২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

১৬ বছর বয়সী অজয় তাভারেসকে ঘিরে আগ্রহ ছিল ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাবের। গত কয়েকমাস ধরেই চলছিল আলোচনা। অবশেষে নরউইচ সিটির একাডেমির প্রতিভাবান এই তরুণকে দলে ভিড়িয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা।
দুই বছরের চুক্তিতে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত কাতালান ক্লাবটির যুব দলে (লা মাসিয়া) থাকবেন তাভারেস। চুক্তির আর্থিক দিক প্রকাশ করা হয়নি, তবে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবে নরউইচ সিটি।
তাভারেসের জন্ম মূলত ইংল্যান্ডে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছরের আগে ব্রিটিশ খেলোয়াড়দের ইউরোপের অন্য ক্লাবে যোগ দেওয়া নিষিদ্ধ। তবে তাভারেসের পর্তুগিজ পাসপোর্ট এবং ইউরোপীয় বংশসূত্রের কারণে ১৬ বছর বয়সেই এই দলবদলের সুযোগ পেয়েছেন।
তাভারেস অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায়ে নরউইচে যোগ দেন। গত গ্রীষ্মে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ডাচ ক্লাব ভোলেনদামের বিপক্ষে প্রাক-মৌসুম ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তবে এখনো সিনিয়র পর্যায়ে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি।
সবশেষ ৩১ জানুয়ারি নরউইচের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে চেলসির বিপক্ষে খেলেছেন তাভারেস। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৫, ১৬ ও ১৭ দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
No posts available.
১৬ মে ২০২৬, ১০:২০ পিএম

গত দুই আসরের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে হেরে খালি হাতে ফেরার সেই দগদগে ক্ষতে প্রলেপ দিল ম্যানচেস্টার সিটি। ওয়েম্বলির চেনা আঙিনায় পেপ গার্দিওলা যে কোনো নবাগত নন, তা আরও একবার প্রমাণ করল ম্যানচেস্টার সিটি।
এফ এ কাপের ফাইনালে আজ ওয়েম্বলির চেনা মঞ্চে চেলসিকে ১-০ গোলে স্তব্ধ করে রাজত্ব ফিরে পেল ম্যানচেস্টার সিটি। সিটিজেনদের জয়ের নায়ক আন্তনি সেমেনিও। দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেন ঘানার এই উইঙ্গার।
টানা চতুর্থবারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে খেলা সিটি এ নিয়ে আটবার এফএ কাপ জিতল। মৌসুমে কারাবাও কাপ জয়ের পর ‘ডাবল’ নিশ্চিত হলো ইতিহাদের ক্লাবটির। বিপরীতে ক্লাব ইতিহাসে এবার নিয়ে ১৭ বারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে ওঠা চেলসি সবশেষ সাত আসরে চারবারই রানার্স-আপ হওয়ার ক্ষত নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। মোট ১৭ বারের ফাইনালে আটবার জিতেছে ব্লুজরা, আর রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাকি নয়বার।
ফাইনালে বল দখল কিংবা লক্ষ্যে শট রাখ—চেলসির চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল ম্যান সিটি। ৫৬ শতাংশ বল পজিশনে রেখে মোট ৯টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখে গার্দিওলার শিষ্যরা। যেখানে ৬টি শট নিয়ে মাত্র একটি গোলমুখে রাখতে পেরেছে চেলসি।
প্রথমার্ধে কোনো দলই বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে গোল হজম করতে চায়নি।ম্যাচের শুরু থেকেই পেপ গার্দিওলার দল স্বভাবসুলভভাবে বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলার ছন্দ খোঁজার চেষ্টা করে। মাঠের সব পজিশনেই সিটিজেনরা আধিপত্য দেখালেও চেলসির ডি-বক্সের ভেতর গিয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলছিল তাদের আক্রমণগুলো। ওয়ান-টু-ওয়ানের পাসে ওমর মারমুশ ও সেমেনিয়ো গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। এর মাঝেই চেলসির জালে বল জড়িয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন আর্লিং হালান্ড, কিন্তু আক্রমণের শুরুতে অফসাইড থাকায় রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই সেই গোল বাতিল করে দেন।
