১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২৮ এম

অ্যাঙ্গোলার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। হার-জিতে লাজ বা শঙ্কা তৈরির সুযোগ ছিল না। তবে এটি ছিল আর্জেন্টিনার বছরের শেষ ম্যাচ। তাই স্বাগতিকদের বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে ২–০ গোলে জিতেছে তারা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে গোল দুটি করেন লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেজ।
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের
৮৯ নম্বর দলটির বিপক্ষে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার খেলল আর্জেন্টিনা। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের
আগে প্রথম দেখায়ও একই ব্যবধানে জিতেছিল তারা।
লুয়ান্ডার এস্তাদিও ১১ দে নভেম্ব্রোতে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার ম্যাচে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। স্বাগতিকদের নিজেদের মাঠেই ঘোরতর চাপে রেখেছে সফরকারীরা। প্রায় ৬৬ শতাংশ বল দখলে রাখে তারা। অন-টার্গেটে ৩টি শট নিয়ে দুটি থেকেই গোল আদায় করে আর্জেন্টিনা।
এদিন শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে আর্জেন্টিনা। ২১ মিনিটে মেসি অপ্রত্যাশিতভাবে একটি সহজ সুযোগ মিস করেন। মার্তিনেজের দুর্দান্ত পাসে অ্যাঙ্গোলার রক্ষণভাগ ভেদ করে গোলের সুযোগ পান মেসি, কিন্তু তাঁর শটটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন স্বাগতিকদের গোলকিপার পেদ্রো মার্কেস!
৩৬ মিনিটে বাঁ দিক থেকে আক্রমণে যায় স্বাগতিকরা। তবে আর্জেন্টিনার গোলকিপার রুলি আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। বলটি গ্লাভসবন্দী করে নেন তিনি।
৩৮ মিনিটে আরও একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন মেসি। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যান থিয়াগো আলমাদা। তাঁর দুর্দান্ত কাটব্যাকে মেসির কাছে বল যায়, তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় মেসির শটটি।
৩৯ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পান মেসি। পা ছোঁয়ালেই বিপদ ঘটতে পারত। ভাগ্য এবারও তাঁর বিপক্ষে থাকে। কয়েক সেকেন্ড পরই কর্নার কিক নেন ইন্টার মিয়ামির অধিনায়ক; তাঁর বাঁ-পায়ের শট সরাসরি গ্লাভসবন্দী করেন পেদ্রো মার্কেস।
তিন মিনিট পর মেসির বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। মিডফিল্ড থেকে বল আসে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের কাছে। প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার ফ্রেডির সঙ্গে বোঝাপড়া করে ডি-বক্সের দিকে বল বাড়িয়ে দেন মেসি। সেখান থেকে ডান পায়ে নিশানা ভেদ করেন ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের ৪৭ মিনিটে শোধের লক্ষ্য পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফ্রেডি একাই বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। কিন্তু রোমেরো ও নিকোলাস তালিয়াফিকোর বাঁধায় থেমে যান। হাল না ছেড়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে বারের কাছে পৌঁছালেও বিধি বাম—সমতায় ফিরতে পারেনি অ্যাঙ্গোলা।
৮১ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। মেসি বল নিয়ে একাই বক্সে ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে কাটব্যাকে বল দেন লাউতারোকে। লাউতারো আবার পাস ফেরত দেন মেসিকে, আর সেখান থেকেই গোল আদায় করেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তারকা।
৮৬ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। বদলি হিসেবে নামেন পানিচেলি। এর আগে মিনিটখানেক আগেই বদলি করে তোলা হয় ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো মার্তিনেজকে। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটি বছর শেষ করে ২০২৬ সালে পা দেবার প্রস্তুতি সেরে রাখল আর্জেন্টিনা।
No posts available.
১২ মার্চ ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম

পানামার শিল্পী ওয়লদো অরলান্দো। চাকরি হারিয়ে হতাশ এই শিল্পী নিজের শিল্প দিয়েই জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন। তাঁর শিল্পের ছোঁয়া লাগে স্নিকার বা ফুটবল বুটে। অনন্য এই প্রতিভার নৈপুণ্যে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের মতো বড় তারকা ফুটবলারদের বুটে কারুকার্য করার সুযোগ পান তিনি। এবার পানামার এই শিল্পী একজোড়া বিশেষ বুট উপহার দিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকেও।
আল নাসরের হয়ে রোনালদোর সবশেষ ম্যাচটি ছিল আল ফাইহার বিপক্ষে। ৩-১ গোলে জয় পাওয়া ওই ম্যাচে ‘সিআর সেভেন’ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন। তবে ম্যাচ শেষে পর্তুগিজ তারকা ভিন্ন এক স্মৃতিও সঙ্গে করে নিয়ে যান। ম্যাচের পর রোনালদোর হাতে একটি বিশেষ উপহার তুলে দেন পানামার গোলকিপার অরলান্দো মোসকুয়েরা।
মস্কেরার দেওয়া সেই উপহারটি ছিল বিশেষ এক জোড়া বুট, যেখানে রোনালদোর পুরো ক্যারিয়ারের পথচলার প্রতিফলন ফুটে উঠেছে। এই শিল্পকর্মটি তৈরি করেছেন পানামার শিল্পী ওয়লদো অরলান্দো। আল ফেইহার গোলকিপার মোসকুয়েরার মাধ্যমেই বিশেষ উপহারটি পৌঁছে দেওয়া হয় পর্তুগিজ মহাতারকার কাছে। রোনালদোও বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে উপহারটি গ্রহণ করেন এবং সেই বিশেষ বুট জোড়া হাতে নিয়ে ছবি তোলেন।
জবাবে রোনালদো শিল্পীকে পাঠান রোনালদোর পর্তুগাল জাতীয় দলের একটি অটোগ্রাফ করা জার্সি। উপহার পাঠানোর সময় ওয়ালদো সেই জার্সিটিও রোনালদোর কাছে পাঠিয়েছিলেন, আশা করেছিলেন সেটি ‘বিচো’—রোনালদোর ডাকনাম—এর স্বাক্ষরসহ আবার তার কাছে ফিরে আসবে। শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটাই হয়েছে।
নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওয়ালদো রোনালদো এবং ‘কুটি’ মস্কেরাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই বিনিময় সম্ভব করে দেওয়ার জন্য।
এর আগে বুটের মধ্যে নিজের এই শিল্পকর্ম নিয়ে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়ালাদো বলেছিলেন, ‘শিল্পের মাধ্যমে আমি ফুটবল বুট তৈরি করি। আমার সৌভাগ্য হয়েছে, যখন লিওনেল মেসি পানামায় এসেছিলেন, আমি তার বুট পেইন্ট করার সুযোগ পেয়েছি। এছাড়া লুইস সুয়ারেজ, সার্জিও বুসকেটস এবং জর্দি আলবার বুটও আমি পেইন্ট করেছি।’
অরলান্দো আরও জানিয়েছেন, মেসির জন্য পেইন্ট করা বিশেষ সেই বুটে ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার পরের উদযাপন, তার পুরো ক্যারিয়ারে পাওয়া সব ব্যালন ডি’অর এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মেসিকে নিজের পেইন্ট করা বুট দিয়ে অরলান্দো জানিয়েছিলেন পরবর্তী লক্ষ্য রোনালদো। রোনালদোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন পানামের জাতীয় দলের গোলকিপার মসকুয়েরার মাধ্যমে।

চলতি মাসের ৩১ তারিখ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচটি খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে ২৬ মার্চ একটি ফিফা প্রীতি ম্যাচে ভিয়েতনামে আতিথেয়তা নেবে হাভিয়ের কাবরেরার দল। দুটি ম্যাচকে সামনে রেখে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে ১৬ মার্চ, সোমবার থেকে।
এই দুটি ম্যাচের জন্য প্রায় সব খেলোয়াড়কে পাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের বাইরে লিগ খেলা হামজা চৌধুরী ক্যাম্পে যোগ দেবেন না। সরাসরি ভিয়েতনামে আগামী ২২ মার্চ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার। সবশেষ লেস্টার সিটির ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলেছেন হামজা। ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন। অর্থাৎ পুরোপুরি ফিট হামজাকেই পাচ্ছেন কাবরেরা।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সবশেষ এএফসি ম্যাচে কার্ড জটিলতায় খেলতে পারেননি ফাহামিদুল ইসলাম। তবে ইতালির ক্লাবে খেলা এই উইঙ্গার ক্যাম্পে যোগ দিতে সোমবারই ঢাকায় আসছেন। একই দিন ঢাকায় আসবেন আরেক প্রবাসী বাংলাদেশী ফুটবলার তারিক কাজী।
এশিয়ান কাপে ৫ ম্যাচ খেলে ভারতের বিপক্ষে কেবল একটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া দুই ম্যাচে ড্র এবং দুটিতে পরাজয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। শেষ ম্যাচটি জয় দিয়ে রাঙাতে চাইছে বাংলাদেশ। যে কারণে সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে ভিয়েতনামে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
পূর্ণ শক্তির দল গড়তে ডাক পড়েছে কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলা সোমিত সোমের। ১৫ মার্চ ঢাকায় আসছেন তিনি। তারও একদিন আগে আসবেন জায়ান আহমেদ। আজ জাতীয় দল কমিটির সভা শেষে খেলোয়াড়েরা কে কবে আসবেন সেটি জানিয়েছেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু।

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পিএসজির মাঠে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে চেলসি। বুধবার প্যারিসের পার্ক দেস প্রিন্সেসে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনায় চেলসি উইঙ্গার পেদ্রো নেতো। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে মেজাজ হারিয়ে এক বল বয়কে ধাক্কা দিয়ে বসেন পর্তুগিজ তারকা।
ঘটনা ম্যাচের ৯০+১ মিনিটে, তখন ৪-২ ব্যবধানে পিছিয়ে চেলসি। একে তো অন্তিম মুহুর্তে। তার মধ্যে বল দিতে দেরি করছিল বল বয়। মেজাজ হারিয়ে ওই বল বয়কে ধাক্কা দিয়ে বসেন নেতো।
যদিও ভিএআর চেক করার পর কোনো কার্ড দেখানো হয়নি, তবে ম্যাচ শেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ওই বল বয়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চেলতি তারকা বলেন, ‘ওই বল বয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। ম্যাচ হারের হতাশায় দ্রুত বল পাওয়ার তাড়না থেকে আবেগের বশে তাকে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিলাম। আমি আসলে এমন মানুষ নই। ম্যাচের উত্তেজনার এমনটা হয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন
| একজনের অনুরোধে ভারতের কোচের দায়িত্বে গম্ভীর |
|
নেতোর ফরাসি ফরাসি ভাষায় দক্ষতা কম হওয়ায় তার জাতীয় দলের সতীর্থ ও পিএসজি তারকা ভিতিনহা মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসেন। তিনি ওই বল বয়কে বুঝিয়ে বলেন, নেতো আসলে শান্ত স্বভাবের মানুষ।
সেই বল বয়ের কাছে ৩৫ বার ক্ষমা চাওয়ার কথা জানিয়ে নেতো বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সে (বল বয়) হেসেছে। আমি তাকে আমার জার্সি দিয়েছি এবং অন্তত ৩৫ বার 'সরি' বলেছি। সে বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং এখন খুশি।’
চেলসির প্রধান কোচ লিয়াম রোরেনিয়রও এই ঘটনার জন্য ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছেন। বল বয়কে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ইউয়েফা) নেতোর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
চেলসি ও পিএসজির কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামী মঙ্গলবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরতি লেগে। তার আগে শনিবার প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে ব্লুজদের।

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ৯০০তম গোলের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখার অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব। তবে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে সেই অপেক্ষা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ন্যাশভিল এসসি।
আজ ভোরে ন্যাশভিলের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছে বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি। আগামী বুধবার ইন্টার মায়ামির ঘরের মাঠে হবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ফয়সালা।
আরও পড়ুন
| চেলসির বিপক্ষে ৭ গোলের রোমাঞ্চে এগিয়ে গেল পিএসজি |
|
গত শনিবার ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে এমএলএসের লিগ ম্যাচে মায়ামির জার্সিতে ৮০ এবং ক্যারিয়ারের মোট ৮৯৯তম গোল করেছিলেন মেসি। যার মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২, পিএসজির হয়ে ৩২ এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১১৫ আন্তর্জাতিক গোল রয়েছে।
এদিন ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ডি-বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া মেসির ডান পায়ের শটটি দারুণভাবে রুখে দেন ন্যাশভিল গোলকিপার ব্রায়ান শোয়াক। ৯ মিনিট পর ন্যাশভিলকেও হতাশ হতে হয়। ক্রিশ্চিয়ান এস্পিনোজার কর্নার থেকে রিড বেকার-হুইটিংয়ের জোরালো হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন মায়ামির গোলকিপার ডেন সেন্ট ক্লেয়ার। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
প্রথম লেগে গোল না পেলেও মায়ামি তাদের ঘরের মাঠে ফিরতি লেগের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আগামী বুধবার নিজেদের মাঠে জয় পেলেই চ্যাম্পিয়নস কাপের পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নেবে মেসির দল।
তার আগে এমএলএসে শার্লট এফসির বিপক্ষে রোববার ভোরে মাঠে নামবে মায়ামি। সমর্থকদের প্রত্যাশা, সেই ম্যাচেই কাঙ্ক্ষিত ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচের আগে কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহাম ও রদ্রিগোর একসঙ্গে না থাকা নিয়ে আলোচনা হলো বেশ। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে; তবুও অনেকেই পিছিয়ে রাখলেন রিয়াল মাদ্রিদকে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। দাপুটে জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলভারো আরবেলোয়া বলেছেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদকে কখনও বাদ দেওয়া উচিত নয়।’
বুধবার রাতে রিয়ালের সামনে সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি ম্যানচেস্টার সিটি। বেশ কয়েকবার আক্রমণ শানালেও গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ছিলেন অবিশ্বাস্য। খেলা শেষে আরবেলোয়া বলেন, ‘এই ম্যাচে আমরা আমাদের পরিকল্পনা মেনে খেলেছি, সত্যিকারের একটি দল হিসেবে খেলেছি। সিটি হোক বা এলচে, যে কোনো ম্যাচ জিততে হলে এভাবেই দল হয়ে খেলতে হবে।’
রিয়ালের হয়ে এদিন জ্বলে ওঠেন ভালভার্দে, আলেকজান্ডার আর্নোল্ড, ব্রাহিম দিয়াজরা। কোচ আরবেলোয়া বলেন, ‘তারা অসাধারণ মানের ফুটবলার, কিন্তু সবাই যখন একই ধারণা নিয়ে খেলতে পারে, তখন তারা আরও ভালো হয়ে ওঠে। আজ তারা সেটাই করেছে।’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের বাজেট ১২শ কোটি টাকা কমাল ফিফা |
|
প্রত্যেকে নিজেদের অবস্থান থেকে দারুণ খেলেছেন। তবে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ভালভার্দে। তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে আরবেলোয়া বলেন, ‘আমি তাঁর অনেক সময়ই সমালোচনা করি। এতটাই যে কখনও কখনও মনে হয় সে হয়ত আমাকে ঘৃণা করতে শুরু করবে। রিয়াল মাদ্রিদের একজন খেলোয়াড়ের যেমন হওয়া উচিত, সবকিছুই ভালভার্দের মধ্যে আছে। আজকের (গতকাল) রাতে সে আমাকে গর্বিত করেছে। এত ত্যাগের পর এটা তাঁর প্রাপ্য।’
রিয়াল মাদ্রিদকে কখনও বাদ দেওয়া উচিত নয় মন্তব্য করে আরবেলোয়া বলেন, ‘আপনারা হয়ত এতটা আশা করেননি, তাই না? বার্নাব্যু আর খেলোয়াড়রা যেভাবে উপভোগ করেছে তা দেখে আমি খুব খুশি। তারা কঠোর পরিশ্রম করেছে। বাইরে থেকে অনেকেরই মনে ছিল না যে এই দলটির ওপর খুব বেশি ভরসা করা যায়। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। আমরা রিয়াল মাদ্রিদ, আমাদের কখনওই বাদ দেওয়া উচিত নয়।’
আগামি মঙ্গলার রাতে ইতিহাদে দ্বিতীয় লেগের খেলায় ম্যানচেস্টার সিটিকে মোকাবিলা করবে রিয়াল মাদ্রিদ। সেখানেই হবে মীমাংসা, কে যাবে পরের রাউন্ডে। ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও সেই ৯০ মিনিটের সতর্ক বার্তা দিয়েছেন রিয়াল কোচ, ‘আমি সমর্থকদের জন্য খুব খুশি। তারা চ্যাম্পিয়নস লিগে এমন একটা রাত পাওয়ার যোগ্য ছিল। তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি। ম্যানচেস্টারে আমাদের সামনে আরও ৯০ মিনিটের কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। আমরা ম্যাচ বিশ্লেষণ করব এবং দেখব কোথায় সিটি সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু মূল ধারণা একই। প্রথম মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করা এবং বল পেলে গোল করার চেষ্টা করা।’