৬ মে ২০২৬, ১০:০৭ এম

বয়স মাত্র ৩০ হলেও এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় কোচিংয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন তাহমিদুল ইসলাম। স্যাম কনস্টাস, রায়ান হিকস, জশ ফিলিপ, ড্যানিয়েল সামস, জর্ডান সিল্কের মতো উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের সরাসরি কোচিং করিয়েছেন তিনি। আর এই কোচিংয়ের ফাঁকে এবার তার অভিষেক হয়েছে স্বীকৃত ক্রিকেটে, দেশের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে।
চাঁদপুরে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার কাম কোচ সিডনির ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিয়ে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) খেলতে এসেছেন নিজের জন্মভূমিতে। লিগের উদ্বোধনী বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ম্যাচে লিস্ট ‘এ’ তথা স্বীকৃত ক্রিকেটেই অভিষেক হয়েছে তার।
এর আগে ২০১৭ সালে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাগ্য পরীক্ষা করতে এলেও সেবার কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। আর এবার গুলশানের হয়ে পথচলা শুরু করলেও, দুর্ভাগ্যবশত ইনজুরিতে পড়েছেন তিনি।
পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ফাঁকে মঙ্গলবার বিকেলে তাহমিদুল তার অবিশ্বাস্য ক্রিকেটীয় পথচলা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
২০১৭ সালেও আপনি ডিপিএল খেলতে এসেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কেমন ছিল আর তখন প্রাইম ব্যাংকে সুযোগটাই বা কীভাবে পেলেন?
তাহমিদুল ইসলাম: সিডনিতে আমার এক বন্ধুর খুব ভালো বন্ধু প্রাইম ব্যাংকের তানজিল চৌধুরি। ২০১৫ বিশ্বকাপে ব্ল্যাকটাউনে যখন লেগ স্পিন বল করছিলাম, তখন তানজিল ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়। খালেদ মাহমুদ সুজন ভাই তখন (জাতীয় দলের) ম্যানেজার ছিলেন।
বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলার একটা সুপ্ত ইচ্ছা আমার সব সময়ই ছিল। তাই ২০১৭ সালে আসি এবং সেটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে এখানকার উইকেটে খেলাটা ছিল শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। প্রাইম ব্যাংকের স্কোয়াড বড় হওয়ায় ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও সেখানে কাটানো এক মাস আমার জন্য ছিল অমূল্য।
তবে সেই গরম ছিল অবিশ্বাস্য। মার্চ মাস ছিল সম্ভবত। আর বাংলাদেশে তখন অসহ্য গরম। অনুশীলনের পর তিন-চারটা করে টি-শার্ট বদলাতে হতো। তবে আমি অনেক কিছু শিখেছি।
আপনি সুজন ভাইয়ের কথা বললেন। একজন কোচ হিসেবে তার কাছ থেকে কী শিখেছেন?
তাহমিদুল: সুজন ভাই তখন হেড কোচ ছিলেন। তার কাছ থেকে আমি শিখেছি যে স্পিন সহায়ক কন্ডিশনে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় এখানে ফিল্ডিং সাজানোর ধরণটাও যে আলাদা, সেটা বুঝতে পেরেছি। অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়ার প্লেতে ডট বল দিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা থাকে, কিন্তু এখানে শুরু থেকেই ফিল্ডারদের ছড়িয়ে রাখা হয়। ইন-আউট ফিল্ডিংয়ের সেই কৌশলটা সামনাসামনি দেখা বড় অভিজ্ঞতা ছিল।
আপনি অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হলেন কবে?
তাহমিদুল: বাবার চাকরির সূত্রে অস্ট্রেলিয়ার আগে আমরা অল্প সময়ের জন্য আমেরিকায় ছিলাম। আমার জন্ম বাংলাদেশে। পাঁচ বছর বয়সে আমেরিকায় যাই। সাত বছর বয়সে আমার বাবা মারা যান এবং ২০০৫ সালে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাই। তখন থেকেই আমরা ওখানেই আছি।
আপনার ক্রিকেটের শুরুটা কি তবে অস্ট্রেলিয়া থেকেই?
তাহমিদুল: বাংলাদেশে থাকাকালীন খুব সিরিয়াসলি খেলতাম না, নিছক মজার ছলেই বলা যায়। মতিঝিলের একটি পার্কে টেপ টেনিস বলে খেলতাম। যেটাকে লোকে ‘বালুর মাঠ’ বলে। সেখানে জোরে বল করার জন্য আমরা চাকিং বোলিং করতাম।
১১ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় প্রাইমারি স্কুলে যখন খেলা শুরু করি, প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেলাম না। কারণ আমি হাত সোজা রেখে বল করতে পারতাম না। তখন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। বাংলাদেশে তো ছুড়ে (চাকিং) বল করে অভ্যস্ত ছিলাম, কিন্তু এখানে সেটা মানল না। বাসায় এসে মায়ের কাছে খুব কেঁদেছিলাম।
আজ যখন পেছনের দিকে তাকাই, মনে হয় সেই ছোটবেলার স্মৃতি থেকে কতদূর চলে এসেছি! এরপর নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ গ্রিন শিল্ড এবং ১৭ বছর বয়সে ‘ওয়েস্টার্ন সাবার্বস’-এর হয়ে ফার্স্ট গ্রেডে অভিষেক হয়। যেখানে মাইকেল ক্লার্ক, মিচেল স্টার্ক বা ফিল হিউজরা খেলেছেন। এরপর ইংল্যান্ডে মিডলসেক্স লিগ, নর্দান্টস লিগ, ইয়র্কশায়ার লিগেও খেলেছি। সেখানেই মূলত কোচিংয়ের প্রেমে পড়ি।
খুব অল্প বয়সে প্লেয়ার-কোচ হিসেবে কাজ করছেন। এটা কি সব যাচাই-বাছাই করে নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল?
তাহমিদুল: সত্যি বলতে, শুরুতে এটা ছিল বাড়তি কিছু উপার্জনের মাধ্যম। কিন্তু পরে মিডলসেক্স নারী দলের কোচের সঙ্গে তাদের একাডেমিতে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, আমি যা শিখেছি তা তরুণদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে ভালো লাগছে।
আমার মনে হতো, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন যদি এমন কাউকে পেতাম যে শুধু টেকনিক্যাল কোচ নয় বরং মেন্টর হিসেবে পাশে থাকবে! অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডে দলগত অনুশীলনের চেয়েও ব্যক্তিগত (ওয়ান অন ওয়ান) সেশনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমি এই কাজটার প্রেমে পড়ে গেলাম। তখন থেকেই কারও ক্রিকেট যাত্রায় তার চড়াই-উতরাইয়ের সঙ্গী হওয়াটা আমাকে টানতে শুরু করল।
সিডনিতে ফিরেও কি এই কাজ চালিয়ে গেছেন?
তাহমিদুল: হ্যাঁ, সিডনিতে ফেরার পর নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক ওপেনার ডেভ ডসনের সঙ্গে মিলে একটা কোচিং ব্যবসা শুরু করি। এরপর ক্র্যানব্রুক স্কুলে কাজ করার সময় শেন ওয়াটসনের ছেলের কোচিংয়ের দায়িত্ব পাই। সেখান থেকেই ওয়াটসনের সঙ্গে আমার চমৎকার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। গত ৫ বছর ধরে আমি তার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যা আমাকে মানসিকভাবে ও টেকনিক্যালি অনেক সমৃদ্ধ করেছে।
হ্যারি ব্রুকের সঙ্গেও আপনার একটা পুরনো সম্পর্ক আছে শুনেছি।
তাহমিদুল: হ্যাঁ, ওটা ছিল ওর ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে। ও যখন সিডনিতে ক্লাব ক্রিকেট খেলতে আসে, তখন আমরা রুমমেট ছিলাম। ওর একটা কথা আমার সব সময় মনে পড়ে, সে বলত যে, সে বিশ্বের সেরা ব্যাটার হবে। আজ তাকিয়ে দেখুন, ও কোথায় পৌঁছে গেছে!
আপনি এমএলসিতে শেন ওয়াটসনের সঙ্গে কাজ করছেন…
তাহমিদুল: সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের সঙ্গে গত দুই বছর ধরে আছি। সেখানে বেইসবল পাওয়ার-হিটিং কোচদের সঙ্গে কাজ করাটা ছিল একদম নতুন অভিজ্ঞতা। পুরো সিস্টেমটা সেখানে ডেটা এবং অ্যানালিটিকস নির্ভর। কার্ভ বল বা ব্যাটারের নির্দিষ্ট হিটিং জোন নিয়ে ওখানে যে গভীর বিশ্লেষণ হয়, তা অস্ট্রেলিয়াতেও সচরাচর দেখা যায় না।
প্যাট কামিন্স আমাদের দলে ছিলেন, অথচ আমেরিকায় কেউ তাকে চিনত না! মানুষ জিজ্ঞেস করত ক্রিকেট আবার কী জিনিস? কেউ কেউ মনে করত এটা বেইসবলের মতো। এই কয়েকটা বছর আমার চোখ খুলে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অনেক প্রতিভাবান তরুণদের সঙ্গে আপনি কাজ করছেন। তারা কারা?
তাহমিদুল: আমি খুবই ভাগ্যবান যে স্যাম কনস্টাস, রায়ান হিকস বা জশ ফিলিপের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করতে পারছি। জশ ফিলিপ তো বাংলাদেশে আসছে সিরিজের জন্য। এছাড়া ড্যানিয়েল সামস বা জর্ডান সিল্কের সঙ্গে কাজ করাটাও ছিল দারুণ। আমি যা হতে চেয়েছিলাম বা যে উচ্চতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, তাদের সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করাটা আমার জন্য বড় সার্থকতা।
একজন বাঙালি হিসেবে এটা নিশ্চয়ই অনেক গর্বের?
তাহমিদুল: আমি সাধারণত পর্দার আড়ালে থাকতেই পছন্দ করি। তবে চাঁদপুরের ছোট্ট একটা ছেলে যে কিনা বালুর মাঠে খেলে বেড়াত, সে যখন বক্সিং ডে টেস্টে এমসিজির (মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড) মতো জায়গায় অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে থাকে- সেটা সত্যি অপার্থিব মনে হয়।
এমসিজিতে লাখো মানুষের সামনে খেলা ছিল, আগের রাতে আমরা ডিনারে ছিলাম। আমি তখন মজার ছলে কনস্টাসকে বলেছিলাম একটা ‘র্যাম্প শট’ খেলার কথা। তখন ও বলেছিল, ‘কী বলছ তুমি! কোনো সুযোগ নেই।’ কিন্তু পরদিন খেলার উত্তেজনায় ও ঠিকই শটটা খেলেছিল এবং সফল হয়েছিল। সে তরুণ খেলোয়াড়। সামনে অনেক দূর যাবে আমি বিশ্বাস করি।
আমার জন্য সেটি দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। আমি আমার বাংলাদেশি পরিচয় নিয়ে গর্ব করি এবং জানি এটা আমার পরিবার ও দেশের মানুষের জন্যও গর্বের। এগুলো খুব ছোট ছোট আনন্দের উৎস। তবে জীবনটা তো এমনই, এমন কিছু মুহূর্তই সারাজীবন মনে থাকে।
দীর্ঘ ১০ বছর পর আবার ডিপিএলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন কীভাবে?
তাহমিদুল: অনেকদিন ধরেই ফেরার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সিডনিতে কোচিংয়ের ব্যস্ততায় সময় হয়ে উঠত না। এবার সুজন ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তিনি দারুণভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন। কোনো প্রত্যাশা নিয়ে আসিনি, স্রেফ উপভোগ করতে এসেছি। প্রথম ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়াটা দুঃখজনক, তবে এটাই ক্রিকেট। এখন লক্ষ্য দ্রুত সুস্থ হয়ে লিগের শেষ দিকে অবদান রাখা।
ডিপিএল শেষে তো আপনি আবার এমএলসিতে চলে যাবেন। বাংলাদেশে নিয়ে কি দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা আছে?
তাহমিদুল: আমি বর্তমানে বিশ্বাসী। জীবনকে আমি ক্রিকেটের মতো দেখি, প্রতিটি বল ধরে ধরে এগোনো। আপাতত লক্ষ্য ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা। এখানে প্রচুর প্রতিভা আছে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোনো কোচিং প্রজেক্ট করার ইচ্ছা আছে?
তাহমিদুল: হ্যাঁ! আগামী ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমার একাডেমির কিছু খেলোয়াড়কে নিয়ে এখানে ‘দ্য ক্রিকেটার্স একাডেমি’-তে অনুশীলনের জন্য আসার একটা পরিকল্পনা আছে।
No posts available.
৫ মে ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম
৫ মে ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
৫ মে ২০২৬, ৫:১১ পিএম

মাত্র ৫০ টাকা খরচ করেই মাঠে বসে দেখা যাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের খেলা। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী শুক্রবার (৮ মে) শুরু হবে প্রথম টেস্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় প্রথম টেস্টের জন্য টিকিটের মূল্য প্রকাশ করেছে বিসিবি। এরই মধ্যে বিসিবির টিকিটিং ওয়েবসাইটে (https://www.gobcbticket.com.bd/) শুরু হয়েছে প্রথম ম্যাচের টিকিট বিক্রি।
ছাউনিবিহীন পূর্ব গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার জন্য গুনতে হবে শুধু ৫০ টাকা। এছাড়া নর্দার্ন গ্যালারি ও শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের (সাউদার্ন গ্যালারি) টিকিটের মূল্য ৭৫ টাকা।
দুই ক্লাব হাউজ শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ড ও শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য ২০০ টাকা। ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে দিতে হবে ৩০০ টাকা।
আর গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন একাডেমির ক্ষুদে ক্রিকেটারদের জন্য সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কোনো টিকিট ছাড়াই বিনামূল্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের খেলা দেখতে পারবে তারা।
মঙ্গলবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে বিসিবি।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী শুক্রবার (৮ মে) শুরু হবে প্রথম টেস্ট। পরে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হবে আগামী ১৬ মে। দুটি ম্যাচই বিনা মূল্যে দেখতে পারবেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন একাডেমির ক্ষুদে ক্রিকেটাররা।
এজন্য অবশ্য সহজ একটি শর্ত মানতে হবে তাদের। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ স্কুলের বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান আবশ্যক ও স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈধ পরিচয়পত্র বহন করতে হবে।
ক্ষুদে ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও একই শর্ত। প্রাইভেট ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত অনূর্ধ্ব-১৫ বছর বয়সী ক্রিকেটারদের নিজ নিজ একাডেমির নির্ধারিত পোশাক পরিহিত অবস্থায় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে হবে।

কদিন আগেই টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার কাছে ধবলধোলাই হয় বাংলাদেশ। তবে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, বরং অনেকেরই উন্নতি হয়েছে। নারীদের টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটারদের মধ্যে দারুণ উন্নতি করেছেন শারমিন আক্তার সুপ্তা, দিলারা আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। আর বোলারদের মধ্যে বড় লাফ দিয়েছেন সুলতানা খাতুন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারলেও বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স ছিল সুলতানার। ৬ উইকেট নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার ছিলেন তিনি। পুরষ্কার হিসেবে এক লাফে ৪৮ ধাপ এগিয়ে বোলারদের র্যাংকিংয়ে ৩৮তম স্থানে উঠে এসেছেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উন্নতি করেছেন সুলতানা।
বড় লাফ দিয়েছেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটার শারমিন আক্তার সুপ্তা, স্বর্ণা আক্তার এবং দিলারা আক্তারও। সুপ্তা ১০ ধাপ এগিয়ে ব্যাটারদের র্যাংকিংয়ে ৩৭ নম্বরে অবস্থান করছেন। ৫ ধাপ এগিয়ে ৫৫তম স্থানে আছেন দিলারা। আর স্বর্ণা এগিয়েছেন ১৯ ধাপ। ব্যাটারদের র্যাংকিংয়ে তাঁর অবস্থান ৬২তম স্থানে।
বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারানো শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সিরিজসেরা পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন। তিন ইনিংসে ১১৫ রান ও ৪ উইকেট নেওয়ার সুবাদে অলরাউন্ডার তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠেছেন এবং বোলারদের তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে ৪১তম স্থানে পৌঁছেছেন তিনি।
আরও পড়ুন
| আলভারেজ-সরলথকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় সিমিওনে |
|
এছাড়া শ্রীলঙ্কার হার্ষিতা সামারাবিক্রমা ব্যাটিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২০তম স্থানে, ইমেশা দুলানি ২৩ ধাপ এগিয়ে ৪৯তম স্থানে উঠেছেন। বোলিংয়ে কাভিশা দিলহারি ১৭তম ও মালকি মাদারা ৪৪তম স্থানে উঠে এসেছেন।
করাচিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১৬৮ রানের বিশাল জয়ের পর আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বেশ উন্নতি হয়েছে। ব্যাটারদের মধ্যে সিদরা আমিন তিন ধাপ এগিয়ে ১১তম স্থানে উঠে এসেছেন এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৮ রানের ইনিংস খেলে সাদাফ শামাস ১২ ধাপ এগিয়ে ৭২তম স্থানে পৌঁছেছেন।
বোলারদের তালিকায় নাশরা সান্ধু এক ধাপ এগিয়ে ১১তম অবস্থানে রয়েছেন এবং অধিনায়ক ফাতিমা সানা দুই ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ২৬তম স্থানে উঠে এসেছেন। এ ছাড়া অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়েও দুই ধাপ এগিয়ে ১৫তম স্থান দখল করেছেন ফাতিমা সানা।

পরনে ক্রিকেটের জার্সি, হাতে ব্যাট-বল, আর চোখে একরাশ স্বপ্ন—ঠিক এই সম্বলটুকু নিয়েই এক দশকেরও বেশি সময় আগে মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিলেন মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ। তবে সেই লড়াই শুধু রান তোলা বা উইকেট নেওয়ার ছিল না। সেই লড়াই ছিল সমাজ পরিবর্তনের, পিছিয়ে পড়া তরুণদের মূল স্রোতে ফেরানোর।
আজ সেই স্বপ্ন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী সম্মাননা ‘ফ্রিডম অফ দ্য সিটি’ লাভ করে লন্ডনের ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) লেভেল-৩ অ্যাডভান্সড কোচ তানভীর। কিন্তু তাঁর পরিচয় শুধু এই গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। তানভীর খেলাধুলাকে কেবল একটি বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি, তিনি একে ব্যবহার করেছেন একটি সেতু হিসেবে। লন্ডনের বৈচিত্র্যময় জনপদের তরুণদের একত্রিত করতে, তাদের মধ্যে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করতে গত এক দশক ধরে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন
| শ্রীলঙ্কাকে টপকে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে বাংলাদেশ |
|
তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রিকেটার তৈরি করে তাদের আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বহু তরুণ, যারা একসময় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াত, তানভীরের কোচিং ও মেন্টরশিপের ছোঁয়ায় তারা খুঁজে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস আর জীবনের নতুন মানে।
তানভীরের অর্জনের ঝুলিতে কেবল কোচের তকমা নয়, আছে নেতৃত্বের উজ্জ্বল ইতিহাসও। দুবার স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর এই সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অসাধারণ কোচিং দক্ষতার জন্য এর আগেই তিনি ইসিবি ও বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’ থেকে জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে এবারের সম্মাননাটি সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রাচীনতম ও অত্যন্ত সম্মানিত এই নাগরিক সম্মাননাটি তাঁদেরই দেওয়া হয়, যাঁরা সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশেষ কোনো অবদান রাখেন। লন্ডনের ‘ফ্রিম্যান’ হওয়ার এই গৌরব অর্জনে তানভীর মনে করিয়ে দিলেন, লক্ষ্য যদি হয় মহৎ আর পরিশ্রম যদি হয় পাহাড়সম, তবে বিদেশের মাটিতেও নিজের দেশের নাম উজ্জ্বল করা সম্ভব। ক্রিকেট ব্যাট হাতে একজন বাংলাদেশি কোচ আজ লন্ডনের মতো বৈশ্বিক শহরের নীতিনির্ধারক ও সুধী সমাজের মধ্যমণি।
এই অর্জন নিয়ে তানভীর নিজেও আপ্লুত। বললেন, ‘এই সম্মাননা আমার একার নয়, বরং সেই সব তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের, যারা দিনরাত পাশে থেকে ক্রিকেটকে সমাজের পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সহায়তা করেছে। এই অর্জন আমার মাতৃভূমির।’
যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এই সম্মাননাটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ১২৩৭ সাল থেকে প্রবর্তিত এই পদকটি সাধারণত এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হয় যারা সমাজে দীর্ঘমেয়াদী এবং অর্থবহ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বার্ষিক হালনাগাদে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে একধাপ উন্নতি হলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে হটিয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে এখন আট নম্বরে আছে লিটন কুমার দাস-সাইফ হাসানরা।
চলতি বছর ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখা ভারত ২৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ২৬২ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় এবং ২৫৮ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া খুব কাছাকাছি থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছে। শীর্ষ সাতটি অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি; নিউজিল্যান্ড (২৪৭), দক্ষিণ আফ্রিকা (২৪৪), পাকিস্তান (২৪০) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৩৩) যথারীতি শীর্ষ দশে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে।
র্যাঙ্কিংয়ের এই নতুন পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের মে থেকে খেলা সব ম্যাচের ১০০ শতাংশ এবং এর আগের দুই বছরের পারফরম্যান্সকে ৫০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই হালনাগাদ অনুযায়ী পুরুষদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের ব্যবধান ১৪ পয়েন্ট থেকে কমে ১৩ হয়েছে।
আরও পড়ুন
| ফেডারেশন কাপের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস |
|
র্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে। লঙ্কানরা ছয় রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে বাংলাদেশের নিচে নবম স্থানে নেমে গেছে এবং আফগানিস্তানের চেয়ে এখন মাত্র এক পয়েন্ট এগিয়ে আছে।
সেরা দশের বাইরে নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ডকে টপকে ১৩তম স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ ২০-এর অন্যান্য পরিবর্তনের মধ্যে নেপাল সংযুক্ত আরব আমিরাতকে টপকে ১৭তম এবং ওমান কানাডাকে ছাড়িয়ে ১৯তম অবস্থানে পৌঁছেছে।
এছাড়া ইতালি ১১ পয়েন্ট পেয়ে ২৬তম থেকে ২৩তম স্থানে, স্পেন ১২ পয়েন্ট পেয়ে ৩০তম থেকে ২৬তম স্থানে এবং সাইপ্রাস ১০ পয়েন্ট পেয়ে ৬৪তম থেকে ৫৩তম স্থানে উঠে এসেছে। এছাড়া এসওয়াতিনি ১০ পয়েন্ট যোগ করে ৭৪তম থেকে ৬৫তম স্থানে নিজেদের অবস্থান উন্নীত করেছে।
নারীদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১৬টি অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২৮৭ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া এক নম্বরে, ২৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় এবং ২৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ভারত তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
নিউজিল্যান্ড (২৫৩), দক্ষিণ আফ্রিকা (২৪৩) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৩৮) যথাক্রমে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে আছে। সপ্তম স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কা (২৩৭) তাদের রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে ষষ্ঠ স্থানের সঙ্গে ব্যবধান মাত্র ১ পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে। একইভাবে, ৫ পয়েন্ট অর্জন করা বাংলাদেশ এখন নবম স্থানে থাকা আয়ারল্যান্ডের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে।