৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:১৫ এম

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন- ১ সেপ্টেম্বর সিলেটে পরিচালনা পরিষদের সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নাম সুপারিশ করবেন। বিসিবির এই ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছে বিসিবির সাধারণ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ক্লাব, ক্রিকেটার এবং সংস্থাসমূহ।
নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণে মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) চিঠি দিয়েছে বিসিবি। নির্বাচনের অন্তত: ৩০ দিন আগে স্ব স্ব সংস্থা এবং ক্লাবের কাছে কাউন্সিলর ফরমও পাঠিয়ে দেওয়া শুরু করেছে বিসিবি।
২০১৩ সাল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচন শুরু হয়েছে বিসিবিতে। বিসিবির বিগত ৩টি নির্বাচনে পরিচালনা পরিষদে নির্বাচিতদের মধ্যে সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী দেখা যায়নি ওই তিনটি নির্বাচনে। নাজমুল হাসান পাপন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিবারই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রতিশোধ আফগানদের |
|
তবে বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর আগ্রহের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই পদে তামিম ইকবাল বনাম আমিনুল ইসলাম বুলবুলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন এখন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ক্লাব অফিসিয়ালরা আলোচনার পর আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি খুঁজে পেয়েছেন। বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে। যে প্যানেল থেকে পরিচালক নির্বাচিত হলে সভাপতি পদে নির্বাচন করার কথা এই ক্রিকেট গ্রেটের।
গত এক যুগ ধরে নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বে পরিচালিত পরিচালনা পরিষদের কারো জায়গা হচ্ছে না এই প্যানেলে। ফ্যাসিস্টমুক্ত ক্রিকেট বোর্ড গঠনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন মুখ এই প্যানেলের হয়ে বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারুণ্য নির্ভর এই প্যানেলে বিগত এক যুগে বৈষম্যের শিকার বেশ ক'জন অভিজ্ঞ সংগঠককেও দেখা যাবে।
তামিমরা যখন ক্যাটাগরি-২ (ঢাকার ক্লাব কোটা) ১২ পরিচালক পদে যোগ্য সংগঠকদের নিয়ে প্যানেল মোটামুঠি ঠিক করে রেখেছে; ক্যাটাগরি-৩ এর প্রার্থীও ঠিক, ক্যাটাগরি-১ এর ১০ পরিচালক পদে প্রার্থীর বেশ ক'জনকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে, ঠিক তখন এই প্যানেলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান এবং বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
গত ২৭ মে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি আশুলিয়ায় নিজের কেনা জমি বিক্রি করবেন বলে। এসেই প্রথমে পেয়েছেন বিসিবির সিইও পদে চাকরির প্রস্তাব। পরবর্তীতে অপ্রত্যাশিতভাবে উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সভাপতি পদে প্রস্তাব পেলে তা সাদরে গ্রহণ করেছেন। তাকে সভাপতি পদে দায়িত্ব দিতে ফারুক আহমেদকে অপসারণ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
আইসিসির ডেভেলপম্যান্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব নবায়ন না করে মেলবোর্ন থেকে ঢাকায় এসে তিনদিনের মাথায় (৩০ মে) বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি বিসিবির নির্বাচন পূর্ব পরিচালনা পরিষদের নিয়মিত কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনে। দায়িত্বের শুরুতে বলেছিলেন বিসিবির সভাপতি পদে খন্ডকালীন দায়িত্ব নিতে এসেছেন তিনি। বিসিবিতে একটা টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলতে এসেছেন।
অথচ, কথা রাখেননি বুলবুল। গত তিন মাস বিসিবিতে তার প্রতিটি কর্মপরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী। বিসিবির নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে নিজেই সভাপতি পদে নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল- ‘ইতিমধ্যেই বোর্ডের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আমরা (বিসিবির) নির্বাচন করব এবং প্রপার নির্বাচনই করব। বিসিবিতে সভাপতি নির্বাচন হয় না। পরিচালকদের নির্বাচন হয়, সেটা প্রথম লক্ষ্য এবং সেখানে থাকার চেষ্টা করব। পরবর্তীতে যদি সুযোগ হয়, আমি চেষ্টা করব যেভাবে হোক বাংলাদেশকে সার্ভ করার জন্য।’
আইসিসির বর্তমান পরিচালনা পরিষদের সবাই তার চেনা-জানা, ক্রীড়া উপদেষ্টা তার সমর্থক। ক্রীড়া উপদেষ্টাই তাকে বিসিবিতে নির্বাচিত সভাপতি হতে আগ্রহী করে তুলেছেন। বুলবুলের ঘণিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গেছে তা।
নির্বাচনহীন পরিচালক হয়ে আসতে হলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কোটা থেকে সরাসরি আসতে হবে তাকে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদকে অপসারিত করা হয়েছে, ওই ফর্মূলা যে ভবিষ্যতে এনএসসি প্রয়োগ করবে না, তার গ্যারান্টি কই? সে কারণে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোটা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে চাইছেন না বুলবুল।
ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
আরও পড়ুন
| দুঃস্বপ্নের অভিষেকে বেকারের লজ্জার রেকর্ড |
|
কিন্তু পরিচালক হয়ে বিসিবি সভাপতি পদে নির্বাচনের বৈতরণী পার হবেন কীভাবে বুলবুল? ক্লাবগুলো থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা একজোট হলে এবং ক্যাটাগরি-৩ এর পরিচালকের ভোট পেলে সভাপতি পদে তামিম ওড়াবেন বিজয় কেতন। তামিমকে সভাপতি পদে দেখতে বিএনপির নীতি নির্ধারণী মহলের সবুজ সঙ্কেত যখন দেয়া হয়েছে, তখন তামিমের পক্ষে সমর্থন দ্রুত বাড়বে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া সংগঠকরা।
বিসিবির নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারে কেবল ক্রীড়া প্রশাসন। এবং তা শুধু ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা) এ। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহ এখন চলছে এডহক কমিটি দিয়ে। যে কমিটিতে প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠকদের জায়গা হয়নি।
ক্রীড়া প্রশাসনের নির্দেশে ক্যাটাগরি-১ এর কাউন্সিলর মনোনয়নে জেলা প্রশাসক অবস্থান নিতে পারেন। প্রশাসন থেকে মনোনীতদের হাতে কাউন্সিলর ফরম তুলে দিতে পারেন জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ। এ শঙ্কাই করছেন জেলাও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠকরা। এমন কিছু হলে সংশ্লিষ্ট জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহে বিএনপি সমর্থিত ক্রীড়া সংগঠকরা তীব্র আন্দোলন করতে পারে। সে আভাসও পাওয়া যাচ্ছে।
তারপরও এই ক্যাটাগরিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের পূর্ণ সমর্থনে ১০টি পরিচালক সব কটি এবং এনএসসি কোটার ২ পরিচালকের ভোট-ই সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়- এটাও মাথায় রাখতে হবে বুলবুলকে।
বুলবুল যেখানে সভাপতির চেয়ারে বসে এই চেয়ারের মায়া ছাড়তে পারছেন না, সেখানে পরিস্থিতিই তামিমকে এনেছে সামনে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেই বিসিবির সভাপতি পদে তামিমের সম্ভাবনার জোর গুঞ্জন ছিল।
আরও পড়ুন
| মহারাজের ঘূর্ণি, মার্করামের ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড |
|
অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূইয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর তামিমকে সঙ্গে নিয়ে হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে এসে সে আভাসই দিয়েছিলেন। তবে তামিম তখন আগ্রহ প্রকাশ না করায় ফারুক আহমেদের উপর বর্তেছিল ওই দায়িত্ব।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান পদটি ফাঁকা রেখেছিলেন ফারুক আহমেদ তামিমের সম্মতির আশায়। ওই প্রস্তাবও বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন তামিম।
একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তামিম। ভবিষ্যতে বিসিবি সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা পুষে রেখেছিলেন। ঢাকার ২টি ক্লাব পরিচালনা করে ক্লাব অফিসিয়ালদের কাছাকাছি আসতে পেরেছেন। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক সুফল এখন দেখতে পাচ্ছেন তামিম।
No posts available.
১৯ মে ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের পাশাপাশি কথার লড়াই জমেছে বেশ। উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটার লিটন দাস ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান। চতুর্থ দিনে রিজওয়ানকে ঘিরে মাঠের পরিস্থিতি কিছুটা ঘোলাটে হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রিজওয়ানের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে মাতেন লিটন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও।
সালমান আলী আগার সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সময় প্রায় প্রতি বলের আগেই খেলা থামিয়ে কিছু না কিছু আপত্তি তুলছিলেন রিজওয়ান। কখনও সাইট স্ক্রিন, কখনওবা অন্য কোনো বিষয়ে আম্পায়ারকে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন তিনি। এতে বিরক্ত হয়ে একপর্যায়ে লিটন বলে ওঠেন, ‘বারবার খেলা থামিয়ে দিচ্ছো কেন?’ জবাবে রিজওয়ানও বলেন, ‘এটা কী তোমার কাজ! এটা তো আম্পায়ারের কাজ।’
তর্কাতকির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকে। পালাক্রমে বাড়তে থাকে কথার যুদ্ধ। এক পর্যায়ে উইকেটের পেছন থেকে লিটনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রান করে ফেলেছে, এবার শুরু হবে অভিনয়। ভালোই অভিনয় করছে সে। এসব সবাই জানে এখন!’ আবার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত একই ভাষায় বলেন, ‘অতিরিক্ত অভিনয়ের জন্য ৫০ পয়সা কাটা হবে!’
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইটকে। মাঠে লিটন-রিজওয়ানের কথোপকথনের অর্থ বুঝতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন,
“কী বলাবলি হচ্ছিল, জানি না। কিন্তু আমি এটা উপভোগ করেছি। মানে… আমি তো অস্ট্রেলিয়ান, তাই না? এতেই হয়তো সবটা বোঝা যায়। আমরা এসব পছন্দ করি। আমার মনে হয়, কিছুটা তর্কাতর্কি থাকা দরকার আছে। সবসময় অবশ্যই নয়। সীমা অতিক্রম করা কাম্য নয়। সীমা না ছাড়ানো এবং এই ধরনের ব্যাপার নিয়ে আমরা কথা বলি। কিন্তু কিছুটা আগ্রাসন তো থাকতেই হবে।”
টেইট আরও যোগ করেন,
“এটা তো টেস্ট ম্যাচ…পাকিস্তান-বাংলাদেশ লড়াই। আমার মনে হয়, ভক্তদের জন্য, আমাদের সবার জন্যই, খেলায় খেলোয়াড়রা কিছুটা প্যাশন দেখাতে চায় এবং লড়াইয়ের মধ্যে চায় পরস্পরকে আউট করতে। সবাই চায় লড়াইয়ে টিকে থাকতে। আমার তো এসব ভালো লাগে।”

ব্যাট হাতে ক্রিজে নামলেই যিনি প্রতিপক্ষের বোলিং লাইন-আপকে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন, যেকোনো বোলারের জন্যই এক জীবন্ত যমদূতও বলা যায় যাকে। ২২ গজে তাঁর ইস্পাতকঠিন মানসিকতা, অনবদ্য ফিটনেস এবং রানের জন্য চির ক্ষুধার্ত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব বোলিং আক্রমণ। কিন্তু নিখুঁত ক্রিকেটীয় ব্যাকরণের এই মায়াজাল বিছানো ব্যাটিং মায়েস্ত্রোর ক্যারিয়ারেও এমন কিছু বোলার ত্রাস হয়ে এসেছিলেন। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরানো এই কিংবদন্তি ব্যাটারকেও কখনও কখনও চরম পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে।
সম্প্রতি 'আরসিবি ইনোভেশন ল্যাব'-এর একটি অনুষ্ঠানে মুখোমুখি হয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার কোহলি জানিয়েছেন তিন ফরম্যাটে তাঁর মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন বোলারদের নাম। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএলের ২০২৬ মৌসুমে বর্তমানে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা কোহলিই এখন পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
সেই অনুষ্ঠানে কোহলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, এই তিন ফরম্যাটে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ কে কে ছিলেন? জবাবে ওয়ানডেতে তিনি বেছে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের লেগ-স্পিনার আদিল রশিদকে, টেস্টের জন্য ইংলিশ কন্ডিশনে কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসনকে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাঁর চোখে সবচেয়ে কঠিন বোলার হলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের রহস্য স্পিনার সুনীল নারাইন।
বিরাট কোহলির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ওয়ানডে ফরম্যাটে তাঁর খেলা অন্যতম কঠিন বোলার হলেন আদিল রশিদ। ইংল্যান্ডের এই লেগ-স্পিনার ১৬১ ম্যাচে ২৪২টি উইকেট শিকার করেছেন, যার মধ্যে ১০ বার চার উইকেট এবং দুবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে। ওয়ানডেতে রশিদের মুখোমুখি হয়ে ১০টি ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন কোহলি, যার মধ্যে পাঁচবারই কোহলিকে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন এই স্পিনার। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, তাঁদের মধ্যে লড়াইটা কতটা জমজমাট ও চ্যালেঞ্জিং ছিল।
টেস্ট ক্রিকেটে ইংলিশ কন্ডিশনে কোহলির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নিয়েছেন জেমস অ্যান্ডারসন। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে বিবেচিত অ্যান্ডারসন ১৮৮ টেস্টে শিকার করেছেন রেকর্ড ৭০৪টি উইকেট। ক্রিকেটের এই দুই কিংবদন্তি টেস্টে ৩৬টি ইনিংসে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে অ্যান্ডারসন সাতবার কোহলির উইকেট তুলে নিয়েছেন। অবশ্য এই ইংলিশ পেসারের বিপক্ষে কোহলির সাফল্যও কম নয়; অ্যান্ডারসনের বিপক্ষে ৪৩.৫৭-এর চমৎকার গড়ে রান তুলেছেন এই ভারতীয় ব্যাটিং মায়েস্ত্রো।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কোহলির বেছে নেওয়া কঠিন বোলার হলেন সুনীল নারাইন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫২টি উইকেট নিলেও সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৫৯৪ ম্যাচে অবিশ্বাস্য ৬২৬টি উইকেট শিকার করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মিস্ট্রি স্পিনার। নারাইনের বিপক্ষে ২২টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে ব্যাটিং করে চারবার আউট হয়েছেন কোহলি।
দারুণ সব বোলারদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও বিরাট কোহলি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে। ৩৭ বছর বয়সী তারকা ব্যাটারে ঝুলিতে রয়েছে টেস্টে ৯,২৩০ রান, ওয়ানডেতে ১৪,৭৯৭ রান, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪,১৮৮ রান এবং আইপিএলে রেকর্ড ৯,২০৩ রান।
চতুর্থ দিন শেষে রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে সিলেট টেস্ট। পঞ্চম দিনে টেনে নেওয়া টেস্টে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৩টি উইকেট। তাহলেই দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্টে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা দেওয়ার উৎসব করবে বাংলাদেশ দল। অন্যদিকে আর ১২২ রান যোগ করতে পারলে বিশ্বরেকর্ড করে টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা আনবে পাকিস্তান।
পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে নির্ভার থাকারই কথা বাংলাদেশ দলের। জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড করতে হবে পাকিস্তানকে। অ্যান্টিগায় ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮ রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের যে রেকর্ড গড়েছে ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেই রেকর্ড নিয়ে এখনও হচ্ছে বিস্তর গবেষণা। কারণ, টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের কৃতি নেই অন্য কোনো দলের। পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে ৪র্থ ইনিংসে ৪শ রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯৫ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জয়-ই তাদের চতুর্থ ইনিংসে সেরা সফলতা। চলমান সিলেট টেস্টে সেই পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪৩৭ রানের মহাচ্যালেঞ্জ।
২১ মাস আগে পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের পর হোমে ফিরতি সিরিজে হোয়াইট ওয়াশে পাকিস্তানকে চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশ দল। নাহিদ রানা (২/৫৮), তাইজুল (৪/১১৩) এবং মিরাজের (১/৬২)বোলিংয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের স্কোর ৩১৬/৭। রিজওয়ান ৭৫ এবং সাজিদ খান ৮ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন।
টেস্টের চতুর্থ দিনেও সিলেট স্টেডিয়ামের পিচে ফাটল ধরেনি। প্রথম দিনের মতোই বল পিচ করে স্বাভাবিক বাউন্স নিয়ে আসছে ব্যাটে। এমন একটা দিনে ৭টি উইকেট আদায় করতে যথেষ্ট কৌশলী হতে হয়েছে।
দিনের প্রথম সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১০২, দ্বিতীয় সেশনে ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৯ এবং শেষ সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রান যোগ করেছে পাকিস্তান।
৪৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে পাকিস্তান হারিয়েছে ২ উইকেট। প্রথম ঘন্টায় ব্রেক থ্রু দিয়েছেন নাহিদ রানা। তাঁর দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলটি ছিল আউটসাইড অফ শর্ট ডেলিভারি। সেই বলে ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল (২৮ বলে ৬) স্টিয়ার করতে যেয়ে গালিতে মিরাজের হাতে বন্দি হয়েছেন। মিরাজ দারুণ তৎপরতায় লো ক্যাচ নিয়েছেন।
দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায় উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। মিরাজও উইকেট পেয়েছেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। মিরাজের আর্ম বলে ওপেনার আজান আইওয়াস (৪৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১)এক হাতে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে পরাস্ত, হয়েছেন এলবিপ্ব্লুউ। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে সম্ভাব্য আঘাত ধরা পড়েছে।
দিনের দ্বিতীয় সেশনে পড়েছে পাকিস্তানের ৩ উইকেট। যোগ করতে পেরেছে পাকিস্তান ৯৯ রান। লাঞ্চের পর প্রথম বলে তাইজুলকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কায় বাহাদুরি দেখিয়ে নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন বাবর আজম। সেই তাইজুলের ডাউন দ্য লেগ ডেলিভারি খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন বাবর (৫২ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ৪৭)ক্যাচ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১১৫ বলে ৯২ রানের পার্টনারশিপ ভেঙ্গে যাওয়ার পর ব্যাকফুটে নেমেছে পাকিস্তান। দিনের দ্বিতীয় ড্রিংকসের পরের ২ ওভারে নাহিদ রানার বাউন্সি ডেলিভারিতে সৌদ শাকিল কট বিহাইন্ড (২১ বলে ৬), তাইজুলকে অন সাইডে খেলতে যেয়ে শর্ট লেগে দিয়েছেন ক্যাচ শান মাসুদ (১১৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৭১)।
৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে রিজওয়ান-সালমান আগা উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের পার্টনারশিপ চোখ রাঙিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। তবে দিনের খেলা শেষ হওয়ার ২৫ মিনিট আগে বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুলের টার্নিং ডেলিভারিতে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে সালমান আগা বোল্ড আউটে থেমে গেলে (১০২ বলে ৬ চার, ১ ছক্কায় ৭১) ১৩৪ রানে পার্টনারশিপটি বিচ্ছিন্ন হয়। তাইজুল পরের ওভারে হাসান আলীকে ফিরিয়েছেন। ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে হাসান আলী স্লিপে দিয়েছেন ক্যাচ (৬ বলে ০)। সারাদিনে ৭টি উইকেটের ৪টি (৩১-৩-১১৩-৪) পেয়েছেন তাইজুল। শেষ স্পেলটি (১০-২-৩৩-২) ছিল তার দারুণ। একটি উইকেট পেলে টেস্টে ১৮তম বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের মুখ দেখবেন তাইজুল। পেসার নাহিদ রানা পেয়েছেন এদিন ২ উইকেট (১৪-২-৫৮-২)। অন্যটি পেয়েছেন মিরাজ (২০-১-৬২-১)।

ভারতে বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) আয়োজনের আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। এবার জানা গেল কবে-কোথায় হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার এই টি-টোয়েন্টি লিগ। দেশটির সংবাদমাধ্যম সেন নেটওয়ার্কের প্রতিবেদন, ২০২৬-২৭ মৌসুমের বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচটি এই বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে হতে পারে।
ভারতের ক্রিকেট বাজার ধরতে এই পরিকল্পনা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সম্প্রতি দেশটির একটি প্রতিনিধি দল চেন্নাই সুপার কিংসের মাঠ পরিদর্শন করেন। সেখানে আইপিএলে চেন্নাই ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখেন। সেই সময় বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাস ও তামিলনাডু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক প্রতিনিধি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চেন্নাইয়ের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখছি। চূড়ান্ত কিছু নিশ্চিত না হলেও আমরা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে এটি নিয়ে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।‘
বিগ ব্যাশের দলগুলো এই উদ্যোগে বেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ব্রিসবেন হিটের প্রধান নির্বাহী টেরি সোয়েনসন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং আমরা এই উদ্যোগকে পুরোপুরি সমর্থন করি। মাঠের বাইরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে ব্রিসবেন হিটের দারুণ সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। তাই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার অপেক্ষায় আছি।‘
ব্রিসবেন হিট ছাড়াও মেলবোর্ন রেনেগেডস, মেলবোর্ন স্টার্স ও সিডনি থান্ডারের মতো দলগুলো চেন্নাইয়ে খেলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিগ ব্যাশের ১৬তম মৌসুমের চূড়ান্ত সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বরের মাঝামাছি এই টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত চলে।
বিগ ব্যাশের ১৫তম মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন পার্থ স্কোর্চার্স। নিয়ম অনুযায়ী পরের মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেই হিসেবে ভারতে উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেওয়া দুটি দলের একটি হিসেবে প্রায় নিশ্চিত পার্থ স্কোর্চার্স।
তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে সিডনি থান্ডার ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে ভারতে বিগ ব্যাশের সূচি তৈরিতে জটিলতাও দেখা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কোনো শহর থেকে সরাসরি চেন্নাইয়ের বিমান নেই। মেলবোর্ন থেকে দিল্লি ও সিডনি থেকে বেঙ্গালুরুর সরাসরি বিমান রয়েছে। সেটাতে সময় লাগবে ১১-১২ ঘণ্টা।
বিমানের সময় ঠিক করার সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম। অস্ট্রেলিয়া থেকে যদি বিমান সরাসরি চেন্নাইয়ে আসে তা হলে সময় লাগবে ১৩ ঘণ্টা। খেলোয়াড়দের ভ্রমণ ঝক্কি ও বিশ্রামের কথা মাথায় রেখে সূচি ঠিক করতে হবে।
পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তাই নির্ভার থাকারই কথা বাংলাদেশ দলের। জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড করতে হবে পাকিস্তানকে। অ্যান্টিগায় ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮ রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের যে রেকর্ড গড়েছে ব্রায়ান লারার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সেই রেকর্ড নিয়ে এখনও হচ্ছে বিস্তর গবেষণা। কারণ, টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের কৃতি নেই অন্য কোনো দলের। পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে ৪র্থ ইনিংসে ৪শ রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯৫ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জয়-ই তাদের চতুর্থ ইনিংসে সেরা সফলতা। চলমান সিলেট টেস্টে সেই পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪৩৭ রানের মহাচ্যালেঞ্জ।
সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে ১৭৪-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই কারো। গত বছরের এপ্রিলে এই রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের। আড়াই বছর আগে সিলেটে ৪র্থ ইনিংসে ৩৩২ রান তাড়া করে বাংলাদেশের কাছে ১৫০ রানে নিউ জিল্যান্ডের হারের সেই অতীত থেকে টনিক নিতে পারে শান্ত এন্ড কোং।
২১ মাস আগে পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের পর হোমে ফিরতি সিরিজে হোয়াইট ওয়াশে পাকিস্তানকে চোখ রাঙাচ্ছে বাংলাদেশ দল। নাহিদ রানা (২/৪৩), তাইজুল (২/৬২) এবং মিরাজের (১/৪১)বোলিংয়ে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে পাকিস্তানের স্কোর ২০০/৫। পাকিস্তানকে করতে হবে আরও ২৩৮ রান।
৪৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে পাকিস্তান হারিয়েছে ২ উইকেট। প্রথম ঘন্টায় ব্রেক থ্রু দিয়েছেন নাহিদ রানা। তাঁর দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলটি ছিল আউটসাইড অফ শর্ট ডেলিভারি। সেই বলে ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল (২৮ বলে ৬) স্টিয়ার করতে যেয়ে গালিতে মিরাজের হাতে বন্দি হয়েছেন। মিরাজ দারুণ তৎপরতায় লো ক্যাচ নিয়েছেন।
দিনের দ্বিতীয় ঘন্টায় উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। মিরাজও উইকেট পেয়েছেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। মিরাজের আর্ম বলে ওপেনার আজান আইওয়াস (৪৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২১)এক হাতে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে পরাস্ত, হয়েছেন এলবিপ্ব্লুউ। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে সম্ভাব্য আঘাত ধরা পড়েছে।
দিনের দ্বিতীয় সেশনে পড়েছে পাকিস্তানের ৩ উইকেট। যোগ করতে পেরেছে পাকিস্তান ৯৯ রান। লাঞ্চের পর প্রথম বলে তাইজুলকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কায় বাহাদুরি দেখিয়ে নিজের বিপদ ডেকে এনেছেন বাবর আজম। সেই তাইজুলের ডাউন দ্য লেগ ডেলিভারি খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন বাবর (৫২ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ৪৭)ক্যাচ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১১৫ বলে ৯২ রানের পার্টনারশিপ ভেঙ্গে যাওয়ার পর ব্যাকফুটে নেমেছে পাকিস্তান। দিনের দ্বিতীয় ড্রিংকসের পরের ২ ওভারে নাহিদ রানার বাউন্সি ডেলিভারিতে সৌদ শাকিল কট বিহাইন্ড (২১ বলে ৬), তাইজুলকে অন সাইডে খেলতে যেয়ে শর্ট লেগে দিয়েছেন ক্যাচ শান মাসুদ (১১৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৭১)।