
শুরু থেকেই চলল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। তবে গোল হলো না একটির বেশি। সেই গোলের পরই আবার শুরু হলো অন্য লড়াই। মাঠের ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে দেখা গেল অন্যরকম এক পরিস্থিতি। সবকিছু পাশ কাটিয়ে একমাত্র গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল রিয়াল মাদ্রিদ।
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের প্রথম লেগে বেনফিকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। প্রতিপক্ষের মাঠে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে জয়সূচক গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
প্রথম পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বেনফিকার কাছে ৪-২ গোলে হেরেই সরাসরি শেষ ষোলোতে যাওয়ার টিকেট হাতছাড়া করেছিল রিয়াল। মাসখানেকের ব্যবধানে সেই পরাজয়ের কিছুটা হলেও বদলা নিতে পারল আলভারো আরবেলোয়ার দল।
ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে রিয়াল। প্রায় ৫৬ শতাংশ সময় বলের দখল তারা রাখে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে। গোলের জন্য করে মোট ১৫টি শট। এর মধ্যে ৮টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। তবে গোল হয়নি ১টির বেশি। বিপরীতে ৯টি শট করে ৩টি লক্ষ্য বরাবর রাখতে পারে বেনফিকা।
প্রথমার্ধে রিয়ালের বড় সুযোগ আসে ১৯ মিনিটে। কিন্তু অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট। এর ৫ মিনিট পর দারুণ ক্ষিপ্রতায় বেনফিকার জোরাল শট ঠেকিয়ে রিয়ালের জাল অক্ষত রাখেন থিবো কর্তোয়া।
পরে ৪০ মিনিটে আবারও দারুণ সুযোগ পায় রিয়াল। ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের এগিয়ে দেওয়া বলে খুব কাছ থেকে পা ছোঁয়াতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপে। বিরতিতে যাওয়ার আগে আরও দুটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ম্যাচের একমাত্র গোলের উৎস এমবাপেই। ম্যাচের ৫০ মিনিটে তার পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শটে বল জালে জড়ান ভিনিসিয়ুস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার ৩১তম গোল। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি গোল শুধু নেইমারের (৪৩)।
গোলের ডেডলক ভেঙে আপত্তিকর উদযাপন করায় হলুদ কার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস। যা মেনে নিতে না পেরে আপত্তি করতে থাকেন তিনি। পরে খেলা শুরুর ঠিক আগে বেনফিকার জানলুকি প্রেসতিয়ান্নির বিরুদ্ধে কিছু একটা অভিযোগ করেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড।
তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যাচ্ছিল না, কী নিয়ে ভিনিসিয়ুসের অভিযোগ। তবে ম্যাচ শেষে ফেদে ভালভার্দে বলেছেন, ভিনিসিয়ুসকে 'বানর' বলে ডেকেছেন প্রেসতিয়ান্নি। যা সরাসরি বর্ণবাদের শামিল। ওই ঘটনায় প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা।
এরপর আবার খেলা শুরু হলে ৭৯ মিনিটে সুযোগ পান ভিনিসিয়ুস। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এর ৬ মিনিট পর প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে ফাউল করেন তিনি। ফলে ফ্রি-কিক পেয়ে যায় বেনফিকা।
তবে বেনফিকা কোচ হোসে মরিনিয়ো বারবার কার্ডের জন্য আওয়াজ তুলতে থাকেন। যা পছন্দ হয়নি রেফারির। সাইডলাইনে ম্যাচ অফিসিয়ালের কাছে আপত্তি জানাতে থাকেন ফরাসি এই কোচ। যার ফলে দুই হলুড কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হন মরিনিয়ো।
পরে আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বেনফিকা। ঘরের মাঠে এক গোলের হারে মাঠ ছাড়ে তারা। আগামী বুধবার রিয়ালের মাঠে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে দুই দল।
এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফে দিনের অন্য ম্যাচে নিজেদের ঘরের মাঠে আটলান্টাকে ২-০ গোলে হারায় বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। দলের হয়ে গোল দুইটি সের্হু গিরাসি ও ম্যাক্সিমিলান বিয়ের। আগামী বুধবার ফিরতি লেগে খেলবে দুই দল।
No posts available.
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২১ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগ ২-১ ব্যবধানে জিতে সুবিধাজনক অবস্থানে বায়ার্ন মিউনিখ। বুধবার ফিরতি লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দলকে আতিথ্য দেবে তারা। এই ম্যাচের আগে স্বাগতিক গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার সতর্কবার্তা দিয়েছেন সতীর্থদের। তিনি বলেছেন, রিয়াল এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায়। আর এ সময় লস ব্লাঙ্কোসরা সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর।
‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্নে বিভোর বাভারিয়ানরা বুন্দেসলিগায় ১২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে । আর জার্মান কাপের সেমিফাইনালেও জায়গা করেছে পোক্ত। আর রিয়াল মাদ্রিদ স্প্যানিশ কাপ (কোপা দেল রে) থেকে ছিটকে গেছে এবং লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগই এখন তাদের ট্রফি জেতার একমাত্র বাস্তব সুযোগ।
মঙ্গলবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে নয়্যার বলেন,
‘রিয়ালের জন্য নিজেদের অবস্থা ভালো করার এটাই বড় সুযোগ। তাদের মতো ক্লাবের জন্য এটি খুবই কঠিন সময়, যা আমরা নিজেরাও অতীতে পার করেছি।’
এরপরই নয়্যার যোগ করেন,
‘যখন আপনার পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়, তখন আপনি চাইলে পাহাড়ও টপকাতে পারেন।’
রিয়ালকে এমন এক বায়ার্ন দলের মুখোমুখি হতে হবে যারা এখন উড়ছে। গত শনিবার সেন্ট পাউলিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বুন্দেসলিগায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের (১০৫টি) নতুন রেকর্ড গড়েছে তারা। নয়্যার বলেন,
‘আমরা এখন দুর্দান্ত ছন্দে। প্রতিটি টুর্নামেন্টে আমরা টিকে আছি এবং সব আমাদের নিজেদের হাতেই। আমরা এখন চালকের আসনে বসে আছি।’
এই সপ্তাহান্তেই বায়ার্নের লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে যদি বরুশিয়া ডর্টমুন্ড হফেনহেইমের কাছে হেরে যায়। এছাড়া ২২ এপ্রিল জার্মান কাপের সেমিফাইনালে তারা বায়ার লেভারকুসেনের মুখোমুখি হবে।
৪০ বছর বয়সী নয়্যার সতর্ক করে বলেন,
‘আমরা প্রথম ম্যাচ জিতেছি ঠিকই, কিন্তু ব্যবধান মাত্র এক গোলের। আমরা জানি আমাদের কতটা লড়াই করতে হবে। আমাদের অনুপ্রেরণা এখন আকাশচুম্বী, তবে আমাদের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া চলবে না। রিয়াল কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তা আমাদের জানা আছে, তবে আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখছি।’

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে হেরে রিয়াল মাদ্রিদের সকল মনোযোগ এখন ফিরতি লেগে। মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সেই মহারণের আগে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে তরুণ ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর অনুপস্থিতি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফিরতি লেগের জন্য দলের সঙ্গে জার্মানিতে যেতে পারেননি আসেনসিও। পেটের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। ফিরতি লেগে পাওয়া যাবে না স্প্যানিশ সেন্টারব্যাককে।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ম্যাচে স্কোয়াডে ছিলেন আসেনসিও। তবে ২৩ বছর বয়সী স্প্যানিশ সেন্টার-ব্যাককে মাঠে নামনি কোচ আলভারো আরবেলোয়া। ফিরতি লেগে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়ে হয়েছিল। সেটাও গেল ভেস্তে।
গত শুক্রবার জিরোনার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচটিতে পুরো সময় খেলেন আসেনসিও। ১-১ সমতায় শেষ হয়ে দুই দলের সেই লড়াই।
স্কোয়াডে না থাকলেও দলের সঙ্গে সফর করছেন অহেলিয়া চুয়ামেনি। প্রথম লেগে হলুদ কার্ড দেখা ফরাসি মিডফিল্ডার এই ম্যাচ খেলতে পারবেন না।
ইউরোপ সেরার মঞ্চে কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে বুধবার বায়ার্নের মাঠে খেলবে রিয়াল। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরে পিছিয়ে আছে প্রতিযোগিতাটির রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
ব্যবধানটা বড় নয়। ঘুরে দাঁড়িয়ে রিয়ালের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে তাই প্রবলভাবেই। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্প্যানিশ জায়ান্টদের প্রত্যাবর্তনের নজির তো কম নেই।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। তবে আর্নে স্লটের দল এবার কিছুটা কঠিন সমীকরণের সামনে। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজির কাছে ফার্স্ট লেগ ২-০ গোলে পিছিয়ে অলরেডরা।
প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) বিপক্ষে অবশ্য ফিরতি লেগে অ্যানফিল্ডে। তাতে স্বপ্ন বুনছেন অলরেড ভক্তরা। কারণ, অ্যানফিল্ডে যে কখন কখনও রূপকথার গল্প লেখা হয়, তা সবার জানা। পিএসজির বিপক্ষে পিছিয়ে থাকার পরও স্বপ্ন দেখতে ভুলছেন না ডমিনিক সোবোসলাই।
সেমিফাইনালের টিকিট কাটা—কাজটা পাহাড় ডিঙানোর মতো কঠিন হলেও আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটার ম্যাচের আগে হাঙ্গেরিয়ান মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, দলের জন্য প্রয়োজনে মরে যেতেও প্রস্তুত তিনি।
সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে ঘরের মাঠে লিভারপুলকে পাড়ি দিতে হবে এক বিশাল পর্বত, জিততে হবে অন্তত ৩ গোলের ব্যবধানে। অন্যদিকে, প্রথম লেগের ২-০ ব্যবধানের জয় পিএসজিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। আজ তারা জিতলে বা ড্র করলে তো বটেই, এমনকি ১ গোলের ব্যবধানে হারলেও শেষ চারে জায়গা করে নেবে।
গত মৌসুমেও শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল, যেখানে স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে জিতে লিভারপুলকে বিদায় করে পরের রাউন্ডে উঠেছিল ফরাসি জায়ান্টরা।
লিভারপুলের সুখ স্মৃতি যে নেই সেটা কিন্তু নয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল লিভারপুল। পরের অ্যানফিল্ডে রূপকথার গল্প লিখে ৪-০ ব্যবধানে দ্বিতীয় লেগ জিতে নিশ্চিত করে ফাইনাল। সেই আসরে চ্যাম্পিয়নের মুকুটও পরেছিল লিভারপুল।
পিএসজির বিপক্ষে তেমনই একটা কামব্যাক চান সোবোসলাই। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন,
‘আমি মাঠে মরতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমাদের সব খেলোয়াড়ই এমনটা ভাবছে। আমরা এটা ভীষণভাবে চাই। প্রথম মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের সবটুকু নিংড়ে দেব। লড়াই যদি ৯০ মিনিটের বদলে ১২০ বা ১২৫ মিনিটেও গড়ায়, আমরা হাল ছেড়ে দেব না।’
মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করা সোবোসলাই প্রতিপক্ষের শক্তিটাও জানেন। আবার এটাও বলেছেন,
‘ওদের দলে সুপারস্টার আছে। তবে মেসি, এমবাপ্পে বা নেইমারের সময়ের মতো নয়। এখন ওদের খেলার ধরন আলাদা। সিস্টেম আলাদা। আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি। ২-০ লিড নিয়ে অ্যানফিল্ডে আসছে। তাই ম্যাচটা কঠিন হবেই। তবে আমরা প্রস্তুত।’

তরুণ প্রজন্মের কাছে ফুটবলকে আরও
আকর্ষণীয় করে তুলতে একগুচ্ছ
বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন সিরি’আর ক্লাব নাপোলির প্রেসিডেন্ট আউরেলিও দে লরেন্তিস। ভিডিও
গেম দেখে বড় হওয়া
বর্তমান প্রজন্মের কাছে ৯০ মিনিটের
বর্তমান ফুটবল ফরম্যাটটি ‘বড্ড ধীরগতির’। তাই
ম্যাচের সময় কমিয়ে আনা
এবং ফুটবল থেকে হলুদ ও
লাল কার্ড পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পক্ষে মত
দিয়েছেন ৭৬ বছর বয়সী এই
ফুটবল কুশলী।
নিজের বাসভবন থেকে ‘দ্য
অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দে লরেন্তিস সতর্ক করে বলেন, ফুটবল যদি আধুনিক সময়ের
মানুষের মনোযোগের পরিধির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারে, তবে এটি ভবিষ্যতে সমর্থক হারানোর
ঝুঁকিতে পড়বে। নাপোলি মালিকের বিশ্বাস, প্লে-স্টেশনের মতো ডিজিটাল বিনোদনের সঙ্গে পাল্লা
দিতে হলে ফুটবলকে আরও দর্শনীয় এবং দ্রুতগতির হতে হবে। তাঁর ভাবনার মধ্যে রয়েছে ম্যাচের
সময় কমিয়ে ৫০ মিনিটের ‘ইফেক্টিভ প্লেয়িং টাইম’ করা এবং গোল করার সুযোগ বাড়াতে অফসাইড
নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা।
সময়ের পরিবর্তনের পাশাপাশি দে লরেন্তিস প্রথাগত
হলুদ ও লাল কার্ড
তুলে দিয়ে ‘সিন-বিন’ (সাময়িকভাবে
মাঠের বাইরে রাখা) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করেছেন। তাঁর মতে, এর
ফলে ফাউল করার তাৎক্ষণিক
শাস্তি আরও কার্যকর হবে।
তিনি বিশ্বাস করেন, এই নিয়ম চালু
হলে খেলোয়াড়রা ইচ্ছাকৃতভাবে 'ট্যাকটিক্যাল ফাউল' করে খেলার গতি
নষ্ট করতে পারবে না,
কারণ তখন মাঠেই তাদের
বড় শাস্তি ভোগ করতে হবে।
লরেন্তিস আরও যোগ করেন,
‘প্রথমত, আমি প্রতি অর্ধে
৪৫ মিনিটের পরিবর্তে ২৫ মিনিট খেলা
রাখব। তবে আপনি মাঠে
শুয়ে পড়ে অভিনেতাদের মতো
অভিনয় করতে পারবেন না! 'আহ্!'—এমনভাবে
চিৎকার করা যাবে না
যেন কতই না ব্যথা
পেয়েছেন। না—আপনাকে সঙ্গে
সঙ্গে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে! আমি আরও
যা করব—কখনও লাল
বা হলুদ কার্ড ব্যবহার
করব না। আমি বলব,
“তুমি (হলুদ কার্ডের অপরাধে)
পাঁচ মিনিটের জন্য বাইরে যাও!’
এবং ‘তুমি (লাল কার্ডের অপরাধে)
২০ মিনিটের জন্য বাইরে চলে
যাও!’
আউরেলিও দে লরেন্তিসের ক্লাব সিরি’ আতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে
রাখার চূড়ান্ত লড়াই করছে এখন। ৩২ ম্যাচে ৬৬
পয়েন্ট নিয়ে নাপোলি বর্তমানে
পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, শীর্ষে থাকা ইন্টার মিলানের চেয়ে
তারা ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে।
পয়েন্টন টেবিলে
ব্যবধান কমিয়ে আনার দিকে নজর
থাকলেও অস্থির এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
নাপোলি। ইতালিয়ান
জাতীয় দলের সঙ্গে কোচ
আন্তোনিও কন্তের নাম জড়িয়ে ক্রমাগত
গুঞ্জন ওঠায় এবং তাঁর
চুক্তির শেষ বছরে পদার্পণ
করায় ক্লাবে এক ধরনের অনিশ্চয়তা
তৈরি হয়েছে।

মাঠের লড়াইয়ের আগে শুরু হলো ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’। আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ মেট্রোপলিটানোতে হবে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের মহারণ। চ্যাম্পিয়নস লিগের মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বার্সেলোনার অনুশীলন সেশনে এক কৌতূহল উদ্দীপক দৃশ্য দেখা গেছে।
মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামের ঘাসের উচ্চতা নিয়ে ইউয়েফার ম্যাচ ডেলিগেটের কাছে অভিযোগ করেছেন বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-কে নিশ্চিত করেছে , তারা আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে কোচ তাঁর পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন এবং উয়েফা তাদের নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী সেটা শুনেছে। যদিও আতলেতিকো মাদ্রিদ মাঠের খারাপ অবস্থার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন
| অ্যানফিল্ডে প্যারিস-বিপ্লব নাকি প্রতিশোধ অলরেডদের |
|
আতলেতিকোর দাবি, মেট্রোপলিটানোর পিচ এখন আগের চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে। এমনকি এক মাস আগে যখন কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বার্সা এখানে এসেছিল, তার চেয়েও এখন ঘাস অনেক উন্নত বলছে ক্লাবটির কর্তৃপক্ষ। সেই ম্যাচে প্রথম গোলের সময় বার্সা গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়ার সামনে অদ্ভুতভাবে বল লাফিয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ওই ম্যাচে বার্সাকে বিধ্বস্ত করে ৪-০ গোলের বড় জয় পায় দিয়েগো সিমিওনের ক্লাব।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মেট্রোপলিটানোতে স্টেডিয়ামের ঘাস কতটা লম্বা তা আঙুল দিয়ে নির্দেশ করে উয়েফা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছেন ফ্লিক। এই দৃশ্যটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জল্পনা শুরু হয় যে, ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের আগে মাঠের অবস্থা নিয়ে বার্সেলোনা মোটেও সন্তুষ্ট নয়।
চলতি মৌসুমে এ নিয়ে মেট্রোপলিটানোতে তৃতীয়বারের মতো সফরে বার্সা। প্রথমবার তারা কোপা ডেল রে-তে ৪-০ গোলে হেরেছিল, আর দ্বিতীয়বার লেভানডফস্কির শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায়। গত মৌসুমেও কাতালান এখানে দুটি ম্যাচই জিতেছিল (লা লিগায় ৪-২ এবং কাপে ১-০)। কোচ ফ্লিক ভালো করেই জানেন, প্রথম লেগের মতো এই ফিরতি লেগের ভাগ্যও নির্ধারিত হবে সূক্ষ্ম সব খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর। প্রথম লেগে পাউ কুবার্সির লাল কার্ড এবং পুবিলের সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের পেনাল্টি না পাওয়া—সবই আতলেতিকোর পক্ষে গিয়েছিল।
সব মিলিয়ে এবার আতলেতিকো সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং সাফল্যের জন্য সবরকম কৌশল কাজে লাগাতে মরিয়া। আর এই ‘পিচ বিতর্ক’ নিশ্চিতভাবেই সেই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েরই অংশ।