৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:১৫ এম

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন- ১ সেপ্টেম্বর সিলেটে পরিচালনা পরিষদের সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নাম সুপারিশ করবেন। বিসিবির এই ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছে বিসিবির সাধারণ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ক্লাব, ক্রিকেটার এবং সংস্থাসমূহ।
নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণে মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) চিঠি দিয়েছে বিসিবি। নির্বাচনের অন্তত: ৩০ দিন আগে স্ব স্ব সংস্থা এবং ক্লাবের কাছে কাউন্সিলর ফরমও পাঠিয়ে দেওয়া শুরু করেছে বিসিবি।
২০১৩ সাল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচন শুরু হয়েছে বিসিবিতে। বিসিবির বিগত ৩টি নির্বাচনে পরিচালনা পরিষদে নির্বাচিতদের মধ্যে সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী দেখা যায়নি ওই তিনটি নির্বাচনে। নাজমুল হাসান পাপন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিবারই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রতিশোধ আফগানদের |
|
তবে বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীর আগ্রহের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই পদে তামিম ইকবাল বনাম আমিনুল ইসলাম বুলবুলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন এখন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ক্লাব অফিসিয়ালরা আলোচনার পর আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি খুঁজে পেয়েছেন। বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল মোটামুটি ঠিক হয়ে গেছে। যে প্যানেল থেকে পরিচালক নির্বাচিত হলে সভাপতি পদে নির্বাচন করার কথা এই ক্রিকেট গ্রেটের।
গত এক যুগ ধরে নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বে পরিচালিত পরিচালনা পরিষদের কারো জায়গা হচ্ছে না এই প্যানেলে। ফ্যাসিস্টমুক্ত ক্রিকেট বোর্ড গঠনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন মুখ এই প্যানেলের হয়ে বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারুণ্য নির্ভর এই প্যানেলে বিগত এক যুগে বৈষম্যের শিকার বেশ ক'জন অভিজ্ঞ সংগঠককেও দেখা যাবে।
তামিমরা যখন ক্যাটাগরি-২ (ঢাকার ক্লাব কোটা) ১২ পরিচালক পদে যোগ্য সংগঠকদের নিয়ে প্যানেল মোটামুঠি ঠিক করে রেখেছে; ক্যাটাগরি-৩ এর প্রার্থীও ঠিক, ক্যাটাগরি-১ এর ১০ পরিচালক পদে প্রার্থীর বেশ ক'জনকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে, ঠিক তখন এই প্যানেলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান এবং বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
গত ২৭ মে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি আশুলিয়ায় নিজের কেনা জমি বিক্রি করবেন বলে। এসেই প্রথমে পেয়েছেন বিসিবির সিইও পদে চাকরির প্রস্তাব। পরবর্তীতে অপ্রত্যাশিতভাবে উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সভাপতি পদে প্রস্তাব পেলে তা সাদরে গ্রহণ করেছেন। তাকে সভাপতি পদে দায়িত্ব দিতে ফারুক আহমেদকে অপসারণ করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
আইসিসির ডেভেলপম্যান্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব নবায়ন না করে মেলবোর্ন থেকে ঢাকায় এসে তিনদিনের মাথায় (৩০ মে) বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি বিসিবির নির্বাচন পূর্ব পরিচালনা পরিষদের নিয়মিত কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনে। দায়িত্বের শুরুতে বলেছিলেন বিসিবির সভাপতি পদে খন্ডকালীন দায়িত্ব নিতে এসেছেন তিনি। বিসিবিতে একটা টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলতে এসেছেন।
অথচ, কথা রাখেননি বুলবুল। গত তিন মাস বিসিবিতে তার প্রতিটি কর্মপরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী। বিসিবির নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে নিজেই সভাপতি পদে নির্বাচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল- ‘ইতিমধ্যেই বোর্ডের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আমরা (বিসিবির) নির্বাচন করব এবং প্রপার নির্বাচনই করব। বিসিবিতে সভাপতি নির্বাচন হয় না। পরিচালকদের নির্বাচন হয়, সেটা প্রথম লক্ষ্য এবং সেখানে থাকার চেষ্টা করব। পরবর্তীতে যদি সুযোগ হয়, আমি চেষ্টা করব যেভাবে হোক বাংলাদেশকে সার্ভ করার জন্য।’
আইসিসির বর্তমান পরিচালনা পরিষদের সবাই তার চেনা-জানা, ক্রীড়া উপদেষ্টা তার সমর্থক। ক্রীড়া উপদেষ্টাই তাকে বিসিবিতে নির্বাচিত সভাপতি হতে আগ্রহী করে তুলেছেন। বুলবুলের ঘণিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গেছে তা।
নির্বাচনহীন পরিচালক হয়ে আসতে হলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কোটা থেকে সরাসরি আসতে হবে তাকে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদকে অপসারিত করা হয়েছে, ওই ফর্মূলা যে ভবিষ্যতে এনএসসি প্রয়োগ করবে না, তার গ্যারান্টি কই? সে কারণে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোটা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে চাইছেন না বুলবুল।
ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
আরও পড়ুন
| দুঃস্বপ্নের অভিষেকে বেকারের লজ্জার রেকর্ড |
|
কিন্তু পরিচালক হয়ে বিসিবি সভাপতি পদে নির্বাচনের বৈতরণী পার হবেন কীভাবে বুলবুল? ক্লাবগুলো থেকে নির্বাচিত পরিচালকরা একজোট হলে এবং ক্যাটাগরি-৩ এর পরিচালকের ভোট পেলে সভাপতি পদে তামিম ওড়াবেন বিজয় কেতন। তামিমকে সভাপতি পদে দেখতে বিএনপির নীতি নির্ধারণী মহলের সবুজ সঙ্কেত যখন দেয়া হয়েছে, তখন তামিমের পক্ষে সমর্থন দ্রুত বাড়বে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া সংগঠকরা।
বিসিবির নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারে কেবল ক্রীড়া প্রশাসন। এবং তা শুধু ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা) এ। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহ এখন চলছে এডহক কমিটি দিয়ে। যে কমিটিতে প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠকদের জায়গা হয়নি।
ক্রীড়া প্রশাসনের নির্দেশে ক্যাটাগরি-১ এর কাউন্সিলর মনোনয়নে জেলা প্রশাসক অবস্থান নিতে পারেন। প্রশাসন থেকে মনোনীতদের হাতে কাউন্সিলর ফরম তুলে দিতে পারেন জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ। এ শঙ্কাই করছেন জেলাও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠকরা। এমন কিছু হলে সংশ্লিষ্ট জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসমূহে বিএনপি সমর্থিত ক্রীড়া সংগঠকরা তীব্র আন্দোলন করতে পারে। সে আভাসও পাওয়া যাচ্ছে।
তারপরও এই ক্যাটাগরিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের পূর্ণ সমর্থনে ১০টি পরিচালক সব কটি এবং এনএসসি কোটার ২ পরিচালকের ভোট-ই সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়- এটাও মাথায় রাখতে হবে বুলবুলকে।
বুলবুল যেখানে সভাপতির চেয়ারে বসে এই চেয়ারের মায়া ছাড়তে পারছেন না, সেখানে পরিস্থিতিই তামিমকে এনেছে সামনে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেই বিসিবির সভাপতি পদে তামিমের সম্ভাবনার জোর গুঞ্জন ছিল।
আরও পড়ুন
| মহারাজের ঘূর্ণি, মার্করামের ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড |
|
অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূইয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর তামিমকে সঙ্গে নিয়ে হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে এসে সে আভাসই দিয়েছিলেন। তবে তামিম তখন আগ্রহ প্রকাশ না করায় ফারুক আহমেদের উপর বর্তেছিল ওই দায়িত্ব।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান পদটি ফাঁকা রেখেছিলেন ফারুক আহমেদ তামিমের সম্মতির আশায়। ওই প্রস্তাবও বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন তামিম।
একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তামিম। ভবিষ্যতে বিসিবি সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা পুষে রেখেছিলেন। ঢাকার ২টি ক্লাব পরিচালনা করে ক্লাব অফিসিয়ালদের কাছাকাছি আসতে পেরেছেন। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক সুফল এখন দেখতে পাচ্ছেন তামিম।
No posts available.
১১ মার্চ ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম

বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি গৌতম গম্ভীর, যিনি ক্রিকেটার ও কোচ হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। ভারতের কোচ হিসাবে দু’বছরে দু’টি আইসিসি ট্রফি জেতা ব্যক্তিও তিনি। অথচ সূর্যকুমার যাদবদের কোচ হতে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না গম্ভীর। তবে আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহর অনুরোধে ভারতের দায়িত্ব নেন তিনি।
বিশ্বকাপ জয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেন,
‘‘মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচের আগে জয় ভাই আমাকে ফোন করেন। ফোন দিয়ে তিনি আমাকে বলেন, ‘তোমাকে একটা প্রস্তাব দেব, না করতে পারবে না।’ আমি বললাম, ‘কী প্রস্তাব’। জয় ভাই বলল, ‘তোমাকে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হতে হবে।’ সত্যি বলতে, ওই সময় আমি প্রস্তুত ছিলাম না।”
জয় শাহ’র আচমকা প্রস্তাবে দ্বিধায় পড়ে যান গম্ভীর। কিছুটা অবাকও হয়ে যান তিনি। কারণ, বিশ্বকাপজয়ী একটি দলের কোচ হওয়া এতটা সহজ ব্যাপার নয়। বরং এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া।
গম্ভীর বলেন,
‘আমি অবাক হয়েছিলাম। আমার মতে, ভারতীয় দলের কোচ হওয়া সম্মানের। কারণ, কত জন আবার ভারতীয় দলের জার্সি পরে ওই সাজঘরে যাওয়ার সুযোগ পায়। আমাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছিল।’
কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পুরো কৃতিত্ব জয়কেই দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন,
‘আমাকে বলুন, কত জন সাবেক ক্রিকেটার কোচ হতে পারে। সংখ্যাটা খুবই কম। জয় ভাই বলেছিল, আমি না করতে পারব না। আমি নাতাশার (গম্ভীরের স্ত্রী) সঙ্গে কথা বললাম। কিন্তু জয় ভাইয়ের কথাতেই দায়িত্ব নিয়েছিলাম। সাংবাদিক বৈঠকেও সেটা বলেছি।’

ভারতের ট্রফি অর্জনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২৬ কুড়ি কুড়ির টুর্নামেন্টের ঠিক দুই দিন পরই কে কত প্রাইজমানি পাচ্ছে, জানাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা—আইসিসি।
আইসিসি জানিয়েছে, ২০ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মোট ১১.২৫ মিলিয়ন ডলার বণ্টন করা হবে। ২০২৪ সালে আইসিসি যে ঘোষণা দিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারানোর পর ভারতের পুরস্কার হিসেবে পাচ্ছে ২,৬৩৯,৪২৩ ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ কোটি ৬৭ লাখ ৩০ হাজার ৭৬০ টাকা। রানার্সআপ পাচ্ছে ১৪ লাখ ২২ হাজার ৬৯২ ডলার।
সেমি-ফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ লাখ ৫ হাজার ৫৭৭ ডলার এবং ইংল্যান্ড পাচ্ছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৩ ডলার।
সুপার এইটে খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ লাখ ৩৮ হাজার ২৬৯ ডলার, পাকিস্তান ৫ লাখ ২২ হাজার ৬৯২ ডলার, জিম্বাবুয়ে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৫৩৮ ডলার এবং সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা পাচ্ছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৬২ ডলার।
গ্রুপ পর্বে ভালো পারফরম্যান্স করা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং আফগানিস্তান প্রত্যেকেই ৩ লাখ ৯ হাজার ৮০৮ ডলার করে পাবে।
একটি ম্যাচ জেতা স্কটল্যান্ড পাচ্ছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৪ ডলার এবং আয়ারল্যান্ড পাবে ২ লাখ ৭১ হাজার ৭৩১ ডলার। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়ে জয় পাওয়া ইতালি পেয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৪ ডলার। একই অঙ্ক পেয়েছে নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেপাল। অন্যদিকে কানাডা, নামিবিয়া ও ওমান—এই তিন দল প্রত্যেকে ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার করে পাচ্ছে । যা ছিল অংশগ্রহণের ভিত্তি পুরস্কার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার খুব একটা বড় নয় শন টেইটের। তবে অজি লিজেন্ডারি পেসার জেফ থমসনের স্টাইলে বোলিং করতেন। অনবরত ঘন্টায় ১৫৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারতেন। স্পিড গান-এ ২০১০ সালে একটি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে ঘন্টায় ১৬০.৭ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন শন টেইট। ২০২৫ সালের মে মাসে শন টেইটকে ২ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের গতিকে সমীহ করার পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ। এক সময়ে ব্রেট লি'র গতির সঙ্গে তুলনা করা হতো যাকে, সেই শন টেইটকে পেয়ে তরুণ পেসার নাহিদ রানা অনেক বেশি ভয়ংকর রূপ ছড়াচ্ছেন।
এই অজি বোলার কোচ হয়েও বন্ধুর মতো, সবসময়ে উদ্বুদ্ধকরণ কথা বলেন। বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে সেরা বোলিং করে (৫/২৪) সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই বলেছেন নাহিদ রানা-
‘কোচ হিসেবে উনি আউটস্যান্ডিং। উনি কোচ হয়েও ফ্রেন্ডের মতো বিহ্যাব করেন। যখন যে জিনিসটা দরকার, সেই জিনিসটা দেন। উনি বলেন, তোমরা তোমাদের স্ট্রেন্থ অনুযায়ী খেলো। তোমরা খেলবে মাঠে, আমি তোমাদেরকে প্লান দিব। তোমরা শুধু মাঠে করে দেখিও। উনি সব সময়ে উদ্বুদ্ধকরণ কথা বলেন।’
দলে মোস্তাফিজ-তাসকিনের মতো অভিজ্ঞ এবং বিশ্বমানের পেসার আছেন বলেই তাদের ছায়ায় পরিণত হতে চাইছেন নাহিদ রানা। বুধবার এই দুই সিনিয়রের টিপস কাজে লাগিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাহিদ রানা-
তাসকিন ভাই, ফিজ ভাই-এর সাথে কথা বলছিলাম, উনারা বলছিলেন বল উইকেটে জায়গামত হিট করতে। সেটাই করেছি। আমি যখন উইকেট পাচ্ছিলাম, আমার বল খেলতে সমস্যা হচ্ছিল, তাই লম্বা সময় বল করেছি। ক্যাপ্টেন, শান্ত ভাইয়ের প্লান ছিল, মাঠের মধ্যে তাদের হেল্প নিয়েছি।’
মাঠে এবং মাঠের বাইরে বাংলাদেশ দলের সবাই ভাই-ব্রাদার, একটা পরিবারের মতো। তেমনটাই জানিয়েছেন নাহিদ রানা-
‘আসলে আমরা ভাই-ব্রাদার, অন দ্য ফিল্ড যতোটা হাসিখুশি থাকি, অফ দ্য ফিল্ড আরও বেশি হাসিখুশি থাকি।’

শুরুর আগে আরও একবার বদলে নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউবিপিএল) ক্রিকেটের সূচি। তিন মাস পিছিয়ে আগামী জুলাইয়ে হবে প্রথম নারী বিপিএল। নতুন ভেন্যু হিসেবে যুক্ত হয়েছে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে এই খবর জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রাথমিকভাবে আগামী ৪ এপ্রিল শুরু করে ১৪ এপ্রিল ফাইনাল ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছিল বোর্ড। তবে এখন সেই ভাবনা সরে এসেছে তারা।
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের পর, দলগুলোর প্রস্তুতির সময় দেওয়া যেমন স্কোয়াড গঠন, বিদেশি ক্রিকেটার আনা ও পরিকল্পনা সাজাতে সুবিধার জন্য টুর্নামেন্টটি জুলাই মাসে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবর্তিত এই সূচি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের সঙ্গেও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে চলতি বছরের জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নারী বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়বে।
নতুন পরিকল্পনা অনুয়ায়ী, ডব্লিউবিপিএলের প্রথম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকাতেও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ২১ জুলাই ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
টুর্নামেন্টের ফ্র্যাঞ্চাইজি, খেলোয়াড় তালিকা ও স্পন্সরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা—তিনজনই নামের মতো পারফরম্যান্স করেছেন। সবচেয়ে সফল ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।
নাহিদ বোলিংয়ে আসার আগ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। তার হাতে যখন মেহেদী হাসান মিরাজ বল তুলে দেন, তখন থেকেই তুরুপের তাসের মতো উইকেট পড়তে থাকে পাকিস্তানের। শেষ পর্যন্ত ১২৪ রানে থেমে যায় অতিথিদের যাত্রা।
উইকেটে সদ্ব্যব্যহার করে পেসের সঙ্গে বাউন্স এবং বুদ্ধি খাটিয়ে পাকিস্তানের প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ। পাকিস্তানে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ থেকে পিছিয়ে পড়ার পেছনে বড় ভূমিকা নাহিদের। ম্যাচ শেষে তাকে নিয়ে অতিথি দলের কোচ মাইক হেসন জানা, নাহিদের ভবিষ্যত উজ্বল। সে বেশ সম্ভবনাময়।
পাকিস্তানের কোচ বলেন,
‘আসলে তাকে সরাসরি বোলিং করতে আজই প্রথম দেখলাম। টিভিতে অবশ্য অনেকবার দেখেছি। ওয়ার্ম-আপেও তাকে বেশ ভালো লাগছিল। সে উইকেটে জোরে বল করে, সিম ভালোভাবে ব্যবহার করে এবং ক্রস-সিমেও বল করে। আমার কাছে সে খুবই সম্ভাবনাময় এক বোলার মনে হয়েছে। আর আজ একদিনের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া তো সত্যিই বিশেষ একটি পারফরম্যান্স। তাই সে যে স্বীকৃতি পাচ্ছে, সেটার পুরোপুরি যোগ্য।’