৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:১০ পিএম

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় বড় জুটি গড়লেন রোহিত পাউডেল ও দিপেন্দ্র সিং আইরি। দুজনের ব্যাটে অঘটনের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলল নেপাল। কিন্তু সময়মতো ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড। চমৎকার ডেথ বোলিংয়ে শঙ্কা এড়িয়ে জয় পেল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে রোববার নেপালকে ৪ রানে হারায় ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ১৮৪ রানের পুঁজি পায় ইংলিশরা। জবাবে জয়ের আশা জাগালেও ১৮০ রানের বেশি করতে পারেনি নেপাল।
দুর্দান্ত বোলিং করে ইংল্যান্ডকে বাঁচিয়ে দেওয়ার নায়ক স্যাম কারান। রোহিত ও আইরির জুটি ভাঙার পর শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন বাঁহাতি পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
রান তাড়ায় শুরুতে ঝড় তোলেন কুশল ভুর্তেল। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ৪ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কা মেরে তিনি করেন ১৭ বলে ২৯ রান। আরেক ওপেনার আসিফ শেখ ৯ বলে ৭ রান করে আউট হন।
এরপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন রোহিত ও আইরি। মাত্র ৫৪ বলে তারা গড়ে তোলেন ৮২ রানের জুটি। একপর্যায়ে লক্ষ্য মাত্রা নেমে আসে ৩৬ বলে ৬২ রানে।
তখন আঘাত হানেন স্যাম কারান। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ বলে ৪৪ রান করা আইরিকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পরের ওভারে ৩৪ বলে ৩৯ রান করা রোহিতও ফিরে পিছিয়ে পড়ে নেপাল।
তবে লড়াইয়ে ক্ষান্ত দিতে রাজি হননি লোকেশ বাম। ৩ ওভারে ৪৬ রানের সমীকরণে জফ্রা আর্চারের পরপর দুই বলে তিনি মারেন ছক্কা। ওই ওভার থেকে আসে ২২ রান। ফলে সমীকরণ নেমে আসে ১২ বলে ২৪ রানে।
১৯তম ওভারে লুক উডের প্রথম পাঁচ বলে দুটি চার মেরে দেন লোকেশ। ওই পাঁচ বলে ১৪ রান করে ফেলে নেপাল। তবে শেষ বলে গুলশান ঝা বোল্ড হয়ে গেলে আবার চাপে পড়ে যায় তারা।
শেষ ওভারে ১০ রানের সমীকরণে দুর্দান্ত বোলিং করেন স্যাম কারান। কোনো বাউন্ডারি হজম না করে তিনি দেন মাত্র ৫ রান। হারের শঙ্কা এড়িয়ে জয় পায় ইংল্যান্ড।
৪ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মেরে ২০ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন লোকেশ।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে ফিল সল্টের উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তবে রানের গতি ঠিক রাখেন জস বাটলার। ৫ চারে ১৭ বলে ২৬ রান করে তিনিও ফিরে গেলে পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনারকে হারায় ইংলিশরা।
চার নম্বরে নামা টম বেন্টনকে এলবিডব্লিউ করেন সন্দ্বীপ লামিচানে।
এরপর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও তিন নম্বর ব্যাটার জ্যাকব বেথেল। দুজন মিলে ৪৫ বলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৪টি করে চার-ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে আউট হন বেথেল।
তার বিদায়ের পর কিছুটা কমে আসে রানের গতি। তবে শেষ দিকে আবার ঝড় তোলেন ব্রুক ও উইল জ্যাকস। ৪ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কায় ৩২ বলে ৫৩ রান করেন ব্রুক। আর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কায় ১৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন জ্যাকস।
নেপালের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন নন্দন যাদব ও দিপেন্দ্র সিং আইরি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮৪/৭ (সল্ট ১, বাটলার ২৬, বেথেল ৫৫, ব্যান্টন ২, ব্রুক ৫৩, কারান ২, জ্যাকস ৩৯*, আর্চার ১, ডসন ০*; কারান ৩-০-৩৫-০, মাল্লা ৩-০-৩৫-১, আইরি ৩-০-২৩-২, নন্দন ৩-০-২৫-২, লামিচানে ৪-০-২৫-১, ভুর্তেল ৪-০-৪০-০)
নেপাল: ২০ ওভারে ১৮০/৬ (ভুর্তেল ২৯, আসিফ ৭, রোহিত ৩৯, আইরি ৪৪, আরিফ ১০, লোকেশ ৩৯*, গুলশান ১, কারান ০*; উড ৩-০-৩১-১, আর্চার ৪-০-৪২-১, ডসন ৪-০-২১-২, জ্যাকস ২-০-১৭-১ রশিদ ৩-০-৪২-০, কারান ৪-০-২৭-১)
ফল: ইংল্যান্ড ৪ রানে জয়ী
No posts available.
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ এম
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০২ পিএম
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০০ পিএম

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান। আগের সূচিতেই চির প্রতিদ্বন্দী দেশটির বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানানোর পরও বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। তবে আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ত্রিপক্ষীয় সভার পর এই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলল পাকিস্তান।
নিচে পাকিস্তান সরকারের পূর্ণাঙ্গ বার্তা তুলে ধরা হলো
পিসিবি, আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সারসংক্ষেপ সম্পর্কে পাকিস্তানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব শেহবাজ শরিফকে অবহিত করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে পিসিবির নিকট প্রেরিত আনুষ্ঠানিক অনুরোধসমূহ এবং শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের সমর্থনসূচক বার্তাগুলো পাকিস্তান সরকার গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করেছে। এসব যোগাযোগে সাম্প্রতিক উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত আন্তরিক অনুভূতি ও কৃতজ্ঞতা অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, দুই দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানের ভিত্তিতে আরও সুদৃঢ় হবে।
এই প্রেক্ষাপটে আজ সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি মহামান্য অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনায় উভয় নেতা স্মরণ করেন—পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের নজির স্থাপন করে এসেছে। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি চলমান পরিস্থিতির একটি গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত সমাধানের লক্ষ্যে গঠনমূলক বিবেচনার আহ্বান জানান।
বহুপাক্ষিক আলোচনায় অগ্রগতি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মতামতের আলোকে, পাকিস্তান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল আইসিসি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে।
এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের ঐক্যবদ্ধ চেতনা সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের জনগণ “মেন ইন গ্রিন”-এর প্রতি আন্তরিক শুভকামনা জানাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী, আমাদের দল মাঠে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব, পেশাদারিত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতিনিধিত্ব করবে।

লাহোরে ঝটিকা সফর থেকে জোড়া জয় নিয়ে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসির পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা মিলেছে কোনো শাস্তি না হওয়ার। একইসঙ্গে একটি বৈশ্বিক আসরও আয়োজনের সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।
নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া ও পরে এর প্রেক্ষিতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানের অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে রোববার লাহোরে হয় আইসিসি, বিসিবি ও পিসিবির ত্রিপক্ষীয় বৈঠক।
যা শেষে বাংলাদেশের জন্য দুটি ইতিবাচক খবর দিয়েছে আইসিসি। আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেই ব্যাপারে জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা। নিচে বিজ্ঞপ্তি থেকে হুবহু তুলে ধরা হলো
বিসিবির জন্য কোনো জরিমানা বা শাস্তি নয়
এই বিষয়ে একমত হওয়া গেছে যে, বর্তমান বিষয়ের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কোনো আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হবে না।
একইসঙ্গে এটিও সম্মত হওয়া গেছে যে, বিসিবি চাইলে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি)-র কাছে যাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে। এই অধিকার বর্তমান আইসিসি বিধিমালার আওতায় বিদ্যমান এবং অক্ষুণ্ন থাকবে।
আইসিসির দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষতা ও ন্যায়সংগততার নীতিতে পরিচালিত এবং শাস্তির পরিবর্তে সহায়ক সমর্থন প্রদানের যৌথ উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে।
২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন
এই সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০৩১–র আগে বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে, যা আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্তাবলীর সাপেক্ষে হবে।
এটি আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর আস্থার প্রতিফলন এবং দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে আইসিসির সদস্যদের মধ্যে অর্থবহ আয়োজক সুযোগ প্রদানের প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালো করে।
আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত বলেন,
“বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক, তবে এটি একটি মূল ক্রিকেট জাতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারকে কোনোভাবেই পরিবর্তন করে না।”
“বিসিবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা ক্রিকেটের বিকাশ নিশ্চিত করতে এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগ আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্রিকেট ইকোসিস্টেম, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সংযুক্তির যোগ্য- এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি ব্যাঘাতে সংজ্ঞায়িত হয় না।”

