২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য সোমবার রাতে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্কোয়াডে জায়গা পাননি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা চেলসি ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোসহ বেশ কয়েকজন তারকা। দল নির্বাচন কতটা কঠিন ছিল তা অকপটে স্বীকার করেছেন সেলেসাওদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
চলতি মৌসুমে চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ১৫ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট করেছেন পেদ্রো। ওপেন প্লে গোলদাতা তালিকায় আর্লিং হালান্ডের পরই ছিলেন ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়নস লিগেও ৩ গোল করেছেন পেদ্রো।
কিন্তু আনচেলত্তি তাঁর বদলে ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো কিংবা বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ানকে বেছে নিয়েছেন। থিয়াগো চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ২২ গোল করেছেন, আর রায়ান করেছেন ৫ গোল।
পেদ্রোর সঙ্গে বাদ পড়েছেন তাঁর ক্লাব সতীর্থ আন্দ্রে সান্তোসও। সবশেষ মার্চে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও মাঠে ছিলেন এই মিডফিল্ডার। তাদের বাদ পড়া নিয়ে দল ঘোষণার সময় আনচেলত্তি বলেন, ‘সত্যি বলতে, যারা এই স্কোয়াডে জায়গা পায়নি, তাদের জন্য আমার খুবই খারাপ লাগছে। এটি আমাকে সত্যিই ভাবায় ও দুঃখ দেয়... যেমন আন্দ্রে সান্তোস ও জোয়াও পেদ্রো। তবে ভবিষ্যতে তারা অবশ্যই আরও সুযোগ পাবে।‘
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৩ গোল) রিচার্লিসন এবার বাদ পড়েছেন। চলতি মৌসুমে ১০ গোল করলেও ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের চেয়ে তরুণদের ওপরই বেশি ভরসা রেখেছেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।
দল ঘোষণার আগে চাউর হয়েছিল থিয়াগো সিলভা থাকছেন ব্রাজিল দলে। তবে এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারও জায়গা পাননি আনচেলত্তির চূড়ান্ত স্কোয়াডে।
ব্রাজিলের মতো ফুটবল পরাশক্তির ২৬ জন খেলোয়াড় বেছে নেওয়া কতটা জটিল কাজ, তা মনে করিয়ে দিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘এই ২৬ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। কেন? কারণ এই দেশে ফুটবলারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্তরটা অনেক উঁচুতে। আমি জানি, যারা এই বছর আমাদের সাথে থেকেও চূড়ান্ত দলে জায়গা পায়নি, তারা স্বাভাবিকভাবেই অসন্তোষ প্রকাশ করবে বা অখুশি হবে।‘
তবে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে খুশির খবর হয়ে এসেছে নেইমার জুনিয়রের দলে জায়গা পাওয়া। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
আক্রমণভাগে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ তারকার পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিউস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি এবং তরুণ সেনসেশন এন্ড্রিক ও রায়ানের মতো উইঙ্গারদের নিয়ে দল সাজিয়েছেন আনচেলত্তি।
১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’ রয়েছে ব্রাজিল। ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশনে নামবে তারা। ২০ জুন হাইতি ও ২৪ জুন গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
No posts available.
১৯ মে ২০২৬, ৬:০৬ পিএম
১৯ মে ২০২৬, ৪:৪০ পিএম

১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে ফেরা অস্ট্রিয়ার বর্তমান ছন্দ বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের প্রতিপক্ষ বড় হুঁশিয়ারিই বটে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারে ইউরোপের দলটি। ইউরোপীয় ফুটবলের কয়েক দশকের বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রালফ রাংনিক ২০২২ সাল থেকে অস্ট্রিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন সাশা কালাইজিচ। একের পর এক গুরুতর চোটেও জর্জরিত ক্যারিয়ারে লড়াকু মানসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ২৮ বছর বয়সী এই দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার। মৌসুমের ঠিক শেষ ভাগে, যখন ক্লাব ল্যাস্কের তাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই নিজের চেনা ফর্ম আর ধার খুঁজে পান কালাইজিচ।
গত রবিবারের ম্যাচে অস্ট্রিয়া ভিয়েনাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে যখন সাশা কালাইজিচ অস্ট্রিয়ান বুন্দেসলিগার ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরলেন, তখন তাঁর মুখে ছিল চওড়া হাসি। আর এমনটা হওয়াটাই তো স্বাভাবিক, শেষ ১০ ম্যাচে ১৩টি গোলে অবদান রেখে লিনৎস-ভিত্তিক এই ক্লাবটির ঐতিহাসিক ‘ডাবল’ জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন কালাইজিচ। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ ৬১ বছর পর ক্লাবের প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের স্বাদ।
