
নতুন টুর্নামেন্ট, তবে যেন পুরোনো রুপেই আছেন মোহাম্মদ রুবেল। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটের পর এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও একই ছন্দে এই রহস্য স্পিনার।
লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে অভিষেকের পর টানা দুই ম্যাচে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছেন ৩০ ছুঁইছুঁই রুবেল। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে প্রথম ম্যাচে ১৬ রানে ৩ উইকেটের পর এবার দ্বিতীয়টিতে ৩৫ রানে তিনি নিয়েছেন ৪ উইকেট।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে রুবেলের রহস্যের মায়াজালে আটকে পড়ে ১৮২ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব। ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৮৫ রান করেছিল গাজী গ্রুপ। জবাবে ১০৩ রানের বেশি করতে পারেনি রূপগঞ্জ টাইগার্স।
গাজী গ্রুপকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার কারিগর মুনিম শাহরিয়ার ও সাব্বির হোসেন শিকদার। ওপেনিং করতে নেমে ১১ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ৫৮ বলে ৯২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন মুনিম। সুমন খানের বলে ক্যাচ আউট হয়ে যাওয়া সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি তার।
পরে ৬ নম্বরে নেমে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৭১ বলে ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন সাব্বির হোসেন। রূপগঞ্জ টাইগার্সের পক্ষে ৩টি উইকেট নেন সুমন খান।
রান তাড়ায় একদমই সুবিধা করতে পারেনি রূপগঞ্জ টাইগার্স। শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৩.১ ওভারে ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন শাকির হোসেন শুভ্র।
৯.১ ওভারে ৩৫ রানে ৪ উইকেট নেন রুবেল। এছাড়া আজিজুল হাকিম রনি ১১ রানে ৩ ও আরিদুল ইসলাম আকাশ ১২ রানে নেন ২ উইকেট।
লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বড় জয়
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ৮৩ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আগে ব্যাট করে ৩৫৮ রানের বড় সংগ্রহ পায় তারা। জবাবে ৪১.৩ ওভারে ২৭৫ রানে গুটিয়ে যায় স্ট্রাইকার্স।
ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন রূপগঞ্জের তরুণ অলরাউন্ডার সামিউন বশির রাতুল। ৬ চারের সঙ্গে ১০টি ছক্কা মেরে মাত্র ৭০ বলে তিনি খেলেছেন ১১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। লিস্ট 'এ' তো বটেই, স্বীকৃত ক্রিকেটেই এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি।
রাতুলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ৩৫৮ রানের বড় পুঁজি পেয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। এছাড়া আইচ ৭১ বলে ৬২ ও তানবীর হায়দার খেলেছেন ৫১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস। শেষ দিকে মাসুম খান টুটুলের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে অপরাজিত ৩৫ রান।
স্ট্রাইকার্সের পক্ষে সানজামুল ইসলাম, রুয়েল মিয়া ও মোহাম্মদ ইফরান হোসেন।
রান তাড়ায় স্ট্রাইকার্সের প্রথম ছয় ব্যাটারের সবাই ২০ রান পেরোলেও, কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। যে কারণে বিশাল লক্ষ্যে তেমন সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি তারা।
আট নম্বরে নেমে ২ চার ও ৭ ছক্কায় মাত্র ৩৮ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন জিয়াউর রহমান। যা শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমায়। এছাড়া আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৪২, নুরুল হাসান সোহান ৩৩, আলআমিন জুনিয়র ৩২ ও ফজলে মাহমুদ রাব্বি করেন ৩২ রান।
ব্যাট হাতে বিধ্বংসী সেঞ্চুরির পর বল হাতেও ৩টি উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার রাতুল। এছাড়া রূপগঞ্জ অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসানও নেন ৩ উইকেট।
No posts available.
