
মৌসুমে অস্থিরতার পর নতুন করে স্বপ্ন দেখছে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড। শুক্রবার রাতে উলভারহাম্পটন ওয়ান্ডার্সকে ৪-০ গোলে হারানোর পর নতুন আশায় লন্ডনের ক্লাবটি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজেদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ও এটি। কোনো অন্ধকার সুড়ঙ্গ দিয়ে হাঁটার পর এই জয়েই যেন তারা খুঁজে পেল আলোর মুখ। দারুণ এই জয় রেলিগেশন জোন থেকে তুলে এনেছে নুনো সান্তোর দলকে। সেই সঙ্গে বিপদমুখে তারা ঠেলে দিয়েছে লন্ডনের আরেক ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারকে।
অবনমন অঞ্চলে (উপরের দিক থেকে) তৃতীয় দলটি এই মুহূর্তে টটেনহ্যাম। ৩১ খেলায় তাদের পয়েন্ট ৩০। টেবিলের ১৮-তে অবস্থান স্পার্সদের। ওয়েস্ট হ্যামের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা টটেনহ্যাম আজ মোকাবিলা করবে সান্ডারল্যান্ডকে। ৪৩ পয়েন্ট পাওয়া সান্ডারল্যান্ড সম্প্রতি হারিয়েছে লিডস ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে। ৩২ পয়েন্ট নিয়ে স্পার্সদের ঠিক উপরে অবস্থান ওয়েস্ট হ্যামের।
রেলিগেশন এড়ানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ বার্নলি (১৯তম) ও উলভসের (২০তম)। তবে তৃতীয় অবনমন হওয়া দলটির তালিকায় না থাকার লড়াইটা এখন চার দলের (ওয়েস্ট হ্যাম, টটেনহ্যাম, লিডস ও নটিংহ্যাম) মধ্যে। আর এই চার দলের পয়েন্টের ব্যবধান স্রেফ ৩। ওয়েস্ট হ্যাম কোচ নুনো সান্তো গতরাতের ম্যাচটি উপভোগ করেছেন। রেলিগেশন এড়ানোর লড়াইয়ে এটি দারুণ পদক্ষেপ স্বীকার করলেও ‘এখনও অনেক কাজ বাকি’বলে মনে করেন তিনি। স্কাই স্পোর্টসকে ম্যাচ শেষে পর্তুগিজ কোচ বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি। এমন একটা সন্ধ্যা ক্লাবের সমর্থকদের প্রাপ্য। আজ লন্ডন স্টেডিয়াম ছিল দুর্দান্ত, শক্তিতে ভরপুর, যা আমাদের কঠিন সময়ে অনেক সাহায্য করেছে।’
লন্ডন স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতে কনস্টান্টিনোস মাভরোপানোস ও ভালেন্টিন ক্যাসেলানোসের এক একটি গোলে যখন উল্লাসে মাতোয়ারা তাদের সমর্থকেরা; তখনই হয়ত ওই গোলগুলো বিদ্ধ করছিল স্পার্স সমর্থকদের মনে।
শেষ পর্যন্ত চার দলের রেলিগেশন এড়ানোর লড়াইয়ে কোন দল উতরে যায় সেটিই আপাতত দেখার অপেক্ষা।
No posts available.
১১ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৪১ পিএম

এই তো কদিন আগেই কোয়াড্রপল জয়ে চোখ ছিল আর্সেনালের। মৌসুমে সম্ভাব্য সবক’টি শিরোপাই জেতার দারুণ সুযোগ ছিল গানারদের। তবে দলটার নাম যে আর্সেনাল। ট্রফি জেতার খুব কাছে গিয়েও হৃদয়ভঙ্গের অভিজ্ঞতা যাদের নিত্যসঙ্গী। চলতি মৌসুমটা কী আর ব্যতিক্রম হতে দেওয়া যায়!
