
ব্রিসবেনের বৃষ্টি রোমাঞ্চ জাগানিয়া এক ম্যাচের সমাপ্তি রেখায় দারুণ কিছু আর হতে দিল না! ড্র হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া-ভারত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র ১৮ ওভার, যেখানে ৮৯ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারায় প্যাট কামিন্সের দল। ২৭৫ রানের লক্ষ্যে আর ছুটে চলা হয়নি ভারতের, দুই ওপেনার মাত্র ১৩ বল খেলার সুযোগ পান! দারুণ রোমাঞ্চকর এক ম্যাচের পরিসমাপ্তি হয় বেরসিক বৃষ্টির দাপটে।
লক্ষ্যের পানে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮ রান করে ভারত। তারপরই বৃষ্টি, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ম্যাচ ড্র বলে ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ব্রিসবেন টেস্টের প্রথম দিনেও ছিল বৃষ্টি, শেষদিনও যা পিছু ছাড়েনি! পঞ্চমদিন খারাপ আবহাওয়া তো ছিল, সঙ্গে ছিল বজ্রপাতের আশঙ্কা। প্রথম ইনিংসে দুই সেঞ্চুরিতে ৪৪৫ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ট্র্যাভিস হেড করেন ১৫২ ও স্টিভ স্মিথ করেন ১০১ রান। অন্যদিকে ৬ উইকেট শিকার করেছিলেন বুমরাহ। বৃষ্টিতে মাঝের তিনদিনেও খেলা গড়ায়নি ঠিকমত! পঞ্চম দিনে ভারতের ইনিংস থেমে যায় ২৬০ রানে।
১৮৫ রানে এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা আগ্রাসী হতে দেখা যায়নি। তিন পেসার বুমরাহ, সিরাজ ও আকাশদীপ সবাই টপাটপ উইকেট তুলেছেন। ইনিংসের প্রথম ৫ উইকেটের ৪টিতেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন ঋশাভ পান্ত। ৩৩ রানেই অস্ট্রেলিয়া হারায় ৫ উইকেট। দু’দলের মধ্যে সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেডকে ১৭ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান সিরাজ।
দুই ছক্কা আর দুই চারে ১০ বলে ২২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন অধিনায়ক কামিন্স। তিনি ফেরেন বুমরাহর বলে। এরপরেই ইনিংস ঘোষণা করে অজিরা। ভারতের সামনে দাঁড়ায় ২৭৫ রানের টার্গেট। বিনা উইকেটে স্কোরবোর্ডে ৮ রান তোলার পরপরই বৃষ্টিতে বল আর মাঠে গড়ায়নি। এই টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন জাসপ্রীত বুমরাহ, ৯৪ রানে নিয়েছেন ৯ উইকেট। তারপরও ট্রাভিস হেডই ম্যান অব দ্যা ম্যাচ।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ এ সমতা। চতুর্থ টেস্ট মেলবোর্নে, মাঠে গড়াবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে।
No posts available.
১২ মার্চ ২০২৬, ৩:০৩ পিএম

ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ১০০ বলের টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের নিলাম চলছে। যুক্তরাজ্যের রাজধানী পিকিডিলি লাইটে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটা থেকে শুরু হয় নিলাম। বিসিবির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিলামে আইপিএল সংশ্লিষ্ট দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কোচেরা এমন নির্দেশনার কথা অস্বীকার করেছেন।
বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়া নারী হান্ড্রেড নিলামে পাকিস্তানের কোনো নারী ক্রিকেটার দল পাননি। আজ পুরুষদের নিলামে শাহিন আফ্রিদি, হারিস রউফ ও উসমান তারিকসহ ১৭ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের নাম থাকলেও তারা দল পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
বিষয়টি নিয়ে বুধবার কথা বলেছেন আইপিএল মালিকানাধীন সানরাইজার্স লিডসের কোচ আদি বিরিল। তিনি জানান, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড় না নেওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার কিছু খেলোয়াড়কে নিয়ে আগ্রহ দেখা যেতে পারে।’ আরেক আইপিএল মালিকানাধীন সাউদার্ন ব্রেইভের নারী দলের কোচ জনাথন ব্যাটি বলেন, তাদেরকে সেরা দল গড়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