১৫ মে ২০২৬, ৩:০৭ পিএম
১৪ মে ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম

বাঁ-হাঁটুর চোটের কারণে মিরপুর টেস্ট থেকে ছিটকে যান বাবর আজম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার আছেন দারুণ ছন্দে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাবরের মতো ব্যাটারের অনুপস্থিতি বেশ ভালোই ভুগিয়েছে পাকিস্তানকে। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে চোট কাটিয়ে ফিরছেন দলটির পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। আর এই ব্যাটারকে কোথায় আক্রমণ করতে হবে সেটা নাকি ভালোই জানা আছে বাংলাদেশের।
মিরপুর টেস্ট শুরুর আগের দিন অনুশীলনের মাঝপথে মাঠ ছেড়েছিলেন বাবর। অভিজ্ঞ পাকিস্তানি ব্যাটার বাবর আজম ফিট হয়ে সিলেটের দ্বিতীয় টেস্টে খেলার সবুজ সংকেত পেলেও, বাংলাদেশের জন্য তিনি বড় মাথাব্যথা হবেন না, বলছেন মুশফিকুর রহিম।
সিলেট টেস্ট শুরুর আগের দিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসে মুশফিক বললেন, বাবরের জন্য পরিকল্পনা আছে তাদের,
‘তার মতো এরকম একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার যদি দলে থাকেন বা তাকে পাওয়া যায়, তাদের জন্য এটা অবশ্যই বড় পাওয়া। তবে আমরা যখন পাকিস্তানে গিয়ে (২০২৪ সালে) দুটি ম্যাচে ওদেরকে হারিয়েছিলাম, তখনও সে তো দুটি টেস্টই খেলেছে। তারপরও তারা হেরে গিয়েছিল আমাদের কাছে।’
মুশফিক আরও বলেন,
‘আমরা অবশ্যই জানি, কোথায় তাকে আক্রমণ করতে হবে বা কোথায় কীভাবে করতে হবে, পরিকল্পনা আছে। সব যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পানি, তাহলে আশা করি তাকে চাপে ফেলতে পারব এবং তাদের পুরো দলকে চাপে রাখতে পারব।’
২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান যখন বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল, তখন চার ইনিংসে বাবর করেছিলেন মাত্র ৬৪ রান। গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ৪০ রানে ৫ উইকেট নেওয়া পেসার নাহিদ রানা ওই সিরিজে বাবরকে দুবার আউট করেছিলেন। মুশফিকুর রহিম জানান, এবারও বাবরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।
মুশফিক বলেন,
‘আমার মনে হয় পাকিস্তান দল টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সব সংস্করণেই বেশ ভুগছে। তবে আমরা (ঢাকায়) জিতেছি কারণ আমরা আসলেই খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমরা তাদের বিপক্ষে ধারাবাহিক ছিলাম। এই ম্যাচেও আমরা একইভাবে খেলার চেষ্টা করব। তবে এই টেস্টে ঠিক কতটা খেলার সুযোগ আমরা পাব, তা দেখতে হবে; ম্যাচ থেকে ফল বের করে আনাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।’
সিরিজ বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাবরের ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাবরের ফেরা আমাদের জন্য ইতিবাচক। গত পিএসএলেও সে দুর্দান্ত খেলেছে। মানসিকভাবে সতেজ ও কৌশলগতভাবে বাবর এখন অনেক শক্তিশালী। তাকে দলে পেয়ে আমরা খুশি।’
মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ জয়ের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়লেও বড় দুঃসংবাদ পেল পাকিস্তান দল। স্লো ওভার রেটের জন্য শাস্তির মুখে পড়েছে তারা। শুধু ম্যাচ ফির বড় অংশ জরিমানাই নয়, আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পয়েন্টও হারিয়েছে তারা।
আইসিসির ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো পাকিস্তান দলকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৮ ওভার পিছিয়ে থাকার দায়ে এই শাস্তি দিয়েছেন। সময় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করার পরও দেখা যায়, পাকিস্তান দল বোলিং কোটা পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী পাকিস্তান দলকে দ্বআইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.২২ ধারা অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম করার জন্য সংশ্লিষ্ট দলের খেলোয়াড়দের ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করা হয়। সেই হিসেবে ৮ ওভারের জন্য পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৪০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম (ধারা ১৬.১১.২) অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম করার জন্য ১ পয়েন্ট করে পেনাল্টি দেওয়া হয়। ফলে পাকিস্তানের অর্জিত পয়েন্ট থেকে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোলিং শেষ করতে না পারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফাইনালের দৌড়ে থাকা দলগুলোর জন্য ১ পয়েন্টও যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ৮ পয়েন্ট হারানো পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা।
আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ এই অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং ম্যাচ রেফারির দেওয়া শাস্তি মেনে নিয়েছেন। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো ও কুমার ধর্মসেনা, তৃতীয় আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকর এবং চতুর্থ আম্পায়ার গাজী সোহেল যৌথভাবে এই অভিযোগটি এনেছিলেন।
মিরপুর টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই বড় অঙ্কের পয়েন্ট কর্তন পয়েন্ট টেবিলে পাকিস্তানের অবস্থানকে কিছুটা নড়বড়ে করে দিল। জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে তাই এখন পয়েন্ট হারানোর আক্ষেপই বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে সফরকারী দলে।

২০১০ সালে লর্ডস এবং ম্যানচেষ্টার টেস্টে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করে শুণ্যে লাফিয়ে তামিমের উদযাপনের দৃশ্যটা এখনো ধরে রেখেছে গ্যাটি ইমেজ। ওই দুটি সেঞ্চুরিতে বড় একটা স্বীকৃতি পেয়েছেনতামিম ইকবাল। ২০১১ সালে উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার-পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই বাঁ হাতি ওপেনার।
বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার ওটাই। ২০২১ সালে আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার প্রবর্তন করলে বাংলাদেশের সেরা পারফরমাররা পাচ্ছেন সাফল্যের স্বীকৃতি। ২০২১ সালের মে মাসে মুশফিকুর রহিম প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে জিতেছেন এই পুরস্কার। সে বছরের জুলাই মাস সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন বাঁ হাতি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২০২৩ সালের মার্চ মাসের সেরা ক্রিকেটারও বিবেচিত হয়েছেন সাকিব। ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্লেয়ার অব দ্য মান্থ-এর মুকুটটি পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
শুধু ছেলেদের ক্যাটাগরিতেই নয়, মেয়েদের ক্যাটাগরিতেও প্লেয়ার অব দ্য মান্থ-এর পুরস্কার পেয়েছেন ২ বাংলাদেশী। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নাহিদা আক্তার এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুবহানা মুস্তারি।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক সময়ে টিমমেট পেস বোলাররা থাকতেন সৎ ভাইয়ের দৃষ্টিতে। মোস্তাফিজের আর্বিভাবে ২০১৫ থেকে বদলেছে দৃষ্টিভঙ্গি। এখন তো রীতিমতো স্পটলাইটে ডান হাতি পেসার নাহিদ রানা।
এ বছরের মার্চ থেকে অন্য এক নাহিদ রানাকে দেখছে বিশ্ব। অবলীলায় ঘন্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন। কোনো কোনো ডেলিভারি ছাড়িয়ে গেছে ঘন্টায় ১৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে এক্সপ্রেস বোলারের দেখা মেলা যেখানে ভার, সেখানে গতির বোলিংয়ে ব্যাটারদের যম হিসেবে আবির্ভূত নাহিদ রানা।

গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১৮.১২ গড় এবং ৫.৩২ ইকোনমিতে ৮ উইকেট, এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও নামতা গুনে ৮ উইকেট-১৬.৭৫ গড়ে এবং ৪.৪৬ ইকোনমিতে ৮ উইকেট! দুটি সিরিজেই একটি করে ম্যাচে ৫ উইকেট! ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডকে ২-১ এ হারিয়ে দেয়ার নায়ক। এই ধারাবাহিক বোলিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন নাহিদ রানা। এপ্রিল মাসসেরা নমিনেশনে তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওমানের যতিন্দার সিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজয় কুমার । তবে তাদের কারো পারফরমেন্স আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে নয়।আইসিসি মেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ টু-তে যতিন্দার ৫ ওয়ানডেকে করেছেন ২৬৬ রান, অজয় কুমার এপ্রিল মাসে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ২টি ওয়ানডে ম্যাচে পেয়েছেন ৯ উইকেট। আইসিসির সহযোগী সদস্য দুই দেশের দুই ক্রিকেটারকে নয়, এপ্রিল সেরা ক্রিকেটার হিসেবে নাহিদ রানাকে বেছে নিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেস বোলার পেলেন আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ-এর পুরস্কার।
সদ্য সমাপ্ত ঢাকা টেস্টে নাহিদ রানার দুটি ডেলিভারির কথাই ভাবুন। প্রথম ডেলিভারিটি বাউন্সার দিয়ে পাকিস্তানের অভিষিক্ত বাঁ হাতি ওপেনার আজান আইওয়াসের মাথাটা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর বাউন্সার হেলমেটের গ্রিলে এতোটাই জোরে আঘাত হেনেছে যে, তাঁকে স্বাভাবিক করে তুললে ৪ মিনিট পরিচর্যা করতে হয়েছেপাকিস্তানের টিম ডাক্তারকে। দ্বিতীয় ইনিংসে রিজওয়ানের মতো ব্যাটারকে কী হতভম্বই না করেছেন নাহিদ রানা। তাঁর শর্ট অব লেন্থ ডেলিভারি অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বল পিচ করে ইনসুইং করে স্ট্যাম্পে আঘাত হানবে, তা ঘুর্ণাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারেননি। বলটা অফ স্ট্যাম্পের বেশ বাইরে দিয়ে চলে যাচ্ছে, তা ধরে নিয়েই ব্যাট লিফট করেছিলেন রিজওয়ান। অথচ, নিজেকে নিরাপদ রাখতে ওই কৌশলে কাজ হয়নি। বোল্ড আউটে থেমেছেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রিজওয়ান।
২০১৬ সালে আইপিএলে মোস্তাফিজের ইয়র্কারে আন্দ্রে রাসেলের ভুপাতিত হওয়ার দৃশ্যটার কথাই ভাবুন, কী আনন্দই না পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমীরা। রিজওয়ানের আউটেও নাহিদ রানা স্তুতি বিশ্বজুড়ে। কারণ, ওই আউটটাই মিরপুর টেস্টের টার্নি পয়েন্ট। পাকিস্তানের সাবেকদের আলোচনা, ক্রিকেট বিশ্লেষকদের আলোচনা জুড়ে এখন আছেন শুধুই নাহিদ রানা।
২ দিন আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ভয়ংকর এক স্পেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় বোলিংয়ে (৫/৪০) বাংলাদেশকে ১০৪ রানে টেস্ট জিতিয়ে আকাশে উড়তে থাকা নাহিদ রানার জন্য আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কারটি আরো বেশি প্রাণশক্তি যোগাবে।

চোটের কারণে সিলেট টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন সাদমান ইসলাম। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে এই ওপেনারের বিকল্প হিসেবে দলে ডাকা হয়েছে বাঁহাতি ওপেনার জাকির হাসানকে।
জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন বুকের চোটে পড়েছেন সাদমান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিবৃতিতে বায়েজিদুল জানান,
‘মিরপুরে প্রথম টেস্টের সময় ক্যাচ নিতে গিয়ে সাদমান বুকে আঘাত পান। তার বুকের হাড়ে চোট (ট্রমাটিক কন্টুশন) লেগেছে এবং তিনি ব্যথায় ভুগছেন। দুর্ভাগ্যবশত দ্বিতীয় টেস্টে তাকে পাওয়া যাবে না।’
মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের দাপুটে জয়ের পর বাংলাদেশের নজর এখন সিলেট টেস্টে। আগামী ১৬ মে থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই অনুশীলনে নেমেছে দুই দল। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ওপেনিং জুটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েল টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রথম টেস্টে ফিল্ডিং করার সময় ক্যাচ নিতে গিয়ে বুকে চোট পেয়েছিলেন সাদমান। আজ সিলেটে দলীয় অনুশীলনে ব্যাটিং করার সময় সেই চোট আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মাত্র কয়েক বল খেলার পরই ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বাঁহাতি ব্যাটার।
সাদমানের জায়গায় সুযোগ পাওয়া জাকির বাংলাদেশের হয়ে ১৩টি টেস্ট খেলেছেন। ২০২২ সালে অভিষেক টেস্টে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ও পরের দুই টেস্টে ফিফটি করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে জায়গা হারান ২৮ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার। সবশেষ ২০২৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে লাল বলের ক্রিকেটে ছিলেন তিনি।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট যুগে প্রবেশ করছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এই বছরের শেষের দিকে তাদের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে। 'ডুনস লিগ টি-টোয়েন্টি' নামের এই আসরটি আগামী অক্টোবরে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশন (এসএসিএফ) এই লিগের অনুমোদন দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সম্প্রতি অবসর নেওয়া কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এখনও নিয়মিত খেলছেন—এমন তারকাদের এই টুর্নামেন্টে দেখা যাবে।
মোট ছয়টি দল নিয়ে এই লিগটি জেদ্দার কাছের শহর তায়েফে অনুষ্ঠিত হবে। স্পোর্টস এশিয়ান নেটওয়ার্ক এবং দুটি নামী ট্যালেন্ট এজেন্সির সঙ্গে মিলে এই প্রজেক্টটি সাজানো হয়েছে। স্পোর্টস এশিয়ান নেটওয়ার্ক এবং দুটি শীর্ষস্থানীয় ট্যালেন্ট এজেন্সির অংশীদারিত্বে এই লিগটি তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিক স্পোর্টস গ্রুপের ক্লায়েন্ট তালিকায় রয়েছেন জোফ্রা আর্চার, আর অভিষেক শর্মার ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছে ‘প্রোলিথিক’। ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং এই লিগের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন।
সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো সৌদি আরবকে বিশ্বের ক্রিকেট মানচিত্রে জায়গা করে দেওয়া এবং স্থানীয় প্রতিভাদের মানোন্নয়ন করা।
নিয়মের মারপ্যাঁচে আইসিসি-র সরাসরি অনুমোদন এড়াতে এই লিগটি একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি দলে সর্বোচ্চ চারজন এমন খেলোয়াড় থাকতে পারবেন যারা গত দুই বছরের মধ্যে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এই সীমা বজায় রাখলে টুর্নামেন্টটি আইসিসি-র বিশেষ কাঠামোর মধ্যেই পড়ে যায়। শোনা যাচ্ছে, এই লিগে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ বেতন হতে পারে ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত।
তেল সমৃদ্ধ এই দেশ সৌদি আরব গত পাঁচ বছর ধরে ফুটবল, টেনিস এবং বক্সিংয়ের মতো বড় বড় ইভেন্ট আয়োজন করে ক্রীড়াবিশ্বে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। এমনকি তারা 'লিভ গলফ' (নামে একটি লিগও চালু করেছিল, যদিও সম্প্রতি তারা এই মৌসুম শেষে সেখান থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন ছিল যে, সৌদি আরব আইপিএল-এর প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো বড় ক্রিকেট লিগ আনবে, কিন্তু বাস্তবে তাদের ক্রিকেটে প্রবেশটা হচ্ছে বেশ ধীরে ও সুশৃঙ্খলভাবে।
ইতিমধ্যেই তারা আইসিসি-র বিভিন্ন ইভেন্টের স্পনসর হয়েছে এবং আইপিএলের ২০২৪ আসরের আইপিএল আয়োজন করেছে। এছাড়া তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি লিগের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে এবং নারীদের ফেয়ারব্রেক টি-টোয়েন্টি আয়োজনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিও সেরে রেখেছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে নারীদের সেই টুর্নামেন্টটি আপাতত স্থগিত রয়েছে। সেই জায়গা থেকে 'ডুনস লিগ' সৌদি আরবের নিজস্ব ক্রিকেট যাত্রার এক বড় মাইলফলক হতে পারে।