২০২৫-২৬ মৌসুমে দুই ম্যাচে দুই শিরোপা হারানো মিকেল আরতেতোর দল এখনও লিগ শিরোপা আর চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার দৌড়ে আছে। তবে আজ বোর্নমাউথের কাছে ২-১ গোলে হারের পর লিগ শিরোপাও হারানোর শঙ্কা চেপে বসেছে আর্সেনালের।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৭ মিনিটে জুনিয়র ক্রুপি বোর্নমাউথকে লিড এনে দেন। পরে ভিক্টর ইয়োকেরেশ পেনাল্টি থেকে আর্সেনালকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনলেও আর্সেনাল ছিল খাপছাড়া। ৭৪ মিনিটে অ্যালেক্স স্কট আবারও বোর্নমাউথকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত আর্সেনাল আর কোনো জবাব দিতে না পারায় ঘরের মাঠে মৌসুমে দ্বিতীয় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
লিগে আর্সেনালের হাতে আছে আর ৬টি ম্যাচ। এখনো ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে তারা। তবে পেপ গার্দিওলার দলের হাতে দুটি ম্যাচ বেশি থাকায় শিরোপার দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই ফিরে এসেছে সিটিজেনরা। আগামী রোববার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে এই দুই দলের মুখোমুখি লড়াই সম্ভবত লিগ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করে দেবে।
দলের এমন হারে যারপরনাই হতাশ আরতেতা। নিজেদের ডেরায় এই হার একটি বড় চড় হিসেবে এসেছে, বলছেন আর্সেনাল কোচ। বোর্নমাউথের বিপক্ষে হারের পর টিএনটি স্পোর্টসকে স্প্যানিশ এই কোচ বলেন, ‘এটি মুখে সজোরে এক চপেটাঘাতের মতো, আমি ছেলেদের সেটাই বলেছি। এখন দেখার বিষয় আমরা এর প্রতিক্রিয়া কীভাবে দেখাই।’
আরতেতা আরও যোগ করেন, ‘আমরা আমাদের চেনা ছন্দ থেকে অনেক দূরে ছিলাম। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আমরা ভুল করেছি, আর বোর্নমাউথের মতো পরিষ্কার পরিকল্পনার দলের বিপক্ষে সেটা বিপদ ডেকে এনেছে। তবে আমি জনসমক্ষে কোনো খেলোয়াড়ের সমালোচনা করতে চাই না।’
কয়েক সপ্তাহ আগেও যারা অনন্য এক ‘কোয়াড্রুপল’ (চারটি ট্রফি জেতা) জয়ের পথে ছিল, সেই আর্সেনাল এখন ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় টানা তিন ম্যাচে হারল। টানা তিনবার রানার্সআপ হওয়া আর্সেনাল ২০০৪ সালের পর প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের দৌড়ে তারাই এখনও ফেভারিটই।
আরতেতার মতে, খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ, ‘আমরা জানি এখানে আমাদের জেতাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাব হিসেবে আমরা দীর্ঘদিন শিরোপা জিততে পারিনি বলেই এখন চাপটা বেশি। এটি কতটা কঠিন তা আমরা বুঝি, তবে আমি শুধু সেই বিষয়গুলোতেই নজর দিতে চাই যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যা আমরা গত নয় মাস ধরে সফলভাবে করে আসছি।’
সবশেষে আরতেতা বলেন, ‘আজ আমাদের কষ্ট সহ্য করতে হবে। এটি যন্ত্রণাদায়ক এবং ভয়ানক অনুভূতি। তবে আগামীকাল নতুন দিন। গত আগস্টে কেউ যদি বলত আমরা এপ্রিলে এই অবস্থায় থাকব, তবে আমরা সবাই তা আনন্দের সাথে মেনে নিতাম।’
আগামী বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে স্পোর্টিং লিসবনের মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। পর্তুগিজ এই দলের বিপক্ষে প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতেছে ইংলিশ ক্লাবটি। এবার ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে মহাগুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিতে হবে তাদের।

শিরোপার সঙ্গে যেন পুরোনো শত্রুতা আর্সেনালের। গানারদের তাড়া করছে ‘দেজা ভ্যূ’। শেষ কয়েকটি মৌসুমের মতো আবারও তীরে এসে তরি ডোবানোর তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। টানা দুই ম্যাচে দুই ট্রফি হাতছাড়া করার পর এবার লিগ শিরোপা জেতার পথেও বড় হোঁচট খেল আর্সেনাল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আজ বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে আর্সেনাল। ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ভিক্তর ইয়োকেরেশের সফল স্পট কিকে একবার সমতা ফেরাতে পারলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি মিকেল আরতেতার দল।
৩২ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে আর্সেনাল। গানারদের চেয়ে দুই ম্যাচ কম খেলে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ম্যানচেস্টার সিটি। টানা চার জয়ের পর প্রিমিয়ার লিগে হারল আর্সেনাল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চার ম্যাচের মধ্যে হারল তৃতীয়বার। এর মধ্যে আছে এফএ কাপ ও লিগ কাপে পরাজয়।
নিজেদের মাঠে আর্সেনাল নয়, শুরু থেকে বোর্নমাউথকেই বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। বিপরীতে আর্সেনালকে কিছুটা ছন্নছাড়া লাগছিল। সেই সুযোগটাই নেয় অতিথিরা। চোটের কারণে দলের দুই প্রাণভোমরা বুকায়ো সাকা ও মার্টিন ওডেগার্ডকে না পাওয়া স্বাগতিকরা ১৭ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে। আদ্রিয়েন ট্রুফার্টের একটি ডিফ্লেক্টেড ক্রস থেকে জুনিয়র ক্রুপি গোল করে বোর্নমাউথকে লিড এনে দেন।
সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্সেনাল ৩৫ মিনিটে ব্যবধান ১-১ করে। সফল স্পট কিক নেন ভিক্টর ইয়োকেরেশ। ডি বক্সে রায়ান ক্রিস্টির হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পেয়েছিল আর্সেনাল। ঠিক দিকে ডাইভ দিলেও গতির জন্য পেরে ওঠেননি বোর্নমাউথ গোলকিপার।
ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিরতির পর আক্রমণভাগে এবেরেচি ইজি, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড এবং ১৬ বছর বয়সী তরুণ ম্যাক্স ডাউম্যানকে মাঠে নামায়ন আরতেতা। পুরো ম্যাচে মোট ১৫টি শট নিয়ে তিনটি গোলমুখে রাখা আর্সেনাল দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে দাপটও দেকায়। ইয়োকেরেস একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডে কাটা পড়ে সেই গোল।
ম্যাচের ধারার বিপরীতে উল্টো ব্যবধান বাড়ানো গোল পেয়ে যায় বোর্নমাউথ। ডি বক্সের বাইরে বল পেয়ে একটু সামনে এগিয়ে গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন অ্যালেক্স স্কট। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া তেমন কিছু করার ছিল না আর্সেনালের গোলকিপারের।
ঘরের মাঠে পয়েন্ট খোঁয়ানো ঠেকাতে শেষদিকে চেষ্টার কমতি ছিল না আর্সেনালের। তবে বেশি কিছু সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ইয়োকেরেশ।

ব্রাজিল জাতীয় দলে ফেরার পথে আছেন নেইমার—এমনটাই মনে করছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ফরাসি পত্রিকা লেকিপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই ফরোয়ার্ডকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তিনি ‘সঠিক পথে’ এগোচ্ছেন।
সাম্প্রতিক ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দলে রাখা হয়নি নেইমারকে। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এটিই ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। আনচেলত্তি আবারও স্পষ্ট করেছেন, শুধু শতভাগ ফিট খেলোয়াড়দেরই বিশ্বকাপে নেওয়া হবে। তবে তাঁর বিশ্বাস, নেইমার এখনো সেই ফিটনেসে পৌঁছাতে পারবেন।
আনচেলত্তি বলেন, ‘
সে শতভাগে ফিরতে সক্ষম। হাঁটুর চোটের পর তার পুনর্বাসন ভালো হয়েছে, সে গোলও করছে। তাকে এই পথেই এগোতে হবে এবং ফিটনেস আরও উন্নত করতে হবে।’
চলতি মৌসুমে সান্তোসের হয়ে খেলে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন নেইমার। কোচের মতে, জাতীয় দলে তাঁকে সবচেয়ে কার্যকর দেখা যাবে আক্রমণের কেন্দ্রভাগে, প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের কাছাকাছি খেললে।
৬৬ বছর বয়সী এই কোচ আরও বলেন, নেইমারকে ঘিরে প্রশ্ন থাকাটা স্বাভাবিক,
‘সে ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাস গড়েছে এবং এখনও গড়ছে। তার মতো প্রতিভা থাকলে মানুষ আশা করবেই, সে বিশ্বকাপ জয়ে সহায়তা করতে পারে।’
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারশন ও কোচিং স্টাফ মিলেই নেইমারের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য হাতে এখনও প্রায় দুই মাস সময় পাচ্ছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধে বসুন্ধরা কিংসের প্রবল আক্রমণের সামনে সেভাবে দাঁড়াতে পারল না আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে আত্মবিশ্বাসী শুরু করে আরামবাগ। এক গোল শোধ দেওয়ার পর সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় তারা। তাতে দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মারিও গোমেজের দল।
শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধে কিংসের হয়ে গোল করেন ইমানুয়েল সানডে ও দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। আরামবাগের হয়ে ব্যবধান কমানো গোলটি করেন মিলস।
লিগের ১২ রাউন্ড শেষে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস। এদিন গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে পুলিশ এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে ফর্টিস এফসি। তাদের পয়েন্ট ২৪। ১৬ পয়েন্ট পেয়ে পাঁচেই থাকলো পুলিশ। আর ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তলানির দল আরামবাগ।
