১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৬:০৭ পিএম

বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে আগামী শুক্রবার শুরু হচ্ছে ঘরোয়া ফুটবলের ২০২৫-২৬ মৌসুম। ওই দিন কুমিল্লায় মুখোমুখি হবে ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবং সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। শিরোপা ধরে রাখতে দলবদলে সেভাবে ঘর গোছাতে পারেনি সাদা-কালোরা। চ্যাম্পিয়ন দলের বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার, বিশেষকরে সুলেমান দিয়াবাতে ও ইমানুয়েল সানডের মতো ফুটবলারদের ধরে রাখতে পারেনি তারা। তারপরও যারা আছেন তাদের নিয়েই শিরোপা ধরে রাখতে মরিয়া মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। গতকাল শনিবার মেহেদি হাসান মিঠুকে অধিনায়ক ঘোষণা করেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। মোহামেডানে অধিনায়কত্ব পাওয়া এবং নতুন মৌসুমে দলের ও নিজের প্রত্যাশা নিয়ে এই ডিফেন্ডার কথা বলেছেন টি-স্পোর্টসের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুবেল রেহান।
টি-স্পোর্টস: মোহামেডানে তিন বছর কাটানোর পর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেলেন
মেহেদি হাসান মিঠু: আসলে গত বছর সহ-অধিনায়ক ছিলাম, এই বছর অধিনায়ক হলাম। অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এটা আমার জন্য অনেক সম্মানের। মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাব... আসলে এখানে তো খেলাটাই অনেক বড়; আর অধিনায়কত্ব করা তো আরও বড় ব্যাপার।
টি-স্পোর্টস: অধিনায়ক হওয়টাকে কিভাবে নিচ্ছেন, চাপ নাকি প্রেরণা?
মেহেদি হাসান মিঠু: চাপ মনে করছি না। একটা দায়িত্ব পেয়েছি, চেষ্টা করব দায়িত্ব পালন করতে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে। দলের জন্য ভালো কিছু করতে এটা আমার জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
টি-স্পোর্টস: আপনার অধিনায়ক হওয়াকে সতীর্থরা কিভাবে নিয়েছেন?
মেহেদি হাসান মিঠু: আমি যখন নতুন করে আবার চুক্তি করি, তখন থেকেই সবাই বলছে যে আমিই অধিনায়ক হবো। তাঁরা সবাই খুশি হয়েছেন। সবাই এখানে অনেক সাপোর্টিভ।
টি-স্পোর্টস: লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান, কি মনে হয় শিরোপা ধরে রাখা কতটা কঠিন হবে
মেহেদি হাসান মিঠু: ইচ্ছা তো আছে শিরোপা ধরে রাখার, বাকিটা দেখা যাক কি হয়। আমরা জেতার জন্য খেলি, শিরোপা জিততে খেলি।
টি-স্পোর্টস: সবশেষ দলবদলে মোহামেডান ছেড়ে অনেকেই চলে গেছেন
মেহেদি হাসান মিঠু: আসলে সবাই তো থাকবে না। কেউ থাকবে, কেউ থাকবে না। যারা আছে তাদের নিয়েই এগোতো হবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী এই দল নিয়েই।
টি-স্পোর্টস: মোহামেডানের শক্তির দিক কোনটি
মেহেদি হাসান মিঠু: ওইভাবে তো বলা যায় না। গত বছরের তুলনায় ফরোয়ার্ড লাইন কিছুটা দুর্বল; যেহেতু সুলেমান দিয়াবাতে নাই, সানডে নাই, আসলে এই দুজন আমাদেরকে ওপরে অনেক সাপোর্ট করছে। তাদের না থাকা একটু ভোগাবে।
টি-স্পোর্টস: নতুন মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি কেমন?
মেহেদি হাসান মিঠু: আসলে মোহামেডানের নিজস্ব মাঠ না থাকায় আমাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটা একটু কঠিনই। তারপরও সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করে যাতে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি না থাকে।
টি-স্পোর্টস: তারপরও আপনারা মাঠে সেরাটা কীভাবে দেন
মেহেদি হাসান মিঠু: মোহামেডানের মাঠ, অফিসিয়াল, ম্যানেজমেন্ট... এসব নিয়ে আমরা চিন্তা করি না। আমরা চিন্তা করি মাঠেই শতভাগ দেওয়া। প্রমাণ করতে দেওয়া মাঠ না থাকলেও আমরা খেলতে পারি। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকে খেলা, মাঠে সর্বোচ্চটা নিংড়ে নেওয়া।
টি-স্পোর্টস: সাদা-কালো সমর্থকদের জন্য কী বলবেন
মেহেদি হাসান মিঠু: সমর্থকদের কাছে চাওয়া- নতুন মৌসুমে আমাদের সাপোর্ট করা। আমরা চাই তারা মাঠে আসুক, আমাদের পূর্ণ সমর্থক দিক।
টি-স্পোর্টস: আগেরবার চ্যালেঞ্জ কাপে বসুন্ধরা কিংসের কাছে হেরেছিলেন। এবারও মৌসুম শুরু হবে চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে। এবার কি আশা করছেন?
মেহেদি হাসান মিঠু: গত বছর আমরা বসুন্ধরা কিংসের কাছে হেরেছি। এ বছর আমাদের প্রত্যাশা চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করা।
No posts available.
৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান। বর্ণবাদী এই ঘটনায় কেঁপে ওঠে স্পেনসহ বিশ্ব ফুটবল। গ্যালারি থেকে স্পেনের দর্শকদের এমন আচণের কারণে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গত ৩১ মার্চ বার্সেলোনার এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত চলাকালীন দুয়োধ্বনি দেয় স্প্যানিশ সমর্থকরা। অনেক সমর্থক ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম’ বলে স্লোগান দেয়। মিশরের কিছু খেলোয়াড় যখন মাঠে সিজদা দিচ্ছিলেন তখনও গ্যালারি থেকে অসম্মানজনক চিৎকার শোনা যায়।
আরও পড়ুন
| পিএসজি ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে স্লটের |
|
ম্যাচ শেষে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। দ্রুতই নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। গত সপ্তাহে স্প্যানিশ পুলিশও ওই স্লোগানগুলোর বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে।
তবে এতে পার পাচ্ছে না আরএফইএফ। ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ এবং রেফারি, ম্যাচ পরিদর্শক ও নিরাপত্তা দলের রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ফিফা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য ফিফা আরএফইএফ-এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।’
দর্শকদের মুসলিম-বিদ্বেষী আচারণে আঘাত পেয়েছেন স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নিজেও একজন মুসলিম। ঘটনার পরদিন সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বার্সেলোনার উইঙ্গার লেখেন, ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে 'যদি তুমি না লাফাও, তবে তুমি একজন মুসলিম' বলে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। আমি জানি এটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ছিল এবং ব্যক্তিগত কিছু নয়, তবে একজন মুসলিম হিসেবে এটি তবুও অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অসহনীয়।‘
ওই ম্যাচে বিরতির সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে একটি বিশেষ বার্তা দেখা যায়। সেখানে সমর্থকদের উগ্রবাদী মন্তব্য ও বর্ণবাদী গান থেকে বিরত থাকার থাকার জন্য মাইকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সতর্কতা দেওয়া হলে দর্শকদের একটি অংশ উল্টো দুয়োধ্বনি দেয়।
এই ঘটনায় শাস্তি হিসেবে আরএফইএফ এর বিরুদ্ধে বড় অংকের জরিমানা এবং স্টেডিয়াম বন্ধ রাখার মতো শাস্তির খড়গ নেমে আসতে পারে।

এইতো গত মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নস লিগে মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি-লিভারপুল। অল রেডরা তখন তুখোড় ছন্দে। লিভারপুলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মৌসুমেই রীতিমতো উড়ছেন আর্নে স্লট। ইউরোপের যেকোনো দলের বিপক্ষে তখন ‘ফেবারিট’ তকমা লিভারপুলের নামের পাশেই। তবে শেষ পর্যন্ত লিভারপুলকে বিদায় করে লুইস এনরিকের এই পিএসজি।
বছর ঘুরতেই এবার পাশার দান উল্টে গেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে একের পর এক হারে নাজেহাল লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট টেবিলে বেহাল দশা ক্লাবটির আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা। চাকরি নিয়ে টানাটানি অ্যানফিল্ডের কোচ স্লটের।
বিপরীতে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি আজ নিজেদের মাঠে লিভারপুলকে আতিয়েতা দেবে পুরোদস্তর এগিয়ে থেকেই। ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের দলটাকে একেবারে পরিপূর্ণ বললে ভুল বলা হবে না।
আরও পড়ুন
| রিয়াল যেকোনো মাঠে জিততে পারে, হারের পর আরবেলোয়া |
|
গত মৌসুমে শেষ ম্যাচে টাইব্রেকারে লিভারপুলের বিপক্ষে জিতেছিল পিএসজি। গত আসরে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগও ঘরে তুলেছিলেন লুইস এনরিকের শিষ্যরা। এই মৌসুমেও ধারাবাহিক পিএসজি। লিগ ওয়ানের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।
গত সপ্তাহে এফএ কাপে শেষ আটে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর লিভারপুল এখন দিশেহারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লিভারপুলের ১৫তম হার ছিল এটি—ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটি সবশেষ এক মৌসুমে এত হার দেখেছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতে নিজেকে অ্যানফিল্ডের মহানদের তালিকায় নাম লেখানো স্লট এখন ক্লাবের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম উত্থান-পতনের সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে এখন চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন তিনি।
ফিটনেসের দিক থেকে পিএসজির ব্র্যাডলি বারকোলা সম্ভবত এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না তার গোড়ালির চোটের কারণে। যদিও অনুশীলনে ফিরেছেন ফরাসি উইঙ্গার। ফাবিয়ান রুইজ এবং কোয়েন্টিন নজান্তুও এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
লিভারপুলের ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার স্কোয়াডে থাকলেও পুরো ফিট নন। শুরুর একাদশে না থেকে তাকে বদলি হিসেবেই নামাতে পারেন স্লট। গোলপোস্টের নিচে আলিসন বেকারের অনুপস্থিতিতে আবারও দেখা যাবে জিওর্জি মামারদাশভিলিকে। ছন্দহীনতায় থাকা মোহাম্মদ সালাহকে হয়তো বেঞ্চে মাঠে নামতে পারেন।

ঠিক পাঁচ দিন আগেই রোমানিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার পাঁচ দিন পরই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন কিংবদন্তি কোচ মিরচা লুচেস্কু। মৃত্যুকালে ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি এই কোচের বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
গত বৃহস্পতিবার অনুশীলনের আগে অসুস্থ বোধ করায় পদত্যাগ করেছিলেন লুচেস্কু। শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়।
লুচেস্কুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমাদের ফুটবল কেবল একজন উজ্জ্বল কৌশলীকেই হারাইনি, বরং একজন মেন্টর, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং একটি জাতীয় প্রতীককে হারিয়ছি, যিনি বিশ্ব ফুটবলের শিখরে রোমানিয়ার পতাকাকে নিয়ে গিয়েছিলেন।‘
লুচেস্কু ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত রোমানিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসেন। লুচেস্কুর কোচিংয়ে সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপ ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ের প্লে অফ সেমিফাইনালে খেলেছিল রোমানিয়া। ২৬ মার্চের সেই ম্যাচে তুরুষ্কের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ট্রিকোলোরিরা।
দীর্ঘ ৪৭ বছরের ক্যারিয়ারে লুচেস্কু ইন্টার মিলান, গালাতাসারাই, বেসিকতাস, শাখতার দোনেৎস্ক, জেনিথ সেন্ট পিটার্সবার্গ, ডায়নামো কিয়েভ এবং তুরস্ক জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন।
লুচেস্কুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে গালাতাসারাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ( সাবেক টুইটার) লিখেছে, ‘আমরা আমাদের ইউয়েফা সুপার কাপ এবং ১৫তম তুর্কি লিগ জেতানো কোচ মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। শান্তিতে থাকুন লুচে, আমরা আপনাকে ভুলব না।‘
কোচিং ক্যারিয়ারে চার দশকেরও বেশি সময়জুড়ে লুচেস্কু জিতেছেন ৩৫টি বড় শিরোপা। ট্রফি জেতায় ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন তিনি। রোমানিয়ান এই কোচের সামনে আছেন শুধু কিংবদন্তি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন এবং পেপ গার্দিওলা।
১২ বছর ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেৎস্ককে ৮টি লিগ শিরোপা ও উইয়েফা কাপ জিতিয়েছেন লুচেস্কু। এছাড়া তার অধীনে ঘরোয়া শিরোপা জিতেছে দিনামো বুখারেস্ট, র্যাপিড বুখারেস্ট, গালাতাসারাই, বেসিকতাস, জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং ডায়নামো কিয়েভ। সাতটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি নেই আর কোনো কোচেরই।
লুচেস্কুর কোচিংয়ে সবসময়ই আকর্ষণীয়, আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে দলগুলো। বিভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এক অসাধারণ কৌশলী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
টাচলাইনে নিজের বিশাল ছাপ রাখার আগেই তিনি মূলত উইঙ্গার হিসেবে গড়েছিলেন দারুণ এক খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার। দিনামো বুখারেস্টের হয়ে জিতেছেন ৭টি লিগ শিরোপা। তিনি রোমানিয়ার হয়ে ৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু থেকে রেকর্ড গড়া কোচিং ক্যারিয়ার—পুরো পথজুড়েই ফুটবলের প্রতি তার অবিচল ভালোবাসা লেখা থাকেবে স্বর্ণাক্ষরেই।

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হারের পর এবার দ্বিতীয় লেগে বাভারিয়ানদের দূর্গ জয় করে ফেরার কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের। তবে দলটা রিয়াল মাদ্রিদ বলেই শেষ কথা বলার উপায় নেই। ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়াও বললেন, রিয়ালের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের ৪০ মিনিটে লুইস দিয়াজের গোলে পিছিয়ে যায় রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ২০ সেকেন্ডের মাথায় হ্যারি কেইন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
৭৪ মিনিটে এমবাপে বাঁ-পায়ের জাদুতে একটি গোল শোধ করেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরে ফরাসি তারকার গোল হলো ১৪টি, এখন পর্যন্ত প্রতিযোগীতার সর্বোচ্চ গোলদাতাও এমবাপে । তারকা ফরোয়ার্ডের এই গোলেই আগামী বুধবার মিউনিখে ফিরতি লেগের লড়াইয়ে এখনও টিকে আছে রিয়াল।
ম্যাচ শেষে আরবেলোয়া বলেন,
‘এখনও টিকে আছি, এটা পরিষ্কার। মাত্র এক গোলে পিছিয়ে। আমরা যেকোনো জায়গায় জেতার ক্ষমতা রাখি। ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলে তা কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন হতো... আমি ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বলছিলাম, একটি গোল আমাদের লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনবে। আমরা এখনও টিকে আছি কারণ মাদ্রিদ যেকোনো মাঠে জিততে পারে।’
হাঁটুর চোট থেকে ফিরে শনিবার মায়োর্কার বিপক্ষে শুরুর একাদশে ফেরেন এমবাপে। বিরতির পর নিজের চেনা রূপে ফেরার আভাস দিয়ে রাখলেন বায়ার্নের বিপক্ষে গোল করে। জার্মান জায়ান্টদের বিপক্ষে লক্ষ্যে শট রেখেছেন চারটি, গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন দুটি। লা লিগায় মায়োর্কার বিপক্ষে হারের পর তাকে নিয়ে শুরু হওয়া মৃদু সমালোচনা যেন তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিলেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
আরবেলোয়া শিষ্যের সমালোচনার জবাবে বলেন,
‘আমার কাছে এমবাপেকে অত্যন্ত নিবেদিত মনে হয়েছে। সে তাদের রক্ষণভাগকে সমস্যায় ফেলেছে এবং প্রমাণ করেছে কেন সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। সে প্রতিপক্ষের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি হয়ে ছিল এবং আমরা এমবাপেকে এই রূপেই দেখতে চাই।’
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া বাকি সব শিরোপা থেকে ছিটকে গেছে রিয়াল। মায়োর্কার কাছে হারের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে রিয়াল এখন ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগই এখন এই মৌসুমে তাদের শিরোপা জেতার সেরা সুযোগ।
বায়ার্নের বিপক্ষে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচ নিয়ে আরবেলোয়া বলেন,
‘এই হারটি এড়ানো যেত, যদি দ্বিতীয়ার্ধে ভাগ্য কিছুটা সহায় থাকতো। আমরা দুটি ভুল করেছি এবং দুবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, যা আমাদের এড়ানো উচিত ছিল। এই ধরনের দলের বিরুদ্ধে এমন ভুল করলে তার চড়া মূল্য দিতে হয়।’
এমবাপের গোল নিয়ে রিয়াল কোচ বলেন,
‘গোলটি আমাদের আশা জুগিয়েছে... কাজটা সহজ হবে না, তবে মিউনিখে গিয়ে জেতার ক্ষমতা যদি কোনো দলের থাকে, তবে সেটি রিয়াল মাদ্রিদ।’

এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়াম নিজেদের দূর্গ বানিয়ে রেখেছিল স্পোর্টিং লিসবন। ঘরের মাঠে টানা ১৭ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়ে পর্তুগালের ক্লাবটি। তবে আর্সেনালের বিপক্ষে থামল তাদের জয়রথ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে গানারদের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছে রুই বোরগেসের দল।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় যোগ করা সময়ের গোলে কোনোমতে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে রইল মিকেল আরতোর দল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে যোগ করা সময়ে গোলটি করেছেন কাই হাভার্টজ।
ঘরের মাঠে ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ্য তৈরি হয় স্পোর্টিং লিসবনের। নিজেদের অর্ধ থেকে সতীর্থের ক্রস ধরে এগিয়ে যান মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন ডেভিড রায়া। আর্সেনাল গোলকিপারের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে তা ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩তম মিনিটে
বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার শটে বল জালে পাঠান মার্তিন জুবেমেন্দি। কিন্তু ভিক্টর ইয়োকেরেশ
অফসাইডে থাকায় সে গোল বাতিল হয়। তবে যোগ করা সময়ে দলকে উৎসব এনে দেন কাই হাভার্টজ।
দুই মিনিট যোগ করা সময়ের
প্রথম মিনিটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল এনে দেন হাভার্টজ। গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ক্রস
বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি।
ম্যাচে ৫৬ শতাংশ পজেশন
রেখে গোলের জন্য সাতটি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে আর্সেনাল। লিসবনের ১১ শটের
পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।