৬ মে ২০২৪, ৩:৪৩ পিএম

বিশ্ব জুড়ে ভীষণ জনপ্রিয়তা থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টেনিস এখনও বেশ পিছিয়ে থাকা এক ইভেন্টের নাম। তবে সম্প্রতি অসাধারণ এক কীর্তিতে টেনিসেই বাংলাদেশের জন্য গর্ব বয়ে এনেছেন মাসফিয়া আফরিন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের (আইটিএফ) ‘হোয়াইট ব্যাজ’ রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। এর ফলে ভবিষ্যতে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচ পরিচালনার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করেছেন মাসফিয়া।
বাংলাদেশ থেকে সারোয়ার মোস্তফা জয় ২০০০ সালে আইটিএফ হোয়াইট ব্যাজ চেয়ার আম্পায়ারের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তবে প্রথম ‘হোয়াইট ব্যাজ’ রেফারি হলেন মাসফিয়াই৷ খেলোয়াড়ি জীবনে অনূর্ধ্ব-১০ থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ টেনিসে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়া ১৮ বছর বয়সী মাসফিয়া এখন খেলা ছেড়ে পুরোদস্তুর রেফারি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রেফারি হিসেবে এরই মধ্যে তার নামের পাশে রয়েছে দারুণ কিছু অর্জন।
বাবা মোহাম্মদ মাহমুদ আলম টেনিস ফেডারেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সুবাদে টেনিসের সাথে মাসফিয়ার সখ্যতা ছোটবেলা থেকেই। খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার না এগিয়ে গেলেও ভিন্ন ভূমিকার দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনছেন মাসফিয়া।
টি-স্পোর্টসের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে মাসফিয়া কথা বলেছেন তার খেলোয়াড় থেকে রেফারি হওয়ার পথচলা সহ নানা বিষয় নিয়ে। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হল :
প্রশ্ন : শুরুতেই অভিনন্দন আপনাকে। সম্প্রতি আইটিএফ এর হোয়াইট ব্যাজ রেফারির স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের প্রথম কোন রেফারি হিসেবে আপনি এমন বড় স্বীকৃতি পেলেন। যে কোনো প্রথমের অংশ হওয়াটা দারুণ কিছুই। অনুভূতিটা কেমন?
মাসফিয়া : ধন্যবাদ। আসলেই দারুণ লাগছে। এক বছর ধরে এটার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি আমি। সেটার ফল পাওয়ায় ভালো লাগছে। আর প্রথম সবকিছুই তো স্পেশাল।
প্রশ্ন : দশ বছরের খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১০, অনূর্ধ্ব-১২, অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে। এটাই বলে দেয়, একদম শৈশব থেকেই টেনিসের প্রতি দুর্বলতা ছিল আপনার। শুরুটা কীভাবে হয়েছিল জানতে চাওয়া এই কারণে, ক্রিকেট ফুটবলের জনপ্রিয়তার সবদিক থেকেই টেনিস আছে বেশ পিছিয়ে। সেখানে টেনিসের প্রতি আপনার এই ভালোবাসা কীভাবে হল বা কার মাধ্যমে?
মাসফিয়া : ভালোবাসা ঠিক বলব না। ভালো লাগত টেনিস। ছোটবেলা থেকেই টেনিস খেলি আমি। স্কুলের অনেকে অন্যান্য খেলা খেললেও আমার কাছে টেনিসই বেশি ভালো লাগত। তাছাড়া দেখলাম অন্যান্য খেলার চেয়ে টেনিসে কিছু করার সুযোগটা বেশি আছে। এখান থেকেই আগ্রহের জন্ম। আর আমার বাবা টেনিস ফেডারেশনের কাজ করার সূত্রে টেনিসের সাথে পরিচয় অনেক আগে থেকেই। সেই সমর্থনটা তাই ছিল।
প্রশ্ন : টেনিসে ক্যারিয়ার গড়তে চান, এটা জানার পর পরিবার এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে সমর্থন কেমন ছিল? আর একটা হল, এই পেশায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছিল কখনও?
মাসফিয়া : না, আমার সাথে এমন কিছু হয়নি কখনও। পরিবার থেকে সমর্থন পেয়েছি সবসময়।
প্রশ্ন : কাঁধের চোটের কারণে খেলা ছেড়েছিলেন বলে শোনা যায় প্রায়ই। আর এরপরই নাকি রেফারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন। আসলেই কী এমন কিছু হয়েছিল? সেটা হলে চোটের পর যখন জানলেন খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ, সেই সময়ে বিষয়টা মেনে নেওয়াটা কতোটা কঠিন ছিল?
মাসফিয়া : প্রথমেই একটা বিষয় ক্লিয়ার করতে চাই। আমি জানিনা এটা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে চোটে পড়ার পর আমি খেলে ছেড়ে দিয়েছি। এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। তাছাড়া এটা একটা নেগেটিভ বার্তাও দেয় যে চোটে পড়ার পর রেফারি হতে চেয়েছি। আসলে এমন কিছুই হয়নি। চোটে পড়েছিলাম। এরপর কিছুদিন খেলার বাইরে ছিলাম। ফিরে এসে খেলার সুযোগ ছিল, কিন্তু সেই ইচ্ছাটা আর জাগেনি, তাই খেলোয়াড় হিসেবে সেখানেই ক্যারিয়ারের ইতি।
প্রশ্ন : রেফারি হওয়ার শুরুটা তাহলে কীভাবে হল?
মাসফিয়া : দেখলাম টেনিসের ম্যাচ অফিসিয়েটিং নিয়ে কাজ করার ভালো সুযোগ আছে, তাই এখানে নাম লেখালাম। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ন্যাশনাল স্কুল সার্টিফিকেশন প্রথমবার হয়েছিল। অভিজ্ঞতার জন্যই সেখানে অংশ নিয়েছিলাম। একটি পরীক্ষা দিতে হয় এবং এই পরীক্ষায় আমি প্রথম হই। সেখানে রেফারি হিসেবে ছিলেন ভারতের অভিষেক ব্যানার্জি। উনিই আমাকে অনেক উৎসাহ দেন। দুই দিনের কোর্সে ভালো করার পর আমার কাছে মনে হয়েছিল, এটা আমার জন্য ভালো একটা সুযোগ। এরপর হোয়াইট ব্যাজের জন্য কাজ শুরু করি। হোয়াইট ব্যাজের জন্য আইটিএফের কাছে আমার নাম সুপারিশ করেছিলেন অভিষেক ব্যানার্জিই।
প্রশ্ন : গ্র্যান্ড স্ল্যামের ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্নের কথা বলেছেন আগে। টেনিসে আপনার প্রিয় খেলোয়াড় কে এবং নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের ম্যাচ পরিচালনা করার স্বপ্ন কি লালন করেন?
মাসফিয়া : আমার মনে হয় একজন রেফারি হিসেবে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা আমার জন্য হয়ত ঠিক হবে না।
প্রশ্ন : সম্প্রতি ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ে সাথিরা জাকির জেসি দারুণ কাজ করছেন। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার পর ছেলেদের ম্যাচে (ডিপিএলে) আম্পায়ার হিসেবে ছিলেন তিনি। কাছাকাছি সময়ে টেনিসে আপনার এই অর্জন। আম্পায়ার বা রেফারিং পেশায় মেয়েদের এভাবে বেশি বেশি এগিয়ে আসাটা কীভাবে দেখছেন?
মাসফিয়া : খুব ভালো লাগছে। মেয়েরা সব সেক্টরেই এগিয়ে আসছে। আম্পায়ার বা রেফারি হিসেবে মেয়েরা যত এগিয়ে আসবে, ততই ভালো। আমার নিজের জায়গা থেকে সুযোগ হলে অন্যদেরও সাহায্য করার চেষ্টা করব। আমি মনে করি আমাকে দেখে অনেকেই এই পেশায় আসতে আগ্রহী হবে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পুরো মিশনে কেমন সমর্থন পেয়েছেন?
মাসফিয়া : আমি আগেও টেনিস ফেডারেশনের সমর্থন পেয়েছি এবং এবারও তারা আমাকে যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন এটা পেতে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশে টেনিসের প্রসারের জন্য কী কী করনীয় বলে মনে করেন এবং সম্ভাবনা দেখছেন কতটুকু আগামীতে?
মাসফিয়া : এটা তো জানেনই যে টেনিস খেলাটা একেবারেই ব্যক্তিগত। অন্যান্য খেলার মত এখানে দলগত প্রয়াসটা নেই। তাই এখানে ভালো করার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগ, পৃষ্ঠপোষকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এসবের সমন্বয় হলে ভালো কিছু হতেও পারে।
No posts available.
৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম

দেশের শীর্ষস্থানীয় কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার ও হোমকেয়ার পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রিমার্ক-হারল্যান গ্রুপের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড টাইলক্সের বিজ্ঞাপনে যুক্ত হলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতার। এর আগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান টাইলক্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন।
ক্রিকেট বিশ্বে গতি, শক্তি ও আগ্রাসনের প্রতীক শোয়েব আখতার—যিনি রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস নামে পরিচিত, এবার তিনি সেই শক্তির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছেন ঘরের পরিচ্ছন্নতায়। নতুন এই বিজ্ঞাপনে টাইলক্সের শক্তিশালী ক্লিনিং ফর্মুলা, জীবাণুনাশক ক্ষমতা ও কার্যকর পরিষ্কারের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। নতুন বিজ্ঞাপনে শোয়েব আখতার “ক্লিন মানেই টাইলক্স- টাইলক্স মানেই ক্লিন” শ্লোগানে সুভাশিত পরিচ্ছন্নতার বার্তা দিয়েছেন।
টাইলক্স মূলত ঘরবাড়ি ও কর্মপরিবেশকে পরিষ্কার, স্বাস্থ্যসম্মত ও জীবাণুমুক্ত রাখতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। সাধারণত ক্লিনিং প্রোডাক্ট কেমিক্যালের কড়া গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে। কিন্তু টাইলক্সের কোনও পণ্যে সেটা নেই এবং এটি বাংলাদেশের একমাত্র ক্ষতিকারক অ্যামোনিয়া-ফ্রি সারফেস ক্লিনিং রেঞ্জ।
নতুন বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে শোয়েব আখতার বলেন, “আমি সবসময় শক্তি ও পারফরম্যান্সে বিশ্বাস করি। টাইলক্স ঠিক তেমনই—শক্তিশালী, নির্ভরযোগ্য এবং কার্যকর। তাই টাইলক্সের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।”
টাইলক্স-এর চীফ বিজনেস অফিসার মারুফুর রহমান জানান, সাকিব আল হাসানের পর শোয়েব আখতারকে যুক্ত করার মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চায়। ভোক্তাদের কাছে টাইলক্সকে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত ও কর্মদক্ষতাসম্পন্ন হোম কেয়ার ব্র্যান্ড হিসেবে উপস্থাপন করাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।
রিমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল আলম বলেন, টাইলক্স হাউজহোল্ড সারফেস ক্লিনিংয়ের জন্য এমন এক সল্যুশন যা শুধু পরিষ্কার করে না, সাথে পরিবেশকেও রাখে সুরভিত।
তিনি জানান, রিমার্কের প্রোডাক্ট প্রস্তুত হচ্ছে এশিয়ার এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এবং পরিবেশবান্ধব ইন্ডাস্ট্রিতে। নতুন এম্বাসেডর হিসেবে শোয়েব আখতার যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্র্যান্ডে হিসেবে টাইলক্স নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা করেন তিনি।
টাইলক্সের নতুন ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হিসেবে শোয়েব আখতারকে নিয়ে করা নতুন বিজ্ঞাপন এরই মধ্যে টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার শুরু হয়েছে। এবং দর্শক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলছে।

যৌন হয়রানির অভিযোগকে ঘিরে কয়েক মাস ধরেই অস্থির দেশের শুটিং অঙ্গন। এর মধ্যেই গত ১ জানুয়ারি অভিযুক্ত যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একই দিনে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশন সাময়িক বহিষ্কার করে জাতীয় তারকা শুটার কামরুন নাহার কলিকে। এমন প্রেক্ষাপটে বুধবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ফেডারেশন, যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম (আলেয়া ফেরদৌস)। তবে বক্তব্য শেষ হতেই সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নে চাপে পড়েন তিনি। মূলত সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে গণমাধ্যমকে উদ্দেশ করে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।
আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়, ‘ফেডারেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা শুটিংয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।’ সাংবাদিকরা জানতে চান কোন গণমাধ্যমের কোন প্রতিবেদন মিথ্যা বা ভিত্তিহীন? এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে ব্যর্থ হন সাধারণ সম্পাদক। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘শুটারদের দেওয়া তথ্য যাচাই না করেই প্রকাশ করা হয়েছে।’সাংবাদিকরা সঙ্গে সঙ্গে এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন।
আমন্ত্রণপত্রের শেষাংশে গণমাধ্যমকে ‘যোগ্য প্রতিনিধি’পাঠানোর আহ্বান জানানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। দীর্ঘদিনের ক্রীড়া সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অনেকেই এমন ভাষাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক দায় এড়িয়ে বলেন, ‘অফিস থেকে হয়েছে, খেয়াল করা হয়নি।’ পরে ফেডারেশনের সদস্য সারোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের সামনে দুই হাত জোড় করে ভুল ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের সময় ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে লাইভ সম্প্রচারের বিষয়টিও সাংবাদিকদের আপত্তির কারণ হয়। অনুমতি ছাড়া লাইভ করায় আবারও প্রতিবাদ জানান তারা। এরপর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমা চায় ফেডারেশন। এর আগে শুটিং ফেডারেশনের বহু সংবাদ সম্মেলন হলেও কখনো লাইভ সম্প্রচার হয়নি বলে জানান সাংবাদিকরা, যা এদিনের ঘটনার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারেও ছিল বিতর্কিত বার্তা ‘বিএসএসএফ-এর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার: দালিলিক সত্যের উন্মোচন’। তবে ‘দালিলিক সত্য’তুলে ধরার দাবি করা হলেও কোনো নথি উপস্থাপন করা হয়নি। ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির একাধিক সদস্য পূর্ববর্তী সরকার আমলেও দায়িত্বে ছিলেন এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘২০১২ সালের আগে ছিলাম, তখন কোনো দুর্নীতি হয়নি।’
চার পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে শুটার তাসমায়াতি এমা, সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্না ও কামরুন নাহার কলির অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়। অথচ এনএসসির তদন্ত কমিটি বেশ কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে এবং জিএম হায়দার সাজ্জাদকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার সুপারিশও করেছে। এরপরও এমন সংবাদ সম্মেলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা বলেন, ‘সংস্থার ভাবমূর্তি ও প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতেই এই আয়োজন।’
সাংবাদিকদের আরও প্রশ্ন ছিল সাজ্জাদের অব্যাহতির আগে শুটাররা মানববন্ধন, মামলা ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় চিঠি দেওয়ার সময় ফেডারেশন কেন নীরব ছিল? এখন সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগকারীদের বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কি সাজ্জাদের পক্ষ নেওয়ার শামিল নয়? সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, ‘এটা কোনো ব্যক্তির পক্ষে নয়, বরং শুটিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ ধরে রাখার জন্য।’
তবে সংবাদ সম্মেলনের দিনও ফেডারেশনে সাজ্জাদের উপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তোলে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজের জন্যই তিনি এসেছেন।’ যদিও তিনি স্বীকার করেন, এনএসসি থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো পাননি বলে সাজ্জাদকে পুরোপুরি কার্যক্রমের বাইরে রাখা হয়নি।

ম্যাচ শেষ করার কয়েক ঘণ্টা পর মস্কোগামী ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন। এরপর হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন ব্রাজিলের ফুটসাল খেলোয়াড় ফেলিপে অ্যালেক্স। মৃত্যুকালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী এই খেলোয়াড়ের বয়স ছিল ৩২ বছর।
রাশিয়ান ক্লাব নরিলস্ক নিকেলের হয়ে খেলা ফেলিপে ব্রাজিল আন্তর্জাতিক ফুটসালের ম্যাচ খেলার পর উখতা বিমানবন্দরে মৃত্যুবরণ করেন। ২০২৫–২৬ মৌসুমের রাশিয়ান ফুতসাল কাপের সেমিফাইনালে এমএফকে উখতার বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর মস্কোগামী ফ্লাইটের জন্য চেক-ইন করার সময় তিনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। এরপর জরুরি চিকিৎসকর্মীরা দ্রুত তাকে সহায়তা দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সেখানেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রাশিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের সংবাদ সংস্থা অ্যালেক্সের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘আজ উখতার বিপক্ষে ম্যাচের পর নরিলস্ক নিকেলের খেলোয়াড় ফেলিপে আলেক্স হঠাৎ মারা গেছেন। দলের দেশে ফেরার ফ্লাইটের আগে বিমানবন্দরে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়টি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জরুরি চিকিৎসক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসা শুরু করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং সেখানেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
ইউয়েফাও এক্সে (টুইটার) এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে লিখেছে,
‘২০১৮–১৯ মৌসুমের ইউয়েফা ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী ৩২ বছর বয়সী অ্যালেক্স ফেলিপের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, বন্ধু ও সতীর্থদের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও আন্তরিক শোক।’
আলেক্স ব্রাজিলে ক্যাসকাভেল ও করিন্থিয়ান্সের হয়ে ফুতসাল ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে তিনি স্পেনের মাদ্রিদভিত্তিক ক্লাব মুভিস্তারের ইন্টার ফুতবল সালায় যোগ দেন, যেখানে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা জেতেন। এরপর তিনি জয়নভিলের হয়ে খেলতে ব্রাজিলে ফেরেন এবং আবার করিন্থিয়ান্সে একটি অধ্যায় শেষ করার পর পর্তুগালের স্পোর্টিং সিপিতে যোগ দেন।
স্পোটিং সিপিতেই ২০১৮–১৯ মৌসুমে ইউয়েফা ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেন ফেলিপে অ্যালেক্স । পাশাপাশি জিতেছিলেন লিগা পাউলিস্তা, পর্তুগিজ ফুতসাল কাপ ও পর্তুগিজ ফুতসাল সুপারকাপ।
স্পোর্টিং সিপি নিজেদের সাবেক খেলোয়াড়কে স্বরণ করে এক বার্তা লিখেছে,
‘ফুটসাল ও ক্রীড়াজগৎ আজ আরও গৌরব হারাল। আবার দেখা হবে, চ্যাম্পিয়ন।’
বর্তমান ক্লাব নরিলস্ক নিকেলে যোগ দেওয়ার পর ফেলিপে ২০২৩–২৪ মৌসুমে রাশিয়ান ফুটসাল কাপ জয়ের স্বাদ পান।

ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে অ্যাডহক কমিটি বিদ্যমান। প্রায় দুই মাস আগে থেকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ৪৯টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনে চিঠি দিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। কিন্তু তেমন কোন সাড়া নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান। জানা গেছে গলফ ও আর্চারি ফেডারেশন থেকে কেবল নির্বাচন আয়োজনের চিঠি পেয়েছে এনএসসি।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর দেশের সকল জেলা ও বিভাগীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি ভেঙ্গে অ্যাডহক কমিটি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দেশের সকল ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। তবে নির্বাচনের বিষয়ে তখনো কোন নির্দেশনা ছিল না ক্রীড়া পরিষদের। যার ফলে গত দেড় বছর ধরেই বিভিন্ন ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম চলছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। তবে গত বছরের ৩০ অক্টোবর পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসানের সই করা চিঠিতে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দিলেও তেমন কোন সাড়া মিলছে না।
এনএসসির চিঠিতে উল্লেখ ছিল,
‘দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য ৪৯টি জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার (ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশন/সংস্থা) আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধির নিকট দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া। সে প্রেক্ষিতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ করা হলো।’

ব্রিসবেনে মৌসুমের শুরুতেই নিজের শক্তিমত্তার বার্তা দিলেন আরিনা সাবালেঙ্কা। নিক কির্গিওসের বিপক্ষে সমালোচিত প্রদর্শনী ম্যাচ যে একেবারেই বৃথা যায়নি, সেটির প্রমাণ দিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালে। মাত্র ৪৮ মিনিটে স্প্যানিশ প্রতিপক্ষ ক্রিস্টিনা বুকসাকে উড়িয়ে দিয়ে সহজ জয় তুলে নিলেন নারী এককের বর্তমান বিশ্ব নম্বর ওয়ান।
মঙ্গলবার দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বুকসার বিপক্ষে ৬-০, ৬-১ ব্যবধানে জয় পান সাবালেঙ্কা। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৫০ নম্বরে থাকা বুকসার জন্য ম্যাচটি ছিল একতরফা। প্রথম সেট শেষ করতে সাবালেঙ্কার সময় লাগে মাত্র ২২ মিনিট, দ্বিতীয় সেটে আরও ২৬ মিনিটে কাজ সেরে ফেলেন ২৭ বছর বয়সী এই বেলারুশিয়ান তারকা।
এই দাপুটে জয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে সাবালেঙ্কার প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি শুরু হওয়া বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম সামনে রেখে দারুণ ছন্দেই আছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সাবালেঙ্কা জানান, মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই এমন পারফরম্যান্সের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ২৮ ডিসেম্বর দুবাইয়ে নিক কির্গিওসের বিপক্ষে খেলা প্রদর্শনী ম্যাচটি। সেই ম্যাচটি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তিনি এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
সাবালেঙ্কা বলেন, 'যখন আপনি একজন পুরুষ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলেন, তখন ম্যাচের তীব্রতা একেবারেই ভিন্ন হয়। বিশেষ করে নিকের মতো খেলোয়াড়, যে প্রায় প্রতি শটে ড্রপ শট খেলে। তখন অনেক বেশি দৌড়াতে হয়, ফিটনেসের দারুণ পরীক্ষা হয়।'
প্রদর্শনী হলেও চ্যালেঞ্জ ছিল বললেন সাবালেঙ্কা , 'আজ মনে হচ্ছিল, চল দৌড়াই। ওই প্রদর্শনী ম্যাচটা মজার ছিল, বড় চ্যালেঞ্জও ছিল।'
কির্গিওসের সঙ্গে ম্যাচটি নিয়ে সাবালেঙ্কার আরেকটি মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে। তাঁর মতে, ওই ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য ছিল টেনিসকে আরও বেশি দর্শকের সামনে তুলে ধরা। বললেন, 'এটা কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার বিষয় ছিল না। আমরা দেখাতে চেয়েছি, টেনিস কতটা বড় হতে পারে।'
ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের তৃতীয় রাউন্ডে সাবালেঙ্কার প্রতিপক্ষ হতে পারেন জেলেনা অস্টাপেঙ্কো অথবা সোরানা কিরস্তেয়া। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ম্যাডিসন কিজ। এটি হলে গত বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালের পুনরাবৃত্তি দেখা যেতে পারে, যেখানে কিজ শিরোপা জিতেছিলেন।
এরই মধ্যে ব্রিসবেনে তৃতীয় রাউন্ডে উঠে গেছেন ম্যাডিসন কিজ। তিনি ৬-৪, ৬-৩ ব্যবধানে হারিয়েছেন স্বদেশি ম্যাকার্টনি কেসলারকে। সাবালেঙ্কার মতো কিজও দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে খেলতে নেমেছিলেন। ম্যাচ শেষে কিজ স্বীকার করেন, শুরুতে নিজের ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। 'প্রতিপক্ষ আগে থেকেই একটি ম্যাচ খেলে এলে কাজটা কঠিন হয়ে যায়। একটু মরচে ঝাড়তে সময় লাগে', বলেন কিজ।
এদিকে পুরুষ এককের ড্রতে এসেছে বড় দুটি অঘটন। দ্বিতীয় বাছাই স্পেনের আলেহান্দ্রো দাভিদোভিচ ফোকিনা এবং পঞ্চম বাছাই কানাডার ডেনিস শাপোভালভ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন।
আমেরিকান ব্র্যান্ডন নাকাশিমা ৭-৬ (৭/৪), ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়েছেন ফোকিনাকে। অন্যদিকে বেলজিয়ান কোয়ালিফায়ার রাফায়েল কোলিনিওন ৬-৪, ৬-২ ব্যবধানে শাপোভালভকে বিদায় করে দেন।
সব মিলিয়ে ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের শুরুতেই জমে উঠেছে লড়াই, আর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে সাবালেঙ্কার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে টেনিসবিশ্বের।