| ‘পাকিস্তানকে দুম্বার মতো পিটিয়েছে বাংলাদেশ’ |
|
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। নিরাপত্তার অজুহাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ২০০৯ সাল থেকেই আইপিএলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
একই ধারা দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটি-টোয়েন্টি লিগেও। সেখানে সব দলই আইপিএল মালিকানাধীন হওয়ার ফলে পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় খেলেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি লিগে এমআই লন্ডন ও সাউদার্ন ব্রেভের মালিকানাধীন দলগুলো চার মৌসুমে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার নেয়নি।
দ্য হান্ড্রেডের আট দলের মধ্যে চারটি ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ ও সানরাইজার্স লিডস—আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ন্ত্রিত কোম্পানির মালিকানায় রয়েছে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ড্রাফটে ডাকবে না এই আশঙ্কায় গত মাস থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসিবির কর্মকর্তা ও সাবেক ক্রিকেটাররা।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রক গতমাসে বলেন, ‘দ্য হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের না থাকাটা দুঃখজনক হবে।’
গতমাসে ইসিবি এবং আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছিল, ‘জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া যাবে না।’ তবে আজ নিলামের টেবিলে শেষ পর্যন্ত যোগ্যতার লড়াই জেতে নাকি মালিকপক্ষের কৌশল— সেটিই এখন দেখার বিষয়।

লিটন কুমার দাস, তানজিদ হাসান তামিমদের বিরুদ্ধে আগুনে বোলিং করে প্রায় এক বছর পর দারুণ এক স্বীকৃতি পেলেন তাসকিন আহমেদ। ২০২৫ সালের বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি বোলিং পারফরম্যান্সের পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার।
ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর মূল্যায়নে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয় এই পুরস্কার। তিন সংস্করণের সেরা ব্যাটিং-বোলিংসহ সব মিলিয়ে মোট ২০টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা পুরস্কার বেছে নিয়েছে তারা।
গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ আসরে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে মাত্র ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নেওয়া তার ওই বোলিং ফিগার বিশ্বের যে কোনো লিগের মধ্যে সেরা।
সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ে তাসকিনের অবস্থান ৪ নম্বরে। এমন পারফরম্যান্সের পর ২০২৫ সালের সেরা বোলিংয়ের পুরস্কারের জন্য তাকেই বেছে নিয়েছে ইএসপিএনক্রিকইনফো।
একনজরে সব পুরস্কার তালিকা
পুরুষদের টেস্ট ব্যাটিং
এইডেন মার্করাম - ১৩৬ রান বনাম অস্ট্রেলিয়া
পুরুষদের টেস্ট বোলিং:
মিচেল স্টার্ক — ৭/৫৮ বনাম ইংল্যান্ড
পুরুষদের ওয়ানডে ব্যাটিং:
ইব্রাহিম জাদরান — ১৭৭ রান বনাম ইংল্যান্ড
পুরুষদের ওয়ানডে বোলিং:
বরুণ চক্রবর্তী — ৫/৪২ বনাম নিউজিল্যান্ড
পুরুষদের টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ব্যাটিং:
ফিল সল্ট — অপরাজিত ১৪১ রান বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
পুরুষদের টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক বোলিং:
কুলদীপ যাদব — ৪/৩০ বনাম পাকিস্তান
পুরুষদের টি–টোয়েন্টি লিগ ব্যাটিং:
মিচেল ওয়েন — ১০৮ রান বনাম সিডনি থান্ডার
পুরুষদের টি–টোয়েন্টি লিগ বোলিং:
তাসকিন আহমেদ — ৭/১৯ বনাম ঢাকা ক্যাপিটালস
পুরুষদের অধিনায়ক:
টেম্বা বাভুমা
পুরুষদের অভিষিক্ত ক্রিকেটার:
বাউ ওয়েবস্টার
নারীদের ওয়ানডে ব্যাটিং:
জেমিমা রদ্রিগেজ — অপরাজিত ১২৭ রান বনাম অস্ট্রেলিয়া
নারীদের ওয়ানডে বোলিং:
দীপ্তি শর্মা — ৫/৩৯ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
নারীদের টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ব্যাটিং:
স্মৃতি মন্ধানা - ১১২ রান বনাম ইংল্যান্ড
নারীদের টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক বোলিং:
শ্রী চারানি - ৪/১২ বনাম ইংল্যান্ড
নারীদের টি–টোয়েন্টি লিগ ব্যাটিং:
হারমানপ্রীত কৌর — ৬৬ রান বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস
নারীদের টি–টোয়েন্টি লিগ বোলিং:
ক্রান্তি গৌর — ৪/২৫ বনাম দিল্লি ক্যাপিটালস
নারীদের অধিনায়ক:
হারমানপ্রীত কৌর
নারীদের অভিষিক্ত ক্রিকেটার:
শ্রী চারানি
অ্যাসোসিয়েট দলের ব্যাটিং:
ম্যাক্স ও’ডাউড — অপরাজিত ১৫৮ রান বনাম স্কটল্যান্ড
অ্যাসোসিয়েট দলের বোলিং:
হ্যারি মানেন্তি — ৫/৩১ বনাম স্কটল্যান্ড

অতীতের সুখ স্মৃতি, রেকর্ড কিংবা ঝুঁকে থাকা পরিসংখ্যান— বুধবার হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরে বাংলায় স্টেডিয়ামে এসব যেন হয়ে ওঠেছিল থোড়াই কেয়ার। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শাহিন শাহ আফ্রিদিদের যেভাবে তটস্থ করে রেখেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজরা, তাতে পাকিস্তানকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছেন দেশটির সাবেক ফার্স্ট বোলার মোহাম্মদ আমির। তার মতে, এভাবে চলতে থাকলে পাকিস্তান সহযোগী দেশের কাতারে নেমে যাবে।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নাহিদ রানার তোপে পড়ে পাকিস্তান। শুরুর পাঁচ ব্যাটারকে ফিরিয়ে অতিথিদের ১১৪ রানে গুটিয়ে দেন বাংলাদেশি পেসার। তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর কৃতিত্বে মাত্র ১৫.১ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজদের কাছে এমন হার হজম করতে কষ্ট হচ্ছে আমিরের।
পাকিস্তানের এমন শোচনীয় পরাজয়ের পর নিজ দেশের খেলোয়াড়দের রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন আমির। নিজের ফেসবুক পেজে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে দুম্বার মতো করে পিটিয়েছে বাংলাদেশ। যেই উইকেটে আমরা ১১৪ রান করতে হিমশিম খেয়েছি, সেখানে ওরা মাত্র ১০-১২ ওভারেই সেই রান তাড়া করে ফেলেছে। এটা হয় নাকি?’
আরও পড়ুন
| উইন্ডিজ ক্রিকেটে ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া, নিষিদ্ধ ক্রিকেটারসহ তিনজন |
|
সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই ছিল পাকিস্তানের। ১০ ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি তারা। সাহিবজাদা ফারহানরা শুরুতে ভালো করেন। তবে নাহিদ রানা বল হাতে তুলে নিতেই দৃশ্যপট পরিবর্তন হয় যায়।
আমির বলেন, ‘নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ চমৎকার বল করেছে। বিশেষ করে নাহিদ, সে নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করছিল। আমাদের ব্যাটাররা গতি দেখলেই ভয় পায়, আজও সেটা দেখা গেছে।’
এরপর পাকিস্তান দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির বলেন, ‘আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারছি। আমার ভয় হচ্ছে আমরা কি তবে সহযোগী দেশের মানে নেমে যাচ্ছি?’
