২৮ অক্টোবর ২০২৪, ২:৫৯ পিএম

আর কয়েক ঘণ্টা বাদেই ঘোষণা হয়ে যাবে ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম। যেই দৌড়ে এবার সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে তিন জনের নাম। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের সাথে সেরা হওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার রদ্রি। এছাড়াও আছেন কিলিয়ান এমবাপে, লাওতারো মার্তিনেজরা।
তবে শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরটা উঠবে কার হাতে? সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক ঘণ্টা। তার আগে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক সেরা হওয়ার লড়াইয়ে থাকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের দিকে।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এবার সবচেয়ে বেশ এগিয়ে রাখা হচ্ছে ভিনিসিয়ুসকে। মার্কা সহ বেশ কিছু স্প্যানিশ গণমাধ্যমতো এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে ব্রাজিল তারকার হাতেই উঠতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অর। তাতে ১৭ বছর পর আবারও সোনালী ট্রফিটা ফিরতে যাচ্ছে ব্রাজিলে।
যদিও গেল মৌসুমে ব্রাজিলের জার্সিতে খুব একটা আলো কাড়তে পারেননি ভিনিসিয়ুস। কোপা আমেরিকায়ও খুব একটা জাদু দেখাতে পারেননি। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে ১০ ম্যাচে দুই গোলের পাশাপাশি করেছেন দুই অ্যাসিস্ট।
তবে ক্লাবের জার্সিতে ভিনিসিয়ুস ছিলেন উজ্জ্বল। রিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগা জেতাতে রেখেছিলেন বড় ভূমিকা। সব মিলিয়ে রিয়ালের জার্সিতে করেছিলেন ৩৯ গোল, নামের পাশে আছে ১১ অ্যাসিস্টও।
রদ্রি
ব্যালন ডি’অর জেতার দৌড়ে ভিনিসিয়ুসের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ধরা হচ্ছে সিটি মিডফিল্ডার রদ্রিকে। গেল মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল দুই জায়গায়ই বেশ সফল ছিলেন তিনি। সিটির হয়ে ৪৫ ম্যাচে ৯ গোলের পাশাপাশি করেছেন ১২ অ্যাসিস্ট। জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ, এবং ইউয়েফা সুপার কাপের শিরোপা।
স্পেনের জার্সিতেও রদ্রি ছিলেন দারুণ সফল। ১৪ ম্যাচে ৩ গোলের পাশাপাশি করেছেন একটা অ্যাসিস্ট। সেই সাথে জিতেছেন ইউরোর শিরোপা। তাতে বর্ষসেরা ফুটবলার পুরস্কার জেতার দৌড়ে আছেন ভালোভাবেই।
জুড বেলিংহাম
রিয়াল মাদ্রিদে নিজের প্রথম মৌসুমেই চমক দেখিয়েছেন জুড বেলিংহাম। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ব্যালন ডি’অর জেতার দৌড়ে আছেন ইংলিশ তারকা। রিয়ালের জার্সিতে গেল মৌসুমে সব মিলিয়ে খেলেছিলেন ৪২ ম্যাচ। ২৩ গোলের পাশাপাশি করেছিলেন ১৩ অ্যাসিস্ট। জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা, ও স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা।
ইংল্যান্ডের হয়ে বেলিংহাম মাঠে নেমেছিলেন ১২ ম্যাচে। চার গোলের পাশাপাশি করেছেন চার অ্যাসিস্ট। খেলেছেন ইউরোর ফাইনালও।
লাওতারো মার্তিনেজ
মনে রাখার মতো একটা মৌসুমই কাটিয়েছিলেন লাওতারো মার্তিনেজ। ইন্তার মিলান কিংবা আর্জেন্টিনা দুই জায়গায়ই গেল মৌসুমে লাওতারো ছিলেন দারুণ ছন্দে। ইন্তার মিলানের জার্সিতে জিতেছিলেন সিরিআ শিরোপা। সেই সাথে হয়েছিলেন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও। সব মিলিয়ে ইন্তারের জার্সিতে ৪৪ ম্যাচে করেছিলেন ২৭ গোল।
আর্জেন্টিনার জার্সিতেও লাওতারো ছিলেন সফল। আলবিসেলেস্তেদের কোপা আমেরিকা জেতাতে রেখেছিলেন বড় অবদান। পাঁচ গোল করে হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও।
No posts available.
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১:১১ পিএম

ফেডারেশন কাপের জটিল সমীকরণে আজ নাটকীয়ভাবে নির্ধারণ হলো শেষ চারের ভাগ্য। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবাহনী লিমিটেডকে হারিয়ে নিজেদের কাজটা সহজ করেছিল পিডব্লিউডি এফসি। তবে আরেক মাঠে রহমতগঞ্জ ও ফকিরেরপুল ইয়ং মেন্স ক্লাবের ড্রয়ে কপাল পুড়েছে তাদের।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে আবাহনীকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছে পিডব্লিউডি। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জ ও ফকিরেরপুলের খেলা গোলশূন্য ড্র হয়।
কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি আবাহনী ও পিডব্লিউডির কেউই। ৬৫ মিনিটে মিডফিল্ডার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর দারুণ ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় পিডব্লিউডি। সেই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। ব্যবধান ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত আবাহনীর বিদায় নিশ্চিত করেছে তারা।
কুমিল্লায় রহমতগঞ্জ ও ফকিরেরপুল ম্যাচটি অবশ্য বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ পরে শুরু হয়। পরের রাউন্ডে যেতে ড্র প্রয়োজন ছিল রহমতগঞ্জের। কাঙ্খিত ড্র নিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি।
৪ ম্যাচে ১ জয় ও তিন ড্রয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে রহমতগঞ্জ। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট অর্জন করে আগেই পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ‘এ' গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্স ইউনিয়ন মুখোমুখি হবে 'বি' গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের। এই ম্যাচের বিজয়ী দল সরাসরি ফাইনালে উঠবে, আর পরাজিত দল পাবে আরও একটি সুযোগ।
দুই গ্রুপের রানার্স-আপ রহমতগঞ্জ ও মোহামেডান নিজেদের মধ্যে লড়বে। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল খেলবে কিংস-ব্রাদার্স ম্যাচের পরাজিত দলের বিপক্ষে। এই ম্যাচে জয়ী দল হবে ফাইনালের দ্বিতীয় দল।

ডোনাল্ড
ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ তুলে দেওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফিফার মানবাধিকার
নীতি। এই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন জ্যাকসন আরভাইন। অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার
মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে ফিফা তাদের
নিজস্ব মানবাধিকার সনদকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছে।
গত বছরের
ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ঐক্য প্রচারের স্বীকৃতিস্বরূপ
ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের
একটি যুক্তরাষ্ট্র। ড্র হওয়ার মাত্র এক মাস পর দেশটি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায়
এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ বিমান হামলা শুরু করে।
ট্রাম্পকে
এই শান্তি পুরস্কার দেওয়া নিয়ে তাই চটেছেন আরভাইন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া
সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘একটি সংস্থা হিসেবে, এই ধরণের শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত
মানবাধিকার সনদ এবং ফুটবলকে ইতিবাচক পরিবর্তনের বিশ্বব্যাপী চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার
করার প্রচেষ্টাকে উপহাসে পরিণত করেছে।‘
৩৩ বছর
বয়সী আরভাইন দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার বিষয়ে সোচ্চার। ২০২২ বিশ্বকাপের আগে কাতারের
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবাদী বিবৃতিতে প্রধানে ভূমিকা পালন
করেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৮০টি ম্যাচ খেলেছেন, অধিনায়কত্বও করেছেন আরভাইন।
বর্তমানে
জার্মানির বুন্দেসলিগার ক্লাব সেন্ট পাউলিতে খেলা আরভাইন বলেন, ‘এই ধরণের সিদ্ধান্তগুলো
ফুটবল সম্পর্কে মানুষের বর্তমান ধারণাকে আরও পিছিয়ে দেয়। বিশেষ করে শীর্ষ স্তরের
ফুটবল এখন সমাজ এবং তৃণমূলের ফুটবল, যা আমাদের সম্প্রদায় ও বিশ্বে প্রকৃত অর্থ বহন
করে—তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।‘
ট্রাম্পকে
শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও সংস্থাগুলো নিন্দা জানিয়েছে।
সোমবার নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ফিফাকে এই শান্তি পুরস্কার প্রথা পুরোপুরি বাতিলের
আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সংস্থাটি রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়ায়। এ বিষয়ে ফিফা বা হোয়াইট
হাউস থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফুটবল বিশ্বকাপের বাঁশি বাজতে আর ৪৪ দিনের অপেক্ষা। উত্তর আমেরিকার ১৩টি শহরে হতে যাওয়া ফুটবলের এই মহারণ ঘিরে উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, তখন ফুটবল বিশ্বে বড় আলোচনার নাম হয়ে উঠেছে ইরান। রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর নানা জটিলতায় পারস্য উপসাগরের এই দেশটির বিশ্বমঞ্চে উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সাম্প্রতিক এক সাহসী পদক্ষেপে সেই মেঘ কাটতে শুরু করেছে।
কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে সামনেই হতে যাচ্ছে ফিফা কংগ্রেস (বার্ষিক সাধারণ সভা)। সেখানে অংশ নেওয়ার জন্য ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিকে বিশেষ সাময়িক অনুমতি বা পারমিট দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে ফিফার এই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং লজিস্টিক সবুজ সংকেতকে ইরানের অংশগ্রহণের পথে এক বড় ইতিবাচক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল, মেসি নাকি রোনালদো এগিয়ে |
|
ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে জলঘোলা হচ্ছিল, তার ইতি টেনেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ইরান আসবেই, এটি নিশ্চিত।’
ফিফা সভাপতির এমন দৃঢ় অবস্থান ফুটবল ভক্তদের আশ্বস্ত করেছে, উত্তর আমেরিকার মাটিতে ইরানের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ফিফা বদ্ধপরিকর। গত কয়েক মাসে নানা রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও ফিফা তাদের অবস্থানে অনড় থেকেছে, যা বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্টকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেও ইরানের সামনে ছিল পাহাড়সমান চ্যালেঞ্জ। আয়োজনকারী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতায় তাদের ভিসাসহ নানা দাপ্তরিক কাজে বাধা আসার আশঙ্কা ছিল।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা কংগ্রেসের আগে ইরান ফেডারেশনের সভাপতির ভ্যাঙ্কুভারে আসার সুযোগ পাওয়াটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি বড় প্রতীকী জয়। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মাঠের লড়াইয়ে বল গড়ানোর আগে ইরানকে আর বাইরের কোনো ঝামেলার শিকার হতে হবে না।

চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা লড়াই এখন শেষ লগ্নে। পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল কিংবা আতলেতিকো মাদ্রিদ—সবার চোখ এখন স্বপ্নের ফাইনালের দিকে। শেষ চারের এই স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে যখন নতুন কোনো নায়ক হওয়ার অপেক্ষা, তখন ইতিহাসের পাতা ওল্টালে একটি নামই সবার ওপরে ভাস্বর হয়ে ওঠে—ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চে গোল করাকে যিনি এক সময় ডালভাত বানিয়ে ছেড়েছিলেন।
১৯৯২ সালে নতুন নামকরণের পর থেকে এই প্রতিযোগিতায় শেষ চারের লড়াইয়ে গোলের যে রেকর্ড রোনালদো গড়েছেন, তা যেন হিমালয়ের চূড়া। চলুন দেখে নেওয়া যাক চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলারদের তালিকা।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো: ১৩ গোল
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি পাঁচবারের শিরোপাজয়ী এই পর্তুগিজ মহাতারকা সেমিফাইনালেও তাঁর একক আধিপত্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি সেমিফাইনালে গোলের সংখ্যার দিক থেকে দুই অঙ্কের ঘর ছুঁয়েছেন। ২০০৭ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে এসি মিলানের বিপক্ষে প্রথম সেমিফাইনাল গোল করেন রোনালদো। আর ২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের ১৩তম গোলটি আদায় করে নেন।
করিম বেনজেমা: ৮ গোল
রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘ সময় রোনালদোর সহযোগী হিসেবে খেললেও ফরাসি স্ট্রাইকার বেনজেমা নিজেও এই মঞ্চে অনন্য। রিয়ালের হয়ে সেমিফাইনাল পর্বে তিনি করেছেন ৮টি গোল। ২০১৩ সালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে প্রথম গোলের স্বাদ পান তিনি। তবে ২০২১-২২ মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৩ গোল করে দলকে একাই ফাইনালে তুলেছিলেন।
৩. রবার্তো লেভানডফস্কি: ৭ গোল
পোলিশ গোলমেশিন লেভানডফস্কি চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের মঞ্চে নিজের আবির্ভাব ঘটিয়েছিলেন রাজকীয়ভাবে। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ২০১৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে একাই ৪ গোল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বায়ার্ন মিউনিখের হয়েও আরও ৩টি গোল যোগ করেন তিনি।
লিওনেল মেসি: ৬ গোল
বিস্ময়কর মনে হলেও সত্যি, নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে জালের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন জাদুকর। খরা কাটে ২০১১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জোড়া গোল করে। পরবর্তীতে বায়ার্ন মিউনিখ এবং লিভারপুলের বিপক্ষেও সেমিফাইনালের প্রথম লেগে জোড়া গোল করার কীর্তি আছে তার। বড় মঞ্চের এই ফুটবলারের নামের পাশে রয়েছে ৬টি সেমিফাইনাল গোল।
আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো ও জারি লিটম্যানেন: ৫ গোল
জুভেন্টাসের কিংবদন্তি দেল পিয়েরো ১৯৯০-এর দশকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল রাঙিয়েছিলেন ৫ গোল করে। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালে মোনাকোর বিপক্ষে তাঁর হ্যাটট্রিকটি এখনো ফুটবল ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। সমসংখ্যক গোল করে তালিকায় সমান অবস্থানে আছেন আয়াক্সের প্রাক্তন তারকা জারি লিটম্যানেন।
৪ গোল করা একঝাঁক তারকা
তালিকায় এরপরই রয়েছেন চারজন ফুটবলার, যাঁরা প্রত্যেকেই সেমিফাইনালের মঞ্চে ৪টি করে গোল করেছেন। সাদিও মানে—লিভারপুলের হয়ে রোমা এবং ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলো করেছিলেন এই সেনেগালিজ তারকা।
টমাস মুলার, বায়ার্ন মিউনিখের এই জার্মান তারকার ৪টি সেমিফাইনাল গোলই এসেছে বার্সেলোনার বিপক্ষে। আরিয়েন রোবেন, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০১৩ সালের ট্রেবল জয়ে তার অবদান ছিল অবিস্মরণীয়।
জিনেদিন জিদান, জুভেন্টাসের হয়ে ১৯৯৭ সালে এবং পরবর্তী সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঝমাঠের এই জাদুকর করেছেন ৪টি গোল।

জাদুকরী এক মুহূর্তের জন্ম দিয়েই দলের নায়ক বনে যাওয়ার ক্ষমতা তো আর সবার থাকে না। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার জাদুকরী মন্ত্রটা কেবল গুটিকয়েক বিশেষ প্রতিভারই জানা থাকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় মঞ্চে যখন ছক আর পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে, তখনই প্রয়োজন হয় এমন একজনের—যিনি এক নিমেষে পাল্টে দেবেন সব হিসাব-নিকাশ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের মহারণে আজ পিএসজির মুখোমুখি হচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ। বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ঘরের মাঠে নামবে বাভারিয়ানরা। আর পরদিন শেষ চারের আরেক লড়াইয়ে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদ। নিজ নিজ দলের সাফল্যের জন্য কোন খেলোয়াড়রা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন?
১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ)
তালিকার শীর্ষস্থানটি হ্যারি কেইনেরই প্রাপ্য। গোলই ম্যাচ জেতায়, আর ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চলতি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে করেছেন ৫৩টি গোল। ইউরোপের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বিধ্বংসী এই ফরোয়ার্ড চ্যাম্পিয়নস লিগের গত চারটি নকআউট ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছেন। ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে এক মৌসুমে কোনো ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি এখন কেইনের দখলে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তিনি করেছেন ১২টি গোল।
আরও পড়ুন
| রিয়ালে প্রথম ১০০ ম্যাচে কে এগিয়ে—এমবাপে নাকি রোনালদো? |
|
কেইনের সামনে এখন প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার হাতছানি, পাশাপাশি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় (ব্যালন ডি'অর) হওয়ার সুযোগও রয়েছে। ৩২ বছর বয়সী কেইন ভালো করেই জানেন জানেন ব্যক্তিগত এই অর্জন সাধারণত দলের সাফল্যের হাত ধরেই আসে। বায়ার্নের জন্য কেইনের জ্বলে ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কার শোকেসে যাবে, তা নির্ধারণে এই তারকাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
২. ভিতিনিয়া (প্যারিস সেন্ট জার্মেই)
অনেকের মতেই এই মুহূর্তে ইউরোপের সেরা মিডফিল্ডার ভিতিনিয়াই। ইংলিশ ক্লাব উলভারহ্যাম্পটন থেকে পিএসজিতে যোগ দেওয়া পর্তুগালের এই ছোটখাটো গড়নের মিডফিল্ডারই লুইস এনরিকের পিএসজি-কে ছন্দে রাখেন। নিখুঁত পাস, গোলের সুযোগ তৈরি থেকে শুরু করে মাঝমাঠের একজন সৈনিক হিসেবে সবকিছুই অবলীলায় করে যাচ্ছেন ভিতিনিয়া।
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সফল পাসের দিক থেকে সবার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ভিতিনিয়া। এমনকি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে (ফাইনাল থার্ড) বল পাঠানো বা ফরোয়ার্ড পাসের ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য। ২০০৩-০৪ সাল থেকে 'অপটা'র (Opta) রেকর্ড রাখা শুরু করার পর চ্যাম্পিয়নস লিগের যেকোনো একটি সংস্করণে তাঁর দেওয়া ১,৩৭০টি পাস সর্বোচ্চ। ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এই মৌসুমে আটটি আলাদা ম্যাচে ১০০ বা তার বেশি সফল পাস দিয়েছেন—তার ওপরে আছেন কেবল একজনই, ২০১০-১১ মৌসুমে পেপ গার্দিওলার সেই তুঙ্গে থাকা বার্সেলোনা দলের কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেস। পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ভিতিনিয়া হতে পারেন লুইস এনরিকের তুরুপের তাস।
৩. হুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ)
সেমিফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে হলে হুলিয়ান আলভারেজের রুদ্ররূপ দেখার বিকল্প নেই। মাঠের লড়াইয়ে আলভারেজ জ্বলে উঠলেই কেবল পাল্টে যেতে পারে আতলেতিকোর ভাগ্য। গোলপোস্টের সামনে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের নিখুঁত ফিনিশিংই ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
আলভারেজ এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯টি গোল করেছেন, যা আতলেতিকোর ইতিহাসে যেকোনো খেলোয়াড়ের এক আসরে করা সর্বোচ্চ গোল। শুধু গোল করাই নয়, প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে রক্ষণভাগ সামলানোতেও তিনি এক মূর্তিমান আতঙ্ক। এই মৌসুমে ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ৮৫৩ বার হাই-ইনটেনসিটি প্রেস করেছেন, যা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি, গড়ে প্রতি ম্যাচে যা ৭০টি। মাঠে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করতে তাঁর জুড়ি নেই। গোলপোস্টের সামনে ক্ষুধার্ত আলভারেজকে বার্সেলোনার বিপক্ষে যেমনটা দেখা গেছে— জাদুকরী ফ্রি-কিকে বল জালে জড়ানোর ক্ষমতা; এই সবকিছুই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ডকে আতলেতিকোর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে রাখছে।
৪. ডেভিড রায়া (আর্সেনাল)
আর্সেনালের রক্ষণভাগের সেই দুর্ভেদ্য ত্রয়ীর প্রতিনিধি হিসেবে আছেন ডেভিড রায়া। যে রক্ষণে আরও আছেন দুই সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা এবং গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালেস। এই তিনজন যখনই আর্সেনালের হয়ে একসঙ্গে শুরুর একাদশে খেলেছেন, এমন ২২টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গানাররা ১৩টিতেই কোনো গোল হজম করেননি (ক্লিন শিট)। এর মানে হলো, গড়ে প্রতি দুই ম্যাচে আর্সেনাল মাত্র একটি গোল হজম করছেন; আর নিজেদের প্রায় ৫৯ শতাংশ ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে গোলবঞ্চিত রাখার এক দারুণ রেকর্ড গড়েছেন।
আরও পড়ুন
| প্যারিসে বায়ার্নের দাপট নাকি পিএসজির প্রতিশোধ |
|
ইউরোপ সেরার মঞ্চে রায়া নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন। বল পায়ে তার দক্ষতার জন্য খ্যাতি থাকলেও, কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে স্প্যানিশ এই গোলকিপারের অসাধারণ সব সেভই আর্সেনালকে টিকিয়ে রেখেছিল। ৩০ বছর গোলকিপার এই মৌসুমে তার দিকে ধেয়ে আসা ৯০ শতাংশ শটই রুখে দিয়েছেন, যা তাকে গ্লাভস হাতে অন্য সবার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে। গোলপোস্টের নিচে এমন কঠিন দেয়ালই মিকেল আরতেতার দলকে নিয়ে যেতে পারে ফাইনালে।
৫. মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ)
মাইকেল ওলিসে এই মৌসুমে রীতিমতো এক চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এই তালিকায় তিনি আরও উপরে থাকতে পারতেন। কিন্তু ভিনসেন্ট কোম্পানির দলে আক্রমণভাগে এত বেশি বিকল্প আছে যে, ফরাসি এই তারকা কোনো ম্যাচে জ্বলে উঠতে না পারলেও দলের খুব একটা সমস্যা হয় না। হ্যারি কেনের ঠিক পেছনে থেকে লুইস দিয়াজ, সার্জ গ্যানাব্রি এবং লেনার্ট কার্লও এবার দারুণ অবদান রাখছেন।
ওলিস যে কতটা অসাধারণ খেলছেন, সেটা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ক্রিস্টাল প্যালেস ও রিডিংয়ের সাবেক ২৪ বছর বয়সী তারকা ওলিসে চ্যাম্পিয়নস লিগের এবারের আসরে সফল ড্রিবলিংয়ের তালিকায় তিন নম্বরে আছেন। এমনকি 'বিগ চান্স' বা বড় সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান তিনে। এই দুটি ক্ষেত্রেই শীর্ষে আছেন বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অলিসে ইতিমধ্যেই ২০টি গোল এবং ২৯টি অ্যাসিস্ট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন।