৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম

১৫ ট্রফির বিপরীতে মাত্র তিনটি জয়ে সুপারকোপার শিরোপা রেসে বার্সেলোনার অনেক পিছিয়ে আথলেটিক ক্লাব। কেবল নাম-খ্যাতি আর ফল দেখেই ভবিষ্যদ্বাণী ভেবে নেওয়া যায় না। কারণ, ফুটবলে যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে সুপার কপার সেমিফাইনাল। স্পেনের দুই জায়ান্ট—বার্সেলোনা ও আথলেটিক ক্লাব ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে একে অন্যের মুখোমুখি হবে। দুই দলের লক্ষ্য একটাই—জয়। যদিও ম্যাচের আগে মুর্হুতে যেন আত্মসমর্পণ করে বসলেন আথলেটিক ক্লাবের কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে।
বার্সেলোনা ২০২৪-২৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া সব প্রতিযোগিতায় চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে তারা সুপার কপায় সুযোগ পায়। এছাড়া গত মৌসুমে তারা কোপা দেল রে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে।
আথলেটিক ২০২৪-২৫ মৌসুমে কোপা দেল রে বিজয়ী। তারা ফাইনালে রিয়াল মায়ার্কোকে পেনাল্টিতে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল। দলের শেষবারের সুপার কাপ জিতেছিল ২০২০-২১ মৌসুমে।
বর্তমান ফর্মের দিক থেকে বার্সেলোনা এগিয়ে। হ্যান্সি ফ্লিকের দলের লা লিগায় ১৯ ম্যাচে ১৬ জয় । সর্বশেষ ৯ ম্যাচে তারা অপরাজেয়। লিগে আথলেটিকের সঙ্গে একবার মুখোমুখি হয়েছিল তারা; সেই ম্যাচে বার্সেলোনা ৪-০ গোলে জয়ী।
লিগে আথলেটিকের পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ৭টি জয় ও ৯টি হার নিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তারা তিনটিতে হেরেছে।
সুপার কোপার আগে বার্সেলোনার কোচ হাফ্লি জানিয়েছেন, স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতলে তাদের দলের জন্য মৌসুমের অন্য লক্ষ্যগুলো পূরণ করা সহজ হবে। বার্সা গত মৌসুমে ট্রেবলের প্রথম ধাপে সুপারকোপা জিতেছিল। এটি ছিল ফ্লিকের কোচিং সময়ে প্রথম শিরোপা, যা পরে লা লিগা ও কোপা দেল রে–এর জয় অনুসরণ করেছিল।
ফ্লিক বলেন,
‘এই টুর্নামেন্ট জার্মানির সমতুল্য প্রতিযোগিতার মতো নয়, তবে আমি এটা পছন্দ করি। গত মৌসুমে সুপার কাপ জেতা আমাদের পুরো মৌসুমের জন্য অনেক শক্তি দিয়েছে, আর এই বছরও আমরা সেটা চাই।”
অ্যাথলেটিক কোচ ভালভার্দে জানিয়েছেন, বার্সার চেয়ে তার দল রেসে পিছিয়ে। তবে ক্লাব ন্যুর দলকে হারানোর জন্য তারা সব চেষ্টা করবে।
ভালভার্দে বলেন,
“বার্সেলোনা দারুণ দল, কিন্তু আমরা প্রতিযোগিতা করতে পারি। জেতার চেষ্টা করে আমরা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাই।”
No posts available.
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১:১১ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা লড়াই এখন শেষ লগ্নে। পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল কিংবা আতলেতিকো মাদ্রিদ—সবার চোখ এখন স্বপ্নের ফাইনালের দিকে। শেষ চারের এই স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে যখন নতুন কোনো নায়ক হওয়ার অপেক্ষা, তখন ইতিহাসের পাতা ওল্টালে একটি নামই সবার ওপরে ভাস্বর হয়ে ওঠে—ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চে গোল করাকে যিনি এক সময় ডালভাত বানিয়ে ছেড়েছিলেন।
১৯৯২ সালে নতুন নামকরণের পর থেকে এই প্রতিযোগিতায় শেষ চারের লড়াইয়ে গোলের যে রেকর্ড রোনালদো গড়েছেন, তা যেন হিমালয়ের চূড়া। চলুন দেখে নেওয়া যাক চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলারদের তালিকা।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো: ১৩ গোল
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি পাঁচবারের শিরোপাজয়ী এই পর্তুগিজ মহাতারকা সেমিফাইনালেও তাঁর একক আধিপত্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি সেমিফাইনালে গোলের সংখ্যার দিক থেকে দুই অঙ্কের ঘর ছুঁয়েছেন। ২০০৭ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে এসি মিলানের বিপক্ষে প্রথম সেমিফাইনাল গোল করেন রোনালদো। আর ২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের ১৩তম গোলটি আদায় করে নেন।
করিম বেনজেমা: ৮ গোল
রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘ সময় রোনালদোর সহযোগী হিসেবে খেললেও ফরাসি স্ট্রাইকার বেনজেমা নিজেও এই মঞ্চে অনন্য। রিয়ালের হয়ে সেমিফাইনাল পর্বে তিনি করেছেন ৮টি গোল। ২০১৩ সালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে প্রথম গোলের স্বাদ পান তিনি। তবে ২০২১-২২ মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৩ গোল করে দলকে একাই ফাইনালে তুলেছিলেন।
৩. রবার্তো লেভানডফস্কি: ৭ গোল
পোলিশ গোলমেশিন লেভানডফস্কি চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের মঞ্চে নিজের আবির্ভাব ঘটিয়েছিলেন রাজকীয়ভাবে। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে একাই ৪ গোল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বায়ার্ন মিউনিখের হয়েও আরও ৩টি গোল যোগ করেন তিনি।
লিওনেল মেসি: ৬ গোল
বিস্ময়কর মনে হলেও সত্যি, নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে জালের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন জাদুকর। খরা কাটে ২০১১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জোড়া গোল করে। পরবর্তীতে বায়ার্ন মিউনিখ এবং লিভারপুলের বিপক্ষেও সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জোড়া গোল করার কীর্তি আছে তার। বড় মঞ্চের এই ফুটবলারের নামের পাশে রয়েছে ৬টি সেমিফাইনাল গোল।
আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো ও জারি লিটম্যানেন: ৫ গোল
জুভেন্টাসের কিংবদন্তি দেল পিয়েরো ১৯৯০-এর দশকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল রাঙিয়েছিলেন ৫ গোল করে। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালে মোনাকোর বিপক্ষে তাঁর হ্যাটট্রিকটি এখনো ফুটবল ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। সমসংখ্যক গোল করে তালিকায় সমান অবস্থানে আছেন আয়াক্সের প্রাক্তন তারকা জারি লিটম্যানেন।
৪ গোল করা একঝাঁক তারকা
তালিকায় এরপরই রয়েছেন চারজন ফুটবলার, যাঁরা প্রত্যেকেই সেমিফাইনালের মঞ্চে ৪টি করে গোল করেছেন। সাদিও মানে—লিভারপুলের হয়ে রোমা এবং ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলো করেছিলেন এই সেনেগালিজ তারকা।
টমাস মুলার, বায়ার্ন মিউনিখের এই জার্মান তারকার ৪টি সেমিফাইনাল গোলই এসেছে বার্সেলোনার বিপক্ষে। আরিয়েন রোবেন, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০১৩ সালের ট্রেবল জয়ে তার অবদান ছিল অবিস্মরণীয়।
জিনেদিন জিদান, জুভেন্টাসের হয়ে ১৯৯৭ সালে এবং পরবর্তী সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঝমাঠের এই জাদুকর করেছেন ৪টি গোল।

জাদুকরী এক মুহূর্তের জন্ম দিয়েই দলের নায়ক বনে যাওয়ার ক্ষমতা তো আর সবার থাকে না। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার জাদুকরী মন্ত্রটা কেবল গুটিকয়েক বিশেষ প্রতিভারই জানা থাকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় মঞ্চে যখন ছক আর পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে, তখনই প্রয়োজন হয় এমন একজনের—যিনি এক নিমেষে পাল্টে দেবেন সব হিসাব-নিকাশ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের মহারণে আজ পিএসজির মুখোমুখি হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ। বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ঘরের মাঠে নামবে বাভারিয়ানরা। আর পরদিন শেষ চারের আরেক লড়াইয়ে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদ। নিজ নিজ দলের সাফল্যের জন্য কোন খেলোয়াড়রা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন?
১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ)
তালিকার শীর্ষস্থানটি হ্যারি কেইনেরই প্রাপ্য। গোলই ম্যাচ জেতায়, আর ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চলতি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে করেছেন ৫৩টি গোল। ইউরোপের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বিধ্বংসী এই ফরোয়ার্ড চ্যাম্পিয়নস লিগের গত চারটি নকআউট ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছেন। ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে এক মৌসুমে কোনো ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এখন কেইনের দখলে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তিনি করেছেন ১২টি গোল।
আরও পড়ুন
| রিয়ালে প্রথম ১০০ ম্যাচে কে এগিয়ে—এমবাপে নাকি রোনালদো? |
|
কেইনের সামনে এখন প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার হাতছানি, পাশাপাশি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় (ব্যালন ডি'অর) হওয়ার সুযোগও রয়েছে। ৩২ বছর বয়সী কেইন ভালো করেই জানেন জানেন ব্যক্তিগত এই অর্জন সাধারণত দলের সাফল্যের হাত ধরেই আসে। বায়ার্নের জন্য কেইনের জ্বলে ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কার শোকেসে যাবে, তা নির্ধারণে এই তারকাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
২. ভিতিনিয়া (প্যারিস সেন্ট জার্মেই)
অনেকের মতেই এই মুহূর্তে ইউরোপের সেরা মিডফিল্ডার ভিতিনিয়াই। ইংলিশ ক্লাব উলভারহ্যাম্পটন থেকে পিএসজিতে যোগ দেওয়া পর্তুগালের এই ছোটখাটো গড়নের মিডফিল্ডারই লুইস এনরিকের পিএসজি-কে ছন্দে রাখেন। নিখুঁত পাস, গোলের সুযোগ তৈরি থেকে শুরু করে মাঝমাঠের একজন সৈনিক হিসেবে সবকিছুই অবলীলায় করে যাচ্ছেন ভিতিনিয়া।
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সফল পাসের দিক থেকে সবার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ভিতিনিয়া। এমনকি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে (ফাইনাল থার্ড) বল পাঠানো বা ফরোয়ার্ড পাসের ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য। ২০০৩-০৪ সাল থেকে 'অপটা'র (Opta) রেকর্ড রাখা শুরু করার পর চ্যাম্পিয়নস লিগের যেকোনো একটি সংস্করণে তাঁর দেওয়া ১,৩৭০টি পাস সর্বোচ্চ। ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এই মৌসুমে আটটি আলাদা ম্যাচে ১০০ বা তার বেশি সফল পাস দিয়েছেন—তার ওপরে আছেন কেবল একজনই, ২০১০-১১ মৌসুমে পেপ গার্দিওলার সেই তুঙ্গে থাকা বার্সেলোনা দলের কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেস। পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ভিতিনিয়া হতে পারেন লুইস এনরিকের তুরুপের তাস।
৩. হুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ)
সেমিফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে হলে হুলিয়ান আলভারেজের রুদ্ররূপ দেখার বিকল্প নেই। মাঠের লড়াইয়ে আলভারেজ জ্বলে উঠলেই কেবল পাল্টে যেতে পারে আতলেতিকোর ভাগ্য। গোলপোস্টের সামনে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের নিখুঁত ফিনিশিংই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
আলভারেজ এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯টি গোল করেছেন, যা আতলেতিকোর ইতিহাসে যেকোনো খেলোয়াড়ের এক আসরে করা সর্বোচ্চ গোল। শুধু গোল করাই নয়, প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে রক্ষণভাগ সামলানোতেও তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্ক। এই মৌসুমে ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ৮৫৩ বার হাই-ইনটেনসিটি প্রেস করেছেন, যা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি, গড়ে প্রতি ম্যাচে যা ৭০টি। মাঠে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করতে তাঁর জুড়ি নেই। গোলপোস্টের সামনে ক্ষুধার্ত আলভারেজকে বার্সেলোনার বিপক্ষে যেমনটা দেখা গেছে— জাদুকরী ফ্রি-কিকে বল জালে জড়ানোর ক্ষমতা; এই সবকিছুই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ডকে আতলেতিকোর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে রাখছে।
৪. ডেভিড রায়া (আর্সেনাল)
আর্সেনালের রক্ষণভাগের সেই দুর্ভেদ্য ত্রয়ীর প্রতিনিধি হিসেবে আছেন ডেভিড রায়া। যে রক্ষণে আরও আছেন দুই সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা এবং গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালেস। এই তিনজন যখনই আর্সেনালের হয়ে একসঙ্গে শুরুর একাদশে খেলেছেন, এমন ২২টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গানাররা ১৩টিতেই কোনো গোল হজম করেননি (ক্লিন শিট)। এর মানে হলো, গড়ে প্রতি দুই ম্যাচে আর্সেনাল মাত্র একটি গোল হজম করছেন; আর নিজেদের প্রায় ৫৯ শতাংশ ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে গোলবঞ্চিত রাখার এক দারুণ রেকর্ড গড়েছেন।
আরও পড়ুন
| প্যারিসে বায়ার্নের দাপট নাকি পিএসজির প্রতিশোধ |
|
ইউরোপ সেরার মঞ্চে রায়া নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন। বল পায়ে তার দক্ষতার জন্য খ্যাতি থাকলেও, কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে স্প্যানিশ এই গোলকিপারের অসাধারণ সব সেভই আর্সেনালকে টিকিয়ে রেখেছিল। ৩০ বছর গোলকিপার এই মৌসুমে তার দিকে ধেয়ে আসা ৯০ শতাংশ শটই রুখে দিয়েছেন, যা তাকে গ্লাভস হাতে অন্য সবার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে। গোলপোস্টের নিচে এমন কঠিন দেয়ালই মিকেল আরতেতার দলকে নিয়ে যেতে পারে ফাইনালে।
৫. মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ)
মাইকেল ওলিসে এই মৌসুমে রীতিমতো এক চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এই তালিকায় তিনি আরও উপরে থাকতে পারতেন। কিন্তু ভিনসেন্ট কোম্পানির দলে আক্রমণভাগে এত বেশি বিকল্প আছে যে, ফরাসি এই তারকা কোনো ম্যাচে জ্বলে উঠতে না পারলেও দলের খুব একটা সমস্যা হয় না। হ্যারি কেনের ঠিক পেছনে থেকে লুইস দিয়াজ, সার্জ গ্যানাব্রি এবং লেনার্ট কার্লও এবার দারুণ অবদান রাখছেন।
ওলিস যে কতটা অসাধারণ খেলছেন, সেটা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ক্রিস্টাল প্যালেস ও রিডিংয়ের সাবেক ২৪ বছর বয়সী তারকা ওলিসে চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে সফল ড্রিবলিংয়ের তালিকায় তিন নম্বরে আছেন। এমনকি 'বিগ চান্স' বা বড় সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান তিনে। এই দুটি ক্ষেত্রেই শীর্ষে আছেন বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অলিসে ইতিমধ্যেই ২০টি গোল এবং ২৯টি অ্যাসিস্ট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন।

একজন ক্লাবের সর্বকালের অন্যতম সেরা। অন্যজন বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে পা রেখেছিলেন ‘স্বপ্নের ঠিকানায়’। গোলের পর গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ওল্ড ট্যাফোর্ড থেকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এসেই রোনালদো বদলে দিয়েছিলেন লস ব্লাঙ্কোসদের ভাগ্য। ঠিক তেমনি এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পিএসজি থেকে মাদ্রিদে পা রাখেন কিলিয়ান এমবাপে।
লা লিগায় গত ২৫ এপ্রিল রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে রিয়ালের হয়ে শততম ম্যাচ খেলেন এমবাপে। ১০০ ম্যাচের মাইলফলকের স্পর্শ করার পর স্বাভাবিকভাবেই ফরাসি ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে চলছে ব্যবচ্ছেদ। রিয়ালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করা রোনালদোর সঙ্গেই এমবাপের তুলনা টানছেন অনেকে। উভয়ই ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবের ইতিহাসে গভীর ছাপ ফেলেছেন (এমবাপ্পে এখনও সেই ধারা বজায় রাখছেন)। রিয়ালের হয়ে প্রথম ১০০ ম্যাচ শেষে দুজনেই অর্জন করেছেন বড় বড় সব কীর্তি। তবে এই ১০০ ম্যাচের পথচলায় কার যাত্রা কেমন ছিল এবং কে কতটা সফল, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এমবাপের জন্য তেতো সত্য হলো, রিয়াল মাদ্রিদের দলীয় হতাশাজনক পারফরম্যান্স তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনগুলোকে কিছুটা আড়ালে পাঠিয়ে দিয়েছে। গত মৌসুমে ইউয়েফা সুপার কাপ এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ছাড়া দলগতভাবে বড় কোনো সাফল্য এখনও আসেনি।
আরও পড়ুন
| ডাগ আউটে নেই কোম্পানি, দিয়ে রাখলেন বার্তা |
|
অবশ্য এই দিক থেকে এমবাপে কিছুটা সান্ত্বনা পেতে পারেন, কারণ রোনালদোর শুরুর বছরগুলোও কিন্তু ট্রফিতে খুব একটা ঠাসা ছিল না। রিয়ালের হয়ে নিজের অভিষেক মৌসুমে রোনালদো কোনো শিরোপাই জিততে পারেননি, আর দ্বিতীয় মৌসুমে জিতেছিলেন কেবল কোপা দেল রে।
এবার আসা যাক গোলের লড়াইয়ে। গোলের খেলা ফুটবলে রোনালদো শুরু থেকেই এক আকাশচুম্বী মানদণ্ড তৈরি করে দিয়েছিলেন। রিয়ালে নিজের প্রথম ১০০ ম্যাচে ৮,১৬০ মিনিট খেলে ৯৫টি গোল (১৯টি পেনাল্টি থেকে) করেছিলেন ‘সিআর সেভেন’। বিপরীতে এমবাপ্পে ১০০ ম্যাচে ৮,৪৬৪ মিনিট মাঠে থেকে ( রোনালদোর চেয়ে প্রায় ৩০০ মিনিট বেশি) করেছেন ৮৫টি গোল (১৬টি পেনাল্টি থেকে) এবং ২৩টি অ্যাসিস্ট।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রথম ১০০ ম্যাচ শেষে কিলিয়ান এমবাপ্পের পরিসংখ্যান তাকে ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের কাতারেও নিয়ে এসেছে। এরইমধ্যে করিম বেনজেমা, হুগো সানচেজ এবং রোনালদো নাজারিও-র মতো কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং রোনালদোর রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
রিয়ালের ইতিহাসের সেরা গোলমেশিনদের প্রথম ১০০ ম্যাচের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, ফরাসি এই তারকা এমবাপের অবস্থান বেশ উঁচুতে। এই তালিকায় তাঁর ওপরে আছেন কেবল ফেরেঙ্ক পুসকাস (১০০ গোল), রোনালদো (৯৫ গোল) এবং প্রুদেনসিও সানচেজ ও পাহিঁয়ো (৮৬ গোল)। তবে আলফ্রেডো ডি স্টেফানো (৮৩ গোল) এবং হুগো সানচেজের (৭১ গোল) মতো ক্লাবের অনেক মহাতারকাকেও পেছনে ফেলে দিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
লা লিগায় ৫৫টি, চ্যাম্পিয়নস লিগে ২২টি, কোপা দেল রে-তে ৪টি, স্প্যানিশ সুপার কাপে ৩টি এবং ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও উয়েফা সুপার কাপে একটি করে গোল করেছেন এমবাপে।
বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও, এমবাপে আসার পর থেকে স্প্যানিশ জায়ান্টদের হতাশাজনক ফলাফল এই ফরাসি অধিনায়কের ব্যক্তিগত অর্জনকে একেবারেই ম্লান করে দিয়েছে। তাঁর উপস্থিতিতে গত মৌসুমে দলটি কেবল উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিততে পেরেছে।
আরও পড়ুন
| প্যারিসে বায়ার্নের দাপট নাকি পিএসজির প্রতিশোধ |
|
অবশ্য ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্সে কোনো কমতি না রাখা এমবাপে এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৪ গোল করে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘পিচিচি’ ট্রফি ধরে রাখার দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছেন। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তিনি ১৫ গোল করে সবার ওপরে। সেমিফাইনাল ওঠা বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন (১২ গোল) তাঁর চেয়ে পিছিয়ে আছেন।
সাবেক পিএসজি তারকা এমবাপে এখনও বড় ম্যাচগুলোতে নিজের জাত চেনাতে পারেননি। তাঁর উপস্থিতিতে রিয়াল মাদ্রিদ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি বার্সেলোনাকে মাত্র একবার হারাতে পেরেছে, বিপরীতে হার মেনেছে পাঁচবার। এমনকি নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষেও পরিসংখ্যান খুব একটা সুবিধাজনক নয়; দুই জয়ের একটিতে এমবাপে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন, বাকি ম্যাচগুলোতে একটি ড্র এবং দুই হার সঙ্গী হয়েছে তাঁর।