২৪ মিনিটে দোরিয়েলতনের গোলে লিড নেয় বসুন্ধরা কিংস। আক্রমণের শুরুটা ইউসুফের পা থেকে। তাঁর থ্রু বল ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক দেন রাকিব। এরপর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নিচু শট গড়িয়ে গড়িয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে বল খুঁজে নেয় জাল।
৪ মিনিট পর লিড দ্বিগুন করেন সানডে। মাঝ মাঠ থেকে এবার রাকিব বল দেন দোরিয়েলতনকে। বল নিয়ে ডান দিকের কর্নারের কাছ থেকে গতিময় ক্রস দেন তিনি। বক্সের সামনে হেড নেন সানডে। বল মাটিতে ড্রপ খেয়ে আরামবাগ গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে জালে প্রবেশ করে।
৪৫ মিনিটে রাকিবের ক্রস একটুর জন্য নাগাল পাননি ফাহিম। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় কিংস। ৫৫ মিনিটে ফাহিমের কর্নারে দোরিয়েলতন মাথা ছোঁয়ালেও বল যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। পরের মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে আসা লং বল হাত দিয়ে মাটিতে নামান আরামবাগের ঘানার ফরোয়ার্ড কিজিতো। কিংস গোলকিপার জিকোকে পরাস্ত করে বল জালে ঠেলে দিলেও তাঁকে ফাউল ধরেন রেফারি। এটা মেনে নিতে না পেরে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন আরামবাগের রকি।
ব্যবধান কমাতে বেশি সময় নেয়নি আরামবাগ। ৬৩ মিনিটে মিলসের সাইড ভলিতে ব্যবধান নেমে আসে ১-২ গোলে। ৬৭ মিনিটে আরামবাগকে সমতায় ফিরতে দেননি বসুন্ধরা কিংসের গোলকিপার। ডান দিক থেকে রকির ক্রসে মিলসের দারুণ হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন জিকো।
২ মিনিট পর ইউসুফের লম্বা থ্রোয়ে বিশ্বনাথের সাইড ভলি লাগে সানডের শরীরে। একটু এদিক সেদিক হলে গোল হতে পারত। ৮৮ মিনিটে দোরিয়েলতনের চিপ শট আরামবাগ গোলকিপারকে পরাস্ত করলে বল গড়িয়ে বের হয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) সঙ্গে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্পেনের রেফারিং ব্যবস্থাকে ‘অন্যায়’ ও ‘কারচুপিতে’ ভরা আখ্যা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাবটি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের জেনারেল ম্যানেজার হোসে আনহেল সানচেজ নতুন রেফারিং সংস্কার চুক্তির চূড়ান্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। যদিও তিনি প্রাথমিক আলোচনাগুলোতে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু ক্লাবটি মনে করছে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কেবল লোকদেখানো এবং এর মাধ্যমে প্রকৃত স্বচ্ছতা আসবে না।
সানচেজ সরাসরি ফেডারেশন প্রেসিডেন্টকে ফোন করে জানিয়ে দেন, রিয়াল মাদ্রিদ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না। ক্লাবটির দাবি, বর্তমান রেফারিং ব্যবস্থায় সংস্কার না আসা পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না।
রিয়ালের ক্ষোভের কারণ জিরোনার বিপক্ষে সবশেষ লা লিগা ম্যাচ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বৃহস্পতিবার ১-১ গোলে ড্র করে করেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। ম্যাচের শেষ দিকে প্রতিপক্ষের বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পড়ে যান এমবাপে।
আরও পড়ুন
| ইতালির কোচের দায়িত্বে বালদিনি |
|
রিপ্লেতে দেখা যায়, জিরোনা ডিফেন্ডার ভিতর রেইস এমবাপেকে আটকাতে গিয়ে হাতের কনুই দিয়ে মুখে আঘাত করেন। ফলে ফরাসি ফরোয়ার্ডের কপাল ফেটে রক্ত ঝরতে দেখা যায় এবং তাকে মাঠেই চিকিৎসা নিতে হয়।
রেফারি আলবারোলা রোজাস এটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ভিএআর রেফারি ট্রুজিলো সুয়ারেজও এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেননি বা রেফারিকে মনিটর দেখার পরামর্শ দেননি।
ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া এই সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এটি পেনাল্টি ছিল, এমনকি চাঁদ থেকেও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছি।’
রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের সাম্প্রতিক ছন্দের পতনের পেছনে মাঠের পারফরম্যান্স যেমন দায়ী, তার চেয়েও বড় কারণ মাঠের বাইরের অদৃশ্য হাতের খেলা। ক্লাবটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, কেবল ন্যায়বিচার চাই। যা ঘটছে তা অসহনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।’