
ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং পাঞ্জাবের সাবেক পেসার আমানপ্রীত সিং গিল মাত্র ৩৬ বছর বয়সে চণ্ডীগড়ে মারা গেছেন। গত বুধবার না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেও এখনও তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।
বিরাট কোহলির একসময়ের অনূর্ধ্ব-১৯ সতীর্থ আমানপ্রীত ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে পাঞ্জাবের হয়ে ছয়টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন। যেখানে তাঁর শিকার ছিল ১১টি উইকেট। এছাড়া আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে পাঞ্জাব কিংস (তৎকালীন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব) স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন তিনি। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে পাঞ্জাবের সিনিয়র নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন আমানপ্রীত।
আমানপ্রীতের প্রয়াণে সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন বিরাট কোহলি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এক আবেগঘন বার্তায় এক্সে লিখেছেন,
‘খবরটা শুনে আমি স্তব্ধ এবং গভীরভাবে ব্যথিত। তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা এবং এই কঠিন শোক সইবার শক্তি প্রার্থনা করছি। শান্তিতে থেকো।’
আমানপ্রীত সিং গিলের স্মৃতিচারণ করে ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ বলেন, আমানপ্রীতের চলে যাওয়ার খবর শুনে খুব খারাপ লাগছে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমরা ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছি; ও খুব শান্ত এবং কঠোর পরিশ্রমী একজন ক্রিকেটার ছিল, যে খেলাটাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসত।’
গত বুধবার হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ম্যাচে আমানপ্রীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন পাঞ্জাব কিংসের ক্রিকেটাররা। পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এক শোক বার্তায় জানিয়েছে,
‘পাঞ্জাব ক্রিকেটের একনিষ্ঠ সেবক আমানপ্রীত সিং গিলের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তিনি অত্যন্ত আবেগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে পাঞ্জাব ক্রিকেটকে সেবা দিয়ে গেছেন।’
২০০৭ সালের দিকে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন আমানপ্রীত। সেই সময় দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা সফরও করেছিলেন তিনি। খেলেছেন বয়সভিত্তিক ওয়ানডে ও তিন দিনের ইয়ুথ টেস্ট। যদিও এক বছরের ব্যবধানে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারত যখন ২০০৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতল, সেই বিশ্বকাপজয়ী দলে শেষ পর্যন্ত আমানপ্রীতের জায়গা হয়নি। তবে সেই সময়কার প্রতিভাবান পেসারদের তালিকায় তার নাম ছিল উপরের দিকেই।
No posts available.
১৫ মে ২০২৬, ৩:০৭ পিএম
১৪ মে ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম

ক্রিকেটের প্রতি বিরাট কোহলির ভালোবাসা এখনও ফুরিয়ে যায়নি, যার প্রমাণ ২২ গজে তাঁর ব্যাট হাতে নিয়মিত রানের ফোয়ারা ছুটে চলা। ছন্দ কিংবা ফিটনেস—সবখানেই তিনি এখনও অনন্য। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারেও সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার পুরোপুরি মনোযোগী এবং মানসিকভাবেও প্রস্তুত। তবে কোহলি এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কেবল একটা শর্ত পূরণ হলেই তাঁকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে। আর সেটা হলো, কোনো নির্দিষ্ট ‘পরিবেশে’ যদি তাঁর যোগ্যতাকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়, তবে তিনি হাসিমুখে মেনে নেবেন যে সেই ‘জায়গাটি তাঁর জন্য নয়’।
আইপিএল নিজের দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) পডকাস্টে কথা বলার সময় ৩৭ বছর বয়সী এই সুপারস্টার কোহলি জানান, তাঁর পারফরম্যান্স বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মানুষের ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করা বা রঙ বদলানো তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না।
কোহলি বলেন,
‘আমি সবসময়ই প্রস্তুত থাকি, কারণ এটাই আমার দৈনন্দিন জীবন। আমি নিয়মিত ওয়ার্কআউট করি, আমরা বাসায় নিয়ম মেনে ভালো খাবারদাবার খাই। আমি এই লাইফস্টাইলটা পছন্দ করি বলেই এভাবে চলি, শুধু ক্রিকেট খেলার জন্য নয়। তাই এই দিক থেকে আমি পরিষ্কার। মানে, এই যে ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে যত আলোচনা... আমাকে তো এতবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, “আপনি কি ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলতে চান?”
কোহলি আরও জোর দিয়ে বলেন,
‘আমি এর উত্তর জানি। কারণ উত্তর না জানলে আমি কেনই বা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকব? অবশ্যই, আমি যদি খেলি, তবে ক্রিকেট খেলতেই চাই। আমি খেলাটা চালিয়ে যেতে চাই। ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলাটা দারুণ এক অনুভূতি। কিন্তু আমি যেমনটা বলেছি, এই মূল্যায়নের বিষয়টি দুই পক্ষ থেকেই সমান হতে হবে।’
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে বলেন,
‘আমার ভাবনা খুবই পরিষ্কার। আমি যে দলের বা পরিবেশের অংশ, সেখানে যদি আমি অবদান রাখতে পারি এবং সেই পরিবেশও যদি মনে করে যে আমার অবদান রাখার সুযোগ আছে, তবে আমাকে মাঠে দেখা যাবে। কিন্তু আমাকে যদি এমন একটা পরিস্থিতিতে ফেলা হয় যেখানে প্রতি মুহূর্তে আমার যোগ্যতা ও উপযোগিতা প্রমাণ করতে হবে, তবে আমি সেই জায়গায় থাকতে রাজি নই।’
২০২৪ টি-টোয়েন্টি এবং ২০২৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর কোহলি এখন কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটেই খেলছেন। গত কয়েক বছরে ওয়ানডে ম্যাচের সংখ্যা অনেক কমে যাওয়ায় ভারতের জার্সিতে কোহলির মাঠে নামার সুযোগ এখন বেশ সীমিত। আগামী ১৪ থেকে ১৯ জুলাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের অ্যাওয়ে সিরিজে তাঁকে আবারও মাঠে দেখা যেতে পারে। দলে থাকার ব্যাপারে কোহলির তীব্র ইচ্ছা থাকলেও, ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর কিন্তু কোহলি এবং আরেক কিংবদন্তি রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
কোহলি অবশ্য জানিয়েছেন, দল যতদিন তাঁকে চাইবে, ততদিনই তিনি থাকবেন,
‘আমি আমার প্রস্তুতি এবং খেলার প্রতি সৎ। আমি মাথা নিচু করে কঠোর পরিশ্রম করে যাই। যখন খেলতে নামি, তখন দলের অন্য সবার চেয়ে সমান বা তার চেয়েও বেশি খাটি এবং ক্রিকেটটা সঠিক নিয়মে খেলার চেষ্টা করি।’
খেলার প্রতি নিজের নিবেদন বোঝাতে গিয়ে কোহলি বলেন, একজন ফিল্ডার হিসেবে প্রয়োজনে ৪০ ওভার ধরে বাউন্ডারি লাইনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়ানোর মানসিক প্রস্তুতিও তাঁর থাকে,
‘আমি সেটা করব কারণ আমি সেভাবেই নিজেকে তৈরি করি। আমি ৫০ ওভার ফিল্ডিং করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকি। এত সব করার পরও যদি আমাকে আলাদা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়, তবে সেই জায়গাটি অন্তত আমার জন্য নয়।’
উদাহরণ হিসেবে কোহলি দীর্ঘ দুই দশক পর ২০২৫-২৬ মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিজয় হাজারে ট্রফিতে তাঁর ফেরার কথা উল্লেখ করেন। দিল্লির হয়ে দুটি ম্যাচ খেলে একটিতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন ৩৭ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার। পাশাপাশি দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে লিস্ট-এ ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন।
নিজের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে কোহলি বলেন,
‘আমার মাথায় একদম পরিষ্কার ছিল যে আমি সেখানে কারও কাছে কিছু প্রমাণ করতে নামিনি। আমি খেলছি কারণ আমি খেলাটাকে ভালোবাসি। বিজয় হাজারে ট্রফিতেও আমি এই মানসিকতা নিয়েই খেলেছিলাম এবং অভিজ্ঞতাটা সত্যিই দারুণ ছিল।’

বাঁ-হাঁটুর চোটের কারণে মিরপুর টেস্ট থেকে ছিটকে যান বাবর আজম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার আছেন দারুণ ছন্দে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাবরের মতো ব্যাটারের অনুপস্থিতি বেশ ভালোই ভুগিয়েছে পাকিস্তানকে। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে চোট কাটিয়ে ফিরছেন দলটির পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। আর এই ব্যাটারকে কোথায় আক্রমণ করতে হবে সেটা নাকি ভালোই জানা আছে বাংলাদেশের।
মিরপুর টেস্ট শুরুর আগের দিন অনুশীলনের মাঝপথে মাঠ ছেড়েছিলেন বাবর। অভিজ্ঞ পাকিস্তানি ব্যাটার বাবর আজম ফিট হয়ে সিলেটের দ্বিতীয় টেস্টে খেলার সবুজ সংকেত পেলেও, বাংলাদেশের জন্য তিনি বড় মাথাব্যথা হবেন না, বলছেন মুশফিকুর রহিম।
সিলেট টেস্ট শুরুর আগের দিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসে মুশফিক বললেন, বাবরের জন্য পরিকল্পনা আছে তাদের,
‘তার মতো এরকম একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার যদি দলে থাকেন বা তাকে পাওয়া যায়, তাদের জন্য এটা অবশ্যই বড় পাওয়া। তবে আমরা যখন পাকিস্তানে গিয়ে (২০২৪ সালে) দুটি ম্যাচে ওদেরকে হারিয়েছিলাম, তখনও সে তো দুটি টেস্টই খেলেছে। তারপরও তারা হেরে গিয়েছিল আমাদের কাছে।’
মুশফিক আরও বলেন,
‘আমরা অবশ্যই জানি, কোথায় তাকে আক্রমণ করতে হবে বা কোথায় কীভাবে করতে হবে, পরিকল্পনা আছে। সব যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পানি, তাহলে আশা করি তাকে চাপে ফেলতে পারব এবং তাদের পুরো দলকে চাপে রাখতে পারব।’
২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান যখন বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল, তখন চার ইনিংসে বাবর করেছিলেন মাত্র ৬৪ রান। গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ৪০ রানে ৫ উইকেট নেওয়া পেসার নাহিদ রানা ওই সিরিজে বাবরকে দুবার আউট করেছিলেন। মুশফিকুর রহিম জানান, এবারও বাবরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।
মুশফিক বলেন,
‘আমার মনে হয় পাকিস্তান দল টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সব সংস্করণেই বেশ ভুগছে। তবে আমরা (ঢাকায়) জিতেছি কারণ আমরা আসলেই খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমরা তাদের বিপক্ষে ধারাবাহিক ছিলাম। এই ম্যাচেও আমরা একইভাবে খেলার চেষ্টা করব। তবে এই টেস্টে ঠিক কতটা খেলার সুযোগ আমরা পাব, তা দেখতে হবে; ম্যাচ থেকে ফল বের করে আনাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।’
সিরিজ বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাবরের ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাবরের ফেরা আমাদের জন্য ইতিবাচক। গত পিএসএলেও সে দুর্দান্ত খেলেছে। মানসিকভাবে সতেজ ও কৌশলগতভাবে বাবর এখন অনেক শক্তিশালী। তাকে দলে পেয়ে আমরা খুশি।’
মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশ জয়ের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়লেও বড় দুঃসংবাদ পেল পাকিস্তান দল। স্লো ওভার রেটের জন্য শাস্তির মুখে পড়েছে তারা। শুধু ম্যাচ ফির বড় অংশ জরিমানাই নয়, আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পয়েন্টও হারিয়েছে তারা।
আইসিসির ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো পাকিস্তান দলকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৮ ওভার পিছিয়ে থাকার দায়ে এই শাস্তি দিয়েছেন। সময় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করার পরও দেখা যায়, পাকিস্তান দল বোলিং কোটা পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী পাকিস্তান দলকে দ্বআইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.২২ ধারা অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম করার জন্য সংশ্লিষ্ট দলের খেলোয়াড়দের ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করা হয়। সেই হিসেবে ৮ ওভারের জন্য পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৪০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম (ধারা ১৬.১১.২) অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম করার জন্য ১ পয়েন্ট করে পেনাল্টি দেওয়া হয়। ফলে পাকিস্তানের অর্জিত পয়েন্ট থেকে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোলিং শেষ করতে না পারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফাইনালের দৌড়ে থাকা দলগুলোর জন্য ১ পয়েন্টও যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ৮ পয়েন্ট হারানো পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা।
আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ এই অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং ম্যাচ রেফারির দেওয়া শাস্তি মেনে নিয়েছেন। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো ও কুমার ধর্মসেনা, তৃতীয় আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকর এবং চতুর্থ আম্পায়ার গাজী সোহেল যৌথভাবে এই অভিযোগটি এনেছিলেন।
মিরপুর টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই বড় অঙ্কের পয়েন্ট কর্তন পয়েন্ট টেবিলে পাকিস্তানের অবস্থানকে কিছুটা নড়বড়ে করে দিল। জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে তাই এখন পয়েন্ট হারানোর আক্ষেপই বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে সফরকারী দলে।

২০১০ সালে লর্ডস এবং ম্যানচেষ্টার টেস্টে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করে শুণ্যে লাফিয়ে তামিমের উদযাপনের দৃশ্যটা এখনো ধরে রেখেছে গ্যাটি ইমেজ। ওই দুটি সেঞ্চুরিতে বড় একটা স্বীকৃতি পেয়েছেনতামিম ইকবাল। ২০১১ সালে উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার-পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই বাঁ হাতি ওপেনার।
বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার ওটাই। ২০২১ সালে আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার প্রবর্তন করলে বাংলাদেশের সেরা পারফরমাররা পাচ্ছেন সাফল্যের স্বীকৃতি। ২০২১ সালের মে মাসে মুশফিকুর রহিম প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে জিতেছেন এই পুরস্কার। সে বছরের জুলাই মাস সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন বাঁ হাতি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২০২৩ সালের মার্চ মাসের সেরা ক্রিকেটারও বিবেচিত হয়েছেন সাকিব। ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্লেয়ার অব দ্য মান্থ-এর মুকুটটি পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
শুধু ছেলেদের ক্যাটাগরিতেই নয়, মেয়েদের ক্যাটাগরিতেও প্লেয়ার অব দ্য মান্থ-এর পুরস্কার পেয়েছেন ২ বাংলাদেশী। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নাহিদা আক্তার এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুবহানা মুস্তারি।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক সময়ে টিমমেট পেস বোলাররা থাকতেন সৎ ভাইয়ের দৃষ্টিতে। মোস্তাফিজের আর্বিভাবে ২০১৫ থেকে বদলেছে দৃষ্টিভঙ্গি। এখন তো রীতিমতো স্পটলাইটে ডান হাতি পেসার নাহিদ রানা।
এ বছরের মার্চ থেকে অন্য এক নাহিদ রানাকে দেখছে বিশ্ব। অবলীলায় ঘন্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন। কোনো কোনো ডেলিভারি ছাড়িয়ে গেছে ঘন্টায় ১৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে এক্সপ্রেস বোলারের দেখা মেলা যেখানে ভার, সেখানে গতির বোলিংয়ে ব্যাটারদের যম হিসেবে আবির্ভূত নাহিদ রানা।

গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১৮.১২ গড় এবং ৫.৩২ ইকোনমিতে ৮ উইকেট, এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও নামতা গুনে ৮ উইকেট-১৬.৭৫ গড়ে এবং ৪.৪৬ ইকোনমিতে ৮ উইকেট! দুটি সিরিজেই একটি করে ম্যাচে ৫ উইকেট! ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডকে ২-১ এ হারিয়ে দেয়ার নায়ক। এই ধারাবাহিক বোলিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন নাহিদ রানা। এপ্রিল মাসসেরা নমিনেশনে তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওমানের যতিন্দার সিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজয় কুমার । তবে তাদের কারো পারফরমেন্স আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে নয়।আইসিসি মেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ টু-তে যতিন্দার ৫ ওয়ানডেকে করেছেন ২৬৬ রান, অজয় কুমার এপ্রিল মাসে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ২টি ওয়ানডে ম্যাচে পেয়েছেন ৯ উইকেট। আইসিসির সহযোগী সদস্য দুই দেশের দুই ক্রিকেটারকে নয়, এপ্রিল সেরা ক্রিকেটার হিসেবে নাহিদ রানাকে বেছে নিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেস বোলার পেলেন আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ-এর পুরস্কার।
সদ্য সমাপ্ত ঢাকা টেস্টে নাহিদ রানার দুটি ডেলিভারির কথাই ভাবুন। প্রথম ডেলিভারিটি বাউন্সার দিয়ে পাকিস্তানের অভিষিক্ত বাঁ হাতি ওপেনার আজান আইওয়াসের মাথাটা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর বাউন্সার হেলমেটের গ্রিলে এতোটাই জোরে আঘাত হেনেছে যে, তাঁকে স্বাভাবিক করে তুললে ৪ মিনিট পরিচর্যা করতে হয়েছেপাকিস্তানের টিম ডাক্তারকে। দ্বিতীয় ইনিংসে রিজওয়ানের মতো ব্যাটারকে কী হতভম্বই না করেছেন নাহিদ রানা। তাঁর শর্ট অব লেন্থ ডেলিভারি অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বল পিচ করে ইনসুইং করে স্ট্যাম্পে আঘাত হানবে, তা ঘুর্ণাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারেননি। বলটা অফ স্ট্যাম্পের বেশ বাইরে দিয়ে চলে যাচ্ছে, তা ধরে নিয়েই ব্যাট লিফট করেছিলেন রিজওয়ান। অথচ, নিজেকে নিরাপদ রাখতে ওই কৌশলে কাজ হয়নি। বোল্ড আউটে থেমেছেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রিজওয়ান।
২০১৬ সালে আইপিএলে মোস্তাফিজের ইয়র্কারে আন্দ্রে রাসেলের ভুপাতিত হওয়ার দৃশ্যটার কথাই ভাবুন, কী আনন্দই না পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমীরা। রিজওয়ানের আউটেও নাহিদ রানা স্তুতি বিশ্বজুড়ে। কারণ, ওই আউটটাই মিরপুর টেস্টের টার্নি পয়েন্ট। পাকিস্তানের সাবেকদের আলোচনা, ক্রিকেট বিশ্লেষকদের আলোচনা জুড়ে এখন আছেন শুধুই নাহিদ রানা।
২ দিন আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ভয়ংকর এক স্পেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় বোলিংয়ে (৫/৪০) বাংলাদেশকে ১০৪ রানে টেস্ট জিতিয়ে আকাশে উড়তে থাকা নাহিদ রানার জন্য আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কারটি আরো বেশি প্রাণশক্তি যোগাবে।

চোটের কারণে সিলেট টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন সাদমান ইসলাম। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে এই ওপেনারের বিকল্প হিসেবে দলে ডাকা হয়েছে বাঁহাতি ওপেনার জাকির হাসানকে।
জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন বুকের চোটে পড়েছেন সাদমান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিবৃতিতে বায়েজিদুল জানান,
‘মিরপুরে প্রথম টেস্টের সময় ক্যাচ নিতে গিয়ে সাদমান বুকে আঘাত পান। তার বুকের হাড়ে চোট (ট্রমাটিক কন্টুশন) লেগেছে এবং তিনি ব্যথায় ভুগছেন। দুর্ভাগ্যবশত দ্বিতীয় টেস্টে তাকে পাওয়া যাবে না।’
মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের দাপুটে জয়ের পর বাংলাদেশের নজর এখন সিলেট টেস্টে। আগামী ১৬ মে থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই অনুশীলনে নেমেছে দুই দল। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ওপেনিং জুটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েল টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রথম টেস্টে ফিল্ডিং করার সময় ক্যাচ নিতে গিয়ে বুকে চোট পেয়েছিলেন সাদমান। আজ সিলেটে দলীয় অনুশীলনে ব্যাটিং করার সময় সেই চোট আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মাত্র কয়েক বল খেলার পরই ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বাঁহাতি ব্যাটার।
সাদমানের জায়গায় সুযোগ পাওয়া জাকির বাংলাদেশের হয়ে ১৩টি টেস্ট খেলেছেন। ২০২২ সালে অভিষেক টেস্টে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ও পরের দুই টেস্টে ফিফটি করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে জায়গা হারান ২৮ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার। সবশেষ ২০২৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে লাল বলের ক্রিকেটে ছিলেন তিনি।