বিপরীতে চেলসি কোচ অ্যালেন ম্যাকফার্লেনের কৌশল ছিল স্পষ্ট—শুরুতে সিটির চড়াও হওয়া আক্রমণগু সামলে নিয়ে প্রতি-আক্রমণে ওঠা। তবে রক্ষণ থেকে দ্রুত গতিতে ওপরে উঠে আসার ক্ষেত্রে চেলসিকে পুরোপুরি বোতলবন্দী করে রাখেন সিটির দুই ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ ও মার্ক গুয়েহি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে ব্লুজরা কিছুটা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও আক্রমণগুলো মূলত ক্রসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও একই ধারায় এগোচ্ছিল। তবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে, সেমেনিয়োর সেই জাদুকরী ব্যাকহিল ফিনিশ পুরো গ্যালারিকে স্তব্ধ করে সিটিকে এগিয়ে নেয়। গোল হজম করার পর অবশ্য সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল চেলসি; কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর ভারসাম্য হারিয়ে নেওয়া এনজো ফার্নান্দেজের ভলি জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।

অবশেষে চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ২৭ দিন আগে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। তবে ফিফা শুরুতে যে দাম চেয়েছিল, তার চেয়ে অনেক কম মূল্যে চুক্তিটি করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ হওয়া এই সামগ্রিক চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল পর্যন্ত আগামী চারটি বিশ্বকাপ—পুরুষ ও নারীদের দুটি করে—অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের ১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপও।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ কোটি ডলার (প্রায় ৭৩২ কোটি টাকা)। তবে চুক্তি করার সময়সীমা যতই ঘনিয়ে আসছিল, ফিফা শুরুতে এই স্বত্বের জন্য ৩০ কোটি ডলার দাবি করেছিল বলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খবর প্রকাশ করেছিল চীনা সংবাদমাধ্যমগুলো। অর্থাৎ, নিজেদের চাহিদার চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ কম মূল্যে স্বত্ব বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে ফিফা।
এদিকে, ভারতের বাজারে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ফিফা। চীনের সঙ্গে এই সমঝোতা নিয়ে ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিএমজির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’ গ্রাফস্ট্রোম চলতি সপ্তাহেই চীন সফরে ছিলেন, যেখানে চীনা ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরের সঙ্গে বেইজিংয়ের সময়ের ব্যবধান প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত। মূলত এই বিশাল সময়ের পার্থক্যের কারণেই (ম্যাচগুলো চীনের মধ্যরাতে বা ভোরে সম্প্রচারিত হবে বলে) বেইজিংয়ের ওপর ফিফার দর-কষাকষির চাপ বা নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কম ছিল। তবে তা সত্ত্বেও ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর।

বিশ্বকাপের মঞ্চ কখনোই কোনো চেনা ব্যাকরণ বা সমীকরণ মেনে চলে না। তীব্র গরম, আর্দ্রতা, পেনাল্টি ভাগ্য, বলের অবাধ্য বাউন্স কিংবা আকস্মিক কোনো ঝড়ে পাল্টে যেতে পারে পুরো দৃশ্যপট। পর্তুগালের অভিজ্ঞ কোচ রবার্তো মার্তিনেসের সেটা ভালো করেই জানা। বিশেষ করে এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে দলগুলোকে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে হলে শুধু প্রতিভার জোর থাকলেই চলবে না, পর্তুগাল কোচের চোখে বিশ্বকাপ জিততে প্রয়োজন বিশেষ কিছু গুণ।
বিশ্বকাপের আগে লিসবনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পর্তুগালের কোচ মার্তিনেস বলেন, চিরসবুজ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগাল এখন দারুণ ছন্দে থাকলেও, মূল টুর্নামেন্ট শুরু হলে এই ছন্দের মূল্য থাকবে খুবই কম। বিশেষ করে তিনটি দেশ জুড়ে আয়োজিত এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপটি সবার জন্যই এক ‘অজানা জগতে’ পা রাখার মতো।
মার্তিনেস বলেন,
‘আমরা মূলত এক অজানা পরিস্থিতিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। ৪৮টি দল থাকার মানে হলো টুর্নামেন্টটি আরও দীর্ঘ হবে। এর জন্য দলের মধ্যে অবিশ্বাস্য রকমের মানসিক শক্তি ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। আপনি কখনোই ম্যাচের কোনো জাদুকরী মুহূর্তের জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারবেন না; আপনার কাজ হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে পারফর্ম করার জন্য দলকে প্রস্তুত রাখা।’
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির একটি বিখ্যাত দর্শন আছে—
‘বিশ্বকাপে সাধারণত টুর্নামেন্টের সেরা দল নয়, বরং সবচেয়ে লড়াকু ও মানসিক শক্তিসম্পন্ন দলটাই জেতে’
—এই বিষয়ে মার্তিনেসের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি আনচেলত্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করেন।
মার্তিনেস বলেন,
‘ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে একটা পেনাল্টি শুটআউট, ফাইনাল থার্ডে নেওয়া একটা সঠিক সিদ্ধান্ত, কিংবা ভাগ্যের সামান্য ছোঁয়া—যেখানে বল পোস্টে লেগে ভেতরেও ঢুকতে পারে, আবার পোস্টে লেগে বাইরেও চলে যেতে পারে।’
পর্তুগালের কোচ আরও যোগ করেন,
‘বিশ্বকাপে সফল হতে হলে কখনো কখনো আপনার এমন কিছু গুণের প্রয়োজন হবে, যার সাথে প্রতিভার কোনো সম্পর্ক নেই। সেটা হলো দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধ, কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর মানসিক শক্তি এবং প্রতিকূলতার মধ্যে বুক চিতিয়ে টিকে থাকার লড়াই।’
মার্তিনেসের মতে, পর্তুগাল দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। তবে এবারের বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে তাদের ফুটবলীয় টেকনিকের পাশাপাশি পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতারও বড় পরীক্ষা নেবে। স্প্যানিশ এই কোচ সতর্ক করে দিয়ে বলেন,
‘এখানে জয়ের ব্যবধান বা মার্জিন খুবই সামান্য। আর যখন টুর্নামেন্টটি ৪৮টি দল নিয়ে তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন এই ভুল করার সুযোগ আরও অনেক কমে আসবে।’
বাছাইপর্বের সব ম্যাচে জয় এবং নেশনস লিগের শিরোপা জিতে রোনালদোর পর্তুগাল এবার পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে। তবে মাঠের এই সাম্প্রতিক ছন্দ দেখে দলে যেন কোনো ধরনের আত্মতুষ্টি বা অতি-অহংকার চলে না আসে, সেই ব্যাপারে আগেভাগেই সতর্ক করে দিয়েছেন মার্তিনেস,
‘এতদিন পর্যন্ত আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা আমাদের কেবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ নিশ্চিত করবে। এর বাইরে এটি আপনাকে বাড়তি কোনো সুবিধাই দেবে না। বিশ্বকাপে পা রাখার পর গ্রুপ পর্বে আপনি তিনটি ম্যাচ পাবেন, আর সেখান থেকেই মূলত নতুন করে সবকিছু শুরু হবে।’
বিশ্বকাপে পর্তুগালের অভিযান শুরু হবে ১৭ জুন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ‘কে’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। .বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে দুই স্বাগতিক মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নিজেদের ঝালিয়ে নেবে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো-বের্নার্দো সিলভাদের পর্তুগাল।

মৌসুম শেষেই বার্সেলোনা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন রবার্ট লেভানডফস্কি। চুক্তি শেষ হওয়ায় কাতালান ক্লাবটিকে বিদায় জানাচ্ছেন ৩৭ বছর বয়সী এই পোলিশ ফরোয়ার্ড। ন্যূ ক্যাম্পের ক্লাবটির ইতিহাসে নিজের নামটা তিনি লিখিয়ে যাচ্ছেন একজন ‘কিংবদন্তি’ হিসেবেই।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে লেভানডফস্কি লেখেন,
‘চ্যালেঞ্জ আর কঠোর পরিশ্রমে ঘেরা চমৎকার চারটি বছর কাটিয়ে এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমার মনে হচ্ছে, ন্যু ক্যাম্পে আমার মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চার মৌসুমে তিনটি লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি।’
২০২২ সালে বায়ার্ন মিউনিখ থেকে বার্সার কঠিন এক সময়ে ক্লাবটিতে যোগ দেন লেভানডফস্কি। এরপর স্প্যানিশ ক্লাবের হয়ে ১৯১ ম্যাচে ১১৯টি গোল করেছেন তিনি। এই সময়ে বার্সাকে তিনটি লা লিগা এবং ২০২৫ সালের কোপা দেল রে জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন লেভা।
গত এক বছর বেশ কয়েকবার চোটের ধাক্কা খেতে হয়েছে এই লেভানডফস্কিকে। পোলিশ তারকা চোটের কারণে চলতি লা লিগায় মাত্র ১৫টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন। গত সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ‘এল ক্লাসিকো’ জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমেছিলেন , যে জয়ে বার্সার লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়। তবে এর আগে ওসাসুনার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে তাঁর করা গোলটিই বার্সাকে শিরোপার একদম কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।
বিদায়ী বার্তায় কাতালান ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেভা আরও যোগ করেন,
‘বার্সা আজ তার নিজের জায়গায় (শীর্ষে) ফিরে এসেছে। প্রথম দিন থেকে ক্লাবের সমর্থকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা কখনোই ভুলব না। কাতালুনিয়া সবসময়ই আমার হৃদয়ে বিশেষ স্থান জুড়ে থাকবে।’
লেভানডফস্কির বিদায়ের পর বার্সেলোনা ক্লাব কর্তৃপক্ষও তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে এই স্ট্রাইকারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছে,
‘ধন্যবাদ রবার্ট লেভানডফস্কি, এই ক্লাবের জার্সিতে প্রতিটি গোল, প্রতিটি লড়াই এবং প্রতিটি জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য। সে এখানে এসেছিল একজন তারকা হিসেবে, আর ক্লাব ছাড়ছে একজন জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে।’
আগামী রবিবার স্পটিফাই ন্যু ক্যাম্পে রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে বার্সেলোনার মাঠে লেভানডফস্কির শেষ ম্যাচ। এরপরের শনিবার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বার্সা তাদের এই মৌসুমের অভিযান শেষ করবে।
লেভানডফস্কির পরবর্তী ঠিকানা হতে পারে মার্কিন মুলুক। গত বছরের ডিসেম্বরে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব শিকাগো ফায়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পোলিশ এই গোলমেশিনকে লিগে আনার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ক্লাবটি।

রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান প্রধান কোচ আলভারো আরবেলোয়া জানিয়েছেন যে হোসে মরিনিয়ো যদি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং আগামী মৌসুমে ক্লাবের দায়িত্ব নেন, তবে তিনি খুশিই হবেন।
বার্নাব্যুতে নিজের প্রথম মেয়াদের ১৩ বছর পর ক্লাবের নতুন বস হওয়ার জন্য মরিনিয়ো এখন চূড়ান্ত আলোচনায় রয়েছেন। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ গত সেপ্টেম্বরে দুই বছরের চুক্তিতে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার দায়িত্ব নেন। এদিকে রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাঁকে পেতে আগ্রহী।
রোববার সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আরবেলোয়া বলেন,
‘একজন সাবেক মাদ্রিদ খেলোয়াড় এবং একজন মাদ্রিদিস্তা হিসেবে আমার কাছে হোসে মরিনিয়োই এক নম্বর। তিনি আমাদেরই একজন। তিনি যদি আগামী বছর ফিরে আসেন, তবে তাঁকে নিজের ঘরে ফিরে আসতে দেখে আমি খুব খুশি হব।’
জাভি আলোনসোর বিদায়ের পর গত জানুয়ারিতে রিয়ালের দায়িত্ব নেন আরবেলোয়া। কিন্তু ক্লাবটি এ সময় টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো কোনো বড় ট্রফি ছাড়াই শেষ করেছে।
এদিকে রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে লস ব্লাঙ্কোসদের ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়ার পর কিলিয়ান এমবাপের কাছ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন আরবেলোয়া।
উরুর চোটের কারণে এমবাপে তাঁর দলের আগের দুটি ম্যাচ মিস করেছিলেন। যার মধ্যে গত সপ্তাহের এল ক্লাসিকোও ছিল। সেই ম্যাচটি জিতে বার্সেলোনা লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে। ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচে যখন ফরাসি স্ট্রাইকার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, তখন নিজের সমর্থকরাই তাঁকে উদ্দেশ্য করে দুয়ো ধ্বনি দেয়।
বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্লাবের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, এমনকি ‘এমবাপে আউট’ দাবির একটি অনলাইন পিটিশনে কোটি কোটি মানুষ স্বাক্ষর করেছে।
তবে শনিবার কোচ এই ঘটনাটিকে তেমন আমলে নেননি। আরবেলোয়া বলেন তাঁর সঙ্গে এমবাপের সম্পর্কও আগের মতোই আছে,
‘মাত্রই তাঁর (এমবাপে) সঙ্গে আমার দেখা হলো, আমি তাঁকে শান্ত থাকতে বলেছি। আমি বুঝি যে এই ধরনের বিষয়গুলো হেডলাইন তৈরি করে, তবে এটি আপনার ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি স্বাভাবিক একটি ঘটনা। আমি নিজে একজন খেলোয়াড় ছিলাম। আমি জানি এই পরিস্থিতিতে তারা কেমন অনুভব করতে পারে। আমি বুঝতে পারছি যে বৃহস্পতিবার খেলতে না পেরে কিলিয়ান খুশি ছিল না, এবং আমি এটাই পছন্দ করি। সে যদি খেলতেই না চাইত, তবে আমি সেটা বুঝতাম না। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আগের মতোই আছে।’