সব মিলিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এমবাপের সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। লা লিগার গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই কোনো গোল পাননি। এছাড়া ক্লাবের শিরোপাহীন যাত্রা এবং তার বাঁ হাঁটুর চোট ভক্তদের মনে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালের ফাস্ট লেগে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) বিপক্ষে ডাগ আউটে থাকতে পারছেন না বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় টাচলাইন থেকে শিষ্যদের নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ হারালেন এই বেলজিয়ান মাস্টারমাইন্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে কার্ড দেখেছিলেন কোম্পানি। সেটি ছিল আসরে তার তৃতীয় হলুদ কার্ড। ইউয়েফার বিধি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের তিনবার হলুদ কার্ড দেখলে পরবর্তী এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। সে নিয়মেই পার্ক দে প্রাঁসে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে কোম্পানিকে।
আরও পড়ুন
| চাপ থাকলেও ‘চাপ না নিয়ে’ হৃদয়দের রেকর্ড জয় |
|
কোম্পানির অনুপস্থিতিতে বায়ার্নের ডাগ আউটে সামলাবেন সহকারী কোচ অ্যারন ড্যাঙ্কস। তবে প্রধান কোচের অবর্তমানেও জয়ের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে না বাভারিয়ানরা। সহকারী ড্যাঙ্কসের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে কোম্পানি বলেন, ‘ড্যাঙ্কসের যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কোচ। তিনি বেশ কিছুদিন ইংল্যান্ডের ডাগআউটেও (অ্যাসিস্টন ভিলা ও জাতীয় দল) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার কোচিং স্টাফ এবং স্কোয়াডের সবার ওপর শতভাগ আস্থা আছে।’
ইউয়েফার কড়া নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন কোম্পানি ড্রেসিংরুম কিংবা টেকনিক্যাল এরিয়ায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। এমনকি খেলোয়াড়দের সাথে সরাসরি যোগাযোগও করতে পারবেন না তিনি। তবে দলের রণকৌশল সাজাতে কোনো কমতি রাখছেন না তিনি। প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে দলের প্রতিটি প্রস্তুতি সেশনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে শিষ্যদের শেষ মুহূর্তের টোটকা দিয়েছেন কোম্পানি। এমনকী ম্যাচের দিনও টিম বাসে করে স্টেডিয়ামে আসা এবং ম্যাচ পরবর্তী দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন তিনি।
দেখার বিষয়, পার্ক দে প্রাঁসের গ্যালারিতে বসে কোম্পানির মস্তিষ্ক আর ডাগআউটে ড্যাঙ্কসের পরিচালনা বায়ার্নকে ফাইনালের পথে কতটা এগিয়ে নেয়।

বন্ধুর এক পথ মাড়িয়ে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ নিষ্পত্তির পথে। তার আগে অবশ্য সেমি-ফাইনাল দেয়াল। এরপরই পূর্ণ ফয়সালা—ট্রফি উৎসব। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রাঁসে প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে আতিথ্য দেবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নস প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)।
নিজেদের দূর্গে ম্যাচ হলেও স্বস্তিতে থাকার জো নেই লুইস এনরিকের। ইতিহাস অন্তত সেটাই বলছে। ২০১৭ সালের পর থেকে ঘরের মাঠে বায়ার্নের বিপক্ষে পাঁচবারের মুখোমুখিতে চার বারই হেরেছে পিএসজি। সবশেষ অর্থাৎ চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরেও একবারের দেখায় পার্ক দে প্রাঁসে থেকে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে ফিরেছে বাভারিয়ানরা। ফলে ম্যাচটি স্বাগতিকদের জন্য একদিকে যেমন ঘরের মাঠে গেরো খোলার, অন্যদিকে ফরাসি জায়ান্টদের জন্য প্রতিশোধেরও।
সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দলেরই আধিপত্য। ১৯৯৪ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ বার লড়াইয়ে নেমেছে জায়ান্ট দুই ক্লাব। ১০টিতেই জিতেছে বায়ার্ন, ৭টিতে লুইস এনরিখের দল। বাভারিয়ানদের বিপক্ষে ফরাসি ক্লাবের সবশেষ জয় ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে। হ্যারি কেইনদের হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেছিল তারা। রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনালে। তবে চেলসির বিপক্ষে তারা হোঁচট খায় শিরোপার মঞ্চে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফাস্ট লেগে খেলতে নামার আগেও বেশি স্বস্তি নিয়েই নামছে বায়ার্ন। বুন্দেস লিগায় ইতোমধ্যে শিরোপা নির্ধারণ করে নিয়েছে তারা। ডিএফবি-পোকালেও সেমিফাইনালে বায়ার লেভারকুসেনকে হারিয়ে উঠেছে ফাইনালে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্টুটগার্ট। আগামী ২৪মে ফাইনাল হওয়ায় নেই গেম লোডের ভয়।
পিএসজি দম ফেলানোর পুসরত একদমই পাচ্ছে না । লিগ আঁ-তে কড়া শিডিউলে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। প্রতিযোগিতাতয় টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লঁ-সের চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে তারা। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে ব্রেস্টের বিপক্ষে লঁ-সের ৩-৩ ব্যবধানে ড্র এবং পিএসজির অঁজার্সের বিপক্ষে জয়ে এখন কিছুটা হলেও স্বস্তিতে।
২০২৩ সালে লুইস এনরিকে কোচ হওয়ার পর এ নিয়ে টানা তিনবার সেমিফাইনালে উঠেছে পিএসজি। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর এবার তারা টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। নকআউট পর্বের আগের দুই রাউন্ডে চেলসি ও লিভারপুলকে হারিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে তারা।
এনরিকে বলেন, ‘সেমিফাইনালে ওঠাটা আনন্দের এবং আমরা এর যোগ্য। এই পর্যায়ে আসতে হলে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে হয় এবং আমার মনে হয় আমাদের তা আছে। আমরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে লিগ পর্বে বায়ার্ন ১-০ গোলে জিতেছিল। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজি ২-০ গোলে জয় পায়। তবে সর্বশেষ নভেম্বরে প্যারিসের মাটিতে বায়ার্ন ২-১ গোলে জয়ী হয়েছিল। এনরিকে জানিয়ে জানিয়েছেন, ‘সবাই এখন প্রস্তুত।’ বরং সেমিফাইনালে তার দল ফেভারিট বলেও জানিয়েছেন।
এনরিকে যেমন স্বস্তিতে, দল নিয়েও রয়েছে সুখবর। ইনজুরি কাটিয়ে তিন মাস পর গত সপ্তাহে মাঠে ফিরেছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজ। পর্তুগিজ প্লে-মেকার ভিতিনহার চোট নিয়ে পিএসজি শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল, কারণ তিনি শেষ দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি। তবে সোমবার তিনি অনুশীলনে ফেরায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের জন্য বড় স্বস্তি মিলেছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) বিপক্ষে লড়াইয়ে টাচলাইনে থাকতে পারবেন না বায়ার্ন মিউনিখ কোচ কোম্পানি। নিষেধাজ্ঞার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ডাগআউটে অনুপস্থিত থাকবেন তিনি। দলেও আসবে পরিবর্তন। চোটের কারণে তারকা ফরোয়ার্ড সার্জ গ্যানাব্রির জায়গায় জামাল মুসিয়ালাকে দেখা যেতে পারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বায়ার্নের নাটকীয় জয়ের ম্যাচে রেফারি একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখেন কোম্পানি। ফলে মঙ্গলবার পার্ক দে প্রাঁসে বেলজিয়ান এই কোচকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে বায়ার্নকে। তার পরিবর্তে ডাগআউটে কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী অ্যারন ড্যাঙ্কস। কোম্পানি বলেন, ‘ড্যাঙ্কসের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনি বেশ কিছুদিন ইংল্যান্ডের ডাগআউটেও ছিলেন। কোচিং স্টাফ এবং বাকি সবার ওপর আমার শতভাগ আস্থা আছে।’
সবমিলিয়ে ম্যাচটি যে কঠিন হতে চলেছে সেটা অবশ্য স্বীকার করেছেন কোম্পানি, ‘প্রতিটি ম্যাচে তাদের বিপক্ষে আমাদের লড়াই সবসময়ই বেশ হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে—আমরা দুটিতে জিতেছি, তারা জিতেছে একটিতে। তবে ম্যাচগুলো এতটাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল যে ফলাফল যেকোনো দিকেই যেতে পারত।’