
বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকোকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবেন বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভিক্টর ফন্ট। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সভাপতি হলে ডেকোর সঙ্গে কাজ করতে চান না, যদিও সিনিয়র দলের কোচ হিসেবে হান্সি ফ্লিককে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
মার্চে বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। বর্তমান সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা পুনরায় প্রার্থী হচ্ছেন। তাঁর পাশাপাশি ভিক্টর ফন্ট, মার্ক সিরিয়া, জাভিয়ের ভিলাজোয়ানা ও হোয়ান কামপ্রুবিও নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে লাপোর্তা ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন। সে সময় ফন্ট ও তোনি ফ্রেইহাকে হারান তিনি।
লাপোর্তা সম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম আরএসি১কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবারও নির্বাচনে লড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ক্লাব পুনরুদ্ধারের একটি বছর পার করেছে এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার যোগ্য। খেলোয়াড় নিবন্ধনসহ নানা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনে জিতলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ফন্ট। বলেন, ‘আমার কোচ হবেন হান্সি ফ্লিক, কিন্তু ডেকো আমার স্পোর্টিং ডিরেক্টর থাকবেন না। আমরা এমন একটি কাঠামো চাই, যা ফ্লিকের কাজের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মানানসই হবে। এমন কাউকে চাই না, যিনি আনুষ্ঠানিক পদে না থেকেও অতিরিক্ত প্রভাব রাখেন।’ ফন্টের অভিযোগ, ডেকো ও আলেহান্দ্রো এচেভারিয়া লাপোর্তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
ফন্ট লিওনেল মেসিকে নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনে জিতলে মেসির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করবেন। মেসির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলেও স্বীকার করেন ফন্ট, ‘আমি সদস্যদের বিভ্রান্ত করতে মেসিকে ব্যবহার করব না। লাপোর্তার অধীনে মেসির ফেরা সম্ভব নয় বলেই মনে হয়।’
ডেকো ২০২৩ সালে তিন বছরের চুক্তিতে বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেন। জাভিকে বিদায় করে হান্সি ফ্লিক কোচ হওয়ার পর থেকে ডেকোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন তিনি। এই সময়ে বার্সেলোনা দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ, লা লিগা ও কোপা দেল রে জিতেছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক ডেকোর প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা বলেন, ‘ডেকোর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। আমরা একে অপরের ওপর আস্থা রাখি। একই দর্শন ও একই ধরনের খেলোয়াড় নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
আগামী ১৫ মার্চ বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। সেদিনই লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার কথা বার্সেলোনার। এর তিন দিন পর চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগও রয়েছে। নির্বাচনের সময়সূচি নিয়েও লাপোর্তার সমালোচনা করেছেন ফন্ট। তাঁর মতে, ক্লাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
No posts available.
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২২ পিএম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১২ পিএম

ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে একটি বিবৃতি দেয় খেলোয়াড়রা। এরপর স্থগিত হয়ে যায় লা লিগার ম্যাচটি। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে রিয়াল অভিয়েদোর এই ম্যাচ আর মাঠে গড়ায়নি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, রায়ো ভায়েকানোর ফুটবলারদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসা সেবা এবং মৌলিক সরঞ্জামের অভাব ছিল। খেলোয়াড়রা দাবি করছেন, ‘তাদের স্বাস্থ্যের ও পারফরম্যান্সের সুরক্ষার জন্য অবিলম্বে কাঠামোগত পেশাদারীকরণ জরুরি।’
রায়ো ভায়েকানোর ফুটবলারদের অভিযোগ, গত এক মাসে, ভায়েকাস স্টেডিয়ামের লনের অবস্থা বাজে ছিল। মাঠের অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাওয়ায় স্পোর্টস সিটিতে অনুশীলন করতে হয়েছে তাদের। বিবৃতিতে তারা লিখেছে,
‘আমরা মনে করি, খেলার মাঠ সর্বোচ্চ স্তরের ম্যাচ খেলার জন্য ন্যূনতম শর্তও পূরণ করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন ব্যবহৃত সুবিধাসমূহের ঘাটতিও যোগ হয়েছে, যেমন—কদিন শাওয়ারে গরম পানি নেই, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যাপ্ত নয় এবং যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা প্রথম বিভাগের ক্লাবের পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে মিলছে না।’
ফুটবল স্পানা জানিয়েছে, এই বিবৃতি ভায়েকানো স্কোয়াডের পক্ষ থেকে, কোচিং স্টাফ এবং স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সমিতির (এইএফ) সমর্থনে স্বাক্ষরিত।
এই ম্যাচে ভায়েকানোর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল অভিয়েদোও দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। স্প্যানিশ ক্লাবটি লিখেছে,
‘আজ ভায়েকাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া রায়ো ভায়েকানো ও রিয়াল অভিয়েডো ম্যাচের আনুষ্ঠানিক স্থগিতের পর, রিয়াল অভিয়েডো নিম্নলিখিত তথ্য জানাচ্ছে: রায়ো ভায়েকানোর স্টাফ, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের প্রতি সংহতি এবং সহানুভূতি প্রকাশ করছে ক্লাব। যাদের অবস্থার তথ্য গতকাল স্প্যানিশ ফুটবল খেলোয়াড়দের সমিতির বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।’
একই সঙ্গে, রিয়াল অভিয়েদো স্বীকার করছে যে, কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের শারীরিক নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা পেশাদার ক্রীড়া ক্ষেত্রে যে কোনো পরিস্থিতিতে বজায় থাকা অপরিহার্য।
লা লিগায় অবনমন অঞ্চলে আছে রায়ো ভায়েকানো। ২২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে অবস্থান করছে ক্লাবটি।

সাফ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল লাল-সবুজের আলপি আক্তার। প্রতিযোগিতায় মোট ৭ গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলস্কোরার। সেই সঙ্গে বয়সভিত্তিক এই সাফের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রচারের আলোয় কেন নেই আলপি।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ভুটানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে চার তিন গোল করেছিলেন আলপি। পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতে বাংলাদেশ। সে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে আলপি গোল করেন। আর রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে হওয়া লিগ পর্বের শেষ খেলায় নেপালের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জেতে পিটার বাটলারের দল। ওই ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রতীমা মুন্ডার গোলের পরের তিনটি গোলই করেন পঞ্চগড়ের কিশোরী আলপি।
আজ ফাইনাল শেষ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সাফের সভাপতি কাজী সালাহ উদ্দিন। অনুষ্ঠান শেষে আলপির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আলপির প্রতিক্রিয়া না পাঠানোর দায় বর্তায় দলের সঙ্গে থাকা ডেপুটি মিডিয়া ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমির ওপর। আগের ম্যাচগুলোয় খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও ফাইনাল শেষে কোচ, অধিনায়ক, খেলোয়াড় কিংবা নেপালে থাকা নারী উইংয়ের প্রধানের প্রতিক্রিয়া নিতে পারেননি তিনি।
টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানো আলপির পারফরম্যান্স তাই থেকে গেলো অনেকটাই আড়ালে। তাঁর গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুট জেতার দুটি ছবি শেয়ার হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ফেসবুক পেজে। কিন্তু আগের ম্যাচগুলোয় সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পর তাদের প্রতিক্রিয়া (ভিডিও আকারে) দেওয়া হয়েছিল। ফাইনাল শেষে যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে ২০২৫-২৬ মৌসুমের নারী লিগের দুই রাউন্ড খেলা বাকি। রাজশাহী স্টার্সের হয়ে খেলছেন আলপি। সেখানে ৮ খেলায় সর্বোচ্চ ২৫ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সেই ধারাবাহিকতা তিনি বজায় রেখেছেন নেপালেও।

দল নিয়ে বেশ কদিনই ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন। টটেনহ্যামের বোর্ড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাগ-ঢাক না রেখেই মনের ঝাল মেটান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সেই রাগের বসেই কি না কে জানে, ক্যারেমিরোকে বাজেভাবেই ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। তাতে সরাসরি লাল কার্ড দিতে একটুও কাল-ক্ষেপণ করেননি রেফারি। সঙ্গে নিশ্চিত হলো রোমেরোর চার ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকা। আর রোমেরোর এমন দুঃস্বপ্নের ম্যাচে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁর দল টটেনহ্যামকে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আজ আরও একবার ‘রেড ডেভিলদের’ সুদিন ফেরানোর স্বপ্নের পালে জোর হাওয়া দিলেন মাইকেল ক্যারিক। ঘরের মাঠে তাঁর দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড টটেনহামকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। ব্রায়ান এমবুয়েমোর গোলের পর ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলটি করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
দেড় বছর ডাগ-আউটে থেকে যেটা করতে পারেননি রুবেন আমোরিম, সেটা মাত্র ২১ দিনেই করে দেখালেন ইউনাইটেডের কাণ্ডারি হয়ে হাজির হওয়ার ক্যারিক। তাঁর কোচিংয়ে লিগে টানা চার জয় পেয়েছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি। ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এর পর প্রথমবার লিগে টানা চার জয় দেখল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
পয়েন্ট টেবিলেও পড়েছে ম্যান ইউনাইটেডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ছাপ। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে তারা ব্যবধান কমিয়ে এনেছে ৯ পয়েন্টের। ২৫ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে ম্যান ইউনাইটেড।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের ২৯ মিনিট থেকে একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা পাওয়া ইউনাইটেড সব পরিসংখ্যানেই টটেনহ্যাম থেকে ঢের এগিয়ে ছিল। ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে ২৩টি শট নেয় ক্যারিকের দল, লক্ষ্যে রাখে দশটি। বিপরীতে সাতটি শট নেওয়া টটেনহাম মাত্র একটি গোলমুখে রেখেছে।
২৯ মিনিটে ভয়াবহ ভুল করে দলকে বিপদে ফেলেন টটেনহাম ডিফেন্ডার রোমেরো। ক্যাসেমিরোকে ভয়াবহ ট্যাকল করে বসেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ডেও নাম উঠে যায় তাঁর। রোমেরো এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে চারটি রেড কার্ড পেয়েছেন। টটেনহামের কোনো খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি যৌথ সর্বোচ্চ। ক্লাবটির ইতিহাসে রোমেরোর সমান লাল কার্ড দেখেছেন শুধু ইউনেস কাবুল।
৯ মিনিট পরই ১০ জনের টটেনহামের জালে বল পাঠিয়ে ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেন এমবুয়েমো। ব্রুনো ফার্নান্দেসের নেওয়া কর্নার রিসিভ করেন কোবি মাইনুর। ইংলিশ মিডফিল্ডার বল বাড়িয়ে দেন এমবুয়েমোর দিকে। তারপর ১৫ গজের দূর থেকে ক্যামেরুন ফরোয়ার্ড সাইড-ফুটেড ফিনিশে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালের ডান দিকের নিচের কোণে পাঠান।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের পসরা সাজানো ইউনাইটেড ৮১ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করে। দিয়োগো দালোতের ক্রস থেকে বল জালে পাঠান ব্রুনো ফার্নান্দেস। লিগে চলতি মৌসুম সাত গোলের সঙ্গে ১৩ অ্যাসিস্ট হলো পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের।
উড়তে থাকা ম্যান ইউনাইটেডের পরের ম্যাচ ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে। লিগে মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের মাঠে নামবে ‘রেড ডেভিলরা’।

শেষ পর্যন্ত রইল না আর কেউ। রিয়াল মাদ্রিদ হয়ে গেল একেবারেই নিঃসঙ্গ। আনুষ্ঠানিকভাবে বার্সেলোনা ঘোষণা করেছে সুপার লিগ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে তারা।
২০২১ সালের এপ্রিলে ফুটবলবিশ্বে বোমা ফাটায় ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। তোলপাড় সৃষ্টি করে ইউরোপের কুলীন ১২টি ক্লাব মিলে বিতর্কিত ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সঙ্গে সঙ্গেই উয়েফা, ফিফা–সংশ্লিষ্ট সবাই এর নাম দিয়ে দেয় বিদ্রোহী লিগ। উয়েফা, ফিফা ও ক্লাব সমর্থকদের বিরোধিতার মুখে সেই পরিকল্পনা থেকে ৯টি ক্লাব সরে যায়। কিন্তু এই লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা করা মূল হোতা রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস ঠিকই এগিয়ে চলছিল। শেষ পর্যন্ত বাকি দুই সঙ্গীকেও হারাল ফ্লোরেন্তিনো প্যারেজ।
বার্সেলোনা তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লিখেছে, তারা আর সুপার লিগ নামক প্রতিযোগিতার অংশ হবে না। সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তাদের এই সিদ্ধান্তের অন্যান্য কারণ উল্লেখ করা হয়নি। কাতালান ক্লাবটি লিখেছে,
‘বার্সেলোনা ইউরোপীয় ফুটবলের শান্তির পক্ষে। আমরা চাই সব ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা হোক এবং আমরা ইউয়েফার কাছে ফিরে যাব। এটিই সব ক্লাবের ইচ্ছা। আমরা এখানে এসেছি ভালো সঙ্গতি তৈরি করতে এবং এই সমঝোতায় পৌঁছাতে।’
প্রথমে বলা হয়েছিল, বার্সেলোনা সুপার লিগের পক্ষে ছিল কারণ এটি ক্লাবটির অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে। তবে সম্প্রতি বার্সার সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা স্বীকার করেছেন যে, প্রকল্পের প্রতি সমর্থন ধসে যাওয়ার পর ক্লাব এখন ইউয়েফার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করবে।
FC Barcelona official statement
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-কে লাপোর্তা বলেছিলেন,
‘ইউয়েফার সভাপতি ও ইসি'এর (এখন ইএফসি) সভাপতি আমাদের রোমে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি কয়েকটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছি। এটি অসাধারণ ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, এবং আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা সুপার লিগ এবং ইউয়েফার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বার্সার অবস্থান স্পষ্ট, যারা প্রভাবিত এবং দায়ী তারা ইতোমধ্যেই জানে। আমরা শান্তির পক্ষে আছি, কারণ ক্লাবগুলোকে সুপার লিগ থেকে ইউয়েফাতে ফেরানোর সম্ভাবনা একসঙ্গে খতিয়ে দেখা সম্ভব।’
বার্সার এমন সিদ্ধান্ত রিয়ালের সঙ্গে তাদের দূরত্ব বাড়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপই বলা যায়। বার্সেলোনার ক্ষেত্রে ইউয়েফার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শক্ত করার উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদ নেগ্রেইরা মামলায় বার্সেলোনার শাস্তির পক্ষে আরও স্পষ্টভাবে মুখ খুলেছে, যেখানে কাতালান ক্লাবকে খেলাধুলার দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে লাপোর্তা দাবি করেন, নেগ্রেইরা মামলায় রিয়াল মাদ্রিদ শুধু বার্সেলোনার দিকে আঙুল তুলছে, কারণ তারা সুপার লিগে তাদের অবস্থানের কারণে। তাতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে।

ম্যাচ জিতলে কথার ফুলঝুড়ি ছোটে পিটার বাটলারের মুখে। কিন্তু হারলে যেন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। নেপালে আজ সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৪-০ গোলে বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ফাইনাল শেষে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বাংলাদেশ কোচের পক্ষ থেকে।
টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে তিন ম্যাচে শতভাগ জয় ছিল বাংলাদেশের। প্রতি ম্যাচ শেষেই কারও না কারও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুই একবার ছিলেন বাটলারও। কিন্তু ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পর মিডিয়ার জন্য কোনো বার্তা পাঠাননি তিনি। কোচের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার কাজটি করে থাকেন দলের সঙ্গে থাকা মিডিয়া অফিসার। কিন্তু নেপালে দলের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মিডিয়া এক্সিকিউটিভ থেকে কদিন আগে ডেপুটি ম্যানেজার পদন্নতি পাওয়া খালিদ মাহমুদ নওমি ব্যর্থ অনেক সময় কোচের প্রতিক্রিয়া নিতে। দল বিদেশে থাকলে তাঁঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেও বেশিরভাগ সময় কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। এছাড়া আজ ফাইনাল ম্যাচের ছবি পাঠাতেও দেরি করেছেন তিনি। এর আগের জেতা ম্যাচগুলোয় প্রথমার্ধের বিরতির সময়েই ছবি পাওয়া গিয়েছিল।
এছাড়া এবারের টুর্নামেন্টে মেয়েদের সঙ্গে আছেন বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরন। ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন এবং লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে নামার আগেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছিল বাফুফের মিডিয়া। কিন্তু আজ ভারতের সঙ্গে হারের পর সেই মাহফুজা কিরনেরও বক্তব্য পাওয়া গেল না। লিগ পর্বে ফাইনাল নিশ্চিতের পর তিনি নেপালে থেকে দলকে অনুপ্রাণিত করছেন বলে জানিয়েছিলেন।
যেই দলের বিপক্ষে লিগ পর্বে ২-০ গোলে জেতে বাংলাদেশ, সেই দলের বিপক্ষে এত বড় পরাজয় কি করে হয়। প্রশ্নটা ফুটবল সমর্থকদের।ফাইনালে বাংলাদেশ আজ ভারতের কাছে হেরেছে রক্ষণের ভুলে। অনেকে মনে করেন ভারতীয় কোচের কৌশলের কাছেই আজ পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ কোচ।