এই উদযাপনের আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়ে, ভিএফবি স্টুটগার্ট ও আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের সাবেক তারকা ফুটবলার কালাইজিচ জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের অস্ট্রিয়ার চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে। বিশ্বমঞ্চের লড়াই মাঠে গড়ানোর আগে ফিফার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় কালাইজিচ কথা বলেছেন তাঁদের জাতীয় দলের শক্তি, কোচ রালফ রাংনিকের দেওয়া কিছু মূল্যবান পরামর্শ সহ নানান বিষয় নিয়ে।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার শক্তির জায়গা নিয়ে কালাইজিচ বলেন,
‘আমার মনে হয় আমাদের এই দলের যে শক্তি, তাতে যেকোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতেই আমাদের ভয় পাওয়া বা পিছিয়ে আসা উচিত নয়। এই দলটিতে অবিশ্বাস্য রকমের কিছু ব্যক্তিগত প্রতিভা রয়েছে, তবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের একতাবদ্ধতা ও দলীয় সংহতি। পাশাপাশি মাঠে আমাদের লড়াকু মানসিকতা এবং খেলার তীব্র ইনটেনসিটি। অস্ট্রিয়া মূলত অত্যন্ত গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এবং এই স্টাইলে খেলার জন্য আমাদের দলে একদম পারফেক্ট কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। আপনি যখন মাঠে ওই মাত্রার তীব্রতা নিয়ে খেলবেন, তখন যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ম্যাচটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আর আমরা আসলেই একে অপরের খুব কাছাকাছি—কোচ, স্টাফ থেকে শুরু করে সমর্থক, অর্থাৎ পুরো দেশটাই এখন এক সুতোয় বাঁধা।’
বিশ্বকাপে এমন কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় বা প্রতিপক্ষ কি আছে, যার মুখোমুখি হওয়ার জন্য কালাইজিচ মুখিয়ে আছেন? অস্ট্রিয়ার এই স্ট্রাইকার বললেন আর্জেন্টিনার নিকোলাস গঞ্জালেসের কথা। এছাড়া এ তালিকায় আছেন আলজেরিয়ারও একাধিক তারকাও,
‘অতীতে যাদের সঙ্গে খেলেছি, মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে তাদের মুখোমুখি হতে আমার সবসময়ই খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার নিকোলাস গঞ্জালেসের কথা আলাদাভাবে বলতে হয়। সে এমন কয়েকজন খেলোয়াড়ের একজন, যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এছাড়া আলজেরিয়া স্কোয়াডেও এমন কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যাদের সঙ্গে আমার উলভস এবং ফ্রাঙ্কফুর্টে খেলার সুবাদে চেনা-জানা আছে। তাই তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি তর সইছে না। তবে সত্যি বলতে, আমি পুরো বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাটা পাওয়ার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এটি একটি বিশাল বড় মহাযজ্ঞ। আমার মনে হয় একজন ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারে আপনি সর্বোচ্চ যা অর্জন করতে পারেন, এটিই হলো সেই শীর্ষবিন্দু।’
বিশ্বমঞ্চে অস্ট্রিয়ার এই গর্জন যে কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পুরো দেশের একতাবদ্ধতার ফল, তা কালাইজিচের এই কথাতেই স্পষ্ট,
‘পুরো দেশ যেন এখন একটা ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট, আর দলের ছেলেরা সত্যিই অবিশ্বাস্য একটা কাজ করেছে। তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে, যা অস্ট্রিয়ার ফুটবলে অনেক লম্বা সময় ধরে ঘটেনি। আপনি এখন পুরো দেশজুড়ে এক ধরনের উন্মাদনা ও আনন্দের জোয়ার (ইউফোরিয়া) টের পাবেন; আর অস্ট্রিয়াকে এই বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমরা প্রত্যেকেই ভীষণ গর্বিত।’
অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৭ জুন জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২২ জুন আর্লিংটনে তাদের প্রতিপক্ষ তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ‘জে’ গ্রুপের নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে আলজেরিয়ার। এরআগে গা ঝালাই করতে তিউনিসিয়া ও গুয়েতেমালার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা।

২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন পেপ গার্দিওলা। ক্লাবের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতির এই বিচ্ছেদের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ম্যানসিটি। ইতিহাদের ক্লাব ইতোমধ্যে নতুন ম্যানেজার হিসেবে এনজো মারেস্কার সঙ্গে কথা এগিয়ে রেখেছে।
গণমাধ্যমের দাবি, ম্যান সিটির পরবর্তী ম্যানেজার হতে যাচ্ছেন মারেস্কা। ইতালিয়ান কোচের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি সারতে যাচ্ছে সিটি। যদিও টানা ১০টি মৌসুম কাটানোর পর গার্দিওলার সম্ভাব্য বিদায়ের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গার্দিওলার জায়গায় মারেস্কার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার অর্থ—ম্যান সিটিতে এমন একজন কোচের আগমন ঘটছে, যিনি হয়তো ততটা হাই-প্রোফাইল বা বিশ্বখ্যাত নন। তবে ক্লাবের ফুটবল দর্শন ও রণকৌশল সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই অবগত। লেস্টার সিটিকে প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে আনা এবং এরপর চেলসির হয়ে কনফারেন্স লিগ ও ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জেতা মারেস্কা মূলত গার্দিওলারই অন্যতম শিষ্য।
মারেস্কা কোচ হিসেবে মূল দায়িত্ব নেওয়ার আগে ম্যান সিটিতে গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি ঠিক মিকেল আরতেতার দেখানো পথই অনুসরণ করছেন। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটির কোচিং স্টাফ হিসেবে সফল সময় কাটানোর পর মিকেল আরতেতা এখন আর্সেনালকে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের সাফল্যের একদম দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন।
দশ বছর আগে ম্যান সিটিতে আসার আগে গার্দিওলা বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে যে আকাশচুম্বী খ্যাতি ও এলিট লেভেলের সাফল্যের ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে এসেছিলেন, মারেস্কার ক্ষেত্রে তেমনটা থাকবে না। তাই তার এই নিয়োগে নিঃসন্দেহে কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন এক লিগ্যাসি বা ঐতিহ্যকে টেনে নেওয়ার গুরুদায়িত্ব এখন মারেস্কার কাঁধে, যা ২০২৪ সালের জুনে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মাউরিসিও পচেত্তিনোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার চেয়েও কঠিন। তাছাড়া মারেস্কা কিছুটা ক্ষ্যাপাটে স্বভাবেরও। যার প্রমাণ মেলে গত জানুয়ারিতে ক্লাবের নীতিনির্ধারকদের সাথে ঝামেলার পর চেলসি ছাড়ার ঘটনায়।
সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চেলসিতে তার সময়টাকে সফল হিসেবেই ধরা হয়। তবে বল পজিশন বা বল দখলে রেখে খেলার যে কৌশল তিনি খাটাতেন, তা সব সময় চেলসি সমর্থকদের মন জয় করতে পারেনি। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজের দায়িত্ব পালনকালে মারেস্কা চেলসির হয়ে মোট ৯২টি ম্যাচে কোচের ভূমিকা পালন করেছেন। যেখানে তিনি ক্লাবটিকে ইউয়েফা কনফারেন্স লিগ এবং গত গ্রীষ্মের ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের শিরোপা জিতিয়েছেন।

চলতি মৌসুম শেষেই নাপোলির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন আন্তোনিও কন্তে। দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই স্তাদিও দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি শেষ করতে যাচ্ছেন তিনি। সাবেক চেলসি ও জুভেন্টাস কোচের পরবর্তী লক্ষ্য ইতালি ফুটবল দল। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালি কোয়ালিফাই করতে না পারায় আজ্জুরিদের পুনর্গঠনে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলের ডাগআউটে বসতে চান কন্তে।
ইতালির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা গাজেত্তা দেললো স্পোর্ত ও কোরিয়েরে দেললো স্পোর্তের প্রতিবেদন, মৌসুম শেষেই নাপোলি ও কন্তের পথ আলাদা হয়ে যাচ্ছে। গত এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ক্লাব সভাপতি অরেলিও দে লাউরেন্তিসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পিসাকে হারিয়ে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা নিশ্চিত করার পরও চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন কন্তে। নাপোলির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
চুক্তির দীর্ঘ সময় বাকি থাকলেও পর্দার আড়ালে ইতিমধ্যেই বিদায়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কন্তে যদি ক্লাব ছাড়েন, তবে তা কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ ছাড়াই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে হবে। এর ফলে প্রিমিয়ার লিগ ও সিরি-আ জয়ী এই মাস্টারমাইন্ড কোনো আইনি বা আর্থিক জটিলতা ছাড়াই নাপোলি ছাড়তে পারবেন।
কন্তের বিদায়ের গুঞ্জনে নাপোলির পরবর্তী কোচ কে হচ্ছেন, তা নিয়ে ইতালিয়ান ফুটবলে আলোচনা জমে উঠেছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মাউরিসিও সারি এবং মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি। তবে দুজনেই নিজ নিজ ক্লাবে কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এসি মিলানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে দূরত্বের কারণে আলেগ্রির অবস্থান সেখানে নড়বড়ে। অন্যদিকে লাৎসিও সভাপতি ক্লাউদিও লতিতোর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না সারির।
রোমা ডার্বিতে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সারি বলেন, ‘আগে শেষ ম্যাচটি খেলি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আমাকে এখনো কিছু জানায়নি। এবারের মৌসুমের পরিস্থিতি আমার মোটেও ভালো লাগেনি, আমার কোনো কথাই শোনা হয়নি। আমি খুব একটা সুখী নই, হয়তো ক্লাবও আমার ওপর খুশি নয়। লিগ শেষ হোক, দেখি তারা কী বলে।’
আগামী ২২ জুন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচনের পর আবারও ইতালির দায়িত্ব নিতে মুখিয়ে আছেন আন্তোনিও কন্তে। এর আগে দলটির হয়ে ২৪ ম্যাচে ১৪টি জয় নিয়ে দারুণ এক রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। কন্তের এই আকস্মিক বিদায়ের সিদ্ধান্তের কারণে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের আগে নাপোলি যেমন নতুন সংকটে পড়ল, তেমনি ইতালিয়ান ফুটবল দলও পেতে যাচ্ছে নতুন এক দিকনির্দেশনা।

জাতীয় দলে দীর্ঘ বিরতি, ফিটনেস বিতর্ক আর সান্তোসের সাম্প্রতিক ছন্দ—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্রাজিলের স্কোয়াডে নেইমারের থাকা না-থাকা নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যখন তাঁর নাম ঘোষণা করা হলো, সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি তখন ভালো করেই জানতেন অবধারিতভাবেই উঠবে একঝাঁক প্রশ্ন।
নেইমারকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা সব সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ কোচ আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড নেইমারের দুর্দান্ত শারীরিক প্রত্যাবর্তন এবং দলে তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তাকে যেমন অকপটে স্বীকার করেছেন, ঠিক তেমনই আবার শুরুর একাদশে নেইমারের জায়গার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দিতে সাফ নিষেধ করে দিয়েছেন।
রিও ডি জেনিরোতে ব্রাজিলের অফিসিয়াল ২৬ সদস্যের দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় এবং এই বিশ্বকাপেও সে দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখবে। তবে স্কোয়াডের বাকি ২৫ জন খেলোয়াড়ের মতো একই নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা তার জন্যও প্রযোজ্য হবে। সে মাঠে খেলতেও পারে, আবার নাও খেলতে পারে। এমনকি এমনও হতে পারে যে সে ম্যাচ শুরু করবে বেঞ্চে বসে এবং পরে বদলি হিসেবে মাঠে নামবে।’
নতুন পজিশন ও ড্রেসিংরুমের নেতৃত্ব
‘কার্লেত্তো’ (আনচেলত্তি) উল্লেখ করেছেন, সান্তোসের হয়ে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে নেইমার তাঁর চেনা ছন্দ এবং ধারাবাহিকতা বেশ ভালোভাবেই ফিরে পেয়েছেন। বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে এই ইতালিয়ান বস ইঙ্গিত দিয়েছেন, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে এবার বার্সেলোনা ও পিএসজির এই সাবেক তারকাকে মাঠের একটু মাঝপ্রান্তে, অর্থাৎ 'সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং' রোলে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন।
কেবল ট্যাকটিক্যাল ফিটনেসই নয়, আনচেলত্তি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন নেইমারের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ড্রেসিংরুমে তাঁর ইতিবাচক প্রভাবের ওপর। কোচ আরও যোগ করেন, ‘দলের সবাই তাকে ভীষণ ভালোবাসে। ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা চমৎকার ও প্রাণবন্ত করে তুলতে সে দারুণ সাহায্য করতে পারে এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভেতর থেকে তাদের সেরা সংস্করণটা বের করে আনতে ভূমিকা রাখবে।’
এটি হতে যাচ্ছে নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ, আর স্কোয়াডে তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি পুরো ফুটবল বিশ্বকেই বেশ বড় একটা ঝাঁকুনি দিয়েছে। কারণ, বছরখানেক আগে আনচেলত্তি ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ যাবৎ কখনোই এই ফরোয়ার্ডকে দলে ডাকেননি। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে সেলেসাওদের সেই চেনা 'হলুদ-সবুজ' জার্সিতে আর মাঠেই নামা হয়নি নেইমারের।
সেলেসাও শিবিরে নেই ‘ফ্রি পাস’
নেইমারকে নিয়ে চারদিকে যতই মাতামাতি হোক না কেন, মাঠে খেলার সময়ের (প্লেয়িং টাইম) ব্যাপারে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক গুরু আনচেলত্তি।
বেশ কড়া সুরেই আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি একদম পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং সততার সঙ্গে বলতে চাই: সে যদি মাঠে নামার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, তবেই খেলবে।’ কোচ অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর মাথায় একটি আদর্শ ট্যাকটিক্যাল ছক থাকলেও, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নামার আগে প্রতিটি খেলোয়াড়ের শারীরিক কন্ডিশন অত্যন্ত কঠোরভাবে মূল্যায়ন করবেন তিনি।
দলের মানসিকতা স্পষ্ট করে আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, ‘বাকি সবার মতো নেইমারের ভূমিকাও এক—দলের জয়ে অবদান রাখা। আমরা সব প্রত্যাশার বোঝা একা কোনো খেলোয়াড়ের কাঁধে চাপিয়ে দিতে পারি না। এই দলের সম্মিলিত শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে উজার করে দিতে হবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানোর জন্য। আমার দলে কোনো ‘সুপারস্টার’ চাই না; আমার এমন খেলোয়াড় চাই যারা দলকে ম্যাচ জেতাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
‘হেক্সা মিশনে’ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলবে সেলেসাওরা। আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘গ্রুপ সি’তে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ব্রাজিল। এরপর ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়াতে হাইতির মুখোমুখি হবে তারা, এবং সবশেষে ২৪ জুন মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে তাদের প্রথম পর্বের লড়াই।

চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, দলগুলোর কোচেরাও নিজেদের শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনা সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও ব্যতিক্রম নন। তবে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে এবার একটু ভিন্ন ও বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন আলবিসেলেস্তেদের এই মাস্টারমাইন্ড।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত স্কোয়াডে সর্বোচ্চ ২৬ জন খেলোয়াড় রাখা যাবে। তবে স্কালোনির পরিকল্পনা হলো, চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার আগে তিনি ২৬ জনের অধিক ফুটবলারকে ডাকবেন। মে মাসের শেষ সপ্তাহে আর্জেন্টিনার এজেইজায় দলের একটি অংশকে নিয়ে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হবে। তারপর পুরো দল চলে যাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল প্রস্তুতি ক্যাম্পে।
মূলত চোটের কবলে পড়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই স্কালোনি এই বাড়তি খেলোয়াড় ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে নিকো গনজালেস এবং জোয়াকিন কোরেয়া চোটের কারণে শেষ সময়ে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। তখন ছুটি কাটিয়ে অবকাশ যাপনে থাকা আনহেল কোরেয়া এবং থিয়াগো আলমাদাকে জরুরি ভিত্তিতে দোহায় ডেকে পাঠাতে হয়েছিল। এবার আর সেই ঝুঁকির পুনরাবৃত্তি চান না আর্জেন্টাইন কোচ। ইতিপূর্বে বিশ্বকাপের জন্য ৫৫ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা দল।
আরও পড়ুন
| ‘যদি লাথি দিয়ে বের করে না দেয়, আমি ইন্টারেই থাকছি’ |
|
চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে স্কালোনির এই বাড়তি খেলোয়াড় ডাকার ভাবনায় কপাল খুলে যেতে পারে বেশ কয়েকজন নতুন বা অনূমিত ফুটবলারের। বিশেষ করে উইঙ্গার পজিশনে শক্তি বাড়াতে কোচ দুজনকে নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন। তাঁরা হলেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া এবং মাতিয়াস সোলে। ৫৫ জনের তালিকায় এই দুজনের নাম বেশ ভালোভাবেই রয়েছে।
ইউরোপা লিগের ফাইনালে ওঠা অ্যাস্টন ভিলার উইঙ্গার বুয়েন্দিয়া সবশেষ ২০১৫ সালের নভেম্বরে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ম্যাচে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন। রোমার ফরোয়ার্ড সোলে এর আগে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে এখনও তাঁর অভিষেক হয়নি। ফলে মূল স্কোয়াডে এদের অন্তর্ভুক্তি বড় চমক হিসেবেই দেখা হবে।
মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা দল। আগামী ৬ জুন টেক্সাসের কাইল ফিল্ডে আলবিসেলেস্তেরা মুখোমুখি হবে হন্ডুরাসের। ৯ জুন আলাবামার জর্ডান হেয়ার স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ড।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ২০২৬ বিশ্বকাপের। আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হবে মেগা ফাইনাল।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে ‘জে’ গ্রুপে। যেখানে লিওনেল মেসির দলের বাকি তিন প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। ১৬ জুন কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা।