
সাড়ে তিন মাস পর মাঠে ফিরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। পরের ম্যাচে পরাজয়ের ব্যবধান আরও বেড়েছে, ফল ৫-১। দুটি হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর হেড কোচ পিটার বাটলারের ভিন্ন মত; হঠাৎ ক্ষুব্ধ, হঠাৎ খুশি।
গত শুক্রবার ব্যাংককের থনবুরি প্রাকটিস গ্রাউন্ডে হারের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় বাটলার বলেন,
'কয়েকজন ফুটবলার ভুল মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছে, এমন গাফিলতি আমি কিছুতেই সহ্য করব না।'
এক দিন যেতেই বদলায় নারীদের ব্রিটিশ কোচের সুর। দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন রোববার জানান,
‘কয়েকজনের সঙ্গে আমি আলাদাভাবে কথা বলেছি। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’
সোমবার মাঠে নেমে মেয়েদের পারফরম্যান্সের উন্নতি কতটা হয়েছে তা হয়ত ম্যাচের স্কোর লাইনেই দৃশ্যমান।
সেই ম্যাচ শেষে কোচের প্রতিক্রিয়া কেমন হয় সেটি ছিল জানার অপেক্ষা। এবার বাটলারের সুর আরও নরম,
‘খেলার কিছু দিক নিয়ে আমি সত্যিই সন্তুষ্ট, যদিও কিছু জায়গায় আমরা সংগ্রাম করবই। বিশেষ করে শারীরিক দিক, রিসোর্স, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধায়।’
সুযোগ-সুবিধায় ও অনুশীলনে পিছিয়ে থেকে আগের ম্যাচেও তো নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই ম্যাচের পর কেন ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সেটি কিছুটা বিস্ময়। এমনকি ৫-১ গোলে হারের পর এটাও জানান, থাইল্যান্ডে তাদের মাঠে ১০ বার খেললে বাংলাদেশ নাকি ৯ বারই হারবে। যদিও দেশ ছাড়ার আগে জেতার কথাই বলে যান বাংলাদেশ কোচ।
ভারতের কাছে হেরে ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি থাইল্যান্ড। তবে দুবার বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। কিন্তু তাদের বিপক্ষে লড়াই করতে পারবে না বাংলাদেশ, এমনটা মনে করেন না সাবেক ও বিশ্লেষকেরা।
সে যাই হোক, বাস্তবতাই হয়ত বুঝিয়ে দিতে চাইছেন বাটলার। তবে সেটি একেক ম্যাচে একেক রকম কেন তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। আবার ম্যাচ খারাপ খেললে সেটি শুধরে দেবেন কোচ। ড্রেসিংরুমে কথা বলে সমস্যা ঠিক করে নেবেন, খেলোয়াড়েরাও হয়তো এমনটাই প্রত্যাশা করেন। বাটলার হাঁটলেন ভিন্ন পথে, বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় খেলোয়াড়দের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন।
কঠিন বাস্তবতার মুখে বাটলারের দল এবারই প্রথমস তা-ও কিন্তু নয়। গত জুন-জুলাইয়ে মিয়ানমারে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই খেলেন ঋতুপর্ণা-মনিকারা। তখনকার র্যাঙ্কিংয়ে ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা ঘরের মাঠের মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারায় তাঁরা।
সেই টুর্নামেন্টেই প্রথম ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা বাহরাইনকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বাংলাদেশ। কিন্তু ওই দলের সঙ্গে এই দলের যেন বিস্তর পার্থক্য। ঠিক এখানেই কি দ্বিমত বাটলারের?
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার রেহানা পারভীনের টি-স্পোর্টসকে বলেন,
‘তিন মাস আগের আর পরের দলের সঙ্গে অনেক পার্থক্য। এখানে কোচ দায় এড়াতে পারেন না। ফলাফল যাই হোক আমাদের কিছু জায়গায় দুর্বলতা স্পস্ট মনে হলো। ডিফেন্সে যারা আছে তাঁদের খারাপ বলব না, তবে অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। জানি না মাসুরা (পারভীন), সাবিনাদের (খাতুন) কেন দলে নেওয়া হচ্ছে না। তারা তো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। বড় ম্যাচে আমাদের অভিজ্ঞ ফুটবলার নামাতে হবে।’
সাফজয়ী সাবেক ফুটবলার সীরাত জাহান স্বপ্নার মতে, খেলোয়াড়দের কারো কোনো সমস্যা বা ঘাটতি থাকলে কোচ যেন তাঁদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেন। তিনি বললেন,
‘যেহেতু আমি এই কোচের সঙ্গে কাজ করিনি, তাঁর সম্পর্কে বলতে পারব না। তবে কোনো খেলোয়াড়ের যদি অপ্রোচ বা খেলায় ঘাটতি থাকে, সেটা তাঁকে আলাদাভাবে বলতে পারেন।’
অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলে ফেরানো প্রসঙ্গে স্বপ্না বলেন,
‘যদি মাসুরা-সাবিনারা ফিট থাকে, আর দলে অভিজ্ঞতার যদি ঘাটতি থাকে, তাহলে তাদরে ফেরানো যেতে পারে। এটা আমার ব্যক্তিগত মত।’
সবশেষ ম্যাচে বাংলাদেশের রক্ষণের দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। অধিনায়ক আফঈদাসহ শামসুন্নাহার (সিনিয়র), নবিরনদের স্লো রানের সুযোগ নিয়েছে প্রতিপক্ষ দলটি। বাংলাদেশের পাঁচটি গোল হজমের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কোচের হাই লাইন ডিফেন্স। থ্রু পাস, উড়ন্ত বলে প্রায় সময়ই বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করেছেন স্বাগতিক ফরোয়ার্ডরা। খুব সহজেই গোলের সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। গোলরক্ষক রুপ্না চাকমা কয়েক দফা পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসেও দলকে গোল হজম থেকে রক্ষা করতে পারেননি। এই ম্যাচে তারপরও একাধিক সেভ করেছেন তিনি, তা না হলে পরাজয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো।
প্রথম ম্যাচে হারের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলা কোচের তির্যক মন্তব্য কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধ- তা নিয়ে হচ্ছে সমালোচনা। নিয়ম-শৃঙ্খলা নিয়ে শিষ্যদের সবচেয়ে বেশি পাঠ করিয়ে থাকেন কোচরা। সেই নিয়মের অধ্যায় তো আবার কোচদের জন্যও রয়েছে!
হাই লাইন ডিফেন্সকেই হারের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। থাইল্যান্ড থেকে দল আজ দেশে ফেরার কথা। সফরে কোচ বাটলারের দুই-তিন দফায় মন্তব্য কীভাবে দেখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ অবশ্য এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। থাইল্যান্ড সফর নিয়ে আগামীকাল সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
No posts available.
১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬ এম

মোহাম্মদ সালাহর বিদায় বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই লিভারপুল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন অ্যান্ডি রবার্টসন। চলতি মৌসুমের পর অ্যানফিল্ডে আর দেখা যাবে না এই স্কটিশ ডিফেন্ডারকে।
এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় ৩২ বছর বয়সী রবার্টসন বলেন,
‘আমার মনে হয় সরে দাঁড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়। গত ৯ বছরের দিকে তাকালে আমার মুখে বড় হাসি ফুটে ওঠে। এই ক্লাব, সমর্থক এবং ক্লাবের সাথে যুক্ত প্রতিটি মানুষ আমার কাছে সবকিছু।‘
২০১৭ সালে হাল সিটি থেকে মাত্র ৮ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলে পাড়ি জমান রবার্টসন। ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৩৭৩টি ম্যাচ। হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ ও দুটি প্রিমিয়ার লিগসহ ৯টি বড় শিরোপা।
চলতি মৌসুমে আর্নে স্লটের অধীনে রবার্টসনের সুযোগ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে। বোর্নমাউথ থেকে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে আসা হাঙ্গেরিয়ান ডিফেন্ডার মিলোস কারকেজ এখন স্লটের প্রথম পছন্দ। সবমিলিয়ে এই লেফট-ব্যাক ১৫ ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন চলতি মৌসুমে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে টটেনহাম হটস্পারের সঙ্গে রবার্টসনের দলবদলের বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল। তবে কোস্টাস সিমিকাসকে রোমা থেকে লোন থেকে ফেরানোয় শেষ মুহূর্তে সেই চুক্তি বাতিল করে দেয়।
ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের সঙ্গে রবার্টসনের ফুল-ব্যাক জুটি ইউরোপের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হতো। ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রিমিয়ার লিগে ৫৬টি অ্যাসিস্ট করে তিনি এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন।