বুধবার চার তরুণের অভিষেক ঘটে পাকিস্তান দলে। দলে ছিলেন না ফাখার জামান, বাবর আজমের মতো তারকাদের। বড় হারের পেছনে দলে অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতিকেই দায়ী করছেন আমির।
তিনি বলেন, ‘সিনিয়রদের বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল চলে না, তাদের সঠিক নির্দেশনার জন্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড় প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনার প্রশংসা করে আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ স্মার্টলি ক্রিকেট খেলেছে। আমরা ভেবেছিলাম টার্নিং উইকেট হবে, কিন্তু তারা পেস উইকেট বানিয়েছে। উইকেটে বাউন্স ছিল। যা পাকিস্তানের জন্য আউট অফ সিলেবাস প্রশ্ন।’

দুর্নীতির অভিযোগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক ক্রিকেটারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। তারা হলেন—ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার সিয়ার্লেস, টাইটান্স দলের মালিক চিত্রাঞ্জন রাথঠ ও দলটির কর্মকর্তা ট্রেভন গ্রিফিথ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (সিডব্লিউআই) পরিচালিত ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বিম-১০ এর ২০২৩-২৪ মৌসুমে ঘটে যাওয়ার দুর্নীতির প্রেক্ষিতে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রেভন গ্রিফিথের বিরুদ্ধে একটি অতিরিক্ত অভিযোগ আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংক্রান্ত। যা আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের আওতায় পড়ে।
এর মধ্যে চিত্রঞ্জন রাঠোর (টাইটান্স দলের মালিক) বিরুদ্ধে সিডব্লিউআই কোডে ৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। জ্যাভন সিয়ার্লেস ও গ্রিফিতের বিরুদ্ধে ৪টি করে অভিযোগ জমা পড়ে।
তিনজনের বিরুদ্ধেই সিডব্লিউআই অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী ম্যাচ ফিক্সিং, ম্যাচের ফল বা অগ্রগতি প্রভাবিত করার চেষ্টা কিংবা ম্যাচের কোনো দিক বেআইনিভাবে নিয়ন্ত্রণ করার মতো কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তাদের বিরুদ্ধে ২.১.৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে—কোনো খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফকে দুর্নীতিমূলক কাজে প্ররোচিত করা, নির্দেশ দেওয়া বা সহায়তা করাও অপরাধ।
আরেকটি অভিযোগ ২.৪.৪ ধারা অনুযায়ী, যেখানে বলা হয়েছে—অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তার তদন্তে সহযোগিতা না করা বা তদন্তে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আইসিসি জানিয়েছে, তিনজনকেই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তাদের অভিযোগের জবাব দিতে হবে।
এই তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে ২৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার অ্যারন জোন্সের বিরুদ্ধেও সিডব্লিউআই ও আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙ্গের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।
আইসিসি জানিয়েছে, শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তারা আর কোনো মন্তব্য করবে না।

ক্রিকেটে দুর্নীতিবিরোধী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিম১০ টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আইসিসি। অভিযুক্তরা হলেন দুই টিম অফিসিয়াল চিত্রঞ্জন রাঠোড় ও ট্রেভন গ্রিফিথ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জেভন সার্লেস।
অভিযোগের পর তাদের সবাইকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমের বিম১০ টুর্নামেন্ট ঘিরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। টুর্নামেন্টটি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) অ্যান্টি-করাপশন কোডের আওতায় পড়ে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ খেলবে না ইরান, ফিফার সামনে নতুন শঙ্কা |
|
টাইটান্স দলের মালিক রাঠোড়ের বিরুদ্ধে সিডব্লিউআই কোডের তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের আইপিএল খেলা ক্রিকেটার সার্লেসের বিরুদ্ধে চারটি ও গ্রিফিথের বিরুদ্ধে সিডব্লিউআই কোডের চারটি ধারার পাশাপাশি আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের একটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনজনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, বিম১০ টুর্নামেন্টের ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, ম্যাচের অন্য কোনো দিককে অবৈধভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা বা তাতে জড়িত থাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন কাজে উৎসাহিত করা ও তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
সার্লেস ও গ্রিফিথের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির প্রস্তাব বা যোগাযোগের বিষয়টি সিডব্লিউআইকে না জানানোর। গ্রিফিথের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত একটি অভিযোগ হলো, তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া। যার মধ্যে প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন বা নষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন
| ভালভার্দের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের দাপুটে জয়, লেভারকুসেনে ড্র নিয়ে ফিরল আর্সেনাল |
|
অভিযোগ গঠনের পর তিনজনকেই অবিলম্বে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১১ মার্চ ২০২৬ থেকে তাদের হাতে অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় রয়েছে।
এই ঘটনা বৃহত্তর এক তদন্তের অংশ। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার অ্যারন জোন্সের বিরুদ্ধেও সিডব্লিউআই ও আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভঙ্গের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে আইসিসি।