
ফুটবলে লাল কার্ড হরহামেশাই দেখা যায়। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে সেই চিত্র আরো নিয়মিত। প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের ফাউল কিংবা সংঘর্ষে জড়িয়েও অনেকে লাল কার্ড দেখেন। তবে সেই রেড কার্ডের সংখ্যা যদি হয় ১৭ ! কেমন হবে তবে ? নিশ্চয়ই চোখ কপালে উঠবে।
লাল কার্ডের এই সংখ্যা দেখে ইতিমধ্যে হয়তো আন্দাজ করেছেন, এই ম্যাচটিতে বোধহয় প্রচুর সংঘর্ষ-হাতাহাতি-মারামারি হয়েছে। ঠিক তাই, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ দক্ষিণ বলিভিয়ার ক্লাব ফুটবলের টুর্নামেন্ট কোপা বলিভিয়ার একটি ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ১৭টি লাল কার্ড দেখেছে। প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরই রীতিমতো রণক্ষেত্রে রূপ নেয় মাঠ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়েছে।
গত মঙ্গলবার কোপা বলিভিয়ায় প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হয় ব্লুমিং ও রিয়াল অরুরো। ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচ শেষ হতেই ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলার ও স্টাফরা। কোনোভাবেই তাদের থামাতে না পেরে পুলিশ টিয়ার শেল ছুঁড়তে বাধ্য হয়। গুরুতর আহত হয়েছে অনেকে। এক কোচকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, আর এক কর্মকর্তা মুখের হাড় ভেঙে গেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ ২-২ গোলে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ব্লুমিং। তবে ম্যাচ জয়ের আনন্দ উদযাপন করতে না করতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বলিভিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘এল পোতোসি’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুরোর ফুটবলার সেবাস্তিয়ান জেবালোস প্রথমে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটান। ব্লুমিংয়ের খেলোয়াড়রা তাকে আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও মুক্ত করে অন্যদের ধাক্কা দেন তিনি।
এরপর জেবালোসের সতীর্থ হুলিও ভিলাও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারকে ঘুষি মেরে বসেন। আর তাতেই সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ওরুরোর কোচ মার্সেলো রবলেদোও ক্ষিপ্ত হয়ে ব্লিভিয়ান জাতীয় দলের এক কোচের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান এবং ধাক্কা খেয়ে পিছনে পড়ে যান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবলেদো কাঁধের আঘাত এবং মাথায় আঘাত পেয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রায় ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করেন। ব্লুমিং কোচ মাউরিসিও সোরিয়া তার খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমে নিয়ে গিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। অফিসিয়াল ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী ব্লুমিং-এর সাত জন খেলোয়াড়, অরুরোর ৪ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। উভয় দলের কোচ ও সহকারীও লাল কার্ড পেয়েছেন। মোট ১৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
No posts available.
১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫১ পিএম

এএফসি অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানেই হেরেছে বাংলাদেশ।
পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে থাইল্যান্ডের বুকে ভালোই কাঁপন ধরিয়েছেন দেশের মেয়েরা। ২-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন ম্যাচটি হয়তো অর্পিতা বিশ্বাসদেরই হতে যাচ্ছে। তবে জোড়া পেনাল্টি হজম এবং ফিনিশিংয়ের অভাবে ধুঁকেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন সে কথা। তবে তার বিশ্বাস এই ম্যাচ থেকে শেখার আছে অনেক কিছুই।
অর্পিতা বলেন,
‘আমরা প্রথম ম্যাচ শুরু করেছি। আমরা ফার্স্ট আপে ভালো করার চেষ্টা করেছি এবং ভালো খেলেছি এবং লাস্ট ফিনিশিং ভালো করতে পারিনি। এটা আমাদের শেখার জায়গা। এখান থেকে শিখছি। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভালো করবো। ইনশাল্লাহ।’
৩৬ মিনিটে প্রথম গোল আদায়ের পর ৫০ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের হয়ে জোড়া গোল করেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। তবে পরপর দুটি পেনাল্টিতে আশা নিরাশায় পরিণত হয় বাংলাদেশের।
অর্পিতা বলেন,
‘আমরা ম্যাচটা লিড নিয়ে নিয়েছিলাম। পরে যখন একটা পেনাল্টি হলো, তখন আমাদের প্লেয়াররা একটু ভেঙে পড়ে। সেকেন্ডটাও পেনাল্টি হইছে। ওভারঅল আমরা গেম খেলে আমরা গোল করছি এবং অপোনেন্ট তারা দুইটা পেনাল্টিতে গোল করেছে। যেহেতু আমরা ফাস্ট ম্যাচ শুরু করেছি এখান থেকে আমরা যে ভুলগুলা করেছি নেক্সট ম্যাচগুলাতে আমরা সেই ভুলগুলা শোধরানোর চেষ্টা করব এবং চেষ্টা করব সেই ম্যাচগুললাতে ভালো করার।’
গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ শনিবার মুখোমুখি হবে প্রতিযোগিতার ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন চীনের। ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করেছে তারা।

তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ ফুটবল নতুন জীবন পেয়েছে। ধুকতে থাকা বাংলাদেশের ফুটবল আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে হামজা চৌধুরীর আগমনেই। লাল-সবুজদের ফুটবলে সুদিন ফেরাতে স্বাক্ষাৎ দূত হয়েই যেন হাজির হন লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার। একটা সময় খাঁ খাঁ করা গ্যালারিতে ফিরেছে প্রাণ। এখন দেশ কিংবা ঘরের বাইরে যেখানেই বাংলাদেশের খেলা হোক না কেন, একটি টিকিটের জন্য রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়ে যায় সমর্থকদের মধ্যে। আর এই ‘ফুটবল পাগলদের’ বিশ্বের সেরা বলতে বিন্দু পরিমাণ দ্বিধাও করেননি হামজা।
বাংলাদেশের সঙ্গে হামজা চৌধুরীরর পথচলার বয়স বছরে রূপ নিয়েছে। গত বছরের ২৫ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিকই। জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের এই ম্যাচেই প্রথম বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চড়িয়েছিলেন হামজা। দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। পেছন ফিরে তাকালে ঠিক কী দেখেন লেস্টারের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার?
এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর হামজার কাছে জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশের সঙ্গে এক বছরের যাত্রার অভিজ্ঞতা। অনেক কথার সঙ্গে হামজার মুখে ঝরে পড়ল বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের বন্দনা। সিঙ্গাপুরের ডেরাতেও বাংলাদেশের গগনবিদারী চিৎকার ঠিকেই চোখে পড়েছে হামজার।
দর্শক, টুর্নামেন্টের আবহ আর তাদের তৈরি করা শব্দ—সব মিলিয়ে বোঝাই কঠিন ছিল যে এটা অ্যাওয়ে ম্যাচ। এমন দর্শকের মাঝে, অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলেও কেমন লাগে হামজার? ইএসপিএনের সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হামজা বলেন,
“দারুণ একটা অনুভূতি, সত্যি বলতে অসাধারণ। আমি একটু আগেই বলছিলাম, আমার মতে এরা বিশ্বের সেরা সমর্থক। এত দূর ভ্রমণ করে, নিজের কষ্টের টাকা খরচ করে এখানে এসে আমাদের খেলা দেখা—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগেই বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। মূলপর্বে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সমর্থকদের এমন সমর্থনের সঙ্গে কিছুর তুলনা খুঁজে পান না হামজা,
‘আমরা এখনো যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি, তবুও তাদের জন্য এটা যেন এক ধরনের উৎসব, যেভাবে তারা এত সংখ্যায় এসে সমর্থন দিচ্ছে—এর তুলনা হয় না। আমরা তাদের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ, আশা করি তারা এমনভাবেই আমাদের পাশে থাকবে।’

প্রীতি ম্যাচে নিজেদের মাঠে মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন। স্বাগতিক দর্শকদের থেকে পুরো সমর্থনই পাওয়ার কথা ‘লা রোজাদের’। তবে গতকাল গোলশূন্য ড্র হওয়া এই ম্যাচে দেখা গেল অপ্রত্যাশিত এক দৃশ্য। ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে বারবার মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান আসতে থাকে, দর্শকদের কয়েক দফায় সতর্কও করা হয়।
বতর্মানে স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা লামিনে ইয়ামালও একজন মুসলিম। দর্শকদের মুসলিম-বিদ্বেষী এমন আচারণে বেশ আঘাত পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তারকা ফুটবলার। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আজ এক পোস্টে বার্সেলোনার উইঙ্গার লেখেন,
‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। গতকাল স্টেডিয়ামে আমরা “যে লাফ দেয় না সে মুসলিম” স্লোগানটি শুনেছি। আমি জানি এটি প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সহ্য করার মতো নয়।’
বার্সেলোনার এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত চলাকালীন সজোরে দুয়োধ্বনি দেয় স্প্যানিশ সমর্থকরা। অনেক সমর্থক ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম‘ বলে স্লোগান দিচ্ছিল।
বিরতির সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে একটি বিশেষ বার্তা প্রদর্শিত দেখা যায়। সেখানে সমর্থকদের উগ্রবাদী মন্তব্য ও বর্ণবাদী গান থেকে বিরত থাকার থাকার জন্য মাইকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সতর্কতা দেওয়া হলে দর্শকদের একটি অংশ উল্টো দুয়োধ্বনি দেয়।
ফুটবল উপভোগ করতে গিয়ে কোনো ধর্ম, বর্ণ, জাতির মধ্যে বিদ্বেষমূলক আচারণ কাম্য নয় সেটা মনে করিয়ে দেন ইয়ামাল,
‘আমি বুঝি সব সমর্থক এমন নয়, কিন্তু যারা এমন স্লোগান দেয় তাদের জন্য বলছি: ধর্মকে মাঠে মানুষকে উপহাস করার জন্য ব্যবহার করা আপনাকে অজ্ঞ এবং বর্ণবাদী বানায়। ফুটবল হলো উপভোগ করার এবং সমর্থন দেওয়ার খেলা, মানুষের পরিচয় বা বিশ্বাসের কারণে আঘাত করার নয়।’
শেষে ইয়ামাল লিখেন,
‘এই কথাগুলো বলে, যারা আমাদের সমর্থন করতে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ। বিশ্বকাপে দেখা হবে।’
এই ঘটনায় দ্রুতই নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়ে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন লিখেছে,
'আরএফইএফ ফুটবলে বর্ণবাদের ঘোর বিরোধী ও স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরণের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।'
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সমর্থকদের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন,
‘আমি যেকোনো ধরণের ঘৃণা বা বর্ণবাদকে ঘৃণা করি- এটি পুরোপুরি অসহনীয়। আমি জানি না এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রোটোকল কী। তবে জায়ান্ট স্ক্রিনে সতর্কবার্তা দেখানো ও মাইকে ঘোষণা দেওয়াটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’
ইয়ামালের বার্সেলোনা ও স্প্যানিশ দুই সতীর্থ পেদ্রি ও জোয়ান গার্সিয়াও দশর্কদের এমন আচারণের নিন্দ জানান। ম্যাচ শেষে পেদ্রি বলেন, ‘এই স্লোগানগুলো আমাদের হতবাক করেছে। আমরা কোনো ধরনের বর্ণবাদী আচরণ সমর্থন করি না। এটি বন্ধ করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ আর বার্সার গোলকিপার গার্সিয়া বলেন,
‘যে কোনো বৈষম্যমূলক বার্তার আমরা সম্পূর্ণ বিরোধী। আমি স্লোগানগুলো শুনেছি এবং স্টেডিয়ামের ঘোষণাও শুনেছি।’

স্বপ্নের মতোই ছিল প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও অনুকূলে ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের ৫০তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের।
বুধবার ব্যাংককের থামমাসাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে ৫ গোলের চারটিই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথমার্ধে মোসাম্মৎ সাগরিকার গোলে বিরতিতে যায় পিটার বাটলারের দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে তিনি আরও একটি গোল করে দলকে স্বস্তি দেন। তবে একের পর এক ভুলে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে আফঈদা খন্দকারদের।
ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে ফ্রি কিক আটকাতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিলি আক্তার। বল তার গ্লাভস গলে বেরিয়ে যাওয়ার পর দূরূহ কোণ থেকে কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচের নেওয়া শট থাকেনি লক্ষে। এ যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
২৫তম মিনিটে স্বপ্নাকে তুলে পুজা দাসকে নামান কোচ বাটলার। একটু পরই থাইল্যান্ডের দূরপাল্লার একটি প্রচেষ্টা ফিস্ট করে ফেরান মিলি। আলগা বলে আরেকজনের চেষ্টা ব্লকড হয় রক্ষণে।
বাংলাদেশে সাফল্য আসে ম্যাচঘড়ির ৩৬তম মিনিটে। এসময় মোমিতা খাতুনের ক্রসের সূত্র ধরেই একাই আক্রমণে ওঠেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তার সামনে ছিলেন কেবল আতিমা বুনপ্রাকানপাই। বুদ্ধিদৃপ্ত শটে থাইল্যান্ড গোলকিপারকে পরাস্ত করে লাল-সবুজ দলকে লিড এনে দেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। এই অর্ধে মাত্র একটি গোল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উমেলা মার্মার ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করেন সাগরিকা আক্তার। এরপরই ছন্দপতন শুরু হয় বাংলাদেশের।
৬৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন সুরভী আক্তার। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে থাইল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন কুরিসারা।
৭৬তম মিনিটে সমতায় ফিরে স্বাগতিকরা। এবারের গোলটিও পেনাল্টি থেকে। ডি বক্সের ভেতর পিচায়াতিদাকে ফেলে দেন নবীরন খাতুন। স্পট কিক থেকে গোল করেন রিনায়াপাত।
সমতায় ফেরার তিন মিনিট পরই লিড আদায় করে থাইল্যান্ড। ৭৯ মিনিটে পিচায়াতিদার গোলে ৩-২ ব্যবধানে লিড নেয় থাইল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত এই ফলে ইতি ঘটে ম্যাচের।

২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮টি দল নিশ্চিত হয়েছে। প্লে-অফের রাউন্ড শেষে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও ইরাক বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে। বিপরীতে হৃদয় ভেঙেছে অনেক বড় দলেরও, যেখানে সবার আগে আসবে ‘হতভাগা’ ইতালির নাম। কেবল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থকই নয়, ‘আজ্জুরিদের’ ‘ট্রেবল’ ট্রেজেডি দেখে ‘ইশ’ বা ‘আহ’ বলতেই পারেন ফুটবল নিয়ে নুন্যতম জানাশোনা থাকা যেকেউ।
বিশ্বকাপের প্লে অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে দুঃস্বপ্নের হ্যাটট্রিক করে ইতালি। তাদের ছাড়া আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে হবে, সেই দুঃখে মন কাঁদছে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিরও। এই দেশের সঙ্গে যে নাড়ির সম্পর্কও আছে আলবিসেলেস্তা কোচের। তাই তো বিশ্বকাপে ইতালির অনুপস্থিতি বেশ পীড়া দিচ্ছে স্কালোনিকে।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাদ্যম ওলে’কে স্কালোনি বলেন, আমি কিছুটা ইতালীয় বংশের মানুষ… আমার দাদা-দাদি, প্রপিতামহ। ইতালির জন্য আমার মন খারাপ, কারণ আমি সেখানে খেলেছি, আর এটি এমন একটি দেশ যাদের আমি আর্জেন্টিনার ভাই মনে করি—যারা আমাদের প্রতি খুব স্নেহশীল। এছাড়া, এটি এমন একটি দেশ ও জাতীয় দল যা বিশ্ব ফুটবলে বিশাল প্রভাব রেখেছে এবং শক্তিশালীদের মধ্যে অন্যতম।’
ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অংশে স্কালোনি ইতালির লিগ সিরি’আ’তে দুটি দলের হয়ে খেলেছেন। এসএস লাজিও (২০০৭-২০০৮ ও ২০০৯-২০১৩, মাঝে ধারে ছিলেন) এবং আতালান্তা (২০১৩-২০১৫), যেখানে থেকে অবসরে যান আর্জেন্টিনার কোচ। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যে ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল। সেই বছরই বিশ্বকাপ ইতালি চতুর্থ ও শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়।
স্কালোণি আরও বলেন, তাদের বিশ্বকাপে না থাকার বিষয়টি… আমাদের আর্জেন্টিনিদের কাছে মোটেই সহজ নয়। এটা খুব দুঃখজনক, বিশেষ করে যেভাবে হয়েছে—একটু কঠিন এবং অন্যায়ভাবে। ম্যাচের প্রথম দিকেই ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া, বাইরে খেলার চাপ সহ্য করতে হয়েছে।’
এর আড়ে রাশিয়া ২০১৮ বা কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হয়েছিল ইতালি। শেষবার তারা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ২০১৪ সালে, কিন্তু সেবার গ্রুপপর্বই পেরোতে পারেনি তারা।
আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম অবস্থানে থেকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা আগেভাগে নিশ্চিত করে গত বছরের ২৫ মার্চে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে তারা ‘জে’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া এবং জর্ডান।
লিওনেল মেসিরা প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে। এরপর ২২ জুন ডালাস স্টেডিয়ামে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার এবং ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে আর্জেন্টিনা।