
চলতি মৌসুম শেষে ক্লাব ছেড়ে চলে যাবেন ম্যানচেস্টার সিটির অধিনায়ক বার্নার্দো সিলভা। ক্লাবটির সহকারী কোচ পেপ লিন্ডার্স নিশ্চিত করেছেন এই খবর।
৩১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের সঙ্গে সিটির চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মৌসুম শেষে। নতুন চুক্তি না করায় ফ্রি এজেন্ট হিসেবেই এতদিনের ক্লাব ছাড়বেন তিনি।
এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুলকে ৪-০ গোলে হারানোর পর লিন্ডার্স বলেন, “প্রতিটি ভালো গল্পেরই একটা শেষ আছে। সামনে মাত্র ছয় সপ্তাহ- আশা করি এই সময়টা সে উপভোগ করবে এবং প্রাপ্য বিদায়টা পাবে।”
আরও পড়ুন
| ৫ ম্যাচ বাকি থাকতেই চ্যাম্পিয়ন পিএসভি |
|
যদিও ম্যাচটিতে টাচলাইনে ছিলেন না ম্যান সিটির প্রধান কোচ পেপ গার্দিওলা, তবু আগেই সিলভাকে ‘অপরিবর্তনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। গার্দিওলার কোচিংয়ে ম্যান সিটির সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।
২০১৭ সালে মোনাকো থেকে প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ডে ম্যান সিটিতে যোগ দেন সিলভা। এরপর ৯ বছরে ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন ৪৫০ ম্যাচ। জিতেছেন ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য ট্রফি।
চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে লিগ কাপ জিতেছে সিটি। এখনও ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের লড়াইয়ে আছে তারা, যদিও প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে গার্দিওলার দল। তবে এক ম্যাচ কম খেলে ও হাতে থাকা শেষ ৮ ম্যাচ সিটির আশা এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে।
No posts available.
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২১ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০৪ পিএম

সমীকরণ সহজ—একদল বাদ পড়বে, অন্য দল টিকে থাকবে শিরোপার রেসে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। এই ম্যাচ একদলের দুঃখ মোচনের উপলক্ষ্য, অন্য দলের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা।
বাঁচা-মরা লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এই ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে লা লিগা শিরোপা প্রায় হাতছাড়া করে। লিগে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে মায়ার্কোর কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। বুন্দেসলিগা জায়ান্ট বায়ার্নও তাদের শেষ ম্যাচ নাটক জমিয়ে জিতেছে। ফ্রেইবুর্গের কাছে অন্তিম লড়াইয়ের ড্রামায় ম্যাচটা ৩-২ ব্যবধানে বাগিয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
মায়ার্কোর বিপক্ষে হারলেও অবশ্য দমে যেতে চান না রিয়াল কোচ। বরং হারের দিনই তিনি জানিয়ে দেন, দুঃসময় ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চায় তার দল। ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকের আগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জয়ে শক্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন তিনি। তার মধ্যে ইতিহাস বলে, চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ কোনো যুক্তি মানে না। সবাই যখন ধরে নেয় তারা শেষ, তখনই ঘুরে দাঁড়িয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে বার্নাব্যুর যোদ্ধারা। বিষয়টি বায়ার্নের চেয়ে কার বেশি মনে রাখার কথা?
আরও পড়ুন
| এসি মিলানকে হারাল নাপোলি, চ্যাম্পিয়নস লিগ দৌড়ে জুভেন্তাস |
|
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের বিপক্ষে সবশেষ মুখোমুখিতে হোসেলুর গোলে জিতেছিল রিয়াল। পারস্পরিক মুখোমুখিতেও খানিক এগিয়ে লস ব্লাঙ্কোসরা। ১৩ জয়ের বিপরীতে বাভারিয়ানদের জয় ১১টি। ৪টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। নক আউট ম্যাচে শেষ ৫ দেখায় বেশির ভাগ জয়ই রিয়ালের দিকে।
সংখ্যা কিংবা ইতিহাস রিয়ালের পক্ষে হলেও রিয়ালের বর্তমান অবস্থা কিছুটা নাজুক। লা লিগা হেলায় হারানো কিংবা তারকা খেলোয়াড়দের জ্বলে উঠতে না পারা। একই সঙ্গে কোচ পরিবর্তনের বিষয়টি বেশ ভাবাচ্ছে রিয়ালকে। যে জাবি আলোনসোর কাছে বছর দুয়েক আগে বুন্দেসলিগায় টাইটেল হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। সেই জাবি এখন আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগ আউটে নেই। সব মিলিয়ে চিন্তায় থাকতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী রিয়ালকে। বার্নাব্যু থেকে জয় নিজেদের পক্ষে না রাখতে পারলে সেকেন্ড লেগে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে বিপদে পড়তে হতেও পারে তাদের।
এই ম্যাচে রিয়ালের গোলপোস্টের নিচে দেখা যাবে আন্দ্রে লুনিনকে। থিবো কোর্তোয়ার ইনজুরির কারণে লুনিন যে থাকবেন, সেটা অনেকটা পরিষ্কার। চ্যাম্পিয়নস লিগে সবশেষ যখন বায়ার্নের মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল, তখন গোলপোস্টের নিচে ছিলেন লুনিন।
চোট কাটিতে দলে ফিরেছেন রাইটব্যাক এদের মিলিতাও। দীর্ঘ সময় দলের বাইরে ছিলেন ব্রাজিল ডিফেন্ডার। এই পজিশনে আরও দেখা যেতে পারে ডিন হুইসেন, গার্সিয়া ও অ্যান্টোনি রুডিগারকে।
মিডফিল্ডে আবারও ফিরছেন সবশেষ লা লিগায় মায়ার্কো ম্যাচে না থাকা ভালভার্দে। এই পজিশনে তার সাথে দেখা যেতে পারে চুয়ামেনি ও আর্দা গুলেরকে। অ্যাটাকিং পজিশনে কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
রিয়ালের বিপক্ষে বায়ার্নের শুরুর একাদশে থাকবেন হ্যারি কেইন। বুন্দেসলিগায় ৩১ গোল করা ইংলিশ ফরোয়ার্ড সবশেষ ম্যাচে ছিলেন না। আর ফরোয়ার্ড লাইনে থাকবেন লুইস দিয়াস, গ্যানাব্রি ও মাইকেল ওলিসে। বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন গ্যানাব্রি। লিভারপুলের নামের সুবিচার করা দিয়াসও যেন মুখিয়ে থাকেন গোল নেশায়। আর ওলিসের কথা না বললেই নয়। বুন্দেসলিগায় ২৭ ম্যাচে ১৯ অ্যাসিস্ট এবং ১১ গোল ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
মিডফিল্ডে বরাবরের মতোই থাকছেন জশুয়া কিমিখ ও লিওন গোরেৎজকা। আর রাইটব্যাক পজিশনে থাকছেন জোসিপ স্ট্যানিসিচ, সেন্টারব্যাকে দায়োত উপামেকানো ও জোনাথন তাহ। লেফটব্যাক পজিশনে অস্ট্রিয়ার কনরাড লাইমার। গোল পোস্টের নিচে থাকবেন ম্যানুয়েল নয়্যার। তাকে সামলাতে হবে এমবাপে ও ভিনির মতো বিশ্বসেরা দুই অ্যাটাকারকে।
আরও পড়ুন
| কক্সবাজারে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণে তোড়জোড় |
|
ব্যর্থতা আর গ্লানি মুখে নিজেকে প্রমাণ করতে চান আরবেলোয়া। লা লিগা কষ্ট ভুলে যেতে না তিনি। ম্যাচের আগে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। আরবেলোয়া বলেন, ‘‘এমন দিনে রিয়াল সবসময় সেরাটা দেবে। আমরা জানি বায়ার্ন মাঠে আমাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। বার্নাব্যুর ম্যানসিটির মতো আরেকটা অভিজ্ঞতা হবে। সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’’
রিয়ালকে গুড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই বায়ার্ন কোচের। তবে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভিনসেন্ট, “এই স্তরে প্রতিটি দলই বিপজ্জনক। হ্যাঁ, আমরা গোল হজম করতে পারি, তবে আমরাও গোল করতে পারি। রিয়ালের মতো দলের বিপক্ষে এমন কোনো গেম প্ল্যান করা যায় না, যা সব ধরনের বিপদ পুরোপুরি দূর করে দিতে পারে। আর এই কারণেই মানুষ এমন ম্যাচ দেখতে আসে।”
রিয়ালের শুরুর সম্ভাব্য একাদশ: আন্দ্রে লুনিন (গোলকিপার), এদার মিলিতাও, ডিন হুইসেন, গার্সিয়া, রুডিগার, ভালভার্দে, চুয়ামেনি, আর্দা গুলের, কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
বায়ার্নের শুরুর সম্ভাব্য একাদশ: ম্যানুয়েল নয়্যার (গোলকিপার), জোসিপ স্ট্যানিসিচ, দায়োত উপামেকানো, জোনাথন তাহ, জশুয়া কিমিখ, লিওন গোরেৎজকা, লুইস দিয়াস, গ্যানাবেরি ও মাইকেল ওলিসে ও হ্যারি কেইন।

ইতালিয়ান সিরি আ’তে সোমবার রাতে এসি মিলানকে হারিয়ে শিরোপা রেসে টিকে থাকল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাপোলি। রাতের অপর ম্যাচে ঘরের মাঠে জেনোয়াকে হারিয়ে শীর্ষ চারের লড়াই জমিয়ে তুলেছে জুভেন্তাস।
স্তাদিও দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনায় এসি মিলানের বিপক্ষে নাপোলির জয় ১-০ গোলে। এই জয়ের ফলে টেবিলের শীর্ষে থাকা ইন্তার মিলানের সঙ্গে নাপোলির ব্যবধান এখন ৭ পয়েন্ট।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে খেললেও প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি কেউই। বিরতির পর মাত্তেও পলিতানো ও অ্যালিসন সান্তোসকে মাঠে নামান কোচ অ্যান্তোনিও কন্তে।
৭৯ মিনিটে সান্তোসের পাস থেকে ম্যাথিয়াস অলিভেরা ক্রস করলে লক্ষ্যভেদ করেন পলিতানো। বাকি সময় এক গোলের লিড ধরে রাখে নাপোলি। কন্তের অধীনে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ ম্যাচ জিতলো নাপোলি।
আরও পড়ুন
| বায়ার্নকে হারানোর কৌশল জানালেন আরবেলোয়া |
|
৩১ ম্যাচ শেষে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে নাপোলি। সমান ম্যাচে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে ইন্তার মিলান। ৩১ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে এসি মিলান।
জেনোয়াকে হারিয়ে চারের দৌড়ে জুভেন্তাস
রাতের অপর ম্যাচে তুরিনের আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে জেনোয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে জুভেন্তাস। এই জয়ের ফলে ৪ নম্বরে থাকা কোমোর চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ পজিশনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে লুসিয়ানো স্পালেত্তির শিষ্যরা।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে লয়েড কেলির অ্যাসিস্ট জুভেন্তাসকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্লেইসন ব্রেমার। ১৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওয়েস্টন ম্যাককেনি।
বিরতির পর জেনোয়া পেনাল্টি পেলেও জুভেন্তাসের বদলি গোলকিপার মিশেল ডি গ্রেগোরিও সেটি রুখে দিয়ে ক্লিন শিট বজায় রাখেন।
৩১ ম্যাচ শেষে পাঁচ নম্বরে থাকা জুভেন্তাসের সংগ্রহ ৫৭ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে কোমো।

রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আলভারো আরবেলোয়া। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ তার দল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর এই ম্যাচে এগিয়ে থাকার ওপর নির্ভর করছে চ্যাম্পিয়নস লিগে লস ব্লাঙ্কোসদের ভবিষ্যত।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কথা বলেছেন আরবেলোয়া। তিনি জানিয়েছেন, বায়ার্নের মতো দলকে হারাতে হলে লস ব্লাঙ্কোসদের সম্মিলিতভাবে ‘বিশ্বসেরা দল’ হয়ে খেলতে হবে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ হাপিত্যেশের মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। লা লিগা হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদের। স্বপ্ন টিকে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগে।
আরবেলোয়া বলেন, “ফুটবলে জিততে হলে প্রতিটি ধাপে অনেক কিছু ঠিক করতে হয়। বড় দল হতে হলে শৃঙ্খলা ও দলগত মানসিকতা দরকার—এটাই আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দলে সেরা খেলোয়াড় আছে, কিন্তু আমাদেরকেই বিশ্বসেরা দল হতে হবে। ব্যক্তিগত প্রতিভা দলকে কাজে লাগাতে হবে।”
চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন। বুন্দেসলিগাতেও একপ্রকার টাইটেল নিশ্চিত করেছে বাভারিয়ানরা। বায়ার্নকে তিনি কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন, “তারা দারুণ মৌসুম কাটাচ্ছে। আমরা জানি, তারা আমাদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে।”
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে রিয়াল তাদের চারটি ম্যাচই জিতেছে। আরবেলোয়া চাইলে ইতিহাসও গড়তে পারেন—প্রথম পাঁচ নকআউট ম্যাচ জেতা কোচদের তালিকায় নাম লেখাতে।
তবে প্রথম লেগে ফেভারিট নয় রিয়াল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জয়ের সম্ভাবনায় বায়ার্ন এগিয়ে। এর মধ্যে লিগে সর্বশেষ ম্যাচে হারও এসেছে রিয়ালের। মায়োর্কার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে তারা। তবে এই ম্যাচকে ভিন্নভাবে দেখছেন কোচ।
তিনি বলেন, “এগুলো আলাদা ম্যাচ, আলাদা প্রেক্ষাপট। খেলোয়াড়রা জানে সামনে কী আছে। তাদের আলাদা করে সতর্ক করার দরকার নেই।”

ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় থাকছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে তিনি জানিয়েছেন, অনুরোধ এখনও বহাল রয়েছে। কিন্তু ফিফা এখনও কোনো উত্তর দেয়নি।
সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা রয়েছে। ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ। ২২ জুন একই শহরে বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা। তবে দুই দেশের চলমান যুদ্ধের কারণে ম্যাচগুলো ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য ফিফার কাছে আবেদন করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ফিফা। ফলে দানিয়ামালি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোতে ইরানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম।’ তবে তিনি জানান ‘সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলেই’ কেবল সরকার বিশ্বকাপে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
গত বুধবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, ‘ড্র অনুযায়ী ম্যাচগুলো যেখানে হওয়ার কথা সেখানেই হবে। ফিফার কাছে প্ল্যান বি, সি বা ডি নেই। প্ল্যান ‘এ’–ই একমাত্র সমাধান বলে জানান তিনি।

আগামী ১ থেকে ৮ অক্টোবর চীনের জাংজুতে হবে ঐতিহ্যবাহী ‘হুরাই কাপ’ অনূর্ধ্ব-১৬ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। যেখানে বিশ্বের নামকরা ক্লাবের একাডেমির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমি।
ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ওলিংগার স্পোর্টস চীনের একটি স্পোর্টস একাডেমির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকে। এবার অংশ নেবে মোট ১৬টি দল। এর মধ্যে ৮টি চীনের ক্লাব এবং বাকি ৮টি বিভিন্ন দেশের।
ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি নামকরা ক্লাবের একাডেমি নিয়মিত অংশ নেয় এই টুর্নামেন্টে। জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, নেদারল্যান্ডসের পিএসভি আইন্দহোভেন, সার্বিয়ার ক্লাব, আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট ও ব্রাজিলের সাও পাওলোর মতো একাডেমিগুলো হুরে কাপে খেলেছে।
সাও পাওলো ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রিভার প্লেট। এশিয়া থেকে সাধারণত সীমিত সংখ্যক দল সুযোগ পায়। এর আগে জাপানের একটি দল অংশ নিয়েছিল। এবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে একমাত্র হিসেবে বসুন্ধরা কিংস একাডেমিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের থেকেই প্রথম কোনো একাডেমি হিসেবে বসুন্ধরা কিংস একাডেমির তরুণরা খেলবে এই টুর্নামেন্টে।
বসুন্ধরা কিংসের এমন অর্জনের মূলে রয়েছে তাদের সুসংগঠিত একাডেমি ব্যবস্থা। ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান এই আমন্ত্রণকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। সোমবার বলেন, ‘পৃথিবীর নামী সব ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়মিত হুরাই কাপে অংশ নেয়, যা টুর্নামেন্টটির মান প্রমাণ করে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং টুর্নামেন্ট কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই।'
'আমরা দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু করছি। গত বছর থেকেই তৃণমূল থেকে প্রতিভা সংগ্রহ করে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের যাচাই করছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ছেলেরা কতটা উন্নতি করছে তা দেখা, এবং আনন্দের কথা হলো আমরা বেশ কয়েকজন ভবিষ্যৎ তারকাকে খুঁজে পেয়েছি। এই টুর্নামেন্ট আমাদের একাডেমি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।’ যোগ করেন বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটির সভাপতি।
দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর আবু জোবায়ের নিপু এই সফরকে দেখছেন তরুণদের জন্য এক বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ হিসেবে, ‘ম্যানেজমেন্ট আমাকে সেরা একটি দল গড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ডর্টমুন্ড, পিএসভি কিংবা সাও পাওলোর মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেলা চাট্টিখানি কথা নয়, এটা আমাদের কিশোরদের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। আগস্ট থেকেই আমরা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ক্যাম্প শুরু করব। এই আসর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা আমাদের ছেলেদের আগামীর বড় তারকা হওয়ার পথে অবিশ্বাস্য সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশে দেশে ফুটবলার সংকট দূর করতে বসুন্ধরা কিংস যে মেগা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তা আজ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রশংসিত। দেশের ফুটবল ইতিহাসে বসুন্ধরা কিংসই প্রথম এমন পূর্ণাঙ্গ একাডেমি চালু করেছে, যা ইউরোপীয় ধাঁচে পরিচালিত হয়। মূলত তাদের এই পেশাদারত্ব ও অবকাঠামো নজর কেড়েছে চীনা আয়োজকদের। ফলে এশিয়ায় স্বাগতিক চীন বাদে একমাত্র দল হিসেবে কিংসই এই আসরে সুযোগ পেয়েছে।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে বসুন্ধরা কিংসের মিডিয়া ম্যানেজার ও ফুটবল বিশ্লেষক আহমেদ শায়েক বলেন, ‘এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলা বাংলাদেশের যে কোনো অ্যাকাডেমির জন্য সম্মানের এবং শিক্ষণীয় একটি বিষয়। এখানে খেললে দেশের তরুণ ফুটবলাররা বহিবিশ্বের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে। তারা বাড়তি একটি অনুপ্রেরণা পাবে এবং নিজেদের আরও উন্নত করার তাগিদ তাদের মধ্যে তৈরি হবে। এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের নামকরা সব ক্লাবের একাডেমির সঙ্গে খেলাটা আমি মনে করি দারুণ একটা সুযোগ। বসুন্ধরা কিংসের ম্যানেজমেন্টের সকলের প্রচেষ্টায় ক্লাব এমন পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এমন সুযোগ কাজে লাগানোর সিদ্ধান্তে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট প্রশংসার দাবি রাখে। এবারই এই টুর্নামেন্টে প্রথম কোনও বাংলাদেশের ক্লাবের একাডেমি খেলতে যাচ্ছে। যা প্রমান করে দেশের বাইরে কিংসের একাডেমির সুনাম রয়েছে।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে বড় স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমির। শুরুতে ৭০ জন নিয়ে শুরু হলেও একাডেমির শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ জনে। গত অক্টোবরে একাডেমির খেলোয়াড়দের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে আয়োজন করা হয় টুর্নামেন্ট। এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ কিংস একাডেমির কিশোরদের সামনে।