১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২০ পিএম

তিন অঙ্কের জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করার আগে কিছুক্ষণ সময় নিয়েছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা। ঘরের মাঠে সতীর্থ ও দর্শকদের করতালি কানে ভেসে আসছিল। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদযাপন করতে গিয়ে নিশাঙ্কা হেলমেট খুলে দু’হাত প্রসারিত করে মাঠ মাতালেন। পরে দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন হয়েছিল আরেকটি রান। শেষ পর্যন্ত ১২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কা নিশ্চিত করল সুপার এইট। বিপরীতে ২০০৯ সালের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বাদ পড়ার তেতো অভিজ্ঞতার দোরগোড়ায় অস্ট্রেলিয়া।
পাল্লেকেলেতে আজ শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৮১ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে দুই ওভার বাকি রেখেই জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। মহাকাব্যিক এক সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হন নিশাঙ্কা। দুর্দান্ত এই ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১০টি চার ও ৫টি ছক্কায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করা স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা পরের ম্যাচে হারায় ওমানকে। গ্রুপ ‘বি’ তে এবার অস্ট্রেলিয়াকেও বিধ্বস্ত করে শতভাগ জয়ের ধারা বজায় রেখে সুপার এইটের টিকিট কাটলো দাসুন শানাকার দল।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে পারে কালই। আগামীকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ে বিদায়ঘণ্টা বাজবে অজিদের। এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে হার আর ওমানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ও নেট রান রেটে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা মিচেল মার্শের দলের সুপার এইট নিশ্চয়তা দেবে না। অস্ট্রেলিয়ার রান রেট ০.৪১৪ আর জিম্বাবুয়ের ১.৯৮৪। তাতে জিম্বাবুয়ের হারের প্রার্থনার সঙ্গে ওমানের বিপক্ষে বিশাল ব্যবধানে জয় ছাড়া বিকল্প নেই অজিদের।
রান তাড়ায় ৮ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর আর বিপদে পড়েনি শ্রীলঙ্কা। ৩ বলে ১ রান করা কুশল পেরারা ফিরলে দ্বিতীয় উইকেটে পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ এক জুটি জয়ে ভিত গড়ে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বেদম পিটিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। ৩৫ বলে ফিফটি করেন মেন্ডিস। অপরপ্রান্তে ৩২ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন নিশাঙ্কা।
৩৮ বলে ৫১ করা মেন্ডিস যখন মার্কাস স্টয়নিসের শিকার হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরছেন, শ্রীলঙ্কার রান তখন ১২.২ ওভারে ১০২। তারপর আর কোনো উইকেটের দেখা পায়নি অস্ট্রেলিয়া। অজি বোলারদের কোনো সুযোগই না দিয়ে পাভান রাথনায়াকাকে নিয়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন লঙ্কানদের জয়ের নায়ক নিসাঙ্কা। ১৫ বলে ২৮ করেন রাথনায়াকে।
এর আগে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। পাওয়ার প্লেতে স্কোরবোর্ডে ৭০ রান তোলেন মিচেল মার্শ-ট্রাভিস হেড। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো শুরু এটি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
২৭ বলে ফিফটি করেন হেড। ৭ চার ও ২ ছক্কায় অর্ধশত পূর্ণ করা অজি ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৫৬ রান করে আউট হন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারদের মধ্যে ফিফটি ছাড়া সবচেয়ে বেশি ইনিংস বাঁ-হাতি অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের। সে লজ্জা শেষ হয়েছে আজ। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল—তাঁর এই ১৩ ইনিংসের ধারার শেষ হয়েছে পাল্লাকেলে।
এই রেকর্ডের আগে একই সংখ্যক ইনিংস ফিফটি ছাড়া ছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (২০০৫–০৮)। অ্যারন ফিঞ্চ (২০১৮ ও ২০২২), ম্যাথিউ ওয়েড (২০২১) এবং ম্যাট শর্ট (২০২৩–২৬)–এর নামও তালিকায় রয়েছে।
দলীয় ১০৪ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর হঠাৎ খেই হারায় অস্ট্রেলিয়া। ১০৪/০ থেকে ১৩০/৪ হয়ে যায় অজিদের স্কোর। প্রথমে হেডকে আউট করে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফেরান দুশান হেমন্থা। তারপর ৭ বলে ৩ করা ক্যামেরন গ্রিনের উইকেটটি নেন দুনিথ ভাল্লেলেগে। ২০০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে ২৭ বলে ৫৪ করা অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে নিজের দ্বিতীয় উইকেটটি নেন হেমন্থা। আর টিম ডেভিডকে আউট করেন কামিন্দু মেন্ডিস।
১২.৪ ওভারে ১৩০ করা অস্ট্রেলিয়ার এগোচ্ছিল দুইশোর দিকেই। তবে শুরুর সেই ঝড় সামলে লাগাম টেনে ধরেন লঙ্কান বোলাররা। শেষ সাত ওভারে মাত্র ৫১ রান তুলতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। টপ অর্ডারের দুর্দান্ত শুরু কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন জশ ইংলিস-গ্লে ম্যাক্সওয়েলরা। ২২ বলে ২৭ করেন ইংলিস আর ১৫ বলে ২২ আসে ম্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকে।
বল হাতে চার ওভারে ৩৭ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া হেমন্থা লঙ্কাদের সফলতম বোলার। এছাড়া দুশমান্থা চামেরা নিয়েছেন দুটি। একটি করে শিকার মাহেশ থিকসানা, ভাল্লেলেগে ও মেন্ডিসের।
No posts available.
৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম

পিএসএলে দারুণ ম্যাচ কাটালেন বাংলাদেশের দুই তারকা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন ইমন। আর পরে বল হাতে জাদু দেখিয়ে রেকর্ড গড়েছেন কাটার মাস্টার- দা ফিজ।
ইমন-মোস্তাফিজদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের দিনে মুলতান সুলতান্সকে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে লাহোর কালান্দার্স। শুক্রবার রাতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ২০ রানে জিতেছে মোস্তাফিজ-ইমনদের দল।
বৃষ্টির কারণে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা নষ্ট হলে ১৩ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ। ইমন ও মোহাম্মদ নাঈমের তাণ্ডবে ১৮৫ রানের বড় পুঁজি দাঁড় করায় লাহোর। জবাবে প্রাণপন চেষ্টা করেও নিজেদের ১৩ ওভারে ১৬৫ রানের বেশি করতে পারেনি মুলতান।
তিন ম্যাচে লাহোরের এটি দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে হারানোর পর দ্বিতীয়টিতে করাচি কিংসের সঙ্গে আর পারেনি লাহোর। এবার মুলতানকে হারাল তারা।
২ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে বড় অবদান রাখেন ইমন। বল হাতে ৩ ওভারে ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন তার। ৩২৫ ইনিংসে ৪১৬ উইকেট নিয়েছেন কাটার মাস্টার। আর ৩৫৬ ম্যাচে ৪১৫ উইকেট নিয়ে দুইয়ে নেমেছেন মোহাম্মদ আমির।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি উইকেট আছে শুধু একজনের- বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার, সাকিব আল হাসান (৪৬১ ইনিংসে ৫০৭ উইকেট)।
টস হেরে ব্যাটিং পায় ইমন, মোস্তাফিজদের নিয়ে খেলতে নামা লাহোর। মোহাম্মদ ইসমাইলের প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলে ১৮ রান পেয়ে যায় দলটি। দুইটি বাউন্ডারি মারেন নাঈম। আর বাকি দুই বলে ওয়াইডসহ ৪ দেন ইসমাইল।
প্রথম ৩ ওভারে কিছুটা গুটিয়েই ছিলেন ইমন। প্রথম ১০ বলে তিনি নেন মাত্র ৯ রান। পরে চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ নাওয়াজ আক্রমণে আসতেই যেন জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে পরপর দুইটি ছক্কার পরে একটি চার মারেন তিনি।
এরপর পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসেন ফয়সাল আকরাম। বাঁহাতি এই লেগ স্পিনারের প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মেরে দেন ইমন। মাত্র ১৭ বলে তিনি পৌঁছে যান ৪৪ রানে।
ষষ্ঠ ওভারে ইসমাইল আক্রমণে ফিরলে আবার বড় শটের চেষ্টা করেন ইমন। তবে এবার সীমানার কাছে ধরা পড়ে যান ২৩ বছর বয়সী ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৩১ বলে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ইমন ফিরলেও ঝড় থামাননি নাঈম। তিন নম্বরে নেমে আব্দুল্লাহ শফিকও একই ছন্দে ব্যাটিং করেন। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন মাত্র ২৫ বলে ৫৮ রানের জুটি।
নাঈমের ব্যাট থেকে আসে ৪টি করে চার-ছক্কায় ২৮ বলে ৬০ রান। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৪ বলে ৩৩ রান করেন শফিক।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও, শেষ দিকে ভালোই জবাব দেয় মুলতান। শেষের ২১ বলে ৬৫ রান করে তারা।
২ চারের সঙ্গে ৫ ছক্কায় মাত্র ২২ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন মুলতান অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার। এছাড়া শান মাসুদ ১৮ বলে ৪৪ ও আরাফাত মিনহাস ১১ বলে করেন ২৫ রান।
বল হাতে নিজের প্রথম ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান মোস্তাফিজ। আর তৃতীয় ওভারে তার শিকার হন শান মাসুদ। প্রথম ওভারে মাত্র ৫ রান দিলেও, পরের দুই ওভারে ৩২ রান দিয়ে ফেলেন বাঁহাতি এই পেসার।

প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে অবশেষে ছন্দ খুঁজে পেলেন পারভেজ হোসেন ইমন। মুলতান সুলতান্সের স্পিনারদের কচুকাটা করে একের পর এক ছক্কা হাঁকালেন লাহোর কালান্দার্সের বাংলাদেশি ওপেনার। তবে অল্পের জন্য ফিফটি করতে পারলেন না তিনি।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ম্যাচে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ২৩৬.৮৪ স্ট্রাইক রেটে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছেন ইমন। চলতি পিএসএলে এখন পর্যন্ত এটিই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং পায় ইমন, মোস্তাফিজুর রহমানদের নিয়ে খেলতে নামা লাহোর। মোহাম্মদ ইসমাইলের প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলে ১৮ রান পেয়ে যায় দলটি। দুইটি বাউন্ডারি মারেন মোহাম্মদ নাঈম। আর বাকি দুই বলে ওয়াইডসহ ৪ দেন ইসমাইল।
প্রথম ৩ ওভারে কিছুটা গুটিয়েই ছিলেন ইমন। প্রথম ১০ বলে তিনি নেন মাত্র ৯ রান। পরে চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ নাওয়াজ আক্রমণে আসতেই যেন জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে পরপর দুইটি ছক্কার পরে একটি চার মারেন তিনি।
এরপর পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসেন ফয়সাল আকরাম। বাঁহাতি এই লেগ স্পিনারের প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মেরে দেন ইমন। মাত্র ১৭ বলে তিনি পৌঁছে যান ৪৪ রান।
ষষ্ঠ ওভারে ইসমাইল আক্রমণে ফিরলে আবার বড় শটের চেষ্টা করেন ইমন। তবে এবার সীমানার কাছে ধরা পড়ে যান ২৩ বছর বয়সী ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৩১ বলে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ইমন ফিরলেও ঝড় থামাননি নাঈম। তিন নম্বরে নেমে আব্দুল্লাহ শফিকও। যার সৌজন্যে মাত্র ৭ ওভারে ১২৩ রান করে ফেলেছে লাহোর। নাঈম ১৮ বলে ৪৪ ও শফিক ৭ বলে ১৮ রানে অপরাজিত।

প্রতি বছর এই সময় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উত্তেজনায় ব্যস্ত থাকে দেশের ক্রিকেট। কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে, সেরা ব্যাটার-বোলার কারা হবেন, সেই আলোচনা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু চলতি বছর এখনও শুরুই হয়নি ডিপিএল।
তবে বেশি দিন এই অচলাবস্থা অব্যাহত রাখতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। তাই ডিপিএল শুরুর জন্য ক্লাবগুলোকে নিয়ে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিসিডিএম।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেতরে সিসিডিএমের অফিসে আগামী বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণকারী সব ক্লাব ও অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে করা হবে ডিপিএল বিষয়ক বৈঠক।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে বিসিবি। বার্তায় বলা হয়েছে, এই বৈঠকে ডিপিএল শুরুর সূচি ও লিগ পরিচালনার অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সব অংশীজনদের নিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি লিগ আয়োজনের আশা বিসিবির।
শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেও ফায়দা পেলেন না ফখর জামান। বহাল রইল তার নিষেধাজ্ঞা। তাই পরের দুই ম্যাচে বাঁহাতি ওপেনারকে পাবেন না মোস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমনরা।
পাকিস্তানের সুপার লিগের (পিএসএল) ম্যাচে বলের কন্ডিশন পরিবর্তনের দায়ে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ফখর। ম্যাচ রেফারি রোশান মহানামার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন লাহোর কালান্দার্সের ওপেনার।
আপিলের ফল পক্ষে পাননি ফখর। পিএসএলের নীতি অনুযায়ী, লেভেল থ্রি অপরাধ করায় সর্বোচ্চ শাস্তি- দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকছে ফখরের।
ঘটনা গত রোববার করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য করাচির প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। শেষ ওভারটি করতে আসেন হারিস রউফ। তখন তার কাছেই ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফখর।
তিন জনের ছোট্ট আলোচনা শেষে বোলিং মার্কে প্রস্তুত হন হারিস। তখন তার হাত থেকে বল নিয়ে নেন আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি। পরে আরেক আম্পায়ার শরফুদৌল্লাহ ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করেন তিনি।
এসময় দুই আম্পায়ার মিলে সিদ্ধান্ত নেন, বলের কন্ডিশন পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই ৫ রান পেনাল্টি করা হয় লাহোরকে। করাচির সমীকরণ নেমে আসে ৬ বলে ৯ রানে। যা সহজেই পূরণ করে ফেলে করাচি কিংস।
ম্যাচ শেষে জানা যায়, বলের কন্ডিশন পরিবর্তনের অভিযোগ মূলত ফখরের বিরুদ্ধে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ম্যাচ রেফারি রোশান সিদ্ধান্ত নেন, এটি লেভেল থ্রি অপরাধ। তাই দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় বাঁহাতি ওপেনারকে।
পিএসএলের নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিকেটাররা চাইলে ম্যাচ রেফারির শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেন। ফখর সেই সুযোগ কাজে লাগালে প্রফেসর জাভেদ মালিক, ড. মুমরাইজ নকশবন্দ ও সৈয়দ আলি নাকির টেকনিক্যাল কমিটি এটি পর্যালোচনা করেন।
সেখানেও ফখর দোষী সাব্যস্ত হন। তাই শাস্তি বাতিল হয়নি বা শাস্তির মাত্রাও কমেনি। শুক্রবার মুলতান সুলতান্স ও আগামী বৃহস্পতিবা ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলা হবে না মোস্তাফিজদের দলের অভিজ্ঞ এই ওপেনারের।

উইকেট না পেলেও নিজের প্রথম দুই ওভার দারুণই করলেন রিশাদ হোসেন। দলকে প্রায়ই ব্রেকথ্রু এনে দেওয়া বাংলাদেশি লেগ স্পিনার পরের দুই ওভারেও উইকেট পেলেন না, উল্টো অনেক বেশি রানই হজম করতে হলো তাকে। রিশাদের খরুচে দিনে হেরেছে তাঁর দল রাওয়ালপিন্ডিজও।
পিএসএল আজ কিংসের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে রিশাদ হোসেনদের রাওয়ালপিন্ডিজ। ৪ ওভারে ৩৮ রান খরচায় উইকেটের দেখা পাননি রিশাদ। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারলো রাওয়ালপিন্ডিজ।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাওয়ালপিন্ডিজ ৬ উইকেটে ১৯৭ রান করে। ফিফটি করেন ড্যারিল মিচেল ও স্যাম বিলিংস। রান তাড়ায় পাঁচ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে করাচি। ডেভিড ওয়ার্নারের ফিফটির সঙ্গে আজম খানের ৩৪ বলে ৭৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে হেসেখেলেই জয় তুলে নেয় করাচি।
ডেভিড ওয়ার্নার এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওপেনিং জুটিতে ২৭ রান তোলে করাচি কিংস। ১১ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ওয়াসিম। তিনে নামা সালমান আলী আগার ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ২৯।
তৃতীয় উইকেটে ওয়ার্নার-আজম খানের জুটিতেই মূলত ম্যাচ জয়ের ভিত পেয়ে যায় করাচি। তাদের ৪১ বলে ৭৬ রানের জুটিতে ছেদ ঘটে ৩৬ বলে ফিফটি করা ওয়ার্নার আউট হলে। এরপর বাকি কাজ আজম খান একাই করেন।
রিশাদ বোলিংয়ে আসেন দলীয় ৮ম ওভারে। ওই ওভারে কোনো বাউন্ডারি হজম না করে ৬ রান দেন তিনি। পরের ওভারে একটি প্রথম বলেই চার মারেন ওয়ার্নার। তবে ওভারের শেষ তিন বল ডট দিয়ে সেটা উশুল করেন রিশাদ।
তৃতীয় ওভারের রিশাদ খরচ করেন ১০ রান। শেষ ওভারে লাইন-লেংথ হারিয়ে ১৪ রান হজম করেন তিনি। চতুর্থ ডেলিভারিতে লং অন দিয়ে তাকে ছক্কা হাঁকান আজম, আর শেষ বলে চার মারেন ওয়ার্নার।
রিশাদের গড়পড়তার দিনে রাওয়াপিন্ডিজের সব বোলারই ছিলেন খরুচে। ৩.২ ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া ড্যারিল মিচেল ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১ উইকেট শিকার মোহাম্মদ আমির ও নাসিম শাহের।
এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা রাওয়ালপিন্ডিজ ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন মিচেল ও বিলিংস। ৫ চার ও ৩ ছক্কা ৪১ বলে ৬৫ করেন মিচেল। চতুর্থ উইকেটে কিউই ব্যাটারের সঙ্গে ১২০ রানের জুটি গড়া বিলিংস ৮ চার ১ ছয়ে করেন ৩৫ বলে ৫৮।