
বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি উন্মোচন হয়েছিল লাক্কাতুরা চা বাগানে। এবার তেমন কোনো চমক না থাকলেও টেস্ট সিরিজের ট্রফি উন্মোচন হয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। যেখানে হাজির ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা।
প্রথম টেস্টের আগে রেকর্ডে চোখ রাখলে আক্ষেপের খোঁজ পাবে টাইগাররা। শ্রীলঙ্কার সাথে আগের ২৪ টেস্টের ১৮টাই হেরেছে বাংলাদেশ দল। পাঁচটা ড্রয়ের টাইগাররা জিতেছে একটা ম্যাচই। জয়টা আবার ঐতিহাসিক ভিন্ন কারণে, নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের শততম টেস্ট বাংলাদেশ দল জিতেছিল পি সারা ওভালে।
সিরিজের হিসেবেও ছন্নছাড়া বাংলাদেশ। লাল সবুজের প্রতিনিধিরা শ্রীলঙ্কা সাথে ১১ টেস্ট সিরিজের ১০টাই হেরেছে। ড্র কেবল ২০১৭ সালের সিরিজ।
২০১৮ সালে টেস্ট ভেন্যু হিসেবে শুরু। এখন পর্যন্ত দুটো ম্যাচই হয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দুই টেস্টে বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কাছাকাছি। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে ১৫০ রানে হারা টাইগাররা ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের সাথে জিতেছে ১৫১ রানে।
No posts available.

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ১৫ সদস্যের দলের নেতৃত্বে দেবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি।
জ্যোতির সঙ্গে সহ-অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন নাহিদা আক্তার। সবশেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজের দলে খেলা শারমিন সুলতানার জায়গা হয়নি বিশ্বকাপ দলে। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন তাজনেহার।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১১ জুন শুরু হবে এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ ১- এ জ্যোতি-নাহিদাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু হবে।
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে ২৫ মে এডিনবার্গের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলতে তারা লফবরায় যাবে।
এবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কোয়ালিফাই করেছে বাংলাদেশ। বাছাই পর্বে গ্রুপ ও সুপার সিক্স মিলিয়ে মোট সাত ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বিশ্বকাপের অন্য গ্রুপে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। প্রথম সেমিফাইনাল হবে ৩০ জুন এবং দ্বিতীয়টি ২ জুলাই। এরপর ৫ জুলাই লর্ডসের ফাইনালে নির্ধারিত হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল
নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা, সোবহানা মোস্তারি, ফাহিমা খাতুন, শারমিন আক্তার সুপ্তা, রিতু মনি, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সুলতানা খাতুন, সানজিদা আক্তার মেঘলা, তাজনেহার।

দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দৌড়ে আলোচনায় এসেছে 'ডুওটির রান ফর বাংলাদেশ' নামে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ২১ এপ্রিল ভোর ৪ টায় টেকনাফের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে তেঁতুলিয়ার শেষ প্রান্ত বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে শনিবার বিকাল ৫ টায় শেষ হয়েছে ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই যাত্রা।
গত ২১ এপ্রিল ভোর ৪ টায় শুরু হওয়া এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃতি রক্ষা, নারী শিক্ষা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা। দলটির স্লোগান ছিল— 'প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচবে দেশ,নারী শিক্ষা ও শিশু স্বাস্থ্যের হোক জয়জয়কার, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছড়িয়ে দিই এই অঙ্গিকার।'
আরও পড়ুন
| তাসকিন-মিরাজে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটি বাংলাদেশের |
|
দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিদিনই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের। কখনো তীব্র রোদ, কখনো ঝড়-বৃষ্টি, আবার কখনো গভীর রাতে ফাঁকা মহাসড়ক—সবকিছু পেরিয়েই এগিয়ে গেছেন ৪ তরুণ।
দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন নোয়াখালীর আসিফুল হক (পাভেল-২২)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন টাঙ্গাইলের এহসানুল হক (সানি-১৭), পঞ্চগড়ের আসিফ আকবর (২২) এবং কক্সবাজারের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২১)। এর মধ্যে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাইকেলে পুরো যাত্রায় সঙ্গ দিয়েছেন। বাকি তিনজন দৌড়ে অতিক্রম করেছেন দীর্ঘ এই পথ।
অভিযানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল যমুনা নদী পার হওয়া। দলটি প্রায় পাঁচ দশমিক তিন আট (৫.৩৮) কিলোমিটার নদীপথ সাঁতরে পার হয়েছে। প্রবল স্রোতের মধ্যেও তাঁদের এই সাহসিকতা পথের মানুষকে বিস্মিত করেছে।
যাত্রাপথে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ পানি দিয়েছেন, কেউ ফল, আবার কেউ শুধু দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে উৎসাহ জানিয়েছেন। অনেক জায়গায় স্থানীয় তরুণেরা তাঁদের সঙ্গে কিছু দূর দৌড়েও অংশ নেন।
দলটির সদস্যরা বলেন, দেশের তরুণদের ইতিবাচক কাজে এগিয়ে আসার বার্তা দিতেই তাঁদের এই আয়োজন। তাঁদের মতে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বড় কিছু করা সম্ভব।
তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানোর পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দলটির সদস্যরা। দীর্ঘ দিনের ক্লান্তি শেষে জাতীয় পতাকা হাতে তাঁদের হাসিমুখ ঘিরে স্থানীয় মানুষের ভিড় দেখা যায়।
আয়োজকদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি ম্যারাথন ছিল না, বরং দেশজুড়ে ইতিবাচক একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। 'ডুওটির রান ফর বাংলাদেশ' দেখিয়ে দিল, ইচ্ছাশক্তি আর লক্ষ্য ঠিক থাকলে তরুণদের পক্ষে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

চকচকে নুতন বলে নাহিদ রানার প্রথম ডেলিভারিতে বাউন্সারে মাথা এলোমেলো হয়ে যাওয়ার দশা। ঘন্টায় ১৪১ কিলোমিটার গতির ওই ডেলিভারিটি হেলমেটের গ্রিলে এতো জোরে আঘাত হেনেছে যে মাঠের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসায় স্বাভাবিক হতে ৪ মিনিট লেগেছে আজান আওয়াইস। অভিষিক্ত এই বাঁ হাতি ওপেনারই পরবর্তীতে নাহিদ রানার উপর চড়াও হয়েছেন। দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে নাহিদ রানার তিনটি বাউন্সারকে দর্শনীয় তিনটি হুক শটে ডিপ স্কোয়ার লেগ, ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ এবং ডিপ ফাইন লেগ দিয়ে মেরেছেন বাউন্ডারি। দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে ব্যাটিংয়ে থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরির আভাস দিয়েছিলেন। তৃতীয় দিনের ৫ম ওভারে নাহিদ রানার শর্ট বলে গালি অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারিতে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। ১৯৬৪ সালে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুুরির রেকর্ড করেছিলেন খালিদ ইবাদুল্লাহ। অভিষেকে ত্রয়োদশতম পাকিস্তানি সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ডে তৃতীয় পাকিস্তানি তিনি। ২০০১ সালে মুলতানে তৌফিক ওমর, ২০০৩ সালে করাচিতে ইয়াসির হামিদের পর চলমান টেস্টে আজান আইওয়াস। টেস্ট অভিষেকে পাকিস্তানের ১৩ কৃতিমানের সেঞ্চুরির অধিকাংশই দেশের মাটিতে। টেস্ট অভিষেকে ৩ পাকিস্তানি শুধু বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরিতে রাঙিয়েছেন। সেই রেকর্ডে ২০০৯ সালে কলম্বোর পি সারা ওভালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাওয়াদ আলম (১৬৮), একই বছর ডানেডিনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওমর আকমলের (১২৯) পর মিরপুরে চলমান টেস্টে অভিষেকে পেলেন আজান আইওয়াস সেঞ্চুরি (১০৩)।
প্রথম উইকেট জুটিতে ইমাম উল হক-এর সঙ্গে ১০৬ এবং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আবদুল্লাহ ফজলকে নিয়ে ১০৪ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো আজানের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ছিল ১৭১ মিনিট। ১৬৫ বল মোকাবেলায় মেরেছেন ১৪টি চার। সেঞ্চুরির পর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে তার। তাসকিনের চতুর্থ এবং তৃতীয় দিনের প্রথম স্পেলের তৃতীয় ওভারে শর্ট অব লেন্থ বলে ফার্স্ট স্লিপে শান্ত'র হাতে দিয়েছেন ক্যাচ এই অভিষেক সেঞ্চুরিয়ান। কাঁধ সমান উঁচু থেকে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন শান্ত।

লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে ‘আইকন’ খেলোয়াড়দের জন্য অন্যরকম এক শর্ত চালু করার ঘোষণা দিয়েছিল লঙ্কান ক্রিকেট (এসএলসি)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী টপ টায়ার আইকন ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করতে খেলোয়াড়দের অন্তত ৭৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে হবে ১০০টির বেশি। শেষ ১৮ মাসে ন্যূনতম ৩০ ম্যাচ খেলতে হবে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে থাকতে হবে আড়াই লাখের বেশি ফলোয়ার। শেষের এই নিয়ম নিয়েই যত আলোচনা।
তুমুল বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত ‘অদ্ভুত’ এই নিয়ম তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। নিউজওয়্যার-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ মে প্রকাশিত এলপিএলের ষষ্ঠ আসরের খেলোয়াড় নিবন্ধন ও ড্রাফট গাইডের সংশোধিত সংস্করণে এই শর্তটি আর রাখা হয়নি। এর আগে নিয়ম করা হয়েছিল যে, আইকন ও স্টার ক্যাটাগরিতে নাম লেখাতে হলে খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্যই আড়াই লক্ষাধিক ফলোয়ার থাকতে হবে।
আগামী ১০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে শীর্ষস্তরের ‘আইকন’ ক্যাটাগরিতে জায়গা পেতে বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই যথেষ্ট ছিল না। আগের নিয়ম অনুযায়ী, তাদের অন্তত ৭৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বা ১০০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকার পাশাপাশি গত ১৮ মাসে অন্তত ৩০টি ম্যাচে মাঠে নামার বাধ্যবাধকতা ছিল। এর সঙ্গে বাড়তি যোগ করা হয়েছিল আড়াই লক্ষ ফলোয়ার থাকার সেই বিতর্কিত শর্তটি।
সংশোধিত নীতিমালায় সামাজিক মাধ্যমে ফলোয়ারের বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে; যদিও আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ম্যাচ খেলার মতো ক্রিকেটীয় যোগ্যতার শর্তগুলো আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই বিতর্কিত পদক্ষেপটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকরা বলছেন, একদিকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার কমিয়ে খেলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেয়, অন্যদিকে এলপিএল-এর নিয়মাবলীতে অনলাইন জনপ্রিয়তা বা ফলোয়ার সংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—যা চরম দ্বিচারিতা।
সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের দাবি ছিল, শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা উচিত তাদের ক্রিকেটীয় মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, ডিজিটাল জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে নয়।
ফলোয়ারের সংখ্যার শর্তটি শেষ পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়া হলেও, সংশোধিত নীতিমালায় প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকা, ফ্যান এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম এবং টুর্নামেন্টের বিভিন্ন প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা।

আধুনিক ক্রিকেটে যখন গতির ঝড় তোলা পেসারদের জয়জয়কার, তখন মিরপুরের উইকেটে একদম ভিন্ন এক চিত্রনাট্য লিখেছেন মোহাম্মদ আব্বাস। এই ম্যাচে খেলা সব পেসারের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে ধীরগতির বোলার হয়েও আব্বাস প্রমাণ করলেন, লাইন আর লেন্থের নিখুঁত মিশ্রণ থাকলে গতির অভাব কোনো বাধা নয়। যেখানে বাংলাদেশের বোলাররা গতির চক্করে পড়ে লাইন-লেন্থ হারিয়েছেন, সেখানে আব্বাস দেখালেন চমক।
মিরপুরে প্রথম ইনিংসে আব্বাসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪১৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। পাঁচ উইকেট নেন ডানহাতি পেসার। বাংলাদেশের পেসাররা তেমন সুবিধা করতে না পারলেও, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই নাকি সফল আব্বাস।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইমাম-উল-হক আব্বাসের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন,
‘সবাই জানে সে কতটা দক্ষ এবং আপনি যখন প্রচুর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন, তখন সেটি সত্যিই সাহায্য করে।’
মিরপুরের ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে গতির ঝড়ের চেয়েও নিখুঁত লাইন-লেন্থের কার্যকারিতা যে বেশি হবে, তা পাকিস্তানের গেমপ্ল্যানে আগে থেকেই ঠিক করা ছিল বলছেন ইমাম,
‘সে প্রচুর কাউন্টি ক্রিকেট এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা জানতাম যে উইকেট এমন (সহায়ক) হবে। আর সেই কারণেই আব্বাস খেলতে আসে এবং দলের জন্য তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার খুব বেশি গতি না থাকলেও কিছু যায় আসে না; যখন কন্ডিশন অনুকূলে থাকে এবং আপনি জানেন যে সেখানে ল্যাটেরাল মুভমেন্ট পাওয়া যাবে, তখন আব্বাস খুব ভালো বোলিং করে।’
পিচে প্রচুর ঘাস আছে তবে পিচের ভেতরটা আসলে বেশ শুষ্ক, প্রথমদিন এমনটাই বলেছিলেন আব্বাস। পিচের এই শুষ্কতা কি বাংলাদেশের পেসারদের ‘এক্সপ্রেস পেস’ মোকাবিলা করে শট খেলা সহজ করে দিয়েছে? এমন প্রশ্নে ইমাম বলেন,
‘আপনি তা বলতে পারেন, কারণ স্কোরবোর্ডই তা বলছে। পিচে প্রচুর ঘাস থাকলেও এটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। শুরুতে ব্যাটিং করা কঠিন, তবে আপনি যখন ২০ থেকে ৩০ রান করে ফেলবেন, তখন এটি সহজ হয়ে যায়। আব্বাস ঠিকই বলেছিলেন, তবে তারা (বাংলাদেশ) ভালো বোলিং করেছে এবং আমার মনে হয় আমরা যথেষ্ট ভাগ্যবান ছিলাম যে প্রতি এক বা দুই ওভার পরপর আমরা বাউন্ডারি পাচ্ছিলাম। এটি নবাগত ব্যাটসম্যানের জন্যও ভালো ছিল যে রানখরা নিয়ে তাকে খুব বেশি চাপে থাকতে হয়নি। আমাদের ব্যাটিং দেখলে বুঝবেন যে বাউন্ডারি বল আসছিল এবং আমার মনে হয় আজ আমরা ভাগ্যবান ছিলাম।’
পাকিস্তানের অভিষিক্ত ব্যাটার আজান আওয়াইসের ভূয়সী প্রশংসা করেন ইমাম। ১২ চারে ১৩৩ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত আছেন বাঁহাতি ব্যাটার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়মিত রান পাওয়া এই ব্যাটারকে নিয়ে ইমাম বলেন, ‘আপনি যদি লাল বলের ক্রিকেট এবং ঘরোয়া ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেন (যদি আমি ভুল না করি সে ৩৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছে এবং ১০টি সেঞ্চুরি করেছে)—তার রেকর্ডই সব বলে দেয়। ল্যাটেরাল মুভমেন্ট এবং ভালো গতির বিপক্ষে চাপের মুখে সে যেভাবে ব্যাটিং করছে, ছেলেটি সত্যিই তার ধৈর্য ধরে রেখেছে। সে যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সব চাপ শুষে নিয়েছে; এটি আসলে তখনই সম্ভব যখন আপনি প্রচুর ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেন। তাদের দুজনকে এত ভালো খেলতে দেখে আমি খুব খুশি।
দ্বিতীয় দিন শেষে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। দিনটা পুরোপুরি নিজেদের হলেও ইমামের মতে তৃতীয় দিনেই এই টেস্টের মোড় ঘুরে যেতে পারে,
‘প্রতিপক্ষকে ১০০ রানের নিচে অলআউট করে দেওয়া এবং আমাদের ১৭০ রানে ১ উইকেট থাকা—বলাই যায় আমরা সবকটি সেশন জিতেছি। তবে অবশ্যই আরও তিন দিন বাকি আছে এবং এটাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য; এটি খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়। আপনাকে খুব ধৈর্যশীল হতে হবে এবং আমি আগেও বলেছি, আগামীকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন যা নির্ধারণ করবে টেস্ট ম্যাচটি কোন দিকে যাচ্ছে।’