রবার্টসন বলেন,
‘আমি প্রথম মিনিট থেকেই সফল হতে চেয়েছিলাম এবং ক্লাবকে তার প্রাপ্য জায়গায় পৌঁছে দিতে চেয়েছি। আমি গর্বিত যে আমি সেই দলগুলোর অংশ ছিলাম যারা এটা করতে পেরেছে।‘
লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বরে রয়েছে। গত সপ্তাহে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৪-০ গোলে বিদায় নিয়েছে গানাররা। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের প্রথম লেগে পিএসজির সঙ্গে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে লিভারপুল। শনিবার অ্যানফিল্ডে ফুলহামের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্নে স্লটের দল।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে ফিফা। দীর্ঘ তিন বছরের যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এই তালিকাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত রেফারি প্যানেল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি ও ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়াল। সব মিলিয়ে ৫০টি সদস্য দেশ এবং ছয়টি মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব থাকছে এই দলে।
ফিফা জানিয়েছে, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া পর্যায়ের ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও ফিটনেস—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘গুণগত মানই প্রথম অগ্রাধিকার’ নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ‘নির্বাচিত রেফারিরা বিশ্বের সেরা। ৩ বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ মান ধরে রাখতে পারেন।
কলিনা জানান, এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট—৪৮ দল অংশ নেবে এবং ১০৪টি ম্যাচ হবে। তাই এবার রেফারিদের দলও সবচেয়ে বড়, গত কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় আরও বিস্তৃত।
ফিফা আরও জানিয়েছে, এই দলে ছয়জন নারী ম্যাচ অফিশিয়ালও রয়েছেন, যা নারী রেফারিংয়ের অগ্রগতির ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নেবে।
ম্যাচ পরিচালনায় প্রযুক্তির ব্যবহারও থাকবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। গোললাইন প্রযুক্তি, উন্নত ভার্সনের সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেম এবং কানেক্টেড বল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রথমবার রেফারির চোখে দেখা লাইভ ফুটেজও দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
ফিফা রেফারিং বিভাগের পরিচালক মাস্সিমো বুসাক্কা বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই এই প্রস্তুতি শুরু হয়। ধারাবাহিক সেমিনার, কর্মশালা এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মায়ামিতে বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্প হবে, যেখানে রেফারিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হবে।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এবারের বিশ্বকাপে রেফারিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভুল করার লক্ষ্য নিয়েছে ফিফা।

প্যাট্রিক ক্লুইভার্টর এক মন্তব্যেই নতুন করে তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব। আধুনিক ফুটবলের সেরা নম্বর নাইন হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজকে বেছে নিয়ে বার্সেলোনায় তাঁর সম্ভাব্য যোগ দেওয়া নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন এই ডাচ কিংবদন্তি। তাঁর ভাষায়, ‘ওরা খুব কাছাকাছি, একেবারেই কাছাকাছি।’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্লুইভার্টকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আধুনিক ফুটবলে নিজের জায়গায় কাকে দেখতে চান। উত্তরে সরাসরি আলভারেজের নাম নেন তিনি। তারপর বার্সেলোনায় তাঁকে নিতে চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নে ক্লুইভার্টের জবাব, ‘সম্ভব, অবশ্যই সম্ভব। আমার মনে হয়, বিষয়টি অনেকটাই এগিয়ে গেছে।’
শুধু প্রশংসাতেই থেমে থাকেননি ক্লুইভার্ট। বার্সেলোনায় গেলে আলভারেজের সামনে কী অপেক্ষা করছে, সেটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন। বললেন, ‘বার্সেলোনায় গেলে তার সামনে একদম পরিষ্কার পথ থাকবে। চারপাশে অনেক বড় খেলোয়াড় থাকবে, যারা তাকে আরও বড় কিছু অর্জনে সহায়তা করবে। কারণ বার্সেলোনা মানেই বার্সেলোনা।’
তবে এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আলেতিকো মাদ্রিদ নিজেদের তারকা ফরোয়ার্ডকে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। ক্লাবটির সভাপতি এনরিক সেরেসো এরই মধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলভারেজকে ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের আগে বার্সেলোনার রাস্তায় হঠাৎ এক সংবাদ সম্মেলনে সেরেসো বলেন, ‘আমি যতক্ষণ না তাকে যেতে বলছি, ততক্ষণ আলভারেজ কোথাও যাচ্ছে না।’ এমনকি আগামী মৌসুমেও তিনি ক্লাবে থাকবেন কি না—এই প্রশ্নে কড়া সুর, ‘সে আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। আমি বলার আগে সে কোথাও যাচ্ছে না।’
দুই ক্লাবের কথার লড়াইয়ে উত্তাপ বাড়ছেই। এর মাঝেই ক্লুইভার্টের মন্তব্য নতুন করে জল্পনায় ঘি ঢেলেছে।

ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে টিকিটের নতুন ও আরও ব্যয়বহুল ক্যাটাগরি যুক্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম আগের তুলনায় আরও বেড়ে গেছে, যা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচে সামনের সারির সর্বোচ্চ মানের আসনের মূল্য ধরা হয়েছে ৪১০৫ ডলার পর্যন্ত। এর আগে একই ক্যাটাগরির টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২৭৩৫ ডলার। নতুন করে ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ নামে আলাদা বিভাগ যুক্ত করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তা-ই নয়, দ্বিতীয় সারিতেও নতুন একটি সামনের সারির বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৪০ থেকে ২৩৩০ ডলার পর্যন্ত। এসব নতুন ক্যাটাগরি সম্পর্কে আগাম কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়েই বিক্রয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিফা এর আগে জানিয়েছিল, প্রথম শ্রেণির টিকিটগুলো সাধারণত নিচের স্তরের আসনে থাকে এবং সেগুলোই সর্বোচ্চ মূল্যের। দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটগুলো থাকে প্রথম শ্রেণির বাইরের অংশে, যা নিচের ও ওপরের উভয় স্তরেই পাওয়া যায়। তবে এবার কিছু আসন আগের শ্রেণির বাইরে রেখে নতুন করে উচ্চমূল্যের বিভাগ তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের জন্যও প্রথম শ্রেণির সামনের সারির টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৩৬০ ডলার পর্যন্ত। শেষ ষোলো পর্বের কিছু ম্যাচের টিকিটের দামও বাড়িয়ে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের দামও সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৯৯০ ডলার, যা আগে ছিল ৮৬৮০ ডলার। দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সমর্থকদের সমালোচনার মুখে আগেই তুলনামূলক কম মূল্যের একটি ‘সাপোর্টার্স টায়ার’ টিকিট চালু করেছিল ফিফা। তবে নতুন করে উচ্চমূল্যের টিকিট যুক্ত হওয়ায় আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ফুটবল লিগে (এমএলএস) আরও এক বিশ্বতারকাকে ভেড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়র। ইএসপিএনের প্রতিবেদন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব সিনসিনাটি ইতিমধ্যে এই ফরোয়ার্ডকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করতে প্রাথমিক যোগাযোগ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে আগ্রহী কি না এবং সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে ক্লাবটির পক্ষ থেকে নেইমারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এমন হাই প্রোফাইল একজন খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে কী ধরনের আর্থিক কাঠামো প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে নেইমার তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে দুই হাজার ছাব্বিশ সালের শেষ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ। গত ডিসেম্বরে তিনি এক বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেন। ফলে এখনই তার ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা কম হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের পর নেওয়া হতে পারে। তিনি ব্রাজিলের হয়ে খেলুন বা না খেলুন, এই টুর্নামেন্টের আগে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম। দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবরের পর থেকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দলে আর ডাক পাননি নেইমার।
চোটের কারণে বর্তমানে মাঠের বাইরে রয়েছেন নেইমার। হাঁটুর সমস্যায় ভুগে গত দুই সপ্তাহ ধরে সান্তোসের হয়ে খেলতে পারেননি তিনি। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচে তিনটি গোল ও তিনটি সহায়তা করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
সান্তোসের কোচ কুকা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেইমার হাঁটুর একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছেন, যাতে বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ফিরতে পারেন। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, পুরোপুরি ফিট থাকলে বিশ্বকাপের দলে নেইমারকে বিবেচনায় রাখা হবে।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিল প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২–১ গোলে হারে, তবে পরের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩–১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়।