
কোপা দেল রে’র শেষ চারে আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। আজ ড্রয়ে দিয়াগো সিমিওনের ক্লাবটিকে পেল হান্সি ফ্লিকের ক্লাব। সেমিফাইনালের আরেক ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের প্রতিপক্ষ অ্যাথলেটিক বিলবাও।
দুই লেগের সেমি ফাইনালের প্রথম লেগ হবে আগামী ১০ ও ১২ ফেব্রুয়ারি আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে। বার্সার দূর্গ ক্যাম্প ন্যূতে ফিরতি লেগ হবে ৩ ও ৫ ফেব্রুয়ারি। সেমি ফাইনালের বিজয়ী দল সেভিয়ার লা কার্তুজায় ফাইনাল খেলবে।
কোপা দেল রে’র কোয়ার্টার ফাইনালে আলবাসেতকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে বার্সা। স্পেনের দ্বিতীয় সারির এই ক্লাব এর আগে শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে চমকে দেয়। তবে অঘটনের স্বাক্ষী হয়নি কাতলানরা। লামিনে ইয়ামাল ও রোনাল্ড আরাউহোর গোলে সেমির টিকিট কাটে এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দল।
কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল বেতিসকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে সেমি নিশ্চিত করে আতলেতিকো মাদ্রিদ। একটি করে গোল করেন ডেভিড হানকো, জিওলিয়ানো সিমিওনে, আদেমোলা লুকমান, আঁতোয়ান গ্রিজম্যান ও থিয়াগো আলমাদা।
কোপা দেল রে’র সবচেয়ে সফল দল বার্সা। এই প্রতিযোগিতায় ৩২টি শিরোপা জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪টি ট্রফি জিতেছে অ্যাথলেটিক বিলাবাও।
No posts available.
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের অনুপস্থিতি এখন আর কেবল মাঠের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পৌঁছে গেছে দেশটির প্রেসিডেন্টের দরবারে। নেইমারকে দলে রাখা হবে কি না—এই বিষয়ে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরামর্শ চেয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চোট আর ফিটনেসজনিত সমস্যায় নেইমার জাতীয় দলের বাইরে আছেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার জায়গা না পাওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আর এ নিয়েই পুরো দেশজুড়ে এখন বিতর্কের ঝড় বইছে।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফুটবলের প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। দেশটির জাতীয় দলে সবসময়ই পেলে, রোমারিও কিংবা রোনালদোর মতো কিংবদন্তি তারকাদের জয়জয়কার দেখা গেছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নেইমার ছিলেন ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় পোস্টার বয়। কিন্তু হাঁটুর চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই তাকে গত প্রায় তিন বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে রেখেছে।
মার্চের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে নেইমারকে রাখা হয়নি, আর তাতেই সমর্থকদের মনে ভয় ঢুকেছে যে—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে হয়তো আনচেলত্তি তাকে দলে নেবেন না। তবে সম্প্রতি সান্তোসের হয়ে নেইমারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—তিনি কি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্য?
এই সব নাটকীয়তার মাঝেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা জানিয়েছেন, কোচ আনচেলত্তি সম্প্রতি তার কাছে নেইমারকে বিশ্বকাপে নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। ‘ব্রাজিল ২৪৭’ ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার আনচেলত্তির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনার কি মনে হয় নেইমারকে দলে ডাকা উচিত?”
প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, নেইমার যদি শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট থাকেন এবং রোনালদো-মেসির মতো পেশাদারিত্ব দেখাতে পারেন, তবেই তার সুযোগ পাওয়া উচিত; শুধু ‘নামের ভারে’ দলে যাওয়া এখন আর সম্ভব নয়।
প্রেসিডেন্ট লুলা আনচেলত্তিকে দেওয়া নিজের উত্তরের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমি বলেছি: ‘দেখুন আনচেলত্তি, সে (নেইমার) যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকে, তবে ফুটবল খেলার সামর্থ্য তার আছে। আমি যেটা জানতে চাই তা হলো—সে কি আসলে মনেপ্রাণে এটা চায়?’
লুলা আরও যোগ করেন, ‘যদি সে সত্যিই ফিরতে চায়, তবে তাকে শতভাগ পেশাদার হতে হবে। সে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো কিংবা মেসির দিকে তাকাতে পারে—তারা যেভাবে নিজেদের ধরে রেখেছে, সেও ঠিক সেভাবে জাতীয় দলে খেলে যেতে পারে, কারণ তার বয়স এখনও খুব বেশি হয়ে যায়নি।’
প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নেইমারকে কেবল তার ‘নামের ভারে’ বা পুরোনো খ্যাতির ভিত্তিতে দলে নেওয়া উচিত নয়; বরং সে দলের জন্য বর্তমানে কী দিতে পারবে, সেটাই হওয়া উচিত একমাত্র মাপকাঠি।
জাতীয় দলে ফেরার মিশনে নামা নেইমার সান্তোসের হয়ে আজ মাঠে নেমেছিলেন। কোপা সুদামেরিকানায় প্যারাগুয়ের ক্লাব রেকোলেতার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচের ৪ মিনিটে গোল করেন সাম্বা তারকা। আগামী ১৮ মে ব্রাজিল তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করতে পারে। স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে হলে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সঙ্গে ছন্দেও থাকতে হবে নেইমারকে।

‘কামব্যাক’ কিংবা প্রত্যাবর্তন—রিয়াল মাদ্রিদের ডিএনএতেই আছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে লস ব্লাঙ্কোসদের মতো ঘুরে দাড়ানোর ইতিহাস নেই আর কোনো দলেরই। যেখানে সবাই শেষ দেখে, সেখান থেকেই শুরু হয় রিয়ালের গল্প।
আজ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় যখন পা রাখবে রিয়াল মাদ্রিদ, তাদের সামনে সমীকরণটা একদম তখন পরিষ্কার। চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে শেষ আটের ফিরতি লেগে জয় না পাওয়া মানেই মৌসুমের সব আশা শেষ। লা লিগায় বার্সেলোনা এখন ৯ পয়েন্টে এগিয়ে, হাতে আছে মাত্র ৭টি ম্যাচ। তাতে ট্রফিশূন্য আরও একটি হতাশার মৌসুম দেখতে হবে রিয়ালকে।
ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-১ গোলে হারের পর এবার বায়ার্নের ডেরা থেকে জয় নিয়ে ফেরার অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে লিয়াল মাদ্রিদকে। বাভারিয়ানরা এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে গোল করার অবিশ্বাস্য সামর্থ্য রাখা এই দলটি ইউরোপের মাটিতে নিজেদের মাঠে অপরাজেয়। বুন্দেসলিগাতেও তারা ১২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছে এবং প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙছে।
আরও পড়ুন
| যেখানে ব্যর্থ হয়েছে বার্সা, যা করতে হবে ফ্লিককে |
|
প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু-তে হ্যারি কেইন, মাইকেল অলিসে এবং লুইস দিয়াজদের আক্রমণাত্মক তোপে পড়েছিল আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা। তবুও আশা ছাড়ছে না মাদ্রিদ; অনেকের মতেই—যদি কেউ এই বায়ার্নকে থামাতে পারে, তবে সেটা রিয়াল মাদ্রিদই। তবে বায়ার্নের মাঠে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর মতো রাত উপহার দিতে হলে, মাদ্রিদকে তাদের কৌশল কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।
লেফট ব্যাক পজিশনে পরিবর্তন
প্রথম লেগে যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি, তাদের মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক ছিলেন আলভারো কারেরাস। লেফট ব্যাক পজিশনে মাইকেল অলিসের গতি আর ড্রিবলিংয়ের সামনে কারেরাসকে পুরোটা সময় অসহায় মনে হয়েছে। ক্রিস্টাল প্যালেসের সাবেক এই উইঙ্গার রীতিমতো নাচিয়ে ছেড়েছেন তাকে।
মিউনিখে দ্বিতীয় লেগে জয় পেতে হলে লেফট ব্যাক পজিশনে রদবদল আনা রিয়ালের জন্য সবচেয়ে জরুরি। গত শুক্রবার জিরোনার বিপক্ষে ম্যাচে ফ্রান গার্সিয়া এবং ফার্ল্যান্ড মেন্ডি—উভয়কেই কিছু সময় পরখ করে নিয়েছেন কোচ আরবেলোয়া। যদিও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে গার্সিয়া ভালো করেছিলেন, তবে রক্ষণের শক্তিমত্তার বিচারে ফিট মেন্ডিই রিয়ালের সেরা অপশন। ফরাসি এই ডিফেন্ডারকে দিয়ে যদি অলিসেকে বোতলবন্দি করা যায়, তবে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ভালো ফল পাওয়ার পথ অনেকখানি প্রশস্ত হবে।
শারীরিক সক্ষমতা ও ইনটেনসিটি বাড়ানো
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগের ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ যেখানে ১১০.৯ কিলোমিটার পথ দৌড়েছে, সেখানে রিয়াল মাদ্রিদ দৌড়েছে ১০১.৯ কিলোমিটার। যদিও কেবল কত কিলোমিটার দৌড়াল তা দিয়ে একটি দলের সাফল্য সবসময় বিচার করা যায় না, তবে এই পরিসংখ্যান রিয়ালের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর।
স্প্যানিশ পত্রিকা 'মার্কা'র তথ্যমতে, গত রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জয়ের দুই লেগেই রিয়াল মাদ্রিদ ১১৩ কিলোমিটারের বেশি পথ দৌড়েছে। মিউনিখে জয়ের একমাত্র পথ যেহেতু আক্রমণাত্মক ফুটবল, তাই বায়ার্নের মতো পরিশ্রমী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে রিয়ালকে নিজেদের শারীরিক সক্ষমতার শেষ সীমানা পর্যন্ত উজাড় করে দিতে হবে।
৩. আক্রমণে নিখুঁত হওয়া
বায়ার্নের রক্ষণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও তা কিন্তু একেবারেই অভেদ্য নয়। এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল গোলবন্যার জোয়ার বইয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি (ক্লিন শিট)। আর সেই দুটি ম্যাচই ছিল তুলনামূলক দুর্বল বেলজিয়ান ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট জিলোয়াস এবং ক্লাব ব্রুগার বিপক্ষে।
আরও পড়ুন
| ওয়ার্নের মৃত্যুর জন্য দায়ী করোনা টিকা, দাবি ছেলের |
|
প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল। মিউনিখের মাঠেও তারা বায়ার্ন সেন্টার ব্যাক দায়ো উপামেকানোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করে নিতে পারে। এমবাপের জাতীয় দলের এই সতীর্থ গত আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ উন্নতি করেছেন। এখনো হুটহাট ভুল করার প্রবণতা রয়ে গেছে তাঁর। প্রথম লেগেও তার বড় এক ভুলের কারণেই ভিনিসিউস জুনিয়র ম্যানুয়েল নয়ারের সামনে একা হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন; যদিও সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। মিউনিখে যদি উপামেকানোকে নিয়মিত চাপের মুখে একা করে ফেলা যায় ,তবে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের জন্য গোল পাওয়ার পথ আরও সহজ হতে পারে।
ঐতিহ্যের শক্তি ও পুরনো সেই লড়াকু মানসিকতা
কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের অন্তত প্রথম এক ঘণ্টা রিয়াল মাদ্রিদকে দেখে মনেই হয়নি যে, তারা জয়ের জন্য খেলছে। তবে জুড বেলিংহাম মাঠে নামার পর শেষ ৩০ মিনিটে যেন পুরো দলের চেহারা বদলে যায়। এমবাপের সেই গোলটি দ্বিতীয় লেগের সমীকরণকে এখনও বেশ জমজমাট করে রেখেছে। মিউনিখে মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নামার আগে মাদ্রিদের সিনিয়র খেলোয়াড় ও নেতাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এমন রাতে ছন্দ কিংবা যুক্তি—সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর যে অবিশ্বাস্য ক্ষমতা এই ক্লাবটির আছে, সেই ‘অজেয়’ মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে হবে।
ইতিহাস রিয়ালের পক্ষেই কথা বলে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ভলসবুর্গের বিপক্ষে প্রথম লেগে পিছিয়ে থেকেও তারা কোয়ার্টার ফাইনাল জিতেছিল। এমনকি গত ১৫ বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে চারবার বায়ার্নকে বিদায় করেছে মাদ্রিদ। এর মধ্যে দুই বছর আগে হোসেলুর সেই অবিশ্বাস্য রূপকথা তো সবারই মনে আছে। মিউনিখে অসম্ভবকে সম্ভব করতে হলে রিয়ালকে আবারও তাদের সেই সোনালী ইতিহাসের সাহসে বলীয়ান হতে হবে।

ইউরোপীয় ফুটবলে রাজত্ব ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো বার্সেলোনার। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী কাতালান ক্লাবটি সবশেষ ২০১৫ সালে এই শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। এরপর এরপর কেটে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়, কিন্তু ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব যেন বার্সার কাছে এক ধূসর স্বপ্নেই পরিণত হয়েছে।
হান্সি ফ্লিকের হাত ধরে গত দুই মৌসুমে বার্সেলোনা যে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল, তাতে সমর্থকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। তবে তাতেও মেলেনি সমাধান। গত মৌসুমে ইন্টার মিলানের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর এবার বার্সার হতাশার গল্প আরও দীর্ঘ করল আতলেতিকো মাদ্রিদ। গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো সিমিওনের দলের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় শেষ হয় ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সার এই টুর্নামেন্টের যাত্রা।
গত দুই মৌসুমে ফ্লিকের বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যর্থতা থেকে শেখার কী আছে? সহজ কথায় রক্ষণভাগের মেরামত অপরিহার্য। গত মৌসুমের শুরু থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ২৬ ম্যাচে বার্সা গোল করেছে ৭৫টি; কেবল পিএসজি (৭৬ গোল) তাদের চেয়ে বেশি গোল করেছে। তবে পিএসজি যেখানে ৩১ ম্যাচে ৭৬ গোল করেছে, বার্সেলোনা সেখানে মাত্র ২৬ ম্যাচেই ৭৫ গোল তুলে নিয়েছে। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ২.৮৮ গোল! অবিশ্বাস্য এক সংখ্যাই বটে।
এবার বার্সেলোনার আসল সমস্যার দিকেই চোখ দেওয়া যাক। গোল করায় সিদ্ধহস্ত বার্সেলোনা গোল হজমও করে ভূরিভূরি। গত দুই মৌসুমে তাদের হজম করা ৪৪টি গোল চ্যাম্পিয়নস লিগের যেকোনো দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকার কাছাকাছি আছে কেবল ক্লাব ব্রুগা (৪৩ গোল) এবং বার্সার সবশেষ প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদ (৪২ গোল)।
রক্ষণ ঠিক রাখতে না পারার এই দুর্বলতা বরাবরই ফ্লিকের ফুটবল দর্শনের প্রধান বাধা বা 'অ্যাকিলিস হিল' হয়ে থেকেছে। যদিও ২০১৯-২০ মৌসুমে ফ্লিকের অধীনে বায়ার্ন মিউনিখ ট্রেবল জিতেছিল এবং সেবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ১১ ম্যাচে তারা মাত্র ৮টি গোল হজম করেছিল। কিন্তু তার পরের মৌসুমের চিত্রটা ছিল একদম ভিন্ন। সেবার বায়ার্ন গোল করায় রীতিমতো উৎসব মেতেছিল—৫০ ম্যাচে গোল করেছিল ১৩৯টি, বিপরীতে গোল হজমও করেছিল ৫৯টি। এমনকি জার্মানি জাতীয় দলের কোচ থাকাকালীন সংক্ষিপ্ত সময়েও রক্ষণাত্মক সমস্যাগুলো বারবার ফুটে উঠেছিল।
কোনো সন্দেহ ছাড়াই বার্সায় এসে ইউরোপের অন্যতম সেরা একটি দল গড়ে তুলে ফ্লিক তাঁর সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেছেন। তাঁর কোচিংয়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি প্রথম মৌসুমে ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের পর এই মৌসুমেও লিগ জয়ের দ্বারপ্রান্তে আছে। কিন্তু ক্লাবের আসল লক্ষ্য হলো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়। আর যতক্ষণ না ফ্লিক তার দলের এই ভঙ্গুর রক্ষণভাগ মেরামত করতে পারছেন, ততক্ষণ সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

প্রতিটি বিশ্বকাপই আমাদের জন্য কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেয়, তবে সেই সব স্মৃতি সবসময় উদযাপনের মতো আনন্দদায়ক হয় না। ‘গ্রেটেস্ট শো অর্ন আর্থ’ নামক প্রতিযোগিতায় অম্ল-মধূর অনেক গল্পই অমর হয়ে আছে।
মাঠে একদল যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরার উল্লাসে মাতে, ঠিক তখনই অন্য কোনো দল এমন এক নেতিবাচক ইতিহাস তৈরি করে যা কেউ মনে রাখতে চায় না - লজ্জাজনক হার, অবিশ্বাস্য বিপর্যয় আর এমন যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স যা ফুটবল বিশ্বে এক একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকে। সাবেক আয়োজক দেশ থেকে শুরু করে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অভিষেক হওয়া দলের ট্রেজেডি - যারা শুধু ব্যর্থই হয়নি, বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখিয়েছে বিপর্যয়ের নজির সৃষ্টি করে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগে ফিরে দেখা যাক কয়েকটি করুণ সেই ইতিহাস।
বলিভিয়া (১৯৫০)
আজ পর্যন্ত আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপের মধ্যে অন্যতম অদ্ভুত এক আসর ছিল ১৯৫০ ব্রাজিল বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপের ফরম্যাট ছিল একেবারেই ভিন্নরকম - গ্রুপগুলোতে দলের সংখ্যা সমান ছিল না, এমনকি প্রথাগত নকআউট পর্বের বদলে রাখা হয়েছিল একটি ফাইনাল গ্রুপ।
ফ্রান্স নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বলিভিয়া পড়ে যায় অদ্ভুত এক 'দুই দলের' গ্রুপে। ফলে তাদের ভাগ্য ঝুলে ছিল মাত্র একটি ম্যাচের ওপর, যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল সেবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।
২ জুলাই অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি আদতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই ছিল না, ছিল উরুগুয়ের একতরফা দাপট। ৮-০ গোলে বলিভিয়াকে বিধ্বস্ত করে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই শেষ করে দেয় উরুগুয়ে। নানা অনিয়ম আর অদ্ভুত সব ঘটনায় ভরা সেই টুর্নামেন্টে বলিভিয়ার এই বিশাল ব্যবধানের হার ইতিহাসের অন্যতম একপেশে লড়াইয়ের মুহূর্ত হিসেবে আজও টিকে আছে।
গ্রিস (১৯৯৪)
চার দশকেরও বেশি সময় পর, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে এক দুঃস্বপ্নময় অভিষেকের সাক্ষী হয় গ্রিস। তাদের সেই বিশ্বকাপ অভিযান সম্ভবত সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই আইকনিক গোলটির কারণে। এই গোলটি ছিল আর্জেন্টিনা দলের হয়ে এই কিংবদন্তির শেষ আন্তর্জাতিক গোল। আর্জেন্টিনার ৪-০ ব্যবধানের জয়ে যে গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হয়ে আছে।
তবে সেটি ছিল গ্রিসের দুর্গতির শুরু মাত্র। এরপর নাইজেরিয়া এবং বুলগেরিয়ার কাছেও তারা হার মানে, এবং কোনো ম্যাচেই একটি গোলও শোধ করতে পারেনি। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সময় গ্রিস ১০টি গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল পাঠাতে পারেনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যর্থ দলগুলোর তালিকায় নিজেদের নাম খোদাই করে ফেলে তারা। এই ভরাডুবির প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎক্ষণিক—ম্যাচ শেষ হওয়া মাত্রই প্রধান কোচ আলকেতাস পানাগুলিয়াস পদত্যাগ করেন।
হাইতি (১৯৭৪)
১৯৭৪ বিশ্বকাপে এমন বেশ কিছু দল অংশ নিয়েছিল যারা বিশ্বমঞ্চে লড়াই করতেই রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল হাইতি। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে ক্যারিবিয়ান এই দলটি শুরুতে কিছুটা সম্ভাবনার ঝলক দেখালেও শেষ পর্যন্ত বড় দলগুলোর গতির সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারেনি।
ইতালি, পোল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে তাদের গোল ব্যবধান দাঁড়ায় -১২ । হাইতির এই পারফরম্যান্স সেই সময়ে ফুটবলের উদীয়মান দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর বিশাল ব্যবধানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছিল।
জায়ার (১৯৭৪)
একই টুর্নামেন্টে (১৯৭৪ বিশ্বকাপ) এমন একটি দলের অভিষেক হয়েছিল, যাদের পারফরম্যান্সকে আজও অনেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বাজে’ হিসেবে গণ্য করেন; আর সেই দলটি হলো জায়ার।
নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ আসরে জায়ার তাদের তিনটি ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরেছিল। একটি গোলও করতে না পারা দলটি হজম করেছিল মোট ১৪টি গোল। বিশেষ করে যুগোস্লাভিয়ার কাছে তাদের ৯-০ গোলের হার আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যবধানের পরাজয় হয়ে আছে।
এল সালভাদর (১৯৮২)
আট বছর পর, ১৯৮২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে এল সালভাদরও ঠিক একই পর্যায়ের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। তাদের সেই বিশ্বকাপ যাত্রা সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে উদ্বোধনী ম্যাচেই হাঙ্গেরির কাছে ১০-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারের কারণে। এই একটি ম্যাচের ফলই টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশা কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল তাদের।
পরবর্তী ম্যাচগুলোতে বেলজিয়াম ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এল সালভাদর কিছুটা লড়াই করতে পারলেও, ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। টুর্নামেন্ট শেষে দেখা যায়, এল সালভাদর মাত্র ১টি গোল করতে পারলেও হজম করেছে মোট ১৩টি গোল; যা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল দলগুলোর তালিকায় উপরের দিকেই আছে।

নিজেদের দূর্গে ঘুরে দাড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কাছে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হেরে (দুই লেগে ৪-০) বিদায় নিয়েছে অল রেডরা। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হুগো একিতিকে পড়েছেন চোটে। গুরুতর এই চোট লিভারপুল এবং ফ্রান্স—উভয় পক্ষকেই বড় দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
অ্যানফিল্ডে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের ২৭ মিনিটে পা হড়কে ডান পায়ের গোড়ালিতে চোট পান একিতিকে। চোটের গুরুত্ব বুঝে চিকিৎসকরা দ্রুত স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যান ফরাসি ফরোয়ার্ডকে। একিতিকে মাঠ ছাড়ার পর তা বদলি হয়ে মাঠে নামেন মোহাম্মদ সালাহ। গত সপ্তাহের প্রথম লেগের মতো এই ম্যাচেও মিশরীয় তারকা ফরোয়ার্ডকে শুরুর দিকে বেঞ্চেই বসে থাকতে হয়েছিল।
ম্যাচের পর একিতিকের চোট নিয়ে লিভারপুল কোচ আর্নে স্লটের কণ্ঠে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ,
‘পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না। বেশ গুরুতর চোট বলেই মনে হচ্ছে, তবে ঠিক কতটা তা এখনই বলা কঠিন। আগামীকাল আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্তারিত জানব।’
পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে আলেকজান্ডার ইসাক চার মাস পর প্রথমবারের মতো লিভারপুলের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু কোচ আর্নে স্লট ইঙ্গিত দিলেন, একিতিকের এই চোটের কারণে হয়তো এই মৌসুমে শেষবারের মতো নিজের পছন্দের আক্রমণভাগকে একসঙ্গে মাঠে নামাতে পেরেছিলেন।
স্লট আক্ষেপ করে বলেন,
‘আজকের রাতের আগে আমরা ফ্লোরিয়ান (উইর্টজ), আলেকজান্ডার এবং হুগোকে নিয়ে মাত্র ৮৮ মিনিট একসঙ্গে খেলাতে পেরেছি। আজ এরসঙ্গে আরও ২৭ মিনিট যোগ হলো। আমার মনে হয় না এই মৌসুমে আমরা তাদের আর একসঙ্গে খেলাতে পারব। একমাত্র ভালো দিক হলো আলেকজান্ডার চোট কাটিয়ে ফিরেছে।’
একিটিকের এই চোট ফ্রান্সের আসন্ন বিশ্বকাপ ভাবনায়ও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে লিভারপুলের আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করার দৌড়েও এটি বড় ধাক্কা। একিটিকের ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ ইব্রাহিমা কোনাতে অ্যামাজন প্রাইমকে বলেন,
‘আমার মনে হচ্ছে চোটটা বেশ খারাপ। আমি অনেক কিছুই শুনেছি, কিন্তু এটা নিয়ে কথা বলার মতো ভাষা আমার নেই। সামনে বিশ্বকাপ, এই সময়ে এমন চোট ওর জন্য মেনে নেওয়া খুব কঠিন। আমি ওর জন্য প্রার্থনা করছি।’
এই মৌসুমে একিটিক লিভারপুলের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন একিতিকে। ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ক্লাব ও দেশের হয়ে এরমধ্যেই ১৯টি গোল করেছেন। গত মাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের ২-১ ব্যবধানের জয়েও তাঁর গোল ছিল।
এদিকে পিএসজির জন্য রাতটা ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার। ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের লেফট-ব্যাক নুনো মেন্দেস প্রথমার্ধের শেষ দিকে কোনো এক অজানা সমস্যায় মাঠ ছাড়লেও তিনি নিজেই হেঁটে যেতে পেরেছেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে দেসিরে দুয়ে-কেও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা গেছে।