে মৌসুম শেষ করেন। বয়সের দিক থেকে ৩৮ বছরে পা দেওয়া এই তারকা এখন আর পূর্ণ মৌসুম খেলার মতো শারীরিক সামর্থ্য ধরে রাখতে পারছেন না।
তবে জোকোভিচ আশাবাদী আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে মার্গারেট কোর্টের সর্বকালীন রেকর্ড ছাড়িয়ে (২৪টি) এককভাবে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক হবেন। ২০২৫ সালের পুরো মৌসুম শিরোপাহীন কাটলেও, ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা এখনও খেলা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।
আলোচনায় ‘ব্যাটল অব দ্য সেক্সেস'
২০২৫ সালের শেষভাগে টেনিস অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করে প্রদর্শনী ম্যাচ ‘ব্যাটল অব দ্য সেক্সেস’। দুবাইতে আয়োজিত এই লড়াইয়ে পুরুষ ও নারী টেনিসের ভিন্ন দুই শক্তির মুখোমুখি হওয়া দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
কোর্টে নামেন দীর্ঘ চোট কাটিয়ে ফেরা কির্গিওস ও নারীদের শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কা। ম্যাচে কিরগিওস ৬-৩, ৬-৩ ব্যবধানে জয়ী হন। ম্যাচটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৯০ মিনিট।
‘ব্যাটল অব দ্য সেক্সেস'- এর সবচেয়ে বিখ্যাত হিসেবে পরিচিত ম্যাচ হয় ১৯৭৩ সালে বিলি জিন কিং বনাম ববি রিগসের মধ্যে। সে সময় ম্যাচটি নারী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে পরিচিত হলেও, বিলি জিন কিং নিজেই পরবর্তীকালে এই ম্যাচের ‘সার্কাস’ বা প্রদর্শনধর্মী পরিবেশ নিয়ে বেশ সচেতন ও সতর্ক ছিলেন।
২০২৫ সালে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের সমালোচনা করেছেন এই টেনিস কিংবদন্তি। বিলি জিন কিং সত্তর দশকের সেই সময়ের ম্যাচ আর বর্তমান ম্যাচের গুরুত্ব এক না।
পরাজয় সত্ত্বেও সাবালেঙ্কা এটিকে এই ম্যাচকে ‘চমৎকার ফিটনেস টেস্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। কিরগিওস সাবালেঙ্কার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জয় পেলেও তিনি ম্যাচ চলাকালীন বেশ স্নায়ুচাপে ছিলেন।
কিংবদন্তির বিদায়
ইতালীয় টেনিসের কিংবদন্তি নিকোলা পিয়েত্রাঞ্জেলি ১ ডিসেম্বর ৯২ বছর বয়সে মারা যান। ১৯৫৯ ও ১৯৬০ সালে টানা দুবার ফ্রেঞ্চ ওপেন একক শিরোপা জিতেছিলেন তিনি।
টেনিস ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী কোচ এবং নোভাক জোকোভিচের মেন্টর নিকোলা পিলিচ ২২ সেপ্টেম্বর ৮৬ বছর বয়সে মারা যান।
২০২৫ সালের বড় অঘটন
ভ্যালেন্টিন ভ্যাচেরোট বনাম নোভাক জোকোভিচ: সাংহাই মাস্টার্সে ভ্যালেন্টিন ভ্যাচেরোট রেকর্ড চারবারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচকে পরাজিত করে বছরের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটান।
লার্নার টিয়েন বনাম দানিল মেদভেদেভ: অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে বাছাইপর্ব থেকে আসা লার্নার টিয়েন দানিল মেদভেদেভকে হারিয়ে চমকে দেন।
আলেকজান্ডার বুবলিক বনাম ইয়ানিক সিনার: হ্যালে ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে বুবলিকের কাছে সিনারের হার ছিল বছরের অন্যতম অপ্রত্যাশিত ফলাফল। এই পরাজয়ের মাধ্যমে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ২০-এর বাইরের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে সিনারের টানা ৬৬টি ম্যাচে জয়ের যে অজেয় যাত্রা) অজেয় যাত্রা শেষ হয়।
উইম্বলডন ২০২৫: উইম্বলডনের প্রথম রাউন্ডেই শীর্ষ ১০ বাছাইয়ের মধ্যে ৮ জনই বাদ পড়েন, যা ওপেন এরায় এক বিরল অঘটন।
ইতালির তুরিনে ২০২৫ এটিপি ফাইনালস চলাকালীন গ্যালারিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭০ এবং ৭৮ বছর বয়সী দুজন দর্শকের মৃত্যু হয়।
সব মিলিয়ে ২০২৫ টেনিস বিশ্ব দেখেছে ক্ষমতার পালাবদল। একদিকে যেমন বিগ থ্রি-র শেষ প্রতিনিধি জোকোভিচের বিদায়ি গোধূলির রক্তিম আভা, অন্যদিকে সিনার-আলকারাজের হাত ধরে টেনিসের এক নতুন ভোরের সূচনা। এই বছরটি কেবল রেকর্ডের নয়, বরং টেনিসের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে রূপান্তরের সাক্ষী হয়ে রইল।