সাম্প্রতিক জটিলতা সমাধানে আইসিসি ও পিসিবির সঙ্গে বৈঠক করার পর পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অনুরোধ করেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
আইসিসি ও পিসিবির সঙ্গে বৈঠক করতে ঝটিকা লাহোর সফরে যান বুলবুল। এই সফর শেষ করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। সূচি অনুযায়ী, কলম্বোতে ম্যাচটি হওয়ার কথা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি।
ম্যাচটি ঘিরে অনিশ্চয়তা দূর করতেই মূলত লাহোরে আইসিসি ও পিসিবি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বুলবুল। বৈঠক শেষে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিসিবি সভাপতি।
একইসঙ্গে বৃহৎ স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ভারতের বিপক্ষে খেলার অনুরোধও করেন বুলবুল।
“এই সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পাকিস্তান যে বাড়তি উদ্যোগ ও আন্তরিকতা দেখিয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে অভিভূত। আমাদের এই ভ্রাতৃত্ব দীর্ঘস্থায়ী হোক।”
“পাকিস্তানে আমার সংক্ষিপ্ত সফর ও আমাদের আলোচনার সম্ভাব্য ইতিবাচক ফলাফলের প্রেক্ষিতে, আমি পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের স্বার্থে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি পাকিস্তানকে খেলার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আইসিসির সতর্কবার্তা সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল পিসিবি। তবে গতকাল লাহোরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অচলাবস্থা নিরসনে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরে পিসিবি। চাউর হয়েছে, বরফ গলতে শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের।
বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে পাকিস্তান সরে আসতেও পারে, নাও পারে। তবে ম্যাচ বর্জনের বিষয়টি স্রেফ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন সুনীল গাভাস্কার। ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটারের মতে, পাকিস্তান যদি সত্যিই মনে করে যে, আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাহলে একটি ম্যাচ বর্জন না করে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই তাদের সরে দাঁড়ানো উচিত ছিল।
কলম্বোয় আগামী রোববার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার কথা পাকিস্তানের। গত সপ্তাহে পাকিস্তান সরকার জানায়, ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামবে না পাকিস্তান দল।
আজ স্পোর্টস্টারে নিজের কলামে গাভাস্কার লিখেছেন,
“তাদের (পাকিস্তান) সরকার তাদের দলকে টুর্নামেন্টটি খেলতে বলেছে; কিন্তু ভারতের বিপক্ষে নয়। সিদ্ধান্তটি অদ্ভুত। যদি তারা মনে করে যে, আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাহলে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত ছিল তাদের, শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন নয়।”

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ওপেনার মোহাম্মদ জোহাইবকে দেশে পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইউএই ক্রিকেট অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দল থেকে বাদ পড়ার পর জোহাইব অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানি নাগরিক হওয়ার কারণেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের পুরো ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছেন।
জোহাইবের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণেই তাঁকে ভারত থেকে দুবাইয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইসিবির সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করা হবে। আপাতত এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চায় না বোর্ড।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্বকাপ চলাকালীন আপত্তিকর আচরণ, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ব্যক্তিগত জীবনে অপ্রত্যাশিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ছিল জোহাইবের বিরুদ্ধে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় টিম ম্যানেজমেন্ট দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
জোহাইবের জন্ম পাকিস্তানে। পরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকত্ব নেন এবং সে দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন।