
ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধানা। ব্যাট হাতে অরেক রেকর্ডেরেই স্বাক্ষী এই ওপেনার। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত এক শতকে রেকর্ড বইয়ের পাতা আবারও ওলট-পালট করলেন মান্ধানা।
নিউ চন্ডিগড়ে অস্ট্রেলিয়া নারী দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১০২ রানের রেকর্ড জয় পায় ভারত। ৫০ ওভারের ক্রিকেট অসি মেয়েদের বিপক্ষে কোনো দলের বড় এটি। আর এই রেকর্ড গড়া জয়ে ৯১ বলে ১১৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন মান্ধানা। ৭৭ বলেই সেঞ্চুরি করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ারে বিপক্ষে কোনো ব্যাটারের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি।
টসে হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৯.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৯২ রান করে ভারত। জবাবে ৪০.৫ ওভারে ১৯০ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। রেকর্ড গড়া এই জয়ে সিরিজেও সমতায় ফেরে হারমানপ্রিত কাউরের দল। তাতে সিরিজের শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে।
ঘরের মাঠে সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের শেষ জয় এসেছিল ২০০৭ সালে। আর সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে তারা হারের তেতো স্বাদ দিয়েছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। এ ছাড়া টানা ১৩ ম্যাচ পর হার দেখল অস্ট্রেলিয়া নারী দল।
মান্ধানার ৯১ বলে ১১৭ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসেই ভর করেই বড় জয়ের ভিত পায় ভারত। ১৪ চার আর ৪টি ছয়ে এই ইনিংস সাজান তিনি। ২৯ বছর বয়সী এই ওপেনারের ইনিংসে মেয়েদের ক্রিকেটে অনেক রেকর্ডই নতুন করে লিখা হলো। দেখে নেওয়া যাক ভারতের সেরা ব্যাটারের রেকর্ডগুলো।
১
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটাই সবচেয়ে দ্রুততম শতক (৭৭ বল) – আগের রেকর্ড ছিল ইংল্যান্ডের ন্যাট স্কিভারের (৭৯ বল, ২০২২ বিশ্বকাপ)।
১
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বাধিক (৩) শতক হাঁকানো একমাত্র এশিয়ান ব্যাটার এখন মান্ধানা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর শতকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫। যা কোনো এশিয়ান নারী ক্রিকেটারের সর্বাধিক।
২
ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। প্রথমটিও অবশ্য মান্ধানারই, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৭০ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি।
৩
ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ১২তম ওয়ানডে শতক পেলেন মান্ধানা। নারী ক্রিকেটে শতকের তালিকায় তিনি যৌথভাবে তিনে আছেন। সুজি বেটস (নিউজিল্যান্ড) ও ট্যামি বোমন্ট (ইংল্যান্ড)-এর রেকর্ড ছুঁয়েছেন তিনি। তিন অঙ্কের জাদুকরি সংখ্যায় তাঁর ওপরে আছেন কেবল মেগ ল্যানিং (১৫) ও বেটস (১৩)।
No posts available.
৭ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম

এশিয়া ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এশিয়া কাপের আদলে টুর্নামেন্ট চালুর উদ্যেগ নিয়েছে আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ)। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আফ্রিকান ক্রিকেটের বাণিজ্যিক প্রসার এবং নিজস্ব তহবিল সংগ্রহ করতে চায় সংস্থাটি।
গত বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের প্রধান তাভেংওয়া মুকুলানিকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার মাধ্যমে এসিএ পুনর্গঠিত হয়। বর্তমানে তারা আর্থিকভাবে লাভজনক বিভিন্ন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে, তবে ২০২৭ সালের আগে এই টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা কম।
আরও পড়ুন
| কথা নয়, কাজে প্রমাণ দিতে চান তামিম |
|
আফ্রিকা কাপের সাফল্যের জন্য মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণকে বাধ্যতামূলক মনে করছে এসিএ। তবে প্রোটিয়াদের ব্যস্ত সূচিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুযায়ী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের দম ফেলার সময় নেই। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) নীতিগতভাবে এই টুর্নামেন্টের পক্ষে থাকলেও, তারা তাদের পূর্ণ শক্তির দল পাঠাতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে নতুন এফটিপির ওপর।
আফ্রিকা কাপ শুরুর আগে চলতি বছর জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের আলোচনা চলছে। ভিক্টোরিয়া ফলসে নবনির্মিত মোসি-ওয়া-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে নামিবিয়ার খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগস্টের এই সিরিজটি ওয়ানডে ফরম্যাটে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিরিজের আয়ের একটি অংশ এসিএ-র তহবিলে জমা হবে, যা প্রস্তাবিত আফ্রিকা কাপের প্রচার হিসেবে কাজ করবে।
গত এক বছরে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সফরের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার আগ্রহ বেড়েছে। ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ার নতুন মাঠে ম্যাচ খেলেছে প্রোটিয়ারা। ১৮ মাস পর যৌথভাবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু তামিম ইকবালের। তিনি এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির প্রধান। মঙ্গলবার আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপরই দায়িত্ব দেওয়া হয় তামিমদের।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপরই সন্ধ্যায় নতুন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর রাতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পরিচালক তামিম।
দায়িত্বপ্রাপ্তির পর তামিম কমিটির প্রধান এবং লক্ষ্য হিসেবে বিসিবির সুনাম ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কথা বলেন। একইসঙ্গে তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয়, সবকিছু নিয়েই কাজ করবেন বলে জানান তিনি। এসময় তামিম আরও জানান, কথা নয়, বরং কাজ করে দেখাতে চায় তার টিম।
বাংলাদেশ দলের সাবেক ওপেনার বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের গর্বের ব্যাপার। বিসিবিতে যারা চাকরি করতেন বা করেন, তারা যখন দেশের বাইরে যান প্রাউডলি বলেন যে, ‘আমি বিসিবিতে চাকরি করি।’ এখন আমি নিশ্চিত না যে, এই কথাটা তারা কি গর্ব করে বলতে পারেন? যে ধরনের কার্যক্রম গত এক-দেড় বছরে হয়েছে। তাই ওই প্রাউডনেসটা আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’
বিসিবির সম্মান ফিরিয়ে আনাতে হলে প্লেয়ারদের সঙ্গে যেমন প্রয়োজন সুসম্পর্ক, তেমনই স্টেকহোল্ডারদেরও সম্মান করা জরুরি বলে মনে করেন তামিম। তার মতে ভুল সবারই হয়। এসব শুধরে এগিয়ে যেতে চায় তার কমিটি।
তামিম বলেন, ‘প্লেয়ারদের সম্মান করতে হবে। স্টেকহোল্ডার যারা আছেন, সবাইকে আমাদের সম্মান করতে হবে। এটাই আমাদের মূল কাজ হবে। আমাদের উই উইল চেঞ্জ ফর বেটারমেন্ট, জাস্ট কথা বলার বলা না। আমরা চেষ্টা করব আমাদের ভুল হবে। আমাদের, আমাদের টিমে যারা আছেন তাদেরও ভুল হবে। ওই ভুল থেকে আমরা শিখব আবার আমরা চেষ্টা করব। এটাই হলো আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
একইদিন সন্ধ্যায় বসে নতুন কমিটির সভা। যেখানে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন কমিটির ছয় সদস্য। বাকি পাঁচজন যোগ দেন অনলাইনে। রাত ৮টায় শুরু হয় বৈঠক। এরপর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন তামিম।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘আজকে আমাদের একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি যেটা মনে করি, যখনই কেউ এরকম দায়িত্ব পান, তখনই ডেভেলপমেন্টের কথা বলেন বা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার টিম এটা অনুভব করে যে, আমাদের প্রথম কাজ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের রেপুটেশন ঠিক করা। গত এক দেড় বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে রেপুটেশন নষ্ট হয়েছে, তা ঠিক করা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ হবে তিন মাস। এরই মধ্য নতুন করে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তামিম ইকবাল জানান, এই তিনমাসের মধ্যে একটি ফ্রি এন্ড ফেয়ার ইলেকশনে হেল্প করাই হবে তাদের কাজ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা দায়িত্ব দিয়ে আনা হয়েছে যে, তিন মাসের মধ্যে ফ্রি এন্ড ফেয়ার ইলেকশনে সাহায্য করা। আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যতটা দ্রুতভাবে এই জিনিসটা করতে পারি, তা করব। সে সাথে অবশ্যই আমরা ডে টু ডে অ্যাক্টিভিটিজের মধ্যে যা যা হয়েছে, বিশ্বকাপ ইস্যু আছে, সবকিছু নিয়েই আমাদের যা সঠিক কাজ করা দরকার, তাই করব আমরা।’
নতুন অ্যাডহক কমিটির কাজ সুন্দরভাবে করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সাহায্য কামনা করেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু সিদ্ধান্ত আজকে আমরা নিয়েছি ক্রিকেট বোর্ডের মিটিংয়ে। যেটার মধ্যে একটা যেটাতে আপনাদের সাহায্য সবচেয়ে বেশি দরকার। আমি মনে করি আর আপনারাও এই জিনিসটা বলেন যে, আপনারা অনেক বড় স্টেকহোল্ডারস। আমি এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে জার্নালিস্ট আর এ ভেরি বিগ স্টেকহোল্ডার। তো এই যে সিদ্ধান্তটা আমরা নিয়েছি এই সিদ্ধান্ততে আপনাদেরকেও একটু জিনিসটা মেইনটেইন করতে হবে।
আমরা লাস্ট অনেক বোর্ডে দেখেছি যে, বিভিন্ন বোর্ড ডিরেক্টর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সময় ইন্টারভিউ বা বিভিন্ন সময় অনেক কিছু বলেছেন। আমরা এই জায়গা থেকে সরে এসে একজন স্পোকসপারসন ঠিক করেছি। এনিথিং টু ডু উইথ দ্য বোর্ড, এনিথিং টু ডু উইথ দা বোর্ড প্লিজ কন্টাক্ট হিম। ওটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওটা তানজিল ( তানজিল চৌধুরী) ভাই হবেন।’
‘তাই আপনারা এই জিনিসটা একটু মেইনটেইন করবেন। তাহলে আমাদের জন্য কাজ করাটা সহজ হয়ে যাবে। আপনারা যদি ধরেন আমাকে পাইলেন বা আরেকজনকে পাইলে একটা প্রশ্ন করে ফেললেন, তাহলে এই ইউনিটিটা আমাদের ব্রেক হবে।
যেহেতু আপনারা আমাদের পরিবারের একজন সদস্যই, তো এই জিনিসটা আপনাদেরকে মেইনটেইন করতে হবে যে ক্রিকেট বোর্ড রিলেটেড বা কোন সিদ্ধান্ত যদি আমরা নিয়ে থাকি, এটা তানজিল ভাই এসে এটা আপনাদেরকে টাইম টু টাইম যখন দরকার মনে হবে তখন আপনাদেরকে জানাবেন।’ -যোগ করেন তামিম।

স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) পরিচালিত হয়েছে অ্যাডহক বা অস্থায়ী কমিটি দিয়ে। ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গণতান্ত্রিকভাবে বোর্ড পরিচালনা শুরু করে। ২০০১, ২০০৫, ২০০৮, ২০১৩, ২০১৭, ২০২১ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৯৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিসিবির কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন হয়েছে সভাপতি পদ বাদ দিয়ে। সরকার মনোনীত সভাপতিই ১৯৭২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনায় দিয়েছেন নেতৃত্ব। ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবারই সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সভাপতি পদে পরিবর্তন এসেছে। ২০১২ সালের অক্টোবরে আইসিসির সহ সভাপতি পদে ( পরবর্তীতে আইসিসির সভাপতি) বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আ.হ.ম মোস্তফা কামাল নির্বাচিত হলে তার স্থলে নাজমুল হাসান পাপনকে বিসিবির সভাপতি পদে নিযুক্ত করে ক্রীড়া মন্ত্রানালয়। দায়িত্ব গ্রহনের ঠিক এক বছর পর অর্থাৎ ২০১৩ সালের অক্টোবরে সভাপতি পদে নির্বাচনের বিধান যুক্ত করে পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করেন তিনি। সেই থেকে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে বিসিবির সভাপতি নির্বাচনের ধারা প্রচলিত আছে।
নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদ গঠিত হওয়ার রেওয়াজে বেশ ক'দফায় বাধা এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের (১৯৯৬-২০০১) শেষ দিকে ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিসিবিবর পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনের ১৮ মাস পর ভেঙ্গে দেয়া হয় সেই নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ। কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে পরিচালনা পরিষদে বিসিবির গঠণতন্ত্রের সংশোধনীতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, এই অভিযোগে বিসিবির পরিচালনা পরিষদ কেনো অবৈধ হবে না, বিসিবির কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবুর এই রিট মামলার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত রুল জারি করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। ২০০২ সালের ১১ আগষ্ট বিসিবির পরিচালনা পরিষদের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।
বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আলী আসগর লবি এমপিকে বিসিবি পরিচালনায় একক ক্ষমতা দিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার আদেশ দেয় আদালত। তবে এই সময়ের মধ্যে বিসিবির নিয়মিত কমকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি গঠণতন্ত্র সংশোধন করা কঠিন হয়ে পড়ায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন নিয়ে ১০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আলী আসগর লবি। গঠণতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন দিতে অপেক্ষার প্রহর বাড়তে বাড়তে লেগে যায় ৩ বছর।
৪ বছরের জন্য নির্বাচিত ২০০৫ সালে বিসিবির নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ ২ বছরের মাথায় ভেঙ্গে যায়। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গণ পদত্যাগে বাধ্য করে বিসিবির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের। কার্যনির্বাহী কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে লে. জে. সিনা ইবনে জামালীকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। সেই উপদেষ্টা কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার শর্ত জুড়ে দিয়েছিল এনএসসি। তবে বিসিবির গঠণতন্ত্রে ব্যাপক সংশোধনী এনে নির্বাচন আয়োজনে সিনা ইবনে জামালীর নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের লেগে যায় ১৬ মাস। ২০০৮ সালের নভেম্বরে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনের পর সেই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ন হলে ২০১২ সালের নভেম্বরে নাজমুল হাসান পাপনকে সভাপতি পদে বহাল রেখে নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে এনএসসি গঠন করে অ্যাডহক কমিটি। সেই কমিটিও ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে পারেনি। সময় নিয়েছে এক বছর। গঠণতন্ত্রে সংশোধনী এনে সভাপতি পদে নির্বাচনের বিধান রেখে ২০১৩ সালের অক্টোবরে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করেছে। উপর্যুপরি ৩টি নির্বাচনে ( ২০১৩, ২০১৭ এবং ২০২১) প্রথমে পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছেন, পরবর্তীতে পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন।
তবে জুলাই বিপ্লবে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত হলে সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ বিসিবির অধিকাংশ পরিচালক দেশত্যাগ করলেও বিসিবির পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দেয়নি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ২৫ সদস্যের পরিচালনা পরিষদে অনুপস্থিত পরিচালকদের শুণ্যপদে নির্বাচনও দেয়নি এনএসসি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোটায় সরাসরি নির্বাচিত ২ পরিচালকের একজনকে ( জালাল ইউনুস) জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়, অন্য আর এক পরিচালককে ( আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি) গঠণতন্ত্র বর্হিভুতভাবে কাউন্সিলর এবং পরিচালক পদ শুণ্য করে এই দুটি পদে ফারুক আহমেদ এবং নাজমুল আবেদিন ফাহিমকে প্রথমে এনএসসির কাউন্সিলর এবং পরবর্তীতে পরিচালনা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের ২১ আগষ্ট ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ে অনুষ্ঠিত সেই সভাতেই পরিচালকদের কণ্ঠভোটে ফারুক আহমেদকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সেই থেকে বিসিবির সভাপতির চেয়ারটি হয়ে পড়েছে মিউজিক্যাল চেয়ার।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় বিসিবির ৮ পরিচালকের স্বাক্ষরে ফারুক আহমেদকে অপসারিত করে তার স্থলে পুনরায় গঠণতন্ত্র লংঘন করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে প্রথমে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোটায় কাউন্সিলর, পরবর্তীতে পরিচালক এবং সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি পদে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি ফারুক আহমেদ। ৯ মাস পর থামিয়ে দেয়া হয়েছে তাকে। তবে আইসিসির ডেভেলপম্যান্ট ম্যানেজারের চাকরি ছেড়ে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ৫পর নির্বাচন দিয়ে সেই নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে ৬ মাসে থেমে গেল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কার্যক্রম।
বিসিবি নির্বাচনে এনএসসির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি বলে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন তদন্ত কমিটি প্রধান সুপ্রীম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। তবে ৩৪ পৃষ্টার সেই রিপোর্ট বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে সব ক্যাটাগরির নির্বাচনেই অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের কমিটি, মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
বিসিবির নির্বাচনে কাউন্সিলর মনোনয়নে গঠণতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করবে এই অ্যাডহক কমিটি।
তবে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সুপারিশমালায় গঠণতন্ত্র ব্যাপকভাবে সংশোধনের কথা বলা আছে। ফলে এই সুপারিশকে গুরুত্ব দিলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা কতোটা সম্ভব, তা সময়ই বলে দিবে। কারণ, ইতোপূর্বে কখনোই অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ হয়নি। অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা নির্বাচন করতে পারবেন কি না, মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্নের কোনো পরিষ্কার উত্তর দেননি এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। কারণ, ২০০৫, ২০০৮ এবং ২০১৩ সালে বিসিবির নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন অ্যাডহক কমিটির অধিকাংশ সদস্য, এবং তাদের অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। গঠণতন্ত্রেও এ ব্যাপারে সুনিদ্দিষ্ট কোনো বিধি নেই। অর্থাৎ চাইলেই তামিম কেনো, অ্যাডহক কমিটির সকল সদস্য বিসিবির পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

পিএসএলের মাঝপথে স্বল্প বিরতিতে দেশে ফিরেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। এরমধ্যেই জড়ালেন বিতর্কে—অস্ট্রেলিয়ায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে সিডনিতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন করাচি কিংসের অধিনায়ক।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, রক্তে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যালকোহল নিয়ে গাড়ি চালানোর অপরাধে ওয়ার্নারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউজ ডট কম এইউ¬—এর প্রতিবেদন, একটি সাধারণ নিঃশ্বাস পরীক্ষার জন্য ওয়ার্নারের গাড়ি থামানো হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার তার গাড়ি পার্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি তখনও গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে ব্রেথলাইজার টেস্ট দিতে বাধ্য করে।
আরও পড়ুন
| তামিমকে প্রধান করে বিসিবির নতুন এডহক কমিটি |
|
পরে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ওয়ার্নার মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে মারুব্রা পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়, যেখানে ওয়ার্নারের রিডিং ছিল ০.১০৪—যা নিউ সাউথ ওয়েলসে নির্ধারিত আইনি সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং আগামী মাসে তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে বড় অঙ্কের জরিমানা, ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল এমনকি জেল পর্যন্ত হতে পারে সাবেক অজি ক্রিকেটারের।
ওয়ার্নারের আইনি জটিলতা করাচি কিংসের জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত সময়ে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনারের নেতৃত্বেই দলটি চলতি পিএসএলে দারুণ পারফর্ম করছে, টানা তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এখনো সমান সক্রিয় ওয়ার্নার। পিএসএলের দ্বিতীয় পর্বের জন্য আগামী ৯ এপ্রিল তার করাচিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে এই ঘটনার পর তার পাকিস্তান সফর বা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাকে শাস্তিমূলক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত তিনি পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকছেন। এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়ার্নারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।